আরিফুল ইসলাম - কেরানীগঞ্জ, জিনজিরা, ঢাকা
৬৯১৬. প্রশ্ন
আমার ফুফুর বয়স ৩৫ বছরের কাছাকাছি। জেনারেল শিক্ষিত। পরিবারে আর্থিক সংকটের কারণে অনলাইনে বিভিন্ন রেসিপি তৈরি করে বিক্রি করতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তার কণ্ঠ ব্যবহার করা জরুরি । কিন্তু তিনি একজন নারী হওয়ায় দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেছেন যে, তার জন্য ভিডিওর মধ্যে কণ্ঠ দেওয়া জায়েয হবে কি না। তিনি শুধু কণ্ঠই দিতে চাচ্ছেন; ক্যামেরার সামনে আসবেন না।
মুহতারাম মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এ ধরনের ভিডিওর মধ্যে তার জন্য কণ্ঠ দেওয়া জায়েজ হবে কি না? অনুগ্রহ করে অবগত করবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান।
উত্তর
নারীদের ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান ও নির্দেশনা হল, তাদের কণ্ঠস্বর যেন অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়া পরপুরুষ শুনতে না পায়। এ বিধান কেবল সাধারণ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়; বরং ইবাদত-বন্দেগী ও আমলের ক্ষেত্রেও তা পূর্ণমাত্রায় লক্ষ রাখা হয়েছে। যেমন–
১. আযান দেওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ আমল। তা সত্ত্বেও নারী কণ্ঠস্বর যেন (বিনা প্রয়োজনে) পরপুরুষ শুনতে না পায়, সেজন্য নারীদের ওপর আযানের বিধান দেওয়া হয়নি; বরং মুআয্যিন হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়ার শর্ত রয়েছে।
২. যেসকল ফরয নামাযে পুরুষগণ উঁচু আওয়াজে কেরাত পড়ে থাকে সেগুলোতে নারীদের জন্য নিম্ন আওয়াজে পড়ার বিধান দেওয়া হয়েছে।
৩. হজ্ব-উমরার তালবিয়া পুরুষরা উঁচু আওয়াজে পড়লেও নারীদেরকে নিম্ন আওয়াজে পড়ার বিধান দেওয়া হয়েছে।
এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের মাঝে পার্থক্য করা হয়েছে।
অবশ্য প্রয়োজনে পরপুরুষের সাথে পর্দার আড়ালে থেকে দরকারি কথা বলা নিষেধ নয়। তবে সেক্ষেত্রেও আওয়াজে কোমলতা ও নম্রতা পরিহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে–
فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَیَطْمَعَ الَّذِیْ فِیْ قَلْبِهٖ مَرَضٌ.
তোমরা (পর-পুরুষের সাথে) কথা বলায় কোমলতা অবলম্বন করো না। অন্যথায় যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হবে। [সূরা আহযাব (৩৩) : ৩২]
তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রেসিপির উপাদান ও প্রস্তুত প্রণালীর বিবরণ ভিডিওতে উপস্থাপন করতে হলে আপনার ফুফু কোনো পুরুষ বা ছেলের কণ্ঠ ব্যবহার করতে পারেন। সরাসরি নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
* >إمداد الفتاح< ص ২৬৯: وذكر الإمام أبو العباس القرطبي في كتابه في السماع : ولا يظن من لا فطنة له أنا إذا قلنا: صوت المرأة عورة، أنا نريد بذلك كلامها، لأن ذلك ليس بصحيح، فإنا نجيز الكلام مع النساء الأجانب ومحاورتهن عند الحاجة إلى ذلك. ولا نجيز لهن رفع أصواتهن ولا تمطيطها ولا تليينها وتقطيعها، لما في ذلك من استمالة الرجال إليهن، وتحريك الشهوات منهم.
–আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/৩৫৯; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ১/৫৬৩; উমদাতুল কারী ৭/২৭৯; আলকাফী শরহুল ওয়াফী ২/৫২৯; মিনহাতুল খালিক ১/২৭০