আব্দুল আলীম - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪২৮২. প্রশ্ন

জনাব, আমাদের দেশে এবং দেশের বাহিরেও অনেক লোককে দেখা যায় যে, তারা আবা পরিধান করে। অধিকাংশ ব্যবহারকারীকে দেখা যায় যে তাদের টাখনুর নিচে ঝুলে থাকে। অথচ আমরা জানি যে, টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান করা নিষেধ। আবা কি এ হুকুমের অন্তর্ভুক্ত নয়?
 

উত্তর

আবাসহ সব ধরনের পোষাকই পুরুষের জন্য টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরা নাজায়েয। একটি হাদীসে লুঙ্গি, জামা এবং পাগড়িকেও টাখনুর নিচে ঝুলিয়ে পরতে নিষেধ করা হয়েছে। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

الْإِسْبَالُ فِي الْإِزَارِ، وَالْقَمِيصِ، وَالْعِمَامَةِ، مَنْ جَرّ مِنْهَا شَيْئًا خُيَلَاءَ، لَمْ يَنْظُرِ اللهُ إِلَيْهِ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

লুঙ্গি, জামা এবং পাগড়ির ক্ষেত্রে (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে পরার একই বিধান। যে ব্যক্তি এগুলোর কোন একটি অহংকার বশত (টাখনুর নিচে) ঝুলিয়ে পরবে কিয়ামতের দিন আল্লাহ তার দিকে দৃষ্টি দিবেন না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪০৯১)

এছাড়া বিভিন্ন হাদীসেও এ ব্যাপারে কঠিন ধমকি এসেছে। তাই পুরুষের জন্য শরীরের কোনো কাপড় যেন টাখনুর নিচে চলে না যায় সে ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে।

-মুআত্তা ইমাম মালেক, হাদীস ৩৩৯০; শরহে মুসলিম, নববী ১৪/৬২; আলইসতিযকার ৭/৩১৪; বযলুল মাজহুদ ১৬/৪২৪

শেয়ার লিংক

খাইরুল বাশার - হোমনা, কুমিল্লা

৪২৮১. প্রশ্ন

মুহতারাম, ঈদের ক’দিন পূর্বে কুরবানীর জন্য একটি গাভী ক্রয় করি। কিন্তু পরে বুঝতে পারি যে, এটি গর্ভবতী এবং প্রায় প্রসব আসন্ন। ফলে অন্যান্য শরীকগণ এটা কুরবানী দিতে অপছন্দ করে। তাই আমরা অন্য একটি পশু ক্রয় করে কুরবানী করি। এখন জানার বিষয় হল, দ্বিতীয় পশু দ্বারা কুরবানী কি সহীহ হয়েছে? গর্ভবতী পশুর কুরবানীর বিধান কী? আর প্রথম পশুটা কি আমরা বিক্রি করতে পারব? জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

প্রসব আসন্ন গর্ভবতী পশুটি কুরবানী না করে ঠিকই করেছেন। কেননা এধরনের পশু কুরবানী করা মাকরূহ। আর এ অবস্থায় অন্য পশু দিয়ে কুরবানী করা সহীহ হয়েছে। যেহেতু অন্য পশু কুরবানী করেছেন তাই এ পশুটি চাইলে বিক্রিও করতে পারেন বা নিজেরাও রেখে দিতে পারেন। তবে দ্বিতীয় পশুর মূল্য যদি প্রথম পশুর চেয়ে কম হয়ে থাকে তাহলে যে পরিমাণ টাকা কম হয়েছে সে পরিমাণ টাকা সদকা করে দেওয়া উত্তম হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৩; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৬৭; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৭১; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৪৬০; ইমদাদুল আহকাম ৪/২৭৮

শেয়ার লিংক

সাজিদুল ইসলাম - হযরতপুর, কেরানীগঞ্জ

৪২৮০. প্রশ্ন

আমি একদিন মুরগি জবাইয়ের সময় বিসমিল্লাহ বলার পর একজনকে বললাম, ‘ভাল করে ধর’ জবাইয়ের পর উপস্থিত একজন বলে উঠল, বিসমিল্লাহ বলার পর কথা বলার কারণে বিসমিল্লাহ বাতিল হয়ে গেছে। আর নতুন করে বিসমিল্লাহ না বলে জবাইয়ের কারণে মুরগিটি খাওয়া হালাল হবে না। মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, তার কথা কি ঠিক? এই মুরগিটি কি খাওয়া যাবে না?

 

 

উত্তর

না, ঐ ব্যক্তির কথা ঠিক নয়। উক্ত ক্ষেত্রে পুনরায় বিসমিল্লাহ না বললেও জবাই সহীহ হয়েছে এবং সে মুরগিটি খাওয়া যাবে। কারণ বিসমিল্লাহ বলার পর দু-একটি কথা বললে কোনো সমস্যা নেই। এক্ষেত্রে জবাই সহীহ হবে। এছাড়া এখানে আপনি যে ছোট বাক্যটি বলেছেন তা ছিল জবাই সংক্রান্ত। ভিন্ন কোনো কথা বলেননি। অবশ্য জবাইকারী ব্যক্তি যদি বিসমিল্লাহ বলার পর দীর্ঘ সময় কথা বলে কিংবা ভিন্ন কোনো কাজে ব্যস্ত হয়ে যায় তাহলে এক্ষেত্রে নতুন করে বিসমিল্লাহ বলা জরুরি। আগের বলা ধর্তব্য হবে না।

-কিতাবুল আছল ৫/৩৯৮; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৩৬৯; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৬/৩০৭; আলবাহরুর রায়েক ৮/১৬৮; রদ্দুল মুহতার ৬/৩০২

শেয়ার লিংক

আবু সাইফুল্লাহ - গাজীপুর

৪২৭৯. প্রশ্ন

এক কোম্পানী তাদের মাল বিক্রির জন্য ডিলার নিয়োগ দিয়েছে। কোম্পানী জামানত সরূপ ডিলারদের নিকট হতে ৫০,০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) করে টাকা চেয়েছে। হিসাব করে দেখা গেছে পণ্য বিক্রির পর প্রত্যেক পণ্য হতে ডিলারের ৭ টাকা করে লাভ থাকবে। একজন ডিলার তার নিকট জামানতের টাকা না থাকায় আমার নিকট ৫০,০০০/- টাকা ঋণ চেয়েছেন। আমি তাকে বলেছি, টাকা দিতে পারি এই শর্তে যে, প্রত্যেক বিক্রিকৃত পণ্য হতে আমাকে ১ টাকা করে লাভ দিবেন।

আমি সম্মানিত মুফতী সাহেব হতে জানতে চাই উক্ত পদ্ধতিতে আমার টাকা দেয়া শরীয়তসম্মত হবে কি না? যদি না হয় তাহলে এমন কোনো পদ্ধতি আছে কি না, যে পদ্ধতিতে টাকা দিলে আমিও কিছু লাভবান হতে পারি।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ডিলারের জামানতের জন্য ঋণ প্রদাণ করে বিনিময়ে লাভের নামে কিছু নেওয়া জায়েয হবে না। এটি সুস্পষ্ট সুদ ও হারাম বলে গণ্য হবে। তাই এ ধরনের চুক্তি থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

-আসসুনানুল কুবরা, বাইহাকী ৫/৩৫০; রদ্দুল মুহতার ৫/১৬৬

শেয়ার লিংক

সুহাইল হায়দার - আদিতমারী, লালমনিরহাট

৪২৭৮. প্রশ্ন

আমি একজন অটো চালক। গ্রামে ভাড়ায় অটো চালাই। ভাড়া বাবদ মালিককে ৩০০ টাকা করে দৈনিক দিতে হয়। গরমের মৌসুমে আমাদের এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুত চলে যায়। যার কারণে অটোতে ভালভাবে চার্জ হয় না। তাই গ্রামের অটোচালকরা সকলে মিলে জেনারেটরের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে।

জেনারেটরের মাধ্যমে চার্জ দেওয়ার কারণে বিদ্যুতের তুলনায় অনেক বেশি খরচ হয়। এতে মালিকের ভাড়ার টাকা ও চার্জ-বিল পরিশোধের পর কামাই বলতে তেমন কিছু থাকে না।

তাই আমি আমার মালিকের সাথে এভাবে চুক্তি করেছি যে, জেনারেটরের চার্জ-বিল বাদ দিয়ে সারাদিনের কামাইয়ের যা অবশিষ্ট থাকবে তা আমরা সমান দুই ভাগে বণ্টন করে নিব। আমার প্রতি মালিকের আস্থা থাকায় তিনি এতে সম্মত হয়েছেন।

হুযুরের নিকট জানতে চাচ্ছি উক্ত পদ্ধতিটি কি বৈধ হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অটোমালিকের সাথে আপনার উক্ত চুক্তি বৈধ হয়নি। কেননা চালকের জন্য মালিকের সাথে লভ্যাংশ বণ্টনের চুক্তি করা বৈধ নয়। চালক যদি অটো ভাড়ায় নেয় তাহলে মালিক তার অটোর নির্ধারিত ভাড়াই পাবে। আর এর অতিরিক্ত যা থাকবে তা চালক পাবে। অতএব আপনার করণীয় হল, নির্দিষ্ট টাকার বিনিময়ে অটো ভাড়া নেওয়া। দুই-এক মাস জেনারেটরের বিল দেয়ায় আপনার নিজের অনুমান হয়ে যাবে কত টাকা ভাড়া দিলে আপনার জন্য অটো চালানো লাভজনক হবে। সে হিসেবেই মালিককে রাজি করে অটো ভাড়া নিতে চেষ্টা করবেন।

প্রকাশ থাকে যে, এ ক্ষেত্রে অটোমালিক চাইলে আপনার সাথে নির্দিষ্ট পারিশ্রমিকের ভিত্তিতেও চুক্তি করতে পারে। সেক্ষেত্রে আপনি নির্ধারিত পারিশ্রমিক পাবেন। আর অটোর সকল আয় মালিক পাবে।

-মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৫০৯৫; কিতাবুল আছল ৪/১৪০; আলমাবসূত, সারাখসী ২২/৩৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৩৪; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা: ৪৫০

শেয়ার লিংক

মাসরুর আদনান - লালমনিরহাট

৪২৭৭. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ধানের উপর টাকা নেওয়ার প্রচলন রয়েছে। অর্থাৎ ধানের মৌসুমের শুরুতে চাষিরা নগদ টাকার প্রয়োজনে অগ্রিম ধান বিক্রি করে নগদ টাকা নেয়। আর ধান কাটার পর তা পরিশোধ করে। এলাকায় আমাদের একটি সমিতি রয়েছে। সে সমিতির টাকা থেকে আমরাও একজন হতে ৫০০ টাকা দরে ২০ মন ধান কিনেছিলাম। ধান কাটার পর তিনি আমাদেরকে ১০মন ধান দিয়ে বললেন, এবার ধান কম হয়েছে তাই পুরোটা পরিশোধ করতে পারবো না।

আমরা চাপ প্রয়োগ করলে সে বাকি ধানের পরিবর্তে একটি বকরীর বাচ্চা দিতে চাচ্ছে। যার আনুমনিক মূল্য ৬-৭ হাজার টাকা। আমাদের সমিতির সবাই বিষয়টিতে সম্মত রয়েছে।

জানার বিষয় হল, এভাবে ধানের পরিবর্তে বকরীর বাচ্চা নেওয়া জায়েয হবে কি না?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ধানের পরিবর্তে বকরীর বাচ্চা নেওয়া জায়েয হবে না। হাদীস শরীফে এসেছে, হযরত আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন,

مَنْ أَسْلَفَ فِي شَيْءٍ فَلَا يَصْرِفْهُ إِلَى غَيْرِهِ.

যদি কেউ কোনো পণ্য অগ্রিম মূল্য দিয়ে ক্রয় করে তাহলে  সে যেন ক্রয়কৃত পণ্যের পরিবর্তে অন্যকিছু গ্রহণ না করে। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৩৪৬৮

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন,

إِذَا سَلّفْتَ فِي شَيْءٍ فَلَا تَأْخُذْ إِلّا رَأْسَ مَالِكَ أَوِ الّذِي سَلّفْتَ فِيهِ.

যদি তুমি অগ্রিম মূল্যে কোনো পণ্য ক্রয় কর তাহলে সে বস্তুটিই গ্রহণ কর অথবা (ঐ বস্তু দিতে সক্ষম না হলে) যে পরিমাণ অর্থ দিয়েছিলে তা নিয়ে নাও। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৪১০৬)

অতএব, ধানের পরিবর্তে বকরী নেওয়া যাবে না। নিয়ে থাকলে তা ফেরত দিয়ে পূর্ব চুক্তি অনুযায়ী ধানই নিতে পারবে। বিক্রেতা চাইলে বাজার থেকেও নির্ধারিত পরিমাণ ধান কিনে দিতে পারবে। আর ধান না নিলে মূল টাকাই ফেরত নিবে। এর বিনিময়ে অন্য কিছু নেওয়া বা অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয হবে না।

-কিতাবুল আছল ২/৩৮১; আলমাবসূত, সারাখসী ১২/১৪৯; বাদায়েউস সনায়ে ৪/৪৩৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১৮৬; আদ্দুররুল মুখাতার ৫/২১৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মকবুল হোসেন - কলাতিয়া, কেরাণীগঞ্জ

৪২৭৬. প্রশ্ন

আমি ধানের ব্যবসা করি। নিজে কিছু ধান চাষ করি। আর ধান কাটার কয়েকদিন আগে যখন খেতে ধান পরিপূর্ণ হয়ে যায় তখন কিছু খেতের ধান গাছসহ ক্রয় করে নিই। কথা থাকে ১০/১২ দিন পর ধান কাটার সময় হলে ধান কেটে নেব। নির্ধারিত মূল্য পরিশোধ করে দেই। আর সময়মত ধান কেটে নেই। এভাবে ব্যবসা করতে শরীয়তের দৃষ্টিতে কোনো সমস্যা আছে কি?

 

উত্তর

ধান হয়ে যাওয়ার পর জমিতে থাকা অবস্থায় গাছসহ তা ক্রয়-বিক্রয় জায়েয। সুতরাং এভাবে ধান ক্রয় করে সময় হওয়ার পর তা কেটে নিলে কোনো সমস্যা হবে না।

-ফাতহুল কাদীর ৫/৪৮৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/১০৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩৮৪; শরহুল মাজাল্লা, আতাসী ২/৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫৫৬; কেফায়াতুল মুফতী ১১/৯৫

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ খালেদ - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪২৭৫. প্রশ্ন

আমাদের গ্রামে মাঝে মাঝে ক্রিকেট খেলা অনুষ্ঠিত হয়। কখনো আমাদের গ্রামেরই দুই দলের মাঝে, কখনো অন্য গ্রামের দলের সাথে। তো খেলা শুরুর আগেই প্রত্যেক খেলোয়ার নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা জমা রাখে। খেলায় যে দল বিজয়ী হয় সেই দলকে পূর্ণ জমা টাকা দিয়ে দেওয়া হয়। সকলের সম্মতিতেই এটি হয়। আমাদের জানামতে এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু সেদিন আমার ভার্সিটির এক দ্বীনদার বন্ধু বলল, এটি নাকি জায়েয নেই। তার কথা শুনে আমি একটু দ্বিধায় আছি। মুফতী সাহেবের কাছে এ বিষয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত জানতে চাই।

 

উত্তর

আপনার ঐ বন্ধু ঠিকই বলেছেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিযোগীদের থেকে টাকা নিয়ে তা বিজয়ী দল বা ব্যক্তিকে দিয়ে দেওয়া নাজায়েয। এটি এক ধরনের কিমার তথা জুয়া। তাই এমনটি  করা থেকে বিরত থাকতে হবে। তবে প্রতিযোগীদের বাইরের কেউ যদি বিজয়ী দল বা অন্য কাউকে পুরস্কারস্বরূপ কোনো কিছু দেয় তবে এই পুরস্কার দেওয়া ও গ্রহণ করা জায়েয হবে।

প্রকাশ থাকে যে, মুসলমানদের খেলাধুলা তথা শরীরচর্চা ও বিনোদন অবশ্যই শরীয়তসম্মত পন্থায় হওয়া আবশ্যক। শরীয়তসম্মত না হলে সে খেলায় কোনোভাবেই পুরস্কার দেওয়া বৈধ নয়। কেননা এতে নাজায়েয কাজে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

-সূরা মায়েদা (৫) : ৯০; তাফসীরে ইবনে কাসীর ২/১৪৬; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ৭/৩৬৯; খুলাছাতুল ফাতাওয়া ৪/৩৭৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৭/৭১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪০২

শেয়ার লিংক

ঈসা আবদুল্লাহ - নেত্রকোণা

৪২৭৪. প্রশ্ন

আমার একটি ব্যবহৃত ল্যাপটপ আমার এক প্রতিবেশীর নিকট ৪০,০০০/- টাকায় বিক্রি করেছিলাম। তিনি ২০,০০০/- টাকা নগদ দিয়েছেন। আর বাকি ২০,০০০/- টাকা পরিশোধের জন্য দুই মাস সময় নিয়েছেন। কিন্তু দুই মাসে মাত্র ১৪,০০০/- টাকা পরিশোধ করতে পেরেছেন এবং এক মাস সময় চেয়ে নিয়েছেন। ঘটনাক্রমে সেই মাসেই পারিবারিক কলহের মামলায় আসামী হয়ে আত্মগোপন করেন। এর কিছুদিন পর আমার সাথে ফোনে যোগাযোগ করে বলেন যে, আমি বাকি ছয় হাজার টাকা মনে হয় পরিশোধ করতে পারব না। তুমি চাইলে ল্যাপটপটি ৩০,০০০/- টাকায় কিনে নিতে পারো এবং তোমাকে পরিশোধ করা ৩৪,০০০/- টাকার মধ্যে ৪০০০/- টাকা রেখে বাকি ৩০,০০০/- টাকা আমার স্ত্রীর নিকট পৌঁছে দিও। ল্যাপটপটি আমার বাড়িতেই রাখা আছে। জানার বিষয় হল, আমি কি আমার ল্যাপটপটি তার নিকট হতে পুনরায় ক্রয় করতে পারব?

 

উত্তর

ল্যাপটপটির আংশিক মূল্য যেহেতু বাকি আছে তাই এ অবস্থায় বিক্রিত মূল্যের চেয়ে কমদামে আপনার জন্য ল্যাপটপটি ক্রয় করা জায়েয হবে না। লোকটি বাকি টাকা পরিশোধে অক্ষম হলে এবং আপনি ল্যাপটপ নিতে চাইলে গৃহিত পূর্ণ মূল্য ফেরৎ দিয়ে তা নিতে পারবেন।

-মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, হাদীস ১৪৮১২; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/৩৮১; বাদায়েউস সনায়ে ৪/৪২৬; ফাতহুল কাদীর ৬/৬৮; আলবাহরুর রায়েক ৬/৮৩; রদ্দুল মুহতার ৫/৭৪

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওয়াজ উদ্দীন - শাহজাহানপুর, ঢাকা

৪২৭৩. প্রশ্ন

আমি একজনের কাছে একটি গরু বর্গা দিলাম। এই শর্তে যে, গরুটি যে দামে ক্রয় করলাম তা আমার থাকবে। আর পালনকারী পালার পর যে দামে বিক্রয় করা হবে তা থেকে আমার ক্রয়ের টাকা রেখে যা থাকবে তা থেকে এক ভাগ আমার আর এক ভাগ পালনকারীর। এইভাবে বর্গা দেওয়া জায়েয কি না? অনেকে বলে জায়েয। আবার অনেকে বলে জায়েয নয়। যদি জায়েয না হয় কী কী কারণে জায়েয হবে না? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

 

উত্তর

গরু বর্গার প্রশ্নোক্ত পদ্ধতিটি শরীয়তসম্মত নয়। কারণ লালন-পালনের পর গরুটি কত দামে বিক্রি হবে এবং তাতে কত লাভ হবে তা জানা নেই। ফলে যে পালবে তার খরচাদি বাদ দিয়ে সে কিছু পাবে কি না, এবং পেলেও কম-বেশি কত পাবে এর কিছুই নিশ্চিত নয়। তাই কখনো দেখা যায়, যে পালবে সে তার ন্যায্য পরিশ্রমিক ও খরচাদি থেকেও বঞ্চিত হয়ে যায়। যা শরীয়তনিষিদ্ধ আলগারারের অন্তর্ভুক্ত।

উল্লেখ্য যে, কাউকে গরু পালতে দিলে তা নির্ধারিত পারিশ্রমিকের বিনিময়েই দিতে হবে। সুতরাং লালনকারী তার নির্ধারিত পারিশ্রমিকের হকদার হবে। আর পুরো গরু মালিকের বলে ধর্তব্য হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৩৯৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৩৫; রদ্দুল মুহতার ৪/৩২৭; আলমুগনী, ইবনে কুদামাহ হাম্বালী ৮/১৫

শেয়ার লিংক

ইব্রাহীম খলীল - তিস্তা

৪২৭২. প্রশ্ন

আমাদের গ্রাম তিস্তা নদীর পারে অবস্থিত। গ্রামের জামে মসজিদটি আনুমানিক ১২ বছর পূর্বে নদী ভাংগনে হারিয়ে যায়। এরপর থেকে গ্রামের লোকেরা পাশের এলাকার মসজিদে নামায পড়তে থাকে। পাশের এলাকার মসজিদটি বড় এবং নিকটে হওয়ার কারণে নতুন করে আর মসজিদ নির্মাণ করা হয়নি।

গত বৎসর আমাদের গ্রাম থেকে সামান্য দূরে তিস্তা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা হয় এবং সে লক্ষ্যে আমাদের গ্রামের উপর দিয়ে বড় করে রাস্তা নির্মাণ করা হয়। এতে করে নদীর হারিয়ে যাওয়া অনেক জমির সাথে মসজিদের জমিটিও উদ্ধার হয়।

ইতিমধ্যেই ব্রিজকে কেন্দ্র করে ঐ রাস্তার উপর বেশ কিছু দোকানপাট হয়ে গেছে এবং ব্রিজটি শহরের পাশে হওয়ার কারণে ভবিষ্যতে সেখানে বড় আকারের মার্কেট হতে পারে।

যেহেতু মসজিদের জমিটি রাস্তার পাশেই অবস্থিত, তাই এলাকাবাসী মসজিদটির পুনঃনিমার্ণের সময় নিচতলাকে মার্কেটের জন্য রেখে দ্বিতীয় তলা থেকে মসজিদ নির্মাণ করতে চাচ্ছেন। হুজুরের নিকট জানতে চাচ্ছি, এভাবে মসজিদের নিচতলাকে মার্কেটের জন্য রেখে দেওয়া যাবে কি?

 

উত্তর

পুরাতন মসজিদের ঐ জায়গা উদ্ধারের পর তাতে নিচতলা থেকেই মসজিদ করতে হবে। পুনঃনির্মাণের সময় নিচতলায় মার্কেট বানানো জায়েয হবে না। কেননা কোনো স্থানে মসজিদ হয়ে গেলে তা উপর-নিচ পুরোটাই মসজিদের জন্য নির্ধারিত হয়ে যায়। কোনো কারণে মসজিদটি অনাবাদ হয়ে গেলেও স্থানটি মসজিদ হিসেবেই বহাল থাকে।

-আলবাহরুর রায়েক ৫/২৫১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৪৫৮; ফাতাওয়া কাযীখান ৩/২৮৮; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৩৫৮

শেয়ার লিংক

আলমগীর হুসাইন - বাকৃবি, ময়মনসিংহ

৪২৭১. প্রশ্ন

১. আমি একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের একাউন্ট বিভাগে কর্মরত। এ বছর ব্যাংকের কিছু জটিলতার কারণে সকল কর্মকর্তার জুন মাসের সেলারি রমযানের পূর্বেই (মে মাসের শেষে)  একসাথে ব্যাংক থেকে উঠিয়ে আমার কাছে রাখা হয়। এর মধ্যে আমার সেলারিও ছিল। এমডি স্যারের নির্দেশ ছিল, নির্ধারিত সময়ে (জুনের ২০ তারিখে) সকল কর্মকর্তার সেলারি পরিশোধ করা হবে। এর পূর্বে কারো সেলারি দেওয়া যাবে না। সে হিসেবে ২০ তারিখেই সকলের সেলারি দেয়া হয়। আমার সেলারিও ২০ তারিখেই নিয়েছি। এর পূর্বে প্রায় একমাস টাকাটা আমার কাছেই ছিল। তবে এমডি স্যারের নির্দেশ অনুযায়ী আমি তা ২০ তারিখের পূর্বে ব্যবহার করিনি।

আমি যাকাতের হিসাব করি রমযানের ১ তারিখে। রমযানের ১ তারিখে (২৮শে মে) জুন মাসের সেলারি আমার কাছেই ছিল। তবে ২০শে জুনের পূর্বে তা ব্যবহারের অনুমতি ছিল না।

এখন আমার প্রশ্ন হল, গত বছরের যাকাতের হিসাবে জুন মাসের সেলারি হিসাব হবে কি না?

২. কয়েকজনর কাছে আমার বেশকিছু টাকা পাওনা আছে। এর মধ্যে কিছু টাকা ফেরৎ পাওয়া নিশ্চিত। আর কিছু টাকা ফেরৎ পাওয়া না পাওয়া উভয় সম্ভবনা আছে। কিছু টাকা ফেরৎ না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

যাকাতের হিসাব করার সময় পাওনা টাকাগুলোর হিসাব করতে হবে কি না? যে টাকাগুলো ফেরত না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি সেগুলোরও কি হিসাব করতে হবে? বিস্তারিত জানানোর সবিনয় অনুরোধ করছি।

উত্তর

না, গত বছরের যাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে জুন মাসের বেতন হিসাব করতে হবে না। কেননা রমযানের ১ম তারিখ (২৮শে মে) আপনারসহ সকল কর্মকর্তার জুন মাসের বেতনের টাকা আপনার কাছে আমানত হিসেবে ছিল। কর্তৃপক্ষ যেহেতু ২০ই জুনের পূর্বে তা ব্যবহারের অনুমতি দেয়নি তাই ঐ টাকাগুলো কর্তৃপক্ষের মালিকানাতেই ছিল। ঐ টাকার যাকাত তাদেরকেই আদায় করতে হবে, আপনাকে নয়।

২. যাকাতের হিসাবের ক্ষেত্রে মানুষের কাছে পাওনা টাকা-পয়সারও হিসাব করতে হয়। তবে কোনো পাওনা টাকা যদি এমন হয়, যা ফেরৎ না পাওয়ার সম্ভাবনাই প্রবল হয়ে যায় তাহলে সে টাকার যাকাত আদায় করতে হবে না। এই ঋণ পরে কখনো যদি হস্তগত হয় তাহলে সে সময় থেকে এর যাকাত দিবে। বিগত বছরের যাকাত আদায় করতে হবে না। -বাদায়েউস সনায়ে ২/৮৮; ফাতাওয়া কাযীখান ১/২৫২; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২৫৩; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৬

শেয়ার লিংক

উম্মে আফীফ - ফরিদপুর

৪২৭০. প্রশ্ন

গত রমযানে আমি আমার বাবার বাড়ীর এলাকায় এক দরিদ্র মহিলাকে যাকাতের কাপড় দেই। তার স্বামী পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও শয্যাশায়ী। খুবই অভাব অনটনে তাদের সংসার চলে। কিন্তু পরে তার সাথে কথা প্রসঙ্গে জানতে পারি, কিছুদিন আগে তার স্বামী পঞ্চাশ হাজার টাকার সরকারী অনুদান পেয়েছে, যার পুরোটাই সে সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য ব্যাংকে জমা রেখেছে।

আমার প্রশ্ন, এ অবস্থায় কি আমার যাকাত আদায় হয়েছে? না হয়ে থাকলে এখন আমার কী করণীয়? উল্লেখ্য, তার স্বামীর আর্থিক অনুদান প্রাপ্তির বিষয়টি যাকাত প্রদানের সময় আমার জানা ছিল না।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার যাকাত আদায় হয়ে গেছে। কেননা আপনি তাকে দরিদ্র মনে করেই যাকাত দিয়েছেন। এছাড়া উক্ত মহিলার স্বামী যাকাতের নেসাব সমপরিমাণ সম্পদের মালিক হলেও মহিলা তো দরিদ্র। তাই মহিলাকে যাকাত দেওয়া ঠিক হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে, স্বামী যদি স্ত্রীর যথাযথ ভরণ-পোষণ করে তবে তার জন্য বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যাকাত গ্রহণ করা উচিত নয়।

-কিতাবুল আছল ২/১২৪; বাদায়েউস সনায়ে ২/১৬৩, ১৫৮; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/২১৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৮৯

শেয়ার লিংক

মোস্তফা কামাল - উত্তরা, ঢাকা

৪২৬৯. প্রশ্ন

মুহতারাম, আমার বড় ভাই একজন ধনাঢ্য ব্যক্তি। তার এক ছেলে মাদরাসায় পড়াশুনা করে এবং সে বালেগ। কিন্তু ছেলে বাবার অমতে সম্পূর্ণ নিজের ইচ্ছায় মাদরাসায় পড়াশুনা করার কারণে তিনি ছেলের পড়াশুনার খরচ বহন করেন না। আর এ ব্যাপারে তিনি খুবই কঠোর। এহেন পরিস্থিতিতে আমি কি ভাতিজার পড়াশুনার খরচের জন্য তাকে যাকাত দিতে পারব?

 

উত্তর

আপনার বড় ভাই যদি তার উক্ত ছেলের খরচাদী না দেয় এবং ছেলের নিকটও নেসাব পরিমাণ সম্পদ না থাকে তাহলে আপনি তাকে যাকাত দিতে পারবেন। কেননা ভাতিজাকে যাকাত দেওয়া জায়েয। বরং হাদীসের ভাষ্য অনুযায়ী আপনি এক্ষেত্রে দ্বিগুণ ছাওয়াব পাবেন। সাদকার ছাওয়াব এবং আত্মীয়তার হক আদায়ের ছাওয়াব।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ১৪৬৬, সহীহ মুসলিম, হাদীস ১০০০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৪২; বাদায়েউস সনায়ে ২/১৫৮; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪২

শেয়ার লিংক

হাবীবুল্লাহ (নরসিংদী) - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪২৬৮. প্রশ্ন

মুহতারাম! নিজের সৎ মাকে কি যাকাত দেওয়া যাবে? আমার পিতা ও চাচারা তাদের সৎ ভাই-বোন ও সৎ মাকে যাকাত দেন। ভাই-বোনকে যাকাত দেওয়া যায়, এটা আমরা জানি। কিন্তু সৎ মাকে যাকাত দেওয়া ঠিক হচ্ছে কি না- এ বিষয়ে সন্দেহে আছি। দয়া করে জানাবেন।

 

উত্তর

সৎ মা অর্থাৎ বাবার স্ত্রী যদি গরীব হয় তাহলে তাকে যাকাত দেওয়া জায়েয। তবে পিতা যদি স্বচ্ছল হন এবং তিনি তার স্ত্রীর ভরণ-পোষণ পরিপূর্ণভাবে আদায় করেন তাহলে উক্ত সৎ মাকে যাকাত দিবে না। কেননা যাকাতটা মূলত এমন গরীবের হক, যার চলার তেমনি কোনো ব্যবস্থা নেই।

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/২১১; রদ্দুল মুহতার ২/৩৪৬

শেয়ার লিংক

উম্মে যাকওয়ান - ওয়েব থেকে প্রাপ্ত

৪২৬৭. প্রশ্ন

আমার কাছে ডায়মন্ডের কিছু অলংকার আছে। যেগুলো বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপলক্ষ্যে ব্যবহার করি। সাধারণত আলমারিতেই পড়ে থাকে। এ অলংকারগুলোর যাকাত দিতে হবে কি? আমি কয়েকজনকে জিজ্ঞেস করেছি। একেকজন একেক রকম কথা বলে। বিষয়টি নিয়ে আমি পেরেশানিতে আছি।

আরেকটি বিষয় হল, যদি এগুলোর যাকাত দিতে হয় তাহলে কোন্ মূল্য হিসেবে যাকাত দিব? ক্রয়মূল্য, না বিক্রয়মূল্য? ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্যের মাঝে ব্যবধান তো অনেক বেশি।

 

উত্তর

আপনার উক্ত ডায়মন্ডের অলংকারের যাকাত দিতে হবে না। কারণ ডায়মন্ডের অলংকার ব্যবসার জন্য না হলে তার উপর যাকাত ফরজ হয় না। তবে যদি এর সাথে স্বর্ণ বা রুপা মিশ্রিত থাকে এবং তা নেসাব পরিমাণ হয়ে যায় তাহলে ঐ স্বর্ণ-রুপার যাকাত দিতে হবে।

-আলবাহরুর রায়েক ২/২২৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭৩

শেয়ার লিংক

হাসান মাহদুদ - বালিয়াকান্দি, রাজবাড়ী

৪২৬৬. প্রশ্ন

এক অন্তঃসত্ত্বা নারী রমযানের প্রথম দিকে চার-পাঁচটি রোযা রেখেছে। রোযা রাখার কারণে অস্বাভাবিক পানিশূন্যতাসহ তার বেশ কিছু শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। এবং বর্তমানের গর্ভকালীন মেয়াদ অনুযায়ী দিনে গর্ভস্থ সন্তানের যে পরিমাণে মুভিং ও নড়া-চড়া হওয়ার কথা তাও আগের চেয়ে অনেক কমে গেছে। এ অবস্থায় ঐ নারীর জন্য কি রোযা না রাখার অনুমতি আছে?

 

উত্তর

হ্যাঁ, ঐ নারীর জন্য এ অবস্থায় রোযা না রাখার অনুমতি রয়েছে। মহিলাটি এখন রোযা না রাখলে পরবর্তীতে সুবিধাজনক সময়ে তা কাযা করে নিবে।

-জামে তিরমিযী, হাদীস ৭১৫; কিতাবুল আছল ২/১৭২; মুখতাসারুত তহাবী পৃ. ৫৪; আহকামুল কুরআন জাস্সাস ১/১৮০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৫৯

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ নোমান হালীম - নোয়াপুর, পশুরাম, ফেনী

৪২৬৫. প্রশ্ন

আমাদের কবরস্থানের মাটি বেশ নরম। পাশে বিরাট পুকুর। বেশি বৃষ্টি হলে কবরের উপরের মাটি পানির সাথে গড়িয়ে পুকুরে পড়ে যায়। এতে কবরগুলো গর্ত হয়ে যায়। এবার রমযানে অনেক বৃষ্টি হওয়ার কারণে আমার বাবা ও ভাতিজার কবর দুটো এমন হয়ে গিয়েছিল। তাই আমি অন্য জায়গা থেকে কিছু মাটি এনে কবর দুটো ভরাট ও উচুঁ করে দিচ্ছিলাম। একজন মুরুব্বী এটা দেখে বললেন, পুরনো কবরে নতুন করে মাটি ভরাট করা জায়েয নেই। জানতে চাচ্ছি এ ব্যাপারে সঠিক মাসআলা কী? দয়া করে জানিয়ে বাধিত করবেন।

 

উত্তর

ঐ ব্যক্তির কথাটি ঠিক নয়। বৃষ্টি বা অন্য কোনো কারণে কবরের মাটি সরে গেলে নতুন করে মাটি দিয়ে তা ভরে দেয়া জায়েয আছে।৬

-ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৭২; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/২৭৬; মাজমাউল আনহুর ১/২৭৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৬

শেয়ার লিংক

নাফিছা জুয়াইরিয়া - সেগুনবাগিচা, তোপখানা রোড, ঢাকা

৪২৬৪. প্রশ্ন

যে দেশে সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই সূর্যোদয় হয়ে যায় বা সূর্য অনেকদিন পর্যন্ত অস্ত যায় না বা উদয় হয় না। সেখানে নামাজের সময় কীভাবে নির্ধারণ করা হবে? বিশেষ করে সেখানে রোযা কীভাবে রাখা হবে? জানানোর অনুরোধ রইল।

 

উত্তর

যেসব এলাকায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় পাওয়া যায় না যেমন : সূর্য অস্ত যাওয়ার সাথে সাথেই সূর্য উদয় হয়ে যায় বা অনেক দিন সূর্য উদয় হয় না বা অস্ত যায় না সেসব এলাকার মুসলমানদের উপরও প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামায আদায় করা এবং রমযান মাসে রোযা রাখা ফরয। এসব এলাকায় নামায-রোযার সময় নির্ধারণের জন্য করণীয় হল, তাদের সবচেয়ে নিকটবর্তী যে এলাকায় পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় পাওয়া যায় সে এলাকার সময়ের সাথে মিলিয়ে তারা নামায-রোযা আদায় করবে।

-আলমাজমূ শরহুল মুহাযযাব ৩/৪৩; ফিকহুন নাওয়াযিল ২/১৫৪

শেয়ার লিংক

হাবীবুর রহমান - নোয়াখালী

৪২৬৩. প্রশ্ন

অনেক মানুষকে দেখি ফজরের জামাত দাঁড়ানোর পর কাতারে এসে সুন্নত নামায পড়ে। তাদের এ কাজটি কি ঠিক?
 

উত্তর

ফযরের সুন্নত সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাত। তাই জামাত শুরু হয়ে গেলেও তা পড়া যায়। তবে জামাত শুরু হয়ে যাওয়ার পর কাতারে দাঁড়িয়ে তা পড়া যাবে না। কেননা কাতারের সাথে দাঁড়িয়ে সুন্নাত পড়া মাকরূহ তাহরীমী। তাই এ সময়ে সুন্নত পড়তে হলে বারান্দায় বা ভিন্ন জায়গায় গিয়ে পড়বে।

উল্লেখ্য যে, ফজরের সুন্নত আদায় করে যদি ইমামের সাথে দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাহলে সুন্নত পড়ে জামাতে শরীক হবে। আর যদি দ্বিতীয় রাকাত পাওয়ার সম্ভাবনা না থাকে তাহলে সুন্নত না পড়েই জামাতে শরীক হয়ে যাবে। এক্ষেত্রে সূর্যোদয়ের পর সুন্নত পড়ে নিবে।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, হাদীস ৬৪৮১; শরহু মাআনিল আসার ১/২৫৬; আলজামেউস সগীর, ইমাম মুহাম্মাদ পৃ. ৯০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৬২; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৩৫২; আলবাহরুর রায়েক ২/৭৪; রদ্দুল মুহতার ২/৫৬

শেয়ার লিংক

ইমরান - ঢাকা

৪২৬২. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদের সাথেই একটি মাদরাসা আছে। অনেক সময় মুয়াযযিন সাহেব উপস্থিত থাকেন না। তখন মাদরাসার কোনো বুঝমান নাবালেগ ছাত্র আযান দিয়ে দেয়। আমি জানতে চাচ্ছি তার আযান কি নামাযের জন্য যথেষ্ট হবে?

 

উত্তর

আযান যেহেতু গুরুত্বপূর্ণ আমল এবং নামাযের আহ্বান তাই বালেগ পুরুষদেরই আযান দেওয়া উচিত। তবে বুঝমান নাবালেগ ছেলে আযান দিলে তাও আদায় হয়ে যাবে।

-মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, হাদীস ১৮১৪; কিতাবুল আছল ১/১১৫; বাদায়েউস সনায়ে ১/৩৭২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৫৪; রদ্দুল মুহতার ১/৩৯১

শেয়ার লিংক

রুম্মান - ভোলা

৪২৬১. প্রশ্ন

ইমাম সাহেব রুকু থেকে ওঠার সময় শুধু سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলবে নাকি তার পর رَبّنَا لَكَ الحَمْدُ -ও বলবে?

 

উত্তর

বিশুদ্ধ মত অনুযায়ী ইমামের জন্য রুকু থেকে উঠার সময় سَمِعَ اللهُ لِمَنْ حَمِدَهُ বলার পর رَبّنَا لَكَ الحَمْدُ বলা উত্তম।

-সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৯৫; শরহু মাআনিল আসার ১/১৭২; শরহুল মুনয়া পৃ. ৩১৯; আসসিআয়া ২/১৮৭; রদ্দুল মুহতার ১/৪৭৭; ই‘লাউস সুনান ৩/১৬

শেয়ার লিংক

আলাউদ্দিন - নবীনগর

৪২৬০. প্রশ্ন

আমি একদিন ফজরের নামাযের সময় মসজিদে গিয়ে ইমাম সাহেবকে দ্বিতীয় রাকাতে পাই। তখন আমি সুন্নত না পড়েই জামাতে শরীক হয়ে যাই। নামায শেষে এক ব্যক্তি বললেন সূর্যোদয়ের পর নামায পড়ে নিও। আমি জানতে চাই ঐ ব্যক্তির কথাটি কি ঠিক?
 

উত্তর

হ্যাঁ, ঐ ব্যক্তির কথা সঠিক। ফজরের সুন্নত সময়মত পড়তে না পারলে সূর্যোদয়ের পর তা পড়ে নেওয়া উত্তম। আবূ হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

مَنْ لَمْ يُصَلِّ رَكْعَتَيِ الفَجْرِ فَلْيُصَلِّهِمَا بَعْدَ مَا تَطْلُعُ الشّمْسُ.

যে ব্যক্তি ফজরের দুই রাকাত সুন্নত (সময়মত) পড়েনি সে যেন সূর্যোদয়ের পর তা আদায় করে নেয়। (জামে তিরমিযী হাদীস ৪২৩)

-মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, হাদীস ৪০১৮; মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ ৪/৩৯৫; কিতাবুল আছল ১/১৩৬; আলমুহীতুল বুরহানী ২/২৩৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩০২; মাআরিফুস সুনান ৪/৮৮

শেয়ার লিংক

নাঈম - ভোলা

৪২৫৯. প্রশ্ন

আমি ঈদের দিন প্রথম খুৎবার  শুরুতে ৯ তাকবীর এবং দ্বিতীয় খুৎবার শুরুতে ৭ তাকবীর বলে খুৎবা শুরু করি। খুৎবা শেষে একজন মুসল্লি আমাকে বলল, শরীয়তে এই তাকবীরের কোনো ভিত্তি নেই। এখন আমি জানতে চাচ্ছি যে, উক্ত তাকবীর বলাটা শরীয়তের দৃৃষ্টিতে কেমন হয়েছে?


 

উত্তর

ঈদের প্রথম খুৎবার শুরুতে ৯ তাকবীর এবং দ্বিতীয় খুৎবার শুরুতে ৭ তাকবীর বলার কথা কোনো কোনো আসারে বর্ণিত হয়েছে। উবায়দুল্লাহ বিন আবদুল্লাহ বিন উতবা রা. বলেন,

السّنّةُ التّكْبِيرُ عَلَى الْمِنْبَرِ يَوْمَ الْعِيدِ، يَبْدَأُ خُطْبَتَهُ الْأُولَى بِتِسْعِ تَكْبِيرَاتٍ قَبْلَ أَنْ يَخْطُبَ، وَيَبْدَأُ الْآخِرَةَ بِسَبْعٍ.

ঈদের দিন মিম্বরে উঠে প্রথম খুৎবার শুরুতে ৯ বার এবং দ্বিতীয় খুৎবার শুরুতে ৭ বার তাকবীর বলা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ৫৬৭৩)

তবে নির্দিষ্ট সংখ্যক তাকবীর না বললেও খুৎবার হক আদায় হয়ে যাবে। এ নিয়ে বাড়াবাড়ি করা ঠিক নয়।

-কিতাবুল উম্ম ১/২৭৩; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৫৪৯; আলবাহরুর রায়েক ২/১৬২; রদ্দুল মুহতার ২/১৭৫

শেয়ার লিংক

তাহমীদ - ভোলা

৪২৫৮. প্রশ্ন

আমি একদিন যোহরের প্রথম রাকাতে ভুলে শুধু একটি সিজদা করি। আরেক সিজদা ভুলে ছুটে যায়। এবং নামাযেই ভুল স্মরণ হওয়ায় ছুটে যাওয়া সিজদা আদায় না করেই সাহু সিজদা দিয়ে নামায শেষ করি। আমার উক্ত নামায কি সহীহ হয়েছে নাকি আবার পড়ে নিতে হবে?

 

উত্তর

নামাযের প্রতি রাকাতে দুটি সিজদা আদায় করা ফরয। কোনো একটি সিজদা বাদ গেলে নামায আদায় হয় না। তাই আপনার ঐ নামায সহীহ হয়নি। তা পুনরায় আদায় করে নিতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু সাহু সিজদা করা যথেষ্ট নয়।

উল্লেখ্য যে, এধরনের ক্ষেত্রে নিয়ম হল স্মরণ হওয়ার পর ছুটে যাওয়া সিজদা আদায় করে নেওয়া। অতপর অবশিষ্ট নামায পূর্ণ করে নামায শেষে সাহু সিজদা করা।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা,  হাদীস ৪৪৩২; কিতাবুল আছল ১/২০৬, ২০৭; শরহু মুখতাসারিত তহাবী ২/৭, ২৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২২৩; বাদায়েউস সনায়ে ১/৫৬৯; রদ্দুল মুহতার ২/৯১

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওয়াফী - উত্তরা, ঢাকা

৪২৫৭. প্রশ্ন

ভুলবশত বিতরের নামাযে দুআয়ে কুনূত জোরে পড়ার দ্বারা সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে কি না?

 

উত্তর

দুআয়ে কুনূত জোরে পড়লে সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হবে না। তবে দুআয়ে কুনূত আস্তে পড়া উত্তম।

-আলবাহরুর রায়েক ২/৯৭; রদ্দুল মুহতার ২/৬

শেয়ার লিংক

সাইফুল ইসলাম - নোয়াখালী

৪২৫৬. প্রশ্ন

আমি লঞ্চে ঢাকা যাতায়াত করি। যাত্রীদের মধ্যে অনেককে দেখেছি, তারা জামাতের সাথে নামায আদায়ের জন্য আযান দেওয়াকে আবশ্যক মনে করে। এখন আমি জানতে চাচ্ছি, মহল্লার মসজিদে জামাতের সাথে নামায আদায়ের জন্য যেভাবে আযান দিতে হয়, সেভাবে লঞ্চের মধ্যে জামাতের সাথে নামায আদায়ের জন্যও কি আযান দিতে হবে?

 

উত্তর

হাদীস শরীফে এসেছে, মালিক বিন হুয়াইরিছ রা. বলেন, এমন দু’জন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে আসল, যারা সফরে বের হওয়ার ইচ্ছা করেছে। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

إِذَا أَنتُمَا خَرَجْتُمَا فَأَذِّنَا ثُمّ أَقِيمَا، ثُمّ لِيَؤُمّكُمَا أَكْبَرُكُمَا.

তোমরা যখন সফর করবে তখন (নামাযের সময়) আযান ও ইকামত দিবে। এবং তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৩০)

এ সকল বর্ণনার ভিত্তিতে ফকীহগণ বলেন, সফর অবস্থায় আযান-ইকামতের সাথে জামাতে নামায পড়াই সুন্নাহসম্মত ও উত্তম পন্থা। তবে সফর অবস্থায় জামাতে

নামাযের জন্য শুধু ইকামত দেওয়াও যথেষ্ট। প্রখ্যাত তাবেয়ী ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন- تُجْزِيهِ إِقَامَةٌ فِي السّفَرِ.

সফরের মধ্যে ইকামত দেয়াই যথেষ্ট। (মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ১৮৯৮)

-কিতাবুল আছল ১/১১১; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৩২; বাদায়েউস সনায়ে ১/২৬৫; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৫০

শেয়ার লিংক

উম্মে আবদুল্লাহ - ময়মনসিংহ

৪২৫৫. প্রশ্ন

মহিলাদের মাসিক চলাকালীন অবস্থায় সেজদার আয়াত শুনলে সেজদা ওয়াজিব হবে কি এবং তা কি কাযা করতে হবে?

 

 

উত্তর

মাসিক চলাকালে সেজদার আয়াত শুনলে সেজদা ওয়াজিব হয় না। তাই পরবর্তী সময়ে তা কাযাও করতে হবে না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ২/৫; বাদায়েউস সনায়ে ১/৪৩৯; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৬৫; ফাতহুল কাদীর ১/৪৬৮

শেয়ার লিংক

হাসান আহমাদ - উত্তরা, ঢাকা

৪২৫৪. প্রশ্ন

এক ব্যক্তির কপালে ফোঁড়া হয়েছে। তাই সে কপালের উপর সেজদা করতে সক্ষম না হওয়ায় নাকের উপর সেজদা করে। জানতে চাই, ঐ ব্যক্তির নাকের উপর সেজদা করার কারণে তার নামায হয়েছে কি না?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি যেহেতু জমিনে কপাল রাখতে সক্ষম নয় তাই তার জন্য শুধু নাকের উপর সেজদা করা জায়েয। এতে তার নামাযের কোনো ক্ষতি হবে না। তবে সাধারণ অবস্থায় সেজদাতে কপাল ও নাক উভয়টিই জমিনে রাখা জরুরি।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/২১৭; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৯৬; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৬৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৭০

শেয়ার লিংক

হাসান আহমাদ - মুহাম্মাদপুর, ঢাকা

৪২৫৩. প্রশ্ন

একদিন আমি যোহরের নামাযে ইমামতি করছিলাম। তৃতীয় রাকাতের পর চতুর্থ রাকাতের জন্য না দাঁড়িয়ে ভুলে বসে পড়ি। কিন্তু তখনি পেছন থেকে লোকমা শুনে সাথে সাথে উঠে পড়ি। বসা অবস্থায় কিছুই পড়ার সুযোগ হয়নি। এরপর সেজদায়ে সাহু ছাড়াই নামায শেষ করি। জানতে চাই, আমার নামায কি শুদ্ধ হয়েছে? আর আমার উপর কি সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয়েছিল?

 

উত্তর

উক্ত নামায সহীহ হয়েছে। প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী ঐ বৈঠকে যতটুকু সময় বিলম্ব হয়েছে তার জন্য সেজদায়ে সাহু ওয়াজিব হয় না। কেননা এক্ষেত্রে তিন তাসবীহ পরিমাণ বিলম্ব হলেই সাহু সিজদা ওয়াজিব হয়। -

রদ্দুল মুহতার ১/৪৬৯, ৫০৬; ফাতাওয়া বায্যাযিয়া ৪/৬৩; হাশিয়াতুত তহতাবী আলাল মারাকী পৃ. ২৫৮

শেয়ার লিংক
advertisement
advertisement