জুমাদাল উখরা ১৪৩৪   ||   এপ্রিল ২০১৩

ডায়েরীর পাতা থেকে : গুনাহ থেকে বেচে থাকি, গুনাহ থেকে তওবা করি

মুহাম্মাদ নূরুল্লাহ হাসান

হিফজুল হাদীসের দরসে আজ আমাদের বিয়াযুস সালিহীনের তাওবার অধ্যায় শুরু হল। বেশ গুরুত্বপূর্ণ ও চমৎকার কিছু কথা সেখান থেকে জানতে পারলাম। প্রতিটি গুনাহের জন্যই তওবা করা জরুরী। আর তওবার জন্য কিছু শর্ত রয়েছে।  গুনাহ যদি হয় আল্লাহর হক্ব সম্পর্কিত, তাহলে তওবা করার তিনটি শর্ত :

১. উক্ত গুনাহ একেবারে ছেড়ে দিবে।

২. গুনাহের জন্য লজ্জিত হবে।

৩. দৃঢ় সংকল্প করবে যে, এই গুনাহের ধারে কাছেও যাব না।

উল্লেখিত শর্ত তিনটির কোনো একটি বাদ গেলেও তওবা আদায় হবে না। আর গুনাহ যদি হয় বান্দার হক্ব সম্পর্কিত, তাহলে তওবা করার চারটি শর্ত। পূর্বে উল্লেখিত তিনটি শর্ত, আর চতুর্থটি হচ্ছে : বান্দার হক বান্দাকে ফিরিয়ে দিবে।

এক্ষেত্রে হক যদি হয় বান্দার সম্পদ বিষয়ক, তাহলে তা ফেরত দিবে বা তার বদলা দিবে। হক্ব যদি হয় শাস্তিযোগ্য কোনো অপরাধ, তাহলে হয় শাস্তি কামনা করবে বা ক্ষমা প্রার্থনা করবে। আর হক যদি হয় কারো গীবত সম্পৃক্ত তাহলে তার কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। বান্দার হকের ক্ষেত্রে তওবার জন্য এই চারটি শর্ত।

তবে মজার বিষয় হল, তওবার জন্য না অযু গোসল শর্ত, না বিশেষ সময় শর্ত। বরং যে কোনো সময় যে কোনো অবস্থায় তওবা করা যায়। হাদীস শরীফে এসেছে, আল্লাহ তাআলা রাতে তাঁর (ক্ষমার) হাত প্রসারিত করেন, যাতে দিনে যারা পাপ করেছে তারা তওবা করতে পারে। নিজেদের গুনাহ মাফ করিয়ে নিতে পারে। এবং দিবসে (ক্ষমার) হাত প্রসারিত করেন, যাতে রাতে যারা পাপ করেছে, তারা তওবা করতে পারে। আর এ সুযোগ বলবৎ থাকবে (কিয়ামতের আগে) পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উদিত হওয়া পর্যন্ত। (সহীহ মুসলিম)

আল্লাহ আমাদেরকে গুনাহ থেকে রক্ষা করুন, কখনও গুনাহ হয়ে গেলে তওবার তাওফিক দান করুন এবং ক্ষমা করুন। আমীন। 

১১/১১/১২ ঈ.,২৫/১২/৩৩ হি.

 

 

advertisement