বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা : কোথায় যাচ্ছি আমরা?
এ বিষয়ে চলতি সংখ্যায় লেখার ইচ্ছা ছিল না। ব্যবসা-বাণিজ্য বা অর্থনীতির কোনো বিষয়ে কিছু একটা লেখার মানসিক প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু বাদ সেধেছে আলকাউসারের সহকর্মীরা। তাদের আবদার, এ সংখ্যায় লিখতে হবে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্পর্কে। পত্রিকার পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীদের চাহিদার প্রেক্ষিতেই তারা এ আবদার করেছেন।
বাহ্যত ফুটবল এমন কোনো বিষয় নয়, যার সম্পর্কে কয়েক পৃষ্ঠা লিখতে হবে। কারণ এসব খেলাধুলার শরয়ী বিধান সম্পর্কে প্রায় সবাই অবগত। শরীয়তের গণ্ডিতে থেকে শরীরচর্চার জন্য শর্তসাপেক্ষে কিছু খেলাধুলার সুযোগ রয়েছে। আবার শরীয়তের অন্য কোনো হুকুম লঙ্ঘিত হলে জায়েয খেলাও যে হারামে পরিণত হয়– এ বিষয়ে সচেতন মুসলিমমাত্রই ধারণা রাখেন। তাহলে বিশ্বকাপ ফুটবল সম্পর্কে লেখার প্রয়োজন কী?
চোখ-কান খোলা রাখেন এবং খবরের কাগজে নজর বুলান, এমন যে কেউ সামান্য চিন্তা করলেই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজে পাবেন। কারণ বিশ্বকাপ এখন আর শুধু একটি খেলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। টুর্নামেন্ট শুরুর প্রায় মাসখানেক আগে থেকেই লক্ষ লক্ষ পতাকা উড়িয়ে, হাজার হাজার টিভি কেনাবেচা করে, এটাকে সকল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু বানিয়ে, অসংখ্য কুইজের আয়োজন করে, ইউনিভার্সিটিসহ অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে এবং পরীক্ষা স্থগিত করে বিষয়টিকে এমন রূপ দেওয়া হয়েছে, যেন এটি মানবজীবনের পরম আরাধ্য। যুবক শ্রেণিকে এসবের মধ্যে এমনভাবে ডুবিয়ে রাখা হচ্ছে, যেন তাদের জীবন, তাদের মরণ, তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ– সব এর মধ্যেই নিহিত। ব্যাপারটি কী পরিমাণ উদ্বেগজনক তা যে-কোনো সচেতন ব্যক্তিরই বুঝতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়।
মাসের আজ ১৭ তারিখ, পত্রিকার কম্পোজ শেষের পথে। সময় নেই, তবুও বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে সংক্ষেপে দু-চার কলম লিখতে হচ্ছে।
পতাকা সমাচার
এর আগেও এমন প্রবণতা দেখা গেছে, তবে এতটা নয়; লক্ষ লক্ষ পতাকায় ছেয়ে গেছে দেশ। একেকটি ছাদে বা চালে একাধিক পতাকা। কোথাও আবার কয়েক শ গজের বিশাল আকৃতির পতাকা। না, এগুলো বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নয়। কারণ আমাদের দেশ বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করেনি। এসব ইউরোপ-আমেরিকার বিভিন্ন দেশের পতাকা। সে দলগুলোর এদেশীয় সমর্থকরা এসব পতাকা ওড়ানোর ব্যবস্থা করেছে। যদিও এ টুর্নামেন্টে নিজের দেশ নেই, যদিও ওই তারকা খেলোয়াড়দের অনেকেই বাংলাদেশ নামে পৃথিবীর মানচিত্রে একটি ভূখণ্ড রয়েছে, এমন ধারণাও রাখেন না। (খোদ ম্যারাডোনার ব্যাপারেও এমন কথা পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।) তবুও সেসব দেশের পতাকা ওড়াতে হবে, তারকাদের ছবি অঙ্কিত কার্ড, জার্সি কিনতে হবে এবং লেখাপড়া ও কাজকর্মের হাল যেখানেই গিয়ে পৌঁছুক, এসব চিন্তা ও কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকতেই হবে! আর চরম দারিদ্র্যের মাঝে বাস করা কোটি কোটি লোকের এ দেশে ভিন্ন দেশের লক্ষ-লক্ষ পতাকার পেছনে ব্যয় করতে হবে কোটি কোটি টাকা। আবার দেশের জাতীয় পতাকা বিষয়ক বিধিগুলো এ ক্ষেত্রে লঙ্ঘিত হয় কি না, তা ভেবে দেখার ফুরসতও বোধ হয় এখন হবে না।
প্রিন্ট মিডিয়া বর্তমান অবস্থার নাম দিয়েছে বিশ্বকাপ উন্মাদনা, ফুটবল জ্বর, আরও কত কী! কিন্তু এ জ্বর ও উন্মাদনা সৃষ্টিতে মিডিয়ার ভূমিকাই কি প্রধান নয়? মনে পড়ে গেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোনো কোনো বুদ্ধিমান(!) সহপাঠীর রসুন বা এ ধরনের কিছু বগলের নিচে দিয়ে কৃত্রিম জ্বর আনার চেষ্টার কথা। জাতীয় দৈনিকগুলো হাতে নিলে অবস্থা কি এমনই মনে হয় না? প্রায় মাসখানেক এ বিষয়টিই তাদের কাছে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। পত্রিকার কভার পেজসহ কয়েক পাতা শুধু এর জন্যই বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। অথচ একে যদি অপরিহার্যও মনে করা হয়, তবুও দৈনিক তিনটি খেলা হলে একটি কলামেই এ-সংক্রান্ত খবর লিখে শেষ করা যায়, কিন্তু একই কথা ঘুরিয়ে ফিরিয়ে এবং অনেক চরিত্র বিধ্বংসী, পড়াশোনা বিমুখকারী বিষয়াদির অবতারণা করে মিডিয়াই কি সর্বগ্রাসী ‘জ্বর’ সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখছে না? দেশের অসংখ্য প্রয়োজনীয় বিষয় এবং অনাকাক্সিক্ষত বিভিন্ন ঘটনা সব কিছুকেই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে এ বিশ্বকাপ। কারণ মিডিয়ার কাছে এটিই এখন প্রধান বিষয়। খেলোয়াড়দের বান্ধবীদের খবর ও ছবি, মদ ও বেলেল্লাপনার যতসব বাজে খবর ফলাও প্রচার করে একশ্রেণির প্রিন্ট মিডিয়া এ জাতিকে কী শেখাতে চায়?
টিভি কেনার হিড়িক
মাসাধিককাল থেকেই দৈনিক পত্রিকাগুলোর বিজ্ঞাপন, স্ক্র্যাচকার্ডের মাধ্যমে অসংখ্য লোভনীয় পুরস্কারের অফার ও মূল্য ছাড়ের ঘোষণা দিয়ে এবং নিজেদের পণ্যের গুণাগুণ ব্যাখ্যা করে এমন একটি অবস্থা সৃষ্টি করা হচ্ছে যে, তোমার ঘরে টিভি না থাকলে তো একটি অবশ্যই কিনবে আর থাকলেও সেটি বিশ্বকাপ দেখার উপযোগী নয়। এর জন্য আমার কোম্পানিরটিই অধিক মানানসই। ফলে টিভি প্রস্তুতকারী কোম্পানিগুলোর এখন পোয়াবারো। অন্যদিকে শুধু এ কারণেই অনেক মানুষ অভ্যস্ত হয়ে যাচ্ছে সারা দিন টিভি দেখায়। পরিণতি তো সুস্পষ্ট।
কুইজ আর কুইজ
কুইজের বাজার এখন খুব গরম। বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনকারী ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান, মোবাইল কোম্পানিসমূহ এবং পত্রিকাগুলোর নিজস্ব কত রকমের কুইজের ঘোষণা ও খবর যে এখন খবরের কাগজগুলো প্রচার করছে, তার সঠিক সংখ্যা গুনে বের করা কঠিন। এগুলোর কিছু অংশ পড়ে দেখা গেছে কোনো কোনোটির প্রশ্ন থাকছে এমন, যা সংশ্লিষ্ট সবারই জানা থাকার কথা। আবার এমন প্রশ্নও থাকছে, যা সম্পূর্ণ গায়েবি খবর, যার পক্ষে-বিপক্ষে মতামত দেওয়ার ভিত্তি প্রায় একই। এখানে মেধা বা বুদ্ধিচর্চার তেমন কোনো ব্যাপার নেই। তাহলে কেন এত কুইজ? উত্তর খুবই সহজ। একদিকে লক্ষ লক্ষ তরুণ ও যুবককে লেখাপড়া ও কাজ-কর্ম থেকে বিমুখ রেখে সারাক্ষণ এসব কাজে ব্যস্ত রাখা, অন্যদিকে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে নিজেদের ব্যবসার প্রসার ঘটানো।
এখানে আরেকটি বিষয়ের প্রতি ইঙ্গিত দেওয়া প্রাসঙ্গিক মনে হচ্ছে, যা অনেকদিন থেকেই সচেতন মানুষদের ভোগাচ্ছে। বিষয়টি হল, বহুজাতিক কোম্পানিগুলো এবং কোনো কোনো মোবাইল অপারেটরের কিছু কার্যক্রম। দেখা যাচ্ছে, প্রধানত কসমেটিকস ও টয়লেট্রিজ প্রস্তুতকারী কোনো কোনো বহুজাতিক কোম্পানি কিছুদিন পরপরই বিভিন্ন খোঁজাখুঁজিতে নেমে পড়ে। কখনও নায়ক-নায়িকা, কখনও গায়ক-গায়িকা আবার কখনও শ্রেষ্ঠ সুন্দরী ইত্যাকার আরও কত কী? শুধু খোঁজ করে তাই নয়, কিছু লোককে খুঁজে বের করে তাদের ব্যাপারে ভোট নেওয়া শুরু করে লক্ষ লক্ষ মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের থেকে। (ফ্রি নয়, ভোটদাতাদের মোবাইল চার্জ দিতে হয়)। এ ছাড়া রিংটোনের বিজ্ঞাপনের তো অন্ত নেই। কেউ কল করলে সে কী রিংটোন শুনতে পাবে (ওয়েলকাম টিউন)–এটিকে এখন বিরাট মাথাব্যথার এবং বড় সমস্যার ব্যাপার বানিয়ে ফেলা হয়েছে। মাসিক ফি ছাড়াও রিংটোন পরিবর্তনের জন্য আলাদা আলাদা ফি নেওয়া হচ্ছে।
এভাবে কোম্পানিগুলো হাতিয়ে নিচ্ছে কোটি কোটি টাকা। টাকার ঝুলি ভরাই যে তাদের কাছে মুখ্য, তার প্রমাণ মিলবে বিশ্বকাপ উপলক্ষ্যে তাদের দেওয়া কুইজগুলোর ধরন দেখেও। দেখা যাবে যে, প্রায় প্রতিটি কুইজেই বলা হবে, আপনি যতবার ইচ্ছা এসএমএস পাঠান। সর্বোচ্চ এসএমএসকারী পাবে এ (বিশাল) পুরস্কার। আর তা দেখে আমাদের যুবক ও তরুণ সমাজ ছুটছে সে পুরস্কারের পেছনে। ফলে হাজার হাজার ব্যক্তি পাঠাচ্ছে অসংখ্য এসএমএস আর আয়োজক ও মোবাইল কোম্পানি পাচ্ছে কোটি কোটি টাকা। পুরস্কার পাচ্ছে দুয়েকজন ৫-১০ হাজার টাকার একটি মোবাইল সেট। জানি না, বিটিআরসি-এর এ ক্ষেত্রে কিছু করার আছে কি না।
পাঠক দেখতেই পাচ্ছেন, দেশি-বিদেশি কিছু বিশেষ মহল শুধু বিলিয়ন টাকা হাতিয়ে নিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছে না, অত্যন্ত সুচতুরভাবে প্রায় ৯০ শতাংশ মুসলমানের এ দেশে চালু করে দিচ্ছে একটি বিশেষ সংস্কৃতি। মানুষকে অভ্যস্ত করে তুলছে একটি গলিত সভ্যতায়। আর সে হুজুগে গা ভাসিয়ে দিয়ে ক্রমশ পিছিয়ে পড়ছি আমরা। ফলে চিন্তানীতি ও অর্থনীতি উভয় দিক থেকে তাদের শাসন আরও পাকাপোক্ত হচ্ছে এ জাতির ওপর। গোলামির জিঞ্জির হয়ে উঠছে আরও শক্ত, আরও মজবুত।
বুয়েট সমাচার
এ লেখায় যুব ও তরুণ সমাজকে পড়ালেখা বিমুখ করার আলোচনাও এসেছে সংগত কারণে। এর ছোট্ট একটি দৃষ্টান্ত আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েট; যেখান থেকে অতীতে অসংখ্য প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানী বের হয়ে দেশ-বিদেশে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। আশ্চর্যের ব্যাপার হল, এ মানের একটি ইউনিভার্সিটিও বিশ্বকাপ ফুটবল উপলক্ষ্যে বন্ধ হয়ে গেছে ৪৫ দিনের জন্য। প্রায় সপ্তাহকাল জুড়ে ছাত্র-ছাত্রীদের আন্দোলন ও ভাঙচুরের মুখে অবরুদ্ধ ভিসি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। স্থগিত হয়ে গেছে অনেক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। বিশ্বকাপের এ উন্মাদনা শিক্ষা ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রভাব ফেলছে– এর জন্য কি আরও দৃষ্টান্ত দরকার?
পত্রিকায় পড়ে বিশ্বাসই হচ্ছিল না বুয়েটে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। এমন একটি ভাবনাও মাথায় আসছিল, এটি হয়তো সীমিতসংখ্যক কিছু উচ্ছৃঙ্খল লোকের কারণেই ঘটছে। আল্লাহ্র শোকর, কয়েকদিন আগে কারওয়ান বাজার থেকে প্রকাশিত একটি দৈনিকের রিপোর্টে সে কথাই প্রমাণিত হল। যার সারসংক্ষেপ হল, বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পার্টটাইম শিক্ষকতায় নিয়োজিত কতিপয় বুয়েট শিক্ষকের ইশারায় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবকের কারণেই এমনটি ঘটেছে। অন্যথায় অধিকাংশ ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকগণ এর জন্য মর্মাহত। কিন্তু ব্যাপার যাই হোক, ওই ৪৫ দিন এবং আগে-পেছনে মিলে প্রায় দু-মাসের সময় তো আর ফিরে পাওয়া যাবে না। আমরা কি এখনও সচেতন হব না! কীভাবে মুষ্টিমেয় লোকের ইচ্ছার বলি হয়ে যাচ্ছি আমরা, তা কি ভেবে দেখার এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ গড়ে তোলার সময় এখনও আসেনি?
মর্মান্তিক
ভিনদেশিদের খেলার জয়-পরাজয়ের উত্তেজনায় এ দেশের নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যুও ঘটেছে বারবার। এমনিভাবে পতাকা ওড়াতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে দুঃখজনক মৃত্যুর একাধিক খবর পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে।
আমরা কি ভেবে দেখব?
রাতে ঘুম নেই, দিনে কাজ নেই
অনেক রাতে খেলা দেখতে গিয়ে রাত জাগার কারণে দিনের কাজকর্ম মন্দ হওয়া স্বাভাবিক। আবার পত্রিকায় এ-সংক্রান্ত অসংখ্য খবর ও ফিচার পড়া, কুইজে অংশ নেওয়া, ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করা তো রয়েছেই। অর্থাৎ সব মিলিয়ে জীবনের অমূল্য সম্পদ সময় থেকে দুই মাসাধিককাল ঝরে যাবে এবং এক-দুজনের নয়, গোটা জাতির।
দ্বীন ও ঈমানের দুর্বলতার কারণে বরং দ্বীন-ঈমানকে উপেক্ষা করার মানসিকতা দিন দিন ব্যাপক হওয়ায় খুব কম মানুষই এ বিষয়টি নিয়ে ভাবেন যে, এই খেলা দেখার মধ্যে অন্যের সতর দেখার গোনাহ, বেপর্দা দৃশ্যাবলি– পুরুষ নারীকে এবং নারী পুরুষকে অত্যন্ত দৃষ্টিকটু অবস্থায় দেখার গোনাহ ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকা কোনোমতেই সম্ভব নয়। অথচ এগুলো শুধু গোনাহ্ই নয়, স্বভাব-চরিত্র ধ্বংসকারী চরম নৈতিক অপরাধও।
এ বিষয়ে ভাববার মানুষও বোধ হয় খুব বেশি নেই যে, এসব খেলার পেছনে পড়ে শুধু জামাত ছেড়ে দেওয়াই নয়, নামাযই কাযা করে দেওয়ার পরিণাম কী হতে পারে! কিন্তু শুধু পার্থিব লাভালাভের বিচারেও এই উন্মাদনা কী কী ক্ষতি টেনে আনছে– এ বিষয়টি নিয়েও কি একটু সুস্থিরভাবে ভাবতে পারি না? অন্তত এটুকু তো অবশ্যই ভাবা উচিত, রাত জেগে পরদিন কর্মস্থলে গিয়ে অর্পিত দায়িত্ব কতটুকু পালন করা সম্ভব? এই ক্ষতির দায় কি গোটা জাতিকে বহন করতে হবে না? (বিশেষত শিক্ষক ও চাকরিজীবী ব্যক্তিবর্গের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে অন্যের অধিকারও সংশ্লিষ্ট রয়েছে।) শুধু খেলাধুলার পেছনে মত্ত হয়ে অন্যের অধিকার বিনষ্ট করা কি বৈধ?
জ্বর যদি আসেও, তাহলে সবার এবং সকল শ্রেণির একসঙ্গে কীভাবে আসে!? কিছু মানুষও কি সুস্থ থাকা উচিত নয়?
সারকথা
আর বিস্তারিত লেখার সুযোগ নেই। সারকথা হল, আমাদের যুব সমাজ, তরুণ সমাজ ও অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার এখনই সময়। খেলার জন্য জীবন নয়, নয় শুধু বিনোদনের জন্যও। সৃষ্টির সেরা মানবজাতির জীবন ও সময় অতি মূল্যবান। মুসলমান পৃথিবীর সেরা জাতি হয়েও কেন সে মার খাচ্ছে সর্বত্র, কীভাবে সে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে অন্যদের কাছে, কীভাবে হারিয়ে ফেলছে তার বোধ ও অতীত গৌরব, তা আমাদের উপলব্ধি করতে হবে এবং এক্ষুনি। আমাদের অজান্তেই ধীরে ধীরে এ দেশ, এ সমাজ কীভাবে কলুষিত হয়ে যাচ্ছে, আমাদের শান্তির পারিবারিক বন্ধনগুলো বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার কী কী প্রয়াস চলছে, সে ব্যাপারে আমাদের সচেতন হতে হবে এবং সময় পেরিয়ে যাওয়ার আগেই।
[নিবন্ধটি সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল জুলাই ২০০৬ ঈ.
ঈষৎ পরিমার্জিত]
টীকা
এটি ২০০৬ সালের বিশ্বকাপের সময়ের ঘটনা। আর ভার্সিটিগুলোর বর্তমান উন্মাদনা তো আমাদের চোখের সামনেই।