নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - মিরপুর, ঢাকা

৪৮০১ ও ৪৮০২. প্রশ্ন

১. হামদ ও নাতে বাজনা বাজানো এবং আল্লাহ্ আল্লাহ্ শব্দের জিকির বাজনা স্বরূপ ব্যবহার করা- যেমনটি বর্তমান সময়ে কিছু ইসলামী সংগীতে করা হয়, শরীয়তের দৃষ্টিতে এর হুকুম কী?

২. শরীয়তের দৃষ্টিতে মহিলাদের কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত শ্রবণ করার বিধান কী?

উত্তর

১. বাদ্য বাজানো নাজায়েয। আর আল্লাহর জিকির বা হামদ-নাতের সাথে বাদ্য যন্ত্র বাজানো আরো গর্হিত ও নাজায়েয। এতে বাদ্যের গুনাহের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার নামের অসম্মানীর গুনাহও হবে। আর আল্লাহ্ আল্লাহ্ জিকিরকে বাদ্য হিসাবে ব্যবহার করাও অত্যন্ত গর্হিত কাজ এবং এটিও বেয়াদবীর শামিল। এ ধরনের বাদ্য-বাজনা সম্বলিত হামদ-নাত শোনা থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

২. পুরুষের জন্য গাইরে মাহরাম মহিলার কণ্ঠে ইসলামী সঙ্গীত শোনা বৈধ নয়। পুরুষের জন্য গাইরে মাহরাম মহিলার কথা প্রয়োজনে শ্রবণ করা বৈধ হলেও এক্ষেত্রে শরীয়তের নির্দেশনা হল, নারীরা কোমলতা পরিহার করে কথা বলবে। নরম সুরে, আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে কথা বলা থেকে পবিত্র কুরআনে সুস্পষ্টভাবে নিষেধ করা হয়েছে। (দেখুন, সূরা আহযাব, আয়াত ৩২)

বর্তমানে যে কোনো সঙ্গীতই আকর্ষণীয় ভঙ্গিতে উপস্থাপন করা হয়ে থাকে এবং এগুলো শ্রবণ করা প্রয়োজনীয় কোনো বিষয়ও নয়। তাই গাইরে মাহরাম মহিলাদের কণ্ঠে এধরনের সঙ্গীত শোনা থেকে বিরত থাকতে হবে। অবশ্য ফেতনার আশঙ্কা না হলে ছোট ছোট মেয়ে শিশুদের কণ্ঠে শোনা নাজায়েয নয়।

ফেতনার আশঙ্কা হলে প্রাপ্তবয়স্ক বা প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কাছাকাছি এমন গাইরে মাহরাম মেয়ের কণ্ঠে কুরআন শোনাও বৈধ হবে না। তবে মাহরামগণ তা শ্রবণ করতে পারবে। ফকীহগণ পরপুরুষের কানে কুরআন তিলাওয়াতের আওয়াজ পৌঁছতে পারে এজন্য নামাযের মধ্যেও আস্তে আস্তে তিলাওয়াত করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি কোনো কোনো ফকীহ উচ্চস্বরে তিলাওয়াত করলে নামায ফাসেদ হওয়ার কথাও বলেছেন।

উল্লেখ্য যে, মহিলাদের জন্য আযান দেওয়া, উচ্চস্বরে তালবিয়া পড়া এজন্যই নিষেধ করা হয়েছে, যাতে পরপুরুষের কানে তাদের আওয়াজ না পৌঁছে।

মোটকথা, কুরআন তিলাওয়াতের ক্ষেত্রেও ফেতনার আশঙ্কা হলে পরপুরুষের কানে এর আওয়াজ পৌঁছে- এভাবে পড়া থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।

প্রকাশ থাকে যে, প্রাপ্তবয়স্ক মেয়ে বা মহিলাদের কণ্ঠে ধারণকৃত অডিও, ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেওয়ার যে রেওয়াজ এখন চালু হয়েছে তা কোনোক্রমেই বৈধ নয়। -সূরা আহযাব (৩৩) : ৩২; আলজামে লিআহকামিল কুরআন, কুরতুবী ১৪/১১৬; আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/৩১৯; ফাতহুল কাদীর ১/২২৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/১১০; রদ্দুল মুহতার ১/৪০৬; মিরকাতুল মাফাতীহ ৯/৫১; ইমদাদুল আহকাম ৪/৩৭৫

শেয়ার লিংক

খলিলুর রহমান - ভেদেরগঞ্জ, শরীয়তপুর

৪৮০০. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামের বাড়ীতে এক প্রতিবেশীর একটি বিড়াল ছিল। বিড়ালটি বড় হয়ে খুব ক্ষতি করতে শুরু করেছিল। বাড়ীর মুরগি, কবুতরের বাচ্চা ধরে ধরে খেয়ে ফেলত। উক্ত প্রতিবেশীকে বিড়ালটি তাড়িয়ে দিতে বা বেঁধে রাখতে বললে তিনি বলতেন, ‘তাড়িয়ে দিলেও আবার চলে আসবে, আর বেঁধে রাখাও মুশকিল।’ শেষ পর্যন্ত বাড়ীর লোকজন অতিষ্ট হয়ে গেলে আমরা কয়েকজন বিড়ালটিকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছি। পরে শুনলাম, হাদীসে আছে, একটি বিড়ালকে হত্যা করার কারণে এক মহিলা জাহান্নামী হবে। তাই এখন ভয় হচ্ছে। দয়া করে জানাবেন, আমাদের উক্ত কাজটি কি ঠিক হয়েছে।

 

উত্তর

অনিষ্টকারী বিড়াল মেরে ফেলা জায়েয। কেননা হাদীস শরীফে ক্ষতিকর প্রাণিকে মেরে ফেলার বৈধতার কথা এসেছে। তাই বিড়ালটিকে মেরে ফেলা জায়েয হয়েছে। তবে পিটিয়ে মারা ঠিক হয়নি। কেননা এর দ্বারা প্রাণির বেশি কষ্ট হয়। আপনাদের উচিত ছিল কষ্ট কম হয় এমন কোনো পদ্ধতি অবলম্বন করা। যেমন ধারালো অস্ত্র দ্বারা জবাই করে দেওয়া।

আর আপনি যে ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তা ঐ বিড়ালকে খাবার-পানীয় না দেওয়ার জন্য ছিল। কারণ, উক্ত মহিলা বিড়ালটিকে আবদ্ধ করে রেখেছিল এবং তাকে কোনো দানা-পানিও দেয়নি। যার দরুণ সে মারা গিয়েছিল। (দেখুন, সহীহ মুসলিম, হাদীস ২২৪২)

-ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৬১; ফাতাওয়া কারিইল হেদায়াহ, পৃ. ২০০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৮৯, ৪০২

শেয়ার লিংক

ইবনে জাওয়াদ - চট্টগ্রাম

৪৭৯৯. প্রশ্ন

আমার আম্মা একটি লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে দশ বছর মেয়াদী একটি বীমা করেন। মাসে ২০০ টাকা করে দশ বছরে ২৪০০০ টাকা জমা হয়। ইন্সুরেন্স কোম্পানি এ টাকার সাথে আরো ১৬০০০ টাকা মিলিয়ে মোট ৪০০০০ টাকা দিয়েছে, যা একটি ব্যাংক একাউন্টে রয়েছে। তিনি এখন জানতে চাচ্ছেন যে, তার এ টাকার উপরে কুরবানী ওয়াজিব হবে কি না? কেউ কেউ বলেছে, ইন্সুরেন্সের ডিভিডেন্ড হারাম, তাই তার উপর কুরবানী আসবে না। আবার কেউ বলেছে, যেহেতু অধিকাংশ টাকা হালাল, তাই এর উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে। সঠিক মাসআলাটি  জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

ইন্সুরেন্স কোম্পানি মূল জমার অতিরিক্ত যে টাকা দিয়েছে তা সম্পূর্ণ হারাম। আর হারাম টাকা নেসাবের অন্তর্ভুক্ত হয় না এবং সে টাকার উপর কুরবানীও ওয়াজিব হয় না। বরং হারাম টাকা পুরোটাই সদকাযোগ্য। অতএব আপনার মায়ের জমাকৃত ২৪,০০০ টাকা ছাড়া তার নিকট যদি অন্য কোনো সম্পদ না থাকে তাহলে এ টাকার কারণে তার উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে না।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৩৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৫; রদ্দুল মুহতার ২/২৯১; আততাকরীরুল মুখতার, রাফেয়ী ২/১৩৩

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - মদীনা মুনাওয়ারা, সৌদি আরব

৪৭৯৮. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমি সৌদি আরবের পবিত্র মাদীনাতে থাকি। একটি দোকানে কাজ করতাম। গত কয়েক বছর আগে হজে¦র মৌসুমে একটি মানিব্যাগ কুড়িয়ে পাই। তাতে কিছু সৌদি রিয়াল ও বাংলাদেশী টাকা ছিল। অনেক দিন সেগুলো আমার কাছে অক্ষত ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে আমার অত্যন্ত প্রয়োজনের কারণে সেগুলো খরচ করে ফেলি।

এখন আমি অপরের এই হক থেকে কীভাবে পুরোপুরি মুক্ত হতে পারি? আশা করছি সম্মানিত মুফতিয়ানে কেরাম সুচিন্তিত উত্তর প্রদান করে চিরকৃতজ্ঞ করবেন।

এখানে একটি বিষয় উল্লেখ্য যে, উক্ত মানিব্যাগে তার মালিকের সাথে যোগাযোগ করার কোনো মাধ্যম (মোবাইল নম্বর, ইমেইল, ঠিকানা) পাওয়া যায়নি।

উত্তর

কুড়িয়ে পাওয়া বস্তু আমানত। তা পাওয়ার পর প্রাপ্তিস্থানের আশেপাশে ও জনসমাগমে প্রাপ্তির ঘোষণা দেওয়া এবং মালিক খোঁজ করে তাকে তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা কর্তব্য ছিল। কিন্তু তা না করে মানিব্যাগটি নিজের কাছে রেখে দেওয়া এবং পরে সে টাকা খরচ করে ফেলা অন্যায় ও গুনাহের কাজ হয়েছে। আপনার ভাষ্যমতে বর্তমানে যেহেতু মালিকের খোঁজখবর পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই তাই সমপরিমাণ টাকা মালিকের পক্ষ থেকে গরীব-মিসকীনদেরকে সদকা করে দিতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/২৯৬; আদ্দুররুল মুখতার ৪/২৭৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/২৮৯; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৫২; মাজমাউল আনহুর ২/৫২৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ আলাউদ্দিন - মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা

৪৭৯৭. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি ব্যাংকে চাকরি করার অবৈধতা সম্পর্কে না জেনে একটি বিদেশী ব্যাংকে চাকরি নেয়। ঐ চাকরি অবস্থায় চাকরি ও লোনের টাকা দিয়ে জায়গা-জমি খরিদ করেন, বাড়ি-ঘর নির্মাণ করেন এবং নিজ ছোট-বড় ভাই-বোনদেরকে সেসকল জায়গা-জমিতে অংশিদার করেন। দলীলে তাদের নামও লিখে দেন। ভাই-বোনদের বিয়ে-শাদীতেও খরচাদি করেন। মা-বাবার অনেক খেদমত করেন। অবশ্য চাকরির শেষ পর্যায়ে এ চাকরি অবৈধ জেনেও ঈমানী দুর্বলতার কারণে বা অপারগ মনে করে শেষ পর্যন্ত চাকরিরত থাকেন।

উল্লেখ্য, লোকটি ব্যক্তিগতভাবে উদার, আমলদার ও আলেমভক্ত। এখন তার ব্যাপারে শরীয়তের হুকুম কী? কীভাবে তিনি আখেরাতে মুক্তি পেতে পারেন। আর যারা তার দান গ্রহণ করেছেন বিশেষ করে ভাই-বোন, যারা মাসে/বছরে তার থেকে লেখা-পড়ার খরচ গ্রহণ করেছেন। বিভিন্ন কাজে তিনি তাদেরকে আর্থিক সহায়তা করেছেন। (যার কোনো হিসাব রাখা হয়নি) এবং তিনি যে ভাই-বোনদেরকে জায়গাজমিতে অংশিদার করেছেন, ভাই-বোনদের এখন করণীয় কী? তাদের দায়মুক্ত ও বৈধ অধিকারী হওয়ারই বা কী উপায়?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ব্যক্তিকে এখন দুটি কাজ করতে হবে। এক. সুদি ব্যাংকে চাকরি করা এবং এর বেতন-ভাতা ভোগ করার জন্য খালেস মনে আল্লাহ তাআলার কাছে তাওবা-ইসতেগফার করতে হবে। দুই. ব্যাংকের বেতন-ভাতা দিয়ে যে জমিবাড়ি করেছেন তা থেকে বৈধভাবে উপকৃত হতে চাইলে মূল টাকা সদকা করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে পুরো টাকা একত্রে সদকা করা সম্ভব না হলে তিনি বা তার ওয়ারিশরা ধীরে ধীরে অল্প অল্প করে তা আদায় করবেন। অনুরূপ যারা তার থেকে দান-সহায়তা নিয়ে স্থায়ী সম্পদ গড়েছেন তারা ঐ সম্পত্তি থেকে বৈধভাবে উপকৃত হতে চাইলে এর মূল্য সমপরিমাণ টাকা সদকা করে দিবেন। আর যে পরিমাণ টাকা ভোগ করেছেন অনুমান করে সে পরিমাণ টাকাও সদকা করে দেওয়ার চেষ্টা করবেন।

-ফাতাওয়া বায্যাযিয়াহ ৬/২৬০; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৪৯

শেয়ার লিংক

আবদুল হামীদ - বলিয়াকান্দি, রাজবাড়ি

৪৭৯৬. প্রশ্ন

যথাবিহীত সম্মান প্রদর্শন পূর্বক নিবেদন এই যে, কিছুদিন আগে জানতে পারি, আমাদের পাশের বাড়ির আবুল কালাম সাহেব চিকিৎসার খরচ যোগানোর উদ্দেশ্যে একটি ফসলের জমি বিক্রি করবে। একদিন তার সাথে জমির অবস্থান, পরিমাণ ও দাম-দস্তুর নিয়ে কথা হয়। তখন আমি জমিটি নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করি। তবে পাকা কথা দেইনি।

তারপর গত ১৬-১১-২০১৮ তারিখ শুক্রবার তার বাড়িতে গিয়ে জমি কেনার ব্যাপারে তার সাথে পাকা কথা হয়। মূল্য নির্ধারণ হয় আড়াই লক্ষ টাকা। তখন বায়নাস্বরূপ ৫০ হাজার টাকা নগদ দিয়ে আসি। বাকি টাকা পরিশোধের জন্য পনের দিন সময় নেই। এসময়ে আমি বিভিন্নভাবে টাকা সংগ্রহ করতে থাকি।

তার সাথে আমার কোনো লিখিত বায়না চুক্তি হয়নি। মৌখিক যে চুক্তি হয়েছিল নিচে উল্লেখ করছি।

আমি তার বাড়িতে গিয়ে বলি, আমি আপনার ঐ জমিটি কিনতে এসেছি। তো সবশেষ আপনি কত টাকা রাখবেন? সে বলল, দুই লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। আমি বললাম, আমি আড়াই লক্ষ টাকা দিব। সে আরো ১০ হাজার দাবি করে। অনেক জোরাজুরির পর সে রাজি হল যে, আচ্ছা আড়াই লক্ষ টাকায় দিলাম। টাকা কবে দিবেন? আমি বললাম এখনই ৫০ হাজার দিয়ে বায়না করছি, বাকি টাকা পনের দিনের মধ্যে দিব। সে বলল, পূর্ণ টাকা পরিশোধের পর আমি জমি রেজিস্ট্রি করে দিব।

এক সপ্তাহ পর তিনি একদিন আমার বাড়িতে এসে বলেন, আমার টাকার ব্যবস্থা হয়ে গেছে। আমি আর ঐ জমি বিক্রি করব না। আপনার ৫০ হাজার টাকার সাথে আমি আরো ১০ হাজার টাকা দিব তারপরও আপনি জমিটির দাবি ছেড়ে দিন।

আমার প্রশ্ন হল, এখন এভাবে তার জন্য পূর্বের চুক্তি থেকে ফিরে আসার সুযোগ আছে কি না? কেননা সেক্ষেত্রে আমি ক্ষতিগ্রস্ত হব। আর তার দাবি মেনে নিয়ে আমি যদি জমিটি ছেড়েও দেই তাহলে আমার জন্য অতিরিক্ত দশ হাজার টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনি যদি বিক্রেতার প্রয়োজন বিবেচনা করে ক্রয়চুক্তিটি বাতিল করে দেন তাহলে সওয়াবের অধিকারী হবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

مَنْ أَقَالَ نَادِمًا بَيْعَتَهُ، أَقَالَ اللهُ عَثرَتهُ يَومَ القيَامَة.

যে (বিক্রয় চুক্তিতে) অনুতপ্ত কোনো ব্যক্তির সাথে কৃত বিক্রয়চুক্তি বাতিল করবে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন তার ভুল-ত্রুটি ক্ষমা করে দিবেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫০২৯)

সেক্ষেত্রে কেবল আপনার দেওয়া ৫০ হাজার টাকাই ফেরত নিতে পারবেন। অতিরিক্ত কোনো টাকা নেওয়া জায়েয হবে না। তবে যদি আপনি এমনটি না করেন তাহলে বিক্রেতার জন্য একতরফাভাবে এ চুক্তি বাতিল করে দেওয়া বা জমি দিতে অস্বীকৃতি জানানো জায়েয নয়। কারণ বায়নার টাকা দেওয়ার দ্বারাই আপনাদের মধ্যকার ক্রয়-বিক্রয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়ে গেছে। অতএব আপনার দায়িত্ব, যথাসময়ে অবশিষ্ট মূল্য পরিশোধ করা। আর বিক্রেতার কর্তব্য, সময়মত রেজিস্ট্রি করে জমি বুঝিয়ে দেওয়া।

-মুখতাসারুত তহাবী, পৃ. ৭৪; আলইখতিয়ার ২/২৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৫৯৪; আলবাহরুর রায়েক ৬/১০৪; আদ্দুররুল মুখতার ৪/১২৮; বযলুল মাজহুদ ১৫/১৩৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আলাউদ্দিন - মনোহরগঞ্জ, কুমিল্লা

৪৭৯৫. প্রশ্ন

অনেকে বলে থাকেন, এখন তো সকল চাকরিতেই ঘুষ দিতে হয় এবং কোনো প্রতিষ্ঠান বা কারবারই সুদমুক্ত নয়।  তাহলে কি তার জন্য সবধরনের প্রতিষ্ঠান এমনকি ব্যাংক-বীমারও চাকরি করা বৈধ হবে?

উত্তর

বর্তমানে দ্বীন ও নৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণে সমাজে সুদ ও ঘুষের ব্যাপকতা ঘটেছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, সুদ-ঘুষ ছাড়া কোনো চাকরি বা অন্য কোনো হালাল উপায়ে জীবন নির্বাহ করা যায় না। আর হালাল পণ্য বিক্রি বা উৎপাদনকারী কোম্পানী বা প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে লোন নিলেও সেখানে চাকরি করা বৈধ। এক্ষেত্রে সুদী লোন গ্রহণ সম্পূর্ণ হারাম হলেও এ ধরনের প্রতিষ্ঠানে চাকরি আর ব্যাংকের চাকরির হুকুম এক নয়। দুটির হুকুমের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ব্যাংক-বীমা সুদী কোম্পানী এবং তাদের মূল কাজ সুদভিত্তিক। বিধায় সেখানে চাকরি করা নাজায়েয।

মোটকথা, সব চাকরিতেই সুদ-ঘুষ রয়েছে- ঢালাওভাবে এমন কথা বলে ব্যাংক-বীমা বা একেবারে হারাম চাকরিতে থাকার ওজর দাঁড় করানো যাবে না। একজন মুমিন হিসাবে হালাল রুজির সন্ধান চালিয়ে যেতে হবে। আল্লাহ তাআলা যখন হালাল রুজির নির্দেশ দিয়েছেন তখন এর সুযোগও থাকবে অবশ্যই।

আর চাকরি সংক্রান্ত মাসআলা জানতে হলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে জেনে নিতে হবে। তাহলে হালালভাবে চলা সহজ হবে ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

জহিরুল ইসলাম - নরসিংদী

৪৭৯৪. প্রশ্ন

যদি কাউকে এই শর্তে ২১ হাজার টাকা দেওয়া হয় যে, আগামী এক বছর পর আমাকে ২০ হাজার টাকা ও ১২ মন ধান দেবে, এমন চুক্তি করা বৈধ হবে কি? যদি না হয়, তাহলে তার কারণ কী? বা কীভাবে বৈধ হবে জানাবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি নাজায়েয। এটি সুদ গ্রহণের ছুতা। যদিও এক্ষেত্রে একথা বুঝাবার চেষ্টা করা হচ্ছে যে, ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে ২০ হাজার টাকা এবং বাকি এক হাজার টাকার বিনিময়ে বার মন ধান বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি এমন নয়। কেননা এটা সবাই জানে যে, এক হাজার টাকায় বার মন ধান কেউ বিক্রি করবে না। এখানে বিক্রি করা হয়েছে মূলত বিশ হাজার টাকা ঋণ পাওয়ার কারণে আর ঋণ প্রদান করে অতিরিক্ত সুবিধা ভোগ করাই সুদ। সুতরাং এটা সুদ গ্রহণের একটি অপকৌশল মাত্র, যা সম্পূর্ণ হারাম।

-আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৫/৩৫০; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া পৃ. ২৯৬; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৬/১১৬

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - সাভার, ঢাকা

৪৭৯৩. প্রশ্ন

সম্মানিত মুফতী সাহেব! প্রায় দশ বছর আগে আমি এক এলাকায় ঘুরতে গিয়ে সেখানকার মসজিদের গাছের ফল চুরি করে খেয়েছি। পরে খাওয়ার জন্য কিছু ফল সাথে করে নিয়েও এসেছিলাম। তখন অনেক ছোট ছিলাম বিধায় এর ভয়াবহতা বুঝতে পারিনি। এখন আমি বিষয়টি নিয়ে খুবই চিন্তিত। এর দায়মুক্তির জন্য আমাকে কি কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হবে?

একবার ভাবি অন্যায় হয়নি। আবার মনে হয় তখন তো আমি ছোট ছিলাম তাই এর কোনো হিসাব হবে না। তবে এর বিপরীতে ভিন্ন ভাবনাও কাজ করে।

তাই জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কোনো ক্ষতিপূরণ দিতে হলে কোথায় কীভাবে দিতে হবে? সে মসজিদ ছাড়া অন্য মসজিদে দিলে আদায় হবে কি না? কেননা আমরা এখন সে মসজিদ থেকে অনেক দূরে থাকি। সেখানে কোনো কিছু পাঠানো খুবই কষ্টসাধ্য। উপরোক্ত বিষয়গুলো বিস্তারিত জানানোর অনুরোধ রইল।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মসজিদের গাছ থেকে আপনি যে ফলগুলো খেয়েছেন তার ন্যায্যমূল্য ঐ মসজিদের ফান্ডেই পৌঁছে দিতে হবে। কেননা তা ঐ মসজিদের হক। অন্য মসজিদে দিলে তা আদায় হবে না। কিছু কষ্ট হলেও নির্ধারিত মসজিদেই টাকা পৌঁছে দিবেন।

প্রকাশ থাকে যে, মসজিদের গাছের ফলমূল মসজিদেরই সম্পদ। এগুলোর বিক্রিলব্ধ অর্থ মসজিদের প্রয়োজনে ব্যয় করতে হয়। মুসল্লীদের জন্য তা বিনামূল্যে খাওয়া বৈধ নয়। আর ছোট অবস্থায় কারো সম্পদ চুরি বা নষ্ট করলে বুঝ হওয়ার পর তারও ক্ষতিপূরণ দিতে হয়। বড় হওয়ার পর এ অজুহাত দাঁড় করানো যাবে না যে, আমি তো তখন ছোট ছিলাম।

-ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩১০; আলইসআফ ফী আহকামিল আওকাফ পৃ. ২২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৭৭; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৪৩২

শেয়ার লিংক

ইবনে মাহমুদ - তেজগাঁও, ঢাকা

৪৭৯২. প্রশ্ন

আমার মামা আমেরিকা প্রবাসী। তার দুটো কিডনীই প্রায় অচল। তাকে ১ দিন পর পর ডায়ালাইসিস করতে হয়। কিছুদিন পূর্বে তিনি ওয়ারিসসূত্রে ঢাকায় একটি বাড়ি এবং ২৬ লাখ টাকার মালিক হন। তিনি মোটামুটি সচ্ছল। তবে আগে তার অর্থনৈতিক অবস্থা এমন ছিল না, যার মাধ্যমে হজ্ব আদায় করা যায়।

তিনি জানতে চাচ্ছেন, অসুস্থ হবার পর মিরাসসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের কারণে তার উপর কি হজ্ব ফরয হয়ে গিয়েছে? যদি ফরয হয় তাহলে তার করণীয় কী? কারণ তার বর্তমান অবস্থায় সফর করা সম্ভব নয়। জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাঁ, ওয়ারিসসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদের কারণে আপনার মামার উপর হজ্ব ফরয হয়েছে। তবে তিনি যেহেতু নিজে হজ্ব করতে সক্ষম নন তাই তার কর্তব্য হল, কাউকে দিয়ে বদলী হজ্ব করানো।

অবশ্য তার যদি সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে তিনি এখনই বদলী হজ্ব করাবেন না। যখন সুস্থ হবেন তখন নিজেই হজ্ব করে নিবেন। কিন্তু তা সম্ভব না হলে বদলী হজ্ব করানোর অসীয়ত করে যাবেন।

উল্লেখ্য, কাউকে দিয়ে বদলী হজ্ব করানোর পর তিনি যদি সুস্থ হয়ে যান এবং হজ্বের সামর্থ্য থাকে তাহলে পুনরায় নিজে গিয়ে হজ্ব আদায় করতে হবে।

আরো উল্লেখ্য যে, বদলী হজ্ব সক্রান্ত বিভিন্ন মাসআলা রয়েছে। কাউকে বদলী হজ্বে পাঠাতে হলে কোনো নির্ভরযোগ্য আলেম থেকে এ সম্পর্কিত মাসআলা জেনে নিতে হবে।

-ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৬৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৭; রদ্দুল মুহতার ২/৪৫৮; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ৫১, ৬৪

শেয়ার লিংক

মারজানা আক্তার - বেগুনবাড়ি

৪৭৯১. প্রশ্ন

আমি এবং আমার স্বামী ২০১৯ সালে হজে¦ যাওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করেছি। এখন থেকেই আমি প্রয়োজনীয় মাসআলা জেনে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আপনাদের কাছে আমি কয়েকটি বিষয় জানতে চাচ্ছি।

ক. আমি সাধারণত হাতে-গলায় মিলিয়ে ২/৩ ভরি স্বর্ণ ব্যবহার করে থাকি। ইহরাম অবস্থায় কি এগুলো ব্যবহার করতে পারব?

খ. ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরলে কোনো সমস্যা হবে কি না?

গ. সাধারণত সবাই ইহরামের জন্য সাদা কাপড় ব্যবহার করে। এক্ষেত্রে মহিলাদের জন্যও কি সাদা বোরকা পরতে হবে?

উত্তর

ক. ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য অলংকার ব্যবহার করা জায়েয। প্রখ্যাত তাবেয়ী নাফে রাহ. বলেন-

أَنّ نِسَاءَ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ وَبَنَاتِهِ كُنّ يَلْبَسْنَ الْحُلِيّ وَهُنّ مُحْرِمَاتٌ.

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা.-এর স্ত্রী এবং মেয়েরা ইহরাম অবস্থায় স্বর্ণ-রূপার অলংকার ব্যবহার করতেন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১৪৪১৪)

খ. মহিলারা ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা-পামোজা পরিধান করতে পারবে। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. বলেন-

تَلْبَسُ الْمُحْرِمَةُ الْقُفّازَيْنِ وَالسّرَاوِيلَ.

ইহরাম অবস্থায় মহিলারা হাতমোজা ও পাজামা পরিধান করতে পারবে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১৪৪৪০)

সা‘দ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত আছে, তিনি তার কন্যাদেরকে ইহরাম অবস্থায় হাতমোজা পরার নির্দেশ দিতেন। (কিতাবুল উম্ম ২/২২৩)

শু‘বা রাহ. বলেন-

سَأَلْتُ الْحَكَمَ وَحَمّادًا عَنِ الْقُفّازَيْنِ. فَقَالاَ : لاَ بَأْسَ بِهِ.

আমি হাকাম ও হাম্মাদ রাহ.-কে (ইহরাম অবস্থায়) হাতমোজা পরার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলাম। তারা উভয়ে বললেন, তাতে কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা  ১৪৪৪১)

সালেম রাহ. বলেন-

أَنّ عَبْدَ اللهِ يَعْنِي ابْنَ عُمَرَ كَانَ يَصْنَعُ ذَلِكَ يَعْنِي يَقْطَعُ الْخُفّيْنِ لِلْمَرْأَةِ الْمُحْرِمَةِ. ثُمّ حَدّثَتْهُ صَفِيّةُ بِنْتُ أَبِي عُبَيْدٍ، أَنّ عَائِشَةَ حَدّثَتْهَا، أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ قَدْ كَانَ رَخّصَ لِلنِّسَاءِ فِي الْخُفّيْنِ، فَتَرَكَ ذَلِكَ.

আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পামোজা কেটে দিতেন। কিন্তু সফিয়্যা বিনতে আবু উবাইদ রা. তাঁর কাছে যখন আয়েশা রা.-এর এ হাদীস বর্ণনা করলেন যে, ‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মুহরিম মহিলাদের পামোজা ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন’ এরপর থেকে আর আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. মুহরিম মহিলাদের পামোজা কেটে দিতেন না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৮৩১)

গ. ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য সাদা বোরকা পরা জরুরি নয়। বরং স্বাভাবিক সময় কালো বা অন্য যে রঙের বোরকা ব্যবহার করে তা পরতে পারবে। তবে অন্য সময়ের মত হজে¦র সফরেও বোরকার রঙ কালো অথবা এমন হওয়া উচিত, যাতে আলাদা আকর্ষণ তৈরি না হয়। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১৪৪১৯; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/৩৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪১০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৮৬; ফাতহুল কাদীর ২/৪০৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৫৪৪; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৫৫; মানাসিক, মোল্লা আলী আলকারী পৃ. ১১৫

শেয়ার লিংক

কাউসার আহমাদ - বসুন্ধরা, ঢাকা

৪৭৯০. প্রশ্ন

আমার চাচা দুবাইতে থাকেন। সেখানে তার একটি আতরের দোকান আছে। গত বছর বসুন্ধরা সিটিতে আরেকটি আতরের দোকান কিনেছেন। আমি সেই দোকান দেখাশোনা করি। মাঝে মাঝে চাচা এসে হিসাব নেন। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে আমার চাচার এই দেশের দোকানের আতরের হিসাব কোন্ দেশের মূল্য অনুযায়ী করবেন, দুবাইয়ের  নাকি বাংলাদেশের?

 

উত্তর

যাকাতযোগ্য সম্পদ যে স্থানে থাকে সেই স্থানের বাজারমূল্য অনুযায়ী উক্ত সম্পদের মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। তাই আপনার চাচা বিদেশে থাকলেও তার বাংলাদেশের দোকানের আতরগুলোর মূল্য বাংলাদেশের বাজারমূল্য হিসেবেই হিসাব করতে হবে।

-তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৭৮; ফাতহুল কাদীর ২/১৬৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৮৬

শেয়ার লিংক

মারুফ হাসান - পুলপার, মুহাম্মাদপুর

৪৭৮৯. প্রশ্ন

আমার ভগ্নিপতি ইতালিতে থাকেন। তিনি তার যাকাতের টাকা থেকে বিশ হাজার টাকা আমার নিকট পাঠান তার অসুস্থ ফুফুকে দেওয়ার জন্য। আমার পরীক্ষা থাকায় টাকা পৌঁছাতে এক দিন দেরি হয়ে যায়। আর সেদিনই আমি যাওয়ার পূর্বে তার ফুফু হাসপাতালে মারা যান। এখন জানার বিষয় হচ্ছে, তার ফুফু কি এই টাকার মালিক হয়ে গিয়েছিল? যার ফলে টাকাগুলো তার সন্তানদের দিয়ে দিতে হবে? নাকি অন্য জায়গায় দেওয়া যাবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে টাকাগুলো যেহেতু আপনার ভগ্নিপতির ফুফুকে পৌঁছাতে পারেননি তাই তিনি উক্ত টাকার মালিক হননি। বরং টাকাগুলো আপনার ভগ্নিপতির মালিকানাতেই থেকে গেছে। সুতরাং ঐ মহিলার সন্তানদেরকে টাকাগুলো দেওয়া আবশ্যক হবে না; বরং এক্ষেত্রে ঐ মহিলার সন্তানদের দিতে চাইলে আপনার ভগ্নিপতির অনুমতি লাগবে। কিংবা তার অনুমতিক্রমে উক্ত টাকা যাকাত গ্রহণের উপযুক্ত অন্য কাউকেও দেওয়া যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৬/৪৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইবরাহীম - মিরপুর-২, ঢাকা

৪৭৮৮. প্রশ্ন

আমার এক মামাতো বোন দেড় লক্ষ টাকার সম্পদের (ব্যবসার জন্য কেনা সুপারির) মালিক। যার উপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। উক্ত টাকা আমার গত বছরের যাকাতের টাকা হতে দেওয়া হয়েছিল। তিনি টাকাটা এজন্যই জমা রেখেছিলেন যে, আরো কিছু টাকা হলে তিনি তার বাড়ি নির্মাণ কাজে হাত দেবেন। আমি তাকে  এই বছরের যাকাতের টাকা হতে আরো কিছু টাকা দিব বলে আশ্বস্ত করেছিলাম। এখন তার একটি বাড়ি নির্মাণের প্রয়োজন। যার জন্য আমি তাকে আমার এই বছরের যাকাতের টাকা হতে দুই লক্ষ টাকা দিতে চাই। হুযূরের কাছে জানার বিষয় হল, তার বাড়ি নির্মাণের জন্য আমার এই বছরের যাকাতের টাকা হতে কি দেওয়া যাবে? দ্রুত জানানোর অনুরোধ রইল। 

 

উত্তর

আপনার মামাতো  বোনের হাতে এখন যে সম্পদ আছে এতে তার উপরই যাকাত ফরয। তাই এখন আর তাকে যাকাত দেওয়া যাবে না। যাকাত দিলে তা আদায় হবে না। তবে মহিলাটি যদি দেড় লক্ষ টাকার ঐ সম্পদ দ্বারা বাড়ির নির্মাণসামগ্রী ক্রয় করে ফেলে এবং তার মালিকানায় প্রয়োজন অতিরিক্ত নেসাব পরিমাণ অন্য কোনো টাকা/সম্পদ না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রে তাকে যাকাত দেওয়া যাবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/১০৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/১৬৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯; রদ্দুল মুহতার ২/২৬২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইয়াছিন - নারায়ণগঞ্জ

৪৭৮৭. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি যাকাতের ফান্ড থেকে কিতাব কেনার জন্য কিছু টাকা দিয়েছে। এই টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কিনে কিতাব মুতালাআ করা যাবে কি? এবং এই টাকা নিজের ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা যাবে কি?

উত্তর

আপনি যাকাত গ্রহণের যোগ্য হলে আপনাকে যাকাতের টাকা দেওয়ার পর আপনি এর মালিক হয়ে গেছেন। এ টাকা আপনার জন্য যে কোনো প্রয়োজনে ব্যবহার করা বৈধ। সেক্ষেত্রে ল্যাপটপও খরিদ করতে পারবেন। তবে দাতা যদি আপনাকে কিতাব কেনার জন্যই দিয়ে থাকেন সেক্ষেত্রে ঐ টাকা দিয়ে ল্যাপটপ কেনা হয়েছে জানলে তিনি ভুল বুঝতে পারেন, তাই ল্যাপটপ থেকে কিতাব পড়ার বিষয়টি তাকে বুঝিয়ে বলা ভালো হবে। কেননা অন্যের ভুল ধারণা হতে পারে- এমন কাজ থেকে বেঁচে থাকাও মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

-আননাহরুল ফাইক ১/৪৬২; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৫, ৪/৫০২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৭০

শেয়ার লিংক

আমাতুল আজীজ - ময়মনসিংহ

৪৭৮৬. প্রশ্ন

আমার প্রায় ১০ ভরি স্বর্ণ আছে। ২/৩ ভরি সাধারণত ব্যবহার করি। বাকি স্বর্ণ কেবল বিশেষ উপলক্ষে ব্যবহার করি। এক বোন বললেন, ‘যে স্বর্ণ নিয়মিত ব্যবহার করা হয় তার যাকাত দিতে হয় না।’ এব্যাপারে আমাদের সমাজে বহু বিভ্রান্তি ছাড়ানো হয়।

মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, ঐ বোনের কথাটি কি ঠিক? এ বিষয়ে ইসলামী শরীয়াহর বিধান বিস্তারিত দলীলসহ জানালে বাধিত হব।

উত্তর

আপনার বোনের কথা ঠিক নয়। একাধিক সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত যে, স্বর্ণ বা রূপার অলংকার ব্যবহৃত হলেও তার যাকাত দিতে হয়। নিম্নে কিছু বর্ণনা উল্লেখ করা হল :

সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত আছে, এক মহিলা তার মেয়েকে নিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসেন। মেয়েটির হাতে দুটি স্বর্ণের চুড়ি ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তুমি এ অলংকারের যাকাত আদায় কর? মহিলা বললেন, না। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

أَيَسُرّكِ أَنْ يُسَوِّرَكِ اللهُ بِهِمَا يَوْمَ الْقِيَامَةِ سِوَارَيْنِ مِنْ نَارٍ؟

তুমি কি পছন্দ কর যে, এ দুটি চুড়ির বদলে তোমাকে আল্লাহ তাআলা কিয়ামতের দিন আগুনের দুটো চুড়ি পরাবেন? (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৬৩, হাদীসটিকে ইবনুল কাত্তান, মুনযিরি, যাইলায়ী প্রমুখ হাদীস বিশারদগণ সহীহ বলেছেন। নাসবুর রায়াহ ২/৩৭০; বায়ানুল ওয়াহামি ওয়াল ঈহাম ৫/৩৬৬)

উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. বলেন-

دَخَلَ عَلَيّ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فَرَأَى فِي يَدَيّ فَتَخَاتٍ مِنْ وَرِقٍ، فَقَالَ: مَا هَذَا يَا عَائِشَةُ؟ فَقُلْتُ: صَنَعْتُهُنّ أَتَزَيّنُ لَكَ يَا رَسُولَ اللهِ، قَالَ: أَتُؤَدِّينَ زَكَاتَهُنّ؟، قُلْتُ: لَا، أَوْ مَا شَاءَ اللهُ،

قَالَ: هُوَ حَسْبُكِ مِنَ النَّارِ.

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়সাল্লাম আমার কাছে আসলেন, তখন আমার হাতে রূপার দুটো চুড়ি ছিল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, এটা কী আয়েশা? আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, আমি যেন আপনার সামনে সেজেগুজে থাকতে পারি এজন্য এগুলো বানিয়েছি। তিনি বললেন, তুমি কি এগুলোর যাকাত আদায় কর? আমি বললাম, না। তিনি বললেন, এগুলোই তোমাকে জাহান্নামে নেয়ার জন্য যথেষ্ট হবে।

(সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৬৫; হাকেম, ইবনু দাকীকিল ঈদ প্রমুখ মুহাদ্দিসগণ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।  মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৪৭৭; নাসবুর রায়াহ ২/৩৭১)

উম্মুল মুমিনীন উম্মে সালামা রা. বলেন, আমি স্বর্ণের এক প্রকার অলংকার ব্যবহার করতাম। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, হে আল্লাহর রাসূল, এটা কি কানযের  অন্তর্ভুক্ত? (কুরআনুল কারীমে যার জন্য শাস্তির কথা এসেছে) তিনি বললেন-

مَا بَلَغَ أَنْ تُؤَدّى زَكَاتُهُ، فَزُكِّيَ فَلَيْسَ بِكَنْزٍ.

যাকাতের নেসাব পরিমাণ হলে যদি তার যাকাত আদায় করা হয় তাহলে তা কানযের অন্তর্ভুক্ত থাকে না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১৫৬৪;  ইমাম হাকেম হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। ইমাম নববী বলেন, হাদীসটি হাসান। মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ১৪৭৮; আল মাজমু ৫/৫১৭)

এজাতীয় বর্ণনাকে সামনে রেখে বড় বড় ফকীহ সাহাবী ও তাবেয়ীগণ স্বর্ণ বা রূপার অলংকার ব্যবহৃত হলেও তার যাকাত দেওয়ার ফাতোয়া দিয়েছেন।

মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাতে বর্ণিত আছে, উমর রা. আবু মূসা আশআরী রা.-এর নামে এ মর্মে চিঠি লেখেন যে-

مُرْ مَنْ قِبَلَك مِنْ نِسَاءِ الْمُسْلِمِينَ أَنْ يُصَدِّقْنَ حُلِيّهنّ.

আপনি আপনার আশপাশের মুসলিম মহিলাদেরকে তাদের অলংকারের যাকাত আদায় করার আদেশ দিন। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ১০২৫৭, ইমাম বুখারী বর্ণনাটিকে মুরসাল বলেছেন। -আত-তারীখুল কাবীর ৪/২১৭)

আরেক হাদীসে এসেছে, এক মহিলা আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে নিজ অলংকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে বললেন, এগুলোর কি যাকাত দিতে হবে? তিনি বলেন-

إِذَا بَلَغَ مِائَتَيْ دِرْهَمٍ فَزَكِّيهِ.

যদি দুইশত দিরহাম (অর্থাৎ যাকাতের নেসাব) পরিমাণ হয় তাহলে এর যাকাত আদায় কর। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৭০৫৫, আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, হাদীস ৯৫৯৪; মাজমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস ৪৩৫৮)

এছাড়াও উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. আবদুল্লাহ ইবনে আমর রা., আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. প্রমুখ সাহাবী এবং ইবনে সীরীন, ইবনুল মুসায়্যিব, সাঈদ ইবনে জুবাইর, আতা, মুজাহিদ, যুহরী, আলকামা, আসওয়াদ ও উমর ইবনে আবদুল আযীয প্রমুখ তাবেয়ী অনুরূপ ফতোয়া দিতেন। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৭০৫৪, ৭০৫৯, ৭০৬০, ৭০৬৫, ৭০৫৭)

একারণেই প্রখ্যাত তাবেয়ী আতা, যুহরী ও মাকহুল বলেন-

قَالُوا: فِي الْحُلِيِّ زَكَاةٌ. وَقَالُوا : مَضَتِ السّنّةُ أَنّ فِي الْحُلِيِّ الذّهَبِ وَالْفِضّةِ زَكَاةً.

স্বর্ণ ও রূপার অলংকারে যাকাত দিতে হয়। এটি পূর্ব থেকে চলে আসা সুন্নত। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ১০২৬৭)

মোটকথা, উপরের আলোচনা থেকে প্রমাণিত হয় যে, স্বর্ণ বা রূপার অলংকার ব্যবহৃত হলেও তার যাকাত দিতে হয়।

ব্যবহৃত অলংকারের যাকাত দিতে হয় না- এ মর্মে সরাসরি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে বর্ণিত রেওয়ায়েতটি সনদের দিক থেকে সহীহ নয়। দেখুন, আলখিলাফিয়্যাত, বাইহাকী ৪/৩৭৪; তানকীহুত তাহকীক, ইবনু আব্দিল হাদী ২/২১০; নাসবুর রায়াহ ২/৩৭৪

এক্ষেত্রে যারা বলেন, অলংকারের যাকাত দিতে হবে না, তারা দলীল হিসাবে কিছু আছার উল্লেখ করেন। তবে অলংকারের যাকাত ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি যেহেতু বিভিন্ন হাদীস দ্বারা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত, তাই এ মতটিই দলীলের বিচারে অধিক শক্তিশালী।

-কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৮৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ২/৩১৩; বাদায়েউস সানায়ে ২/১০১; ফাতহুল কাদীর ২/১৬২; আলবাহরুর রায়েক ২/২২৬

শেয়ার লিংক

আবদুর রাহমান - বি. বাড়িয়া

৪৭৮৫. প্রশ্ন

রমযানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে রাখলে উভয়টি আদায় হবে কি? এবং কাযা ও নফল রোযার সওয়াব পাওয়া যাবে কি?

উত্তর

রযমানের কাযা রোযা এবং শাওয়ালের ছয় রোযা একত্রে নিয়ত করলে শুধু রমযানের কাযা রোযা আদায় হবে। শাওয়ালের ছয় রোযা আদায় হবে না। শাওয়ালের ছয় রোযা রাখতে হলে পৃথকভাবে শুধু এর নিয়তে রোযা রাখতে হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২২৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭৯; ফাতহুল কাদীর ২/২৪৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৪৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৭

শেয়ার লিংক

খালেদ - বরিশাল

৪৭৮৪. প্রশ্ন

আমি একটি হোটেলে রান্না করি। রমযান মাসে রান্নার সময় লবণ চেখে দেখার প্রয়োজন হয়। অনুমান করে দিলে মাঝে মাঝে লবণ কম-বেশি হয়ে যায়। তখন ম্যানেজার ধমক দেন। তো রমযান মাসে যদি লবণ দেখার জন্য সামান্য ঝোল মুখে নিয়ে সাথে সাথে কুলি করে ফেলি এতে রোযার কোনো ক্ষতি হবে কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে তরকারির লবণ দেখার জন্য জিহ্বায় সামান্য দিয়ে আবার থু থু করে ফেলে দিবেন। আপনার জন্য এভাবে লবণ দেখা জায়েয হবে। এভাবে করলে রোযা নষ্ট হবে না। প্রয়োজনে এর পর পানি দিয়ে কুলি করে ফেলে দিবেন।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৯৩৮৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২০৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৬; আততাজনীস ওয়ালমাযীদ ২/৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯৯

শেয়ার লিংক

নাঈম হালীম - নিউজার্সি

৪৭৮৩. প্রশ্ন

আমার মামা আমেরিকা প্রবাসী। তার দুটো কিডনী প্রায় অচল। তাকে এক দিন পরপর ডায়ালাইসিস করতে হয়। ডাক্তারের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কেবল নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট খাবার গ্রহণ করতে পারেন। তার হাই প্রেসারও আছে। তাকে প্রতিদিন কিডনীর জন্য এবং হাই প্রেসারের জন্য বেশ কিছু ওষুধ খেতে হয়। গত রমযান মাসে সবাই নিষেধ করা সত্ত্বেও তিনি প্রথম রোযা রাখেন। সারাদিন রোযা রাখায় তিনি বেশ দুর্বল হয়ে পড়েন। বেশি সমস্যা হয়- নিয়ম মাফিক ওষুধ না খাওয়ার কারণে। এতে তার প্রেসার হাই হয়ে যায়। আর রমযান মাসে আমেরিকায় দিন দীর্ঘ (প্রায় ১৬/১৭ ঘণ্টা) হওয়ার কারণে কেবল রাতে ওষুধ খেলে হয় না। তাই বেশিরভাগ দিনই তার আগ্রহ থাকা সত্ত্বেও তিনি রোযা রাখতে পারেননি। মাঝে খুব কষ্ট হওয়া সত্ত্বেও ১/২টি রোযা তিনি রেখেছেন।

আমার জানার বিষয় হল, তিনি কি তার রোযার পরিবর্তে ফিদয়া দিতে পারবেন? আর ফিদয়া দিলে কীভাবে আদায় করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনার মামার জন্য রোযা রাখা যেহেতু খুবই কষ্টকর এবং দৃশ্যত তার সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও ক্ষীণ তাই তিনি রোযার পরিবর্তে ফিদয়া দিতে পারবেন।

ফিদয়া হল, প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে একজন দরিদ্রকে দু’বেলা খাবার খাওয়ানো কিংবা এমন কোনো ব্যক্তিকে দু’বেলা খাবারের মূল্য সদকা করা।

প্রকাশ থাকে যে, আপনার মামা যেহেতু আমেরিকা থাকেন তাই তিনি মূল্য দিয়ে ফিদয়া আদায় করতে চাইলে সেখানকার মূল্য হিসাবেই আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, এভাবে ফিদয়া আদায়ের পর তিনি যদি কখনো সুস্থ হয়ে যান তাহলে ঐ রোযাগুলো তিনি কাযা করে নিবেন।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৪৫০৫; কিতাবুল হুজ্জাহ আলা আহলিল মাদীনাহ ১/২৫৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯, ৩৬১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৫; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৫৯, ৪৬৪; ফাতহুল কাদীর ২/২৭৭; আলবাহরুর রায়েক ২/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ২/৪২৭

শেয়ার লিংক

আব্দুল খালেক - টঙ্গী, ঢাকা

৪৭৮২. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার এক চাচাতো ভাই ইন্তিকাল করে। আমি, আমার মামা এবং আমাদের মসজিদের মুয়াযযিন সাহেব মিলে  গোসল দেই। গোসল শেষে মামা চাচাতো ভাইকে কাফনের কাপড় পরিয়ে সুগন্ধি লাগায়, মাথার চুল চিরুনি দিয়ে আঁচড়িয়ে দেয় এবং বাম হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি ও কনিষ্ঠাঙ্গুলির বেশ বড় দুটো নখ কেটে অন্যান্য নখের সমান করে দেয়। মুয়াযযিন সাহেব চুল আঁচড়ানো এবং নখ কাটতে বাধা দিলে তিনি তা মানেননি; বরং বিভিন্ন ধরনের যুক্তির আশ্রয় নেন।  তো আমার জানার বিষয় হল-

ক. মৃত ব্যাক্তির মাথার চুল আঁচড়ানো এবং নখ টাকার ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কী?

খ. কেউ যদি ভুলে বা মাসআলা না-জানার কারণে এমনটি করে ফেলে, তবে ঐ কর্তিত নখের ব্যাপারে করণীয় কী? তা কি সাধারণ ময়লার মত ফেলে দেওয়া হবে, নাকি মৃতের কবরে দাফন করা হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হতাম।

 

উত্তর

মায়্যিতের নখ কেটে দেওয়া এবং চুল আঁচড়ানো নাজায়েয হয়েছে। মায়্যিতের নখ, মাথার চুল বা শরীরের অন্য কোনো পশম কাটা এবং চুল দাড়ি আঁচড়ানো নাজায়েয। আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি কিছু লোককে মায়্যিতের চুল আঁচড়িয়ে দিতে দেখে আপত্তি করে বলেন, তোমরা মায়্যিতের চুল আঁচড়িয়ে দিচ্ছ কেন? (কিতাবুল আছার, আবু ইউসুফ, বর্ণনা ৩৮২)

কেউ ভুলে নখ বা চুল এগুলোর কোনোটি কেটে ফেললে কর্তিত চুল, নখগুলো মায়্যিতের কাফনের ভিতর দিয়ে দিতে হবে। কারণ, মায়্যিতের দেহের সব অংশসহই দাফন করা সুন্নত।

-কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ ১/২৪২; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ ৭/১৩৯, হাদীস ১১০৫৪; আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৯; শরহুল মুনয়া, পৃ. ৫৭৯; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৩১২; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৯৮

শেয়ার লিংক

আবদুল হাই - বি. বাড়িয়া

৪৭৮১. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার বড় মামা ইন্তিকাল করেন। আমি, ছোট মামা ও এক মুরুব্বী মিলে বড় মামাকে গোসল দেই। গোসল দেওয়া শেষে হাত-পা ধুয়ে শরীরের কাপড় পরিবর্তন করি। পূর্ব থেকে অযু থাকায় নতুন অযু না করেই জানাযার নামাযে শরীক হই। নামায শেষে এলাকার এক ভাই বেশ আপত্তি করে বলে, তোমার জানাযার নামায শুদ্ধ হয়নি। কারণ, তুমি গোসল করনি। পরে এবিষয়ে একাধিক ইমাম সাহেবকে জিজ্ঞেস করলে ভিন্ন ভিন্ন উত্তর পাই। ফলে পেরেশানি আরো বেড়ে যায়, তাই মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাচ্ছি, ঐ ভাইয়ের কথাটি কি ঠিক?

উত্তর

মায়্যিতকে গোসল দিলেই গোসলদাতার অযু-গোসল করতে হয়’ এ ধারণা ঠিক নয়। হাদীসের কিতাবে আছে-

عَنِ ابْنِ مَسْعُودٍ، وَعَائِشَةَ، كَانَا لَا يَرَيَانِ عَلَى مَنْ غَسّلَ مَيِّتًا غُسْلًا.

হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. ও আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তারা মৃতব্যক্তির গোসলদাতার জন্য গোসল করা জরুরি মনে করতেন না। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, বর্ণনা ৬১০৫)

সুতরাং আপনার ঐ দিনের জানাযার নামায আদায় হয়ে গেছে। এ নিয়ে সংশয়ের প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য যে, মৃতের শরীরে যেহেতু নাপাকি থাকার আশঙ্কা থাকে এবং গোসলের ছিটা গোসলদাতার শরীর বা কাপড়ে লাগারও আশঙ্কা থাকে, তাই ফকীহগণ গোসলদাতার জন্য সাধারণ অবস্থায় গোসল করা উত্তম বলেছেন।

মৃত ব্যক্তিকে গোসল দেওয়ার পর নিজের গোসল করা আবশ্যক হওয়া না হওয়ার ব্যাপারে শরীয়তের সঠিক মাসআলা কী? -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক ৩/৪০৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১/৮২; ফাতহুল কাদীর ২/৭৬; আলবাহরুর রায়েক ১/৯১; রদ্দুল মুহতার ২/২০২

শেয়ার লিংক

বিপ্লব - কুড়িগ্রাম

৪৭৮০. প্রশ্ন

কেউ যদি প্রসাব  করার পর শুধু টিস্যু বা মাটির ঢিলা ব্যবহার করে শুকিয়ে নেয়, পানি ব্যবহার না করে, তারপর অযু করে নামায পড়ে, তবে কি তার নামায হবে না? পানি ব্যবহার না করার কারণে সে কি নাপাক থেকে যাবে?

আমাদের এলাকার একজন মুসল্লী বলেন যে, পানি থাকা সত্ত্বেও কেউ যদি পানি ব্যবহার না করে,  তবে সে নাপাক থেকে যাবে, তার অযু হবে না। প্রশ্ন হল, কথাটা কতটুকু সঠিক? মাসিক আলকাউসারে উত্তর দিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

পেশাবের পর পানি ব্যবহার না করলে নাপাক থেকে যায় এবং তার অযুও হবে না- এ কথা ঠিক নয়। বরং শুধু মাটির ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহার করলেও পাক হয়ে যাবে। এবং এরপর অযু করে নামায পড়াও সহীহ হবে। তবে ঢিলা বা টিস্যু ব্যবহারের পর পানিও ব্যবহার করা যে ভালো তা তো বলার অপেক্ষা রাখে না।

-কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ১৪৬; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ৩৯৭৮, ৩৯৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/১০৪; আলবাহরুর রায়েক ১/২২৮; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৮; রদ্দুল মুহতার ১/৩৩৮

শেয়ার লিংক

আযীযুল হক - ফার্মগেট, ঢাকা

৪৭৭৯. প্রশ্ন

আমার অসুস্থতার কারণে ডাক্তার প্রস্রাবের রাস্তার সাথে ক্যাথেটার লাগিয়ে দিয়েছে। তাই এক মাওলানা সাহেবের কথামতো আমি নামাযের প্রত্যেক ওয়াক্তে নতুন করে অযু করে নামায পড়ছি। প্রশ্ন হল, আমি এই ওযর থাকা অবস্থায় চামড়ার মোজা পরলে প্রতি ওয়াক্তের অযুর সময় পা না ধুয়ে মোজার উপর মাসাহ করতে পারব কি না?

উত্তর

মাযূর ব্যক্তি এবং সুস্থ ব্যক্তির মোজার উপর মাস্হের হুকুমের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। মাযূর অবস্থায় পা-মোজা পরলে প্রতি ওয়াক্তের নতুন অযুর সময় মোজা খুলে পা ধুতে হবে। এক্ষেত্রে চামড়ার মোজার উপর মাসাহ করতে পারবে না। তবে মাযূর অবস্থায় কোনো ওয়াক্তে একবার অযু করার পর মোজা পরলে ঐ ওয়াক্তের মধ্যে অন্য কারণে ওযু ভঙ্গ হলে তখন অযু করার সময় পা ধৌত না করে মোজার উপর মাসাহ করা যাবে। সুতরাং আপনি মাযূর থাকা অবস্থায় মোজা পরলে আপনার ক্ষেত্রে উক্ত হুকুম প্রযোজ্য হবে। আপনি সুস্থ মুকীম ব্যক্তিদের মত এক দিন এক রাত মাসাহ করতে পারবেন না।

প্রকাশ থাকে যে, কোনো ব্যক্তি যদি সুস্থাবস্থায় পূর্ণ অযু করে মোজা পরিধান করে অতপর সে মাযূর হয়ে যায় তাহলে সে মুকীম হলে এক দিন এক রাত পর্যন্ত সুস্থ ব্যক্তির মত মাসাহ করতে পারবে।

-কিতাবুল আছল ১/৮৩; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১০৫; আলবাহরুর রায়েক ১/১৬৯; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৮; ফাতাওয়া তাতারখখানিয়া ১/৪১৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৪; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৭১

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement