মুহাম্মাদ শরীফ - ধানমণ্ডি, ঢাকা

৫৫১৬. প্রশ্ন

আমার বোনের হারনিয়া অসুখ হয়েছে। অপারেশন করা জরুরি। এখন মহিলা ডাক্তার পাওয়া যায় না। সকলে পুরুষ ডাক্তারের পরামর্শ দিচ্ছে। আমি জানতে চাই, এ ব্যাপারে শরীয়ত কী বলে? পুরুষ ডাক্তার দিয়ে কি তার অপারেশন করা জায়েয হবে?

উত্তর

উক্ত চিকিৎসার জন্য সার্জারি বিভাগের বিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার পাওয়া গেলে এবং তার থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করা নিরাপদ এবং সম্ভব হলে এধরনের মহিলা চিকিৎসককে দিয়েই অপারেশন করাতে হবে। এক্ষেত্রে পুরুষ ডাক্তারকে দেখানো যাবে না। আর যদি বিজ্ঞ মহিলা ডাক্তার পাওয়া না যায় তাহলে পুরুষ ডাক্তার দিয়েও অপারেশ করা যাবে। জরুরতের কারণে শরীয়ত এর অনুমোদন দিয়েছে। তবে এক্ষেত্রে শর্ত হল, রোগী দেখানোর সময় সাথে কাউকে রাখবে এবং অপারেশনের সময় নার্স বা সহযোগী ডাক্তার থাকার ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১০/১৫৬; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪০৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৫/৩৩০; রদ্দুল মুহতার ৬/৩৭০; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৭৩

শেয়ার লিংক

আফলাহ - বিজয়নগর, ঢাকা

৫৫১৫. প্রশ্ন

এক ছাত্র তার শিক্ষকের সাবালক ছেলেদেরকে হাদিয়া দেওয়ার উদ্দেশ্যে চকলেট জাতীয় কিছু দ্রব্য ক্রয় করে। এরপর তা শিক্ষকের কাছে পৌঁছে দেয়। (কেননা তার ছেলেদেরকে সরাসরি হাদিয়া দেওয়া যায় না) অতঃপর উক্ত শিক্ষকের সাথে কিছু বাচ্চা দেখা করতে এলে তিনি সেখান থেকে তাদেরকে কিছু চকলেট দিয়ে দেন। তাই জানতে চাচ্ছি, ছেলেদেরকে দেওয়ার আগেই শিক্ষকের জন্য সন্তানদের মালে হস্তক্ষেপ করা কি জায়েয হয়েছে?

উত্তর

হাঁ, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে শিক্ষকের জন্য সেখান থেকে ছাত্রদেরকে কিছু চকলেট দেওয়া দূষণীয় হয়নি; বরং তা জায়েয হয়েছে। কেননা বাবার সংসারে থাকা বালেগ ছেলেদের সম্পদে ন্যয়সংগত হস্তক্ষেপ ও খরচ করার অধিকার পিতার রয়েছে। বিশেষত যে ব্যয় বা হস্তক্ষেপ সন্তানের জন্য ক্ষতিকর নয়, তাতে অসুবিধা নেই।

-উমদাতুল কারী ১৩/১৪৩; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/৩০৮; আলমুগনী, ইবনে কুদামা ৮/২৭৬

শেয়ার লিংক

মুরশিদ - বাসাবো, ঢাকা

৫৫১৪. প্রশ্ন

কিছুদিন আগে আমার ছেলে হঠাৎ করে খুব অসুস্থ হয় পড়ে। তখন আমি মান্নত করি যে, আল্লাহ যদি আমার সন্তানকে সুস্থ করেন তাহলে আমি একটি গরু কুরবানী করে এর গোশত গরীবদের মাঝে বিতরণ করব। আমার সন্তান আল্লাহর রহমতে সুস্থ হয়েছে। কিন্তু তার চিকিৎসা বাবদ অনেক টাকা খরচ হয়ে গেছে। আর বাজারেও গরুর দাম অনেক। তবে আমার কাছে কিছু ছাগল আছে। এখন আমি যদি গরুর বদলে ঐ ছাগলগুলোর মাধ্যমে কুরবানী করে তা বিতরণ করি, তাহলে কি আমার কৃত মান্নত সহীহভাবে আদায় হবে?

উত্তর

গরু কুরবানীর মান্নত করার পর ছাগল দ্বারা তা আদায় করতে চাইলে একটি গরুর বদলে সাতটি ছাগল কুরবানী করবেন। এতে আপনার মান্নত আদায় হয়ে যাবে।

-খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১২৯; ফাতহুল কাদীর ৪/৩৭৫; আলবাহরুর রায়েক ৪/২৯৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪০

শেয়ার লিংক

আবুল বাশার - বি. বাড়িয়া

৫৫১৩. প্রশ্ন

আমি একটি প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকতা করি। এখানে ছাত্রদের সাপ্তাহিক বক্তৃতা মজলিস হয়। বক্তৃতায় অংশগ্রহণকারীদের প্রত্যেকের থেকে ১৫/২০ টাকা করে নেওয়া হয়। তারপর যারা ১ম, ২য়, ৩য় হয় তাদেরকে এই টাকা দিয়ে ইলমী কিতাব পুরস্কৃত করা হয়। কয়েক বছর যাবত এ পদ্ধতিই আমরা অবলম্বন করে আসছি। এ বছর আমাদের প্রতিষ্ঠানে একজন নতুন শিক্ষক আসেন। তিনি আমাদের বলেন, এ পদ্ধতি বৈধ নয়। হুজুরের কাছে জানতে চাই, ঐ শিক্ষকের কথা কি সঠিক? আর সঠিক হয়ে থাকলে এক্ষেত্রে বৈধ পন্থা কী হবে? বিস্তারিত জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

হাঁ, ঐ শিক্ষক ঠিক বলেছেন। প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের থেকে টাকা উঠিয়ে সেই টাকা দিয়ে বিজয়ীদের পুরস্কৃত করা জায়েয নয়। কেননা এটা শরীয়ত নিষিদ্ধ কিমারের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং এ উদ্দেশ্যে প্রতিযোগীদের থেকে চাঁদা ওঠানো যাবে না এবং এভাবে পুরস্কারও দেওয়া যাবে না। বৈধভাবে পুরস্কার দিতে চাইলে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী ছাড়া অন্যদের অনুদান থেকে ব্যবস্থা করতে হবে। অবশ্য এক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের কেউ স্বেচ্ছায় অনুদান দিতে চাইলে তাও নেওয়া যাবে।

-মুআত্তা ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ৮৫৯; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৭/৩৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/১৪; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৪০২; ফিকহুন নাওয়াযিল ৩/২১৭

শেয়ার লিংক

খাইরুল ইসলাম - নরসিংদী

৫৫১২. প্রশ্ন

আমি আমার এক বন্ধুকে ফোন করে তার কাছে ৯ হাজার টাকা ঋণ চাই এবং তাকে একটি বিকাশ নাম্বার দিই। তখন সে ঐ নাম্বারে বরাবর ৯ হাজার টাকা পাঠায়। ক্যাশআউটের খরচ সে দেয়নি। আমি নিজ খরচে ক্যাশআউট করেছি। এখন জানার বিষয় হল, ১. ক্যাশআউটের খরচ পরিমাণ টাকা আমি কম পেয়েছি বলে ধর্তব্য হবে কি না? অর্থাৎ সরাসরি টাকা ফেরত দেওয়ার সময় ঐ পরিমাণ টাকা আমি কেটে রাখতে পারব কি না?

২. আমি যদি বিকাশের মাধ্যমে টাকা দিই তাহলে সেক্ষেত্রে ক্যাশআউটের খরচ আমার পক্ষ থেকে দিতে হবে কি না? নাকি বরাবর ৯ হাজার টাকা পাঠালেই চলবে? বিস্তারিত জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার বন্ধু থেকে যেহেতু ৯ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছেন তাই পুরো ৯ হাজার টাকাই তাকে ফেরত দিতে হবে। আর আপনার জরুরতেই যেহেতু বিকাশের মাধ্যমে এ টাকা পাঠানো হয়েছে তাই এসংক্রান্ত খরচ অর্থাৎ ক্যাশআউটের খরচ আপনাকেই বহন করতে হবে। এ টাকার কোনো অংশ ঋণদাতার উপর চাপানো যাবে না। এমনকি পরিশোধের সময়ও বিকাশের মাধ্যমে পাঠালে এবং ঋণদাতা ক্যাশআউট করলে এর ক্যাশআউটের খরচও আপনাকেই বহন করতে হবে।

-আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩১৭; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৮৩; আদ্দুররুল মুখতার ৫/৬৮২

শেয়ার লিংক

মাহদী হাসান - মুন্সিগঞ্জ

৫৫১১. প্রশ্ন

আমি এবং আমার বন্ধু মিলে একটি দোকান দিয়েছি। দোকানে টাকা লোড করা হয় এবং মোবাইলের টুকিটাকি কিছু কাজও করা হয়। একলক্ষ টাকা দিয়ে আমরা এ দোকান শুরু করেছি। আমি ষাট হাজার দিয়েছি। আমার বন্ধু চল্লিশ হাজার দিয়েছেন। এ টাকা আমরা আসবাব-পত্র ও যন্ত্রপাতি কেনা এবং প্রাথমিক দোকান ভাড়া ও দোকান সজ্জায়ন করা ইত্যাদি কাজে ব্যয় করেছি। আমাদের মাঝে কথা হয়েছিল, মূলধনের আনুপাতিক হারেই লাভ বণ্টিত হবে। অর্থাৎ আমি নিব লাভের শতকরা ৬০% আর আমার বন্ধু নেবে শতকরা ৪০%। এতদিন এভাবেই চলছিল। কিন্তু এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, আমার বন্ধু দোকানে একটু বেশি সময় লাগাবে এবং সে লাভও বেশি নেবে। অর্থাৎ এখন থেকে আমিও নিব ৫০%, সেও নেবে ৫০%।

জানার বিষয় হল, এভাবে আমাদের শরিকানা চুক্তি বৈধ হবে কি না? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী উক্ত ব্যবসায় আপনারা উভয়ে যেহেতু শ্রম দিচ্ছেন, তাই পূর্বের চুক্তিটি সহীহ হয়েছে। আর কারবারটিতে শ্রমই যেহেতু মূল, তাই যার শ্রম ও দক্ষতা বেশি থাকবে পুঁজির তুলনায় তার অংশ বেশি নির্ধারণ করাও জায়েয। সে হিসেবে আপনার বন্ধু যদি শ্রম বেশি দেয় তাহলে তার জন্য পূর্বের তুলনায় বেশি লভ্যাংশ নির্ধারণ করাও জায়েয হবে।

-বাদায়েউস সানায়ে ৫/৮৬; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৯৬; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ৩/৪৯; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬২৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৭/৫০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৩৪

শেয়ার লিংক

সাঈদুল হক নাসীম - মোমেনশাহী

৫৫১০. প্রশ্ন

আমি দোকান থেকে এক হালি (৪টি) হাসের ডিম চল্লিশ টাকা দিয়ে কিনি। বাড়ীতে আসার পর ডিমগুলো যখন ভাঙি তখন একটি ডিম নষ্ট পাই। সেই নষ্ট ডিমটি আমি দোকানীর নিকট নিয়ে বলি, আপনি আমাকে নষ্ট ডিম দিয়েছেন, সুতরাং আরেকটি ডিম দিন অথবা এটার মূল্য ফেরত দিন। তখন দোকানী বলে, আমি আপনার এই ডিম কীভাবে ফেরত নিব? এটা তো আমি টাকা দিয়ে কিনেছি। যদি না ভাঙতেন তাহলে ফেরত নিতাম। এখন আমি এটা ফেরত নিতে পারব না।

সম্মানিত মুফতী সাহেবের কাছে জানার বিষয় হল, নষ্ট ডিমটি ফেরত নেওয়া কি তার উপর আবশ্যক ছিল না? ফেরত না নিয়ে সে কি কাজটি ঠিক করেছে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

একেবারেই ব্যবহার অনুপযুক্ত নষ্ট ডিম বিক্রি করা জায়েয নয়। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ডিমগুলো ভাঙার পর একটি ডিম যেহেতু নষ্ট পাওয়া গেছে, তাই বিক্রেতার জন্য এর মূল্য ফেরত দেওয়া আবশ্যক। ডিমটি ভেঙে ফেলার কারণে মূল্য ফেরত পাবে না- এ কথা ঠিক নয়। তাই এ অজুহাতে মূল্য ফেরত না দেওয়া অন্যায় ও গোনাহ হবে। উপরন্তু বিক্রেতার জন্য নষ্ট ডিমের মূল্য রেখে দেওয়া হালাল হবে না।

-কিতাবুল আছল ২/৫০০; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/১২৩, ১৩৩; ফাতহুল কাদীর ৬/১৯; তাবয়ীনুল হাকায়েক ৪/৩৪৭; ফাতাওয়া খানিয়া ২/২০৫; আলবাহরুর রায়েক ৬/৫৪; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ২/৩৩৫

শেয়ার লিংক

মাহবুবুর রহমান - কুষ্টিয়া

৫৫০৯. প্রশ্ন

আমার একটা লেপ-তোশকের দোকান আছে। কিছু লেপ-তোশক তৈরি করে বিক্রয়ের জন্য দোকানে রেখে দিই। আবার কেউ অর্ডার দিলে আমি নিজের থেকে সব সরঞ্জাম দিয় তার পছন্দমত লেপ-তোশক তৈরি করে দিই। মাঝেমধ্যে এমন হয় যে, কারো অর্ডার অনুযায়ী পণ্য তৈরি করে রাখার পর অন্য ক্রেতা এসে তা পছন্দ করে ফেলে এবং তা কেনার জন্য জোরাজুরি শুরু করে। তখন অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার কাছে বিক্রি করতে হয়। তবে বিক্রি করার পর মূল অর্ডার দাতার জন্য সময়মত অনুরূপ আরেকটি পণ্য বানিয়ে দিই। কয়েকদিন যাবত মনের মধ্যে খটকা লাগছে যে, অর্ডারদাতার জন্য পণ্য তৈরি করার পর তার অনুমতি ছাড়া অন্যজনের কাছে বিক্রি করা কি আমার জন্য বৈধ হয়? পূর্বে এভাবে যত পণ্য বিক্রি করেছি তার অর্থ কি আমার জন্য হালাল হবে? হুজুরের কাছে অনুরোধ, বিষয়টি সম্পর্কে জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

অর্ডারকৃত পণ্য প্রস্তুত করার পর অর্ডারদাতা তা দেখে চূড়ান্ত করার আগ পর্যন্ত তাতে তার মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয় না; বরং তা দোকানীর মালিকানায় থাকে। সুতরাং এসময় অন্য কাস্টমারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া নাজায়েয নয়। তখন অর্ডারদাতাকে সময়মত অনুরূপ মানসম্পন্ন আরেকটি পণ্য বানিয়ে দিতে হবে। সুতরাং বিগত দিনে এভাবে বেচা-কেনা করে থাকলে তা জায়েয হয়েছে। এবং এ বাবদ প্রাপ্ত অর্থ আপনার জন্য হালাল হয়েছে।

প্রকাশ থাকে যে, দোকানীর জন্য কারো অর্ডারি পণ্য অন্যত্র  বিক্রি করার ক্ষেত্রে মূল শর্তই হল সময়মত যথাযথ মান রক্ষা করে অর্ডারদাতার জন্য তার পণ্য বানিয়ে  দিতে পারা। কিন্তু যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে অন্যত্র বিক্রি করা অন্যায় হবে। ওয়াদা ভঙ্গের গুনাহ হবে।

-কিতাবুল আছল ৩/৪৩৮; আলমাবসূত, সারাখসী ১৫/৯০; আলমুহীতুল বুরহানী ১০/৩৬৬; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৪৪; ফাতহুল কাদীর ৬/২৪২; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৩/২০৮; রদ্দুল মুহতার ৫/২২৪

শেয়ার লিংক

রফিকুল ইসলাম - যশোর

৫৫০৮. প্রশ্ন

আমার এবং আমার ভাইয়ের যৌথ মালিকানাধিন তিনটা পুকুর আছে। পুকুরগুলোর জমির ৬৫% মালিকানা আমার। আর ৩৫% মালিকানা ভাইয়ের। এবছর বর্ষার মৌসুমে পুকুরগুলোতে প্রচুর মাছ হয়েছে। ভাই শহরে থাকার কারণে তার সাথে এভাবে চুক্তি করেছি যে, আমি পুকুর থেকে মাছ ধরে বিক্রি করব এবং এ বাবদ আমি ১০,০০০/- টাকা নেব। তারপর যে টাকা থাকবে তা আমরা সমানভাবে বণ্টন করে নেব। জানার বিষয় হল, শরীয়তের দৃষ্টিতে আমাদের এই চুক্তি কি সহীহ হয়েছে?

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত অবস্থায় পুকুরগুলো থেকে মাছ শিকারের কারণে আপনার ভাইয়ের জন্য মালিকানা অংশের চেয়ে বেশি লভ্যাংশ নির্ধারণ করা জায়েয হয়নি এবং মাছ শিকার বাবদ আপনার জন্য পারিশ্রমিক হিসাবে নির্ধারিত অংক ধার্য করাও ঠিক হয়নি; বরং এক্ষেত্রে লভ্যাংশ প্রত্যেকের মালিকানার হার অনুযায়ী বণ্টিত হবে। আর মাছ শিকারের জন্য আপনার ভাইয়ের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে তার পক্ষ থেকে লোক নিয়োগ দিতে পারবেন। কিন্তু লোক না নিয়ে যদি আপনি নিজেই মাছ শিকার করেন তাহলে আপনার ভাইয়ের অংশের মাছ শিকার বাবদ কোনো পারিশ্রমিক নিতে পারবেন না।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৩; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/৩৬৭; আলহাবিল কুদসী ২/৮৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩০১; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা ১০৭৩; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ৪/১৪; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬০

শেয়ার লিংক

আযীযুল ইসলাম - যাত্রাবাড়ি, ঢাকা

৫৫০৭. প্রশ্ন

আমি ও আমার চাচা দুজনে মিলে ঘেরে মাছ চাষ করি। মূলধন হিসেবে আমাদের উভয়েরই দুই লক্ষ টাকা করে রয়েছে। এই ব্যবসায় চাচার দক্ষতা বেশি থাকায় তার জন্য ৬০% এবং আমার জন্য ৪০% লভ্যাংশ নির্ধারণ করি এবং ব্যবসায় লোকসান হলে প্রত্যেকে উক্ত হার অনুযায়ী লোকসান বহন করার চুক্তি করি।

আমাদের জানার বিষয় হল, উক্ত কারবারে লাভ-লোকসান উভয় ক্ষেত্রে চাচার জন্য ৬০% আর আমার জন্য ৪০% নির্ধারণ করা কী শরীয়তসম্মত হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার চাচার জন্য ৬০% আর আপনার জন্য ৪০% লভ্যাংশ নির্ধারণ করা সহীহ হয়েছে। কিন্তু লভ্যাংশের এ হার অনুযায়ী লোকসান বহন করার চুক্তি সহীহ হয়নি। কেননা যৌথ মূলধনী কারবারে লোকসান হলে তা প্রত্যেকের মূলধনের হার অনুপাতেই বহন করতে হবে। লোকসান বহনের ক্ষেত্রে মূলধন থেকে কম-বেশির শর্ত করা জায়েয নয়।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২০৩২৯; আলমাবসূত, সারাখসী ১১/১৫৬; বাদায়েউস সানায়ে ৫/৮৩; ফাতহুল কাদীর ৫/৩৯৭; আলবাহরুর রায়েক ৫/১৭৪; শরহুল মাজাল্লাহ, আতাসী ৪/২৬৮

শেয়ার লিংক

আবদুল কাদির - খুলনা

৫৫০৬. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে ফিল্টার কেনার জন্য মার্কেটে যাই। এক দোকানে দাম জিজ্ঞাসা করলে বলে ১১০০/= টাকা। আমি বলি ৯০০/= টাকায় হলে নিব। দোকানদার ঐ দামে বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় দোকান থেকে বের হয়ে যাই। তখন দোকানদার ডাক দিয়ে বলল, নিয়ে যান। তখন আমার মত পরিবর্তন হয়ে যায়। তাই বললাম, নিব না। দোকানদার বলল, আপনার বলা দামেই তো দিচ্ছি। নেবেন না কেন? এখন আপনাকে নিতে হবে। এরপর ঐ পণ্যটি বিক্রি করার জন্য জোরাজুরি শুরু করে। তার অবস্থা এমন ছিল যে, পণ্যটি গ্রহণ না করা আমার জন্য অন্যায় হচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পণ্যটি তার দোকান থেকে না নিয়ে অন্য দোকান থেকে আরো কম মূল্যে ক্রয় করি।

আমার জানার বিষয় হল, উক্ত ক্ষেত্রে কি আমাদের মধ্যে বিক্রয় সংঘটিত হয়ে গিয়েছিল? পণ্যটি তার থেকে গ্রহণ না করা কি আমার জন্য অন্যায় হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বিক্রেতা আপনার প্রস্তাবিত মূল্যে পণ্যটি দিতে রাজি না হওয়ার পর আপনি যেহেতু তার দোকান থেকে বের হয়ে গেছেন তাই আপনার ঐ প্রস্তাব বাতিল হয়ে গেছে। পরবর্তীতে সে আপনার উক্ত প্রস্তাবিত দামে বিক্রি করতে সম্মত হলেও তখন তা গ্রহণ করা আপনার উপর জরুরি নয়; বরং এক্ষেত্রে আপনার ইচ্ছাধীন থাকবে- উক্ত দামে পণ্যটি গ্রহণ করা বা না করা। তাই এক্ষেত্রে তার থেকে পণ্যটি না কেনা আপনার অন্যায় হয়নি।

-শরহু মুখতাসারিত তাহাবী ৩/১১; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩২৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৯/২২১; মাজাল্লাতুল আহকামিল আদলিয়্যা, মাদ্দা ১৮৩; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৭২; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫২৭

শেয়ার লিংক

মুআয বিন নূর - সুলতানপুর, সাতক্ষীরা

৫৫০৫. প্রশ্ন

আমাদের মহল্লায় মাত্র দুটি মসজিদ। ঘন বসতি হওয়ায় সেখানে আমাদের মহল্লায় সব লোকের জায়গা হয় না। আর কিছু কিছু স্থান থেকে মসজিদ এত দূরে যে, সেখান থেকে মসজিদে গিয়ে জামাতে শরীক হওয়াও মুশকিল হয়ে দাঁড়ায়। তাই আমাদের মহল্লার সবাই পরামর্শ করে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, মহল্লায় আরেকটা মসজিদ নির্মাণ করা হবে। তো এ উদ্দেশ্যে আমার বাবা পাঁচ কাঠা জমি ওয়াকফ করেছেন এবং ঐ জায়গা মসজিদের জন্য লিখে দিয়েছেন। কিন্তু ঐ জায়গায় আমাদের কিছু সবজি ক্ষেত ও ধান ক্ষেত আছে। আমরা চাচ্ছি যে, মসজিদ নির্মাণ কাজ শুরু হওয়ার আগে আমাদের ধান ও সবজিগুলো কেটে নেব। কিন্তু এলাকার কিছু লোক বলেছেন যে, না। আপনাদের এই জমি যেহেতু মসজিদের জন্য ওয়াকফ হয়ে গেছে তাই এখানকার সবকিছু মসজিদের কল্যাণেই ব্যবহার করতে হবে। সুতরাং আপনারা কিছুই কেটে নিতে পারবেন না। সঠিক বিধান জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

জমি ওয়াকফ বা বিক্রি করলে মৌসুমি ফসল তার অন্তর্ভুক্ত হয় না। তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে উক্ত জমির ধান ও সবজি যারা লাগিয়েছে তারাই এর মালিক হবে। এগুলো কেটে নিয়ে তারা নিজ কাজে ব্যবহার করতে পারবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই।

-আলফাতাওয়া মিন আকাবীলিল মাশাইখ, পৃ. ৫৪৪; ফাতাওয়া ওয়ালওয়ালিজিয়া ৩/১০৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৮/৫০৫; ফাতহুল কাদীর ৫/৪২৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ২/৩৬৩

শেয়ার লিংক

মুহিউদ্দীন - বাড্ডা, ঢাকা

৫৫০৪. প্রশ্ন

আমার চাচা এক বছর আগে আমাকে ওসিয়ত করেছিলেন যে, তিনি মারা গেলে একটি হাউজিং-এ তার যে দশ কাঠা জমি আছে তা তার পক্ষ থেকে মাদরাসা-মসজিদের জন্য ওয়াকফ করতে। কিন্তু কিছুদিন আগে আমার চাচি একটি বড় রোগে আক্রান্ত হয়েছেন। যার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন। তাই আমার চাচা চাচ্ছেন, এ দশ কাঠা জমি থেকে ৪ কাঠা বিক্রি করে ঐ টাকা দিয়ে চাচির চিকিৎসা করাতে। মুহতারাম, আমার চাচার জন্য ঐ জমি বিক্রি করা জায়েয হবে কি না এবং ঐ টাকা চাচির চিকিৎসায় ব্যবহার করতে পারবে কি না?

উত্তর

ওসিয়ত কার্যকর হয় ওসিয়তকারীর মৃত্যুর পর। তাই ওসিয়তকারী চাইলে জীবদ্দশায় তার কৃত ওসিয়ত প্রত্যাহার বা পরিবর্তন করতে পারে। অতএব প্রশ্নোক্ত অবস্থায় আপনার চাচা যদি বাস্তবেই শুধু ওসিয়ত করে থাকেন, জমিটি মাদরাসা-মসজিদকে দান করে না দিয়ে থাকেন, তাহলে এক্ষেত্রে তিনি ঐ জমি বা তার অংশবিশেষ বিক্রি করতে পারবেন এবং বিক্রিলব্ধ টাকা আপনার চাচির চিকিৎসায় খরচ বা অন্য কোনো কাজে লাগাতে পারবেন।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৩১৪৪৯; আলমাবসূত, সারাখসী ২৭/১৬২; বাদায়েউস সানায়ে ৬/৪৯৩; আলমুহীতুল বুরহানী ২২/৪২৮; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ৪/২৩১; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৬৫৮

শেয়ার লিংক

সুহাইল - ঢাকা

৫৫০৩. প্রশ্ন

আমার আব্বু কয়েক মাস আগে হঠাৎ

করেই খুব বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েন। তখন আমি এই বলে মান্নত করি যে, আমার বাবা যদি সুস্থ হয়ে যান তাহলে আমি কয়েকটা রোযা রখব এবং গরীব-মিসকীনদের খাবার খাওয়াব। দশ-পনেরো দিন হল আমার আব্বুর অবস্থা আগের থেকে অনেক ভালো। এখন আমি আমার মান্নত পূর্ণ করতে চাচ্ছি। এজন্য আমার কয়টি রোযা রাখতে হবে এবং কতজন গরীব-মিসকীনকে খাওয়াতে হবে? আমি তো তখন কোনো সংখ্যা নির্ধারণ করিনি। বিষয়টি জানালে খুব উপকৃত হব।

 

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার উক্ত মান্নত পূরণের জন্য কমপক্ষে তিনটি রোযা ও অন্তত দশজন মিসকীনকে খাবার খাওয়াতে হবে।

-আলজামেউল কাবীর, পৃ. ৬০; বাদায়েউস সানায়ে ৪/২৪৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১২৯; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৭৪২

শেয়ার লিংক

মকবুল হুসাইন - চাঁদপুর

৫৫০২. প্রশ্ন

একবার আমি একটি বড় রোগে আক্রান্ত হই। চিকিৎসা করছিলাম তবুও ভালো হচ্ছিল না। এদিকে আমার একটি ছাগল ছিল। তখন আমি মান্নত করি, ‘যদি আমি এই রোগ থেকে মুক্তি পাই, তাহলে এই ছাগলটি মাদরাসার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে সদকা করব।কিন্তু কিছুদিন পর সেই ছাগলটিকে কয়েকটি কুকুর কামড়ে মেরে ফেলে। এর প্রায় এক মাস পর আমি উক্ত রোগ থেকে মুক্তি পাই।

মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, এখন আমি উক্ত মান্নত কীভাবে আদায় করব? জনৈক হুজুর বলেছেন, এখন উক্ত ছাগলের সমপরিমাণ মূল্য সদকা করতে হবে। তার কথা কি ঠিক? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যেহেতু আপনি রোগ থেকে মুক্তি পাওয়ার শর্তে নির্দিষ্ট ওই ছাগলটি সদকা করার মান্নত করেছিলেন আর আপনি সুস্থ হওয়ার আগেই ছাগলটি মারা গেছে। তাই এক্ষেত্রে আর মান্নতটি প্রযোজ্য হবে না। আপনাকে এজন্য কিছুই করতে হবে না। উক্ত ছাগলের মূল্য সদকা করতে হবে- প্রশ্নের কথাটি ঠিক নয়।

-বাদায়েউস সানায়ে ৪/১৯৯; আলমুহীতুল বুরহানী ৬/৩৫৪; রদ্দুল মুহতার ৬/৩২৫

শেয়ার লিংক

ফাতেমা খাতুন - মুন্সিগঞ্জ

৫৫০১. প্রশ্ন

মায়মুনা আক্তারের স্বামী মারা যায়। এরপর সে অন্যত্র বিবাহ করে। সেই স্বামীর অন্য স্ত্রী থেকে একটি মেয়ে আছে। ঐ মেয়ে বড় হওয়ার পর তাকে বিবাহ দেওয়া হয়। এখন প্রশ্ন হল, মায়মুনা আক্তার কি ঐ মেয়ের স্বামীর সাথে দেখা করতে পারবে? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

স্বামীর অন্য স্ত্রীর মেয়ের জামাই মাহরাম নয়। তাই ঐ মহিলার জন্য তার সাথে দেখা করা জায়েয হবে না।

-মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৬৬৭১; আলমাবসূত, সারাখসী ৪/২১১; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১০৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৮; রদ্দুল মুহতার ৩/৩৯

শেয়ার লিংক

যাকির হোসাইন - বসুন্ধরা, ঢাকা

৫৫০০. প্রশ্ন

গত বছর আমার মা ইন্তেকাল করেন। এরপর আমার বাবা আরেকটি বিয়ে করেন। সৎ মায়ের মা মাঝে মাঝে আমাদের বাড়িতে আসেন। আমি তাকে নানী ডাকি এবং তার সামনে যাই। কিছুদিন আগে আমার এক ভাই, যে মাদরাসায় পড়ে সে বলল, সৎ মার মায়ের সাথে নাকি পর্দা করতে হয়। তার কথা কি ঠিক?

 

উত্তর

হাঁ, সে ঠিকই বলেছে। সৎ মায়ের মা মাহরামের অন্তর্ভুক্ত নন। তিনি যদি খুব বৃদ্ধা না হয়ে থাকেন তবে তার সাথে পর্দা করা জরুরি।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/২১১; ফাতাওয়া খাইরিয়া ১/৩৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৭; রদ্দুল মুহতার ৩/৩১

শেয়ার লিংক

সাজ্জাদ - কুয়াকাটা

৫৪৯৯. প্রশ্ন

প্রায়ই আমার নানীর সাথে নানীর ছোট বোন আমাদের বাড়ী আসেন। নানীর বোনের সাথে পর্দার বিধান আছে কি না জানা না থাকায় আমি তার সামনে যাই না। কিন্তু তিনি আমার সামনে চলে আসেন। ফলে বিষয়টি নিয়ে আমি বেশ চিন্তিত।

মুহতারামের কাছে জানতে চাচ্ছি, নানীর বোন কি মাহরামের অন্তর্ভুক্ত? আমি কি তার সামনে যেতে পারব? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

নিজের খালার ন্যায় মায়ের খালাও মাহরামের অন্তর্ভুক্ত। আর নানীর বোন হচ্ছে মায়ের খালা। তাই আপনি আপনার নানীর বোনের সাথে দেখা করতে পারবেন।

-তাফসীরে রূহুল মাআনী ৪/২৫২; তাফসীরে মাযহারী ২/২৬৫; বাদায়েউস সানায়ে ২/৫৩০; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৭৩; রদ্দুল মুহতার ৩/৩০

শেয়ার লিংক

আমীনুল ইসলাম - মানিকগঞ্জ

৫৪৯৮. প্রশ্ন

আমি একজন ব্যবসায়ী। আমি পূর্ণরূপে দ্বীনের উপর চলতে চাই এবং আমার পরিবারকেও দ্বীনের উপর চালানোর চেষ্টা করি। কিন্তু আমার স্ত্রী দ্বীনের উপর চলতে আগ্রহী নয়। সে পর্দা-পুশিদার গুরুত্ব দেয় না এবং আমার অনুমতি ছাড়া মার্কেটে ঘুরতে যায়। মার্কেটে ঘুরতে যাওয়ার ব্যাপারে আমি অনেকদিন নিষেধ করি। সে তা মানে না। অবশেষে গতকাল আমি আমার দোকানে ছিলাম, বাড়িতে আসার পর শুনতে পাই, আমার স্ত্রী মার্কেটে ঘুরতে গিয়েছিল। তখন আমি তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলে সে আমার সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ে এবং অনেক বাড়াবাড়ি করে। একপর্যায়ে আমি তাকে বলি, ‘তোমার সাথে ঘর-সংসার করা আমার পক্ষে সম্ভব নয়। তাই আজ থেকে তুমি আমার জন্য হারাম, হারাম, হারাম।এবং উক্ত কথাটি আমি তালাকের নিয়তে বলেছিলাম। পরবর্তীতে আমার স্ত্রী তার ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয় এবং পূর্ণ দ্বীনের উপর চলার প্রতি অঙ্গিকারবদ্ধ হয়। তাই আমি জানতে চাচ্ছি, আমার স্ত্রীকে তুমি আজ থেকে আমার জন্য হারাম, হারাম, হারামবলার কারণে কি তালাক পতিত হয়েছে? এবং এখন কি আমরা পুনরায় ঘর-সংসার করতে পারব। জানিয়ে উপকৃত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি আপনার স্ত্রীকে তালাকের উদ্দেশ্যে হারামশব্দটি একবার উচ্চারণের পরই তার উপর একটি বায়েন তালাকপতিত হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গেছে। পরবর্তী দুটি দ্বারা কোনো তালাক পতিত হয়নি। এখন পুনরায় আপনারা সুষ্ঠুরূপে ঘর-সংসার করতে চাইলে নতুন করে মহর ধার্য করে যথানিয়মে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে হবে। এক্ষেত্রে যেহেতু এক তালাক হয়ে গেছে তাই ভবিষ্যতে আপনি শুধু দুই তালাকের অধিকারী থাকবেন। অর্থাৎ ভবিষ্যতে কখনো দুই তালাক হলেই আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক একেবারেই ছিন্ন হয়ে যাবে। তখন নতুন করে বিবাহের মাধ্যমেও আপনারা একে অপরের জন্য হালাল হবেন না।

উল্লেখ্য, তালাক হচ্ছে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা একেবারে জটিল হয়ে পড়লে এবং সমস্যা নিরসনের আর কোনো উপায় না থাকলে তা থেকে নিষ্কৃতির সর্বশেষ পথমাত্র। বিনা কারণে কিংবা তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে তালাক দেওয়া, কথায় কথায় তালাক দেওয়া সবই গুনাহের কাজ। এ থেকে বিরত থাকা যে কোনো মুসলমানের কর্তব্য।

-ফাতাওয়া বাযযাযিয়া ৪/১৮৮; ফাতহুল কাদীর ৩/৪০৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩০৮; ইমদাদুল মুফতীন, পৃ. ৫২৫

শেয়ার লিংক

মায়মুনা খাতুন - টাঙ্গাইল

৫৪৯৭. প্রশ্ন

পাঁচ মাস পূর্বে আমার স্বামী ঝগড়ার সময় বলে, ‘তুই তালাক।  তারপর সে আমাকে বলেছিল যে, শুধু মুখে তালাক দিলে তালাক হয় না। তাই আমরা একসাথে ঘর-সংসার করতে থাকি। ঘটনার কিছুদিন পর এক হুজুরের ওয়াজ শুনে জানতে পারলাম, শুধু মৌখিকভাবে তালাক দিলেও তালাক হয়ে যায়। এরপর থেকে আমি তার থেকে আলাদা থাকতে শুরু করি এবং তাকে সঠিক মাসআলা জেনে আসতে বলি। সে আজ-কাল করে তিন মাস পার করে দেয়। সে আমাকে তালাক দিয়ে দিয়েছে তাই এখন আমি তার সাথে আর সংসার করতে চাই না।

আমার জানার বিষয় হল, এমতাবস্থায় আমি কি অন্যেত্র বিবাহ করতে পারব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার স্বামী আপনাকে তুই তালাকবাক্যটি বলার কারণে আপনার উপর এক তালাকে রাজয়ী পতিত হয়েছে। এরপর আপনাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথে থাকার দ্বারা রাজআত হয়ে বিবাহ পুনঃবহাল হয়ে গিয়েছে। এখন আপনি আপনার স্বামীর বিবাহে পূর্ণ বিবাহধীন স্ত্রী। তাই এ অবস্থায় আপনি অন্যত্র বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে পারবেন না।

প্রকাশ থাকে যে, আপনার স্বামী ভবিষ্যতে শুধু দুই তালাকের অধিকারী থাকবেন। তাই ভবিষ্যতে কখনো দুই তালাক দিলেই আপনাদের বিবাহ সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। তখন নতুন বিবাহের মাধ্যমেও আপনারা একে অপরের জন্য হালাল হবেন না।

আরো প্রকাশ থাকে যে, তালাক হচ্ছে বৈবাহিক সম্পর্ক ছিন্নকারী চূড়ান্ত পদক্ষেপ। দাম্পত্য জীবনের সমস্যা একেবারেই জটিল হয়ে পড়লে এবং সমস্যা থেকে নিরসনের কোনো উপায় না থাকলে তা থেকে নিষ্কৃতির সর্বশেষ পথ। তাই বিনা

কারণে বা রাগের মাথায় তালাক দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

-কিতাবুল আছল ৪/৩৯৬; আলমুহীতুল বুরহানী ৪/৩৯৩; বাদায়েউস সানায়ে ৩/১৬১, ২৮৩; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ২/১১৬; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩৫৪; আলবাহরুর রায়েক ৩/২৫৫, ২৩৫, ৪/৫০; আদ্দুররুল মুখতার ৩/২৪৮

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - সাতক্ষীরা

৫৪৯৬. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি উমরা করতে যায়। উমরা শেষ করার পর সে তায়েফ যায়। সেখান থেকে ফেরার সময় মাসআলা না জানার কারণে সে ইহরাম করে আসেনি। এভাবেই সে মক্কায় চলে আসে। এরপর সে মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম করে আবার উমরা আদায় করে। এরপর একজন মুফতী সাহেব থেকে সে জানতে পারে যে, তায়েফ থেকে তার ইহরাম করে আসা জরুরি ছিল। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে মাসআলা হল, পুনরায় কোনো মীকাত থেকে ইহরাম করে আসা বা দম দেওয়া। এখন সে মদীনা মুনাওয়ারা যাবে। তাই জানার বিষয় হল, সেখান থেকে আসার সময় সে আবার উমরার ইহরাম করে যদি আবার মক্কায় আসে তবে কি তার দম মাফ হবে? এক্ষেত্রে তার করণীয় কী? জানালে কৃতজ্ঞ থাকব।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ঐ ব্যক্তি তায়েফ থেকে আসার পর যেহেতু মীকাতে না গিয়ে হিল থেকে ইহরাম করে উমরা আদায় করে নিয়েছে তাই এক্ষেত্রে তার উপর দম দেওয়া অপরিহার্য হয়ে গেছে। সুতরাং এখন কোনো মীকাত থেকে ইহরাম করে আসার দ্বারা তার উক্ত দম মাফ হবে না। এক্ষেত্রে তাকে হেরেমের এলাকায় একটি পশু জবাই করার মাধ্যমে উক্ত দম আদায় করতে হবে।

উল্লেখ্য, যদি লোকটি মসজিদে আয়েশা থেকে ইহরাম করে উমরা না করতো তবে মদীনা মুনাওয়ারা থেকে ফেরার পথে ইহরাম করে উমরার মাধ্যমে তার ক্ষতিপূরণ হয়ে যেত এবং দম মওকুফ হয়ে যেত।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১৭০; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪১৪; ফাতহুল কাদীর ৩/৪০; আলবাহরুর রায়েক ৩/৪৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/৫৭৯

শেয়ার লিংক

আহমদ জামিল - খুলনা

৫৪৯৫. প্রশ্ন

২০১৮ সালে আমি প্রথম হজে¦ যাই। কিরান হজ¦ করায় প্রায় ১৫ দিনের মতো ইহরাম অবস্থায় থাকতে হয়। ইহরাম অবস্থায় বেশ কয়েকদিন সুগন্ধিযুক্ত বিরিয়ানী খাই। জানার বিষয় হল, ইহরাম অবস্থায় উক্ত খাবার খাওয়ার কারণে কি আমার উপর কোনো জরিমানা ওয়াজিব হয়েছে?

উত্তর

ইহরাম অবস্থায় সুগন্ধিযুক্ত খাবার গ্রহণ করা নিষেধ নয়। তাই উক্ত খাবার খাওয়ার কারণে হজে¦র কোনো ক্ষতি হয়নি। কোনো জরিমানাও আসেনি। তবে রান্নার পর তাতে পৃথকভাবে সুগন্ধি যোগ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

-আলমাবসূত, সারাখসী ৪/১২৩; ফাতহুল কাদীর ২/৪৪১; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪৩৯; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২৪১

শেয়ার লিংক

আব্দুল গনী - মোহাম্মাদপুর, ঢাকা

৫৪৯৪. প্রশ্ন

আমি প্রতি বছর ৭০/৮০ হাজার টাকা যাকাত হিসাবে দিয়ে থাকি। আমার একজন দুধ-মা আছেন, যিনি অত্যন্ত দরিদ্র। এ বছর আমি চাচ্ছি, আমার দুধ-মাকে যাকাতের কিছু টাকা দিব। এক্ষেত্রে জানার বিষয় হল, দুধ-মাকে যাকাতের টাকা প্রদান করা কি শরীয়তসম্মত হবে?

উত্তর

নিজ মাকে যাকাত দেওয়া যায় না। কিন্তু দুধ-মাকে যাকাতের টাকা দিতে পারবেন।

-কিতাবুল আছল ২/১২৪; ফাতহুল কাদীর ২/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৬

শেয়ার লিংক

সাদুল্লাহ - বি. বাড়িয়া

৫৪৯৩. প্রশ্ন

গত বছর আমার কাছে দুই লক্ষ টাকা ছিল। ভেবেছিলাম, টাকাগুলো দিয়ে ঘরের ছাদের কাজ ধরব। কিন্তু কিছুদিন পর আমার বড় ভাইয়ের মেয়ের বিয়ের সময় টাকাগুলো আমার কাছ থেকে ধার নেয়। এক বছর হয়ে গেছে এখনও টাকাগুলো দিতে পারেনি। জানার বিষয় হল, আমার উপর কি উক্ত দুই লক্ষ টাকার যাকাত দেওয়া ফরয? জানালে উপকৃত হব।

উত্তর

ধার দেওয়া টাকার উপরও যাকাত ফরয। সুতরাং প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ভাইকে ধার দেওয়া দুই লক্ষ টাকার বছরান্তে যাকাত দিতে হবে। তবে তা এখনই আদায় না করে সেই টাকা হস্তগত হওয়ার পরও আদায় করা যাবে।

-কিতাবুল আছল ২/৯৩; আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৯৪; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৩৮; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৭; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৫

শেয়ার লিংক

মাহবুবুর রহমান - বগুরা

৫৪৯২. প্রশ্ন

আমাদের এলাকায় ঈদুল ফিতরের দিন গরীব-মিসকীনরা ধনী মানুষের বাড়িতে আসে। এক পরিবারের যৌথ সদাকাতুল ফিতর একজনের দায়িত্বে থাকে। তিনি প্রত্যেক গরীবকে ২০/৩০ টাকা করে দিয়ে থাকেন। এভাবে একজনের সদাকাতুল ফিতর একাধিক ব্যক্তিকে দেওয়া হয়ে থাকে। জানার বিষয় হল, এভাবে একজনের সদাকাতুল ফিতর কি একাধিক গরীবকে দেয়া যাবে?

উত্তর

হাঁ, একজনের সদাকাতুল ফিতর একাধিক গরীব ব্যক্তিকে দেওয়া জায়েয আছে। তাই প্রশ্নোক্ত ফিতরাগুলো আদায় হয়ে গেছে।

তবে একটি ফিতরার পুরো টাকা একজন মিসকীনকে দেওয়াই উত্তম।

-বাদায়েউস সানায়ে ২/২০৮; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/১৪৪; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪৬১; ফাতহুল কাদীর ২/১৩২; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৩৯৫

শেয়ার লিংক

আমীনুল হক - তেজগাঁও, ঢাকা

৫৪৯১. প্রশ্ন

আমার এক আত্মীয় অনেক দরিদ্র। লকডাউনে তার অনেক টাকা ঋণ হয়ে গেছে। আমি চাচ্ছি, আমার এ বছরের যাকাত থেকে তার ঋণ পরিশোধ করে দিব। জানার বিষয় হল, এভাবে তার ঋণ পরিশোধ করার দ্বারা কি আমার যাকাত আদায় হবে?

উত্তর

আপনি যদি আপনার যাকাতের টাকা দিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করতে চান তাহলে আপনি তার পক্ষ থেকে ঋণ পারিশোধ করে দিচ্ছেন তার থেকে আগে এই অনুমতি নিতে হবে। এরপর আপনার যাকাত দ্বারা ঋণ পরিশোধ করে দিতে পারবেন। কিন্তু উক্ত দরিদ্র ঋণী ব্যক্তির অনুমতি ছাড়া তার ঋণ আদায় করে দিলে এর দ্বারা আপনার যাকাত আদায় হবে না।

এখানে উল্লেখ্য, আপনি যাকাতের টাকা দিয়ে তার ঋণ পরিশোধ করছেন- এ কথা তাকে জানানো জরুরি নয়।

-মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/৪৩৪; আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৪২; ফাতহুল কাদীর ২/২০৮; আলবাহরুর রায়েক ২/৩০৮; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/১৬৬; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩৪৫

শেয়ার লিংক

মাহমুদ - ঢাকা

৫৪৯০. প্রশ্ন

আমি আজ রাতে খাবার খাওয়ার পর এশার নামায পড়ছিলাম। নামাযের মধ্যে দাঁতে বেধে থাকা ভাতের কণা অনিচ্ছাকৃত গলার ভিতর ঢুকে যায়। আমার জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে উক্ত ভাতের কণা অনিচ্ছাকৃত গলার ভিতর ঢুকে যাওয়ার কারণে কি আমার নামায ভেঙে গিয়েছে? উক্ত নামায কি আমার পুনরায় পড়তে হবে?

উত্তর

ছোলার দানার চেয়ে ছোট খাবারের এমন কোনো অংশ দাঁত থেকে বেরিয়ে গলায় চলে গেলে নামায ভাঙে না। এর চেয়ে বেশি হলে ভেঙে যায়। তাই প্রশ্নোক্ত অবস্থায় নামাযের মধ্যে উক্ত ভাতের কণা গলার ভিতর ঢুকে যাওয়ার কারণে আপনার নামায নষ্ট হয়নি। উক্ত নামায আদায় হয়ে গেছে।

-কিতাবুল আছল ১/১৭১; আলমাবসূত, সারাখসী ১/১৯৫; বাদায়েউস সানায়ে ১/৫৫৪; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪৫১; আলবাহরুর রায়েক ২/১৪; রদ্দুল মুহতার ১/৬২৩

শেয়ার লিংক

আবু মুহাম্মাদ - শ্যামলী, ঢাকা

৫৪৮৯. প্রশ্ন

মুহতারাম! আমি সাধারণত তাহাজ্জুদের নামায পড়ার চেষ্টা করি। কয়েকদিন আগে ঘড়ি না দেখে তাহাজ্জুদের সময় আছে মনে করে দুই রাকাত নামায শুরু করি এবং ছানাও পড়ে ফেলি। ঠিক তখন ফজরের আযান শুনতে পাই। তখন আমি ঐ নামায পূর্ণ করি। আমার এই নামাযের কী হুকুম?

উল্লেখ্য, আমি পরে দুই রাকাত নামায ফজরের সুন্নতের নিয়তে পড়ে নিয়েছিলাম।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে যদি উক্ত মুাআযযিন ওয়াক্ত হওয়ার কিছুক্ষণ পর আযান দিয়ে থাকেন, তাহলে ধরে নেয়া যায় যে, আপনি ঐ দুই রাকাত নামায ফজরের ওয়াক্ত হবার পর আদায় করেছেন। তাই তা ফজরের সুন্নত হিসেবে আদায় হয়েছে। তাহাজ্জুদ হয়নি। সুতরাং এক্ষেত্রে নতুন করে আবার ফজরের সুন্নত পড়া ঠিক হয়নি। আর যদি ঐ মুআযযিন সময় হওয়ার সাথে সাথেই আযান দিয়ে থাকেন তাহলে সময়ের পূর্বে আরম্ভ করায় তা নফল হিসেবেই আদায় হয়েছে। সেক্ষেত্রে আপনার জন্য পৃথকভাবে সুন্নত পড়া সহীহ হয়েছে।

উল্লেখ্য, ফজরের ওয়াক্ত হওয়ার পর ফজরের সুন্নত ব্যতীত অন্য কোনো নফল বা সুন্নত নামায পড়া নিষেধ। সুতরাং শেষ সময়ে তাহজ্জুদে দঁড়ালে সময়ের প্রতি খেয়াল করে দাঁড়াবে।

-আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ২/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১২; ফাতহুল কাদীর ৩/১৮৭; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪০২; আননাহরুল ফায়েক ১/২৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/১৫

শেয়ার লিংক

ইসমাঈল - ঢাকা

৫৪৮৮. প্রশ্ন

আমাদের মসজিদে প্রতি শুক্রবার ফজরের নামাযের প্রথম রাকাতে সূরা সিজদাহ তিলাওয়াত করা হয়। গত শুক্রবার আমি যখন মসজিদে প্রবেশ করি তখন ইমাম সাহেব সিজদার আয়াতটি তিলাওয়াত করছিলেন। আমি ইমাম সাহেবের সাথে নামাযে শরীক হবার আগেই তিনি সিজদায়ে তিলাওয়াত আদায় করেন। পরে আমি ঐ রাকাতে রুকুর আগে জামাতে শরীক হই। জানার বিষয় হল, ঐ সিজদাটি আমি কখন আদায় করব?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমামের সাথে ঐ রাকাত পাওয়ার কারণে আপনি সিজদায়ে তিলাওয়াত পেয়েছেন বলে ধর্তব্য হবে। পৃথকভাবে সিজদা আদায় করা লাগবে না।

-কিতাবুল আছল ১/২৭৯; বাদায়েউস সানায়ে ১/৪৩৮; আলমুহীতুল বুরহানী ২/৩৭৫; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫০১; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১৩৩

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ইসমাঈল - ঢাকা

৫৪৮৭. প্রশ্ন

কয়েকদিন আগে আমাদের মসজিদের ইমাম সাহেবের কাঁচের দরজার সাথে ধাক্কা লেগে মারাত্মকভাবে হাত কেটে যায়। ডাক্তার তাঁর হাতের ক্ষতস্থানে সেলাই করে ব্যান্ডেজ লাগিয়ে দেন এবং এক সপ্তাহ পরে খোলার কথা বলেন। তাই এখন তিনি ব্যান্ডেজের উপর মাসেহ করে নামায পড়ান। প্রশ্ন হল, তাঁর পিছনে আমাদের ইক্তিদা কি সহীহ হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হাঁ, এ অবস্থায় উক্ত ইমামের পিছনে আপনাদের ইক্তিদা সহীহ হবে। কেননা ব্যান্ডেজের উপর মাসেহকারীর পিছনে স্বাভাবিক ওযুকারী ব্যক্তির ইক্তিদা সহীহ।

তবে ক্ষতের স্থান যদি এমন হয় যে, ব্যান্ডেজের পরেও তা থেকে রক্ত বা পুঁজ বের হতে থাকে তাহলে ঐ ধরণের লোকের পিছনে সুস্থ লোকদের ইক্তিদা করা সহীহ হবে না।

-আলমাবসূত, সারাখসী ১/২১৪; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৮৫; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/১৪৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৮৪; রদ্দুল মুহতার ১/৫৮৮

শেয়ার লিংক