আহসান হাবীব - মোমেনশাহী

৪৯৪৬. প্রশ্ন

আমি কলেজে পড়ি। আমার বন্ধুদের অনেককেই বিভিন্ন প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট কাপড় পরতে দেখা যায়। তারা খুব আগ্রহের সাথে এ ধরনের কাপড় কিনে পরিধান করে এবং এতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এছাড়াও বাজারে বিভিন্ন পণ্যের গায়ে প্রাণীর ছবি থাকে যেমন মগ, গ্লাস, প্লেট ইত্যাদি। বন্ধুদের অনেকেই এসকল পণ্য ব্যবহার করে এবং বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গিফট করে। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, প্রাণীর ছবিবিশিষ্ট কাপড় পরিধান করা এবং এধরনের বিভিন্ন পণ্য ক্রয়-বিক্রয় ও ব্যবহারের শরয়ী বিধান কী? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

উত্তর

প্রাণীর স্পষ্ট ছবিবিশিষ্ট কাপড় পরিধান করা শরীয়তসম্মত নয়। উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকা রা. বলেনÑ

دَخَلَ عَلَيّ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ وَأَنَا مُتَسَتّرَةٌ بِقِرَامٍ فِيهِ صُورَةٌ، فَتَلَوّنَ وَجْهُهُ، ثُمّ تَنَاوَلَ السِّتْرَ فَهَتَكَهُ، ثُمّ قَالَ: إِنّ مِنْ أَشَدّ النّاسِ عَذَابًا يَوْمَ الْقِيَامَةِ، الّذِينَ يُشَبّهُونَ بِخَلْقِ اللهِ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমার নিকট আসলেন। তখন আমি একটি পাতলা চাদর দিয়ে নিজেকে আবৃত করে রেখেছিলাম, যাতে ছবি আঁকা ছিল। (এটা দেখে) তিনি রাগান্বিত হলেন। অতপর তিনি চাদরটি নিয়ে ছিঁড়ে ফেললেন এবং বললেন, কিয়ামতের দিন কঠিন আযাব ভোগকারীদের মধ্যে তারাও থাকবে, যারা আল্লাহর সৃষ্ট প্রাণীর মত আকৃতি অঙ্কন বা নির্মাণ করে। (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২১০৭)

এছাড়া ঘরে কোনো প্রাণীর দৃশ্যমান ছবি রাখাও শরীয়তে নিষিদ্ধ। সুতরাং প্রাণীর স্পষ্ট ছবিবিশিষ্ট কাপড়, মগ, গ্লাস ইত্যাদি ব্যবহার এবং ক্রয়-বিক্রয় থেকে বিরত থাকা জরুরি।

Ñআলজামেউস সাগীর পৃ. ৬৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৫৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/২০৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭; রদ্দুল মুহতার ১/৬৪৭

শেয়ার লিংক

আবদুর রব - যশোর

৪৯৪৫. প্রশ্ন

শুনেছি হালাল পশুর কিছু জিনিস খাওয়া যায় না। সেই জিনিসগুলো কয়টি ও কী কী?

উত্তর

হালাল পশুর সাতটি জিনিস খাওয়া নিষেধ। যথা, ১. প্রবাহিত রক্ত ২. অ-কোষ ৩. চামড়া ও গোশতের মাঝে সৃষ্ট জমাট মাংসগ্রন্থি ৪. মূত্রথলি ৫. পিত্ত ৬ ও ৭. নর ও মাদার গুপ্তাঙ্গ। এ সংক্রান্ত হাদীসটি হলÑ

كَرِهَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ مِنَ الشّاةِ سَبْعًا: الْمَرَارَةَ، وَالْمَثَانَةَ، وَالْغُدّةَ، وَالحَيَا، وَالذّكَرَ، وَالْأُنْثَيَيْنِ، وَالدّمَ.

অর্থাৎ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বকরীর সাতটি জিনিস অপছন্দ করেছেন: পিত্ত, মূত্রথলি, মাংসগ্রন্থি, নর ও মাদার গুপ্তাঙ্গ, অ-কোষ, (প্রবাহিত) রক্ত। (কিতাবুল আছার মুহাম্মাদ রাহ., হাদীস ৮০৮)

Ñমুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৮৭৭১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪৬৩; রদ্দুল মুহতার ৬/৭৪৯; ইলাউস সুনান ১৭/১২৯

শেয়ার লিংক

শুআইব আহমদ - জ্যমাইকা

৪৯৪৪. প্রশ্ন

আমাদের দেশে সাধারণত খতনা করা হয় একটু বয়স হওয়ার পর। কিন্তু আমেরিকার হাসপাতালগুলোতে জন্মের এক সপ্তাহের ভিতরেই খতনা করে ফেলা হয়। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এত ছোট বয়সে খতনা করতে শরীয়তের পক্ষ হতে কোনো নিষেধাজ্ঞা আছে কি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

শরীয়তের পক্ষ থেকে খতনার সর্বনি¤œ কোনো বয়স নির্ধারিত নেই। যদি শিশুর জন্য অধিক কষ্টকর ও ক্ষতিকর না হয় তাহলে জন্মের পর খতনা করানোও জায়েয হবে।

Ñখুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৪১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৮৫; খিযানাতুল আকমাল ৩/৪৭০; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭৫১

শেয়ার লিংক

নাজমুল হক - ফেনী

৪৯৪৩. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে কুরআন মাজীদের পুরাতন অনেক কপি আছে। যেগুলো এখন আর পড়ার উপযুক্ত থাকেনি। এগুলো ছাড়াও পড়ার মত আরো অনেক নতুন কুরআন শরীফ আছে। মসজিদ কমিটি চাচ্ছে, পুরাতন কপিগুলো সরিয়ে ফেলতে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা এগুলো কী করতে পারি? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

কুরআন মাজীদের পুরাতন কপি তিলাওয়াতের অনুপযুক্ত হয়ে গেলে পবিত্র কাপড়ে পেঁচিয়ে মানুষের চলাচলমুক্ত স্থানে দাফন করে দেবে। ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেনÑ

كَانُوا يَأْمُرُونَ بِوَرَقِ الْمُصْحَفِ إِذَا بَلِي أَنْ يُدْفَنَ.

কুরআনের পাতা পুরাতন হয়ে গেলে তারা (সাহাবীগণ) তা মাটিতে দাফন করে দেওয়ার আদেশ করতেন। (ফাযাইলুল কুরআন, আবু উবাইদ, বর্ণনা ৬৫)

অথবা ভারী কোনো বস্তুর সাথে বেঁধে বড় কোনো জলাশয়ে ডুবিয়ে দিবে।

Ñশরহুস সিয়ারিল কাবীর, সারাখসী ৩/১৪২; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৭১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৬৮; আলবিনায়া ১৪/৫৮০; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ৩/৯৪; রদ্দুল মুহতার ১/১৭৭

শেয়ার লিংক

রাশেদুল ইসলাম - কেশবপুর, যশোর

৪৯৪২. প্রশ্ন

আমরা পাঁচ ভাই-বোন। কুরবানীর উদ্দেশ্যে আমরা একটি গরু ক্রয় করি। ক্রয় করার সময় আমাদের নিয়ত ছিল, আমরা নিজেরাই গরুটি কুরবানী করব। বাইরের কাউকে শরীক করব না। আমাদের প্রতিবেশী এক ভাই আমাদের এই গরুতে শরীক হতে চাচ্ছে। আমরা কি তাকে শরীক করতে পারব? আমাদের এই গরুর এক ভাগ আমরা মরহুম আব্বাজানের নামে দিব। প্রশ্ন হল, এই ভাগের গোশত কি পুরোটা গরীব-মিসকীনদের সদকা করে দিতে হবে? নাকি আমরা নিজেরাও খেতে পারব? এই এক ভাগ কি আমরা পাঁচ জন মিলে দিতে পারব? নাকি একজনের দেওয়া আবশ্যক? বিষয়গুলো জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

কুরবানীর পশু নিজেদের জন্য ক্রয় করার পর তাতে নতুন করে কাউকে শরীক নেওয়া মাকরূহ। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত প্রতিবেশীকে আপনাদের গরুতে শরীক করা উচিত হবে না। আর যদি তাকে শরীক করা হয় তাহলে এ বাবদ প্রাপ্ত টাকা পুরোটা সদকা করে দেওয়া উত্তম হবে। আর পশুর যে অংশ আপনাদের মরহুম পিতার ইসালে সাওয়াবের জন্য নফল হিসাবে করছেন, সে ভাগের গোশত আপনারা নিজেরাও খেতে পারবেন, দান সদকাও করতে পারবেন। অর্থাৎ এর হুকুম সাধারণ কুরবানীর গোশতের মতো। আর এ ভাগের কুরবানী আপনারা সকলে মিলেও দিতে পারবেন। তবে উত্তম হল, এক ভাগ একাধিক জন মিলে না দিয়ে যে কোনো একজনের পক্ষ থেকে দেওয়া।

Ñকিতাবুল আছল ৫/৪০৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৭/৪৪৪; ফাতাওয়া সিরাজিয়া পৃ. ৯০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩১৭

শেয়ার লিংক

আমীনুল ইসলাম - উত্তরা, ঢাকা

৪৯৪১. প্রশ্ন

আমি গত কয়েক বছর যাবৎ কুরবানী ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও কুরবানী করিনি। এখন বিগত কাযা কুরবানীগুলো আদায় করতে চাচ্ছি। হুজুরের কাছে আমার প্রশ্ন হল, আমি যদি প্রতি বছরের জন্য গরুর সাত ভাগের এক ভাগের যে মূল্য আসে, সেই মূল্য সদকা করি, তাহলে কি আমার কাযা কুরবানী আদায় হবে? নাকি প্রতি বছরের জন্য একটি ছাগলের মূল্য সদকা করতে হবে?

উদাহরণ সরূপ, একটি গরুর দাম ৪২ হাজার টাকা। আর সাতটি ছাগলের দাম ৭০ হাজার টাকা। এখন আমি যদি ৭ বছরের জন্য ৪২ হাজার টাকা সদকা করি। তাহলে কুরবানী আদায় হবে কি না? নাকি ৭০ হাজার টাকা সদকা করতে হবে? দলীলসহ জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যে কয় বছর কুরবানী করা হয়নি প্রত্যেক বছরের জন্য অন্তত এক বছর বয়সী একটি ছাগলের মূল্য সদকা করতে হবে। এক্ষেত্রে গরুর সপ্তমাংশের হিসাব যথাযথ নয়। তবে হাঁ, গরুর সপ্তমাংশের মূল্য যদি এক বছর বয়সী ছাগলের মূল্য সমপরিমাণ বা বেশি হয় তাহলে সেক্ষেত্রে তা সদকা করলে কাযা আদায় হবে। কিন্তু এক বছর বয়সী ছাগলের মূল্যের কম হলে আদায় হবে না।

Ñআলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৪; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২০৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩১১; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/২৯৬

শেয়ার লিংক

আবদুল কাদির - নারায়ণগঞ্জ

৪৯৪০. প্রশ্ন

আমাদের বাড়ি শহরের এক প্রান্তে। আশপাশে তেমন বাড়ি-ঘর নেই। রাতে আমাদের বাড়ি পাহারা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আমার পিতা কয়েকটি দামি কুকুর সংগ্রহ করেছিলেন। আমার পিতার ইন্তিকালের পর আমি এই কুকুরগুলোর মালিক হয়েছি। কুকুরগুলো পালতে বেশ অর্থ ব্যয় হয়। আর বাড়ি পাহারায় সবগুলোর প্রয়োজনও হয় না। তাই আমি চাচ্ছি, একটি বা দুটি কুকুর রেখে বাকিগুলো বিক্রি করে দিতে। আমার জন্য কি কুকুরগুলো বিক্রি করা বৈধ হবে? আমি শুনেছি, কুকুর বিক্রি করতে হাদীসে নিষেধ এসেছে।

উত্তর

হাঁ, কুকুরগুলো আপনি বিক্রি করতে পারবেন। মানুষদের থেকে কুকুরপ্রীতি দূর করার উদ্দেশ্যে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুকুর পালন, বিক্রি ইত্যাদি সবই নিষেধ করেছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের প্রয়োজনে আসে এমন কুকুর যথা : শিকারী কুকুর, পাহারার কুকুর ইত্যাদি বিক্রি ও পালনের অনুমতি দিয়েছেন।

Ñমুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪৪১১; সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪২৯৫; কিতাবুল আছল ৫/৪১৪; শরহু মাআনিল আছার ২/২০৭; আলমাবসূত, সারাখসী ১১/২৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১১৪; রদ্দুল মুহতার ৫/২২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ দাউদ - বানিপুর, কুমিল্লা

৪৯৩৯. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমাদের এলাকায় মাদরাসা-মসজিদের মাহফিলগুলোতে আমরা বইয়ের দোকান দিই। যেহেতু সব বই বিক্রি করা যায় না; তাই আমরা লাইব্রেরী থেকে বই কেনার সময় এভাবে চুক্তি করি যে, যেসব বই বিক্রি হবে না, সেগুলো ফেরত দিব। মুফতী সাহেবের কাছে জানতে চাই, আমাদের এভাবে চুক্তি করা কি সহীহ হচ্ছে?

উত্তর

অবিক্রিত বই ফেরত দেওয়ার শর্ত করা জায়েয। এ কারণে বিক্রয় চুক্তি ফাসেদ হয় না। তবে কত দিনের মধ্যে ফেরত দেয়া যাবে এবং কোনো বই নষ্ট হয়ে গেলে বা দাগ পড়ে গেলে কী হবে এজাতীয় বিষয়গুলো সুনির্দিষ্ট ও সুস্পষ্ট করে নিতে হবে। যেন পরবর্তীতে এ নিয়ে কোনো সমস্যা সৃষ্টি না হয়।

Ñমাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা ১৮৮; শরহুল মাজাল্লা, আতাসী ২/৬৪; রদ্দুল মুহতার ৫/৮৮

শেয়ার লিংক

শামসুল আরেফিন - রংপুর

৪৯৩৮. প্রশ্ন

আমি লাইব্রেরী থেকে ৩০০ টাকা দিয়ে একটি কিতাব কিনি। কিতাবটি কেনার পর এটি প্রয়োজন না হওয়ায় আমি সে লাইব্রেরীতে কিতাবটি ফেরত দিয়ে যাই। লাইব্রেরীওয়ালা বলল, আমরা তো কিতাব ফেরত নিই না। তবে কিনে নিই। অতপর সে ২৫০ টাকায় কিতাবটি আমার থেকে কিনে নেয়। তার এই কাজটি কি ঠিক হয়েছে?

উত্তর

বিক্রিত পণ্য ফেরত নেওয়া উত্তম কাজ। তবে জরুরি নয়। তাই পণ্যে কোনো ত্রুটি পাওয়া না গেলে বিক্রেতাকে পণ্য ফেরত নিতে বাধ্য করা যাবে না। অতএব, ঐ কিতাবটি ফেরত না নিয়ে অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে দোকানীর কিনে নেওয়া অবৈধ হয়নি। অবশ্য উত্তম ছিল পূর্বের মূল্যে পণ্যটি ফেরত নেওয়া। তাহলে তিনি হাদীসে বর্ণিত বিশেষ ফযীলতের অধিকারী হতেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেনÑ

مَنْ أَقَالَ نَادِمًا بَيْعَتَهُ أَقَالَ اللهُ عَثْرَتَهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

যে ব্যক্তি অনুতপ্ত ক্রেতার পণ্য (সমমূল্যে) ফেরত নেয়, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলা তার ত্রুটি-বিচ্যুতি মাফ করে দেবেন। (সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৫০২৯)

Ñকিতাবুল আছল ২/৫০৫; রদ্দুল মুহতার ৫/৭৪

শেয়ার লিংক

আবদুল বাসেত - ছুটিপুর, যশোর

৪৯৩৭. প্রশ্ন

যশোর শহরে আমার একটি মুদি দোকান আছে। দোকান করার সময় একজনের সাথে এই মর্মে চুক্তি করি যে, সে দেড় লাখ টাকা দিয়ে পাঁচ বছর পর্যন্ত আমার সাথে যৌথ কারবার করবে। পাঁচ বছর পর আর যৌথ লেনদেন থাকবে না। পাঁচ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও ব্যবসায় উন্নতি দেখে সে অংশীদারিত্ব ছাড়তে সম্মত হচ্ছে না। সে বলছে, যৌথ কারবারে এরকম শর্তারোপ করা ঠিক নয়। মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, যৌথ কারবারে নির্দিষ্ট মেয়াদের শর্ত করা বৈধ কি না? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাঁ, যৌথ মূলধনী কারবারে চুক্তির মেয়াদ নির্দিষ্ট করা এবং ঐ মেয়াদের পর চুক্তি বাতিল হয়ে যাওয়ার শর্ত করা জায়েয। অতএব, পাঁচ বছর পর ব্যবসার পুরো হিসাব করে তার অংশের সকল পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে আপনারা শরীকানা কারবার শেষ করতে পারবেন।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ৫/৭৪; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬১৩; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৭৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ২/৫১৭

শেয়ার লিংক

আহমাদুল্লাহ - মণিরামপুর, যশোর

৪৯৩৬. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় শীতের মৌসুমে খেজুর গাছওয়ালারা গাছিদের সাথে নি¤েœাক্ত চুক্তিগুলো করে থাকে। শরীয়তের আলোকে সেগুলো বৈধ কি না জানিয়ে বাধিত করবেন।

১. গাছি পুরো মৌসুমে খেজুর গাছ কেটে নিজে রস নিয়ে নেবে। আর গাছের মালিকদেরকে নির্দিষ্ট পরিমাণে খেজুরের গুড় দেবে। যেমন, ২ বিলি বা ৩ বিলি।

২. এক পালায় গাছি রস নেবে। অন্য পালায় গাছের মালিক রস নেবে।

৩. যা রস হবে, তার অর্ধেক নেবে গাছি। আর অর্ধেক নেবে গাছের মালিক।

 

উত্তর

উপোরক্ত কোনো পদ্ধতিই শরীয়তসম্মত নয়। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে, গাছির জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ পারিশ্রমিক নির্ধারণ করা। গাছি নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবে। আর খেজুরের রস পুরোটা পাবে গাছের মালিক।

Ñআলমাবসূত, সারাখসী ১৬/৩২; বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৭; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৫/১১; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৫৭, ২১৭

শেয়ার লিংক

আহসানুল হাবীব - বটিয়াঘাটা, খুলনা

৪৯৩৫. প্রশ্ন

আমার বাড়ি যশোর। আমি থাকি কাশিপুর নামক এক গ্রামে। অন্য এক এলাকায় আমার এক বিঘা জমি আছে। এলাকাটি আমাদের এলাকা থেকে বেশ দূরে। আসা-যাওয়া করা একটু কষ্টকর। তাই সেখানকার এক ব্যক্তির সাথে চুক্তি করেছি যে, আমাদের এলাকায় তার একটি জমি আমি চাষাবাদ করব। এর বিনিময়ে সে তার এলাকায় আমার জমিটি চাষ করবে। এই চুক্তির উপর এক বছর অতিবাহিত হয়ে গেছে। হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, এভাবে চুক্তি করা শরীয়তসম্মত কি না? শরীয়তসম্মত না হলে সঠিক পদ্ধতি কী? আর বিগত এক বছরের বিধান কী হবে? বিষয়গুলো জানিয়ে কৃতার্থ করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি জায়েয হয়নি। এক্ষেত্রে সঠিক পদ্ধতি হচ্ছে, উভয় জমির ভাড়া নির্ধারণ করে পৃথকভাবে চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া। অতপর উভয় জমির ভাড়া সমান সমান হলে ভাড়া কাটাকাটি করে নেওয়ার সুযোগ আছে। আর যদি ভাড়া কম বেশি নির্ধারিত হয়, তাহলে যার জমির ভাড়া বেশি, সে অপরজনের থেকে বাকি টাকা পাবে। আর বিগত বছরের বিষয়টিও এভাবে সংশোধন করে নিবে।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৫/১০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৪/৪১২; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬২

শেয়ার লিংক

ফারজানা আক্তার - জামালপুর

৪৯৩৪. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার স্বামী ইন্তেকাল করেন। ইন্তেকালের সময় দুইজন নাবালেগ সন্তান রেখে যান। ভাইদের উপর আস্থা না থাকায় তিনি আমাকেই তার দুই সন্তানের সকল দায়-দায়িত্ব অর্পণ করেন। কৃষি জমি ছাড়া আয়ের আর কোনো উৎস না থাকায় বর্তমানে দুই সন্তানকে নিয়ে খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছি। তাই এখন ভাবছি যে, আমি ও আমার সন্তানরা মীরাসসূত্রে যে জমি পেয়েছি তার অর্ধেক বিক্রি করে নিজেদের প্রয়োজন পূরণ করব। অতএব হুজুরের কাছে জানার বিষয় হল, সন্তানদের উক্ত জমি বিক্রি করার শরঈ বিধান কী? মাসআলাটির সমাধান জানালে খুবই উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা মতে বাস্তবেই যদি আপনার সন্তানদের ভরণ-পোষণের জন্য জমি বিক্রি ছাড়া অন্য কোনো ব্যবস্থা না থাকে তাহলে আপনি বাজারমূল্যে উক্ত জমি বিক্রি করতে পারবেন এবং বিক্রিলব্ধ টাকা তাদের জন্য ব্যয় করতে পারবেন।

Ñখুলাসাতুল ফাতাওয়া ৩/৮২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৪৩৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ৫/৩৫১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৭১১

শেয়ার লিংক

আলাউদ্দিন - কুমিল্লা

৪৯৩৩. প্রশ্ন

আমার বাবা পরিবারের খাবারের জন্য গ্রামের পরিচিত একজনকে এই শর্তে বিশ হাজার টাকা দেন যে, এ বছর প্রতি চার মাস অন্তর চার মন করে অমুক জাতের চাল আমাদের বাসায় দিয়ে যাবে। মাস দেড়েক হল বাবা ইন্তিকাল করেছেন। জানার বিষয় হল, বাবার মৃত্যু পরবর্তী উক্ত চুক্তির হুকুম কী হবে? চুক্তিটি কি বহাল থাকবে না বাতিল হয়ে যাবে?

উত্তর

আপনার বাবার মৃত্যুর কারণে প্রশ্নোক্ত চুক্তিটিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না; বরং তা আপন অবস্থায় বহাল থাকবে। কেননা ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি আপনার বাবার জীবদ্দশায় সম্পন্ন হয়ে গেছে, মূল্যও পরিশোধ হয়ে গেছে। এখন সময়মত পণ্য পরিশোধের দ্বায়িত্ব বিক্রেতার। সুতরাং এক্ষেত্রে আপনারা পূর্বচুক্তি অনুযায়ী বছরের নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট পরিমাণ চাল প্রাপ্য হবেন।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১১৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১৮০; আদ্দুররুল মুখতার ৫/২১৫

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ মাসউদ - ধানমণ্ডি, ঢাকা

৪৯৩২. প্রশ্ন

আমাদের এক বন্ধুর ‘রেডি ফ্ল্যাট’ বিক্রির ব্যবসা আছে। তিনি নিজে ধার্মিক এবং ধর্মীয় বিধি-নিষেধ মেনে চলতে সচেষ্ট। কিন্তু কখনো কখনো এমন ক্রেতার সম্মুখীনও তাকে হতে হয়, যার ব্যাপারে নিশ্চিত জানা থাকে যে, তার রোজগার হালাল নয়। যেমন, সে কোনো সুদী ব্যাংকে কর্মরত ইত্যাদি। জানা কথা, যে টাকা সে ফ্ল্যাটের মূল্য হিসাবে দেবে তা হারাম। এ অবস্থায় তার সঙ্গে লেনদেন বৈধ হবে কি? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

কোনো ক্রেতা সম্পর্কে যদি এ কথা সুনিশ্চিতভাবে জানা যায় যে, ক্রয়মূল্য হিসেবে তিনি যে অর্থ পরিশোধ করবেন তা হারাম পন্থায় উপার্জিত, তবে তার সঙ্গে লেনদেন করা বৈধ হবে না। কিন্তু এমন ব্যক্তি যদি তার হালাল অর্থ থেকে মূল্য পরিশোধ করে তাহলে এক্ষেত্রে তার সাথে লেনদেন করা যাবে।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ৮/৭৩; আলবাহরুর রায়েক ৮/২০১; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৫২; রদ্দুল মুহতার ৫/৯৮

শেয়ার লিংক

আবুল বারাকাত - নাটোর

৪৯৩১. প্রশ্ন

আমার এক প্রতিবেশী আমার কাছ থেকে বড় অংকের একটা টাকা ঋণস্বরূপ গ্রহণ করেন। ঋণের জামানত স্বরূপ তার একটি গরু আমার কাছে বন্ধক রাখেন। গরুটি আমার কাছে হস্তান্তরের সময় তিনি বললেন, এর যা দুধ হয় আপনি নিশ্চিন্তে খেতে পারেন। তিনি এবং আমি দুজনেই আমরা শরীয়ত মেনে চলার চেষ্টা করি। আমি যতদূর জানি। ঋণ দিয়ে তার বিপরীতে অতিরিক্ত কোনো সুবিধাগ্রহণ করলে সেটা সুদ হয়ে যায়। তো আপনার কাছে আমার প্রশ্ন, এই যে বন্ধকী গরুটির দুধ তিনি আমাকে খাওয়ার কথা বললেন এটা সুদের পর্যায়ে চলে যায় কি না? নাকি এতে কোনো অসুবিধা নেই? জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

ঋণদাতার জন্য বন্ধকী গরুর দুধ পান করা জায়েয নয়। তাই ঋণগ্রহীতা আপনাকে এর অনুমতি দিলেও তা পান করা বৈধ হবে না। কেননা ঋণের বিপরীতে এই অতিরিক্ত সুবিধা গ্রহণ সুদের অন্তর্ভুক্ত। হাদীসে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা এসেছে।

হযরত আনাস রা.-এর সূত্রে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑ

إِذَا أَقْرَضَ أَحَدُكُمْ قَرْضًا فَأُهْدِيَ إِلَيْهِ طَبَقٌ فَلَا يَقْبَلْهُ أَوْ حَمَلَهُ عَلَى دَابّةٍ فَلَا يَرْكَبْهَا إِلّا أَنْ يَكُونَ بَيْنَهُ وَبَيْنَهُ قَبْلَ ذَلِكَ.

তোমাদের কেউ যদি কাউকে ঋণ দেয় এরপর সেই ব্যক্তি তাকে খাদ্যভর্তি কোনো থালা হাদিয়া দেয়, সে যেন তা গ্রহণ না করে কিংবা যদি তাকে তার বাহনে চড়াতে চায়, সে যেন তাতে না চড়ে। তবে যদি আগে থেকেই তাদের মধ্যে এমন সম্পর্ক থাকে (তাহলে অসুবিধা নেই)। (আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৫/৩৫০)

Ñতাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/১৪৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ৩/১৯৬

শেয়ার লিংক

রাশিদুল ইসলাম - সাভার, ঢাকা

৪৯৩০. প্রশ্ন

আমি একজন মুসলমান। আমি আমার জীবনের যে কোনো ধরনের হারাম উপার্জন থেকে বাঁচানোর জন্য বদ্ধ পরিকর। আমি একটি গার্মেন্টস কোম্পানীতে চাকরি করি। আমি শরীয়াহভিত্তিক একটি সমিতির সদস্য। আমাদের সমিতির অর্থ দিয়ে সদস্যদের বাড়ি করার জন্য একটি জায়গা ক্রয় করা হয়েছে। এই জমি ডেভলপ কোম্পানীকে দেয়া হবে নাকি নিজেরা বাড়ি করবে এ নিয়ে একেক সময় একেক সিদ্ধান্ত হচ্ছে। তাই আমার অংশের টাকার উপর প্রতি বছর যাকাত দিয়ে আসছি। এখন আমার প্রশ্ন হল, এই যাকাত প্রদান ঠিক আছে কি না?

দ্বিতীয় বিষয় হল, চাকরির অনিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কিছু অর্থ দিয়ে অন্য কোনো ক্ষেত্রে বিনিয়োগের চেষ্টা করি। কিন্তু টাকার স্বল্পতার জন্য এবং শরয়ী বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা না হওয়ায় জমির উপর বিনিয়োগ করি। দুইজন মুফতী সাহেবের সাথে কথা বলে যে পদ্ধতিতে বিনিয়োগ করা হয়েছে তার ধরন নি¤েœ উল্লেখ করলাম :

১ম ধরন : ৫০,০০০/- টাকা দিয়ে এক ব্যক্তির নিকট থেকে মৌখিকভাবে ২০ শতক জায়গা ক্রয় করলাম এবং পরবর্তীতে অন্য এক মজলিসে বসে ঐ ব্যক্তির সাথে ওয়াদা করলাম যে, যখন জমি বিক্রি করব তখন আপনার কাছেই বিক্রি করব। অর্থাৎ সে যখন আমাকে টাকা ফেরত দেবে তখন নতুন করে জমির দাম ধরে তার কাছে আবার বিক্রি করে দিব। (এখানে উল্লেখ্য যে, ২০ শতক জমির প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি)

২য় ধরন : জমির মালিককে অগ্রিম ৫০,০০০/- টাকা দিব এবং সেখান থেকে প্রতি বছর ২ ফসলের জন্য জমির ভাড়া বাবদ ৮০০ টাকা করে কর্তন হতে থাকবে। অর্থাৎ সে যদি ১ বছর পর টাকা পরিশোধ করে তাহলে (৫০,০০০-৮০০) = ৪৯,২০০/- টাকা পরিশোধ করবে। কিন্তু আমি তাকে প্রতি বছর ৮০০ টাকা দিতে থাকব, যে পর্যন্ত সে আমাকে ৫০,০০০/- টাকা ফেরত না দেবে। (এখানে উল্লেখ্য যে, জমির প্রকৃত ভাড়া আরও বেশি, কিন্তু আমাকে কম টাকায় বন্ধক দিত তাহলে জমি ফেরত নেয়ার সময় তাকে পুরো ৫০,০০০/- টাকাই পরিশোধ করতে হতো তাই সে আমাকে কম টাকায় ভাড়া দিয়েছে)

কেউ কেউ এভাবে জায়েয নয় বলে জানিয়েছে। তাই মনের সংশয় দূর করার জন্য দয়া করে উক্ত বিষয়গুলোর ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত জানালে উপকৃত হব, অথবা অন্য কোনো সঠিক পদ্ধতি থাকলে জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত জমিটি যদি আপনারা ঘর নির্মাণ করার উদ্দেশ্যে খরিদ করে থাকেন তবে এর যাকাত দেওয়া লাগবে না। ডেভলপারকে দেওয়া হলেও জমির উপর যাকাত আসবে না। কারণ ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ছাড়া ক্রয়কৃত জমি বা বাড়ির উপর যাকাত আসে না।

আর অর্থ বিনিয়োগের যে দুই পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে তার কোনোটিই জায়েয নয়।

প্রথম পদ্ধতিতে জমি ক্রয় করার কথা বলা হলেও সকলেই জানে যে, এটি প্রকৃত অর্থে ক্রয়-বিক্রয় নয়; বরং এখানে কিছু টাকার মুনাফা স্বরূপ গ্রহীতার জমি ভোগ করা হচ্ছে ক্রয়ের নামে। এ কারণেই পরবর্তীতে জমির মালিকের কাছেই জমি ফেরত দেওয়ার শর্ত করা হয়েছে। শরীয়তের দৃষ্টিতে ক্রয়-বিক্রয় সম্পন্ন হলে ক্রেতার জন্য পণ্যের উপর নিরঙ্কুশ অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়ে যায়। সে তার ইচ্ছামত তা ভোগ করতে পারে। তেমনি সেটি দান, হেবাও করতে পারে অথবা যে কোনো জায়গায় বিক্রিও করতে পারে। অথচ এ কথিত বেচা-কেনায় এমন কোনো অধিকারই ক্রেতা পায় না। এমনিভাবে পরবর্তীতে জমির মূল্য কম-বেশি যাই হোক বিক্রেতা কর্তৃক পূর্বে প্রদত্ত মূল্য ফেরত পাওয়ার পরই জমিটি আবার পূর্বের মালিকের নিকট চলে যায়। এতে এ কথাটি সুস্পষ্ট যে, এটা সুদ গ্রহণের একটি হীলা ও ছুতা মাত্র। আর সুদ গ্রহণের হীলা ইসলামে নিষিদ্ধ।

প্রশ্নে বর্ণিত দ্বিতীয় কারবারটিকে ভাড়া চুক্তি এবং প্রদত্ত ৫০ হাজার টাকাকে অগ্রিম ভাড়া ধরলেও বাস্তবে এটি ভাড়া চুক্তি নয়। কেননা বাস্তবেই যদি কারবারটি ভাড়া চুক্তি হত, তাহলে বছরে আটশত টাকা ভাড়া হিসেবে ৬২ বছর ছয় মাসের দীর্ঘমেয়াদি ভাড়াচুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপনি তা করেননি। বলা বাহুল্য এত কম টাকায় এ দীর্ঘ মেয়াদি চুক্তি আপনার সঙ্গে কেউ করবে না। অনুরূপভাবে প্রদত্ত ৫০ হাজার টাকা যদি অগ্রিম ভাড়া হত, তাহলে সেখান থেকে প্রতি বছর ভাড়া বাবদ আটশত টাকা কর্তন হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আপনি পৃথকভাবে ভাড়া আদায় করছেন। এসব থেকে যে কেউ বুঝে নিবে যে, আপনার এককালীন প্রদত্ত টাকা অগ্রিম ভাড়া নয়। বরং ঋণ। যার বিনিময়ে নামমাত্র ভাড়ায় আপনি জমি ভোগ করে যাচ্ছেন, যা নাজায়েয হওয়ার বিষয়টি স্পষ্ট। তাই অবিলম্বে এ চুক্তি বাতিল করা আবশ্যক।

উল্লেখ্য যে, শরীয়তে عقود লেনদেন ও কারবারের চুক্তিসমূহে শুধু চুক্তির ভাষাই নয়; বরং مقاصد ومعاني অর্থাৎ এর মর্ম ও উদ্দেশ্যও ধর্তব্য হয়।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১০৭৭; আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৫/৩৫০; কিতাবুল আছল ২/৯৭, ৩/২৪; আলইখতিয়ার ১/৩৩২; আলমুলতাকাত ফিল ফাতাওয়া পৃ. ২২৬; আননুতাফ ফিল ফাতাওয়া পৃ. ২৯৬; মাজাল্লাতু মাজমাইল ফিকহিল ইসলামী সংখ্যা ৭, ৩/৫৫৭

শেয়ার লিংক

নাবিল আহমদ - গজারিয়া, মুন্সিগঞ্জ

৪৯২৯. প্রশ্ন

আমার চাচা অনেক দিন ধরেই আমাদের এলাকায় জমির দালালী করেন। তিনি এবিষয়ে প্রসিদ্ধ হওয়ায় এলাকার কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে তাকে জানিয়ে রাখে। এমনিভাবে কেউ কিনতে চাইলে তাকে বলে রাখে যে, ভাই! এত দামের ভিতর একটি জমি কিনতে চাই। তখন তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের মাঝে সাক্ষাৎ ঘটিয়ে দেন এবং উভয়ের মাঝে মাধ্যম হিসাবে কাজ করেন। বিক্রিচুক্তি সম্পন্ন হওয়ার পর তিনি ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষ থেকেই কমিশন গ্রহণ করেন।

আমার প্রশ্ন  হচ্ছে, এক্ষেত্রে উভয় থেকে কমিশণ গ্রহণ করা কি বৈধ?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচার জন্য ক্রেতা-বিক্রেতার জ্ঞাতসারে উভয়পক্ষ থেকে ন্যায্যহারে কমিশন গ্রহণ করা  বৈধ হবে। এক্ষেত্রে একজন থেকে টাকা গ্রহণের বিষয়টি অন্যজনের কাছে গোপন করা যাবে না।

উল্লেখ্য যে, এধরনের মধ্যস্থতার কারবার তখনি শুদ্ধ হতে পারে, যদি মধ্যস্থতাকারী পণ্য বা জমির ব্যাপারে কোনো অতিরঞ্জিত কথা না বলে। তাতে বাহ্যিক বা কাগজপত্রের/দখলের কোনো সমস্যা থাকলে তা গোপন না করে; বরং ক্রেতাকে সবকিছু বিস্তারিতভাবে অবগত করে। এমনিভাবে ক্রেতা কেমন লোক, মূল্য যথাযথভাবে পরিশোধ করবে কি নাÑ এসব বিষয়ে তার যতটুকু জানা থাকবে তা বিক্রেতাকে অবহিত করতে হবে।

Ñশরহু মানযুমাতি ইবনি ওয়াহবান ২/৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৬০; তানকীহুল ফাতাওয়াল হামিদিয়া ১/২৫৯

শেয়ার লিংক

সোহেল খান - নড়িয়া, শরীয়তপুর

৪৯২৮. প্রশ্ন

মুহতারাম! সাধারণত আমাদের এলাকায় শবে বরাত, শবে কদর ও ঈদুল ফিতরের দিন গরু জবাই হয়ে থাকে। যারা জবাই করেন তারা পেশাদার কসাই নয়; বরং অন্যান্য পেশার হয়ে থাকেন। তারা গরু কেনার পর এলাকার লোকজন থেকে অগ্রিম টাকা নিয়ে নেয়। আবার কারো থেকে শুধু গোস্ত নেওয়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে নেয়। সে সময় তারা শুধু এতটুকু বলে যে, ৭০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। ৮০ ভাগ করব। প্রতি ভাগ এক হাজার টাকা করে। এরপর নির্ধারিত দিনে গরু জবাই করে এবং পূর্বের ওয়াদা অনুযায়ী ভাগ করে দেয়। মুফতী সাহেবের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে অগ্রিম টাকা নিয়ে গোশত বিক্রি করা বৈধ হবে কি না?

উল্লেখ্য যে, তারা অনুমান করে একটি ধারণা দিয়ে দেয় যে, প্রতি ভাগে কতটুকু করে গোশত পাবে।

উত্তর

প্রশ্নোল্লেখিত পদ্ধতিতে অগ্রিম টাকা নিয়ে পরবর্তীতে গোশত দেওয়া-নেওয়া জায়েয। এক্ষেত্রে ক্রয়-বিক্রয় সংঘটিত হবে গোশত প্রদানের সময় গ্রাহক কর্তৃক তা বুঝে নেওয়ার মাধ্যমে। এর আগে বিক্রেতা যে টাকা সংগ্রহ করে থাকে তা বিক্রির ওয়াদা হিসেবে ধর্তব্য হবে।

Ñফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ৩/১৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ২/১১৬; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭৪; রদ্দুল মুহতার ৪/৫১৬

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাইফুল ইসলাম - মানিকগঞ্জ

৪৯২৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ঈদগাহের জন্য একটি জায়গা ওয়াকফ করা হয়। পরবর্তীতে তার কিছু জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করা হয়।

জিজ্ঞাসা হল, সেই স্থানে মসজিদ নির্মাণ করা ঠিক হয়েছে কি না? এবং সেখানে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ও জুমার নামায আদায় করা সঠিক হবে কি না? যদি মসজিদ নির্মাণ এবং পাঁচ ওয়াক্ত ও জুমার নামায আদায় করা সঠিক না হয় তাহলে এখন করণীয় কী?

উত্তর

প্রশ্নোল্লেখিত জায়গাটি যেহেতু ঈদগাহের জন্য ওয়াকফ করা হয়েছে তাই পুরো জায়গাটি ঈদগাহের জন্যই মুক্ত রাখতে হবে। সেখানে মসজিদ নির্মাণ করা বৈধ হয়নি। অতএব সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কর্তব্যÑ ঈদগাহের জায়গা থেকে মসজিদটি সরিয়ে পুরো জায়গাটা ঈদগাহের জন্য খালি করে দেওয়া। এক্ষেত্রে আশপাশে যদি মসজিদের ব্যবস্থা না থাকে তাহলে এলাকাবাসী উপযুক্ত জায়গার ব্যবস্থা করে মসজিদ নির্মাণ করবে। আর উক্তস্থানে আদায়কৃত এতদিনের ওয়াক্তিয়া ও জুমার নামায সহীহ হয়েছে। সেগুলো পুনরায় আদায় করতে হবে না।

উল্লেখ্য, ওয়াকফ শরীয়তের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিধান। ওয়াকফকারী যে স্থানকে যে খাতের জন্য নির্ধারণ করেন সে খাতেই তা ব্যবহার করতে হবে। ভিন্ন খাতে ব্যবহার করা যাবে না।

Ñফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৯০, ৪৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/১৪৫; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৮/১৮৯; রদ্দুল মুহতার ৪/৪৪৫

শেয়ার লিংক

আফরোজা বেগম - ধানমণ্ডি ১৫, ঢাকা

৪৯২৬. প্রশ্ন

এক সপ্তাহ আগে আমার মেয়েকে তার বাবা বিবাহ দিয়ে দেয় লন্ডনপ্রবাসী এক ছেলের সঙ্গে। বিয়ে পড়ানো থেকে নিয়ে বিয়ের যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা তিনি সম্পন্ন করেন মেয়েকে কোনো কিছু জানানো ছাড়াই। মেয়ের অনুপস্থিতিতে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয় সিলেটে আমার শ্বশুর বাড়িতে। আমি ও আমার মেয়ে তখন ঢাকায়। এক দিন পর বিয়ের কাবিননামাসহ মেয়ের এক চাচা ও ছেলে পক্ষের বেশ কয়েকজন আমাদের ঢাকাস্থ বাসায় আসেন কাবিননামায় মেয়ের স্বাক্ষর নেওয়ার জন্য। তারা যতক্ষণ ছিলেন মেয়ে তাদের সামনে বা আড়ালে সম্মতিসূচক কোনো কথা বলেনি। এমনকি কাবিননামাতেও স্বাক্ষর করেনি। একপর্যায়ে কাবিননামার পত্রটি তারা ওভাবেই টেবিলের উপর রেখে চলে যান। আমি সেটা তুলে রাখিÑ মেয়ের বাবা এলে তাকে ফেরত দেওয়ার জন্য।

এর দুই দিন পর মেয়ের বাবা ও বড় চাচা এবং ছেলে ও ছেলে পক্ষের আত্মীয়স্বজন রীতিমত উপস্থিত হয়ে বিবাহ উত্তর পর্বগুলোর জন্য তাগাদা দিতে থাকে। কিন্তু মেয়ে বা আমার দিক থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে তারা সামনাসামনি বসার প্রস্তাব দেয়। বসার পর ছেলে বলে, ‘মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ। তোমার কাছে তো বিয়ে অনুষ্ঠিত হবার খবরসহ কাবিননামা পৌঁছেছে। তখন তো কিছু বলনি বা কাবিননামার কাগজ ফেরত দাওনি?’ জবাবে মেয়ে বলে, আমি তো এ বিয়ে কবুল করিনি। কাবিননামা ফেরত নিতে না বলার অর্থই কি বিয়ে মেনে নেওয়া?

উল্লেখ্য, এ বিয়েতে তার এবং আমার অনাগ্রহের বড় কারণ ছেলের বয়স। মেয়ের বয়স ২৪  বছর আর ছেলের বয়স হল ৩৮। তাছাড়া আমরা চাচ্ছি, ধার্মিক কোনো দেশী ছেলের সঙ্গে সম্বন্ধ করতে। অপরদিকে মেয়ের বাবা ও চাচাদের ইচ্ছা, প্রবাসী ব্যবসায়ী কোনো ছেলের সঙ্গে মেয়েকে বিবাহ দেওয়া। এই বিবাহে মেয়ের সম্মতিসূচক স্পষ্ট কোনো বক্তব্য না পাওয়া সত্ত্বেও মেয়ের বাবা এবং ছেলে পক্ষের লোকেরা বলছেন, বিয়ে হয়ে গেছে। মেয়েকে আমরা নিয়ে যাব। এখন আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, এই বিয়ে কি আদৌ সংঘটিত হয়েছে? শরীয়ত কী বলে? সঠিক উত্তর জানিয়ে আশ্বস্ত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত বিবাহ সহীহ হয়নি। সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন প্রাপ্তবয়স্ক নারীর অনুমতি ছাড়া তার পিতা বা অভিভাবক তাকে বিবাহ দিলে তা কার্যকর হওয়া নির্ভর করে মেয়েটির অনুমোদনের উপর। প্রশ্নকারীর দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী এই বিয়ের ব্যাপারে মেয়ে যেহেতু অনুমতি দেয়নি এবং স্পষ্টভাবে অসম্মতি জ্ঞাপন করেছে তাই এই বিবাহ সংঘটিত হয়নি। এক্ষেত্রে ছেলের কথিত দাবি ঠিক নয়। কাবিননামা বাসায় আসার পর চুপ থাকা অনুমতি (إذن) হিসাবে ধর্তব্য হতে পারে না।

প্রকাশ থাকে যে, মেয়ের বিবাহদানের ক্ষেত্রে শরীয়ত বাবাকে অভিভাবক বানিয়েছে বলেই তার এ অধিকার নেই যে, তিনি মেয়ের সম্মতি নেওয়া বা তাকে অবগত করা ছাড়াই বিবাহ দিয়ে দেবেন। হযরত ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনÑ

وَالْبِكْرُ يَسْتَأْذِنُهَا أَبُوهَا فِي نَفْسِهَا.

আর কুমারী নারীর বিবাহের ব্যাপারে বাবা তার অনুমতি নেবে। Ñসহীহ মুসলিম, হাদীস ১৪২১

অতএব প্রাপ্তবয়স্ক কুমারী মেয়েকে তার বাবা মেয়ের অবগতি ও সম্মতি ছাড়া কেবল নিজের পছন্দমতো কোথাও বিয়ে দিয়ে  দেওয়া ঠিক হবে না। এটা শরীয়ত প্রদত্ত অধিকারের ভুল ব্যবহারের অন্তর্ভুক্ত হবে।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ২/৫০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৮৭; আলবাহরুর রায়েক ৩/১১০; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪৯৫; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৫৮

শেয়ার লিংক

আবদুল বারী - রাজবাড়ী

৪৯২৫. প্রশ্ন

তাওয়াফের শেষে যে দু’রাকাত নামায পড়তে হয়; এর কী হুকুম? কখনো যদি ভুলক্রমে এ নামায ছুটে যায় তাহলে কি এতে দম আবশ্যক হবে, নাকি শুধু কাযা করলেই চলবে?

উত্তর

তাওয়াফ শেষে দু’রাকাত নামায পড়া ওয়াজিব। কোনো কারণে নির্ধারিত সময়ে তা পড়া না হলে পরে পড়ে নেবে। বিলম্বের জন্য কোনো দম আবশ্যক  হবে না। আর বিলম্বে হলেও এই দুই রাকাত নামায মসজিদুল হারামের এলাকায় পড়া উত্তম। বিনা ওজরে হারামের বাইরে আদায় করা উচিত নয়। তবে বাইরে পড়লেও আদায় হয়ে যাবে।

Ñআলমাবসূত, সারাখসী ৪/১২; আলইখতিয়ার ১/৪৬০; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২৯২; আলবাহরুর রায়েক ২/৩৩১

শেয়ার লিংক

আব্দুল্লাহ হারুন - ইলফোর্ড, লন্ডন

৪৯২৪. প্রশ্ন

আমি ইংল্যান্ড প্রবাসী। প্রত্যেক রমযানে সদাকাতুল ফিতরের টাকা দেশে দিয়ে থাকি। আমাদের এখানের কিছু ভাই বলেন, টাকা দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় হবে না। সরাসরি গম বা খেজুর ইত্যাদি দ্রব্যাদি দিয়ে দিতে হবে।

আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এ দ্রব্যগুলোর মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করলে কি তা আদায় হবে না? এ বিষয়ে মিডিয়াতে বিভিন্ন বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। বিস্তারিত দলীল-প্রমাণসহ জানালে উপকৃত হতাম।

উত্তর

হাদীসে বর্ণিত পাঁচটি বস্তুর মূল্য দ্বারা সদাকাতুল ফিতর আদায়ের বিষয়টি সাহাবা-তাবেয়ীদের বক্তব্য ও আমল দ্বারা প্রমাণিত।

ইমাম বুখারী রাহ. সহীহ বুখারীতে بَابُ العَرْضِ فِي الزّكَاةِ অধ্যায়ে তা‘লীক হিসেবে বর্ণনা করেন যে, তাউস রহ. বলেনÑ

قَالَ مُعَاذٌ رَضِيَ اللهُ عَنْهُ لِأَهْلِ اليَمَنِ: ائْتُونِي بِعَرْضٍ ثِيَابٍ خَمِيصٍ أَوْ لَبِيسٍ فِي الصّدَقَةِ مَكَانَ الشّعِيرِ وَالذّرَةِ أَهْوَنُ عَلَيْكُمْ وَخَيْرٌ لِأَصْحَابِ النّبِيِّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ بِالْمَدِينَةِ.

মু‘আয ইবনে জাবাল রা. ইয়ামানবাসীদেরকে বললেন,  তোমরা যব ও ভুট্টার পরিবর্তে চাদর বা পরিধেয় বস্ত্র আমার কাছে সদকা স্বরূপ নিয়ে আসো। ওটা তোমাদের পক্ষেও সহজ এবং মদীনায় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাহাবীগণের জন্যও উত্তম। (সহীহ বুখারী ১/১৯৪; বর্ণনাটি পুরো সনদসহ ‘কিতাবুল খারাজ’ ইমাম ইয়াহইয়া ইবনে আদাম এ রয়েছে। দেখুন : কিতাবুল খারাজ, বর্ণনা ৫২৫)

ইমাম বদরুদ্দীন আইনী রাহ. সহীহ বুখারীর ভাষ্যগ্রন্থ উমদাতুল কারীতে বলেনÑ

احتج به أصحابنا في جواز دفع القيم في الزكاة، ولهذا قال ابن رشيد: وافق البخاري في هذه المسألة الحنفية مع كثرة مخالفته لهم، لكن قاده إلى ذلك الدليل.

মূল্য দ্বারা যাকাত-সদাকাতুল ফিতর প্রদান জায়েয হওয়ার স্বপক্ষে এই বর্ণনা আমাদের ইমামগণের দলীল। এজন্যই ইবনে রুশাইদ রাহ. বলেন, হানাফী মাযহাবের সাথে অনেক মাসআলায় ইমাম বুখারীর মতানৈক্য থাকলেও এ মাসআলায় তিনি হানাফী মাযহাবের সাথে একমত পোষণ করেন। এই মত তিনি অবলম্বন করেছেন দলীলের কারণেই। (উমদাতুল কারী ৯/৪)

আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশমীরী রাহ. বলেনÑ

والظاهر أنها كانت صدقة الفطر.

এর স্বাভাবিক মর্ম হল,  এ কথা মু‘আয ইবনে জাবাল রা. সদাকাতুল ফিতরের ক্ষেত্রে বলেছেন। (ফয়যুল বারী ৩/১১৬)

আর বিভিন্ন বর্ণনা ও মুহাদ্দিসগণের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, মুআয রা. এমনটি করেছিলেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবদ্দশাতেই। (দেখুন : মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১০৫৩৮; কিতাবুল আমওয়াল, আবু উবাইদ, পৃ. ৪৫৬; তাহকীকুল আমাল ফী ইখরাজি যাকাতিল ফিতর বিল মাল, আহমাদ আলগুমারী পৃ. ৫২)

কুররা রাহ. বলেনÑ

جَاءَنَا كِتَابُ عُمَرَ بْنِ عَبْدِ الْعَزِيزِ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ : نِصْفُ صَاعٍ عَنْ كُلِّ إنْسَانٍ ، أَوْ قِيمَتُهُ نِصْفُ دِرْهَمٍ.

আমাদের কাছে উমর ইবনে আবদুল আযিয রাহ.-এর ফরমান পৌঁছেছে যে, সদাকাতুল ফিতর হচ্ছে প্রত্যেক (সামর্থ্যবান) ব্যক্তির পক্ষ হতে ‘অর্ধ-সা’ (গম) কিংবা তার মূল্য হিসাবে অর্ধ দিরহাম প্রদান করা। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ১০৪৭০)

ইবনে হাযম রাহ. বলেন, উক্ত বক্তব্যটি উমর ইবনে আবদুল আযিয রাহ. থেকে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। (দেখুন আলমুহাল্লা ৪/২৫২)

বিশিষ্ট তাবেয়ী হাসান বসরী রাহ. বলেনÑ

لاَ بَأْسَ أَنْ تُعْطِيَ الدّرَاهِمَ فِي صَدَقَةِ الْفِطْرِ.

মূল্য দিয়ে সদাকাতুল ফিতর আদায় করতে কোনো সমস্যা নেই। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ১০৪৭১)

বিশিষ্ট তাবেয়ী আবু ইসহাক রাহ., যিনি ত্রিশেরও অধিক সাহাবী থেকে সরাসরি হাদীস বর্ণনা করছেন। তিনি বলেনÑ

أَدْرَكْتُهُمْ وَهُمْ يُعْطُونَ فِي صَدَقَةِ رَمَضَانَ  الدّرَاهِمَ بِقِيمَةِ الطّعَامِ.

আমি তাদেরকে (সাহাবা-তাবেয়ীগণকে) খাবারের মূল্য দ্বারা সদাকাতুল ফিতর আদায় করতে দেখেছি। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, বর্ণনা ১০৪৭২)

উপরন্তু হাদীস শরীফে সদাকাতুল ফিতরের একটি উদ্দেশ্য বলা হয়েছেÑ طُعْمَةً لِلْمَساكِينِ মিসকীনদের খাবারের ব্যবস্থা করা। আর নগদ অর্থের মাধ্যমেও দরিদ্র ব্যক্তিরা প্রয়োজনমতো খাবার সংগ্রহ করতে পারে।

সাহাবী-তাবেয়ীদের উপরোক্ত আসারসমূহকে সামনে রেখে হানাফী মাযহাবের ইমামগণসহ আরো অনেকে মূল্য দ্বারা সদাকাতুল ফিতর আদায় করা জায়েয বলেছেন। এটি সাহাবাদের যুগ থেকেই স্বীকৃত মাসআলা। সুতরাং এ নিয়ে সংশয়-সন্দেহের অবকাশ নেই।

Ñকিতাবুল আছল ২/১৮০; ইখতিলাফুল উলামা, মারওয়াযী পৃ. ১০৯; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৫

শেয়ার লিংক

সফিউল্লাহ মাহমুদ - পাবনা

৪৯২৩. প্রশ্ন

এবার রমযানে অসুস্থতার কারণে আমার একটি রোযা ভাঙা পড়ে। শাওয়াল মাসে একদিন ঐ রোযার কাযা করার উদ্দেশ্যে একটি রোযা রাখতে মনস্থ করি। কিন্তু সুবহে সাদিকের আগে ঘুম না ভাঙায় আযান হওয়ার পরপরই রোযার নিয়ত করে নিই। এদিকে বেলা বাড়ার আগেই পুনরায় অসুস্থতা বোধ করতে থাকি এবং ওষুধ সেবনের প্রয়োজনে রোযাটা ভেঙ্গে ফেলি। এখন আমি আপনার কাছে জানতে চাচ্ছি, রমযানের ঐ রোযা কাযা করতে গিয়ে ওযরবশত ভেঙ্গে ফেলার কারণে আমাকে কি অতিরিক্ত আরেকটি কাযা রোযা রাখতে হবে? জানিয়ে আশ্বস্ত করবেন।

উত্তর

কাযা রোযার জন্য রাতে (অর্থাৎ সুবহে সাদিকের আগে) নিয়ত করা আবশ্যক। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সুবহে সাদিকের পর নিয়ত করার কারণে তা রমযানের কাযা হিসাবে শুরুই হয়নি। বরং নফল রোযা হিসাবে শুরু হয়েছিল। পরে অসুস্থতার কারণে তা ভেঙ্গে ফেলা দূষণীয় হয়নি। আর মাসআলা না জানার কারণে যেহেতু অসময়ে কাযার নিয়ত করা হয়েছে তাই সেটি ভেঙ্গে ফেলার কারণে এখন এর জন্য পৃথক রোযা কাযা করা ওয়াজিব হবে না। শুধু  রমযানের ঐ রোযার কাযা আদায় করে নিলেই চলবে। অবশ্য ভেঙ্গে ফেলা (নফল) রোযাটির কাযা করা উত্তম হবে।

Ñখুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫২; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/৩৭১; ফাতহুল কাদীর ২/২৪২; জামেউর রুমুয ১/৩৫১; আলবাহরুর রায়েক ২/২৬২

শেয়ার লিংক

আবদুল হাফিয - মানিকগঞ্জ

৪৯২২. প্রশ্ন

বাসায় জামাত করে নামায আদায়ের সময় অনেক ক্ষেত্রে আমার সঙ্গে শুধু আমার ভাই ও আমার বোন থাকে। অনেক সময় কেবল আমার স্ত্রী ও আমার ছোট বাচ্চা। তো এধরনের ক্ষেত্রে জামাতে নামায আদায়ের জন্য দাঁড়ানোর পদ্ধতি কী হবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ভাই কিংবা আপনার শিশু সন্তানকে আপনার ডান পাশে এক কদম পিছনে দাঁড় করাবেন। আর আপনার বোন বা আপনার স্ত্রী দাঁড়াবেন আপনার পিছনের কাতারে।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৯৮৪; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৮; রদ্দুল মুহতার ১/৫৬৬

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ মাসুম - রাজশাহী

৪৯২১. প্রশ্ন

আমাদের ভার্সিটির ছাত্রাবাসে যেসব সহপাঠী নামাযী, তারা মসজিদে যেতে না পারলে অনেক সময়ই নিজেরা জামাত করে নেয়। একদিন নামাযের জন্য কাতার করে দাঁড়ানোর সময় এক সাথী বললেন, প্রথম কাতারে যারা আছি তাদের ইমামের পিছনেই দাঁড়াতে হবে এটা আবশ্যক না। ইমামের পাশে ডানে বামে দাঁড়ালেও চলবে। আরেক সাথী বললেন, না, এভাবে দাঁড়ালে হবে না। ইমামকে সামনে এগিয়েই দাঁড়াতে হবে। যাই হোক আমরা আর কথা না বাড়িয়ে প্রথমোক্ত সাথীর কথামতো ইমামের থেকে এক কদম সরে ডানে ও বামে তিনজন করে দাঁড়িয়ে নামায আদায় করি। আর বাকি সাথীরা আমাদের পিছনে আরেক কাতারে। এখন জানার বিষয় হল, এইভাবে কাতার করে দাঁড়ালে কি নামায শুদ্ধ হবে? নাকি ইমামের একদম পিছনে কাতার করা বাধ্যতামূলক? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

মুক্তাদী যদি সংখ্যায় দু’জন বা ততোধিক হয় তাহলে নিয়ম হল, তারা ইমামের পিছনে কাতার করবে। মুক্তাদী দুই বা ততোধিক হলে ইমামের পাশে দাঁড়ানো অনুত্তম। তাই বিনা ওজরে এভাবে দাঁড়াবে না। তবে কখনো যদি এমন পরিস্থিতি হয় যে, মুসল্লী-সংখ্যা জায়গার তুলনায় বেশি তাহলে সেক্ষেত্রে কিছু মুসল্লী ইমামের ডানে-বামেও দাঁড়াতে পারবে।

Ñমুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৯৮১; বাদায়েউস সানায়ে ১/৩৯০; ফাতহুল কাদীর ১/৩০৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৪৯; আলবাহরুর রায়েক ১/৩৫২

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - লাকসাম, কুমিল্লা

৪৯২০. প্রশ্ন

বিতিরের নামাযে ইমাম সাহেব ভুলে দুআ কুনূত না পড়েই রুকুতে চলে যান। মুক্তাদীগণ লোকমা দিলে রুকু বাদ দিয়ে আবার দাঁড়িয়ে যান। এরপর দুআ কুনূত পড়ে যথারীতি বাকি নামায শেষ করেন। এতে এক রাকাতে দুই রুকু হয়ে যায়। উক্ত নামায কি সহীহ হয়েছে? এক আলেম বলেছেন, নামায সহীহ হয়নি। সঠিক মাসআলাটি জানালে উপকৃত হতাম।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়েছে। সুতরাং সাহু সিজদা করে থাকলে উক্ত নামায আদায় হয়ে গেছে। আর সাহু সিজদা না করে থাকলে ঐ নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে। কারণ, দুআয়ে কুনুত না পড়ে ভুলে রুকুতে চলে যাওয়ার দ্বারা এবং এক রাকাতে ভুলে দুইবার রুকু করার দ্বারা সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়।

উল্লেখ্য, দুআ কুনূত না পড়ে ভুলে যদি রুকুতে চলে যায় তাহলে সেক্ষেত্রে নিয়ম হচ্ছে, সে দুআ কুনূতের জন্য রুকু থেকে ফিরে আসবে না; বরং যথারীতি বাকি নামায পূর্ণ করে সাহু সিজদার মাধ্যমে নামায শেষ করবে। অবশ্য কেউ যদি রুকু থেকে উঠে গিয়ে দুআ কুনূত পড়ে তাহলে সে পুনরায় রুকু করবে না। কারণ রুকু থেকে উঠে দুআ কুনূত পড়ার দ্বারা পূর্বের রুকু বাতিল হয়ে যায় না। কিন্তু এক্ষেত্রেও সিজদায়ে সাহু করতে হবে।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ১/৪১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১২১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৩; শরহুল মুনয়া, পৃ. ৪৬০; রদ্দুল মুহতার ২/৯; আলবাহরুর রায়েক ২/৯৬

শেয়ার লিংক

রুকনুদ্দীন মাহমুদ - মাদানী মঞ্জীল, সিলেট

৪৯১৯. প্রশ্ন

১. নামাযে গলা খাঁকারি দেওয়ার হুকুম কী? কেউ যদি ইচ্ছাকৃত দেয় তবে কী হুকুম? অনিচ্ছাকৃত দিলে কী হুকুম? কেউ যদি অভ্যাসের কারণে দেয়, (সে চেষ্টা করেও অভ্যাস ছাড়তে পারছে না) বা গলার সমস্যার কারণে দেয় তবে কী হবে?

২. কাশি দেওয়ার কী হুকুম? কোন্ অবস্থায় জায়েয, কোন্ অবস্থায় নাজায়েয? মাসআলাগুলোর সমাধান জানালে কৃতজ্ঞ থাকব। জাযাকুমুল্লাহ।

উত্তর

১. নামাযের মধ্যে গলায় কফ জমার কারণে বা এ ধরনের কোনো ওজরের কারণে যদি গলা খাঁকারি দেওয়া হয় তাহলে নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে বিনা ওজরে এমন করলে মাকরূহ হবে।

২. নামাযে কাশি চলে আসলে নামাযের কোনো ক্ষতি হয় না। তবে প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কাশি দিবে না। কেননা বিনা প্রয়োজনে কাশি দিলে কখনো নামায ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা থাকে।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ২/১৫১; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/২৫৬; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩৫১, ৪৪৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৫; মাজমাউল আনহুর ১/১৭৯

শেয়ার লিংক

রাশেদ হাসান - হবিগঞ্জ, সিলেট

৪৯১৮. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি মাগরিবের নামায ওয়াক্তের ভেতর পড়তে পারেনি। এশার সময় এক মসজিদে জামাতের সাথে এশার নামায পড়ে নেয়। তখন তার মাগরিবের নামাযের কথা স্মরণ ছিল। কিন্তু যেহেতু এশার জামাত দাঁড়িয়ে যায় তাই মাগরিবের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও সে এশার জামাতে শরিক হয়ে যায়। আর অতীতেরও তার কোনো নামায কাযা নেই। এখন ঐ ব্যক্তির করণীয় কী? সে কি এখন মাগরিবের কাযা আদায় করে নেবে? বিস্তারিত জানতে চাই।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে মাগরিবের কাযা নামাযের কথা স্মরণ থাকা সত্ত্বেও ঐ ব্যক্তির এশার জামাতে শরিক হওয়া এবং তা পড়া সহীহ হয়নি। তাই তার করণীয় হল, মাগরিবের কাযা নামাযটি পড়ে উক্ত এশার নামায পুনরায় পড়ে নেওয়া। কেননা যার পেছনের কোনো নামায কাযা নেই তার যদি কোনো ওয়াক্ত নামায কাযা হয়ে যায়, তবে তার জন্য পরবর্তী ওয়াক্তের নামায পড়ার আগে ঐ কাযা নামায আদায় করা জরুরি। কাযা আদায় করতে গিয়ে জামাত ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হলেও তাকে আগে কাযাই আদায় করতে হবে। কিন্তু সময় স্বল্পতার দরুন কাযা আদায় করতে গিয়ে যদি পরবর্তী ওয়াক্তের ফরয ছুটে যাওয়ার আশঙ্কা হয় তখন ওয়াক্তের নামায আগে পড়ে নিতে হবে।

হাদীস শরীফে আছে, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেনÑ

مَنْ نَسِيَ صَلَاةً فَذَكَرَهَا مَعَ الْإِمَامِ فَلْيُصَلّهِ مَعَهُ ثُمّ لِيُصَلّ الّتِي نَسِيَ  ثُمّ لِيُصَلّ الْأُخْرَى بَعْدَ ذَلِكَ.

যে ব্যক্তি কোনো ওয়াক্তের নামায (ওয়াক্তের ভেতর) পড়তে ভুলে গেছে, অতপর ইমামের পেছনে (পরবর্তী ওয়াক্তের) নামায পড়ার সময় তার ঐ নামাযের কথা স্মরণ হয় তাহলে সে ইমামের সাথে নামাযটি পড়ে নিবে। এরপর যে নামাযটি পড়তে ভুলে গিয়েছিল (অর্থাৎ কাযা নামায) তা আদায় করবে। অতপর ইমামের সাথে যে নামাযটি পড়েছে (অর্থাৎ বর্তমান ওয়াক্তের ফরয নামায) তা আবার পড়ে নিবে। (শরহু মাআনিল আসার, তহাবী, হাদীস ২৬৮৪; মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ২২৫৪)

এ হাদীসটি বর্ণনা করার পর ইমাম তহাবী রাহ. বলেনÑ

وَقَوْلُهُ "فَلْيُصَلِّهِ مَعَهُ" فَذَلِكَ مُحْتَمَلٌ عِنْدَنَا أَنْ يَفْعَلَ ذَلِكَ عَلَى أَنّهَا لَهُ تَطَوّعٌ.

অর্থাৎ ইমামের সাথে যে নামাযটি পড়েছে আমাদের নিকট সেটি তার জন্য নফল হিসেবে গণ্য হবে।

Ñআলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৪৭-৩৫০; আলবাহরুর রায়েক ২/৮০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১২২

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - বরিশাল

৪৯১৭. প্রশ্ন

আমি এক নামাযে মাসবুক হই। ভুলবশত ইমামের সাথে আমিও সালাম ফিরাই। এরপর পাশের লোকদের দাঁড়াতে দেখে আমার মাসবুক হওয়ার কথা স্মরণ হয়। তখন আমি দাঁড়িয়ে বাকি রাকাত পড়ে সাহু সিজদা করি। আমার এ নামায কি সহীহ হয়েছে?

এক ইমাম সাহেব বলেছেন সাহু সিজদা না দিলেও নামায হয়ে যেত, তাঁর কথা কি ঠিক?

উত্তর

মাসবুক ভুলবশত ইমামের একেবারে সাথে সাথে সালাম ফেরালে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয় না। কিন্তু যদি ইমামের সালামের পর সে সালাম ফিরায় তাহলে সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়ে যায়। আর সাধারণত যেহেতু মুক্তাদীর সালাম ইমামের পরই হয়ে থাকে, তাই আপনি সাহু সিজদা করে ঠিকই করেছেন এবং আপনার নামায সহীহভাবে আদায় হয়েছে।

Ñবাদায়েউস সানায়ে ১/৪২২; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৩৫; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১৩৯; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪৬২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৮; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৯৯

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement