রজব ১৪৩৪   ||   মে ২০১৩

আল্লাহর ভয়ে কান্না

আবু আদনান মুহাম্মাদ আবদুল মাজীদ

কায়েস বিন আবু হাযেম থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একদা আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা রা. স্বীয় স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে হঠাৎ কাঁদতে লাগলেন, তার সাথে তার স্ত্রীও কাঁদতে লাগলেন। আব্দুল্লাহ বিন রাওয়াহা জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কেন কাঁদছ? স্ত্রী বললেন, তোমাকে কাঁদতে দেখে আমারও কান্না চলে এসেছে। স্বামী বললেন, (কান্নার কারণ হল) আমার আল্লাহর এ বাণীটি স্মরণ হল যে, (অর্থ) তোমাদের মধ্যে কেউ এমন নেই, যে জাহান্নামের উপর দিয়ে অতিক্রম করবে না (মারইয়াম : ৭১) আর আমার জানা নেই যে, জাহান্নামের উপর স্থাপন করা পুলসিরাত অতিক্রম করার সময় আমি (দোযখ থেকে) রক্ষা পাব না পাব না।-মুস্তাদরাকে হাকিম, হাদীস ৮৭৮৬

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি একবার দোযখের কথা স্মরণ করে কাঁদতে লাগলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, কে তোমাকে কাঁদাল? আয়েশা রা. বললেন, আমি দোযখের ভয়ে কাঁদছি। আপনি কি কেয়ামতের দিন আপনার পরিবারের কথা স্মরণ রাখবেন? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেন, তিনটি স্থানে কেউ কাউকে স্মরণ রাখতে পারবে না- এক. মীযানের (আমল পরিমাপক যন্ত্র) নিকট যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার নেকীর পাল্লা ভারী হয়েছে না হালকা, দুই. আমলনামা পেশ করার সময়, যখন বলা হবে আস তোমার আমলনামা পাঠ কর, যতক্ষণ না জানতে পারবে যে, তার আমলনামা ডান হাতে দেওয়া হচ্ছে না পিঠের পিছন থেকে বাম হাতে। তিন. পুলসিরাতের উপর দিয়ে অতিক্রম করার সময় যখন তা জাহান্নামের উপর স্থাপন করা হবে।- সুনানে আবু দাউদ, হাদীস : ৪৭২২

লক্ষ করুন আয়েশা সিদ্দীকার মত নবী পত্নী দিবারাত্রি ইবাদতে মশগুল থাকা সত্ত্বেও আখেরাতের  ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হয়ে যাননি বরং রীতিমত কাঁদতেন। অথচ তাঁর জীবন এতই পুতঃপবিত্র ছিল যে, স্বয়ং আল্লাহ তার কাছে সালাম পাঠিয়েছেন এবং তার ব্যাপারেই কুরআনের দশটি আয়াত নাযিল হয়েছে। বুঝা গেল দোযখের আগুনের ভায়বহতার কথা স্মরণ করে অশ্রুসজল হওয়া স্বতন্ত্র একটি আমল। এটি আল্লাহর অধিক পছন্দনীয় আমল। কুরআনে কারীমের একটি আয়াতে আল্লাহ তাআলা বলেন- (অর্থ) যারা তাদের রবের কাছে ফিরে যাবে এই বিশ্বাসে তাদের যা দান করার তা দান করে ভীত কম্পিত হৃদয়ে, তারাই দ্রুত সম্পাদন করে কল্যাণকর কাজ এবং তারা তাতে অগ্রগামী থাকে।-মুমিনূন : ৬০-৬১

এই আয়াতের ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আয়েশা রা. রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, এই আমলগুলো করে লেকেরা ভীত কম্পিত হবে কেন? তারা কি মদ পান করে কিংবা চুরি করে? রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  বললেন, হে সিদ্দীক তনয়া, এরূপ নয় বরং এরা তারা, যারা রোযা রাখে, নামায পড়ে এবং দান খয়রাত করে। এতদসত্ত্বেও তারা শঙ্কিত  থাকে যে, সম্ভবত : (কোনো ত্রুটির কারণে) এ আমল কবুল হয়নি। এ ধরনের (লোকই  সৎকাজ দ্রুত সম্পাদন করে এবং তাতে অগ্রগামী থাকে) (তাফসীরে ইবনে কাসীর ৩/৩৯৭)

যাই হোক, হাদীসদ্বয়ের মৌলিক শিক্ষা দুইটি : এক. দৈনিক কিছু না কিছু সময় পরকালের দৃশ্য হৃদয়পটে এনে অশ্রুসজল হওয়া, দুই. শুধু মন্দ কাজ করে ভীত হওয়া নয় বরং নেক আমল করেও ভীত হওয়া চাই যেন আল্লাহ পাকের দাসত্বের পূর্ণ অবস্থানটাই আমাদের জীবনে পরিস্ফুট হয়। আর এ কথা বলাই বাহুল্য যে, হৃদয়ের পরিচ্ছন্নতা ও আত্মার পরিশুদ্ধতার জন্য এগুলো হচ্ছে অত্যন্ত জরুরী পদক্ষেপ। 

 

 

advertisement