সফর ১৪৪৮   ||   আগস্ট ২০২৬

গ্রন্থনা : ওয়ালিউল্লাহ খান পাঠকের পাতা

কৃতজ্ঞতা ও আবেদন

মাসিক আলকাউসারের ‘শিক্ষার্থীদের পাতা’ বিভাগটি আমার প্রতি মাসের প্রতীক্ষিত বিভাগ। প্রায়ই শুরুতেই পড়ে নিই এ পাতাটি, যা আমার চেতনা জগতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। সামনের পথে আগুয়ান হওয়ার এক পাথেয় হিসেবে পাই এ বিভাগটিকে।

আমার প্রতীক্ষিত আরেকটি বিভাগ হল ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’। এখানে ফিকহ ও দৈনন্দিন জীবনে নানা মাসআলার সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়।

বছরখানেক আগে আমার কৌতূহল ছিল, এ বিভাগে যেসকল কিতাবের হাওয়ালা দেওয়া হয়, তাতে কি মাসআলা হুবহু এরকমই থাকে, নাকি প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ থাকে, আলহামদু লিল্লাহ কয়েক মাস পরেই আমার কৌতূহল মিটিয়ে দিল প্রিয় আলকাউসার। এখন আলহামদু লিল্লাহ কিতাবের আরবী ইবারতও তুলে দেওয়া হয়।

পাঠকের পাতা বিভাগটি খোলার জন্য জানাচ্ছি আরও কৃতজ্ঞতা। কারণ এর দ্বারা পাঠক তার মনের কথা বলতে পারে।

একটি আবেদন রাখছি, প্রশ্ন পাঠানোর পর তা পৌঁছল কি না এবং উত্তর ছাপা হল কি না তা জানার কোনো মাধ্যম বা পদ্ধতি চালু করলে ভালো হত।

মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ

জামিয়া আরাবিয়া ইমদাদুল উলূম

ফরিদাবাদ ঢাকা

 

বাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ পাতা চাই

আলকাউসার পত্রিকার সাথে যেদিন থেকে আমার পরিচয়, সেদিন থেকেই প্রতিটি নতুন সংখ্যার জন্য এক বিশেষ আগ্রহ অনুভব করি। আলহামদু লিল্লাহ, সেই আগ্রহ আজও অটুট। আমি এজেন্ট হিসেবে কিছু কপি সংগ্রহ করি। আমার মতো অনেক ছাত্রভাইও অধীর আগ্রহে এর প্রতীক্ষায় থাকেন।

পত্রিকা হাতে পেয়েই প্রথমে আমার নজর যায় প্রশ্নোত্তর, শিক্ষার্থীদের পাতা এবং উস্তাযে মুহতারাম মাওলানা আবদুল মালেক ছাহেব হাফিযাহুল্লাহর মূল্যবান আলোচনার দিকে। এছাড়াও শিক্ষা-পরামর্শ, সমসাময়িক খবর ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের আলোচনা অত্যন্ত উপকারী ও আকর্ষণীয়। তাই নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি।

আলহামদু লিল্লাহ, এ পর্যন্ত আলকাউসার থেকে অনেক ইস্তেফাদার সুযোগ হয়েছে। আমার একটি বিনীত আবেদনবাংলা ভাষা ও সাহিত্য’ শিরোনামে যদি একটি পাতা সংযোজন করা হয়, তাহলে ছাত্রদের ভাষা-শিক্ষার প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আমরা বিশেষভাবে উপকৃত হব। জাযাকুমুল্লাহ খাইরান।

সাজিদুর রহমান

 

আলোর মশাল

মাসিক আলকাউসার পত্রিকার নাম শুনেছি ২০২১ সালে; কিন্তু সংগ্রহ করার সুযোগ হয়ে ওঠেনি। আলহামদু লিল্লাহ, ঢাকায় আসার পর আল্লাহর তাওফীকে আমি দুই বছর যাবৎ প্রিয় পত্রিকাটির নিয়মিত পাঠক। এর প্রতিটি প্রবন্ধই আমার জীবনে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। রাজনৈতিক বক্তব্যে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে আলোড়িত করে প্রবলভাবে। খুঁজে পাই দেশপ্রেম। বাড়িয়ে দেয় দেশের প্রতি অদম্য ভালবাসা ও দায়িত্ববোধ। এ যেন বাতিলের বিরুদ্ধে হকের কণ্ঠস্বর।

মাসিক আলকাউসার শুধু একটি পত্রিকা নয়; এটি একটি চিন্তা, একটি দর্শন, একটি প্রেরণার নাম। পৌঁছে দেয় দ্বীনের স্বচ্ছ বাণী। চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ভ্রান্তিগুলো। বাতলে দেয় সব সমস্যার সমাধান। প্রিয় পত্রিকাটি পাঠ করলে মনে হয়, সত্য সমাগত, মিথ্যা অপসৃত।

তাই আলকাউসার পাঠকদের প্রতি আমার আকুল আবেদন—নিজে বেশি বেশি পড়ুন, আত্মীয়-স্বজনকে পড়তে উৎসাহিত করুন। ইনশাআল্লাহ, এভাবেই একদিন গ্রামবাংলার প্রতিটি ঘরে পৌঁছে যাবে মাসিক আলকাউসারের হকের বাণী। মহান রাব্বুল আলামীনের কাছে দুআ করি—প্রিয় পত্রিকাটির পথচলা যেন জারি থাকে কিয়ামত অবধি—আমীন।

মোহা. আতাউল্লাহ বিন জালাল উদ্দিন

বালিখাঁ, তারাকান্দা, ময়মনসিংহ

 

আবার চালু হোক ‘মারকাযের দিনরাত’ বিভাগ

আলহামদু লিল্লাহ, ২০১৪ সাল থেকে আলকাউসারের সাথে পরিচয়। এ দীর্ঘ সময়ে আলকাউসার থেকে অনেক উপকৃত হয়েছি। শোকর আদায় করে শেষ করা যাবে না। সময়ের সাথে আলকাউসারের পরিসর বেড়েছে। পাঠকের সংখ্যাও দিন দিন বাড়ছে। তবে কিছু কিছু বিভাগ, যা আগে ছিল, তা থেকে আমার মতো তালিবুল ইলম ভাইয়েরা উপকৃত হত। এমনই একটা বিভাগ ছিল ‘মারকাযের দিনরাত’। অনেক কিছু শেখার ছিল আমাদের জন্য। পুনরায় বিভাগটি চালু করলে অনেক উপকার হবে বলে আশাবাদী।

আল্লাহ তাআলা প্রিয় পত্রিকাকে কবুল করুন আমীন।

মুহাম্মাদ ওমর ফারুক

 

প্রিয় আদীব হুজুরের প্রতি হৃদয় নিংড়ানো কৃতজ্ঞতা

আমাদের প্রিয় পত্রিকা মাসিক আলকাউসারের সাথে আমার নিবিড় ও গভীর সম্পর্কের সময়কাল এক যুগেরও বেশি। সেই ২০১১ ঈ. থেকে আজ অবধি, আলহামদু লিল্লাহ। আল্লাহ তাআলা আমাদের এই প্রিয় পত্রিকাকে উম্মতের হেদায়েতের জন্য কবুল করে নিন।

যাইহোক, আমি যে বিষয়ে হৃদয়ের অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে চাচ্ছি তা হল, গত মার্চ (২০২৬)-এ হযরত মাওলানা আবু তাহের মেসবাহ দামাত বারাকাতুহুম লিখিত ‘মুখোশ উন্মোচন : কিন্তু...’ শিরোনামের লেখাটি পড়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছি। কারণ মওদুদীবাদ সম্পর্কে আমার প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যক্তিগত পড়াশোনায় যেই তথ্য জানা ছিল, এ লেখার কল্যাণে তার সাথে যুক্ত হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নতুন তথ্য।

সেইসাথে হযরত উসমান রা.-এর বিষয়ে প্রবন্ধের শেষে যা লেখা হয়েছে, সেটি পড়ে চোখ বেয়ে অশ্রু ঝরেছে বহুক্ষণ। সর্বপ্রথম আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা আদায় করছি এই লেখাটি আমি পড়তে পেরেছি। দ্বিতীয়ত উসমান রা.-এর মর্যাদা আরও বৃদ্ধির দুআ করছি।

সর্বশেষ হযরত আদীব হুজুরের প্রতি কৃতজ্ঞতা আদায় করছি মাসিক আলকাউসারের মাধ্যমে। আদীব হুজুর পর্যন্ত এই অধমের ‘কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন’ পৌঁছবে কি না, জানি না। তার পরও হুজুরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের কিঞ্চিৎ চেষ্টা হিসেবে এই দুআ করি মহান রাব্বুল আলামীন আদীব হুজুরের ঈমানের কুওয়াত, আমলের নূরানিয়াত ও কলমের খেদমত কবুল করে নিন। উম্মতকে তাঁর কলমের মাধ্যমে বেশি থেকে বেশি উপকৃত হওয়ার তাওফীক দান করুন। সিহহাত ও আফিয়াতের সাথে আমাদের ওপর তাঁর ছায়াকে দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর করুন আমীন!

মুহাম্মদ মিসবাহুদ্দীন

সাবেক শিক্ষক, রাইহানুল উলূম মাদরাসা, পল্লবী, ঢাকা

 

আলকাউসার আমার জীবনে এক আদর্শ অভিভাবকের ভূমিকায়

২০১৮ সালের দিকে প্রথম দেখা পাই মাসিক আলকাউসার-এর। হাতে নিয়ে পড়তে শুরু করি, পড়তে থাকি মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে, পরিচিত হই নতুন এক দিগন্তের সাথে। প্রতি মাসে সংগ্রহ করে পড়তে থাকি। প্রতিটি বিভাগ খুবই ভালো লাগে। বিশেষত ‘শিক্ষার্থীদের পাতা’। এ পাতার শুকরিয়া যতই আদায় করি, তা কমই হবে। একজন দরদি আদর্শ অভিভাবক হয়ে পরামর্শ দিয়েছে নীরবে, কখনও কিতাবের নাম বলে দিয়ে, কখনও কিতাব নির্বাচন করে দিয়ে, কখনও-বা জীবনকে আলোকিতকারী উন্মুক্ত দিগন্ত ‘ইজাফী মুতালাআ’র সন্ধান দিয়ে।

উম্মাহর খেদমতে নিজেকে সঁপে দেওয়ার সৎসাহসের অসামান্য শিক্ষাটুকু পেয়েছি এই শিক্ষার্থীদের পাতা থেকে।

মুখের ভাষা পরিশীলিত করার মূল্যবান দরস, চিন্তাচেতনা ও অনুভূতিকে পরিশুদ্ধ করার সঠিক পথ ও পন্থা মোটকথা, নিজেকে যোগ্য করে তোলার সঠিক পরামর্শ পেয়েছি এই পাতায়।

আলকাউসার হাতে পাওয়ার পর সর্বপ্রথম সম্পাদকীয় পাতায় নিমগ্ন হই। রাজনীতি ও দেশ-বিদেশের সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের সহজ-সরল ও সন্তোষজনক জবাব পাই, পাশাপাশি সম্পাদক কর্তৃক লিখিত অন্যান্য প্রবন্ধের মাধ্যমেও উপকৃত হই সমানভাবে।

রব্বে কারীমের দরবারে মুনাজাত উম্মাহর কল্যাণে নিয়োজিত মূল্যবান এ পত্রিকা যেন দেশের প্রতিটি প্রান্তে, সর্বস্তরের মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছে যায়।

মুহাম্মাদ হাফিজুর রহমান

চৌহালী, সিরাজগঞ্জ

 

খতীব সাহেবদের পাথেয়

দীর্ঘ ছয় বছর স্কুলে পড়াশোনা করে ২০১৭ সালে মাদরাসায় ভর্তি হই। মাদরাসায় তখন আমি তাইসীর জামাতে পড়ি। একদিন মুহতামিম সাহেব দা. বা. আমাদেরকে বললেন, মারকাযুদ দাওয়াহ থেকে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব দা. বা.-এর তত্ত্বাবধানে একটি সাময়িকী বের হয়। তোমরা যদি নিয়মিত সেটা পড়, তাহলে তোমাদের ইলমে অনেক তারাক্কি হবে। কেননা এর প্রতিটি বিষয় অনেক গবেষণালব্ধ ও তথ্যবহুল।

অধিকাংশ ছাত্র এতে খুব আগ্রহী হল।

মাদরাসার একজন উস্তাযের কাছে প্রতি মাসে পত্রিকাটি আসত। প্রথম মাসে পত্রিকাটি পড়ে আমার অনেক ভালো লেগেছিল। এরপর থেকে অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকতাম, কখন মাস শেষ হবে আর কখন পত্রিকাটি আসবে!

আলকাউসার থেকে ‘শিক্ষার্থীদের পাতা’ পড়ার পর আমার মধ্যে আরও গভীর মনোযোগ ও নতুন উদ্দীপনা তৈরি হত।

পত্রিকাটির একটি আকর্ষণীয় বিষয় হল, এতে এমন কিছু প্রবন্ধ থাকে, যা বিষয়ভিত্তিক বয়ানের জন্য খুবই উপযোগী। তাই আমি মনে করি, প্রত্যেক খতীব সাহেব যদি বিষয়ভিত্তিক বয়ানের জন্য পত্রিকাটি পড়েন, তাহলে উপকৃত হবেন। এর প্রতিটি পৃষ্ঠা জ্ঞানের ভান্ডার।

সবশেষে আলকাউসার পরিবারের কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যারা তাদের মূল্যবান সময় ব্যয় করে আমাদেরকে এ মূল্যবান পত্রিকা উপহার দিচ্ছেন।

আল্লাহ তাআলা সকলকে উত্তম বিনিময় দান করুন।

মুহাম্মাদ আমান উল্লাহ

বি.বাড়িয়া

 

 

advertisement