রবিউল আখির-জুমাদাল উলা ১৪৪৮   ||   অক্টোবর ২০২৬

বিতর্ক : যুক্তি ও প্রমাণ
আল্লাহ তাআলার অস্তিত্বের স্পষ্ট প্রমাণ

জুলফিকার আহমাদ চীমা

(শেষ কিস্তি)

[গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় লেখক জাভেদ আখতার ও একজন নওজোয়ান আলেমেদ্বীন মুফতী শামায়েল নদভীর সাথে স্রষ্টার অস্তিত্ব বিষয়ে একটি টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্পষ্টতই ওই মাওলানা সাহেব জাভেদ আখতারকে ধরাশায়ী করে ছাড়েন। বস্তুবাদী জগতের গুরুজনদের কাছে যা ছিল অনাকাঙ্ক্ষিত ও অবিশ্বাস্য ব্যাপার। জাভেদ আখতার এভাবে পরাস্ত হবেন, তা তারা চিন্তাও করতে পারেনি। তাই তাদের অনেকেই এ ঘটনাটি যত তাড়াতাড়ি দৃশ্যপট থেকে সরে যায়, সে অপেক্ষায় থেকেছেন। কিন্তু মুসলিম দুনিয়ায় এমন কিছু লোকজনও আছেন, যারা নিজেদেরকে অনেক শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক ভেবে থাকেন। আবার অল্পসল্প ধর্মকর্মও করে থাকেন।

অন্যদিকে আলেম-উলামা ও ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের ঘৃণা লুকাতে পারেন না। এরা বর্তমানে লিবারেল শ্রেণি বলে পরিচিত। জাভেদ আখতার ও মুফতী শামায়েল বিতর্কের পর এদের অনেকের গা-জ্বলাটাই বেশি দেখা গেল। একজন আলেমের কাছে একজন বুদ্ধিজীবী কেন হেরে যাবে—এটা তাদের গায়ে সয় না।

যদিও মূল বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেনি। কারণ নিজেকে তো তারা নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দেন না। তাই ওই শ্রেণির লোকেরা বলাবলি ও লেখালেখি শুরু করলেন, আসলে জাভেদ সাহেব সেদিন বিতর্কের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে যাননি। তিনি শামায়েলের ওই কথার এভাবে জবাব দিতে পারতেন। এমন এমন প্রশ্ন করে শামায়েলকে আটকে দিতে পারতেন। এভাবে বিভিন্ন দেশে লিবারেল শ্রেণির লোকেরা নিজেদের মুখ ঢাকার চেষ্টা করে থাকেন। তাদেরই জবাবে এক্সপ্রেস নিউজ পত্রিকার খ্যাতিমান কলামিস্ট জুলফিকার আহমাদ চীমা কয়েকটি কলাম লেখেন। আলকাউসারের পাঠকদের জন্য সেগুলো কিস্তি আকারে পেশ করা হচ্ছে।

অনুবাদ করেছেন— মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ফাহাদ]

 

বিগত কলামগুলোতে আমরা একজন বিবেকবান মানুষের চোখে নাস্তিক্যবাদ অর্থাৎ মানব জাতি ও বিশ্বজগৎ নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়ে গিয়েছে— এই মতাদর্শের পর্যালোচনা করেছি। বস্তুত যা একটি অযৌক্তিক মতাদর্শ। অপরদিকে সকল দলীল-প্রমাণও তাবৎ পৃথিবীর সবচেয়ে সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যক্তি হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কর্তৃক পেশকৃত সৃষ্টিরহস্যের সত্যতা মেনে নিতে বাধ্য করে।

ধরুন, কোনো মানুষ যদি আল্লাহ তাআলার সৃষ্টিকর্তা হওয়া কল্পনা করে, তবে সে তাঁকে কোনো রাজা-বাদশাহ হিসেবে কল্পনা করবে। সে বলবে, আকাশের হাজার হাজার ফেরেশতা আল্লাহর পুত্র। হিন্দু পুরাণে দেব-দেবীর যে ধারণা পাওয়া যায়, তা মানুষের এহেন কল্পনা ও চিন্তারই ফল।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানব-কল্পনা যদি আল্লাহর ধারণা পেশ করত, তবে তাকে সন্তানহীন বলত না। আর হাজার হাজার বছর আগে মৃত্যুবরণকারী মানুষের জীবিত হওয়া এবং আল্লাহ তাআলার দরবারে উপস্থিত হয়ে নিজ নিজ কৃতকর্মের হিসাব দেওয়ার ধারণাও হাজার বছর আগের মানুষের চিন্তা ও কল্পনায় আসত না।

কিন্তু প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে আসমান থেকে অবতীর্ণ পরিচিতিমূলক বক্তব্যগুলোতে বলা হয়েছে, তিনিই একমাত্র সৃষ্টিকর্তা ও সবকিছুর অধিপতি। অর্থাৎ আসমান-জমিন ও মহাবিশ্বের গোটা রাজত্ব পরিচালনায় তাঁর কোনো অংশীদার ও শরীক নেই। কেউ তাঁর পিতা নয় এবং তাঁর কোনো পুত্র বা কন্যাও নেই। সবকিছু সম্পর্কে তিনি সম্যক অবগত। তিনি প্রত্যেক মানুষকে তার ভালো ও মন্দ প্রতিটি কাজের জন্য পুরস্কার কিংবা শাস্তি দেবেন। আমাদের মন-মস্তিষ্ক অবচেতনভাবেই বলে ওঠে যে, সেই মহান সত্তার এমনটিই হওয়া উচিত। যিনি মানবিক আবেগ, মুখাপেক্ষিতা ও রুচি-প্রকৃতি থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধ্বের। আর তিনি এত পরাক্রমশালী যে, প্রত্যেক মানুষকে তার কৃতকর্মের শাস্তি কিংবা পুরস্কার প্রদানের ক্ষমতা রাখেন।

এ ধরনের বক্তব্য রচনা করার যখন চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দেওয়া হল, তখন আরবের সবচেয়ে বড় কবি-সাহিত্যিকরাও নির্বাক হয়ে পড়ল। এরপর বলা হল, এই পয়গাম ও পথনির্দেশ সর্বকালের ও সকল মানুষের জন্য। তাই এতে একটি শব্দেরও হেরফের হতে দেব না। আর আমি নিজেই এর সংরক্ষণ করব। পনেরো শ বছর অতিবাহিত হয়েছে, কিন্তু পরিবর্তন ও নিশ্চিহ্ন করার সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আল্লাহর পয়গাম কাগজের পাতায় এবং কোটি কোটি হাফেযের হৃদয়ে হুবহু সুরক্ষিত আছে।

এটি নিশ্চয় এক অসাধারণ মুজেযা। পয়গাম পাঠানোর শুরুতেই তিনি বলেননি যে, তোমরা পয়গাম শুনেছ। এবার চোখ বন্ধ করে গ্রহণ করে নাও। অন্যথায় শাস্তির জন্য প্রস্তুত থাক। বরং বারবার এ কথাই বলা হয়েছে যে, তোমাদের চারপাশ, জমিন-আসমান, চাঁদ-সূর্য ও গ্রহ-নক্ষত্রের মাঝে স্পষ্ট নিদর্শন রয়েছে। এসব বিষয়ে যদি তোমরা চিন্তা-ভাবনা কর, গভীরভাবে উপলব্ধি করার চেষ্টা কর, তবে সবকিছুর মধ্যে তোমরা এক বিস্ময়কর সমতা, ভারসাম্য ও নিপুণ শৈলী প্রত্যক্ষ করবে। যা দেখে তোমাদের মন-মস্তিষ্ক নিজেদের অজান্তেই বলে উঠবে, এসব নিজে নিজেই সৃষ্টি হয়ে যেতে পারে না। নিঃসন্দেহে এগুলো কোনো মহান স্রষ্টার সৃষ্টিশৈলী। উপরন্তু সৃষ্টিকর্তা নিজের মহা সৃষ্টি সম্পর্কে চ্যালেঞ্জও ছুঁড়ে দিয়েছেন। ঘোষণা করেছেন, রহমানের কোনো সৃষ্টির মাঝে তোমরা সামান্য অসামঞ্জস্যও খুঁজে পাবে না।

আরও বলেছেন, তোমরা আবারও দৃষ্টি মেলে দেখ। বারবার দেখ। তোমাদের দৃষ্টি ব্যর্থ হয়েই ফিরবে। পৃথিবীর বড় বড় বিজ্ঞানীরা শক্তিশালী দুরবিন দিয়েও দেখেছে। কিন্তু বিশাল সৃষ্টির মাঝে কোনো ত্রুটি-বিচ্যুতি কিংবা সামান্য অসম্পূর্ণতাও (Infirmity) খুঁজে পায়নি। আল্লাহ তাআলার সৃষ্টি এই বিশ্বজগতের মাঝে এত সমতা ও ভারসাম্য রয়েছে যে, আজ পর্যন্ত সামান্য ঢিলেমি, অব্যবস্থাপনা কিংবা কোনো অসামঞ্জস্য খুঁজে বের করতে পারেনি। কোনো মানবসৃষ্টি কি এমন হতে পারে, যাতে হাজার হাজার বছর পরও কোনো ক্ষয় ও লয়ের সৃষ্টি হয় না? বিশ্বজগতের সৃষ্টি ও তার সৃষ্টিকর্তা সম্পর্কে বিবেকবানদের জন্য এতটুকু দলীল-প্রমাণই কি যথেষ্ট নয়?

মহাপরাক্রমশালী স্রষ্টা যেমন সুনিপুণভাবে এই মহাবিশ্ব ও পৃথিবী সৃষ্টি করেছেন, তেমনি তার প্রকৃতিতে মহাকর্ষের মতো নীতিও দান করেছেন। এর বিভিন্ন উপাদান, যেমন গ্যাস ইত্যাদির মাঝেও ভারসাম্য তৈরি করেছেন, যা মানবজাতির বেঁচে থাকা ও বেড়ে ওঠার জন্য অপরিহার্য। এ সবকিছুই সৃষ্টিকর্তার নিআমত। এখন দেখার বিষয় হল, পরাক্রমশালী মহান সত্তা কি শুধু মানুষ সৃষ্টি করেই ক্ষান্ত হয়ে গেছেন? না। যদি এমনটি হত, তবে শক্তিশালীরা দুর্বলকে নেকড়ের মতো ছিঁড়েফেড়ে গ্রাস করে নিত। দুর্বলদের স্ত্রী ও সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিত। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তা একটি সুন্দর ও ভারসাম্যপূর্ণ সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে যেমন আইন ও নীতি ঘোষণা করেছেন, তেমনি কঠোর ফরমানও জারি করেছেন।

সবার আগে তিনি মানুষের প্রাণের মর্যাদা নিশ্চিত করেছেন। স্পষ্টভাবে ঘোষণা করেছেন, অন্যায়ভাবে কেউ একজন মানুষ হত্যা করলে তা গোটা মানবজাতিকে হত্যা করার সমান অপরাধ বলে বিবেচিত হবে।

এই এক অমোঘ ঘোষণার বদৌলতে দুনিয়ার কোটি কোটি মানুষের জীবন রক্ষা পেয়েছে। দুনিয়ার কোনো বুদ্ধিজীবী কিংবা সমাজবাদী কি এর চেয়ে উত্তম কোনো নির্দেশ অথবা আইন প্রনয়ণ করতে পারত কিংবা পেরেছে? নিশ্চয় নয়।

সমাজ বসবাসযোগ্য হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল ইনসাফের। এই মূল্যবান উপহারটুকুও মানবজাতি আসমান থেকেই প্রাপ্ত হয়েছে। কেননা, ঘাস-পাতা দিয়ে লজ্জা আবৃতকারী প্রস্তরযুগের মানুষ থেকে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত ও সমৃদ্ধ দেশের রাষ্ট্রপ্রধান— সকলের স্বভাব-প্রকৃতি, চিন্তা-ভাবনা এক ও অভিন্ন। ন্যায়ের পরিবর্তে তাদের মধ্যে আছে দখল ও আধিপত্য বিস্তার এবং প্রতিপক্ষকে নিশ্চিহ্ন করার স্বভাবগত প্রবণতা। আজকের তথাকথিত সভ্য মানুষটিও তার মতো লক্ষ লক্ষ নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করছে এবং তাদের সহায়-সম্পত্তি জোরপূর্বক দখল করে নিচ্ছে।   

সভ্যতা তাদের লাগাম টেনে ধরে না। তাদের সংস্কৃতি-সংবিধানও তাদের নিবৃত্ত করে না। তথাকথিত নামসর্বস্ব সভ্যরা (?) নয় শুধু মানবজাতির সৃষ্টিকর্তাই মানুষকে জুলুম ও বাড়াবাড়ি থেকে নিবৃত্ত করেন। সকল ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের অধিকারীর নির্দেশ— সর্বাবস্থায় ইনসাফ নিশ্চিত করো। এমনকি নিজের পিতামাতা কিংবা নিজের বিরুদ্ধে রায় দিতে হলেও।

তিনি আরও নির্দেশ করেছেন, কোনো গোষ্ঠীর প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ থেকে বিরত না রাখে। ইনসাফের এই মানদণ্ড আল্লাহ তাআলাই নির্ধারণ করে দিয়েছেন। এর বাস্তব নমুনা ছিলেন আল্লাহ তাআলার প্রেরিত সর্বশেষ পথনির্দেশক হযরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম।

এত উচ্চমানের ইনসাফ তো দূরের কথা, ইসরাইল ও মজলুম ফিলিস্তিনীদের বিষয়ে মার্কিন কিংবা ইউরোপের কোনো শাসক আল্লাহ তাআলার স্থিরকৃত মানদণ্ডের এক শ ভাগের এক ভাগ ইনসাফও কি নিশ্চিত করেছে? কখনোই না।

বলা বাহুল্য, বিবেকবান অনুভূতিই বলে উঠবে, দুর্বলকে ধ্বংসকারীদের মতবাদ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভ্রান্ত। আর ন্যায়-ইনসাফের বিধানদাতাই হলেন প্রকৃত প্রভূ। দুনিয়ায় যেমন একজন মানুষ শত মানুষের প্রাণ বাঁচিয়ে দেয় কিংবা অর্থ সহায়তার মাধ্যমে হাজার হাজার পরিবারের খরচ নির্বাহ করে। তেমনি একজন জালেম খুনি হাজার মানুষের প্রাণ নষ্ট করে দেয়। এ দুই শ্রেণির মানুষের মাঝে দুনিয়ায় কি ইনসাফ অনুযায়ী পুরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদান করা সম্ভব? না। পরিপূর্ণ ইনসাফ শুধু আল্লাহ তাআলাই হিসাবের দিনে বিধান করবেন।

সৃষ্টিকর্তা নিজের যেসব গুণের কথা বলেছেন, তা তো মানুষের সীমিত জ্ঞানেরও বহু ঊর্ধ্বে। মানুষের যেসব কর্মকাণ্ড মানব সভ্যতার জন্য হুমকি, তা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। মিথ্যা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা, হত্যা, ব্যভিচার, গীবত, ব্যবসায় অসততা, অপবাদ এমনকি কাউকে মন্দ উপাধিতে সম্বোধন করা এবং দম্ভভরে চলাফেরা করতেও নিষেধ করা হয়েছে। পক্ষান্তরে মানুষের প্রতি দয়ার্দ্র হওয়া, পিতামাতা ও নারীর প্রতি নমনীয়তা প্রদর্শন এবং গরিব-অসহায়ের প্রতি উদার হস্তে অর্থ ব্যয়ের আদেশ করা হয়েছে। যে যুগে কন্যা সন্তানকে জীবন্ত পুঁতে ফেলা হত, সে যুগেও নারীকে তার উত্তরাধিকার প্রদানের আদেশ করা হয়েছে। সৃষ্টিকর্তা ছাড়া আর কেউ কি হাজার বছর আগে পিতামাতা ও নারীদের অধিকার সম্পর্কে এমন ধারণা দিতে পারত? মানুষকে এমন উন্নত আখলাক শিক্ষা দিতে পারত? অবশ্যই না।

কোনো মানুষ কি এটা বলতে পারে যে, গাছের একটি পাতাও আমার আদেশ ছাড়া নড়ে না? কোনো মানুষের কি এই সাধ্য আছে যে, আল্লাহর আদেশ ছাড়াই মৃত্যুবরণ করবে?

আল্লাহ তাআলা মৃত্যুর সময় নির্ধারণ করে দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমি যাকে ইচ্ছা রিযিক দান করি। যাকে ইচ্ছা বঞ্চিত করি। মহাপরাক্রমশালী, যিনি মানুষের সীমিত জ্ঞানের বহু ঊর্ধ্বে, তিনি যখন বলছেন, এই পৃথিবী আমি পরীক্ষার জন্য সৃষ্টি করেছি। মানুষকেও কিছু করার সামান্য অধিকার ও ইখতিয়ার দিয়েছি। আর তার কর্ম অনুযায়ী তাকে পুরস্কার কিংবা শাস্তি প্রদান করব। তাহলে মহান সত্তার তো এমনটি করার অধিকার আছেই। আশ্চর্য হল, আমরা স্থানীয় শাসককে প্রশ্ন করতেও সাহস করি না; কিন্তু মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তার কাছে মানুষকে পরীক্ষা করার হেকমত সম্পর্কে জানতে মরিয়া হয়ে উঠি!

প্রতিটি মানুষের অবশ্যকর্তব্য, এই মহান সত্তার প্রভুত্ব স্বীকার করে নেওয়া এবং তাঁর আনুগত্যে নিজেকে সোপর্দ করে দেওয়া। তাঁর অসীম দয়া ও ক্ষমাশীলতাও একটু চিন্তা করুন। তিনি বারবার ঘোষণা করেছেন, অনেক বড় পাপী ও গোনাহগার যদি খাঁটি মনে তওবা করে এবং তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে তিনি তাকে ক্ষমা করে দেবেন।

শেষকথা হল, আলোচ্য বিষয়ে হাজার হাজার গ্রন্থ রচিত হতে পারে। এই প্রবন্ধটি সে সমুদ্রের একটি ফোঁটারও সমান নয়। তবে আমি নিশ্চিত, কেউ যদি পক্ষপাতহীন ও উদার মনে আল্লাহ তাআলার কালাম অধ্যয়ন করে, তবে সে কখনও ধর্মহীন থাকতে পারে না।

 

 

advertisement