আমার পায়ে আঘাত লাগার কারণে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ওযুতে আমি ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করে থাকি। তবে মাঝে মাঝে বেখেয়ালিতে ব্যান্ডেজের অল্প অংশ মাসেহ থেকে বাদ থেকে যায়, যা পরে বুঝতে পারি।
জানার বিষয় হল, এতে কি আমার ওযুতে কোনো সমস্যা হবে?
আমার পায়ে আঘাত লাগার কারণে ব্যান্ডেজ বাঁধা। ওযুতে আমি ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করে থাকি। তবে মাঝে মাঝে বেখেয়ালিতে ব্যান্ডেজের অল্প অংশ মাসেহ থেকে বাদ থেকে যায়, যা পরে বুঝতে পারি।
জানার বিষয় হল, এতে কি আমার ওযুতে কোনো সমস্যা হবে?
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনার ওযু সহীহ হয়ে যাবে। ওযু-গোসলে ব্যান্ডেজের পুরো অংশের ওপর মাসেহ করা জরুরি নয়; বরং অধিকাংশ ব্যান্ডেজের ওপর মাসেহ করলেও মাসেহ সহীহ হয়ে যায়। অতএব প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে কিছু অংশ মাসেহ থেকে বাদ থেকে গেলেও ওযু-গোসলে সমস্যা হবে না।
শেয়ার লিংক* >الفتاوى الخانية< ১/৫০ : وإذا مسح على الجبيرة، هل يشترط فيه الاستيعاب؟ ذكر الشيخ الإمام المعروف بخواهر زاده رحمه الله تعالى أنه لا يشترط فيه الاستيعاب. وإن مسح على الأكثر جاز، وإن مسح على النصف وما دونه، لا يجوز.
–বাদায়েউস সানায়ে ১/৯১; ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৬; আততাজনীস ওয়াল মাযীদ ১/৩৩৮; আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪০৫; হালবাতুল মুজাল্লী ১/৩৪৯; আননাহরুল ফায়েক ১/১২৬; আদ্দুররুল মুখতার ১/২৮২
আমার ফুফু দীর্ঘদিন যাবৎ অসুস্থ। ডাক্তার পানি ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন। তাই তাকে তায়াম্মুম করে নামায আদায় করতে হয়।
জানার বিষয় হল, একটি মাটির টুকরা দিয়ে কি একাধিকবার তায়াম্মুম করা যাবে?
হাঁ, একটি মাটির টুকরার ওপর একাধিকবার তায়াম্মুম করা যাবে। এতে কোনো অসুবিধা নেই। প্রত্যেকবার তায়াম্মুমের জন্য নতুন মাটি জরুরি নয়।
শেয়ার লিংক* كتاب >الأصل< للشيباني ১/১০২: قلت: أرأيت رجلا وضع يديه على الصعيد، فتيمم به، ثم إن آخر تيمم بما تيمم به الأول من الصعيد؟ قال: يجزيه.
–আলমাবসূত, সারাখসী ১/১২১; আলমুহীতুর রাযাবী ১/১৬৫; আলহাবিল কুদসী ১/১৩০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/৩৬; আননাহরুল ফায়েক ১/১০৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৩১
আমার সাধারণত প্রতি মাসের শুরুর দিকে সাত দিন হায়েয হয়ে থাকে। কিন্তু গত মাসে সপ্তম দিন হায়েয বন্ধ না হয়ে বারোতম দিন পর্যন্ত চালু থাকে। এরপর বন্ধ হয়।
জানার বিষয় হল, গত মাসে আমার কতদিন হায়েয গণ্য হবে?
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে সাত দিনের পর রক্ত বন্ধ না হয়ে যেহেতু দশ দিন অতিক্রম করে গেছে, তাই এক্ষেত্রে আগের মাসের তারিখ অনুযায়ী সাত দিনই হয়েয গণ্য হবে। এরপর থেকে অতিরিক্ত দিনগুলো ইস্তেহাযা গণ্য হবে। সুতরাং সপ্তম দিনের পরের দিনগুলোতে আপনি যদি নামায না পড়ে থাকেন, তাহলে সেগুলো কাযা করে নেওয়া জরুরি।
শেয়ার লিংক* كتاب >الأصل< ১/২৮৮: قلت: أرأيت امرأة كان حيضها خمسة أيام في كل شهر، ثم زاد يوما، أتصلي ذلك اليوم؟ قال: لا، وهي فيه حائض. قلت: وكذلك لو زادت خمسة أيام؟ قال: نعم. قلت: فإن زادت على العشرة الأيام يوما أو يومين؟ قال: هذه مستحاضة فيما زادت على عشرة أيام، فتكون مستحاضة فيما زاد على أيام أقرائها. قلت: فهل عليها قضاء ما زادت على أيام أقرائها؟ قال: نعم.
–সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ২৮৭; তুহফাতুল ফুকাহা ১/৩৪; আলইখতিয়ার ১/১০৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/১৭৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২১২; আননাহরুল ফায়েক ১/১৩৮
আমি এক মহিলা মাদরাসায় হিফজ বিভাগে শিক্ষকতা করি। আমাকে মাসিকের দিনগুলোতেও ছাত্রীদের সবক, সাত সবক, আমুখতা শুনতে হয়।
আমার জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় কি তাদের সবক ইত্যাদি শোনা যাবে? এক্ষেত্রে ছাত্রীরা যদি ভুল করে, তাহলে কীভাবে শুধরে দেব?
মাসিক স্রাব চলা অবস্থায় কুরআন মাজীদ স্পর্শ না করে অন্যের থেকে তিলাওয়াত শোনা জায়েয আছে। এতে সমস্যা নেই। তবে এ অবস্থায় কাউকে সবক বলে দেওয়ার জন্যও কোনো আয়াত পড়া নিষেধ। তাই মহিলাগণ ওজরের সময় কুরআন মাজীদ শুধু শুনতে পারবেন। কিন্তু পুরো আয়াত বলবেন না। অবশ্য বিশেষ প্রয়োজন দেখা দিলে এক-দুই শব্দ বলে দিতে পারবেন। পুরো আয়াত বা বড় কোনো বাক্য বলবেন না।
শেয়ার লিংক* >الفتاوى الولوالجية< ১/৫৭: المعلمة في حالة الحيض تعلم الصبيان حرفا حرفا، ولا تعلمهم آية كاملة؛ لأن الضرورة تندفع بالأول، والمسقط هي الضرورة.
–আযযাখীরাতুল বুরহানিয়া ১/৪১; ফাতহুল কাদীর ১/১৪৯; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৫৬; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/৩৯; আলবাহরুর রায়েক ১/২০০
আমাদের মাদরাসার ডান পাশে একটি মসজিদ আছে। পাশে বলতে মসজিদের নামাযের কাতারগুলো মাদরাসার কাতারের সাথে লাগানো আছে। প্রথম তলায় মাদরাসার ভেতর দিয়েই মসজিদে যাওয়া যায় এবং দ্বিতীয় তলাতেও মসজিদের কাতারের সাথে মাদরাসার কাতারের এভাবে মিল রয়েছে যে, ওই তলা থেকেই সরাসরি মাদরাসা থেকে মসজিদে যাওয়া যায়। ওয়াক্তিয়া নামাযের সময় ইমাম সাহেব প্রথম তলায় নামায পড়ান। আমরা মাদরাসার দ্বিতীয় তলায় মসজিদের কাতারের সাথে মিলিয়ে কাতার করে দাঁড়াই। তখন মাদরাসার প্রথম তলায় ও মসজিদের দ্বিতীয় তলায় কোনো মুসল্লী থাকে না।
জানার বিষয় হল, এ অবস্থায় আমাদের নামাযের হুকুম কী?
এভাবে মসজিদের মূল জামাতের জায়গা খালি কিংবা অপূর্ণ রেখে সংযুক্ত ভবনে মসজিদের জামাতের সাথে নামায আদায় করা ঠিক নয়। বরং আপনাদের দায়িত্ব, মূল মসজিদে এসে নামায আদায় করা। যথাসম্ভব মসজিদের যে ফ্লোরে ইমাম দাঁড়ান সে ফ্লোরে এসে দাঁড়ানো। আর বিশেষ ওজর হলে অন্তত দ্বিতীয় তলায় মাদরাসার অংশে না দাঁড়িয়ে মসজিদের অংশে দাঁড়ানো। অন্যথায় কাতার ফাঁকা রাখার কারণে তা দূষণীয় হবে।
অবশ্য আপনাদের মাদরাসা ও মসজিদ ভবন যেহেতু সংযুক্ত, এমনকি মাদরাসা ভবনের নামাযের কাতার মসজিদের কাতারের সাথেই মেলানো, তাই মাদরাসার দ্বিতীয় তলা থেকে মসজিদের সাথে মিলিয়ে কাতার করে এতদিন যে নামাযগুলো পড়েছেন, তা আদায় হয়ে গেছে।
শেয়ার লিংক* >بدائع الصنائع< ১/৩৬২: وكذلك لو كان على سطح بجنب المسجد، متصل به، ليس بينهما طريق، فاقتدى به صح اقتداؤه عندنا.
–খিযানাতুল আকমাল ১/৫৪; মুখতারাতুন নাওয়াযিল ১/২৯৭; আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৯৪; যাদুল ফাকীর, পৃ. ১৫৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৩৩৫; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৭; রদ্দুল মুহতার ১/৫৭০
কিছুদিন আগে আমি আমার এক বন্ধুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। রাতে ঘুমানোর আগে আমি আমার কামরায় এশার নামায পড়তে দাঁড়াই। নামাযের মাঝে আমার বন্ধু কামরায় এসে আমাকে দেখে বলে, তুমি উত্তর দিকে ফিরে নামায পড়ছ। তার কথা শুনে আমি সাথে সাথে পশ্চিম দিকে ফিরে যাই। নামাযের শুরুতে আমি উত্তর দিককেই কিবলার দিক ভেবে দাঁড়িয়েছিলাম।
জানার বিষয় হল, আমার ওই নামায কি সহীহ হয়েছে?
না, আপনার ওই নামায সহীহ হয়নি। কেননা এক্ষেত্রে কিবলার দিক সম্পর্কে কাউকে জিজ্ঞাসা না করে নিজে ধারণা করে ভুল দিকে যে নামাযটি শুরু করা হয়েছে, তা শুরু থেকেই সহীহ হয়নি। এক্ষেত্রে নামাযের ভেতর কিবলার দিক জানার পর নামায ছেড়ে দিয়ে কিবলামুখী হয়ে পুনরায় শুরু থেকে নামায পড়া আপনার ওপর জরুরি ছিল। এখন আপনাকে ওই নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।
শেয়ার লিংক* >بدائع الصنائع< ১/৩০৯: وإن كان عاجزا بسبب الاشتباه، وهو أن يكون في المفازة في ليلة مظلمة، أو لا علم له بالأمارات الدالة على القبلة، فإن كان بحضرته من يسأله عنها لا يجوز له التحري لما قلنا، بل يجب عليه السؤال، فإن لم يسأل وتحرى وصلى فإن أصاب جاز، وإلا فلا.
–তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/২৬৬; ফাতহুল কাদীর ১/২৩৬; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ২২২; আলবাহরুর রায়েক ১/২৮৬; রদ্দুল মুহতার ১/৪৩৩
আমি ঘরে বিতিরের নামায পড়ছিলাম। পেছন থেকে আমার ভাই এসে আমাকে একটি কথা জিজ্ঞাসা করল। আমি মুখে কিছু না বলে সামান্য মাথা নেড়ে হাঁ-সূচক উত্তর দেই।
জানার বিষয় হল, নামাযের মধ্যে ইশারায় তার কথার উত্তর দেওয়ায় কি নামায ভেঙে গেছে?
আপনার ওই নামায আদায় হয়ে গেছে। পুনরায় পড়তে হবে না। মাথার দ্বারা সামান্য ওই ইশারার কারণে নামায নষ্ট হয়নি। তবে খুব বেশি ওজর ছাড়া নামাযে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকা কর্তব্য।
ইবনে জুরাইজ রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
قُلْتُ لِعَطَاءٍ: أَفَتَكْرَهُ كُلَّ شَيْءٍ مِنَ الْإِيمَاءِ فِي الْمَكْتُوبَةِ؟ إِذَا جَاءَ رَجُلٌ فَقَالَ: أَصَلَّيْتَ الصَّلَاةَ؟ كَرِهْتَ أَنْ أُشِيرَ إِلَيْهِ بِرَأْسِي؟ قَالَ: نَعَمْ، أَكْرَهُ كُلَّ شَيْءٍ مِنْ ذূلِكَ.
আমি তাবেয়ী আতা রাহ.-কে জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি কি ফরয নামাযে যে-কোনো ইশারা অপছন্দ করেন? কোনো ব্যক্তি এসে আমাকে নামায পড়েছ কি না জিজ্ঞেস করলে আমি মাথার ইশারায় তার কথার উত্তর দেওয়াকে কি আপনি অপছন্দ করেন?
তিনি (আতা রাহ.) উত্তরে বললেন, হাঁ, আমি ইশারাকে অপছন্দ করি। (মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৩২৮৪)
শেয়ার লিংক–আলমুহীতুল বুরহানী ২/১৬৯; আলগায়া, সারুজী ৪/১৩৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৩৯৫; হালবাতুল মুজাল্লী ২/৪১৩; শরহুল মুনইয়া, পৃ. ৪৪৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ১/২৭২; ইলাউস সুনান ৫/৪০
হুজুরের কাছে মায়্যেতের দাফন সংক্রান্ত দুইটি মাসআলা জানতে চাই–
ক. দাফনের সময় উপস্থিত লোকদের কবরে মাটি দেওয়ার বিধান কী? অনেক এলাকায় রেওয়াজ আছে, দাফনের সময় উপস্থিত লোকেরা কবরে তিনবার করে মাটি দেয়।
জানতে চাই, এটি কি শুধুই প্রথা, নাকি শরীয়তে এর কোনো ভিত্তি আছে?
খ. দাফনের পর কোনো কোনো লোককে দেখা যায়, কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে সূরা-কেরাত পাঠ করে। এটি কি শরীয়তসম্মত?
ক. মায়্যেতকে দাফন করার সময় উপস্থিত লোকদের জন্য কবরে তিন মুষ্টি করে মাটি দেওয়া মুস্তাহাব। এটি নিছক কোনো প্রথা নয়; বরং হাদীস দ্বারা প্রমাণিত আমল।
আবু হুরায়রা রা. বর্ণনা করেন–
أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ ‘صلى الله عليه وسلم صَلى عَلَى جِنَازَةٍ، ثُمَّ أَتَى قَبْرَ الْمَيِّتِ، فَحَثَى عَلَيْهِ مِنْ قِبَلِ رَأْسِهِ ثَلَاثًا.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির জানাযা পড়েছেন। এরপর জানাযা শেষে মৃত ব্যক্তির কবরের কাছে এসে মাথার দিক থেকে তিনবার মাটি দিয়েছেন। (সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১৫৬৫)
আবুদ দারদা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
مِنْ تَمَامِ أَجْرِ الْجِنَازَةِ أَنْ يَحْثُوَ فِي الْقَبْرِ.
জানাযার সওয়াবের পূর্ণতার একটি অংশ হল, কবরে হাত দিয়ে মাটি দেওয়া। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১১৮৩৬)
–আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/১৪১; আযযিয়াউল মানাবী ২/৫০৭; আলবাহরুর রায়েক ২/১৯৪; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৬; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৬৩৭
খ. দাফনের পর কবরের পাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করে সূরা বাকারার শুরু ও শেষের আয়াতগুলো পাঠ করাও মুস্তাহাব। এ আমলটিও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত।
আবদুর রহমান ইবনে লাজলাজ রাহ. তার পিতা থেকে বর্ণনা করেন যে–
قَالَ لِيْ أَبِيْ: يَا بُنَيَّ، إذَا أَنَا مِتُّ فَالْحَدْ لِيْ لَحْدًا، فَإذَا وَضَعْتَنِيْ فِيْ لَحْدِيْ فَقُلْ: بِسْمِ اللهِ، وَعَلَى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ، ثُمَّ سَنَّ التُّرَابَ عَلَيَّ سَنَّا، أَيْ وَضَعَه وَضْعًا سَهْلًا، ثُمَّ اقْرَأ عِنْدَ رَأسِيْ بِفَاتِحَةِ الْبَقَرَةِ وَخَاتِمَتِهَا، فَإنِّيْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهِ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَقُوْلُ ذٰلِكَ.
আমার বাবা আমাকে (অসিয়ত করে) বলেছেন, হে আমার ছেলে, আমি যখন মারা যাব, তখন তুমি আমার জন্য বুগলী কবর খনন করবে। অতঃপর যখন তুমি আমাকে কবরে রাখবে তখন–
بِسْمِ اللهِ، وَعَلى مِلَّةِ رَسُوْلِ اللهِ.
-বলে কবরে রাখবে। এরপর তুমি আমার কবরে মাটি দেবে। অতঃপর দাফন শেষে আমার মাথার দিকে সূরা বাকারার প্রথম এবং শেষের কয়েকটি আয়াত পাঠ করবে। আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এগুলো পাঠ করতে দেখেছি। (আলমুজামুল কাবীর, তবারানী ১৯/২২০)
* >الجوهرة النيرة< ১/১৪১: ويستحب إذا دفن الميت أن يجلسوا ساعة عند القبر بعد الفراغ بقدر ما ينحر جزور ويقسم لحمها، يتلون القرآن ويدعون للميت. قال في سنن أبي داود: كان النبي صلى الله عليه وسلم إذا فرغ من دفن الميت وقف على قبره، وقال: استغفروا لأخيكم، واسألوا الله له التثبيت؛ فإنه الآن يسأل. وكان ابن عمر يستحب أن يقرأ على القبر بعد الدفن أول سورة البقرة وخاتمتها.
–আলআযকার, নববী, পৃ. ২৭৭; আযযিয়াউল মানাবী ২/৫০৮; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৩৭
শেয়ার লিংক
রমযান মাসে কখনো রোযা রাখা অবস্থায় আমার হায়েয শুরু হয়ে যায়।
হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, রমযান মাসে রোযা রাখা অবস্থায় হায়েয শুরু হয়ে গেলে বাকি দিন আমি পানাহার করতে পারব?
হাঁ, হায়েয শুরু হওয়ার পর থেকে ওই দিনের বাকি সময় পানাহার করতে পারবেন। এতে কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু যেদিন হায়েয বন্ধ হয়ে যায়, সেই দিন অবশিষ্ট সময় পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। আর কোনো দিন রোযা রাখা অবস্থায় হায়েয শুরু হয়ে গেলে সেদিনের রোযারও কাযা করে নিতে হবে।
শেয়ার লিংক* >خلاصة الفتاوى< ১/২৬৩: والأصل أن كل من صار على صفة في آخر النهار، لو كان عليها في أول النهار يلزمه الصوم، كان عليه الإمساك في بقية اليوم عندنا. ... وأجمعوا على أنه لا يجب التشبه على الحائض والنفساء، ولا على المريض والمسافر.
–আলমুহীতুর রাযাবী ২/৩৪; ফাতাওয়া খানিয়া ১/২১৮; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৮; আলবিনায়া ৪/৩৫৯; ইমদাদুল ফাত্তাহ, পৃ. ৬৯৪; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাল মারাকী, পৃ. ৩৭০
আমার সাধারণত মাসের দশ তারিখে হায়েয শুরু হয়। গত রমযানে দশ তারিখ আসলে হায়েয শুরু হয়ে যাবে, এই ভেবে আমি সকালে রোযা ভেঙে ফেলি। কিন্তু সেদিন আমার হায়েয শুরু হয়নি।
জানার বিষয় হল, আমাকে ওই দিনের রোযার কাযা করার পাশাপাশি কাফ্ফারাও কি আদায় করতে হবে?
প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু রোযাটি রেখে ইচ্ছাকৃতভাবে ভেঙে ফেলেছেন, তাই আপনাকে ওই রোযার কাযা এবং কাফ্ফারা দুটোই আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু হায়েয আসার সম্ভাবনার ভিত্তিতে রোযাটি ভেঙে ফেলা বড় ভুল ও গুনাহের কাজ হয়েছে। তাই রোযাটির কাযা-কাফ্ফারা আদায়ের পাশাপাশি আল্লাহ তাআলার দরবারে কায়মনোবাক্যে তওবা-ইস্তেগফার করতে হবে। আর সামনে এ ধরনের ভুল যেন না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।
শেয়ার লিংক* >الفتاوى الخانية< ১/২০৩: وكذا إذا أفطرت المرأة على ظن أن يومها يوم حيض، فلم تحض في ذلك اليوم كان عليها الكفارة، لوجود الإفطار في يوم ليس فيه شبهة الإباحة.
–আলমুহীতুল বুরহানী ৩/৩৬৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ৩/৪২৩; আসসিরাজুল ওয়াহ্হাজ ৪/৩৮৪; আলবাহরুর রায়েক ২/২৭৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২০৭
অনেক মসজিদে রমযানে ইতিকাফের সময় নামাযের সময়টুকু ছাড়া ইতিকাফকারীগণ তাদের অবস্থানের অংশটুকু চাদর বা পর্দা দিয়ে ঢেকে রাখেন এবং সেই চাদর ঘেরা অংশে তারা অবস্থান করেন।
হুজুরের কাছে জানতে চাচ্ছি, এর হুকুম কী? এটি কি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কিংবা সাহাবায়ে কেরাম থেকে প্রমাণিত?
ইতিকাফের সময় মসজিদে নিজের অবস্থানের অংশ চাদর বা অন্য কিছু দিয়ে আবৃত করে রাখা জায়েয আছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং সাহাবায়ে কেরাম থেকে এটি প্রমাণিত।
একটি হাদীসে এসেছে, উম্মুল মুমিনীন আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم‘ يَعْتَكِفُ فِي العَشْرِ الأَوَاخِرِ مِنْ رَمَضَانَ، فَكُنْتُ أَضْرِبُ لَهُ خِبَاءً، فَيُصَلِّي الصُّبْحَ ثُمَّ يَدْخُلُهُ.
নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম রমযানের শেষ দশকে ইতিকাফ করতেন এবং ইতিকাফের সময় (মসজিদে তার অবস্থানের জন্য) আমি তাঁবু স্থাপন করতাম। ফজর পড়ে তিনি ওই তাঁবুতে প্রবেশ করতেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ২০৩৩)
তবে লক্ষ রাখতে হবে, যাতে এর কারণে অন্য মুসল্লীদের কষ্ট না হয় এবং মসজিদের আদব পরিপন্থি কোনো কাজ না হয়। বিশেষ করে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের সময় মুসল্লীদের নামায আদায়ে কোনো সমস্যা না হয়।
শেয়ার লিংক–মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৮০১৫; আলমুইয়াসসির শরহু মাসাবীহিস্ সুন্নাহ ২/৫৮৫; মিরকাতুল মাফাতীহ ৪/৪২৯; ফাতহুল মুলহিম ৩/১৯৮
আমাদের অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দাদের প্রয়োজন বিবেচনা করে বাড়ির নিচতলায় একটি নামাযঘর করা হয়েছে। বিভিন্ন ওজরের কারণে মসজিদে ইতিকাফ করা আমার জন্য কষ্টকর। তাই আমি চাচ্ছি, আগামী রমযানে এই নামাযঘরে ইতিকাফ করব। এখানে ইতিকাফ করলে কি আমার ইতিকাফ শুদ্ধ হবে?
অ্যাপার্টমেন্টের ওই নামাযঘরটি যদি স্থায়ীভাবে মসজিদ হিসেবে ওয়াকফ করা না হয়, তাহলে সে ঘরে ইতিকাফ সহীহ হবে না। কেননা ইতিকাফ সহীহ হওয়ার জন্য ওয়াকফকৃত মসজিদ শর্ত। অস্থায়ী নামাযঘর শরয়ী মসজিদ নয়। তাতে ইতিকাফ আদায় হবে না।
শেয়ার লিংক* كتاب >الأصل< ২/১৮৩: وبلغنا عن حذيفة أنه قال: لا اعتكاف إلا في مسجد جماعة.
–মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৯৭৬৯; বাদায়েউস সানায়ে ২/২৮০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৬৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪১৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/৪৪০
রাজশাহীতে আমার দুতলা একটি বাড়ি আছে। কয়েক বছর আগে পরিবারসহ আমি ঢাকায় চলে আসি এবং বাড়িটি বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ত করি। কিন্তু এখনো বাড়িটি বিক্রি হয়নি।
জানার বিষয় হল, ওই বাড়িটির যাকাত কি আমাকে আদায় করতে হবে?
ওই বাড়িটি আপনি বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ত করলেও এর দ্বারা সেটি যাকাতযোগ্য সম্পদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়নি। আপনাকে ওই বাড়িটির যাকাত আদায় করতে হবে না। অবশ্য বাড়িটি বিক্রি করার পর বিক্রয়লব্ধ অর্থ যাকাতযোগ্য সম্পদ বলে বিবেচিত হবে।
শেয়ার লিংক* >الفتاوى السراجية< ص ২৪: إذا كان في ملكه عروض أو عبيد ونحو ذلك، فنواه للتجارة، لا يصير للتجارة ما لم يبعها، فيكون في الثمن زكاة مع ما له من النصاب.
–আলমাবসূত, সারাখসী ২/১৯৮; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/২৯; আলবাহরুর রায়েক ২/২০৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৭২
আমি ক্রোকারিজের পাইকারি ব্যবসা করি। অনেক ক্রেতাকে বাকিতে পণ্য দিতে হয়। এভাবে প্রায় সারা বছরই ক্রেতাদের কাছে কিছু পাওনা বাকি থাকে।
আমার জানার বিষয় হল, যাকাতের হিসাব করার সময় কি পণ্য-মূল্য বাবদ পাওনা টাকা যাকাতের হিসাবের অন্তর্ভুক্ত হবে?
হাঁ, বিক্রীত পণ্যের মূল্য বাবদ পাওনা টাকাও যাকাতের ক্ষেত্রে হিসাব করা জরুরি। অবশ্য যে টাকা এখনো হস্তগত হয়নি, এর যাকাত আপনি তা হস্তগত হওয়ার পরও আদায় করতে পারেন। সেক্ষেত্রে এক বা একাধিক বছর অতিবাহিত হয়ে গেলে তখন হিসাব করে পেছনের বছরগুলোরও যাকাত আদায় করতে হবে। যদিও এ টাকার প্রতি বছরের যাকাত সেই বছরই আদায় করে দেওয়াই উত্তম হবে।
শেয়ার লিংক* >المبسوط< ২/১৯৪ : رجل له على رجل ألف درهم قرض أو ثمن متاع كان للتجارة، فحال الحول، ووجبت الزكاة عليه، لا يلزمه الأداء قبل القبض عندنا.
–কিতাবুল আছার, ইমাম মুহাম্মাদ, বর্ণনা ২৯৬; কিতাবুল আছল ২/৯৬; বাদায়েউস সানায়ে ২/৯০; আলবিনায়া ৪/২৩; আলমাতানাহ ১/৫৬৯; আদ্দুররুল মুখতার ২/২৬৬
কয়েক বছর আগে আমার নানু মারা যান। মৃত্যুর আগে তিনি বদলি হজ্বের অসিয়ত করে যান। এ বছর আমি ওয়ারিশদের সিদ্ধান্তক্রমে তার বদলি হজ্ব করি। বদলি হজ্বের যাবতীয় খরচ বাবদ তার ওয়ারিশরা তার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে আমাকে যে টাকা দিয়েছেন, হজ্ব শেষে দেশে ফিরে আসার পরও প্রায় আট হাজার টাকা থেকে যায়। এ ব্যাপারে আমি তাদের কাউকে এখনো অবগত করিনি।
মুহতারামের কাছে জানার বিষয় হল, আমার জন্য তাদের অনবগতিতে এ টাকাগুলো নেওয়ার কি সুযোগ আছে?
না, প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওয়ারিশদের সুস্পষ্ট সম্মতি ছাড়া উদ্বৃত্ত টাকাগুলো নেওয়া আপনার জন্য জায়েয হবে না। হাঁ, তাদেরকে অবহিত করার পর সকল ওয়ারিশ মিলে যদি ওই টাকা আপনাকে দিয়ে দেয়, তাহলে তখন আপনি তা নিতে পারবেন।
অবশ্য বদলি হজ্বে প্রেরণকারী ব্যক্তি অথবা সে জীবিত না থাকলে তার ওয়ারিশগণ যদি বদলি হজ্বকারীকে শুরুতেই বলে দেয় যে, হজ্বের প্যাকেজের বাইরে ব্যক্তিগত খরচের জন্য তাকে যে টাকা দেওয়া হয়েছে, সেটি তারই; কিছু উদ্বৃত্ত থাকলেও ফেরত দিতে হবে না। সেক্ষেত্রে বদলী হজ্ব সম্পন্ন করার পর কোনো টাকা উদ্বৃত্ত থাকলে তা নিজে রেখে দিতে পারবে। তাদেরকে ফেরত দিতে হবে না।
শেয়ার লিংক* >الحاوي القدسي< ১/৩৫৯: وما فضل في يد الحاج عن الميت بعد النفقة في ذهابه ورجوعه يرده على الورثة، إلا إذا وسعوا عليه، بأن يجعلوا الزيادة له.
–মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ১৪৯৭১; মুখতাসারুত তাহাবী, পৃ. ৫৯; আলমাবসূত, সারাখসী ২৭/১৭২; তাবয়ীনুল হাকায়েক ২/৪২৯; মানাসিক, মোল্লা আলী কারী, পৃ. ৪৫৮; রদ্দুল মুহতার ২/৬১২-৬১৩
জনাব, আমার এক মহিলা আত্মীয়; তার স্বামী মারা গেছে এবং তার একটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে তার এক জায়গায় বিয়ে হয়, যেই পুরুষের সাথে বিয়ে হয়েছে, তার আগের স্ত্রীর ঘরের একটি মেয়ে রয়েছে।
এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার আত্মীয় মহিলার মেয়েকে এবং তার পরবর্তী স্বামীর আগের ঘরের মেয়েকে একজন একসাথে স্ত্রী হিসেবে রাখতে পারবে কি না?
দলীলসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।
হাঁ, ওই মহিলার পূর্বের স্বামীর ঔরসজাত মেয়ে এবং তার বর্তমান স্বামীর পূর্বের স্ত্রীর ঘরের মেয়ে– এ দুজনকে বিবাহ করে এক সাথে স্ত্রী হিসেবে রাখা ওই ব্যক্তির জন্য বৈধ হবে। এতে অসুবিধা নেই। কেননা ওই দুই মেয়ের পিতা-মাতা কেউই এক নয়। তারা একে অপরের জন্য বৈমাত্রেয় বা বৈপিত্রেয় বোনও নয়। তাই তাদের উভয়কে একসাথে স্ত্রী হিসেবে রাখতে শরীয়তের দৃষ্টিতে বাধা নেই।
শেয়ার লিংক–আলমুহীতুল বুরহানী ৪/১০৬; আলবাহরুর রায়েক ৩/৯৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৩৯
আমি একজন সৌদি প্রবাসী। আমরা যখন বিদেশ থেকে বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে দেশে টাকা পাঠাই, তখন বাংলাদেশ সরকার আমাদের টাকার সাথে ২.৫% অতিরিক্ত টাকা প্রণোদনা হিসেবে দিয়ে থাকে।
মুফতী সাহেবের নিকট আমার জানার বিষয় হল, এই অতিরিক্ত টাকা নেওয়া জায়েয হবে কি না?
হাঁ, এক্ষেত্রে প্রণোদনা হিসেবে প্রদত্ত অতিরিক্ত ২.৫% টাকা নেওয়া জায়েয আছে। এটি মূলত প্রবাসীর পাঠানো বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় মূল্যেরই অন্তর্ভুক্ত। সরকার রেমিট্যান্স অর্জনের জন্য কৌশল অবলম্বন করে এটিকে পৃথকভাবে দেখিয়ে থাকে। এটি গ্রহণ করতে কোনো সমস্যা নেই।
শেয়ার লিংক–আলহিদায়া ৬/১৪২; আলমুজতাবা, যাহেদী ৩/৫২; তাকমিলাতু ফাতহিল মুলহিম ১/৫৯০
এক লোক আমার থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ঋণ নিয়েছে। এর সিকিউরিটি হিসেবে তার ফ্ল্যাটটি আমার কাছে বন্ধক রাখে। তার সাথে এভাবে চুক্তি হয়েছে যে, আমার কাছে বন্ধক রাখার পরও ফ্ল্যাটটিতে সে তার পরিবারসহ থাকবে। বিনিময়ে সে আমাকে প্রতি মাসে ভাড়া দেবে।
জানতে চাই, এভাবে চুক্তি করা কি জায়েয হয়েছে?
প্রশ্নোক্ত চুক্তিটি সম্পূর্ণ নাজায়েয ও সুদী কাজ। কেননা এটি ঋণ দিয়ে ঋণগ্রহীতা থেকে ভাড়ার নামে অতিরিক্ত গ্রহণের চুক্তি। যা স্পষ্ট সুদ।
মুহাম্মাদ ইবনে সীরীন রাহ. বর্ণনা করেন–
ذُكِرَ لاِبْنِ مَسْعُودٍ أن رَجُلاً أَقْرَضَ رَجُلاً دَراهِمَ وَاشْتَرَطَ ظَهْرَ فَرَسِهِ، قَالَ: مَا أَصَابَ مِنْ ظَهْرِ فَرَسِهِ، فَهُوَ رِبًا.
এক লোক একজনকে ঋণ দিয়ে এই শর্তারোপ করে যে, সে ঋণগ্রহীতার ঘোড়ায় আরোহণ করবে। এ সম্পর্কে আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি এর জবাবে বলেন, ঋণের বিনিময়ে সে যে ঋণগ্রহীতার ঘোড়ায় আরোহণ করেছে, তা সুদ হয়েছে। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১০৬৮)
অপর একটি বর্ণনায় এসেছে, হাকাম রাহ. বর্ণনা করেন–
عَنْ إبْرَاهِيمَ، قَالَ: كُلُّ قَرْضٍ جَرَّ مَنْفَعَةً، فَهُوَ رِبًا.
ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. বলেন, ঋণ দিয়ে বাড়তি সুবিধা গ্রহণ করা হলে তা সুদের অন্তর্ভুক্ত। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ২১০৭৮)
দ্বিতীয়ত, ফ্ল্যাটটির মালিক বন্ধকদাতা নিজেই। আর এক্ষেত্রে মালিকের কাছে মালিকের বস্তুই ভাড়া দেওয়া হচ্ছে। এটিও বাতিল চুক্তি। সুতরাং এই চুক্তিতে আবদ্ধ হওয়া আপনার জন্য জায়েয হবে না। লোকটিকে ঋণ দিতে চাইলে সওয়াবের আশায় সম্পূর্ণ সুদমুক্ত ঋণ দেবেন।
আর ঋণের সিকিউরিটি স্বরূপ ফ্ল্যাটটি বন্ধক নিতে চাইলে বন্ধক নিতে পারবেন। তবে বন্ধকি ফ্ল্যাট থেকে কোনো সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন না। অর্থাৎ নিজে তাতে থাকা, কাউকে ভাড়া দিয়ে ভাড়া ভোগ করা ইত্যাদি কোনো কিছু করা যাবে না।
হাঁ, বন্ধকদাতা মালিককে আপনি চাইলে তার থেকে কোনো ভাড়া না নিয়ে এমনিতেই থাকতে দিতে পারবেন। এতে আপনি সওয়াবের অধিকারী হবেন। এক্ষেত্রে বন্ধকের সুবিধা এই হবে যে, লোকটি ঋণের টাকা ফেরত না দিলে আপনি ফ্ল্যাট বিক্রি করে নিজ টাকা আদায় করে নিতে পারবেন।
শেয়ার লিংক* >الفتاوى التاتارخانية< ১৮/৫৬৩-৫৬৪: اعلم بأن عين الرهن أمانة في يد المرتهن، بمنزلة الوديعة. ... ثم الوديعة لا تودع ولا تعار ولا تؤاجر، كذلك الرهن ليس للمرتهن أن يؤأجر الرهن. ... وفي الملتقط: ولو آجره من الراهن فإجارة باطلة.
–শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ৩/১৪৯; খিযানাতুল আকমাল ৪/৪২১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৬০২; আলবাহরুর রায়েক ৬/১২২; আদ্দুররুল মুখতার ৫/১৬৬, ৬/৫২২-৫২৩; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/২৩৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৫১১
আমার এক সহপাঠি ইন্ডিয়া সফরে গিয়েছে। সে আমাকে তার সফরের কাহিনী শোনানোর সময় বলেছে, সেখানে এক জায়গায় মেহমানদারিতে তাকে খরগোশের গোশত দিয়েছে এবং সে তা খেয়েছে। বিষয়টি আমার কাছে অন্যরকম মনে হল। কারণ আমাদের দেশে তো সচরাচর মানুষ খরগোশ খায় না।
হুজুরের কাছে জানতে চাই, শরীয়তের দৃষ্টিতে খরগোশ খাওয়া কি জায়েয?
খরগোশ হালাল প্রাণী। তাই কোনো মুসলিম শরীয়তসম্মতভাবে জবাই করলে তার গোশত খেতে অসুবিধা নেই।
হাদীস শরীফে এসেছে, আনাস রা. বলেন–
أَنْفَجْنَا أَرْنَبًا بِمَرِّ الظَّهْرَانِ، فَسَعَى القَوْمُ، فَلَغَبُوا، فَأَدْرَكْتُهَا، فَأَخَذْتُهَا، فَأَتَيْتُ بِهَا أَبَا طَلْحَةَ، فَذَبَحَهَا وَبَعَثَ بِهَا إِلَى رَسُولِ اللهِ ‘صلى الله عليه وسلم بِوَرِكِهَا أَوْ فَخِذَيْهَا، قَالَ: فَخِذَيْهَا، لاَ شَكَّ فِيهِ، فَقَبِلَهٗ.
আমরা ‘মাররুয যাহরান’ নামক স্থানে একটি খরগোশ ধাওয়া করলাম। তখন লোকজনও এর পেছনে ছুটল এবং তারা ক্লান্ত হয়ে পড়ল। এরপর আমি সেটিকে ধরতে সক্ষম হলাম এবং আবু তালহা রা.-এর নিকট নিয়ে গেলাম। তিনি খরগোশটি জবাই করলেন এবং তার পেছনের অংশ বা দুই রান রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট পাঠালেন এবং তিনি তা গ্রহণ করলেন। (সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৩৫)
অন্য হাদীসে এসেছে, মুহাম্মাদ ইবনে সফওয়ান রা. বলেন–
أَصَبْتُ أَرْنَبَيْنِ فَلَمْ أَجِدْ مَا أُذَكِّيهِمَا بِه فَذَكَّيْتُهُمَا بِمَرْوَةٍ، فَسَأَلْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم عَنْ ذٰلِكَ فَأَمَرَنِي بِأَكْلِهِمَا.
আমি দুইটি খরগোশ ধরলাম। কিন্তু তা জবাই করার মতো কিছু পেলাম না। পরে আমি ধারালো পাথর দিয়ে খরগোশ দুটি জবাই করি। এরপর আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলে তিনি আমাকে তা খেতে বলেন। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৪৩১৩)
শেয়ার লিংক–কিতাবুল আছার, ইমাম আবু ইউসুফ, পৃ. ৩৬৯; শরহু মুখতাসারিল কারখী, কুদূরী ৬/২৭২; আলমুহীতুর রাযাবী ৬/৩৩; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, ইসবীজাবি ৪/১৯২১; মাজমাউল আনহুর ৪/১৬২; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩০৭
গত বছর আমার বড় ভাই ইন্তেকাল করেন। তার তিন বছর বয়সি একটি ছেলে আছে। মৃত্যুর আগে ভাইয়া আমাকে তার ছেলের সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব দিয়ে যান। ভাইয়া মারা যাওয়ার পর থেকে আমিই তাকে লালনপালন করছি। তার সম্পদের দেখাশোনাও আমিই করে থাকি। ইদানীং আমি একটি ব্যবসা শুরু করতে চাচ্ছি। সে উপলক্ষ্যে আমার বেশ কিছু টাকা প্রয়োজন। এমতাবস্থায় আমি কি আমার ওই ভাতিজার টাকা থেকে ঋণ নিতে পারব? দয়া করে জানিয়ে উপকৃত করবেন।
না, শিশুটির সম্পদ থেকে আপনার ঋণ নেওয়া বৈধ হবে না। তার সমুদয় সম্পদ আপনার নিকট আমানত। এ টাকা কেবল সরাসরি তার প্রয়োজনেই ব্যবহার করতে হবে। আপনি তার অভিভাবক হলেও এবং পরবর্তীতে পরিশোধের নিয়তেও তার টাকা আপনার নিজের প্রয়োজনে ব্যবহার করা জায়েয হবে না।
শেয়ার লিংক* >المبسوط< للسرخسي ১৪/৩৭: وعن صلة بن زفر قال: جاء رجل إلى ابن مسعود رضي الله عنه على فرس بلقاء، فقال: إنه أوصي إلي في يتيم، فقال عبد الله رضي الله عنه: لا تشتر من ماله شيئا، ولا تستقرض منه شيئا، وبه نأخذ، فنقول: ليس للوصي أن يستقرض من مال اليتيم؛ لأنه لا يقرض غيره، فكيف يستقرضه لنفسه؟
–কিতাবুল আছল ৩/২৪; আলবাহরুর রায়েক ৭/২৪; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ৬/১৪৭; রদ্দুল মুহতার ৬/৭১২
ক. পুরুষের জন্য কোনো আংটি ব্যবহার করা কি জায়েয আছে?
খ. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি আংটি ব্যবহার করেছেন? আশা করি উত্তরটি দলীলসহ জানাবেন।
ক. পুরুষদের জন্য রুপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয। শর্ত হল, রুপা এক মিছকাল (৪.৩৭৪ গ্রাম) থেকে কম হতে হবে। রুপা ব্যতীত অন্য ধাতবের আংটি ব্যবহার করা পুরুষের জন্য বৈধ নয়।
আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم رَأَى خَاتَمًا مِنْ ذَهَبٍ فِي يَدِ رَجُلٍ، فَنَزَعَه فَطَرَحَه، وَقَالَ: يَعْمِدُ أَحَدُكُمْ إِلَى جَمْرَةٍ مِنْ نَارٍ، فَيَجْعَلُهَا فِي يَدِه.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এক ব্যক্তির হাতে স্বর্ণের আংটি দেখতে পেয়ে সেটি খুলে ফেলে দিলেন এবং বললেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কেউ আগুনের টুকরা সংগ্রহ করে তার হাতে রাখে! (সহীহ মুসলিম, হাদীস ২০৯০)
আবদুল্লাহ ইবনে বুরাইদা তার পিতার সূত্রে বর্ণনা করেন–
أَنَّ رَجُلًا، جَاءَ إِلَى النَّبِيِّ ‘صلى الله عليه وسلم وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ شَبَهٍ، فَقَالَ لَهُ: مَا لِي أَجِدُ مِنْكَ رِيحَ الْأَصْنَامِ فَطَرَحَهُ، ثُمَّ جَاءَ وَعَلَيْهِ خَاتَمٌ مِنْ حَدِيدٍ، فَقَالَ: مَا لِي أَرَى عَلَيْكَ حِلْيَةَ أَهْلِ النَّارِ، فَطَرَحَه، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ، مِنْ أَيِّ شَيْءٍ أَتَّخِذُهُ؟ قَالَ: اتَّخِذْه مِنْ وَرِقٍ، وَلَا تُتِمَّهُ مِثْقَالًا.
এক ব্যক্তি পিতলের আংটি পরে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এল। তিনি তাকে বললেন, আমি যে তোমার থেকে মূর্তির গন্ধ পাচ্ছি!
এ কথা শুনে লোকটি তা খুলে ফেলে দেয়। এরপর সে একটি লোহার আংটি পরে এল।
তখন নবীজী তাকে বললেন, আমি তোমাকে জাহান্নামবাসীর অলংকার পরা অবস্থায় দেখছি।
লোকটি তখন তা খুলে ফেলে দেয় এবং বলে, ইয়া রাসূলাল্লাহ! তাহলে আমি কী ধরনের আংটি ব্যবহার করব?
তিনি বলেন, তুমি রুপার আংটি ব্যবহার কর আর তা এক মিছকাল পূর্ণ করো না। (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৪২২০)
তবে পুরুষের জন্য এই পরিমাণ রুপার আংটি ব্যবহার করা জায়েয হলেও প্রয়োজন ছাড়া ব্যবহার না করাই উত্তম।
খ. হাঁ, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আংটি ব্যবহার করেছেন।
আলী ইবেন আবী তালেব রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন–
أَنَّ النَّبِيَّ ‘ كَانَ يَلْبَسُ خَاتَمَهُ فِي يَمِينِه.
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ডান হাতে আংটি পরতেন। (শামায়েলে তিরমিযী, বর্ণনা ৯৫)
–ফাতাওয়া সিরাজিয়া, পৃ. ৭৫; শরহুল জামিইস সগীর, বযদবী ৩/৩৫১; ফাতাওয়া খানিয়া ৩/৪১২; আলইখতিয়ার ৪/১২৬; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ১৮/১২৫; আদ্দুররুল মুখতার ৬/৩৫৮
শেয়ার লিংক
এক মহিলার স্বামী মারা গেছে। তার ১২ বছর বয়সি একটি ছেলে আছে। এ ছাড়া তার কোনো মাহরাম নেই। তিনি কি তার ওই ছেলের সাথে সফরসম দূরত্বে যেতে পারবেন?
১২ বছর বয়সি ছেলে বালেগ না হলেও সাধারণত বালেগ ছেলের মতো বুঝমান ও সচেতন হয়ে যায়। প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ওই ছেলেটি যদি এ ধরনের বুঝমান হয়ে গিয়ে থাকে, তাহলে সে বালেগ না হলেও ওই মহিলার জন্য তার সাথে সফর করা জায়েয হবে।
শেয়ার লিংক* >خلاصة الفتاوى< ২/৫৩ : ولا يكون الغلام الذي لم يحتلم محرما للمرأة في السفر، إلا أن يكون مراهقا، وحده ثلاث عشرة أو اثنتا عشرة سنة في ظاهر المذهب.
–আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/১৯৩; হাশিয়াতুশ শিলবী ৩/৩১৭; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/২১৯