আসাদ - ডেমরা
৬৯১৭. প্রশ্ন
আমাদের একটি প্রকাশনী আছে। আমরা চাচ্ছি, যারা একেবারেই কুরআন পড়তে পারে না তাদের পড়ার সুবিধার জন্য বাংলায় উচ্চারণসহ একটি মুসহাফ বের করতে। এরকম করার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী? বৃহত্তর উম্মাহর স্বার্থে এই সমস্যাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের অফুরান প্রতিদান দান করুন।
উত্তর
বাংলা উচ্চারণে কুরআন কারীমের আয়াত লেখা জায়েয নয়। এমনকি আরবী আয়াতের পাশাপাশি বাংলায় উচ্চারণ লেখাও নিষেধ। আরবীর অনেক হরফের যথাযথ উচ্চারণের জন্য বাংলা ভাষায় কোনো অক্ষর নেই। যে কারণে বাংলা বর্ণে আরবী লিখলে শুধু ভুল উচ্চারণই হবে না; বরং এর কারণে অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে অর্থের বিকৃতিও ঘটবে।
আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হল– কুরআন মাজীদ আরবীতেও সাধারণ লিপিতে লেখা জায়েয নয়। বরং আরবীতে কুরআন মাজীদ লেখার বিশেষ রীতি ও লিপি রয়েছে। যাকে ‘রসমে উসমানী’ বলা হয়। কুরআন মাজীদ আরবীতে সেই রসমে উসমানীর নির্ধারিত রীতি অনুযায়ী লেখা জরুরি। তা না করে আরবীর অন্য কোনো লিপি ব্যবহার করা যাবে না। বাংলা, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষায় কুরআনের উচ্চারণ লেখা হলে সেই রসমে উমানীরও সম্পূর্ণ লঙ্ঘন হয়।
সুতরাং বাংলা উচ্চারণে মুসহাফ লেখা, তা ছাপানো, বিক্রি করা, পাঠ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।
মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কুরআন কারীমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা করা ফরয। শৈশবে না শেখার কারণে বা বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে সঠিক উচ্চারণ কষ্টকর হলেও বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শেখার চেষ্টা-মেহনত অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমানে বহু জায়গায় এ ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। তাই যে-কোনোভাবে (বয়স যতই হোক) মূল কুরআন থেকেই বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শেখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।
–আলমুকনি‘, আবু আমর আদ্দানী, পৃ. ৬৮; আলমাদখাল, ইবনুল হাজ ৪/৮৬; আননাশ্র ফিল কিরাআতিল আশর, ইবনুল জাযারী ১/২১০; আলইতকান ফী উলূমিল কুরআন ৪/১৪৫; আলফাতাওয়াল কুবরা, ইবনে হাজার আলমাক্কী ১/৩৮; ইমদাদুল আহকাম ১/২৪০; জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/১২২