সফর ১৪৪৮   ||   আগস্ট ২০২৬

বিশ্বকাপ উন্মাদনা শেষে

ওয়ালিউল্লাহ আব্দুল জলীল

৩৯ দিন ধরে চলা উন্মাদনা শেষ হয়েছে। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা স্থগিত হয়ে গেলে যেমন বুঝিয়ে কাজ হয় না, তেমনই কাজ হয়নি এই ৩৯ দিন। কোথায় ইহকাল, কোথায় পরকাল! বিশ্বের বড় একটা অংশ তাকিয়ে ছিল গোল একটা বলের দিকে। রাত নেই, দিন নেই খেলা আর খেলা। প্রিন্ট মিডিয়ায় খেলা, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় খেলা, রাস্তায় হাঁটতে গেলে খেলা, স্বস্তির জন্য আকাশের দিকে তাকালেও অস্বস্তিকর বিদঘুটে সাইজের আদর্শগত বিপরীত মেরুর ছেয়ে থাকা পতাকা। এমন উন্মাদনা দেখে অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী নিয়ে বনী আদমকে বিভ্রান্ত করা শয়তানও হয়তো বিভ্রান্ত হয়ে গিয়েছিল।

পৃথিবীতে মানুষকে পাঠানো হয়েছে আল্লাহর ইবাদত করার জন্য। সেই ইবাদত করতে শয়তানকে করতে হয় পরাজিত, শয়তানের যত রকমের জাল আছে সব করতে হয় ছিন্ন। এই ৩৯ দিন, তার আগের বেশ কিছুদিন এবং এই ৩৯ দিনের পরও আরও কিছুদিন মনে হচ্ছিল, বনী আদমই আমন্ত্রণ করে নিয়ে এসেছে এই শয়তানকে। স্রষ্টাকে অস্বীকার করে, শয়তানকে পথপ্রদর্শক বানিয়ে মানুষ বিভ্রান্ত হয়েছে। কিন্তু যারা اَلَسْتُ بِرَبِّكُمْ (আমি কি তোমাদের রব নই?) -এর জবাবে بَلٰي (কেন নয়?) বলেছিল এবং এই পৃথিবীতে এসে সে স্বীকারোক্তি মনে রেখেছে, তারাও কী করে শয়তানের পথ ধরল। আল্লাহর দেওয়া জীবন কত মূল্যবান! সেই মূল্যবান জীবনের ১৭ জন মানুষ এই শয়তানী কাজের অংশ হয়ে দুনিয়া থেকে চির বিদায় নিল। শয়তানী কাজ, কাফেরদের সমর্থন, সেইসঙ্গে ভূরিভূরি পাপ আর এই অবস্থায় মৃত্যুবরণ! এরপর অন্তহীন জীবন! হিসাব-নিকাশ! পুলসিরাত! খোদা, আর ভাবতে পারি না।

যারা ক্ষমতার মসনদে আছেন, জনতার দণ্ডমুন্ড যাদের হাতে, যারা পত্রিকা চালান, যারা টিভি চ্যানেল সম্প্রচার করেন, যারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রভাবশালী হয়ে বিচরণ করেন, যাদের হাতে জনমত প্রভাবিত করার ক্ষমতা, তাদের মধ্যে যারা এমন অর্থহীন, ক্ষতিকর, জীবন বিরোধী কাজের প্রসার ঘটিয়েছেন, তারা কী জবাব দেবেন আল্লাহর সামনে? যখন নিজের রাশি রাশি পাপের সাথে এই কোটি কোটি মানুষের পাপ বহন করতে হবে! এখন তো আপনারা সামান্য বিক্ষোভ দেখলেই ভয়ে আঁতকে ওঠেন, সরকারের মন্ত্রী-যন্ত্রী ও গোয়েন্দা বিভাগের পায়ে পড়েন, যেদিন আহকামুল হাকিমীন ধরবেন, যেদিন সুপারিশ করার কেউ থাকবে না, সেদিন কী করবেন?

যে জীবনের স্বর্ণ সময় এই অহেতুক কাজে নষ্ট করেছে, যে আল্লাহর দেওয়া রিযিক এ কাজে বিনষ্ট করেছে, শান্তির ধর্ম ইসলামে থেকেও এই খেলাকে কেন্দ্র করে অন্যের জীবন অশান্ত করেছে, পাড়াপড়শির ঘুম হারাম করেছে, কিন্তু অন্য ১৭টা প্রাণের মতো এখনও এই জীবন খোয়া যায়নি, তাদের কাছে আকুল আবেদন, এখনও সময় আছে ফিরে আসার, এখনও সময় আছে উপলব্ধি করার, এখনও সময় আছে তওবা করার, এক জীবনে কতই-বা আর উদাসীন থাকা যায়?!

আল্লাহ তাআলার বাণীগুলো পড়ুন এবং মহান আল্লাহর দিকে দৌড়াতে শুরু করুন। নিম্নোক্ত আয়াতগুলো হৃদয় দিয়ে অনুভব করে পড়ুন

قُلْ يٰعِبَادِيَ الَّذِيْنَ اَسْرَفُوْا عَلٰۤي اَنْفُسِهِمْ لَا تَقْنَطُوْا مِنْ رَّحْمَةِ اللهِ اِنَّ اللهَ يَغْفِرُ الذُّنُوْبَ جَمِيْعًا اِنَّهٗ هُوَ الْغَفُوْرُ الرَّحِيْمُ، وَاَنِيْبُوْۤا اِلٰي رَبِّكُمْ وَاَسْلِمُوْا لَهٗ مِنْ قَبْلِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ الْعَذَابُ ثُمَّ لَا تُنْصَرُوْنَ، وَاتَّبِعُوْۤااَحْسَنَ مَاۤ اُنْزِلَ اِلَيْكُمْ مِّنْ رَّبِّكُمْ مِّنْ قَبْلِ اَنْ يَّاْتِيَكُمُ الْعَذَابُ بَغْتَةً وَّاَنْتُمْ لَا تَشْعُرُوْنَ ، اَنْ تَقُوْلَ نَفْسٌ يّٰحَسْرَتٰي عَلٰي مَا فَرَّطْتُ فِيْ جَنْۢبِ اللهِ وَ اِنْ كُنْتُ لَمِنَ السّٰخِرِيْنَ، اَوْ تَقُوْلَ لَوْ اَنَّ اللهَ هَدٰىنِيْ لَكُنْتُ مِنَ الْمُتَّقِيْنَ، اَوْتَقُوْلَ حِيْنَ تَرَي الْعَذَابَ لَوْ اَنَّ لِيْ كَرَّةً فَاَكُوْنَ مِنَ الْمُحْسِنِيْنَ .

বলে দাও, হে আমার বান্দারা! যারা নিজের প্রতি সীমালঙ্ঘন করেছে, আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয় আল্লাহ সমস্ত পাপ ক্ষমা করেন। নিশ্চয় তিনি অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

তোমরা তোমাদের প্রতিপালকের অভিমুখী হও এবং তাঁর কাছে আত্মসমর্পণ কর তোমাদের নিকট শাস্তি আসার আগে, যার পর আর তোমাদেরকে সাহায্য করা হবে না।

তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের ওপর উত্তম যা-কিছু অবতীর্ণ করা হয়েছে, তার অনুসরণ কর তোমাদের কাছে অতর্কিতভাবে শাস্তি আসার আগে, অথচ তোমরা তা জানতেও পারবে না।

যাতে কাউকে বলতে না হয়, হায়! আল্লাহর ব্যাপারে আমি যে অবহেলা করেছি তার জন্য আফসোস! প্রকৃতপক্ষে আমি (আল্লাহ তাআলার বিধিবিধান নিয়ে) ঠাট্টাকারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে গিয়েছিলাম।

অথবা কাউকে বলতে না হয়, আল্লাহ যদি আমাকে হেদায়েত দিতেন আমিও মুত্তাকীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেতাম।

অথবা শাস্তি চোখে দেখার পর যেন কাউকে বলতে না হয়, আহা! আমার যদি একটিবার ফিরে যাওয়ার সুযোগ হত, আমি সৎকর্মশীলদের একজন হয়ে যেতাম। সূরা যুমার (৩৯) : ৫৩-৫৮

 

 

advertisement