শাবান-রমযান ১৪৪৩   ||   মার্চ-এপ্রিল ২০২২

মুসকান : হিজাব ও তাকবীর ধ্বনি

মাওলানা শরীফ মুহাম্মাদ

ঘটনা ভারতের কর্ণাটকের। একটি কলেজের ফটকে দাঁড়িয়ে জয় শ্রীরামশ্লোগান দিচ্ছে আর হিজাব-বোরকা পরা ছাত্রীদের কলেজে প্রবেশে বাধা দিচ্ছে একদল তরুণ। তাদের গলায় ঝুলানো লাল গেরুয়া কাপড়ের টুকরা। এ সময়ই হিজাব পরা এক তরুণী স্কুটিতে চড়ে ওই কলেজে ঢুকল এবং শান্ত ভঙ্গিতে স্কুটিটিকে নির্ধারিত জায়গায় রেখে তার শ্রেণিকক্ষের দিকে যেতে লাগল। এরই মধ্যে গেরুয়া বসনধারী লাঠিধারী তরুণেরা জয়শ্রীরামশ্লোগান দিয়ে তার দিকে এগিয়ে গেল এবং হিজাব নিয়ে কটূক্তি করতে শুরু করল।

সেখানে তখন ওই কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীদেরও কেউ কেউ উপস্থিত ছিলেন। তাদের কেউ তখন উগ্র হিন্দুত্ববাদী তরুণদের বাধা দিতে এগিয়ে আসেনি এবং বিব্রতকর ও ভীতিকর পরিবেশ থেকে মেয়েটিকে বাঁচাতে চেষ্টা করেনি। তখন মেয়েটি জয়শ্রীরামধ্বনিদাতাদের দিকে ঘুরে দাঁড়িয়ে একটি হাত মুষ্টিবদ্ধ করে আল্লাহু আকবারধ্বনি উচ্চারণ করল। এরপর মেয়েটি তার পথ ধরে হেঁটে যেতে লাগল এবং আরো কয়েকবার তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণ করল। হিন্দুত্ববাদী মারমুখি তরুণদের বিরুদ্ধে সেখানে মেয়েটি ছিল একা এবং নিঃশঙ্ক প্রতিবাদী ভঙ্গিতে সে এগিয়ে যাচ্ছিল।

ঘটনা এই ফেব্রুয়ারির ৮ তারিখের। এই ঘটনার ভিডিও প্রথমে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভারত আর উপমহাদেশ শুধু নয়, গোটা পৃথিবীতে সাড়া পড়ে যায়। এর পরপর গণমাধ্যমের শিরোনামে এবং সাক্ষাৎকার-প্রতিবেদনে সামনে চলে এল প্রতিবাদী মুসলিম তরুণীটি। হিজাব পরিহিত ও তাকবীর ধ্বনি উচ্চারণে নজির স্থাপনকারী মুসকান খান প্রতিবাদের প্রতীকে পরিণত হল।

দুই।

এই ঘটনা সামনে আসার পর একে একে ভারতে এ-জাতীয় পরিস্থিতির আরও অমানবিক বিভিন্ন খবর, ছবি-ভিডিও সামনে আসতে থাকে। তরুণী মুসকানের সাহসিকতার জন্য মুসলমানদের বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে ভারতজুড়ে তাকে অভিনন্দন জানানোর স্বতস্ফূর্ত আবেগের ঘটনা যেমন প্রকাশ্যে আসে, তেমনি হিজাব খুলতে বাধ্য হওয়া মুসলিম মেয়েদের কান্নার আওয়াজও ভেসে আসে। স্বয়ং মুসকান-ই জানায়, তার এই প্রতিবাদের ঘটনাটির আগে হিজাব খুলতে বলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ফটক থেকে বহু মুসলিম তরুণী শিক্ষার্থী কাঁদতে কাঁদতে ফিরে গেছে। হিন্দুত্ববাদীরাও ঘটনার পর নড়েচড়ে বসেছে। প্রকাশ্যে লাঠিসোঠা নিয়ে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে হিজাবের বিরুদ্ধে নিয়ম ও আইন কানুনের পথে হাঁটতে শুরু করেছে। এর একটি ফল ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে দেখা গেছে। এখন কর্ণাটকসহ কোনো কোনো জায়গায় আইনিভাবেবিদ্যালয়ে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে হিজাব পরিহিত মুসলিম তরুণীদের। বাধার মুখে কিছু মেয়ে কলেজের গেটে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে শেষ পর্যন্ত হিজাব খুলে প্রবেশের পথ বেছে নিয়েছে। কোনো কোনো হিজাব পরিহিত তরুণীকে তার মা-বাবা স্কুল থেকে আবার ফিরিয়েও নিয়ে গেছেন। তারা বলেছেন, আমাদের মেয়েদের শিক্ষা দরকার; কিন্তু তার চেয়ে অনেক বেশি দরকার তাদের পর্দা।

এ পরিস্থিতিতে ভারতের মুসলিম রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন ভাষায় তাদের প্রতিবাদ ব্যক্ত করছেন। বিদ্যালয়ে হিজাব পরতে দেওয়ার পক্ষে দাবি জানাচ্ছেন। আন্তর্জাতিকভাবে ওআইসি এবং দু-একটি মুসলিম রাষ্ট্র কিছু কিছু প্রতিবাদের ভাষা উচ্চারণ করেছে। তবে এসবের মধ্যেও ভারতের সঙ্গে ব্যবসায়িক ও সামরিক যোগ ও সম্পর্ক বৃদ্ধির বৈঠক করে খবরে এসেছে প্রভাবশালী আরব-মুসলিম রাষ্ট্রের কিছু নেতৃবৃন্দ ও কর্মকর্তা। এ যেন মুসলমান মা-বোনদের সম্ভ্রমের চাদর ছিঁড়ে ফেলা উগ্র গোষ্ঠীর সঙ্গে স্বার্থের নির্বিকার যোগাযোগ। এ যেন মুসলিম নারীর শরীর থেকে হিজাব খোলার নামে গায়ের চামড়া খুলে নেওয়ার মতো পাশবিক হাতগুলোর সঙ্গে মিতালির সুবিধা-বন্ধন।

তিন।

গণমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, ভারতে মুসলমানদের জীবন ও ধর্মপালন দিন দিন দুর্বিষহ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি এবং তার উগ্র হিন্দু মিত্রদের হাতে ভারতের কেন্দ্রীয় ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর থেকে মুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব নিয়ে ঝামেলা তৈরি করাসহ নানামাত্রিক অধিকার ও নিজস্ব সংস্কৃতি থেকে মুসলমানদের দূরে সরানোর কাজগুলো ধাপে ধাপে ও প্রকাশ্যে চলেছে। গো-মাংসেরভুয়া অভিযোগ তুলে বহু মুসলিমকে পথেঘাটে ও বাড়িতে ঢুকে হত্যা করা হয়েছে। বহু মসজিদ ও মুসলিম স্থাপত্য ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। বহু জেলা-নদী-স্টেশনের মুসলিম নামবদলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষা ও চাকরি থেকে প্রকাশ্য-কৌশলে মুসলমানদের দূরে সরিয়ে রাখা হয়েছে। গত কয়েক মাস যাবৎ শোনা যাচ্ছিল, বিভিন্ন প্রদেশে খোলা মাঠে মুসলমানদের নামায আদায়ে বাধা দেওয়া হয়েছে। মারধর ও বাধাদানের খবর-ভিডিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়েও পড়েছে। আর মাসখানেক ধরে মুসলিম নারীদের বিদ্যালয়ে-শিক্ষাঙ্গনে হিজাব পরতে মানা করা হচ্ছে। হিজাব খুলে বিদ্যালয়ে ঢুকতে বাধ্য করা হচ্ছে। এ এক ভয়াবহ ধারাবাহিকতা। দেশটিতে দিন দিন রাজনৈতিক-নাগরিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়াদির ক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ চলতে চলতে নিরেট ধর্মীয় বিষয়েও হস্তক্ষেপ ও অধিকার-বঞ্চনার এক জঘন্য প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

চার।

মুসকানের তাকবীর ও প্রতিবাদের পর যে আট-দশদিন সময় অতিক্রম করেছে, এতে পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। হিন্দুত্ববাদের বীভৎস চর্চা দেশটিতে এমন এক পর্যায়ে গিয়েছে যে, মুসলিম ও ইসলামের প্রতি উগ্র বিদ্বেষের ক্ষেত্রে তৃণমূলের গেরুয়া বসনধারী থেকে নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতা, বুদ্ধিজীবী ও আদালত একই সুরে কথা বলছে। মুসকানের তাকবীর পরবর্তী হিজাব খুলতে বলার ঘটনাগুলোর পেছনে মূলত ভারতীয় আদালতের হিন্দুত্ববাদীদৃষ্টিভঙ্গি ও সিদ্ধান্তকেই ব্যবহার করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের জোরেই স্কুল-কলেজের প্রধান ফটক পর্যন্ত হিজাব পরে চলে আসা তরুণীদের হিজাব খুলে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধ্য করা হচ্ছে।

বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, মুসলিম তরুণী শিক্ষার্থীদের হিজাব খুলে ক্যাম্পাসে ঢুকতে বাধ্য করার কাজটি করছে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-শিক্ষয়িত্রীরাই। এমনকি একটি ভিডিও ক্লিপে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্যও দেখা গেছে যে, বিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের পাশের লবিতে বাধ্য হয়ে মুসলিম শিক্ষার্থী তরুণীরা নিজেদের শরীর থেকে হিজাব খুলছে আর তাদের হিজাবখোলা জীবন ও অস্তিত্বেরদিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাসছে ওই বিদ্যালয়ের পুরুষ শিক্ষক/কর্মকর্তা।

এখন পরিস্থিতি এমন একটি জায়গায় চলে গেছে যে, মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত মুসলিম পরিবারগুলো তাদের মেয়েদের শিক্ষাগ্রহণের পর্যায় বন্ধ করে দিতে বাধ্য হবে অথবা মুসলিম মেয়েদের জন্য হিজাব-বোরকার ব্যবস্থাপনাসহ নতুন ধরনের বিদ্যালয় স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণের চেষ্টা করবে। এমন ভাবনা-চিন্তার কথা গণমাধ্যমে শোনা যাচ্ছে। তবে এটা তো মিথ্যা নয় যে, -জাতীয় ধমীর্য় সাংস্কৃতিক আঘাতের সময় বিভিন্ন দিকে অনেক আত্মসমর্পণ ও আত্মপরিচিতি বিলোপের মতো ঘটনা ঘটে যায়। মুসলিম জাতিসত্তা, পরিচিতি-বিধি ও সংস্কৃতির ক্ষেত্রে বড় রকম বিপর্যয়ের ধারা কিছু না কিছু শুরু হয়ে যায়। কারণ, সঙ্কটের সময় সবাই তো আর দৃঢ়তার সঙ্গে গ্রহণ-বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। আন্দালুস হারানোর ইতিহাসের শেষ পর্বে মুসলমানদের যেমন পরিচয়শূন্য হতে বাধ্য করা হয়েছিল, দিন দিন পরিচয়হীন মরিসকো-মুসলিমনামের একটি শ্রেণির উদ্ভব হয়েছিল, কিংবা ইরতিদাদের চাপে ও ঝড়ে হারিয়ে গিয়েছিল বহু মুসলমান! অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান ভারতে সেই দুঃসময়ের একটি বহুমুখি পদধ্বনি শুরু হয়ে গেছে।

আল্লাহ তাআলা দয়া করুন, দেশটিতে পরিস্থিতির অদল-বদল মুসলমানদের অস্তিত্বের জন্য এখন খুব জরুরি।

পাঁচ।

হিজাব বিরোধিতায় ভারতের এই সর্বগ্রাসী হিন্দুত্ববাদের বর্তমান চিত্র দেখে অনেকেই এ উপলব্ধি নতুন করে অনুভব করছেন, বিশালায়তন এ দেশটির হিন্দুত্ববাদী সাম্প্রদায়িকসত্তাটি আসলেই অনেক কঠোর ও শক্ত। এ যেমন আজকের বাস্তবতা, তেমনি গত পঁচাত্তর বছরে এ বাস্তবতার নজির বারবার সামনে এসেছে। হিন্দুত্ববাদী গেরুয়া বসনধারীরা সর্বভারতীয় ক্ষমতার বাগডোর হাতে নিয়েছে মাত্র এক যুগের গল্প, কিন্তু ৪৭ পূর্বকাল থেকেই হিন্দুত্ববাদী আঘাত-আক্রমণ, খোঁচাখঁুচি-ষড়যন্ত্র থেকে কখনো মুসলমানরা নিরাপদ থাকতে পারেনি। উপমহাদেশজুড়ে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য হিন্দুত্ববাদী অভিযানসবসময় সক্রিয় ছিল। ভারতভূমি মাত্রই হিন্দুদের, হিন্দু ধর্মের, হিন্দু সংস্কৃতির, হিন্দুত্ববাদের- এ বিশ্বাস ও ডকট্রিন পুরনো এবং প্রোথিত। ৪৭ পূর্ব হিন্দু নেতাদের কেউ সেটা প্রকাশ্যে এনেছেন, কেউ অপ্রকাশ্যে চর্চা করেছেন। ভারত নিয়ন্ত্রক বিজেপি-কংগ্রেস ও বামসমগ্রের কেউ এ চিন্তাভঙ্গি থেকে খুব একটা দূরত্বে নেই। এজন্যই মুসলিম তরুণীদের হিজাব খোলা, এনআরসি, সিএএ কিংবা কাশ্মীরের বিশেষ সুবিধা বাতিল- এসব ইস্যুতে তারা বেশি একটা আলাদা হতে চান না- হতে পারেন না।

এমনকি দেশটির রাজনৈতিক দলের সারিতে নেই- এমন সব গণমাধ্যম-সুশীল, চিন্তাকেন্দ্র, বিনোদন-সংস্কৃতি জগৎ- প্রায় সবাই এবং সবগুলো প্রধান ধারা এই হিন্দুত্ববাদী সর্বগ্রাসী মুসলিম পীড়নেরসঙ্গে একাকার। সঙ্গত কারণেই দেশটির পাকিস্তান-বাংলাদেশ নীতি বা দৃষ্টিভঙ্গির জায়গাটাও এই হিন্দুত্ববাদী গ্রাস’-এর আওতাভুক্ত। ৪৭ পূর্বকালে ভারত বিভাগ ও মুসলিম লীগ চিন্তার বিরোধী স্বাধীন ভারতের প্রথম শিক্ষামন্ত্রী এবং দীর্ঘকাল জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তাঁর ইন্ডিয়া উইনস ফ্রীডমবইয়ে কংগ্রেসের হিন্দু নেতাদেরকে ভারতভাগের জন্য দায়ী করেছেন। বল্লভ ভাই প্যাটেল সরাসরি, আর পরোক্ষভাবে নেহেরু নিজেও যে ভারতভাগের পক্ষে ছিলেন এবং এজাতীয় নেতাদের যে ন্যূনতম মুসলিম স্বার্থ রক্ষা করে হিন্দু-মুসলিম ঐক্য বা সহাবস্থানের পক্ষে মতামত ছিল না- সেকথা তিনি ৩০ বছর পর উন্মোচিত ৩০ পৃষ্ঠায়তুলে ধরেছেন। আজকের ভারত ও ভারতবর্ষের নানা রকম সরকারি-বেসরকারি-আদালতি মুসলিম বিদ্বেষ’-এর শেকড় খোঁজার সময় এই পেছন বাস্তবতাগুলো সামনে থাকলে সুবিধা হবে।

ছয়।

কর্ণাটকের মুসকান বয়সে তরুণী হলেও তার প্রতিবাদ, তাকবীর, হিজাবের জন্য তার দৃঢ়তা ও আবেগ স্বভাবজাত মুসলিম নারীর আত্মমর্যাদাকেই সামনে তুলে ধরেছে। ভারতে চলমান ও ধারাবাহিক অস্তিত্বগত ও ধর্মীয় জুলুমের বিরুদ্ধে একটি শাণিত ও বুদ্ধিদীপ্ত সাহসী শান্ত প্রতিবাদ হিসেবে পৃথিবীর দেশে দেশে প্রশংসা কুড়িয়েছে। একজন মুসলিম নারীর হিজাবের মাত্রা, তার পর্দার পূর্ণতা- ইত্যাদি বিষয়ে মুসকানের চলমানতা ও পোশাক নিয়ে প্রশ্ন ওঠানোর সুযোগ থাকলেও আমাদের মনে হয়েছে, এখানে ইস্যুটি মুসলিম নারীর মৌলিক হিজাব ও সম্ভ্রমের অস্তিত্বের এবং একইসঙ্গে জয়শ্রীরামেরসর্বগ্রাসী শিরকি ধ্বনির বীভৎসতার সামনে আল্লাহু আকবার’-এর বলিষ্ঠ ও আত্মবিশ্বাসী অভিব্যক্তির। আধুনিক শিক্ষাধারার সঙ্গে যুক্ত মুসলিম তরুণী; এবং আরেকটু ব্যাপক পরিধিতে বললে শিরক ও তাগুতের বিপুল বিস্তৃত শয়তানী চিৎকারের সামনে তাওহীদ ও গায়রাতের এক দুনিয়া ভাসানো আল্লাহু আকাবারধ্বনি উচ্চারণ করে মুসকান তার দেশ ও সময়কালে সব শ্রেণির শিক্ষিত মুসলিম তরুণীদের পক্ষে একটি বড় দায়িত্ব পালন করেছেন। মুসলিম নারীর এই গায়রত অনুসরণীয় ও মোবারকবাদ-যোগ্য। আমরা তার জন্য দুআ করি।

মুসকানের প্রতিবাদী ঘটনার প্রায় ১০ দিন পর ১৭ ফেব্রুয়ারি কর্ণাটকের একটি কলেজে হিজাব পরিহিতা ইংরেজির এক শিক্ষিকাকে হিজাব খুলে কলেজে ঢুকতে বলা  হয়। ধর্মীয় প্রতীক বা পোশাক না পরে কলেজে ঢোকার নতুন’ ‘আইনেরকথা তাকে শোনানো হয়। ধমীর্য় ও জাতীগত আত্মমর্যাদার ওপর এই আঘাতটিকে সহজভাবে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হয়নি। তখন তিনি  চাকরি থেকে ইস্তফা দিয়ে চলে আসেন। মুসকানের প্রতিবাদ এবং প্রতিবাদ-উত্তর হিজাববিরোধী হিন্দুত্ববাদী আগ্রাসন ও তাণ্ডবের এসব হচ্ছে নতুন চিত্র। ঈমান, দ্বীন, দ্বীনী সংস্কৃতি এবং অস্তিত্ব ও প্রতিবাদের এক নতুন পথচলায় ভারতীয় মুসলমানরা। এর সঙ্গে দুনিয়ার মুসলমানরাও। ভারতের প্রতিবেশী দেশ এবং ইসলাম এলার্জিক মুষ্টিমেয় উগ্র সেক্যুলারের জনপদের বাসিন্দা হিসেবে আমাদেরও দরকার সর্বাত্মক সতর্কতা, সাহস ও ঈমানদারি। আমাদের জন্যে এসবের কোনো বিকল্প নাই। আল্লাহ তাআলা আমাদের হেফাজত করুন। হেফাজত করুন পৃথিবীর দেশে দেশে সব মুসলিম নর-নারীকে।

 

 

advertisement