মুহা. আব্দুল্লাহ - লক্ষীপুর

প্রশ্ন

ক. আমি এ বছর নাহভেমীর জামাতে পড়ি। জানতে চাচ্ছি, রওযাতুল আদব নামক কিতাবটি কোন নিয়মে পড়লে বেশি উপকৃত হব।

 

খ. উক্ত প্রসঙ্গে আমার আরেকটি বেদনাদায়ক কথা হচ্ছে, আমাদেরকে কেউ কেউ বলে থাকেন, রওযা হচ্ছে ভাষা শিখার কিতাব, সুতরাং ভাষা শিখার ক্ষেত্রে তারকীব বা শব্দের তাহকীক স্থগিত রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের কতক সাথী ভাইয়ের একথাটা বুঝে আসে না। তাঁরা বলে থাকেন তারকীববিহীন পড়ে শুধু ইবারত মুখস্থ করে আমাদের কী ফায়দা হবে?

এখন আমি বিভিন্ন ধরনের কথায় চিন্তিত হয়ে পড়েছি। আবেদন করছি, আমাকে এ বিষয়ে  সুপরামর্শ দিয়ে  আমার দুশ্চিন্তা দূর করবেন।

উত্তর

(ক. খ.) রওযাতুল আদব কিতাবের মুসান্নিফ মাওলানা মুশতাক আহমদ চরথালভী রহ. ভূমিকায় লিখেছেন যে, এই কিতাব নাহব-সরফ এর সাহায্য ছাড়া ভাষা শেখানোর উদ্দেশ্যে রচিত হয়েছে। যেহেতু এটা ছিল এ উপমহাদেশে এ বিষয়ে প্রাথমিক প্রয়াস তাই কিতাবের উদ্দেশ্য পুরোপুরি হাসিল হয়নি। বিশেষত কিতাবের আলবাবুল আওয়ালের শিরোনামগুলো থেকে অনুমিত হয় যে, তিনি এখানে কিছু নাহবী কায়েদার অনুশীলন করাতে চেয়েছেন। এজন্য এ অধ্যায় অনুশীলনের আঙ্গিকেই পড়া উচিত। অন্যান্য অধ্যায় আতত্বরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ আততামরীনুল কিতাবী আলাত ত্বরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ, আলকিরাআতুল ওয়াজিহা, আলকিরাআতুর রাশিদার মতো কিতাবগুলোর নিয়মেই পড়া উচিত। কেননা, এই কিতাবগুলো হচ্ছে প্রাথমিক ভাষা শিক্ষার জন্য মৌলিক ও আদর্শ কিতাব। এই নিয়ম যদি আপনি আপনার উস্তাদের নিকট থেকে সরাসরি বুঝে নিতে পারেন তবে তা-ই ভালো হবে।

ভাষা শিক্ষার প্রাথমিক কিতাবগুলোতে তারকীব এবং সরফী ও লুগাবী তাহকীকাতের চক্করে না পড়াই ভালো। এগুলোর জন্য ভিন্ন ক্ষেত্র ও ভিন্ন কিতাব রয়েছে।

আর ভাষা শিক্ষার কিতাবগুলো শুধু মুখস্থ করার জন্য নয়; বরং রীতি ও উপস্থাপনা অনুধাবন করে সকল বিষয় আত্মস্থ করার জন্য। এ কথাটা যদি আপনি ভালোভাবে অনুধাবন করতে সক্ষম হন তাহলে তারকীব না বুঝে শুধু মুখস্থ করে কী লাভ-এ প্রশ্ন আপনার মনে আর রেখাপাত করবে না।

শেয়ার লিংক

মুহা. ইহসানুল বারী - মাছনা মাদরাসা, যশোর

প্রশ্ন

ক. আমার জানার বিষয় মাফহুমে মুখালিফ সম্পর্কে। উসূলে ফিকহ থেকে আমরা জানি, হানাফী মাযহাবে নুসূসে শরঈয়্যাহতে মফহূমে মুখালিফকে হুজ্জত মনে করা হয় না।

কিন্তু আমরা হানাফী মাযহাবের অনেক কিতাবে অনেক ইস্তিদলাল পাই যেগুলো থেকে বাহ্যত মনে হয় যে, মফহূমে মুখালিফকে হুজ্জত বানানো হয়েছে।

যেমন : হিদায়াহ এর ৩১১ পৃষ্ঠায়-

 

 

 

এই আয়াত উল্লেখ করার পর বলা হয়েছে

 

এবং ৩০৮ পৃষ্ঠায়

 

 

এই আয়াত উল্লেখের পর বলা হয়েছে

 

 

এবং ৩১৮ পৃষ্ঠায়

 

-এই নসকে আসাবা ভিন্ন অন্যদের বিবাহ-দানের অধিকার ছাবিত না হওয়ার উপর দলীল পেশ করা হয়েছে। এখন জানার বিষয় হল এ সমস্ত আলোচনা দ্বারা বাস্তবে মফহুমে মুখালিফকে দলীল বানানো হয়েছে কি না। আর বানানো হলে আমাদের মাযহাবের দৃষ্টিতে এর সমাধান কী?

 

খ. হিদায়াগ্রন্থকার অনেক হাদীসকে দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন অথচ তার অনেকগুলো হাদীস নয়। আবার অনেক হাদীস ঐ লফজে পাওয়া যায় না। তাহলে এভাবে ইসতিলাল করা সহীহ হবে কি না? এবং তাঁর মতো একজন বড় ফকীহ থেকে এভাবে ইসতিদলাল করার ব্যাপারে আমরা কী জওয়াব দিতে পারি?

 

গ. আমরা এ বছর হিদায়া পড়ছি। হিদায়া এর মাসআলা ভালোভাবে অনুধাবন করার জন্য আমরা বিভিন্ন কিতাব দেখি। যেমন ফাতহুল কাদীর, নাসবুর রায়াহ, হাশিয়ায়ে ইবনে আবেদীন ইত্যাদি। তাফসীরের ক্ষেত্রে তাফসীরে ইবনে কাসীর, তাফসীরে কুরতুবী ইত্যাদি।

এভাবে বিভিন্ন কিতাব দেখা আমাদের জন্য লাভজনক হবে কি না। হলে এর লাভ সম্পর্কে আমরা কিছু জানতে ইচ্ছুক।

উত্তর

ক. উসূলে ফিকহের বিশদ ও শক্তিশালী গ্রন্থসমূহ মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়নের পাশাপাশি ওই গ্রন্থগুলোর মাসাদিরমাআখিয-এর দিকেও যদি লক্ষ করা হয় তাহলে প্রতীয়মান হয় যে, নুসূসে শরঈয়্যাহএর মফহূম কোনো অবস্থায় গ্রহণযোগ্য হবে না-এটা হানাফী মাযহাবের উসূল নয়। যদি কারাইনে খারিজিয়্যাহ বা কারাইনে দাখিলিয়্যাহ দ্বারা প্রতীয়মান হয় যে, আলোচ্য কয়েদটি ইহতিরাযী, এছাড়া এর অন্য কোনো উদ্দেশ্য বা হিকমত নেই তাহলে মফহূম হুজ্জত হিসেবে গণ্য হবে এবং এর মাধ্যমে দলীল দেওয়া যাবে। কারাইনে খারিজিয়্যাহতে ইজমা এবং ফাহমে মুতাওয়ারাছও অন্তর্ভুক্ত। আর যেখানে কারাইন দ্বারা এ কয়েদ আরোপের অন্য কোনো হিকমত প্রমাণিত হয় সেখানে তা হুজ্জত হিসেবে গণ্য হবে না।

এ প্রসঙ্গে আরেকটি কথা মনে রাখা উচিত যে, মফহূমে মুখালিফ হুজ্জত না হওয়ার অর্থ হচ্ছে আলোচ্য নসে বিপরীত দিকটি মাসকূত আনহু পর্যায়ে থাকবে। এ দিকের বিধান অন্যান্য নসে কিংবা কাওয়ায়েদে শরীয়তের মধ্যে অন্বেষণ করতে হবে।

যদি অন্যান্য নসকাওয়াইদে মুসাল্লামা দ্বারা ওই হুকুমই প্রমাণিত হয়, যা আলোচ্য নসের মাফহূম থেকে পাওয়া যাচ্ছিল তাহলে এটাও এ বিষয়ের করীনা হবে যে, এখানে মাফহুমে মুখালিফ বিবেচিত ও গ্রহণযোগ্য হচ্ছে। দৃষ্টান্ত হিসেবে প্রশ্নোক্ত আয়াতটি উল্লেখ করা যেতে পারে। যদি মফহূমে আদদ বিবেচনায় না আনা হয় তাহলে অর্থ এই হবে যে, এখানে চারের বেশি সংখ্যার কথা অনালোচিত, কিন্তু এই মূলনীতি সর্বজন স্বীকৃত যে,

 

 

অতএব চারের অধিক সংখ্যাগুলো হুরমতের অন্তর্ভুক্ত থাকবে। তাহলে আলোচ্য আয়াত থেকে উপরোক্ত বিষয়টি এভাবেও পেশ করা যায় যে, বৈধতা ও হালাল হওয়ার বিধান চার পর্যন্ত পাওয়া গেল, এরপরে আর পাওয়া যায়নি।

 

খ. হিদায়া ও তার হাদীস সম্পর্কে আমি এ বিভাগেই একাধিকবার লিখেছি। অনুগ্রহপূর্বক ওই আলোচনাগুলো পড়ে নিন। এর সঙ্গে শায়খ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ-এর কিতাব আসারুল হাদীসিশ শরীফ ফিখতিলাফিল আয়িম্মিাতিল ফুকাহা কিংবা নাসবুর রায়াহ-এর দারুল কিবলা, জিদ্দা থেকে প্রকাশিত সংস্করণে তার লিখিত মুকাদ্দিমা মুতালাআ করুন।

এ প্রসঙ্গে সারকথা হচ্ছে, তাহকীক করলে দেখা যায়, এমন রেওয়ায়েতের সংখ্যা বেশি নয়। আর যে রেওয়াতগুলো এ পর্যায়ের রয়েছে তা না সংশ্লিষ্ট বিধানে কোনোরূপ প্রভাব ফেলে আর না ছাহিবে হিদায়ার ইলম ও কামালকে প্রশ্নযুক্ত করে। কেননা, ওই বিষয়গুলোতে অন্যান্য দলীল রয়েছে আর ছাহিবে হিদায়ার সকল মাসাদির আমাদের নিকটে নেই। এ বিষয়টি খুবই যুক্তিসঙ্গত; বরং বিভিন্ন অভিজ্ঞতা থেকেও প্রমাণিত যে, আমরা যদি ওই মাসাদির পেয়ে যাই তাহলে এই রেওয়ায়াতগুলো যে শব্দে ছাহিবে হিদায়া উল্লেখ করেছেন সে শব্দেই অন্তত কাবেলে ইস্তিশহাদ সনদে পেয়ে যাব।

গ. এক দুটি কিতাব সবকের সঙ্গে নিয়মিত মুতালাআ করুন। যেমন ফাতহুল কাদীর, আলইনায়া, নাসবুর রায়াহ, (বুগয়াতুল আলমাঈমুনয়াতুল আলমাঈসহ)। আর গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অন্যান্য কিতাবের মুরাজাআত করুন।

যদি ভালো স্বাস্থ্য ও বুলন্দ হিম্মতের অধিকারী হয়ে থাকেন তাহলে প্রশ্নোক্ত সবগুলো কিতাবই মুতালাআ-যোগ্য। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দিন। সবকের সঙ্গে যে পরিমাণ সম্ভব হয় আলহামদুলিল্লাহ, অবশিষ্টটুকু অন্য সময় হতে পারবে।

আর এ কিতাবগুলোর বৈশিষ্ট্য, সেটা অধ্যয়ন অব্যাহত রাখলে সংক্ষিপ্তভাবে উপলব্ধিতে এসে যাবে। বিশদ আলোচনার ফুরসৎ এখন নেই। আল্লাহ তাআলা যদি তাওফীক দেন তাহলে অন্য কোনো সময় সে সম্পর্কে আরজ করব ইনশাআল্লাহ।

আরেকটি কথা, এক প্রশ্নে সাত-আট কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা না করে এক দুটি কিতাব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলে উত্তর দিতে সুবিধা হয়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে ও আমাদের সবাইকে কবুল করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

প্রশ্ন

ক. আমাদের ফিকহের কিতাবে বিশেষত দরসী কিতাবে আমাদের সাথে কেবল ইমাম শাফেয়ী রহ. এর মাযহাবকে মুকারানা করা হয় কেন? অন্য দুই মাযহাবের ব্যাপারে তো এমন মুকারানা করা হয় না।

 

খ. ছাহিবে হিদায়া ইমাম মুহাম্মাদ রহ. এর কিতাবসমূহের মধ্য থেকে আল জামিউল সাগীর-এর মতন নির্বাচন করার কোনো উদ্দেশ্যে আছে কি?

 

গ. আমরা বিগত মাসের আলকাউসার পাঠ করে জানতে পারলাম- ছাহিবে হিদায়া তাঁর হিদায়াগ্রন্থে যেসব হাদীস উল্লেখ করেছেন, তা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সনদসহ বর্ণিত। কিন্তু মুতাকাদ্দিমীনের কিতাব বিলুপ্ত হওয়ার কারণে এর সনদ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ফলে বর্তমান তাখরীজকারগণ এসব হাদীসের ব্যাপারে লাম আজিদ শব্দ ব্যবহার করেছেন।

এর থেকে আমাদের মনে যেসব সংশয় সৃষ্টি হচ্ছে হুজুরের নিকট তা নিরসনের দরখাস্ত করছি- ১. আমরা জানি, আল্লাহর দ্বীন মাহফূজ। আর দ্বীন মাহফূজ হওয়ার অর্থ হল কুরআন-হাদীস মাহফুজ। আর হাদীস মাহফূজ হলে তা সনদসহ মাহফূজ হবে। তাহলে সনদ বিলুপ্ত হবে কীভাবে। আর সনদ বিলুপ্ত হলে হাদীস সংরক্ষিত থাকার অর্থ কী?

২. আমরা জানি, সাহাবায়ে কেরাম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হুবহু লফজে হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং একই হাদীস কয়েক সনদে বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং একটা সনদ যদি বিলুপ্ত হয়ে যায় তাহলে আর এক সনদে তো হুবহু হাদীসটি পাওয়া যাবে। কিন্তু যেসব হাদীসের ব্যাপারে লাম আজিদ বলা হয় তা তো কোনো হাদীসের কিতাবে হুবহু লফজে পাওয়া যায় না। অন্যান্য হাদীসের কিতাবে এর সমার্থক হাদীস পাওয়া যায়। এর থেকে কেউ কেউ বলেন যে, তিনি রিওয়ায়েত বিল মানা করেছেন। এই দুই মতকে আমরা কীভাবে দেখব এবং প্রথম মতটি নিলে প্রশ্নগুলোর সমাধান কী হবে? আল্লাহ তাআলা হুজুরকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।

উত্তর

ক. অন্যান্য মাযহাবের তুলনায় এই দুই মাযহাবে লেখক-গ্রন্থকার বেশি হয়েছেন এবং মানহাজে ইসতিদলালের ক্ষেত্রে অন্য দুই মাযহাবের তুলনায় শাফেয়ী মাযহাবের সঙ্গে পার্থক্য অধিক। তাছাড়া কয়েক শতাব্দী পর্যন্ত বিভিন্ন ইলমী শহরে দুই মাযহাবের শীর্ষস্থানীয় আলিমগণ পাশাপাশি অবস্থান করেছেন, যারা মুনাযারা ও ইলমে জাদালে অধিক পারদর্শী ছিলেন। এ ধরনের আরো অনেক বিষয় আছে, যা উপরোক্ত বিষয়ের কারণ হয়েছে। কিন্তু ফিকহে মুকারানের বিশদ গ্রন্থসমূহে এই মুকারানা ও তুলনামূলক বিশ্লেষণ না শাফেয়ী মাযহাবের সঙ্গে সীমাবদ্ধ, আর না তার সঙ্গে বেশি।

 

খ. জাহিরুর রিওয়ায়াহ-এর কিতাবের মধ্যে আলজামিউস সাগীর তিন বিষয়ে স্বাতন্ত্রের অধিকারী। ১. এ কিতাবের উপস্থাপনা রচনামূলক এবং সহজবোধ্য। ২. এতে ফিকহের অধিকাংশ মৌলিক শিরোনাম সন্নিবেশিত রয়েছে। ৩. এতে প্রত্যেক শিরোনামের বুনিয়াদী মাসাইল উল্লেখিত হয়েছে, ফুরূয়ে মুখাররাজা এ কিতাবের বিষয়বস্ত্ত নয়।

কিতাবুল আসল-এ মাসাইল অনেক, কিন্তু উপস্থাপনা সম্বোধনধর্মী। আলজামিউল কাবীরআযযিয়াদাত-এর বিষয়বস্ত্ত হল ফুরূয়ে মুখাররাজা। আর আসসিয়ার গ্রন্থে শুধু কিতাবুল জিহাদ ও আলকানূনুদ দুয়ালী সংক্রান্ত মাসাইল রয়েছে।

বিদায়াতুল মুবতাদী গ্রন্থের উদ্দেশ্যে হল, সালাফের সহজবোধ্য ভাষায় ফিকহী অধ্যায়গুলোর বুনিয়াদী মাসাইল সংকলিত করা। তো এ উদ্দেশ্যে হাসিলের জন্য আলজামিউস সাগীরমুখতাসারুল কুদূরীর চেয়ে উপযোগী গ্রন্থ আর কী হতে পারত?

গ. হাদীস  ও  সুন্নাহ  বর্ণনার  ক্ষেত্রে  সাহাবায়ে কেরাম ও তাবেয়ীন থেকে রিওয়ায়েত বিল মানার প্রমাণ রয়েছে। (আল-কিফায়া ফী ইলমির রিওয়ায়াহ, লিল খতীব পৃ. ২৩৯-২৪৭ আলমুহাদ্দিসুল ফাসিল, রামাহুরমুযী পৃ. ৫৩৩-৫৩৭; আলফুসূল ফিল উসূল লিল জাসসাস খ. ৩ পৃ. ২১১)

হাদীসের ইমামগণের মধ্যে ইমাম বুখারী রহ. এ বিষয়ে অগ্রগণ্য। ছাহিবে হিদায়াও সম্ভবত করে থাকেন। কিন্তু তাঁর রেওয়ায়াতকৃত যে হাদীসগুলোতে রিওয়ায়েত বিল মানা বিদ্যমান রয়েছে, অপরিহার্য নয় যে, সবক্ষেত্রে তিনিই তা করেছেন; বরং অনেক ক্ষেত্রে এমনও হয় যে, ছাহিবে হিদায়া যে মাসাদির থেকে হাদীসগুলো গ্রহণ করেছেন সেখানে তা এভাবেই রয়েছে।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো শিক্ষা বিল মানা সংরক্ষিত হলে তাতেও উদ্দেশ্যে হাসিল হয়ে যায়। আর জাওয়ামিউল কালিম ছাড়া অন্যান্য হাদীসের উদ্দেশ্যেই হচ্ছে বিষয়বস্ত্তর নির্দেশনা প্রদান। অন্যথায় কুরআনের মতো হাদীসও শব্দমর্মের সমষ্টির নাম হত। বলাবাহুল্য, বিষয়টি এমন নয়।

এরপর যায়লায়ীইবনে হাজার-এর মতো দুই ইমামের অনেক লাম আজিদ (পেলাম না) এক ইবনে কুতলুবুগাই যখন ওয়াজাদতুহু (পেয়েছি)  বানিয়ে দিয়েছেন তখন শুধু কারো না-পাওয়ার ভিত্তিতে আপনি কীভাবে বলতে পারেন যে, উক্ত হাদীসটি সংরক্ষিত থাকেনি। হাদীসের সংরক্ষণ-পদ্ধতি তো কুরআনের সংরক্ষণ-পদ্ধতির মতো নয় যে, মকতব-হিফযখানার প্রত্যেক তালিবে ইলম এবং সকল মাদরাসার সকল ছাত্র-শিক্ষকেরই তা জানা থাকবে। এটা তো কুরআনের বৈশিষ্ট্য। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে-

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ মুঈনুদ্দীন ও জামাতের অন্যান্য ছাত্র - মদীনাতুল উলূম মাদরাসা নগরকান্দা, ফরিদপুর

প্রশ্ন

জনাব, আমরা কয়েকজন নাহবেমীর জামাতের ছাত্র। বেফাকে ভাল ফলাফল করা এবং বাংলা, আরবী হাতের লেখা আকর্ষণীয় করার জন্য কিছু পরামর্শ ও কানুন আপনার নিকট জানতে আগ্রহী। হাতের লেখা সুন্দর করা সম্পর্কে কোন কিতাব বেরিয়ে থাকলে তাও জানতে আগ্রহী।

রাব দিয়ে কিতাব পড়ার যোগ্যতা কীভাবে অর্জন করা যায়, সে সম্পর্কেও জানতে চাই। পরিশেষে আমাদের সার্বিক জীবন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হওয়ার ব্যাপারে আপনার একান্ত দুআ কামনা করছি।

উত্তর

একবার হযরত খতীব সাহেব [রহ. সাবেক খতীব, বায়তুল মুকাররম ঢাকা, হযরত মাওলানা উবায়দুল হক রহ. ১৪২৮ হিজরী] মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া ঢাকায় তাশরীফ এনেছিলেন। দীর্ঘ বয়ানের শেষের দিকে তিনি যে কথা গুরুত্বের সাথে বলেছেন তা এই যে, ‘‘মানতিক শাস্ত্রে ইনসানের যে পরিচিতি দেওয়া হয়েছে হাইওয়ানে নাতিক তার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে হাইওয়ানে কাতিব হওয়ারও চেষ্টা করবে। আর লেখার ক্ষেত্রে সুন্দর হস্তলিপি, বানান শুদ্ধতা এবং ভাষার বিশুদ্ধতা এই তিন বিষয়ে মনোযোগী হবে।’’

সুন্দর হস্তলিপির মূল কথা হল অভিজ্ঞ কাতিবের তত্ত্বাবধানে মশক করা। এ বিষয়ে অনেক কিতাবও রয়েছে, কিন্তু শুধু কিতাব সামনে রাখা যথেষ্ট নয়। অভিজ্ঞ কাতিবের নেগরানিতে মশক করা এবং অধ্যাবসায়ের সাথে নিয়মতান্ত্রিক মেহনত জারি রাখা অবশ্য কর্তব্য। প্রথমে হরফ এরপর শব্দ এরপর বাক্য এভাবে পর্যায়ক্রমিক অনুশীলন অব্যাহত রাখলে ইনশাআলাহ ফায়েদা হবে।

এরপরও দুএকটি কিতাবের নাম জানিয়ে দেওয়ার জন্য স্নেহের মৌলভী হামীদুলাহ সিলেটীকে ফোন করেছিলাম। তিনি এক সময় এ বিষয়ে মেহনত করেছেন। তার কাছে এ বিষয়ের যে কিতাবগুলো বিদ্যমান ছিল তার প্রায় সবগুলোর নাম আমাকে বলেছেন। কিছু কিতাবের নাম উল্লেখ করে দিচ্ছি :

১. নিজে আরবী লেখি [আরবী...] মাওলানা মুহাম্মদ বেলাল, যাত্রাবাড়ি মাদরাসা, ঢাকা।

২. আশরাফুত তাহরীর মুহাম্মদ গরীবুল্লাহ মাসরুর ইসলামাবাদী।

৩. খততে রুকআ কেউ আওর ক্যায়সে সীখেঁ হযরত মাওলানা নূরে আলম খলীল আমীনী, দারুল উলূম দেওবন্দ।

৪. হাদিত তলাবা ইলা খাততির রুকআ [আরবী-বাংলা-জাদীদ লেখা নির্দেশনা] মাওলানা রফীকুল হক মাদানী, মারকাযুল ফিকরিল ইসলামী, বসুন্ধরা।

উপরোক্ত কিতাবগুলো এবং এ ধরনের আরও কিতাব আমাদের দেশের বড় কুতুবখানাগুলোতে পাওয়া যাবে। এছাড়া হাসান কাসেম কৃত বিভিন্ন আরবী খতের একটি সিরিজ দারুল কলম বৈরুত থেকে প্রকাশিত হয়েছে। যা সিলসিলাতুল ফুনুনিল আরাবিয়্যা আলইসলামিয়া নামে পাওয়া যায়। তার আলখাততুল আরাবী আলকুফী পুস্তিকা রয়েছে। এ বিষয়ে কিছু আরবী পুস্তিকা মাকতাবাতুল আযহার, বাড্ডায় পাওয়া যেতে পারে।

সুন্দর হস্তলিপির অনুশীলনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট করে লেখা অতি গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য অনুশীলনের সময় এ বিষয়েও মনোযোগ দেওয়া জরুরি। এ প্রসঙ্গে তিনটি বিষয় বিশেষ মনোযোগের দাবিদার।

ক. হরফের গঠন ও নুকতা পরিষ্কার করে লেখা এবং যে অক্ষরগুলো ভিন্নভাবে লিখতে হয় সেগুলো সংযুক্ত না করা।

খ. প্রত্যেক হরফ রাসমুল খত অনুযায়ী লেখা। যথা হামযার রাসমুল খত বিভিন্ন অবস্থায় বিভিন্ন রকম। অতএব কোন অবস্থায় রাসমুল খত কী তা অনুশীলনের মাধ্যমে আত্মস্থ করে নেওয়া উচিত।

রাসমুল খত বিষয়ে আল্লামা আবদুস সালাম হারুন [রহ.] কৃত কাওয়াইদুল ইমলা পাঠ করলে উপকৃত হওয়া যাবে। সেটা পাওয়া না গেলে কিংবা প্রাথমিক অবস্থায় কঠিন বোধ হলে মাওলানা সাঈদ মিসবাহ কৃত কাওয়াইদুল ইমলা অধ্যয়ন করা যায়। এটি মুদ্রিত ও প্রকাশিত। মুহাম্মদপুরে তাঁর মাদরাসায় পাওয়া যেতে পারে।

গ. যতিচিহ্ন ব্যবহার করা। এর মাধ্যমে রচনা পাঠ ও অনুধাবন সহজ হয়। এ বিষয়ে প্রসিদ্ধ পুস্তিকা আহমাদ যকী বাশা কৃত আততারকীম ওয়া আলামাতুহ। তবে উত্তম হল, কোনো উস্তাদের নিকট থেকে যতিচিহ্ন ও তার প্রয়োগ ভালোভাবে বুঝে ডায়রিতে নোট করে নেওয়া। এরপর লেখার সময় মনোযোগের সাথে প্রয়োগ করা। মাওলানা সাঈদ মিসবাহ [যীদা মাজদুহুম]-এর পুস্তিকাতেও যতিচিহ্ন সম্পর্কে আলোচনা রয়েছে।

বিশুদ্ধ পঠনের যোগ্যতা অর্জনের জন্য আরবী সাহিত্যের প্রাথমিক কিতাবগুলো বারবার অধ্যয়ন করা উচিত। নাহবেমীর বা এ পর্যায়ের কোনো ভালো কিতাব থেকে কাওয়ায়েদ বুঝে নিয়ে অনুশীলনের আঙ্গিকে বারবার পড়া দ্বারা এ যোগ্যতা পাকা হতে থাকবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ বিন আনওয়ার - রায়গঞ্জ, সিরাজগঞ্জ

প্রশ্ন

হুজুর আমি একজন তাকমীল পড়ুয়া মধ্যম দরজার ছাত্র। ২০ বছর বয়সে তাকমীল পড়ি। তাকমীল পর্যন্ত পড়লেও বয়সের স্বল্পতার কারণে দরসি কিতাবগুলো অনেকাংশই বুঝতে সক্ষম হইনি। তাছাড়া মনোযোগের অভাবও যথেষ্ট ছিল। কারণ ইলম তলবের মাকসাদই বুঝিনি। বর্তমান আমার যোগ্যতা সরফ-এর ক্ষেত্রে যা আছে তাতে পাঞ্জেগাঞ্জ ও ইলমুছ্ ছীগা পড়াতে পারব ইনশাআল্লাহ। নাহব ও মানতেকের কিছুটা ধারণা আছে। তবে এখন নাহু-সরফ মুতালাআ করলে আগের চেয়ে কিছুটা ভাল বুঝতে পারি আলহামদুলিল্লাহ।

এখন আমার কথা হল, কী করলে বা কোন কোন কিতাব পড়লে আমি যোগ্য আলেম হতে পারব। অর্থাৎ আমি নিচের কিতাব বা বিষয়গুলো সম্পর্কে বুৎপত্তি অর্জন করতে পারব? কিতাবগুলো হল- [১] হেদায়া [২] নূরুল আনোয়ার [৩] শরহে তাহযীব [৪] উসূলুশ শাশী [৫] মুখাতাসারুল মাআনী [৬] শরহে আকায়েদ [৭] সিরাজী। এবং আমার জন্য কি ইফতা পড়া সম্ভব হবে? সম্ভব হলে কীভাবে? মেহেরবানি করে জানালে খুব খুশি হব। কারণ এ ব্যাপারে আমি হতাশায় আছি।

উত্তর

এটাই হল আমাদের তালেবে ইলম সমাজের সাধারণ ব্যাধি। তারা তলবহীন তালেবে ইলম। আফসোসের বিষয় এই যে, এ ব্যাধি সম্পর্কে বারবার সাবধান করা হলেও তাদের গাফলতের নিদ্রা ভাঙ্গে না। এরপর যখন সময় গড়িয়ে যায় তখন আফসোস করতে থাকে। আপনাকে এজন্য মুবারকবাদ দিচ্ছি যে, আপনি নিজের অপরাধ পরিষ্কার ভাষায় স্বীকার করেছেন। তদুপরি সাহস না হারিয়ে মেহনত জারি রাখার সংকল্প করেছেন। আলাহ তাআলা আপনাকে সাহায্য করুন। আমীন।

এখন আপনার করণীয় কী-এ বিষয়ে পরিষ্কার নির্দেশনা আপনার কোনো উস্তাদই দিতে পারেন, যিনি আপনার অবস্থা সম্পর্কে অবগত। আমি সংক্ষেপে এটুকু বলছি যে, কোথাও যদি আপনার তাদরীসের ব্যবস্থা হয়ে থাকে তাহলে কোনো অভিজ্ঞ উস্তাদের নিকট থেকে প্রতিদিনের সবক বুঝে নেবেন। ছাত্রদের মতো ইয়াদ ও অনুশীলনের মাধ্যমে সবক খুব ভালোভাবে রপ্ত করবেন। উস্তাদের নিকট থেকে তাদরীসের পন্থা বুঝে নেবেন। এরপর দরসগাহে গিয়ে ছাত্রদের পড়াবেন। এভাবে দরসগাহে উস্তাদ আর দরসগাহের বাইরে কোনো পুরনো উস্তাদের শাগরিদ হিসেবে মেহনত অব্যাহত রাখুন। এভাবে যদি প্রাথমিক কিতাবগুলো এক এক করে বারবার পড়াতে থাকেন তাহলে ইনশাআলাহ কিতাবি ইস্তেদাদ পয়দা হবে এবং ইলমি তারাক্কি সহজ হবে। প্রশ্নোক্ত কিতাবগুলোও তখন বুঝে আসতে থাকবে অথবা আলাদাভাবে কারো কাছে আসসাফফুল ইদাদী [মাদরাসাতুল মাদীনা]-এর নেসাব পড়ে তারই পরামর্শক্রমে সামনে অগ্রসর হতে থাকুন।#

শেয়ার লিংক

শোআইব - তাকমীল, হাটহাজারী মাদরাসা, চট্টগ্রাম

প্রশ্ন

ক. সম্প্রতি অনেকে বেশ জোরালোভাবে কওমী মাদরাসার শিক্ষা সিলেবাস পরিবর্তনের দাবি তুলছেন। আবার অনেকে বলছেন, স্কুলের দশম শ্রেণী পর্যন্ত সবগুলো বই মাদরাসার সিলেবাসভুক্ত করতে হবে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে মাদরাসা সিলেবাসভুক্ত কিছু কিতাব বাদ দিতে হবে। সিলেবাসভুক্ত কিতাবগুলোর মধ্যেও আমূল সংস্কার করতে হবে। আমার প্রশ্ন হচ্ছে যেহেতু উচ্চ শিক্ষার বুনিয়াদ প্রতিষ্ঠিত হয় প্রাথমিক শিক্ষার কাঠামোর উপর তাই প্রাথমিক শিক্ষার ভিত নড়বড়ে হয়ে গেলে উচ্চ শিক্ষা বাধাগ্রস্থ হওয়ার সমূহ আশংকা রয়েছে। সুতরাং মাদরাসার সিলেবাস সংস্কার করলে সেই ভয়ানক আশংকার সম্মুখীন হতে হয় কি না বা শিক্ষার্থীরা ফল লাভে সক্ষম হবে কি না এ ব্যাপারে আপনাদের দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাই।

খ. বর্তমানে মাদানী নেসাবের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু? এই নেসাবে পড়লে কি মুহাক্কিক আলেম হওয়া যাবে? জানতে ইচ্ছুক।

গ. বাব এর খাসিয়াত জানার জন্য আরবী, বাংলা উর্দূ কিছু কিতাবের নাম জানাবেন।

আপনাদের সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করি।


উত্তর

ক. মেরে মুহতারাম! নেসাবের বিষয়টি অতি সংবেদনশীল। এরপর এটি বাস্তব অভিজ্ঞতার বিষয়। শুধু তাত্ত্বিক আলোচনা কিংবা নিছক পর্যালোচনা মূলক বহস এক্ষেত্রে মোটেই ফলদায়ক নয়। এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা করা বড়দের কর্তব্য। আর একটি পর্যায় পর্যন্ত তারা এ বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা অব্যাহতও রেখেছেন। আলাহ তাআলা কল্যাণের পথ সুগম করুন এবং সকল প্রকার কল্যাণ আমাদেরকে দান করুন।

এ বিষয়ে আপনার আগ্রহ থাকলে আকাবিরের কিছু কিতাব অধ্যয়ন করতে পারেন। যথা- মুফতী যায়েদ মাজাহেরী সংকলিত মুখতালিফ উলূম ওয়া ফুনুন কা নিসাব (আয ইফাদাতে হাকীমুল উম্মত রহ.)।

হামারা তালীমী নেজাম হযরত মাওলানা মুহাম্মদ তকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম, দ্বীনী মাদারেস, নিসাব ওয়া নিজামে তালীম আওর আসরী তাকাযে সংকলনে মাওলানা ডা. হাফেয হাক্কানী মিয়াঁ কাদেরী। এতে ১৯৬৮ সালে দিল্লীতে এবং ১৯৯০ খৃষ্টাব্দে রাঁচী ও দিল্লীতে অনুষ্ঠিত সেমিনারের কার্যবিবরণী, প্রবন্ধ ও আলোচনা সংকলিত হয়েছে।

খ. মাদানী নেসাবের পূর্ণ কাঠামো ( যা অন্তত ষোল বৎসরের নেসাব) এখনো বাস্তবায়িত হয়নি। শুধু মধ্যবর্তী একটি অংশ কয়েক বছর যাবৎ কার্যকর হয়েছে কিন্তু সেটাও নেসাব প্রণেতার পরিকল্পনার পূর্ণ রূপটি ধারণ করেনি। আমি যদ্দুর জানি, এ পর্যন্ত অর্জিত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকূলতা স্বত্ত্বেও এটি তার লক্ষ্যে সফল দেখা যাচ্ছে। তবে এ প্রসঙ্গে স্বীকৃত কথা এই যে, উত্তম ফলাফলের জন্য শুধু নিসাব ভালো হওয়া যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীর মেহনত ও মনোযোগ এবং শিক্ষকের অভিজ্ঞতা ও আন্তরিকতা এ ক্ষেত্রে অতি গুরুত্বপূর্ণ।  আর এ বিষয়টি তো সর্বদা পাওয়া যায় না।

মুহাক্কিক আলিম শব্দটি যদি আপনি সঠিক অর্থে ব্যবহার করে থাকেন তবে জেনে রাখা প্রয়োজন যে, নেসাব যতই উচ্চাঙ্গের  হোক মুহাক্কিক হওয়ার জন্য তা শুধু সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারে। মুহাক্কিক পর্যায়টি অনেক উচু পর্যায়। এ পর্যায়ে উন্নীত হতে হলে অনেকগুলো ধাপ অতিক্রম করতে হয় এবং এ জন্য আহলে ফিকহ ও আহলে দিল মুহাক্কিক আলিমের সাহচর্যও প্রয়োজন হয়।

মাদানী নেসাব সম্পর্কে আততরীক ইলাল বালাগাহর ভূমিকার আলোচনা অবশ্যই অধ্যয়ন করুন। যে বিষয়গুলো ওখানে স্পষ্টভাবে লিখে দেওয়া আছে সে সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষের কোনো ধারণা নেই।

গ. এ প্রশ্নের জন্য ৪নং প্রশ্ন ক.-এর উত্তরটি দেখুন। আশা করি আপনার উত্তরও পেয়ে যাবেন।

শেয়ার লিংক

হাবীবা বিনতে আবদুস সামাদ - ৯৭/৮ পাটগুদাম, মোমেনশাহী

প্রশ্ন

আরবী ভাষা শেখার অংশ হিসেবে মীযান কিতাব শেষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। পুরো মীযান কিতাব বলা যায় একরকম মুখস্থ হয়ে গিয়েছে। যেখান থেকেই ধরা হয় বলতে পারি। সেজন্য আমার উস্তাদ বলেন, নাহবেমীর কিতাব পড়া শুরু করতে। কিন্তু আমার কেন যেন মনে হয় ছরফ পুরোপুরি এখনো শেখা হয়নি। কারণ মাঝে মাঝেই ছিগা, বাব, বহছ উলট-পালট হয়ে যায়। অনর্গল নির্ভুল বলতে পারি না। ঠেকে যাই। আপনার কাছে পরামর্শ চাই কিভাবে এ সমস্যা থেকে পরিত্রাণ পেতে পারি। আমি ইলমে ছরফ এমনভাবে আয়ত্ত করতে চাই যেখান থেকে যেভাবেই ধরা হোক যেন সঠিক উত্তর দিতে পারি। উল্লেখ্য যে, আমি আমার স্বামীর কাছে বাসায় পড়ি। একা একা কিভাবে এ জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব এবং সহজ?


উত্তর

উস্তাদ যখন নাহবেমীর শুরু করার পরামর্শ দিয়েছেন তো এক্ষেত্রে সংশয়ে ভোগা উচিত নয়।সরফ-এর যে দুর্বলতার কথা আপনি উল্লেখ করেছেন সেটা নাহবেমীর পড়ার সময়ও দূর করা সম্ভব।

আততরীক ইলাস সারফ-এর নির্দেশনা মোতাবেক অধিক পরিমাণে অনুশীলন করতে থাকলে ইনশাআল্লাহ এই দুর্বলতা দূর হয়ে যাবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ জিয়াউল হক - ইফতা-১ম বর্ষ আলজামেয়া ইসলামিয়া, পটিয়া

প্রশ্ন

বাদ তাসলিম আরয এই যে, আমি জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার ইফতা বিভাগের একজন নগণ্য ছাত্র। আমি আপনাদের নিকট একখানা পত্র পাঠিয়ে জানতে চাই যে, আমি কিভাবে কিতাব মুতালাআ করব এবং কোন পদ্ধতিতে মাসআলার উসূল মুখস্থ এবং যবত্ করব? এ ব্যাপারে অল্প কিছু ধারণা দিলে বান্দার খুবই উপকার হত। কোন কোন কিতাব মুতালাআ করলে বেশি ফায়দা এবং উপকার হবে ঐ সমস্ত কিতাবের নাম পত্রিকায় ছাপিয়ে দিলে আমি উপকৃত হব। আর বেশি কিছু লিখে আপনাদের মূল্যবান সময় নষ্ট করতে চাই না।

আর উপরোক্ত সমস্যাগুলোর সমাধান তাড়াতাড়ি পত্রিকায় ছাপালে উপকৃত হব।


উত্তর

মাসআলার আছল তালাশ করার দুই অর্থ হতে পারে। এক. মাসআলার শরয়ী দলীল তালাশ করা। দুই. মাসআলাটি শরীয়তের মূলনীতিগুলোর মধ্যে কোন নীতির আওতায় পড়ে তা অন্বেষণ করা।

প্রথম বিষয়টি ফিকহের বিস্তারিত দলীল ও প্রমাণসমৃদ্ধ গ্রন্থসমূহে পাবেন। উদাহরণস্বরূপ বলা যায় যে, আপনি যদি হিন্দিয়া বা রদ্দুল মুহতার গ্রন্থে কোনো মাসআলা পড়ে থাকেন তাহলে তার দলীল জানার জন্য এ মাসআলা হিদায়া, মাবসূতে সারাখসী, ও বাদায়ে থেকে বের করুন। সেখানে দলীল পেয়ে যাবেন। এরপর আরো অধিক জানার জন্যে ফাতহুল কাদীর, বিনায়া, নসবুর রায়া ইত্যাদি গ্রন্থ দেখবেন। এই কিতাবগুলোর সাহায্যে আহকামুল কুরআন ও তাফসীরের বিশদ গ্রন্থাবলির মুরাজাআত করতে পারবেন। শুধু আলমুসান্নাফ ইবনে আবী শাইবা ও আলমুসান্নাফআবদুর রাযযাক- যা অত্যন্ত বুনিয়াদী গ্রন্থ ও কুতুবে সিত্তার আগে সংকলিত- এদুটি কিতাবেই শামী ও হিন্দিয়ার অসংখ্য মাসআলার স্পষ্ট দলীল পেয়ে যাবেন।

এই পন্থাটা, যা এখানে উল্লেখ করলাম, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য কিতাব ঘাঁটাঘাঁটির অভ্যাস গড়ে তোলার একটি সহজ পন্থা। এর চেয়েও সহজতায় আগ্রহী হলে ইলাউস সুনানের সাহায্য নিতে পারেন।

মাসআলার তামরীনের সময় শুধু ফিকহে মুজাররাদের কিতাব সমূহের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবেন না, দলীল-প্রমাণ বিষয়ক কিতাবাদি অধ্যয়নের অভ্যাস গড়ে তুলবেন। ইনশাআল্লাহ এতে অনেক উপকার হবে।

আর দ্বিতীয় বিষয়টি অর্থাৎ শরীয়তের মূলনীতি বোঝার ক্ষেত্রেও হিদায়াবাদায়ে ও মাবসূতে সারাখসী মনোযোগের সঙ্গে অধ্যয়ন করলে উপকার হবে। এ প্রসঙ্গে মুতাকাদ্দীমীনের শরহুল হাদীস বিষয়ক গ্রন্থাবলি ও আহকামুল কুরআনের তাহকীকী গ্রন্থসমূহ অধ্যয়ন খুবই ফলদায়ক হয়। যথা: জাসসাস ও ইবনুল আরাবীর আহকামুল কুরআন, কুরতুবীর আলজামে লি আহকামিল কুরআন, খাত্তাবী রহ. এর মাআলিমুস সুনান, ইবনে আবদুল বার রহ. এর আততামহীদ ওআলইস্তেযকার ইবনুল আরাবীর আলকাবাস ও মাম্বিজী কৃত আলজামউ বাইনাল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ থেকে সাহায্য নেওয়া যাবে।

আর এ বিষয়ে সহজ ও সংক্ষিপ্ত পন্থা হচ্ছে, আলকাওয়াইদুল ফিকহিয়্যাহ ও আলআশবাহ ওয়ান নাযাইর  শিরোনামে যে কিতাবগুলো রয়েছে সেগুলোর মধ্যে যা সহজ মনে হয় সে কিতাব বারবার অধ্যয়ন করা; বরং কোনো উস্তাদের নিকট থেকে পড়ে নিলে ভালো। এক সময় দেখবেন, কোনো মাসআলা সামনে এলে নিজেই বলতে পারবেন এ মাসআলার সম্পর্ক অমুক অমুক কায়েদার সঙ্গে।

আপনি এ প্রশ্নও করেছেন যে, মাসআলার আছল কীভাবে মুখস্থ ও আত্মস্থ করবেন। এ প্রসঙ্গে পন্থা একটিই। তা  হচ্ছে বারবার অধ্যয়ন, আলোচনা এবং খাতায় নোট গ্রহণ। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কেননা, ইলমের প্রকৃতিই হল তা ধীরে ধীরে হাসিল হয়।

এজন্য ধীরে ধীরে সামনে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রাখুন। আলাহ  তাআলা আপনার মদদ করবেন।

সর্বশেষ দরখাস্ত এই যে, আপনি লেখার বিষয়েও কিছু অনুশীলনী অব্যাহত রাখুন। প্রতিদিন কিছু সময় এ বিষয়ে ব্যয় করুন। কেননা, এটাও  প্রয়োজনীয় বিষয়।

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - গুলশান, ঢাকা

প্রশ্ন

ক. আমরা যে দরসের মধ্যে খাসিয়াতে আবওয়াব-এর জন্য ফুসূলে আকবরী জাতীয় কিতাব পড়ে থাকি তা থেকে ওই বিষয়টি আত্মস্থ করা কতটুকু সম্ভব? তাছাড়া খাছিয়াতে আবওয়াব সম্পর্কে জানার প্রয়োজনীয়তা কতটুকু? মনে তো হয় যে, এর অনেক প্রয়োজন রয়েছে। এর জন্য তামরীনী কোনো কিতাব আছে কি যার সাহায্যে এর মাকসাদ পর্যন্ত পৌঁছা যাবে?

হযরত দা.বা. কাছে বিনীত দরখাস্ত যদি এ ব্যাপারে সুপরামর্শ দিতেন তাহলে কৃতজ্ঞ হতাম।

খ. আমাদের মাদরাসায় আরবী প্রথম কিতাব হিসেবে বাকূরাতুল আদব পড়ানো হয়। এখন এর দ্বারা তো তেমন কোন ফায়দা পাওয়া যাচ্ছে না। এর মধ্যে তো তামরীনও তেমন নেই। এমনিভাবে আরেকটি কিতাব হল রাওযাতুল আদব। এক্ষেত্রে কোন কিতাবটি রওযাএর স্থানে নিসাবের জন্য উপকারী হবে।

এখন আমরা যারা ছাত্ররা আছি তাদের কী করণীয়? মাদরাসা কর্তৃপক্ষরা সম্ভবত আকাবিরদের তরয মনে করে এড়িয়ে যান। এমনিভাবে মাতৃভাষা শেখাকে জরুরি মনে করছেন না। এ ব্যাপারে আপনার সদুপদেশ প্রত্যাশা করছি। আপনার সুস্বাস্থ্য কামনা করে শেষ করছি।


উত্তর

ক. মুজাররাদ এর বাবগুলোতে খাসিয়াত বলতে কিছু আলামতকে বোঝানো হয়। যাতে তালিবে ইলমদের একটি ধারণা সৃষ্টি হয় যে, কোন ধরনের ফেল কোন ধরণের বাব থেকে আসে। এতেমাজী ও মুযারি- এর আইন কালিমায় কী হরকত হবে তার একটা অনুমান ক্ষমতা সৃষ্টি হয়। যদিও এ বিষয়ে ইয়াকীনী ইলম লুগাতের কিতাব থেকেই অর্জন করতে হবে।

ছুলাছী মাযীদ ফীহ, গায়রে মুলহাক-এর বাবগুলোতে খাসিয়াত বলতে ওই অর্থগুলো বুঝানো হয় যেগুলো নতুন অক্ষর সংযুক্তির কারণে সৃষ্টি হয়। মুজাররাদ-এর সঙ্গে যখন নতুন অক্ষর যুক্ত হয়ে মাযীদ ফীহ তৈরি হয় তখন কিছু নতুন অর্থ সৃষ্টি হয়। ওই অর্থগুলোই খাসিয়াত শব্দে নির্দেশ করা হয়েছে। ইবনুল হাজিব রহ. আশশাফিয়া তে খাসিয়াত কে মাআনী শব্দে উল্লেখ করেছেন। তদ্রূপ আবু হায়্যান আনদালুসী ইরতিশাফুয যারাব মিন লিসানিল আরব গ্রন্থে (১/৭৬)এই আলোচনার শিরোনাম দিয়েছেন-বাবু আবনিয়াতিল আফআল ওয়ামা জাআত লাহু মিনাল মাআনী

এখানে মাআনী বলতে ধাতুগত অর্থ উদ্দেশ্য নয়; বাবের ওজন ও কাঠামোগত অর্থ উদ্দেশ্য। অর্থাৎ ধাতুগত দিক থেকে এ শব্দের অর্থ যাই দাঁড়াক না কেন, তার অন্তর্নিহিত ব্যাঞ্জনায় বাবের কাঠামোগত সূর ধ্বনিত হবে।

এ বিষয়ে অবহিত হলে আরবী ভাষায় পরিপক্কতা ও পারদর্শিতা অর্জনে সাহায্য পাওয়া যায়। পূর্বাপরের সঙ্গে মিলিয়ে আরবী ইবারতের ফেলসমূহের মর্ম নির্ধারণ করা সহজ হয় এবং সহজে লুগাতের কিতাব থেকে ফেলসমূহের মর্ম অনুধাবনের যোগ্যতা অর্জিত হয়। এজন্য এ আলোচনা, যেমনটি আপনিও বলেছেন, গুরুত্বপূর্ণ এবং তা পড়া ও অনুধাবন করার প্রয়োজন রয়েছে।

আমি শায়খ আবদুল ফাত্তাহ রহ.-এর কাছে শুনেছি, এক আরব আলিম অসুস্থ ছিলেন। তাকে দেখতে আসা একজন দুআ করছিলেন-আল্লাহুম্মা আশফিহি (বাবে ইফআল থেকে)! বেচারা বাবে ইফআল এর একটি অর্থ সালবে মাখায সম্পর্কে অবগত ছিলেন না তাই তিনি নিজের অজান্তেই তার সুস্থতার স্থলে মৃত্যু কামনা করছিলেন। ওই আরব আলিম তার দুআ শুনে বলতে লাগলেন-আল্লাহুম্মা আমীন আলা নিয়্যাতিহী, লা আলা লাফযিহ

ফুসূলে আকবরী যদি আপনি উস্তাদের কাছে বুঝে শুনে পড়তে পারেন তাহলে এ কিতাবের মাধ্যমেও খাসিয়াত সম্পর্কে ধারণা লাভ হবে। শুনেছি, মাওলানা রোকনুদ্দীন ছাহেব মুদ্দাযিল্লুহুম সাবেক উস্তাদ, বড় কাটারা মাদরাসা তার কিতাব-কাওয়াইদুস সারফে খাসিয়াতের আলোচনা সহজ করে লিখেছেন। জামেয়া ইসলামিয়া পটিয়া-এর মুহতামিম মাওলানা আবদুল হালীম ছাহেব বুখারী মুদ্দাযিল্লুহুমও এ বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র রিসালা-আসান খাসিয়াতে আবওয়াব নামে লিপিবদ্ধ করেছেন। তবে এ কিতাবগুলো দেখার সুযোগ আমার হয়নি।

আপনার একটি প্রশ্ন ছিল, এ বিষয়ে তামরীনী কোনো কিতাব আছে কি না? আমার জানা নেই। তবে একজন বুদ্ধিমান তালিবে ইলম শুধু আলমুজামুল ওয়াসীত এর সাহায্যেই এক একটিখাসিয়াতে-র বহু উদাহরণ সংগ্রহ করতে পারবে। তামরীন বা অনুশীলন তো আসলে তালিবে ইলমের নিজের কাজ। নিজে মেহনত করে তামরীন করলে তবেই এর উপকারিতা পাওয়া যাবে।

কুরআন মজীদ তেলাওয়াতের সময়ও যদি এ বিষয়ে দৃষ্টি দেন তাহলেও অনেক উদাহরণ সংগ্রহ হবে। এরপর এ বিষয়ে কোনো তামরীনী কিতাব আপনি নিজেও তৈরি করে ফেলতে পারবেন।

খ. মেরে ভাই, তালিবে ইলমের কাজ হল, সে যে প্রতিষ্ঠানে পড়ছে সেখানকার নিয়ম-কানুন এবং যে উস্তাদদের কাছে পড়ছে তাঁদের নির্দেশনা মোতাবেক চলা। বাকুরা ও রাওযা যদি আপনাদের ওখানে নিসাবে থেকে থাকে তাহলে উস্তাদের নির্দেশনা অনুযায়ী মেহনত করে পড়তে থাকুন। ইনশাআল্লাহ ফায়েদা হবে।

আপনার তালীমী মুরববী যদি অনুমতি দেন তাহলে আপনি পরিপূরক অনুশীলনী হিসেবেআততরীক ইলাল আরাবিয়্যা ও আততামরীনুল কিতাবী আলাত তরীক ইলাল আরাবিয়্যা পাশে রাখতে পারেন। ইনশাআল্লাহ এতে ফায়েদা বৃদ্ধি পাবে।

আপনার এ কথা-মাদরাসা কর্তৃপক্ষরা সম্ভবত আকাবিরদের তরয-তরীকা মনে করে এড়িয়ে যান। এমনিভাবে মাতৃভাষা শিক্ষাকে জরুরি মনে করছেন না। আমার কাছে ভালো লাগেনি। কথাবার্তার এ ঢং তো ভালো নয়। তাছাড়া এ ধরনের মন্তব্য যে মানসিকতা প্রকাশ করে সেটাও ভালো মানসিকতা নয়। সমালোচনা ও পর্যালোচনার একটি সময় আছে। এর জন্য যোগ্যতার প্রয়োজন হয়। আর তা ফলপ্রসূ হওয়া নির্ভর করে এ বিষয়ক অনেক আদব মেনে চলার উপর। আমরা যারা তালিবে ইলম, আমাদের সীমার মধ্যেই থাকা উচিত।

আমি যদ্দূর জানি তাতে একথা ঠিক নয় যে, মাদরাসা-কর্তৃপক্ষরা ছাত্রদের মাতৃভাষা শেখার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেন না। তবে তারা এ বিষয়ে ছাত্রদেরকে সম্পূর্ণ স্বাধীন করে দেওয়ার পক্ষপাতী নন। এটা অবশ্যই সঠিক। কেননা, মাতৃভাষা চর্চা হয়তো প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে হতে হবে কিংবা ছাত্রের তালীমী মুরববীর তত্ত্বাবধানে। অধ্যয়ন যদি পরিছন্ন না হয় এবং নিয়ম অনুযায়ী না হয় তবে এতে কোনো সুফল আসে না। নিজেই ভাবুন, এ বিষয়টি সঠিক তত্ত্বাবধান ছাড়া সম্ভবপর কি না।

শেয়ার লিংক

আব্দুল বারী - বাইতুস সালাম উত্তরা-২

প্রশ্ন

আমি কওমী মাদরাসার ছাত্র। আমার পরিবার আমাকে কওমী মাদরাসায় পড়াতে আগ্রহী নয়। অথচ আমি দুই দুই বার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে দেখার সুযোগ পেয়েছি স্বপ্নযোগে। কওমী মাদরাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রচন্ড চাপের মুখে রমজান মাসে বাদ ফজর দেওবন্দে যাওয়ার স্বপ্ন দেখেছি এবং কিছু দিন পূর্বে মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী রহ. ও হাফেজ্জী রহ.-এর সাথে মাসআলা সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনারত আছি এমন এক স্বপ্ন দেখেছি এবং মুসলমানদের বিশাল দুর্গেও প্রধান ফটকের দায়িত্ব এবং এক ছাত্রকে কিতাবের আরবী.....এর সমাধান দেয়ার মত স্বপ্ন দেখে আমি বড়ই আশ্বস্ত। কিন্তু এই মুহূর্তে প্রয়োজনে

 পিতা মাতার কথা অমান্য করা আমার জন্য কতটুকু শোভনীয় বা শরীয়তসম্মত হবে। না, মা বাবার কথা শুনে নিজেকে অন্য কাজে ব্যবহার করাটা ভাল হবে। শরীয়তসম্মত সমাধানের জন্য উদগ্রীব।

হুজুর আমার পাঠাতে দেরি হয়ে গেছে। কিন্তু দ্রুত সমাধানের খুবই প্রয়োজন। তাই একটু কষ্ট করে হলেও আমার উত্তরটা জানিয়ে আমার উপকার করুন।

 

উত্তর

পিতা-মাতার সঙ্গে সব  সময় ভালো ব্যবহার করবেন এবং তাদের সামনে বিনয়ী হয়ে থাকবেন। তবে পূর্বের মতোই পড়াশুনা অব্যহত রাখুন। সঙ্গে সঙ্গে সালাতুল হাজত পড়ে দুআ করতে থাকুন, আল্লাহ তাআলা যেন আপনার পিতামাতাকে দ্বীনী ইলমের গুরুত্ব এবং সঠিক পন্থায় অর্জনের অপরিহার্যতা বোঝার তাওফীক দান করেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শুয়াইব - কারীমিয়া মাদরাসা, ঢাকা

প্রশ্ন

...


উত্তর

এ বিষয়ে ইমাম ইবনুল মুবারক রহ.-এর কিতাবের বাংলা তরজমা মাকতাবাতুল আশরাফ থেকে প্রকাশিত হয়েছে। শুরুতে আমার ভূমিকা আছে। আপনি প্রথমে ভূমিকাটি মনোযোগের সঙ্গে পড়ুন। এরপর মাওলানা সাইয়েদ আবুল হাসান আলী নদভী রহ.-এর কিতাব সীরাতে সাইয়্যেদ আহমদ শহীদ মুতালাআ করুন। তৃতীয় পর্যায়ে হযরত হাকীমুল উম্মত রহ.-এর কিতাবসমূহ থেকে নির্বাচিত প্রবন্ধ-নিবন্ধ সংকলন ইসলামী হুকুমত ওয়া দুসতূরে মামলাকাত অধ্যয়ন করুন।

এই তিন কিতাবের মুতালাআ শেষ হওয়ার পর কোনো বিষয় জিজ্ঞাসা করার থাকলে জিজ্ঞাসা করবেন। সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার  প্রশ্নের জওয়াব দেওয়ার চেষ্টা করব ইনশাআল্লাহ।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আব্দুস সাত্তার - মাদরাসা বাইতুল উলূম, ঢালকানগর

প্রশ্ন

বিভিন্ন কিতাবে মুতাক্বাদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীনের আলোচনা পেয়ে থাকি, কিন্তু মুতাক্বাদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীন বলতে কারা উদ্দেশ্য তা আমাদের নিকট অস্পষ্ট থেকে যায়। তাই হুজুর সমীপে আকুল আবেদন যে, কোন শাস্ত্রে মুতাক্বাদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীন বলতে কারা উদ্দেশ্য তা বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করে উপকৃত করবেন।


উত্তর

মুতাকাদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীন বলতে কাদেরকে বোঝানো হয়-এ বিষয়টি হচ্ছে একটি আপেক্ষিক বিষয়। শব্দ থেকেও তা বোঝা যাচ্ছে। এজন্য এ শব্দ প্রয়োগকারী এবং প্রয়োগক্ষেত্র ইত্যাদি বিবেচনা করে বিষয়টি নির্ণয় করতে হবে। আল্লামা লাখনোবী রহ. মুকাদ্দিমায়ে উমদাতুর রিয়ায়াতে (পৃ. : ১৫) লিখেছেন, ফুকাহা মুতাকাদ্দিমীন বলতে উদ্দেশ্য হচ্ছে, যাঁরা অন্তত ইমাম মুহাম্মদ ইবনুল হাসান রহ. (১৩১হি.-১৮৯  হিজরী) এর যুগ পেয়েছেন। আর তার পরের মনীষীরামুতাআখখিরীন এর অন্তর্ভুক্ত।

দুসতূরুল উলামা (২/১৭৮)তে বলা হয়েছে, শামসুল আইম্মা হালওয়ানী (৪৪৮হি.) থেকে হাফেযুদ্দীন বুখারী (৬৯৩হি.) পর্যন্ত মনীষীগণ উলামায়ে মুতাআখখিরীন এর অন্তর্ভুক্ত।

বলা বাহুল্য,  প্রথম  মতটিই  অধিক  বাস্তবসম্মত। তবে কোনোটিই কায়েদায়ে কুল্লিয়া নয়।

হাদীস শরীফের রাবীগণের ব্যাপারে অনেক মনীষীর বক্তব্য এই যে, হিজরী তৃতীয় শতাব্দীর শেষ পর্যন্ত সময়কালের রাবীগণ মুতাকাদ্দিমীন-এর অন্তর্ভুক্ত। এর পরের রাবীগণ মুতাআখখিরীন। (মীযানুল ইতিদাল, যাহাবী, মুকাদ্দিমা)।

আপনার তৃতীয় প্রশ্নটি ফিকহী মাসআলা সংক্রান্ত। বিষয়টি কোনো দারুল ইফতা থেকে জেনে নিবেন কিংবা আলকাউসারের প্রশ্নোত্তর বিভাগে চিঠি লিখবেন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আরিফ - কুমিল্লা

প্রশ্ন

(ক) আমি এখন আল্লাহর রহমতে হিদায়া কিতাব পড়ছি এবং তার শরাহ ফাতহুল কাদীর কিনেছি। এখন প্রশ্ন হল কিতাব দুটি কোন নিয়মে মুতালাআ করলে বেশি উপকৃত হব। আশা করি সুন্দর পরামর্শ দিয়ে আমাকে উপকৃত করবেন।

(খ) আলহামদুলিল্লাহ আমি অনেক কিতাব খরিদ করেছি। এখন জিজ্ঞাসা হল আমি তো এইগুলো বাড়ির টাকা দিয়ে খরিদ করেছি। এখন এই কিতাবগুলোতে আমার ভাইরাও কি শরীক হবে? দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।


উত্তর

(ক) হিদায়া ও ফাতহুল কাদীর সম্পর্কে একাধিকবার লেখা হয়েছে। আলকাউসারের মুহাররম ২৬, ফেব্রুয়ারি ০৫; সফর ২৬, মার্চ ০৫; জুমাদাল উখরা ২৮, জুলাই ০৭ সংখ্যাগুলো দেখুন। এরপরও যদি কোনো প্রশ্ন থাকে তাহলে লিখুন।

(খ) এটা তো দারুল ইফতায় জিজ্ঞাসা করা উচিত ছিল।

আপনার মুরববীরা আপনাকে কিতাব কেনার টাকা দেওয়ার সময় যদি একথা না বলে থাকেন যে, এ কিতাব তোমাদের সবার, তাহলে তো বোঝাই যাচ্ছে, এগুলো আপনারই কিতাব। তবে আপনার কিতাব থেকে উপকৃত হওয়ার হকদার আপনার ভাইয়ের চেয়ে অধিক আর কে হতে পারে?

শেয়ার লিংক

আবুল মানসুর মুহাম্মাদ রিয়াজুদ্দীন - জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম ফরিদাবাদ

প্রশ্ন

(ক) আমি কাফিয়া জামাতের একজন ছাত্র। আমার অসুবিধাগুলো হল-

আমি নাহু এবং ছরফ-এর কাওয়ায়েদগুলো মুখস্থ করেছি এবং ভালোভাবে বুঝেছি। কিন্তু আমি এখনও সহীহ শুদ্ধভাবে ইবারত পড়তে পারি না। তাই ইবারত সহীহভাবে পড়ার জন্য আমাকে কী করতে হবে? নাকি আদব বিভাগে ভর্তি হতে হবে?

(খ) আমি উসূলুশ শাশী কিতাবটি বুঝি না। বিশেষ করে আমরের বয়ানগুলো একেবারেই বুঝি না। এই কিতাবটি বুঝার জন্য আমাকে অন্য কোনো কিতাব মুতালাআ করা লাগবে কি না?

(গ) আরবী লেখার ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অনুসরণ করলে আমার জন্য সুবিধা হবে। আমার বাংলা লেখা তো দেখছেন, এখন এই বাংলা লেখা চলবে নাকি আরো  সুন্দর করতে হবে?


উত্তর

(ক) একদম না। প্রতিদিন বিশ-পঁচিশ মিনিট করে আননাহবুল ওয়াজিহ কিংবা আততরীক ইলান নাহব-এর সাহায্যে নাহবী তামরীন করবেন এবং আততরীক ইলাছ ছরফ এর সাহায্যে ছরফী তামরীন করবেন। এই দুবিষয়ের তামরীন ফলপ্রসূ হওয়ার জন্য যদি আততরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ এবং আততামরীনুল কিতাবী আলাত তরীক ইলাল আরাবিয়্যাহ প্রয়োজন হয় তবে তা-ও সঙ্গে রাখবেন।

আপনার দরসের কোনো আরবী কিতাব থেকে প্রতিদিন তিন-চার লাইন খাতায় লিখবেন। এরপর চিন্তা-ভাবনা করে প্রয়োজনে নাহবেমীর ও ইলমুছ ছীগা এর সাহায্য নিয়ে এই বাক্যগুলোরনাহবী ও ছরফী তাহকীক করবেন। ইরাব লাগাবেন এবং বাংলায় তরজমা করবেন। এটাও তামরীনের একটি পদ্ধতি।

দশ পনের দিন এভাবে মেহনত করে দেখুন। ইনশাআল্লাহ কিছু কিছু সুফল পেতে শুরু করবেন।

(খ) তাসহীলু উসূলিশ শাশী এবং তাইসীরু উসূলিল ফিকহ নামে দুটো কিতাব তৈরি করেছেন জামেয়া বিন্নুরী টাউন করাচির উস্তাদ মাওলানা আনোয়ার বদখশানী। তবে এতে সহজ করার উদ্দেশ্য পুরোপুরি অর্জিত হয়নি। আপনার আগ্রহ থাকলে কিতাব দুটো সংগ্রহ করতে পারেন অথবা উবায়দুল্লাহ আসআদী ছাহেবের উর্দূ রিসালা-উসূলুল ফিকহ কিংবা আলওয়াজিহ ফী উসূলিল ফিকহ মুতালাআ করতে পারেন। এমনিতে যেহেতু বিষয়টি নতুন তাই প্রথম দিকে কিছুটা অপরিচিতির দূরত্ব অনুভূত হতে পারে। তবে ইনশাআল্লাহ  ধীরে ধীরে তা কেটে যাবে এবং বিষয়টি সহজ মনে হবে।

(গ) আপনার হস্তাক্ষর-মাশাআল্লাহ পরিষ্কার। তবে তা আরো সুন্দর করার জন্য মশক করলে ভালো হবে। আরবী হস্তাক্ষর সুন্দর করার জন্য কী করতে হবে-এ বিষয়ে গত সংখ্যায় বা তার আগের সংখ্যায় লিখেছি। 

আপনি আরেকটি প্রশ্ন করেছেন। এ বিষয়ে আপনার তালীমী মুরববী ভালো বলতে পারবেন। কেননা বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মশোয়ারা দেওয়া মুশকিল। 

শেয়ার লিংক

মুহা. মাহবুবুর রহমান - ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার বসুন্ধরা, ঢাকা

প্রশ্ন

 

হোদায়া কিতাবের সর্বমোট নুসখা কয়টি এবং সেগুলো কোন কোন ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হয়েছে? বর্তমানে কয়টি নুসখা পাওয়া যায়। আমাদের দেশের নুসখাটি কোন ছাপাখানা থেকে প্রকাশিত হয়েছে। প্রত্যেকটি নুসখার সংক্ষিপ্ত তাআরূফ জানতে চাই।


 

উত্তর

 

আপনার এ প্রশ্ন সম্ভবত রবীউস সানী ১৪২৬ হি. (মোতাবেক ১৫ এপ্রিল ০৫ঈ.) তে পৌঁছেছিল। অর্থাৎ প্রায় তিন বছর পর এর উত্তর লেখা হচ্ছে। এই বিলম্বের একটি কারণ এই যে, উত্তর দেওয়ার জন্য যে কিতাবগুলো দেখা প্রয়োজন ছিল তা সে সময় আমার কাছে ছিল না। দ্বিতীয় কারণ এই যে, প্রশ্নটি যদিও গুরুত্বপূর্ণ এবং তালিবে ইলমের মধ্যে এ ধরনের মেহনতের মেযাজ অবশ্যই থাকা উচিত তবে বিশেষ করে হিদায়ার ক্ষেত্রে এ বিষয়টির প্রয়োজন তেমন হয় না। কেননা, একেতো এতে নুসখাসমূহের ভিন্নতা কম, দ্বিতীয়ত যেসব স্থানে এই ভিন্নতার কোনো প্রভাব রয়েছে সেসব স্থানে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা অন্য ভাবেও সম্ভব। অর্থাৎ হিদায়ার ব্যাখ্যাগ্রন্থসমূহ এবং হিদায়া-পরবর্তী সময়ে রচিত ফিকহের দীর্ঘ গ্রন্থাবলিতে এতদসংশ্লিষ্ট আলোচনা অবশ্যই থাকবে, যার আলোকে বিষয়টি মীমাংসা করা যায়। এজন্য তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় কিতাবপত্র সংগ্রহ  করে উত্তর লেখা হয়নি। 

এখন আল্লাহ তাআলার অনুগ্রহে কিছু কিতাবপত্র এসে গেছে। তাই কিছু কথা পেশ করে দিচ্ছি: 

মুজামুল মাতবূআতিল আরাবিয়্যা ওয়াল মুরাবা র আলোচনা থেকে বোঝা যায় যে, হিদায়া সর্বপ্রথম ১৭৯১ ঈ. লন্ডন থেকে ইংরেজী তরজমাসহ প্রকাশিত হয়েছিল। এরপর ১৮০৭ ঈ. কলকাতা থেকে গোলাম ইয়াহইয়ার তত্ত্বাবধানে তরজমা ছাড়া প্রকাশিত হয়। এরপর ১৮৮৮ ঈ. চার জুয ও দুই খন্ডে প্রকাশিত হয়। আল্লামা লাখনোবী রাহ. ও তাঁর ওয়ালিদ রাহ.-এর টীকাসহ প্রথম প্রকাশিত হয় কানপুর থেকে ১২৮৯-১২৯০ হিজরীতে। এরপর লখনৌ থেকে ১৩১৩ হিজরী-১৩১৪ হিজরীতে প্রকাশিত হয়। এটাও ছিল চার জুয ও দুই খন্ডে।

আল্লামা লাখনোবী র. এর সমসাময়িক আলমুহাদ্দিসুল ফকীহ শায়খ মুহাম্মাদ হাসান সাম্ভলী  র. ( ১৩০৫হি.) হিদায়ার উপর বিস্তারিত হাশিয়া লিখেছেন। তার হাশিয়াসহ হিদায়া প্রথম হিন্দুস্তানে ছাপা হয়। এরপর ১৪১০হি. মোতাবেক ১৯৮৭ ঈসাব্দে করাচীর এইচ. এম. সায়ীদ কোম্পানী ওই হিন্দুস্তানী সংস্করণের ফটো সংস্করণ পেশ করে। এটা এ মুহূর্তে আমার সামনে নেই। তাই হিন্দুস্তানে এর মুদ্রণের সন-তারিখ দেওয়া সম্ভব হল না।

এরপর মূদ্রণ যত উন্নতি করেছে ততই প্রসিদ্ধ কিতাবগুলোর পুনঃমুদ্রিত হয়েছে। হিদায়াও এর ব্যতিক্রম নয়। সকল এডিশন সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, আর এ মুহূর্তে এর তেমন কোনো প্রয়োজনও নেই। হিদায়ার শরাহ-গ্রন্থগুলোর সঙ্গে, বিশেষত আল বিনায়া ওফাতহুল কাদীর এর সঙ্গে হিদায়া দীর্ঘদিন থেকে সংযুক্ত রয়েছে এবং বহুবার মুদ্রিত হয়েছে।বিনায়া তো হিদায়ার হামিলুল মতন শরহ। বিনায়ার বিশুদ্ধতম এডিশন হল যা মুলতান থেকে মাওলানা ফয়েয আহমদ মুলতানীর তাহকীকে প্রকাশিত হয়েঠেছ। আপাতত এই বিষয়গুলো আরজ করেই শেষ করছি। হিদায়ার নতুন এডিশনগুলোর মধ্যে ইদারাতুল কুরআন করাচী এবং মাদরাসা ইবনে আববাস করচীর এডিশন দুটো বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এগুলোতে কিছু স্বাতন্ত্র রয়েছে।

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ আবদুল মান্নান - জামাতে নাহবেমীর, জামিআ আরাবিয়া আনোয়ারুল উলূম রশীদিয়া মাইজদী, নোয়াখালী

প্রশ্ন

 

আমি এখন নাহবেমীর পড়ি। পাশাপাশি সরফের কিতাব পাঞ্জেগাঞ্জ পড়ি এবং গত বছর মীযান কিতাবটি পড়েছি। কিন্তু ছরফের একটি মাসআলা আমার নিকট স্পষ্ট নয়। তা এই যে, আমরা জানি যে, নফী ফেলে মাজীর শুরুতে মা  আসে এবং নফী ফেলে মুজারে এর শুরুতে লা  আসে। কিন্তু এমন কিছু জায়গা পাওয়া যায় যেখানে এর উল্টো হয়। যেমন মাজী-এর শুরুতে লা আসে আবার মুজারে-এর শুরুতে মা আসে।

যদিও এর সমাধান দিতে গিয়ে অনেকে বলেছেন যে, মাজী যখন তাকরার হয় তখন তার শুরুতে লা যেমন 

فلا صدق ولا صلى 

কিন্তু তাও কোনো কায়েদায়ে কুল্লিয়া নয়। অনেক সময় তাকরার ছাড়াও প্সড্ড আসে। তাই আমি আশা করি যে, হুযুর আমাকে এ ব্যাপারে সঠিক দিক নির্দেশনা দিয়ে কৃতজ্ঞতার বন্ধনে আবদ্ধ করবেন।  


  

 

উত্তর

 

তালিবে ইলমীর প্রকৃতিই এই যে, পর্যায়ক্রমে জ্ঞান বৃদ্ধি পাবে এবং ধীরে ধীরে পরিপক্কতা অর্জিত হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে সকল বিষয় জানাও সম্ভব নয় আর প্রাথমিক কিতাবাদিতে তার আলোচনাও সম্ভব নয়। 

মাজীতেও লা-এর ব্যাপক ব্যবহার রয়েছে। আপনি যে আয়াত উল্লেখ করেছেন তার সম্পর্কে আলোচনা প্রসঙ্গে আল্লামা ছামীন হালাবী (৭৫৬ হি.) বলেন- 

لا هنا دخلت على الماضي وهو مستفيض في كلامهم

আর তাকরার ছাড়াও লা আসার যে কথা আপনি বলেছেন তা-ও সঠিক এবং সেটাও ফসীহব্যবহার। তবে এ ব্যবহারটা কম। ফাররা ও যাজ্জাজ বলেন-

والعرب لا تكاد تفرد لا مع الفعل الماضي حتى تعيدها.

তাঁদের বক্তব্য এই যে, যেখানে বাহ্যত এমন দেখা যায় সেখানে উহ্যত হলেও একটা দ্বিত্ত বা তাকরার রয়েছে। যেমন-

فلا اقتحم العقبة

এখানে ১৭ নম্বর আয়াতের ইঙ্গিতে বাক্য এমন হবে-

فلا اقتحم العقبة ولا آمن

কিংবা যমখশরী যেমন বলেছেন-

هي منكرة في المعنى، لأن المعنى فلا اقتحم العقبة فلا فك رقبة ولا أطعم مسكينا، ألا ترى أنه فسر اقتحام العقبة بذلك.

الدر المصون 6/525؛ والكشاف 4/756

 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মদ সাইদুর রহমান - খাজা মঈন উদ্দীন মাদরাসা, বাজার রোড, বরিশাল

প্রশ্ন

(ক) আমি জামাতে শরহে জামীর একজন ছাত্র। আমার প্রধান সমস্যা হল, আমি আরবী বলতে সক্ষম নই। যে কোনো বিষয়ে আরবীতে কিছু লেখা আমার পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না। অথচ আমি দরসী কিতাব-আতত্বরিক ইলাল ইনশা অধ্যয়ন করেছি। এতে তেমন কোনো ফায়দা অনুভব করছি না। তাই কীভাবে আরবীতে বলা ও লেখায় পারদর্শী হতে পারব এবং কী পদ্ধতি অনুসরণ করলে আমার দরসী কিতাবটি হতে উপকৃত হতে পারব জানালে খুশি হব।

(খ) মুতালাআ আমি একদম বুঝি না। বারবার মুতালাআর পরও কোনো বিষয় আমার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে ধরা দেয় না। তাই কী করলে সহজে মুতালাআর মাধ্যমে কিতাব আয়ত্ত করা যায়। সামান্য আভাস দিলে ধন্য হব।

(গ) আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহর রহমতে আমার হেফয শক্তি মোটামুটি ভালো। কিন্তু স্মরণশক্তি একদম শূন্যের কোঠায়। শত চেষ্টা করলেও কোনো জিনিস স্মৃতিতে ধরে রাখা আমার পক্ষে সম্ভব হয় না। অবশ্য একটি পড়া বারবার পড়লে মনে থাকে। কিন্তু তাতে কি আমার পোষায়? এত বড় বড় কিতাব বারবার পড়ার সময়টা কোথায়? আশা করি, সুন্দর পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।


উত্তর

(ক) এমনিতেও বিষয়টি পরিষ্কার, তাছাড়া আমিও ইতোপূর্বে একাধিক বার আরজ করেছি যে, লেখা ও বলা এবং রচনা ও বক্তৃতা এই বিষয়গুলো অনুশীলন-নির্ভর। শুধু কিতাবী যোগ্যতা কিংবা ব্যাকরণের জ্ঞান এসব বিষয়ে যথেষ্ট নয়। তাছাড়া এটাও অপরিহার্য নয় যে, প্রত্যেকের মধ্যেই  এই যোগ্যতা বিদ্যমান থাকবে।

আমাদের মনে রাখা কর্তব্য যে, মূল বিষয় হল কিতাব বোঝার যোগ্যতা এবং অন্যকে বোঝানো ও কিতাবের বিষয়গুলো সুন্দরভাবে উপস্থাপনের যোগ্যতা। এ দুটি যোগ্যতা যদি কারো মধ্যে থাকে তাহলে উপরোক্ত বিষয়ে রুচি ও স্বভাবের  যোগাযোগ না থাকা সত্ত্বেও তা হাসিল করার জন্য পেরেশান হওয়া একেবারেই কাম্য নয়।

এরপরও যদি প্রয়োজন অনুপাতে এসব বিষয়ে যোগসূত্র গড়ে তুলতে চান তাহলে আতত্বরীক ইলাল আরাবিয়্যা ও আততামরীনুল কিতাবী আলাত ত্বরীক ইলাল আরাবিয়্যা-এ দুটো কিতাব সামনে রেখে অনুশীলন করুন। অন্তত দুজন একত্র হয়ে মুযাকারার আঙ্গিকে পড়তে থাকলে ইনশাআল্লাহ উপরোক্ত সবগুলো বিষয় সহজ হয়ে যাবে। তবে শর্ত হচ্ছে, এ কাজে প্রতিদিন পনেরো মিনিটের অধিক ব্যয় করবেন না এবং এ পরামর্শও আপনার তালীমী মুরববীর অনুমতির ওপর মওকুফ থাকবে।

(খ) একদম বোঝেন না-এ কথা ঠিক নয়। যতটুকু বোঝেন দরসের পূর্বের মুতালাআয় অতটুকুই যথেষ্ট। তবে সাধারণভাবে না বোঝার প্রতিকারের জন্য তিনটি বিষয়ে মনোযোগী হওয়া কর্তব্য।

১. না-বোঝার কারণ চিহ্নিত করে তা ধীরে ধীরে দূর করার চেষ্টা করা।

২. না-বোঝার কষ্ট সহ্য করেও অধ্যয়ন অব্যাহত রাখা।

৩. আল্লাহর কাছে দুআ করতে থাকা।

(গ) বারবার পড়ার পর যদি আপনার স্মরণ থাকে তবে প্রমাণ হয় যে, আপনার মুখস্থ করার শক্তি ও মনে রাখার শক্তি দুটোই ঠিক আছে। এজন্য আল্লাহ তাআলার শুকরিয়া আদায় করবেন। আর সব কিতাব বারবার পড়ার প্রয়োজন নেই। গুরুত্বপূর্ণ ও নির্বাচিত কিছু কিতাব বারবার পড়বেন। এটাই যথেষ্ট। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন।  

শেয়ার লিংক

হাছানুযযামান - ফরিদাবাদ মাদরাসা, ঢাকা

প্রশ্ন

আমরা সোহবতের গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে অনেক কিছুই জেনে আসছি। এ সম্পর্কে     উস্তাদের পরামর্শে আদাবুল ইখতেলাফ পাঠকালে সুন্দর আলোচনাও নজরে এসেছে।

আমি জানতে চাই, বর্তমান প্রেক্ষাপটে তাফাককুহ ফিদ্দীন-এর উদ্দেশ্যে মুরববী বা উস্তাদ থেকে কী পদ্ধতি অবলম্বন করার দ্বারা ফায়দা উঠানো যেতে পারে। চাই সেটা দাওরার পূর্বে হোক বা পরে।


উত্তর

আপাতত এটুকুই করুন যে, সকল কাজ আপনার তালীমী মুরববীর পরামর্শক্রমে করবেন এবং আপনার  উস্তাদগণের আচার-আচরণ থেকে আদাবুল মুআশারা শেখার চেষ্টা করবেন। সঙ্গে সঙ্গেমিশকাতুল মাসাবীহ-এর কিতাবুর রিকাক ও কিতাবুল আদব-এর হাদীসগুলো অধ্যয়নের সময় সেগুলো নিজের বাস্তব জীবন ও আচার-আচরণে প্রতিফলিত করার চেষ্টা করবেন। এবং আগামীতেও এ বিষয়ে আপনার তালীমী মুরববীর সঙ্গে পরামর্শ ও নির্দেশনা-গ্রহণ অব্যাহত রাখবেন। 

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

প্রশ্ন

প্রশ্নের সারকথা এই যে, মন খুব বিক্ষিপ্ত থাকে। পড়াশোনায় মন বসে না। মনোযোগিতার অভাব। গল্প-গুজব করতে খুব ভালো লাগে। কোনো কিছু মুখস্থ করা খুব কঠিন হয় এবং কিছু মুখস্থ করা হলেও মনে থাকে না।

 

উত্তর

মেরে দোসত! দুনিয়াতে কোনো কাজ হিম্মত ছাড়া হয় না। শুধু আকাঙ্খা ও দুআর দ্বারাই যদি সকল কাজ হয়ে যেত তাহলে আল্লাহ দুনিয়াকে দারুল আসবাব বানাতেন না আর আমাদেরকেও শরীয়তের অনুগত থাকার বিধান দিতেন না। এজন্য খালেস দিলে তওবা করে হিম্মত করুন এবং কিছু কিছু মুজাহাদা আরম্ভ করুন। আর আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি করুন। ইনশাআল্লাহ আল্লাহ তাআলা রাস্তা খুলে দিবেন।

চিন্তা-ভাবনা বিক্ষিপ্ত থাকার যে কারণ আপনি উল্লেখ করেছেন তার জন্য রূহানী ও জিসমানী দুই ধরনের চিকিৎসকেরই শরণাপন্ন হওয়া কর্তব্য। রূহানী চিকিৎসক-এর অর্থ হল মুসলিহ ও শায়খে কামেল। খুব দ্রুত আপনি কোনো শায়খে কামেলের সঙ্গে ইসলাহী সম্পর্ক কায়েম করুন। পাশাপাশি কোনো অভিজ্ঞ ও দরদী চিকিৎসককে আপনার অবস্থা জানিয়ে ওষুধপত্র ব্যবহার করুন। এটা শুধু রূহানী রোগের বিষয় নয় শারীরিক অসুবিধাও এখানে রয়েছে, যা সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে নিরাময়যোগ্য। (রূহানী ও জিসমানী উভয় ধরনের) চিকিৎসক রোগীর জন্য আমানতদার হয়ে থাকেন। রোগীর সমস্যা তারা অন্যদের সঙ্গে আলোচনা করেন না এবং রোগীকেও তুচ্ছজ্ঞান করেন না। এজন্য শায়খ ও ডাক্তারকে নিজের অবস্থা জানাতে কোনোরূপ দ্বিধা করা উচিত নয়।

পড়াশুনায় মন দিলেই মন বসবে। এটা কখনো ভাববেন না যে, মন বসা ইচ্ছাধীন নয়। এটা সম্পূর্ণ মানুষের ইচ্ছা ও সামর্থ্যের ভিতরের বিষয়। কেউ হিম্মত করলেই আল্লাহ তাআলা তাকে তাওফীক দান করেন।

গল্প-গুজবের ব্যাপারে দুটো বিষয় মনে রাখবেন। প্রথম বিষয়টি এই যে, যবানের ভুল ব্যবহার বা অহেতুক ব্যবহার মানুষের দ্বীন ও দুনিয়া দুটোই বরবাদ করে দেয়। এজন্য একে নিয়ন্ত্রন করা অত্যন্ত জরুরি। একটি প্রসিদ্ধ উক্তি রয়েছে- জিরমুহু ছগীর ওয়া জুরমুহু কাবীর। কথাটা মনে রাখুন। দ্বিতীয় কথা এই যে, গল্প-গুজব তো একাকী কখনো হয় না। অবশ্যই দ্বিতীয় কারো সঙ্গে আপনি গল্প-গুজবে মগ্ন হচ্ছেন। এতে অন্যের যে সময় আপনি নষ্ট করছেন, যদিও তার সন্তুষ্টিক্রমেই হোক না কেন, নিঃসন্দেহে তা কবীরা গুনাহ। আর যদি অন্যদের অসুবিধা হয়ে থাকে তবে তো এটা তৃতীয় কবীরা গুনাহ। ভাই! নিজের ওপর দয়া করুন!

পড়া ভুলে যাওয়ার অভিযোগও আপনি করেছেন। উপরোক্ত তিনটি বিষয়ে আমল করতে থাকলে ইনশাআল্লাহ এই অভিযোগও দূর হয়ে যাবে। আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে হেফাযত করুন এবং প্রতি পদক্ষেপে আমাদেরকে সাহায্য করুন। আমীন।

শেয়ার লিংক

আলমাহমূদ - ঢাকা

প্রশ্ন

হযরত, একটি বিষয় ব্যক্তিগতভাবে জানার ইচ্ছে ছিল। কিন্তু হয়তো আমার মতো অনেকের মনেই প্রশ্নটি রয়েছে তাই পত্রিকায় পাঠালাম। প্রশ্নটি হচ্ছে : বর্তমান সময়ের চাহিদানুযায়ী ইংরেজি ও ফার্সী ভাষার মধ্যে কোনটির গুরুত্ব বেশি? এবং শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকেও বর্তমানে দ্বীনের তাকাযানুসারে কোনটা কতটুকু গুরুত্ব রাখে? বুঝিয়ে লেখলে কৃতজ্ঞ হব।

এ বিষয়ে কিছু গোড়া লোক সমাজে রয়েছেন। তারা এ উক্তি করেন যে, ইংরেজি যারা শিখে এরা হচ্ছে দুনিয়ালোভী আর ফার্সি যে জানে না সে হিজড়া আলেম। ... আশা করি আপনার কাছে এর সঠিক সমাধান পাব।


উত্তর

দাওয়াতী এবং তাহকীকী কাজের জন্য আলেমদের মধ্যে দুই ভাষারই মাহির থাকা দরকার। কিছু এই ভাষার মাহির আর কিছু ওই ভাষার। এখন কাদেরকে এই কাজের জন্য নির্বাচন করা হবে এবং কাকে কোন ভাষা শেখার জন্য লাগানো হবে তা ফয়সালা হয়তো উলামায়ে কেরামের আহলুল হাললি ওয়াল আকদ করবেন কিংবা তালীমী মুরববী। এ বিষয়ে তালিবে ইলমের স্বাধীন হওয়া কোনোভাবেই উচিত নয়। কেননা, অভিজ্ঞতা না থাকার কারণে তারা না পরিণামদর্শী হয়ে থাকে, না দূরদর্শী। আর না সকল অবস্থা সামনে রেখে সঠিক সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়ার যোগ্যতা তাদের মধ্যে থাকে।

এরপর আরো দুটি কথা মনে রাখুন। প্রথম কথা এই যে, সময়ের পূর্বে নিজেকে কোনো মত পোষণ করা বা মতপ্রকাশ করার যোগ্য কখনও মনে করবেন না। বিশেষত নিসাব-নিযামের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে মতামত দেওয়া তো খুবই অসমীচীন। নিজ গন্ডির বাইরের বিষয়গুলো সংশ্লিষ্টদের জন্য ছেড়ে দিন। বলাবাহুল্য যে, এই নীতি من حسن إسلام المرء تركه ما لا يعنيه এর অন্তর্ভুক্ত।

দ্বিতীয় কথা এই যে, আবেগনির্ভর কথাবার্তার সুন্দর জওয়াব হল নিশ্চুপ থাকা। উল্টা এমন আবেগী কথাবার্তা বলা, যা ছাপারও অযোগ্য, মোটেই উচিত নয়। আসাতিযায়ে কেরামের নিকট থেকে ইলমের সঙ্গে সঙ্গে হিলম ও আকলও অর্জন করা উচিত।

শেয়ার লিংক

ইবনে আব্দিল খালেক - খুলনা

প্রশ্ন

নিচের বিষয়গুলো আপনার কাছে জানতে চাই।

ক) ফিকহে হানাফীর আলমাবসূত গ্রন্থে যেমন সমস্ত প্রসিদ্ধ মাসাইল কুরআন ও  সুন্নাহর দলীলসহ উল্লেখ আছে তেমনি বাকি তিন মাযহাব ও গায়রে মুকাল্লিদের অনুরূপ একটি করে কিতাবের নাম।

খ) আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআতের আকীদাতুত তহাবী ব্যতীত আক্বীদা সম্পর্কিত নির্ভরযোগ্য ও বিস্তৃত কিতাবের নাম।

গ) চার মাযহাবের ফিকহী উসূল কি ভিন্ন? ভিন্ন হলে একটি বা দুটি করে নির্ভরযোগ্য উসূলের কিতাবের নাম।

ঘ) রিজাল শাস্ত্রে পারদর্শিতা অর্জনের জন্য পরামর্শ ও এ বিষয়ক প্রয়োজনীয় কিতাবের নাম।

ঙ) উসূলে হাদীসের কিছু কিতাবের নাম।


উত্তর

ক. ফিকহে মালেকীতে এ ধরনের কিতাব ইবনে আবদুল বার রাহ. (৪৬৩ হি.) -এরআলইসতিযকার শরহুল মুয়াত্তা, ফিকহে শাফেয়ীতে নববী রাহ. (৭৭৬ হি.) -এর আলমাজমু শরহুল মুহাযযাব, ফিকহে হাম্বলীতে আলমুগনী ইত্যাদি। ফিকহে হানাফীতে সারাখসী রাহ.-এরআলমাবসূত-এর চেয়ে তার পূর্বের তহাবী, জাসসাস, কুদূরী প্রমুখের লিখিত গ্রন্থগুলো অধিক গভীরতা ও মৌলিকত্বের অধিকারী।

 

গায়রে মুকাল্লিদদের কোনো আলাদা ফিকহ নেই, যদি আপনি তাদেরকে জাহেরী মাযহাবের সমকালীন অনুসারী বলে গণ্য করেন তাহলে ইবনে হাযম জাহেরীর আলমুহাল্লা বিল আছার-এর কথা বলা যায়।

মিসরের সাইয়্যেদ সাবেক রাহ. ফিকহুল কিতাবি ওয়াসসুন্নাহ নামে একটি কিতাব লিখেছেন, যা গায়রে মুকাল্লিদদের মধ্যে খুব প্রচলিত। প্রজ্ঞাবান আলেমদের জন্য এ কিতাবটি অধ্যয়নযোগ্য। তবে এ কিতাবটির প্রকৃত নাম হওয়া উচিত ফিকহুস সাইয়্যেদ সাবেক ফিল কিতাবি ওয়াস সুন্নাহ। গায়রে মুকাল্লিদদের অন্যতম অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব শায়খ নাসিরুদ্দীন আলবানী রাহ. সাইয়্যেদ সাবেক সাহেবের  এই কিতাবের উপর তামামুল মিন্নাহ ফিত তালীকি আলা ফিকহিস সুন্নাহ নামে খন্ডন লিখেছেন। অধ্যয়নের সময় এ কিতাবটিও পাশে থাকা জরুরি।

খ. এ বিষয়ে আবু বকর বাকেল্লানী (৪০৩ হি.)-এর কিতাব আনইনসাফ, সদরুল ইসলাম বাযদভী (৪৯৩ হি.)-এর উসূলুদ্দীন, মুহাম্মদ ইবনে মায়মূন মাকহুলী -এর তাবসিরাতুল আদিল্লা, গাযালী রাহ.-এর কাওয়াইদুল আকাইদ, ইবনুল হুমাম রাহ. (৮৬১ হি.)-এর আলমুসায়ারাহ ও তার ব্যাখ্যাগ্রন্থ আলমুসামারাহ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। নতুন কিতাবসমূহের মধ্যে ড. মুস্তফা আলখান এর আল আকীদাতুল ইসলামিয়া ও শায়েখ জামালুদ্দিন কাসেমীর দালায়েলুত তাওহীদের কথাও বলা যায়।

গ. এ বিষয়ে আবু বকর জাসসাস আলহানাফী (৩৭০ হি.)-এর আলফুসূল ফিলউসূল, কাযী আবুল ওয়ালিদ বাজী আলমালেকী এর আলইহকাম। আবুল মুজাফফর সামআনী আশশাফেয়ী রাহ.-এরকাওয়াতিউল আদিল্লা, বদরুদ্দীন যরকাশী আশশাফেয়ী রাহ.-এর আলবাহরুল মুহীত ফী উসূলিল ফিকহ, সুলায়মান ইবনে আবদুল কাভী আততুফী আলহাম্বলী-এর শরহু মুখতাসারি রওযাতিত তালেবীন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ড. আবদুল করীম আননামলাহ-এর কিতাব আলমুহাযযাব ফী ইলমি উসূলিল ফিকহিল মুকারানযা পাঁচ খন্ডে প্রকাশিত হয়েছে  আলেমদের জন্য মুতালাআযোগ্য।

ঘ. ইলমে আসমাউর রিজাল অনেকগুলো ফন-এর সমষ্টি। আলমাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ (মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে প্রকাশিত) এবং বুহুছুন ফিসসুন্নাতিল মুশাররফা ড. আকরাম ওমারী থেকে এই ইলম সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা অর্জন করা যেতে পারে।

এই ফনের আমলী মুতালাআর সূচনা যে কিতাবগুলো দ্বারা করতে পারেন তা হচ্ছে:

১. খায়রুদ্দীন যিরিকলী-এর আলআলাম

২. হাফেয ইবনে হাজার রাহ.-এর তাকরীবুত তাহযীব

৩. শামসুদ্দীন আযযাহাবী রাহ.-এর আলকাশিফ ও তাযকিরাতুল হুফফায

তাকরীব ও কাশিফ এই দুই কিতাবের শায়খ মুহাম্মদ আওয়ামা-এর তাহকীককৃত এডিশন সংগ্রহ করা উচিত।

ঙ. এ বিষয়ে আলমাদখাল ইলা উলূমিল  হাদীসিশ শরীফ থেকে প্রাথমিক দিক-নির্দেশনা পাওয়া যেতে পারে।

আপনার চিঠির সঙ্গে জবাবী খাম আমি পাইনি এবং চিঠিতে ঠিকানাও ছিল না। এজন্য জওয়াব আলকাউসারে প্রকাশ করে দিচ্ছি । 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ আবদুর রহীম শাহ - উত্তর যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

প্রশ্ন

হযরত আমি নাহু-ছরফ বিভাগের একজন ছাত্র। আমি নাহু-ছরফ মোটামুটি বুঝি। এখন আমাদেরকে মুখতারাত পড়ানো হচ্ছে।

আমার সমস্যা এই যে, অনেক সময় ইবারতের মাজাযী অর্থ মুরাদ হওয়ার কারণে মাফহুম বুঝে আসে না। অতএব কিতাবটি কীভাবে পড়লে উল্লেখিত সমস্যার সমাধান হবে জানালে কৃতজ্ঞ হব।


উত্তর

যদি সমস্যা শুধু মাজাযী মানা না-বোঝাটাই হয়ে থাকে তাহলে আপনি যামাখশরী রাহ.-এরআসাসুল বালাগা থেকে সাহায্য নিতে পারেন। আসলে সঠিকভাবে ইবারত বোঝার জন্য সে ভাষার শব্দ, অর্থ ও শৈলী, সবগুলোর সঙ্গেই পরিচয় থাকা অপরিহার্য। একই সাথে যে ভাষায় বোঝা হচ্ছে তার সঙ্গেও পর্যাপ্ত পরিচয় থাকা জরুরি। ভালো হয় যদি উসূলুত তরজমা  সর্ম্পকেও কিছু ধারণা থাকে।

প্রাথমিক পর্যায়ে মুখতারাত কীভাবে পড়তে হবে সে সম্পর্কে আলকাউসারের এপ্রিল ০৭ সংখ্যায় লেখা হয়েছে। আশা করি, ওই আলোচনাটা পড়ে নিবেন। 

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ রহমতুল্লাহ - জামিআ রাহমানিয়া আরাবিয়া সাত মসজিদ মুহাম্মদপুর, ঢাকা

প্রশ্ন

আমি বর্তমানে জালালাইন জামাতে অধ্যয়ন করছি। এই বৎসর থেকে  আরবীতে পরীক্ষা দেওয়া শুরু করেছি। আলহামদুলিল্লাহ, ভালোই চলছে, তবে আরবীতে উপস্থাপনা ও সাবলীলতা রক্ষা করার ক্ষেত্রে অনেকটাই দুর্বলতা অনুভব করছি। এখন আমার জানার বিষয় হল, কীভাবে মুজাহাদা করলে আমার এই দুর্বলতা দূর হবে। জানালে কৃতজ্ঞ হব।


উত্তর

এ প্রসঙ্গে করণীয় এটাই যে, আপনি আরবীতে উত্তরপত্র লেখা অব্যাহত রাখুন, আরবীতে রোযনামচা লিখুন এবং আরবী সাহিত্যিকদের নির্বাচিত কিছু কিতাব  অল্প অল্প করে পড়ুন। আর দরসী কিতাবসমূহের মুতালাআও আরবী কিতাবসমূহের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখুন। পাশাপাশি দিনে বা রাতে একটি সময় নির্ধারণ করে সহপাঠীদের সঙ্গে আরবীতে কথা বলুন।

শেয়ার লিংক

আব্দুর রহীম - নরসিংদী

প্রশ্ন

আমি  বর্তমানে কাফিয়া জামাতে অধ্যয়নরত। আমাদেরকে জামাতের অন্যান্য কিতাবের সাথে কুরআন তরজমাও পড়ানো হয়। কিন্তু আমার সমস্যা হল, আমি কুরআন শরীফ দেখে তরজমা করতে পারি, কিন্তু অর্থ শুনে আয়াত বলতে পারি না। এখন আমার প্রশ্ন হল, আমি কী  পদ্ধতিতে কুরআন পড়লে অর্থ শুনে  আয়াত বলতে পারব?

প্রাথমিক অবস্থায় কোন তরজমা আমাদের জন্য বেশি উপকারী? পরামর্শ পেলে উপকৃত হব।

 

 

উত্তর

আয়াত তরজমাসহ বারবার পড়ুন। পঠিত সবক সহপাঠীদের সঙ্গে তাকরার করুন এবং তরজমা থেকে আয়াতটি স্মরণ করার চেষ্টা করুন। যদি স্মরণে না আসে তাহলে কুরআন মজীদ খুলে দেখে নিন। এভাবে মশক করতে থাকুন।

আলকাউসারের অক্টোবর-নভেম্বর ০৫ সংখ্যায় অর্থ বুঝে তেলাওয়াত করার যে পদ্ধতি উল্লেখিত হয়েছে সময় পেলে সেভাবেও মেহনত করতে পারেন। ইনশাআল্লাহ উপকার হবে।

কুরআন মজীদের অর্থ বোঝার প্রাথমিক বা সহায়ক অধ্যয়নে মাওলানা আবু তাহের মিসবাহ দামাত বারাকাতুহুম-এর আততরীক ইলাল কুরআন অবশ্যই অন্তর্ভুক্ত রাখুন। পূর্ণ কুরআন মজীদের তরজমার জন্য এমদাদিয়া কুতুবখানা থেকে প্রকাশিত তরজমায়ে কুরআন সংগ্রহ করা উচিত, যা হযরত মাওলানা হেদায়েতুল্লাহ ছাহেব এবং অন্যান্য আকাবিরের তত্ত্বাবধানে প্রস্ত্তত হয়েছে। দ্বিতীয় পর্যায়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের তরজমা পড়া যেতে পারে। 

শেয়ার লিংক

হুসাইন আদনান - জামিয়া ইসলামিয়া পটিয়া

প্রশ্ন

ছোটবেলায় শুনেছি, বই জ্ঞানার্জনের অন্যতম মাধ্যম। তখন থেকেই বইয়ের প্রতি আমার প্রচন্ড আগ্রহ। হাতের কাছে কোনো বই পেলে তা শেষ না করা পর্যন্ত স্বস্তি পাই না। আর বই কেনা তো আমার রীতিমতো নেশা। পছন্দের বই কিনতে আমার খুব ভালো লাগে। বর্তমানেও আমার কাছে প্রায় শখানেকের মতো বই আছে। আমার ইচ্ছা ধীরে ধীরে একটা ব্যক্তিগত পাঠাগার গড়ে তোলা, যা  থেকে আমার পরিবার এবং পরিচিতজনরা উপকৃত হবে। তো জানার বিষয় হল, এর জন্য আমি কী কী উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারি? কোন পথে এগিয়ে গেলে এ কাজ আমার জন্য সহজ হবে?  এবং কোন ধরনের লেখকের কী কী বই সংগ্রহ করতে পারি? দয়া করে এ ব্যাপারে সুপরামর্শ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।


উত্তর

মাশাআল্লাহ, অতি উত্তম সংকল্প! আল্লাহ তাআলা হিম্মত ও তাওফীক দান করুন।

এ প্রসঙ্গে দুটি বিষয় লক্ষণীয় : ১. গ্রন্থ নির্বাচন ২. গ্রন্থ সংগ্রহ।

গ্রন্থ নির্বাচনের বিষয়ে আলআহাম ফালআহাম নীতি অনুসরণ করা ছাড়া উপায় নেই। এরপরেও কুতুবখানায় বিষয়-বৈচিত্র থাকা চাই। কুতুবখানা আয়তনে ছোট হলেও তাতে প্রয়োজনীয় সব বিষয়েরই একটা, দুটা কিতাব থাকা প্রয়োজন।

কী কিতাব এবং তার কোন সংস্করণ সংগ্রহ করবেন-এবিষয়ে তালীমী মুরববী ও কিতাবপত্রের খোঁজখবর রাখেন এমন ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করবেন। নিজেও বিভিন্ন কুতুবখানা : ব্যক্তিগত, প্রাতিষ্ঠানিক ও উন্মুক্ত পাঠাগার ইত্যাদি ঘুরে ঘুরে দেখবেন। তিজারতী কুতুবখানাগুলোর সঙ্গেও যোগাযোগ রাখা চাই। মুতালাআর যওকের সঙ্গে যদি এ বিষয়টা যুক্ত হয় তাহলে আপনার নিজের মধ্যেও গ্রন্থ নির্বাচনের রুচি ও যোগ্যতা তৈরি হবে।

এ বিষয়ে একটা কথা এই যে, কিছু কিছু ব্যক্তিত্ব রয়েছেন যাদের সকল রচনা সংগ্রহ করার মতো (যদি সম্ভব হয়)। বর্তমান সময়ে এ ধরনের ব্যক্তিত্বের মধ্যে হাকীমুল উম্মত থানভী রাহ., শায়খ যাহেদ কাউছারী রাহ., মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ., হযরত মাওলানা আবুল হাসান আলী নাদভী রাহ., হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ মনযুর নুমানী রাহ., হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ নুমানী রাহ., শায়খ আবদুল ফাত্তাহ আবু গুদ্দাহ রাহ., হযরত মাওলানা ইউসুফ লুধিয়ানভী রাহ., হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তকী উছমানী দামাত বারাকাতুহুম, আল্লামা খালিদ মাহমুদ ছাহেব এবং মাওলানা আমীন ছফদার রাহ. বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এরপর আকাবিরের পছন্দনীয় কিতাবসমূহ, বিশেষত যেগুলোকে তারা তাদের মুহসিন কিতাব বলে উল্লেখ করেছেন, অবশ্যই সংগ্রহ করার মতো।

দ্বিতীয় প্রসঙ্গ অর্থাৎ গ্রন্থসংগ্রহের বিষয়ে দুআ ও রোনাযারীকেই মূল উপায় হিসেবে গ্রহণ করুন। আর সহযোগী উপায় হবে মিতব্যয়িতা। উস্তাদে মুহতারাম হযরত মাওলানা আমীন ছফদর ছাহেব অত্যন্ত গরীব মানুষ ছিলেন, কিন্তু তাঁর ব্যক্তিগত কুতুবখানা ছিল বেশ বড়। এ কুতুবখানা তৈরিতে দুআ ও রোনাযারী ছিল তার সবচেয়ে বড় সহায়। তার আদ্দুররুল মানছূর কিতাবের প্রয়োজন ছিল। রাতভর তাহাজ্জুদের নামাযে কেঁদে কেঁদে দুআ করলেন। এর মধ্যে কিছুটা তন্দ্রা এল। স্বপ্নে রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর যিয়ারত হয়ে গেল। ইরশাদ হল কিতাবের ব্যবস্থা হয়ে যাবে। শেষে সেই কিতাবের তো ব্যবস্থা হলই পরবর্তীতে প্রয়োজনমাফিক অন্যান্য কিতাবেরও ব্যবস্থা হতে থাকল।

শায়খ আবদুল ফাত্তাহ  রাহ. কিতাবের জন্য নফল নামাযের মান্নত করতেন : অমুক কিতাব পেলে এত রাকাত নফল নামায পড়ব। কিতাবও সংগ্রহ হত আর নফল নামাযের মাধ্যমে তাকাররুব ইলাল্লাহও হাসিল হত।

হযরতুল উস্তাদ (মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ নুমানী রাহ.) এর ব্যক্তিগত কুতুবখানাও অনেক বড় ছিল এবং তাতে অনেক দুষ্প্রাপ্য কিতাব ও অনেক খন্ডের বড় বড় গ্রন্থও ছিল। কখনও বিকালে তার সঙ্গে সাক্ষাত করতে গেলে জিজ্ঞাসা করতেন, কীভাবে এসেছ, হেটে না বাসে? যেদিন বাসে যাওয়া হত বলতাম, বাসে এসেছি। প্রশ্ন করতেন, কত ভাড়া লেগেছে? বলতাম, চার আনা।তিনি বলতেন, তালিবে ইলমের জন্য চার আনাও অনেক। আমরা যদি চার আনা পেতাম তো সংরক্ষণ করে রাখতাম, আরো চার আনা সংগ্রহ করা গেলে একটা রিসালা খরিদ করতাম।

আসলে মিতব্যয়িতার মাধ্যমে তাঁর ওই কুতুবখানা প্রস্ত্তত হয়েছিল।

বিবাড়িয়ার টানবাজার মসজিদের খতীব ছাহেব তার নিজের ঘটনা আমাকে শুনিয়েছেন যে, তিনি যখন দারুল উলূম দেওবন্দে পড়াশোনা করতেন তখন তার জন্য নির্ধারিত দুই রুটির মধ্যে একটা রুটি খেতেন, অন্য রুটি যদি কেউ নিয়ে যেত এবং তাকে কিছু দিত এটাই ছিল তার কিতাব সংগ্রহের উপায়।

আর যাদেরকে আল্লাহ তাআলা আর্থিক সচ্ছলতা দিয়েছেন এবং একই সঙ্গে কিতাব সংগ্রহের আগ্রহও দিয়েছেন তাদের শোকর গোযারী করা উচিত এবং এই নেয়ামত সঠিকভাবে ব্যবহার করা উচিত। 

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রহমান - বাগেরহাট

প্রশ্ন

 

আমি আসাহহুস সিয়ার কিতাবে দেখেছি যে, রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর আযাদকৃত গোলামদের তালিকায় একটা নাম লেখা হয়েছে سندر   এই নামের উচ্চারণ কী হবে আর তিনি যদি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাওলা (আযাদকৃত গোলাম)  হয়ে থাকেন তবে زنباع  -র মাওলা কীভাবে হলেন?


 

উত্তর

ওই নামের উচ্চারণ ছানদার। অপর নামটি হচ্ছে زِنْبَاع الجُذَامي         

(দেখুন : তাজুল  আরূস, শরহুল কামূস, মুরতাযা যাবীদী; আলআনসাব আবদুল কারীম সামআনী)

ছানদর রা. মূলত যিম্বা রা.-এর গোলাম ছিলেন। বর্ণিত আছে যে, একবার কোনো অপরাধের কারণে যিম্বা রা.  তাকে খাসী  করে দেন। ছানদর রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়ের  করলেন তো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করলেন যে, যাকে অঙ্গহানী করে বিকৃত করা হয় কিংবা আগুনে জ্বালানো হয় সে আযাদ। সে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলেরমাওলা (আযাদকৃত)। (উসদুল গাবা ২/৩৮৩; আলইসাবা ২/৫৬৮-৫৬৯)

উপরোক্ত বর্ণনা থেকে তাকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মাওলা বলে উল্লেখ করার কারণও জানা গেল।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মুঈনুদ্দীন খান - মাদারীপুর

প্রশ্ন

সালাম বাদ আরয এই যে, আমি কাফিয়া জামাতের এক নগণ্য ছাত্র। বড়দের মুখে শুনি, প্রতিদিন একটি করে আরবী শব্দ অভিধান দেখে তাহকীক করবে। এতে আরবী শব্দভান্ডার সমৃদ্ধ হবে এবং আরবী ভাষায় দক্ষতা অর্জন হবে। তাই আমি প্রতিদিন অভিধান নিয়ে বসি। কিন্তু এত শব্দের ভিতরে কোনটা রেখে কোনটা তাহকীক করব ভেবে পাই না। তাই হুজুরের নিকট আরয, বহুল ব্যবহৃত অর্থাৎ কুরআন-হাদীসে যে শব্দগুলো সাধারণত পাওয়া যায় এমন তিরিশটি করে শব্দ প্রতিমাসে পর্যায়ক্রমে মাসিক আলকাউসারে উল্লেখ করলে ভালো হত।


 


উত্তর

আপনি হযরত মাওলানা আবদুর রশীদ নুমানী রচিত লুগাতুল কুরআন সংগ্রহ করুন। এটা যেমন কুরআনের অভিধান তেমনি কুরআনী শব্দমালার সূচিও বটে। এই গ্রন্থের সাহায্যে কুরআনের বহুল ব্যবহৃত শব্দগুলোও চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাঈদুর রহমান বিন সিদ্দীকুর রহমান - ঢাকা

প্রশ্ন

(ক) আমি জালালাইন জামাতের একজন ছাত্র। আমার সবচেয়ে বড় সমস্যা হল (যা ইতিপূর্বে কখনও হয়নি) আমি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে একটি মাদরাসায় ভর্তি হয়েছি। কিন্তু একাকি থাকার কারণে লেখাপড়ায় বিশেষ করে মুতালাআয় কোনোক্রমেই মন বসছে না। যখনই একটু কিতাব নিয়ে বসি তখনই নানারকম চিন্তা আমার মনকে আচ্ছন্ন করে এবং নিজেকে একাকি ভেবে বড় অসহায় বোধ হয়। তখন নিরবে অশ্রু ঝরানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। এককথায় এখানে কোনোভাবেই আমার মন টিকছে না। তাছাড়া নদভী রাহ. বলেছেন, (যার মাফহুম হল) মাদরাসার পড়া যদি তোমার কাছে ভালো না লাগে তাহলে সোজা বাবা-মার কাছে বল যে, এখানে আমার ভালো লাগছে না। আমার জন্য অন্য ব্যবস্থা নিন। কেননা, তোমার মনঃপুত না হলে শুধু শুধু সময় নষ্ট হবে। আর এতে কোনো লাভ নেই। কিন্তু এখন যে অন্য কোথায়ও ভর্তি হওয়ারও সুযোগ নেই কিংবা থাকলেও তা হবে বাবা-মার অসন্তুষ্টিতে। সুতরাং এমনই দুর্যোগময় মুহূর্তে আমি কী করতে পারি? ভাঙ্গা মন নিয়েই কি থেকে যাব? নাকি এর জন্য অন্য কোনো পথ আছে? এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শ দিয়ে উপকৃত করবেন।

খ) আপনার মতো সৌভাগ্যবান ব্যক্তির কথা আমি যখন থেকে শুনেছি তখন থেকেই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা করেছি আপনার মতো বড় না হতে পারলেও আপনার চেয়ে অনেক বড় হব ইনশাআল্লাহ। এমনকি উলূমে হাদীসের উপর দক্ষতা অর্জনের জন্য আপনার সান্নিধ্যে থেকে কিছু ফায়দা হাসিলের চেষ্টা করব। আল্লাহ তাআলা আপনাকে দীর্ঘ নেক হায়াত দান করুন। আমীন।

সুতরাং এখন থেকেই প্রস্ত্ততি হিসাবে কী পন্থা অবলম্বন করতে হবে জানিয়ে উপকৃত করবেন।


 


উত্তর

ক) মুরববীদের মশোয়ারা অনুযায়ী কাজ করুন। আল্লাহ আপনার নুসরত করবেন। আল্লাহ তাআলার কাছে মনোযোগ ও স্থিরতার জন্য দুআ করুন এবং চিন্তাকে বিক্ষিপ্ত করে-এমন সকল কথা, কাজ ও চিন্তা থেকে কষ্ট করে হলেও নিজেকে দূরে রাখুন। দুআ ও মুজাহাদাই সকল সৌভাগ্যের চাবিকাঠি।

كن رجلا رجله في الثرى + وهامة همته في الثريا

খ) এ বছর জালালাইনের সঙ্গে আবু শাহবা রাহ.-এর কিতাব আল ইসরাঈলিয়্যাত ওয়াল মওযূআত ফী কুতুবিত তাফসীর অধ্যয়ন করুন। আগামী রমযানে আল মাদখাল ইলা উলূমিল হাদীসিশ শরীফ ও আলবিযাআতুল মুযজাত (মুকাদ্দিমায়ে মিরকাতুল মাফাতীহ, মুলতান থেকে প্রকাশিত সংস্করণ) অধ্যয়ন করুন। এরপর আলমাদখাল-এর পরামর্শ অনুযায়ী ধীরে ধীরে সামনে অগ্রসর হোন। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন।

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ শাহ কাউসার আহমদ - ফজিলত ২য় বর্ষ, জামেয়া কাসিমুল উলূম দরগাহ মাদরাসা, সিলেট

প্রশ্ন

আশা করি আল্লাহর অশেষ রহমতে ভালই আছেন। আমি এ বছর মিশকাত জামাতে লেখাপড়া করব আমি একজন মাঝারি ধরনের ছাত্র। এ জামাতের কিতাবাদি কীভাবে অধ্যয়ন করলে আমার উপকার হবে সে বিষয়ে জানার খুব আগ্রহ।

দয়া করে আপনার কিছু সময় আমার জন্য ব্যয় করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদেরকে দিয়ে দ্বীনের বিপুল খেদমত করার তাওফীক দান করুন। আমীন।


 


উত্তর

এই জামাতের সব কিতাবের ব্যাপারেই আলকাউসারের বিভিন্ন সংখ্যায় লেখা হয়েছে। মেহেরবানী করে পিছনের সংখ্যাগুলোর শিক্ষার্থীদের পাতায় দেখুন। ইনশাআল্লাহ আপনার কাঙ্খিত তথ্য পেয়ে যাবেন।

একটি কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করছি যে, আপনি প্রতিটি হাদীসের তরজমা ও মাফহুম পরিষ্কারভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন। মাওলানা মনযুর নুমানী রাহ.-এর মাআরিফুল হাদীসমুতালাআয় রাখবেন। তিনি হাদীসের ভাব ও শিক্ষা যেভাবে সহজ-সরল ভাষায় বর্ণনা করেছেন আপনিও হাদীসের মাফহুম ঐভাবে বোঝার চেষ্টা করবেন। হাদীসের নির্দেশনাগুলো নিজের আমলী যিন্দেগীতে বাস্তবায়িত করার চেষ্টা করবেন। এরপরে অতিরিক্ত বিষয়, বিভিন্ন ফায়েদা, ইখতিলাফ সমূহ ও দলীল-প্রমাণের স্থান রাখবেন। এ বিষয়গুলো যতটুকু পারা যায় তাতেই আলহামদুলিল্লাহ, বাকি পরে দেখা যাবে।

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - ঢাকা

প্রশ্ন

 

ক) মানতিক সম্পর্কে কেউ বলেন, এর কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু শুধু সময় নষ্ট করা। আবার অনেকে এর পিছনে যথেষ্ট মুজাহাদা করে, মেধা খাটায়। আর আসল কুরআন ও হাদীস নিয়ে গবেষণার সময় হলে পড়া শেষ হয়ে যায়। তাহলে এ শিখার কী অর্থ? কেউ কেউ বলেন, মুহাক্কিক আলেম হওয়ার জন্য বিষয়টির যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। কুরআন-হাদীসের সূক্ষ্ণ তত্ত্ব ও ইঙ্গিত বুঝতে সহায়ক। তাই বিষয়টি অতীব প্রয়োজন।

এখন হযরতের কাছে জানার বিষয় হল, বিষয়টির বাস্তবতা কতটুকু? কতটুকু অর্জন করা জরুরি? সুন্দর পরামর্শ প্রার্থী। 

খ) মানতিকের কিতাবগুলোতে কিছু বহছ আছে যথা- 

كل ج ب ـ موجهات عكس نقيض 

ইত্যাদি খুরাফাতের শামিল হবে কি না?

গ) আমাদের জামাতে কুতবী-এর তাছদীকাত অংশ পড়ানো হয়। কিতাবটি কোন পদ্ধতিতে পড়ব জানিয়ে কৃতজ্ঞ করবেন।

ঘ) আমার মধ্যে তাহকীকের মাদ্দা কম। কোনো বিষয় মা লাহা ওয়া মা আলাইহা বুঝার উদ্দীপনা নেই। মুতালাআয় মনোযোগের বেশ অভাব। ভাসা ভাসা পড়ি। উদ্দেশ্য থাকে শুধু কিতাব শেষ করা। সময় নির্ধারণ করে প্রায় সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করে ফেলি। কিন্তু অনেক জায়গা কাঁচা থেকে যায়। আমার কী করণীয়? জানিয়ে বাধিত করবেন।


 

উত্তর

 

ক, খ ও গ) মানতিক সম্পর্কে এই বিভাগে ইতোপূর্বে অনেক কিছু লেখা হয়েছে। সংক্ষেপে আপনাকে শুধু এটুকুই বলতে চাই যে, আপনি শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ রাহ.-এর কিতাব 

العلماء العزاب الذين آثروا العلم على الزواج

  এর মধ্যে ইমাম নববী রাহ.-এর জীবনী হাশিয়াসহ মুতালাআ করুন এবং হাকীমুল উম্মত রাহ.-এর কিতাবসমূহ থেকে নির্বাচিত রেসালা উলূম ওয়া ফুনুন ও  নেসাবে তালীম থেকে মানতিক বিষয়ক আলোচনা মুতালাআহ করুন। ইনশাআল্লাহ আপনি ভারসাম্যপূর্ণ ও অনুসরণীয় রায় পেয়ে যাবেন। তর্ক বাদ দিয়ে কাজ করা উচিত। সময় খুবই মূল্যবান, অযথা তর্ক-বিতর্ক করে সময় ব্যয় করা কাম্য নয়।

ঘ) এভাবেই মুতালাআ করতে থাকুন। তবে প্রত্যেক জামাতের বুনিয়াদী কিতাবগুলোর কিছু জায়গা থেকে নিজের তালীমী মুরববীকে শুনিয়ে কিতাবগুলো আপনার ভালোভাবে বুঝে আসছে কিনা  তা নিশ্চিত করবেন। বুনিয়াদী কিতাবে দুর্বলতা থাকা উচিত নয়। মেহনত করে মজবুত করে নেওয়া জরুরি।


 

শেয়ার লিংক