ইকরামুল হক - বি. বাড়িয়া

৬৯০৪. প্রশ্ন

আমার ছেলের মূত্রনালিতে সমস্যার কারণে ক্যাথেটার লাগানো হয়েছে। ক্যাথেটার লাগানো থাকলে যেহেতু এর নল সরাসরি মূত্রাশয়ের সাথে সংযুক্ত থাকে, তাই সব সময় ক্যাথেটারের ব্যাগে মূত্র জমা হতে থাকে।

জানার বিষয় হল, সে নামাযের জন্য কীভাবে পবিত্রতা অর্জন করবে?

উত্তর

ক্যাথেটারের নল দিয়ে যেহেতু তার অনবরত পেশাব বের হতে থাকে, তাই আপনার ছেলে শরীয়তের দৃষ্টিতে মাযূর। এ অবস্থায় তাকে প্রতি ওয়াক্তে একবার পবিত্রতা অর্জন করতে হবে। কোনো নামাযের ওয়াক্ত হওয়ার পর একবার ওযু করলে এই ওয়াক্তের মধ্যে ওযু ভঙ্গের অন্য কোনো কারণ পাওয়া না গেলে ওয়াক্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত তার ওযু বহাল আছে বলে ধর্তব্য হবে। ওয়াক্ত শেষ হওয়ার পর তার ওযুও শেষ হয়ে যাবে। এরপর তাকে পুনরায় ওযু করতে হবে। তবে ওযু করার পর কখনো তার থেকে ওযু ভঙ্গের অন্য কোনো কারণ পাওয়া গেলে তার ওযু ভেঙে যাবে।

* >المبسوط< للسرخسي /১৩৯ : ثم حقيقة المعنى فيه أن الذي انفجر كان ساكنا حين توضأ، فيجعل بمنزلة ما لو لم يسكن أصلا، فتبقى طهارته ما بقي الوقت. ... وعلى هذا حكم المستحاضة والمبطون الذي لا ينقطع استطلاق بطنه، ومن به سلس البول أو سقوط الدود أو انفلات الريح.

শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ১/৪৮৬; বাদায়েউস সানায়ে ১/১২৬; আলইখতিয়ার ১/১০৫; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪০; আদ্দুররুল মুখতার ১/৩০৫

শেয়ার লিংক

হাবিবুল্লাহ - চান্দিনা, কুমিল্লা

৬৯০৫. প্রশ্ন

আমরা জানি, ওযুর শেষে কালিমায়ে শাহাদাত ও এই দুআ পড়তে হয়

اللّٰهُمَّ اجْعَلْنِيْ مِنَ التَّوَّابِيْنَ، وَاجْعَلْنِيْ مِنَ المُتَطَهِّرِيْنَ.

সেদিন একজন বললেন, ওযুর শেষে নিম্নোক্ত দুআটিও পড়া যায়

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلّاَ أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ.

অথচ আমরা তো জানতাম, এই দুআটি মজলিসের শেষে মজলিসের কাফ্ফারা হিসেবে পড়তে হয়। এই দুআ কি ওযুর শেষেও পড়া যায়?

উত্তর

হাঁ, উল্লিখিত দুআটি ওযুর শেষে পড়ার কথাও হাদীসে আছে।

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন

مَنْ تَوَضَّأَ فَفَرَغَ مِنْ وُضُوئِه ثُمَّ قَالَ: سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلّاَ أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوْبُ إِلَيْكَ، طَبَعَ اللهُ عَلَيْهَا بِطَابَعٍ، ثُمَّ رُفِعَتْ تَحْتَ الْعَرْشِ فَلَمْ تُكْسَرْ إِلٰى يَوْمِ الْقِيَامَةِ.

যে ব্যক্তি ওযু শেষে এই দুআ পড়ে

سُبْحَانَكَ اللّٰهُمَّ وَبِحَمْدِكَ، أَشْهَدُ أَنْ لَا إِلٰهَ إِلَّا أَنْتَ، أَسْتَغْفِرُكَ وَأَتُوبُ إِلَيْكَ.

তার এই আমলকে মোহরাঙ্কিত করা হয়। এরপর তা আরশের নিচে সংরক্ষণ করে রাখা হয়। কিয়ামত পর্যন্ত তা আর খোলা হয় না। (সুনানে নাসায়ী, হাদীস ৯৯১১)

মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ৭৩০; খুলাসাতুল ফাতাওয়া ১/২৫; আলমুহীতুল বুরহানী ১/১৭৯; আলবিনায়া ১/১৫৫; নাতাইজুল আফকার, ইবনে হাজার ১/১৮১; রদ্দুল মুহতার ১/১২৮

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ মামুনুর রশিদ - নাগেশ্বরী, কুড়িগ্রাম

৬৯০৬. প্রশ্ন

আমি এক মসজিদে গিয়ে নামাযে শরীক হওয়ার সময় দেখলাম, ইমাম সাহেব বসে নামায পড়াচ্ছেন। পরে আমিও ওই জামাতে শরীক হয়ে গেলাম।

এখন আমার জানার বিষয় হল, আমার নামায কি আদায় হয়েছে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ইমাম সাহেব যদি ওজরের কারণে বসে নামায পড়িয়ে থাকেন, আর এক্ষেত্রে তিনি সমতলে মাথা লাগিয়ে সিজদা করে নামায পড়ে থাকেন, তাহলে তার পেছনে আপনাদের নামায আদায় হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে তিনি বসে বসে নামায আদায় করলেও তার পেছনের মুসল্লীগণ যথানিয়মে দাঁড়িয়ে তাদের নামায আদায় করবে। কিন্তু যদি তিনি সমতলে মাথা না লাগিয়ে ইশারায় সিজদা করে নামায আদায় করে থাকেন, তাহলে তার পেছনে আপনাদের নামায আদায় হয়নি। সেক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে নামায আদায়ে সক্ষম যেসকল সুস্থ ব্যক্তি তার পেছনে নামায পড়েছে, তাদেরকে ওই নামায পুনরায় পড়ে নিতে হবে।

* >بدائع الصنائع< ১/৩৫৫ : ويجوز اقتداء القائم الذي يركع ويسجد بالقاعد الذي يركع ويسجد استحسانا، وهو قول أبي حنيفة وأبي يوسف، والقياس أن لا يجوز وهو قول محمد.

সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৮৭; আলজামিউস সগীর, পৃ. ৭৬; আলমাবসূত, সারাখসী ১/২১৩; আলহাবিল কুদসী ১/১৮৩; ফাতাওয়া খানিয়া ১/৮৯; আলজাওহারাতুন নায়্যিরা ১/৭৯; আদ্দুররুল মুখতার ১/৫৮৮

শেয়ার লিংক

মাকবুল হুসাইন - মুহাম্মদপুর, ঢাকা

৬৯০৭. প্রশ্ন

কেউ যদি বিতির নামাযে দুআয়ে কুনূতের আগে সূরা মেলানোর পর হাত উঠিয়ে তাকবীর না বলে, তাহলে কি তার নামায পরিপূর্ণ হবে? বিতিরের শেষ রাকাতে কুনূতের আগে হাত ওঠানো সুন্নত, না ওয়াজিব? জানালে কৃতজ্ঞ হব।

উত্তর

বিতির নামাযে দুআয়ে কুনূতের আগে হাত উঠিয়ে তাকবীর বলা ওয়াজিব নয়। কখনো তা ছুটে গেলে এর কারণে নামায নষ্ট হবে না এবং সাহু সিজদাও করতে হবে না। তবে তা সুন্নত। কোনো ওজর ছাড়া ইচ্ছাকৃত ছাড়া যাবে না।

 

* >شرح مختصر الكرخي< للقدوري ১/৬১০ : وإنما قلنا: إنه إذا أراد القنوت، كبر ورفع يديه؛ لما روي عن علي: أنه كان إذا أراد القنوت، كبر وقنت، ولأن هذا انتقال من حال إلى حال يخالفها، فالسنة فيها التكبير في سائر الأركان.

আলমুজামুল কাবীর, তবারানী, বর্ণনা ৯৪২৫; শরহু মাআনিল আছার ২/৩৪৪; আলইনায়া ১/৩৭৮; মারাকিল ফালাহ, পৃ. ১৫৫; রদ্দুল মুহতার ২/৬

শেয়ার লিংক

কাজী সাজ্জাদুর রহমান - রেইস কোর্স, কুমিল্লা

৬৯০৮. প্রশ্ন

আমি একটি সফটওয়্যার কোম্পানির আওতায় কাস্টমার সাপোর্টে কর্মরত। এখানে আমাদেরকে মসজিদে গিয়ে নামায আদায়ের সুযোগ দেওয়া হয়। আমি নামাযের সময় অফিসের খুব কাছের একটি মসজিদে গিয়ে নামায আদায় করি। কিন্তু আমার সুন্নত পড়তে একটু বেশি সময় লাগে। যেমন চার রাকাতে দশ মিনিট, দুই রাকাতে পাঁচ মিনিট। তাছাড়া আমি শুনেছি, চাকরিজীবী তার চাকরির সময়ে শুধু ফরয পড়বে; সুন্নত পড়বে না। তাই আমার সংশয় হচ্ছে, কাজের সময় আমার জন্য এভাবে সুন্নত পড়া ঠিক হচ্ছে কি না?

এখন আমার জিজ্ঞাসা হচ্ছে, আমি কি ফরয নামাযের সাথে সুন্নতও আদায় করতে পারব? এক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান কী?

উল্লেখ্য, নামাযের ক্ষেত্রে সময়ের বিষয়ে মালিকের পক্ষ থেকে কোনো চাপাচাপি নেই।

উত্তর

চাকরির সময়ও ফরযের আগে-পরের সুন্নতে মুআক্কাদা আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে সুন্নত না পড়ার কথা ঠিক নয়। তবে চার রাকাত নামায পড়তে দশ মিনিট এবং দুই রাকাতে পাঁচ মিনিট সময় নেওয়া স্বাভাবিক থেকে বেশি। তাই এই সময় আরও কমিয়ে আনার চেষ্টা করবেন। যদি তা সম্ভব না হয় এবং এতে কর্তৃপক্ষের কোনো আপত্তি না থাকে, তাহলে সেক্ষেত্রেও কোনো সমস্যা হবে না।

* >جامع المضمرات< ৩/১০৫ : استأجر رجلا يوما، فعليه أن يعمل إلى تمام المدة، ولا يشتغل بشيء آخر سوى الصلاة المكتوبة، كذا ذكر هنا، وذكر في موضع آخر: أن هذا قول البعض، وقال بعضهم: يؤدي السنة أيضا؛ لأنها من تمام الفريضة. واتفقوا على أنه لا يؤدى نفلا، والفتوى على هذا.

আলমুহীতুর রাযাবী ১/২৬৮; আলমুহীতুল বুরহানী ১১/২৩৯; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৩০৩, ১৫/৩০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/১১২, ৪/৪১৬; রদ্দুল মুহতার ২/১২, ৬/৭০

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ ওয়ালিদ - ফুলবাড়ীগেট, দৌলতপুর, খুলনা

৬৯০৯. প্রশ্ন

একবার আমি ইমামতি করার সময় দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক করা সত্ত্বেও আমার মনে সন্দেহ হয় যে, আমি হয়তো দ্বিতীয় বৈঠক করিনি। এ কারণে আমি শেষ রাকাতে সাহু সিজদা করি। পরে মুসল্লীদের থেকে জানতে পারি, আমি দ্বিতীয় রাকাতে বৈঠক করেছিলাম।

এখন আমার জানার বিষয় হচ্ছে, এক্ষেত্রে আমার কী করণীয়?

উত্তর

আপনাদের ওই নামায আদায় হয়ে গেছে। তা পুনরায় পড়তে হবে না। তবে শুধু সন্দেহের ভিত্তিতে সাহু সিজদা করা ঠিক হয়নি; বরং সাহু সিজদা ওয়াজিব হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলেই সাহু সিজদা করা নিয়ম।

আলমুহীতুর রাযাবী ১/৩২৫; ফাতাওয়া খানিয়া ১/১০১; ফাতাওয়া তাতারখানিয়া ২/৪২৭; তাবয়ীনুল হাকায়েক ১/৪৭৩; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৯২; রদ্দুল মুহতার ১/৫৯৯

শেয়ার লিংক

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক - নারায়ণগঞ্জ

৬৯১০. প্রশ্ন

আমি এবং আমার স্বামী দুজনেই স্টুডেন্ট অবস্থায় বিয়ে করি। আমার স্বর্ণের যাকাত আমার শ্বশুর আদায় করে দেন। এখন আমার শাশুড়ি আরও তিন ভরি স্বর্ণ আমাকে উপহার দিয়েছেন। আমার যেহেতু যাকাত আদায় করার মতো ক্যাশ টাকা নেই, তাই আমি সেই তিন ভরি স্বর্ণ আমার স্বামীকে দিয়ে দিয়েছি। মাঝে মধ্যে নিজে ব্যবহার করি। তবে আমি সম্পূর্ণভাবে বলে দিয়েছি, চাইলে আমার স্বামী যে-কোনো সময় সেই স্বর্ণ বিক্রি করতে পারবে অথবা তার কোনো দরকারে নিয়ে নিতে পারবে।

এখন আমি জানতে চাচ্ছি, এই তিন ভরি স্বর্ণেরও কি যাকাত দিতে হবে?

উল্লেখ্য, আমার স্বামীর নেসাব পরিমাণ সম্পদ নেই।

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে বাস্তবেই যদি আপনি ওই তিন ভরি স্বর্ণ আপনার স্বামীকে পরিপূর্ণভাবে মালিক বানিয়ে তাকে বুঝিয়ে দিয়ে থাকেন, তাহলে তিনি এর মালিক হয়ে গেছেন এবং আপনার মালিকানা থেকে তা বের হয়ে গেছে। অতএব আপনাকে এখন আর এ স্বর্ণের যাকাত আদায় করতে হবে না।

তবে মনে রাখতে হবে, বাস্তবেই কেউ সম্পদশালী এবং তার যাকাত আদায়ের মতো আর্থিক সামর্থ্য পরিপূর্ণ থাকার পরও শুধু যাকাত থেকে বাঁচার জন্য (হীলাস্বরূপ) নিজের সম্পদ পরিবারের অন্য কাউকে এভাবে দিয়ে দেওয়া জায়েয নয়; যাতে করে এ সম্পদের ওপর কারোই যাকাত না আসে। এটি

الفرار من الزكاة তথা যাকাত থেকে পালানোর আওতায় পড়ে। যা অত্যন্ত গর্হিত কাজ। আর কেবল নামেমাত্র কাউকে দিলে তো এর দ্বারা তার থেকে যাকাত বাদই যাবে না; বরং এমনটি করলেও বাস্তবে সে ওই সম্পদের মালিক থাকবে এবং তাকে এর যাকাত দিতে হবে।

কিতাবুল খারাজ, ইমাম আবু ইউসুফ, পৃ. ৮৮; ই‘লামুল মুওয়াক্কিয়ীন ৩/১৯৩; আলবাহরুর রায়েক ২/২২০; আদ্দুররুল মুখতার ২/৩০৮

শেয়ার লিংক

আবদুল্লাহ - সিলেট

৬৯১১. প্রশ্ন

আমার খালাতো বোনের বিবাহের প্রায় এক বছর হয়ে গেছে। তার একটি ছেলে সন্তানও আছে। কিন্তু তার বিবাহ হয়েছিল মোবাইলের মাধ্যমে। কনে ছিলেন বাংলাদেশে আর বর ছিলেন আমেরিকায়। তো স্বামী-স্ত্রী যেভাবে উপস্থিত থাকলে বিবাহ সংঘটিত হয় সেভাবে মোবাইলের মাধ্যমে বিবাহটি হয়েছিল। কাউকে উকিল না বানিয়ে বর সেখান থেকে কবুল বলে তার বাগদত্তাকে গ্রহণ করেছে।

এক্ষেত্রে জিজ্ঞাসা হল, উক্ত বিবাহ কি শরীয়তসম্মত হয়েছে? না হলে সঠিক পদ্ধতি কী? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

প্রশ্নের বর্ণনা অনুযায়ী মোবাইলের মাধ্যমে সংঘটিত তাদের ওই বিবাহ সহীহ হয়নি। কেননা বিবাহ সহীহ হওয়ার জন্য পাত্র-পাত্রী বা তাদের পক্ষ থেকে প্রতিনিধিদের একই মজলিসে উপস্থিত থেকে সাক্ষীদের সামনে ইজাব-কবুল (অর্থাৎ প্রস্তাব ও গ্রহণ) করা শর্ত। ভিন্ন ভিন্ন জায়গা থেকে ফোনে ইজাব-কবুল করলে উভয় জায়গায় পৃথক পৃথক সাক্ষী থাকলেও ওই বিবাহ সহীহ হয় না। এমনকি তা ভিডিও কলের মাধ্যমে হলেও নয়। এখন তাদের কর্তব্য হল, সাক্ষীদের সামনে ইজাব-কবুল করে যথাযথ পদ্ধতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।

আর প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আগের বিবাহটি সহীহ না হলেও তারা যেহেতু মাসআলা না জানার কারণে ওই বিবাহকে বৈধ মনে করে সংসার করেছেন, তাই এরপর তাদের ঘরে জন্ম নেওয়া সন্তান তাদের বৈধ সন্তান বলে বিবেচিত হবে এবং তার বংশ পরিচয় ওই ব্যক্তি থেকেই সাব্যস্ত হবে।

উল্লেখ্য, পাত্র-পাত্রীর মধ্যে কেউ যদি বিবাহের আকদের মজলিসে উপস্থিত না থাকে, তাহলে এক্ষেত্রে বিবাহের পদ্ধতি হল, তার পক্ষ থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করার জন্য সে কাউকে প্রতিনিধি বানাবে। আর প্রতিনিধি বানানোর কাজ সে মোবাইলের মাধ্যমেও করতে পারবে। এভাবে কাউকে প্রতিনিধি বানানোর পর ওই প্রতিনিধি সাক্ষীদের সামনে তার পক্ষ থেকে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করবে। যেমন, মেয়ের অভিভাবক মেয়ে থেকে ইযন অর্থাৎ অনুমতি নিয়ে আসার পর বিবাহের মজলিসে বিদেশে বা দূরে অবস্থানরত পাত্রের প্রতিনিধির কাছে এভাবে প্রস্তাব দিবে যে, আমি অমুককে (পাত্রীর নাম, পিতার নাম ও সুস্পষ্ট পরিচয় উল্লেখ করে) আপনার মুআক্কিল অমুকের (পাত্রের নাম, পিতার নাম ও সুস্পষ্ট পরিচয় উল্লেখ করে) কাছে এত টাকা মহরের মাধ্যমে বিবাহের প্রস্তাব দিচ্ছি। আপনি কি তার পক্ষ থেকে সম্মত আছেন? তখন পাত্রের প্রতিনিধি বলবে, আমি আমার মুআক্কিল অমুকের পক্ষ থেকে কবুল করলাম। এভাবে প্রতিনিধির মাধ্যমে ইজাব-কবুল সম্পন্ন করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে এ বিবাহ সহীহ হবে।

* >شرح الجامع الصغير< لقاضي خان ২/৫১০ : فلا ينعقد النكاح عندنا إلا بشاهدين، يسمع كل واحد منهما كلام العاقدين معا في مجلس واحد.

* كتاب >الأصل< ১০/২১২ : وكل نكاح في أهل الإسلام في عبد أو حر أو صغير أو كبير بغير شهود، فإنه لا يجوز ولا يصلح ولا يحل. ... وإن كان دخل بها، فلها المهر وعليها العدة، ويثبت نسب الولد.

শরহু মুখতাসারিল কারখী, কুদূরী ৩/৪১২, ৪২৮; আলমাবসূত, সারাখসী ৫/২১-২২; বাদায়েউস সানায়ে ২/৪৯০, ৫২৭, ৬৫১; রদ্দুল মুহতার ৩/১৪, ২১-২৩, ১৩১-১৩৪

শেয়ার লিংক

আশরাফুল ইসলাম - ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

৬৯১২. প্রশ্ন

আমাদের সংসারে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ব্যাপক ঝামেলা লেগে থাকত। ফলে একদিন আমরা দুইজন মিলে আলোচনা করি যে, আমরা আর সংসার করব না, ডিভোর্স দিব। আর আমার ইসলামিক নলেজ থাকায় আমি একবারে তিন তালাক দেওয়ার চিন্তা করিনি। আমি তাকে শুধু মুখে এক তালাক দিয়েছিলাম এবং একই রুমে আলাদা থাকার চেষ্টা করছিলাম।

কিন্তু আমরা নিজেদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কয়েক দিনের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক করেছি এবং এক মাস বা দুই আড়াই মাসের মধ্যে আমাদের ঝামেলা দূর হয়ে যায়। আর ওই সময়ের মধ্যেই আমি তাকে বলি যে, তোমাকে দেওয়া তালাকটি আমি ফিরিয়ে নিলাম। আর তখন থেকেই আমরা সংসার করে যাচ্ছি। পুনরায় বিয়ে পড়ানো হয়নি।

প্রশ্ন হল, পুনরায় বিয়ে পড়ানো কি প্রয়োজন ছিল? এখন কি কোনো করণীয় আছে?

উত্তর

প্রশ্নের বিবরণ অনুযায়ী আপনি আপনার স্ত্রীকে ‘তোমাকে এক তালাক দিলাম’ বলার দ্বারা তার ওপর এক তালাকে রজয়ী পতিত হয়েছে। এরপর আপনি তালাকটি ফিরিয়ে নিলাম বললেও এর দ্বারা ওই তালাক প্রত্যাহার হয়নি। কোনো তালাক কার্যকর হয়ে গেলে তা আর প্রত্যাহার করা যায় না। তাই এটি অনর্থক কথা। তবে আপনার প্রশ্নোক্ত কথাটি দ্বারা যেহেতু একটি রজয়ী তালাক পতিত হয়েছে এবং ইদ্দতের ভেতরই আপনাদের মাঝে শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে, তাই এ কারণে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক পুনর্বহাল হয়ে গেছে। অতএব আপনারা স্বাভাবিক ঘর-সংসার চালিয়ে যেতে পারেন। এক্ষেত্রে আপনাদের পুনরায় বিবাহ করার প্রয়োজন নেই।

উল্লেখ্য, আপনি যেহেতু আপনার স্ত্রীকে এক তালাক দিয়ে দিয়েছেন, তাই পরবর্তীতে আপনি কেবল দুই তালাকের অধিকারী থাকবেন।

অতএব পরবর্তীতে কখনো তাকে দুই তালাক দিলেই পূর্বের এক তালাকের সাথে মিলে মোট তিন তালাক হয়ে আপনাদের বৈবাহিক সম্পর্ক সম্পূর্ণরূপে ছিন্ন হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে নতুন করে বিবাহ করেও একত্রিত হওয়ার সুযোগ থাকবে না। তাই সামনে এ বিষয়ে আরও সতর্ক থাকতে হবে।

কিতাবুল আছল ৪/৩৯৬; তুহফাতুল ফুকাহা ২/১৭৭; বাদায়েউস সানায়ে ৩/২৮৯, ২৯৫; আলমুহীতুল বুরহানী ৫/১৭৯; আলবাহরুর রায়েক ৪/৫০; ফাতাওয়া হিন্দিয়া ১/৪৬৮; আদ্দুররুল মুখতার ৩/৪০৯

শেয়ার লিংক

নাম-ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক -

৬৯১৩. প্রশ্ন

আমি একজন মাদরাসার শিক্ষক। একটি মাসিক পত্রিকার এজেন্ট। পত্রিকাটি কিনে এনে প্রতি মাসে ছাত্রদের কাছে বিক্রি করি। এ থেকে কিছুটা লাভ হয়। ছাত্ররা এই বিষয়টা জানে না। তারা না জানা সত্ত্বেও কি আমার এভাবে কিছু টাকা লাভ করা জায়েয হবে?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে আপনি যেহেতু ছাত্রদের ক্রয়-প্রতিনিধি নন; বরং আপনি হলেন পত্রিকাটির এজেন্ট এবং খুচরা বিক্রেতা, তাই এক্ষেত্রে আপনার জন্য ছাত্রদের কাছে পত্রিকার ক্রয়মূল্য না বলে সাধারণ মূল্যে পত্রিকা বিক্রি করা জায়েয আছে। এবং অতিরিক্ত টাকা ভোগ করতে কোনো অসুবিধা নেই। এ ধরনের বিক্রয়ের ক্ষেত্রে বিক্রেতার ওপর ক্রেতাকে এর ক্রয়মূল্য জানানোর কোনো প্রয়োজন নেই।

আলমুহীতুর রাযাবী ২/৩১৯; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৩২০; আলমুজতাবা, যাহেদী ৩/৪৮; মি‘রাজুদ দিরায়া ৫/৮৯৫; আলকিফায়া ৬/১২২; আলবাহরুর রায়েক ৬/১০৭; রদ্দুল মুহতার ৫/১৩২

শেয়ার লিংক

মুহাম্মাদ সাকিবুল হাসান - মানিকদি, মিরপুর, ঢাকা

৬৯১৪. প্রশ্ন

কোনো জায়গায় দোকান ভাড়া নিলে আগে এক/দুই লাখ টাকা জামানত দিতে হয়। এরপর উভয়ের আলোচনা সাপেক্ষে মাসিক বা বাৎসরিক একটা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়।

ভাড়াদাতা জামানতের ওই টাকাটা ব্যবসায় খাটায় অথবা নিজের অন্য কোনো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যয় করে। আবার ভাড়াচুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর ওই টাকাটা ভাড়াগ্রহীতার কাছে ফেরত দিয়ে দেয়। এভাবে অধিকাংশ দোকানদারই দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছে।

প্রশ্ন হল, উপরোক্ত নিয়ম অনুযায়ী কোনো জমি নিয়ে চাষবাস করে খাওয়া কি জায়েয হবে? পরে চুক্তির মেয়াদ শেষে জমির মালিক ভাড়াগ্রহীতাকে জমি ফেরত দিয়ে দেবে। এটা বৈধ হবে কি না?

উত্তর

দোকান ভাড়া নেওয়ার সময় ভাড়াগ্রহীতা জামানত হিসেবে নগদ অর্থ রাখুক বা কোনো জমি, সেটি ভাড়াদাতার কাছে বন্ধক হিসেবে থাকে। আর বন্ধকগ্রহীতার জন্য বন্ধকি জিনিস ব্যবহার করে উপকার গ্রহণ করা জায়েয নয়। সুতরাং ভাড়াদাতার জন্য সিকিউরিটি মানি ব্যবহার করে উপকৃত হওয়াও জায়েয নয়। তার দায়িত্ব হল, টাকাগুলো নিজের কাছে জমা রেখে দেওয়া। এমনিভাবে জামানত হিসেবে টাকার পরিবর্তে জমি রাখলে ভাড়াদাতার জন্য সে জমি ব্যবহার করা বা তা থেকে উপকার ভোগ করাও জায়েয হবে না। এ থেকে বিরত থাকা আবশ্যক।

 

মুসান্নাফে আবদুর রায্যাক, বর্ণনা ১৫০৭১; কিতাবুল আছল ৩/২২৯; আলমাবসূত, সারাখসী ২১/১৬৩; শরহুল বেকায়া, ইবনে মালাক ৪/১০৮; হাশিয়াতুত তাহতাবী আলাদ্দুর ৪/২৩৬; রদ্দুল মুহতার ৬/৪৮২; শরহুল মাজাল্লা, আতাসী ৩/১৯৬

শেয়ার লিংক

সাকী আব্দুল্লাহ - শরীয়তপুর

৬৯১৫. প্রশ্ন

এক ব্যক্তি অন্য এক ব্যক্তির কাছে ১০ লক্ষ টাকায় একটি জমি বিক্রি করতে সম্মত হন। বায়না করার সময় ক্রেতা বিক্রেতাকে ৬ লক্ষ টাকা পরিশোধ করেন এবং স্ট্যাম্প পেপারে উভয় পক্ষ স্বাক্ষর করেন। স্ট্যাম্প পেপারে লেখা ছিল, অবশিষ্ট ৪ লক্ষ টাকা বিক্রেতা যখন ক্রেতাকে জমিটি পুরোপুরি বুঝিয়ে দেবেন (দলীল সম্পাদন করবেন), তখন পরিশোধ করা হবে।

চুক্তি সম্পাদনের পর থেকে ক্রেতা প্রায় দেড় বছর যাবৎ উক্ত জমিটি ব্যবহার করছেন। বায়না চুক্তি হওয়া সত্ত্বেও বিক্রেতা দেড় বছর ধরে ক্রেতাকে জমিটি দলীল করে বুঝিয়ে দিতে নানাভাবে টালবাহানা ও কালক্ষেপণ করছেন।

বর্তমানে জমির মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় বিক্রেতা এখন জমি দিতে চাচ্ছেন না। তিনি ক্রেতাকে পরিশোধিত ৬ লক্ষ টাকার সাথে অতিরিক্ত ৫০ হাজার টাকা লাভ দিয়ে বায়না চুক্তিটি বাতিল করে দিতে চাচ্ছেন।

এমতাবস্থায় শরীয়তের দৃষ্টিতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলোর সমাধান জানতে চাই

১. স্ট্যাম্প পেপারের লিখিত চুক্তিটি শরীয়তের দৃষ্টিতে চূড়ান্ত বিক্রয় চুক্তি হিসেবে গণ্য হবে, নাকি এটি কেবল একটি বায়না চুক্তি (وعد بالبيع)?

২. মূল্য পরিশোধের শর্ত পূরণের আগেই বিক্রেতার দেড় বছর টালবাহানা করা এবং মূল্য বৃদ্ধির কারণে চুক্তি বাতিল করতে চাওয়া শরীয়তের দৃষ্টিতে বৈধ হবে কি?

উত্তর

প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে ক্রেতা যেহেতু উক্ত জমিটির বায়নামূল্য ৬ লক্ষ টাকা আদায় করে স্ট্যাম্প পেপারে স্বাক্ষর করে জমিটি বুঝে নিয়েছেন, তাই এর দ্বারা ক্রেতা ওই জমিটির মালিক হয়ে গেছেন। এ ধরনের বায়না চুক্তি দ্বারা সরাসরি ক্রয়-বিক্রয় চুক্তি সম্পন্ন হয়ে যায়; এটি কেবল وعد بالبيع বা বিক্রয়ের প্রতিশ্রুতি নয়।

অতএব ক্রেতা যেহেতু ওই জমিটির মালিক হয়ে গেছেন, উপরন্তু তিনি জমিটির দখল বুঝে নিয়ে দেড় বছর যাবৎ ভোগও করে যাচ্ছেন, তাই এক্ষেত্রে বিক্রেতার দায়িত্ব হল, ক্রেতাকে অবিলম্বে জমিটির রেজিস্ট্রি বুঝিয়ে দেওয়া এবং অবশিষ্ট মূল্য তার থেকে গ্রহণ করা। কিন্তু তা না করে টালবাহানা করা এবং জমির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় ক্রেতার অসম্মতিতে চুক্তিটি রহিত করতে চাওয়া নাজায়েয ও গুনাহের কাজ হচ্ছে। তার এ ধরনের কার্যকলাপ থেকে বিরত থাকা জরুরি। ক্রেতার সম্মতি ছাড়া বিক্রেতার জন্য এখন জমিটি তার থেকে ফেরত নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

* كتاب >الحجة على أهل المدينة< ১/৭২৮ : محمد قال، قال أبو حنيفة، إذا تبايع الرجلان ولم يذكرا فيه خيارا، فقد وجب البيع حين عقداه، وإن لم يفترقا، ولا خيار لهما.

* كتاب >الأصل< ৪/৩২৩ : فلما وجب البيع وجب للبائع على المأمور ثمن ما اشترى منه، ووجب للمأمور على الآمر ما اشترى له.

আলমুহীতুর রাযাবী ২/৩৫৫; বাদায়েউস সানায়ে ৪/৪৮২, ৫৯৭; আলইনায়া ৬/১১৪; আলবাহরুর রায়েক ৫/২৬২, ৬/১০১; আদ্দুররুল মুখতার ৪/৫০৪, ৫/১২১

শেয়ার লিংক

আরিফুল ইসলাম - কেরানীগঞ্জ, জিনজিরা, ঢাকা

৬৯১৬. প্রশ্ন

আমার ফুফুর বয়স ৩৫ বছরের কাছাকাছি। জেনারেল শিক্ষিত। পরিবারে আর্থিক সংকটের কারণে অনলাইনে বিভিন্ন রেসিপি তৈরি করে বিক্রি করতে চাচ্ছেন। এক্ষেত্রে তার কণ্ঠ ব্যবহার করা জরুরি । কিন্তু তিনি একজন নারী হওয়ায় দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে পড়ে গেছেন যে, তার জন্য ভিডিওর মধ্যে কণ্ঠ দেওয়া জায়েয হবে কি না। তিনি শুধু কণ্ঠই দিতে চাচ্ছেন; ক্যামেরার সামনে আসবেন না।

মুহতারাম মুফতী সাহেবের কাছে আমার জানার বিষয় হল, এ ধরনের ভিডিওর মধ্যে তার জন্য কণ্ঠ দেওয়া জায়েজ হবে কি না? অনুগ্রহ করে অবগত করবেন। জাযাকাল্লাহু খাইরান।

উত্তর

নারীদের ক্ষেত্রে শরীয়তের বিধান ও নির্দেশনা হল, তাদের কণ্ঠস্বর যেন অনিবার্য প্রয়োজন ছাড়া পরপুরুষ শুনতে না পায়। এ বিধান কেবল সাধারণ ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়; বরং ইবাদত-বন্দেগী ও আমলের ক্ষেত্রেও তা পূর্ণমাত্রায় লক্ষ রাখা হয়েছে। যেমন

১. আযান দেওয়া একটি মর্যাদাপূর্ণ ও ফযীলতপূর্ণ আমল। তা সত্ত্বেও নারী কণ্ঠস্বর যেন (বিনা প্রয়োজনে) পরপুরুষ শুনতে না পায়, সেজন্য নারীদের ওপর আযানের বিধান দেওয়া হয়নি; বরং মুআয্যিন হওয়ার জন্য পুরুষ হওয়ার শর্ত রয়েছে।

২. যেসকল ফরয নামাযে পুরুষগণ উঁচু আওয়াজে কেরাত পড়ে থাকে সেগুলোতে নারীদের জন্য নিম্ন আওয়াজে পড়ার বিধান দেওয়া হয়েছে।

৩. হজ্ব-উমরার তালবিয়া পুরুষরা উঁচু আওয়াজে পড়লেও নারীদেরকে নিম্ন আওয়াজে পড়ার বিধান দেওয়া হয়েছে।

এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের মাঝে পার্থক্য করা হয়েছে।

অবশ্য প্রয়োজনে পরপুরুষের সাথে পর্দার আড়ালে থেকে দরকারি কথা বলা নিষেধ নয়। তবে সেক্ষেত্রেও আওয়াজে কোমলতা ও নম্রতা পরিহার করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে

فَلَا تَخْضَعْنَ بِالْقَوْلِ فَیَطْمَعَ الَّذِیْ فِیْ قَلْبِهٖ مَرَضٌ.

তোমরা (পর-পুরুষের সাথে) কথা বলায় কোমলতা অবলম্বন করো না। অন্যথায় যার অন্তরে ব্যাধি আছে সে প্রলুব্ধ হবে। [সূরা আহযাব (৩৩) : ৩২]

তাই প্রশ্নোক্ত ক্ষেত্রে রেসিপির উপাদান ও প্রস্তুত প্রণালীর বিবরণ ভিডিওতে উপস্থাপন করতে হলে আপনার ফুফু কোনো পুরুষ বা ছেলের কণ্ঠ ব্যবহার করতে পারেন। সরাসরি নিজের কণ্ঠ ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

* >إمداد الفتاح< ص ২৬৯: وذكر الإمام أبو العباس القرطبي في كتابه في السماع : ولا يظن من لا فطنة له أنا إذا قلنا: صوت المرأة عورة، أنا نريد بذلك كلامها، لأن ذلك ليس بصحيح، فإنا نجيز الكلام مع النساء الأجانب ومحاورتهن عند الحاجة إلى ذلك. ولا نجيز لهن رفع أصواتهن ولا تمطيطها ولا تليينها وتقطيعها، لما في ذلك من استمالة الرجال إليهن، وتحريك الشهوات منهم.

আহকামুল কুরআন, জাস্সাস ৩/৩৫৯; শরহু মুখতাসারিত তাহাবী, জাস্সাস ১/৫৬৩; উমদাতুল কারী ৭/২৭৯; আলকাফী শরহুল ওয়াফী ২/৫২৯; মিনহাতুল খালিক ১/২৭০

শেয়ার লিংক

আসাদ - ডেমরা

৬৯১৭. প্রশ্ন

আমাদের একটি প্রকাশনী আছে। আমরা চাচ্ছি, যারা একেবারেই কুরআন পড়তে পারে না তাদের পড়ার সুবিধার জন্য বাংলায় উচ্চারণসহ একটি মুসহাফ বের করতে। এরকম করার ক্ষেত্রে ইসলামের বিধান কী? বৃহত্তর উম্মাহর স্বার্থে এই সমস্যাটির সমাধান জানিয়ে বাধিত করবেন। আল্লাহ তাআলা আপনাদের অফুরান প্রতিদান দান করুন।

উত্তর

বাংলা উচ্চারণে কুরআন কারীমের আয়াত লেখা জায়েয নয়। এমনকি আরবী আয়াতের পাশাপাশি বাংলায় উচ্চারণ লেখাও নিষেধ। আরবীর অনেক হরফের যথাযথ উচ্চারণের জন্য বাংলা ভাষায় কোনো অক্ষর নেই। যে কারণে বাংলা বর্ণে আরবী লিখলে শুধু ভুল উচ্চারণই হবে না; বরং এর কারণে অনেক ক্ষেত্রে মারাত্মকভাবে অর্থের বিকৃতিও ঘটবে।

আরেকটি বিষয় লক্ষণীয়, তা হল কুরআন মাজীদ আরবীতেও সাধারণ লিপিতে লেখা জায়েয নয়। বরং আরবীতে কুরআন মাজীদ লেখার বিশেষ রীতি ও লিপি রয়েছে। যাকে ‘রসমে উসমানী’ বলা হয়। কুরআন মাজীদ আরবীতে সেই রসমে উসমানীর নির্ধারিত রীতি অনুযায়ী লেখা জরুরি। তা না করে আরবীর অন্য কোনো লিপি ব্যবহার করা যাবে না। বাংলা, ইংরেজি ইত্যাদি ভাষায় কুরআনের উচ্চারণ লেখা হলে সেই রসমে উমানীরও সম্পূর্ণ লঙ্ঘন হয়।

সুতরাং বাংলা উচ্চারণে মুসহাফ লেখা, তা ছাপানো, বিক্রি করা, পাঠ করা থেকে বিরত থাকা জরুরি।

মনে রাখতে হবে, প্রত্যেক মুসলমানের জন্য কুরআন কারীমের বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শিক্ষা করা ফরয। শৈশবে না শেখার কারণে বা বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে সঠিক উচ্চারণ কষ্টকর হলেও বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শেখার চেষ্টা-মেহনত অব্যাহত রাখতে হবে। বর্তমানে বহু জায়গায় এ ধরনের শিক্ষার ব্যবস্থাও রয়েছে। তাই যে-কোনোভাবে (বয়স যতই হোক) মূল কুরআন থেকেই বিশুদ্ধ তিলাওয়াত শেখার চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে।

আলমুকনি‘, আবু আমর আদ্দানী, পৃ. ৬৮; আলমাদখাল, ইবনুল হাজ ৪/৮৬; আননাশ্র ফিল কিরাআতিল আশর, ইবনুল জাযারী ১/২১০; আলইতকান ফী উলূমিল কুরআন ৪/১৪৫; আলফাতাওয়াল কুবরা, ইবনে হাজার আলমাক্কী ১/৩৮; ইমদাদুল আহকাম ১/২৪০; জাওয়াহিরুল ফিকহ ১/১২২

শেয়ার লিংক