শাওয়াল ১৪৪৭   ||   এপ্রিল ২০২৬

খবর... অতঃপর...

r দেশের রপ্তানি বৃদ্ধিতে ভারত সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি : বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির

ডিবিসি নিউজ, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

l যদি মন্ত্রী সাহেব এটি কথার কথা হিসেবে বলে থাকেন, তাহলে তো বলার কিছু নেই। কিন্তু তিনি যদি দিল থেকেই এমনটি বলে থাকেন, তাহলে প্রতিবেশী দেশটি সম্পর্কে তার ধারণা ও জ্ঞান নিয়ে সন্দেহ করা যেতেই পারে। তারা রাখবে বাংলাদেশের রপ্তানির জন্য সহায়ক ভূমিকা!? এই দেশের শুধু ব্যবসায়ী সমাজই নয়; বরং সাধারণ জনগণও জানে, আমাদের দেশীয় শিল্প ও বাণিজ্য ধ্বংসের জন্য তারা কত ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে থাকে এবং কীভাবে তাদের মালামাল এদেশে ঠেলে দিয়ে এদেশের ব্যবসায়ীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে থাকে। তাদের কাছে যদি আশা করা হয় আমাদের ব্যবসায় সহযোগিতা পাওয়ার, তাহলে আর বলারইবা কী আছে?

r বিএনপি নেতার গাড়ি প্রবেশে অসুবিধা, কাটা হলো বেড়িবাঁধের ২০ গাছ

ইত্তেফাক, ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

২৫ কোটি গাছ লাগাতে আসছে ১৫০০ কোটি টাকার প্রকল্প

প্রথম আলো, ২৭ মার্চ ২০২৬

l এই ধরনের অল্প কিছু নেতাই দেশ ও দলকে ডোবানোর জন্য যথেষ্ট। দ্বিতীয় খবরটি নিয়ে মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। কারণ গাছ না কাটলে লাগানোর প্রয়োজন হবে না। গাছ না লাগানোর প্রয়োজন হলে প্রকল্প আসবে না। প্রকল্প না আসলে দুর্নীতি হবে না। দুর্নীতি না হলে...

r সোনারগাঁওয়ে মুক্তিযোদ্ধার গেজেট থেকে ১০৯ জনকে বাদ দেয়ার আবেদন করে নিজেই পড়লেন বাদ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ১০৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া দাবি করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলে (জামুকা) আবেদন করে আলতাফ হোসেন নিজেই বাতিল হলেন। বর্তমানে তিনি সোনারগাঁও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ডেপুটি কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নয়াদিগন্ত, ৪ মার্চ ২০২৬

l এ ধরনের হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা (!) রয়েছে এ দেশে; যাদের থেকে মুক্তি পাওয়া এই দেশ ও জাতির জন্য খুবই জরুরি। যারা কথায় কথায় মুক্তিযুদ্ধ মুক্তিযুদ্ধ বলে চিৎকার করে, মুক্তিযুদ্ধের মহত্ত্ব প্রচার করে, তাদের অনেকের ভেতর কিন্তু এ ধরনের ধোঁকা-প্রতারণায় ভরা। মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ না করেও, এমনকি মুক্তিযুদ্ধের সময় জন্ম না হলেও অনেকে মুক্তিযোদ্ধা! যারা কয়েক দশক থেকে মুক্তিযুদ্ধের শক্তি বলে নিজেদের জাহির করে এসেছে এবং নিজেদের মহত্ত্ব প্রচার করে এসেছে, তাদের মুখোশের ভেতরের ছবি এগুলো।

r নেপালে গণ-অভ্যুত্থানের নেতারাই সরকার গঠন করেছে। কারণ সেখানে ঢাবি নেই : রাকসুর জিএস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছেন, নেপালে গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতারাই সরকার গঠন করেছে, কারণ সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং ভাই-ব্রাদার কোরাম নেই।

ঢাকা পোস্ট, ৭ মার্চ ২০২৬

l ব্যাপারটা আসলে কি শুধু ঢাবিয়ান পর্যন্তই সীমিত? মনে হয় এমনটি নয়। আসল ব্যাপার হচ্ছে, আমাদের জাতিগত সমস্যা। সবকিছুতে আমরা নগদ লাভ খোঁজ করি। তৎক্ষণাৎ বেনিফিটের জন্য আদর্শ জলাঞ্জলি দিতে আমরা কম মানুষই দ্বিধা করি। ন্যূনতম সুযোগ পাওয়ার পর ক্ষমতা, প্রভাব-প্রতিপত্তি, জাগতিক সুবিধা গ্রহণকে আমরা বাঙালিরা কমই দৃঢ়তার সাথে এড়াতে পারি।

এটি সাধারণ শিক্ষিত সমাজের সাথে সাথে অনেক ক্ষেত্রে পদ ও ক্ষমতা প্রত্যাশী ধর্মীয় সমাজের অনেকের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। সুতরাং একা ঢাবিয়ানদের দোষ দিয়ে লাভ কী?

r মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মানব পাচার মামলায় রিমান্ডে

এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে মানব পাচার আইনের এক মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০৭ সালে সেনাবাহিনীর নবম ডিভিশনের জিওসির দায়িত্বে ছিলেন। তিনি এক-এগারোর পটপরিবর্তনে অন্যতম প্রধান ভূমিকায় ছিলেন। তখন তিনি গুরুতর অপরাধ দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক হন। পদোন্নতি পেয়ে লেফটেন্যান্ট জেনারেল হন। এই কমিটির অধীনেই তখন দুর্নীতিবিরোধী অভিযান পরিচালিত হয়।

প্রথম আলো, ২৪ মার্চ ২০২৬

মাসুদ উদ্দিন : এক-এগারো, ক্ষমতা, পুরস্কার ও বিতর্ক

প্রথম আলো, ২৫ মার্চ ২০২৬

l মন্তব্যের শুরুতেই একটু হাসি পাচ্ছে।

উর্দুতে বলা হয়ে থাকে

بدلتا ہے رنگِ آسماں کيسے کيسے

আসমানের রঙ কত রকম বদলায়!

যে পত্রিকা এই দীর্ঘ প্রতিবেদন প্রকাশ করল ১/১১ সরকারের সময় তাদের ভূমিকা কী ছিল? তারা তো সে সময় ১/১১-এর কুশিলবদের ও তাদের নীতিকে জোর সমর্থন দিয়েছিল মাইনাস টু ফর্মুলাসহ অন্যান্য ক্ষেত্রে। সে সরকারের ভালো প্রচারক শক্তি হিসেবে এরা ভূমিকা রেখেছিল। আজকে কি নিজেদের পিঠ বাঁচাতেই এ ধরনের প্রতিবেদন?

যাক সে কথা। আমরা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীতে ফিরে আসি। কারণ এ ধরনের পত্রিকা এবং এদের হেডমওয়ালা সম্পাদকদেরকে নিয়ে কিছু না বলাই ভালো। হেডমওয়ালা খেতাবটা অবশ্য তাদেরকে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টাই ইদানীং দিয়েছেন। যিনি কিনা এই পত্রিকাতেই মাঝে মাঝেই কলাম লেখেন। তার দৃষ্টিতে নাকি এদেশে এই পত্রিকা এবং তাদের সিস্টার কনসার্ন ইংরেজি পত্রিকাটিই হেডমওয়ালা আর কোনো হেডমওয়ালা নেই। তো তাদেরকে নিয়ে বলার আর কীই-বা আছে?

যাইহোক, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর মতো লোকেরা যে বদ মতলবি ও স্বার্থপর ছিলেন তার প্রমাণ তো নিজেই আরও আগে রেখেছেন। কারণ তিনি হাই কমিশনার হওয়ার স্বাদ, এমপিত্বের স্বাদ (তাও আবার ২০১৮ সালের রাতের নির্বাচন এবং ২০২৪ সালের ডামি নির্বাচনের)  তো আগেই নিয়েছেন। এছাড়া বড় বড় ব্যবসা হাতিয়ে নেওয়া, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে ওঠা মানব পাচারের অভিযোগ, যা আগে ছিল আদমব্যবসা নামে পরিচিত, বর্তমানে রিক্রুটিং এজেন্সি নামে পরিচিত ব্যবসার মালিকানা হাতিয়ে নেওয়ার পুরস্কার তো দেশে থেকেই গ্রহণ করেছেন। তার উপরস্থ অনেকে ১/১১ পরবর্তী সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর বিদেশে চলে গিয়েছিলেন।

একটি কথা এখানে বলা যায়, জঘন্য অপকর্মকারীদের সকলেরই শাস্তি শুধু পরকালের জন্য আটকে থাকে এমন নয়। কেউ কেউ ইহজগতেও এর কিঞ্চিৎ পেয়ে থাকে। কপালপোড়া মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীও হয়তো তাদেরই একজন। এখন তাকে রিমান্ডে নেওয়া হচ্ছে। সে রিমান্ড কী ধরনের হবে সেটা একটা প্রশ্ন। ঠিকঠাক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে শুধু তার অপকর্মের কথাই বের হয়ে আসবে না; বরং ২০১৮-এর নির্বাচনে কোন্ চুক্তিতে এবং কীসের বিনিময়ে বাংলার ইতিহাসের নিকৃষ্টতম ফ্যাসিবাদীদের তারা ক্ষমতায় এনেছিল তাও  বেরিয়ে আসবে হয়তো। যে পত্রিকা আজকে এই প্রতিবেদন প্রকাশ করল, তাদের হর্তাকর্তারা কীসের বিনিময়ে ওদের পক্ষপাতিত্ব করেছিল এবং এর জন্য তারা পুরস্কার হিসেবে কী কী পেয়েছিল, কী কী সুবিধা তারা নিয়েছিল এগুলো হয়তো বের হয়ে আসবে। কিন্তু এদেশে তো এ ধরনের তদন্ত জনগণের সামনে প্রচার হওয়া বা আলোর মুখ দেখার নজির তেমন একটা নেই। দেখা যাক শেষ পর্যন্ত কী হয়।

r আট হাজার সরকারি চাকুরের মুক্তিযোদ্ধা সনদ সন্দেহজনক

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি পাওয়া ব্যক্তিদের জমা দেওয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তথ্য যাচাইবাছাই করছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়।

সূত্র জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যাচাইয়ে অন্তত আট হাজার জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদ ও তথ্য সন্দেহজনক পাওয়া গেছে।

প্রথম আলো, ২৮ মার্চ ২০২৬

l শুধু আট হাজার নয়, ভালোভাবে যাচাই করলে এধরনের অসংখ্য রথী-মহারথী আমলা পাওয়া যাবে, যারা ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে বিশেষ কোটায় চাকরি পেয়েছে। এরপর সচিব, সিনিয়র সচিব আরও কত পদ অলংকৃত করেছে। সাধেই কি আর বিগত স্বৈরাচার তথাকথিত মুক্তিযোদ্ধা কোটা ধরে রাখতে এত জোরবাজি করেছিল; যার ফলে তাদের লজ্জাজনক পতনও ঘটে।

গ্রন্থনা : ওয়ালিউল্লাহ খান

 

 

advertisement