জুমাদাল উখরা ১৪৩৪   ||   এপ্রিল ২০১৩

কিছু স্মৃতি ও অনুভূতি

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

আফসোস যে, শ্রদ্ধেয় ছাহেবযাদা মাওলানা হাফেয ওমর রাহ.-এর সাথে আমার প্রথম সাক্ষাত অনেক দেরিতে হয়েছে। তালীমীজীবন কেটেছে সুদূর গ্রামে নয়তো দেশের বাইরে। তাই এখানকার আকাবিরদের সাক্ষাত ও তাদের থেকে উপকৃত হওয়ার ধারাটি বেশ বিলম্বেই শুরু হয়।

প্রথম সাক্ষাতের পরও তিনি এক যুগের বেশি জীবিত ছিলেন। তবে সত্য এই যে, ঘনিষ্ঠভাবে তাঁর সোহবত লাভের সুযোগ হয়ে উঠেনি। এরপরও কিছু না কিছু ইসতিফাদা হয়েছে। বিশেষ করে যখন তাঁর জামাতা হাফেয মৌলবী নূরুল আমীন আমাদের এখানে উলূমুল হাদীস বিভাগে তালিবে ইলম ছিল। দুই তিনবার তিনি মারকাযুদ দাওয়াতে তাশরীফও এনেছেন।

তাঁর থেকে আমার ইস্তিফাদার গুরুত্বপূর্ণ পন্থা এই ছিল যে, তাঁর সামনে বসে আমি হযরত ছদর ছাহেব রাহ.কে স্মরণ করার চেষ্টা করতাম। ইমাম শাফেয়ী রাহ. সম্পর্কে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল রাহ. যে উক্তি করেছিলেন ছদর ছাহেব রাহ. সম্পর্কে ইতিহাসে এর চেয়ে অধিক উপযোগী কোনো উক্তি আমি পাইনি।

ঘটনাটি হল, ইমাম আহমদ রাহ. সবসময় নামাযে ইমাম শাফেয়ী রাহ.-এর জন্য দুআ করতেন। এতে তার পুত্র আবদুল্লাহর মনে কৌতূহল জাগল। জিজ্ঞাসা করলে ইমাম আহমদ রাহ. বললেন-

كان الشافعي كالشمس للدنيا وكالعافية للبدن، وهل تعرف لهذين من خلف

অর্থাৎ শাফেয়ী ছিলেন পৃথিবীর জন্য সূর্য তুল্য আর দেহের জন্য সুস্থতা। তুমি কি এ দুয়ের বিকল্প কিছু জান?

তবে পার্থক্য এই যে, এখানে নামও হল শামসুল হক।

জামিয়া বানূরি টাউন থেকে আমি একবার হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম-এর কাছে পত্র পাঠিয়েছিলাম। তিনি প্রেরকের নাম আবদুল মালেক ‘ইবনে শামসুল’ হক দেখে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি ছদর ছাহেব রাহ.-এর ছেলে নও তো?

হাফেয ওমর রাহ. কয়েকবার বলেছেন যে, আববাজী তো বলতেন, ‘‘আমি তো এসব পুস্তিকা অতি সংক্ষেপে শুধু মূল পাঠ্য হিসেবে লিখেছি। উদ্দেশ্য হল এসব বিষয়ে আলেমদের মনোযোগ আকর্ষণ করা, যেন তারা এগুলোর ব্যাখ্যা করেন, এগুলোর উপর দলিল-প্রমাণনির্ভর এবং সমসাময়িক অবস্থা ও পরিস্থিতির আলোকে বিস্তারিত কিতাব রচনা করেন। আশ্চর্যের কিছু নয় যে, রাবেব কারীম এই খেদমতে আবনায়ে শামসকেও শরিক করে নিবেন। ছাহেবযাদা হাফেয ওমর রাহ.-এর বিভিন্ন কথা থেকে অনুমিত হত যে, তিনি আমাদেরকে হযরত ছদর ছাহেব রাহ.-এর রূহানী সন্তান মনে করতেন।

বাস্তবতা তো এটাই। তবে পুত্র হওয়ার হক আদায়ে হল যত ত্রুটি। আল্লাহ তাআলা তাওফীক ও হিম্মত দান করুন। আমীন।

গওহরডাঙ্গা থেকে যখন রাজনৈতিক কিছু ‘আজীব-গরীব’ কথা শোনা যাচ্ছিল তখনও একবার তাঁর সাথে সাক্ষাত হয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, লোকেরা আমাকে এসব বিষয়ে জিজ্ঞাসা করে। আমি আর কী বলব?! শুধু এতটুকুই বলি যে, ভাই! এ তো অমুকের কাজ, অমুকের মতামত!!

হযরত ছদর ছাহেব রাহ.-এর জীবন-কর্ম, চিন্তা-চেতনা এবং তাঁর শেষ স্মৃতিবহ ও বিশ্রামস্থল মাদরাসা গওহরডাঙ্গার পবিত্র ইতিহাসের সাথে সামঞ্জস্যহীন এসব

কথা ও কর্মপদ্ধতি থেকে মরহুম ছাহেবযাদার দায়মুক্তি ও তার প্রকাশ-কৌশল দুটো বিষয়ই আমার অনেক পছন্দ হয়েছে।

আল্লাহ তাআলা মরহুমকে নিকটতম স্থান দান করুন, কবরকে জান্নাতুল ফিরদাউসের টুকরা বানিয়ে দিন, তাঁর রেখে যাওয়া বংশধরকে হেফাযত করুন এবং তাদেরকে শ্রদ্ধেয় দাদার প্রতিচ্ছবি বানিয়ে দিন। আমীন।

বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

১৭/০৫/১৪৩৪ হিজরী

 

 

advertisement