বয়ান
‖ শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা করা রিয়া নয়, দ্বীনের হুকুম
হামদ ও সালাতের পর...
আল্লাহ তাআলা বলেন–
يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوْہٌ وَّتَسْوَدُّ وُجُوْہٌ فَاَمَّا الَّذِيْنَ اسْوَدَّتْ وُجُوْہُہُمْ اَکَفَرْتُمْ بَعْدَ اِيْمَانِکُمْ فَذُوْقُوا الْعَذَابَ بِمَا کُنْتُمْ تَکْفُرُوْنَ، وَاَمَّا الَّذِيْنَ ابْيَضَّتْ وُجُوْہُہُمْ فَفِيْ رَحْمَةِ اللّٰہِ ہُمْ فِيْہَا خٰلِدُوْنَ.
[সেই দিন, যেদিন কতক মুখ (ঈমান ও আনুগত্যের আলোয়) উজ্জ্বল হবে এবং কতক মুখ (কুফর ও পাপের কালিমায়) কালো হয়ে যাবে। যাদের মুখ কালো হয়ে যাবে, (তাদেরকে বলা হবে,) তোমরা কি ঈমান আনার পর কুফর অবলম্বন করেছিলে? সুতরাং তোমরা শাস্তি আস্বাদন কর, যেহেতু তোমরা কুফরী করতে। পক্ষান্তরে যাদের মুখ উজ্জ্বল হবে, তারা আল্লাহর রহমতের ভেতর স্থান পাবে এবং তারা তাতেই সর্বদা থাকবে। –সূরা আলে ইমরান (০৩) : ১০৬]
আল্লাহর মেহেরবানী আমরা আজ গুরুত্বপূর্ণ এই মজলিসে হাজির হতে পেরেছি, আমাদের আসাতেযায়ে কেরাম এবং আমাদের সাথি ভাইদের পরস্পর মুলাকাত, মুযাকারা এবং তাবাদুলায়ে খেয়ালের একটা সুযোগ হল, আলহামদু লিল্লাহ।
আজকের মজলিসের উপযোগী জরুরি হেদায়েত আলহামদু লিল্লাহ সামনে চলে এসেছে। আমাকে যেহেতু হুজুররা হুকুম করেছেন, তাই মুখতাসার দুয়েকটা কথা আগের আলোচকদের আলোচনার সঙ্গে যুক্ত করছি।
নিজের শাখসিয়াত ও ব্যক্তিত্ব গঠনের গুরুত্ব
হযরত মাওলানা আবুল বাশার ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম তালিবে ইলমদেরকে সব সময় নিজের ব্যক্তিত্ব গঠন, শাখসিয়াত পয়দা করার বিষয়ে তাকীদ করে থাকেন।
নিজের ব্যক্তিত্ব প্রতিষ্ঠা করা অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এর ছোট্ট একটা মেছাল হল, একই পরিবারের একজন মাদরাসায় পড়ে, আরেকজন জাগতিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের কোনো প্রতিষ্ঠানে পড়ে। তো এখন স্কুল বা কলেজে যে পড়ে, ওর ছুটির খেয়াল রাখে মা-বাবা। কোনো প্রোগ্রাম করতে হলে যেখানে তার উপস্থিতি দরকার, তার ছুটির খেয়াল রাখে, ছুটির রেয়ায়েত করে। এদিকে মাদরাসায় পড়া সন্তানের ক্ষেত্রে অনেক সময় এমন হয়, তাকে বলা হয়, তুমি মাদরাসা থেকে ছুটি নিয়ে নাও!
এর কারণ কী?
এই মাদরাসার তালিবে ইলম তার জরুরত, তার শাখসিয়াত, তার প্রতিষ্ঠানের শাখসিয়াত বাসায়, নিজের পরিবারে প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি। বাকি স্কুলে যে পড়তে গেছে, তার তো আর এ শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা করা লাগে না। সে যে প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছে, তা হয়তো নয়; বরং ওটা হালাত ও পরিবেশের কারণে মাথায় সওয়ার হয়ে আছে।
মাদরাসার তালিবে ইলমের কাজ ছিল– নিজের জরুরত, নিজের মাদরাসার জরুরত, নিজের শাখসিয়াত, নিজ মাদরাসার মাকাম ও হাইসিয়ত এবং ইলমে ওহীর একজন তালিবে ইলমের মাকাম, ইলমে ওহীর মারকাযগুলোর মাকাম নিজের পরিবারের লোকদের দিল ও দেমাগে বসানো। তা সে পারেনি।
এ ছোট্ট মেছাল থেকে আমরা ধরে নিতে পারি, শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠার আহাম্মিয়ত বা প্রয়োজনটা কত বেশি!
কীভাবে হবে শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা
এ বিষয়ে আজ হুজুর দুয়েকটা কথা বলেছেন। যেমন–
১. সততা ও সত্যবাদিতা
সততা ও সত্যবাদিতার মাধ্যমে শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা হবে।
২. আমানতদারি ও নিষ্ঠা
শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠার জন্য আমানতদার হওয়া বাধ্যতামূলক। যার মাঝে আমানতদারি নেই তার আবার ব্যক্তিত্ব কীসের!
৩. আকীদা-বিশ্বাস ও ঐতিহ্য
শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা হওয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার হল– আকীদা-বিশ্বাস ও ঐতিহ্য। অর্থাৎ আকীদা-বিশ্বাসের ওপর ছাবেত কদম থাকা, রাসেখ থাকা এবং আদর্শ-ঐতিহ্যের ওপর মজবুত থাকা। এটা ছাড়া শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা হয় না।
শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠিত হতে হলে আকীদা-বিশ্বাসের ওপর মজবুত হতে হবে, আদর্শ ও ঐতিহ্য ঠিক রাখতে হবে। যে যার ঐতিহ্য থেকে যত দূরে যাবে, তার শাখসিয়াত তত দুর্বল হতে থাকবে।
৪. ইস্তেকামাত
শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে ‘ইস্তেকামাত’। অর্থাৎ যেটা সহীহ, যেটা হক, তার ওপর অবিচল থাকা।
এটা শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠার জন্য বহুত আহাম। আমি যদি আমার আদর্শের খেলাফ কিছু করি, যেটাকে আমি হক মনে করি, সহীহ মনে করি, তার খেলাফ কিছু করে ফেলি, তাহলে কখনও শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা পাবে না। ইস্তেকামাত আলাল হক খুবই জরুরি।
৫. লেনদেনে স্বচ্ছতা
সাফাইয়ে মুআমালাত তথা লেনদেনের স্বচ্ছতা। সিদ্ক ও আমানতের কথা এলে আসে ‘সাফাইয়ে মুআমালাত’-এর কথা। এটা সিদ্ক ও আমানত থেকে আরেকটু আম ও ব্যাপক।
আমরা যে নবীর উম্মত সে নবীর সীরাত দেখ, তাঁর মুআমালা- লেনদেন দেখে কাফেররা ইসলামের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছে।
৬. আদাবুল মুআশারাত
চাল-চলন, ওঠাবসা, আচরণ-উচ্চারণ সবকিছুতে আদব ও শিষ্টাচারের খেয়াল রাখা। কথাবার্তা মার্জিত হওয়া। সম্বোধন ও আচরণে অন্যের ব্যক্তিত্বের বিষয়টা খেয়াল রাখা। এ তো নিজের শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠার অন্যতম মৌলিক শর্ত।
৭. খেদমতে খলক
এতেও শাখসিয়াত হাসিলের একটা বড় তাছির রয়েছে। একেবারে খেদমতে খলকের কোনো একটা সংস্থা বানিয়ে কাজ করলাম কিংবা ব্যক্তি পর্যায়ে ছোট ছোট খেদমতে খলকের যে কাজগুলো আছে, সেগুলো করলাম।
৮. সিলায়ে রেহেম ও নুসরত
সিলায়ে রেহেম ও নুসরতের কাজ। এর দ্বারাও শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা হয়। শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিয়ত করতে হবে না। ব্যস, আল্লাহর জন্য করব।
শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা রিয়া নয়, দ্বীনের হুকুম
আরেকটা বিষয় হল– শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা করা রিয়া নয়, শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা করা দ্বীনের একটা হুকুম।
إِنَّكُمْ قَادِمُونَ عَلَى إِخْوَانِكُمْ، فَأَصْلِحُوا رِحَالَكُمْ، وَأَصْلِحُوا لِبَاسَكُمْ، حَتَّى تَكُونُوا كَأَنَّكُمْ شَامَةٌ فِي النَّاسِ.
মুসনাদে আহমাদ ও সুনানে আবু দাউদে বর্ণিত এই হাদীস তো আমরা জানি।
এখান থেকে বোঝা গেল, শাখসিয়াত প্রতিষ্ঠা করা মাতলূব। দ্বীনী মাতলূব হওয়ার কারণে আমি যদি চেষ্টা করি, তখন এটা রিয়া নয়; বরং নেক আমল, আমলে সালেহ।
৯. বসীরত ও ভাষা-সাহিত্য
হযরত মাওলানা আব্দুল মতীন ছাহেব দামাত বারাকাতুহুম আরেকটা গুণের কথা বলেছেন– ‘বসীরত’।
বসীরতের সঙ্গে যুক্ত করে আমি বলি– লুগাতের কথা। অর্থাৎ ভাষা-সাহিত্য। যেটাতে আমার বিশাল সংকট। এই সংকটে আমি সব সময় ভুগি।
আলফায খুঁজে না পাওয়ার মসিবত, সুন্দর তাবীর খুঁজে না পাওয়ার মসিবত। বসীরতের সাথে, বসীরতের ভিত্তিতে যে রায় কায়েম হল, তার সুন্দর উপস্থাপনাও শেখার চেষ্টা করতে হবে।
ফাসাহাত, বালাগত, সুন্দর ইবারত, সুন্দর উপস্থাপনা এবং সুন্দর উচ্চারণ– এসবই শাখসিয়াত পয়দা করার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে।
১০. মাহারাত ও ইখতেসাস
শাখসিয়াত গড়ার ক্ষেত্রে আকীদা-বিশ্বাস এবং আদর্শ ও ঐতিহ্যের মতো প্রভাবক আরেকটা গুণ হল মাহারাত ও ইখতেসাস। হোক তা ছোট কোনো জিনিসের মধ্যে! এমনকি একেবারে ছোট্ট বিষয়ে! কোনো একটা জুয, কোনো একটা ফন, ফনের কোনো একটা বাব কিংবা একটা বাবও না, বাবের কোনো একটা ফছল। এর মধ্যেও যদি আমি মাহারাত হাসিল করতে পারি, ইখতেসাস পর্যায়ে পৌঁছতে পারি, এটা শাখসিয়াত গড়ার জন্য অনেক বড় বিষয়। এটা জরুরিও।
মাহারাত নিয়ে এক ছোট্ট কারগুজারি
হেলালের মাসআলার সময় আমরা অ্যাস্ট্রোনমির লোক খুঁজে পাচ্ছিলাম না। পুরো দেশে খোঁজ করা হল। কোনো একটা ভার্সিটিতে অ্যাস্ট্রোনমি বিষয়ে পড়াশোনা নেই! জ্যোতির্বিজ্ঞানের আলাদা বিভাগ নেই।
অনেকে তো জ্যোতির্বিজ্ঞান বলতেও পারে না। জ্যোতির্বিজ্ঞান আর জ্যোতিষশাস্ত্র এক বানিয়ে ফেলে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের লোক পাই না পুরো দেশে। প্রশ্নই বোঝে না কেউ! পরে একজনকে পেয়েছি। তিনি অন্তত সুয়াল বুঝেছেন। জবাব যতটুকুই দিয়েছেন, তবে সুয়ালগুলো বুঝেছেন।
তাদের কথা বলে তো লাভ নেই। জ্যোতির্বিজ্ঞানের বড় একটা অংশ তো আমাদেরও ফন। তেমনি রুইয়াতে হেলালের যে যাওয়াবেত, এগুলো তো অ্যাস্ট্রোনমির সাথে সম্পৃক্ত। বিষয়টা আমাদের মাদরাসার নেসাবে ছিল আগে। যেমন, ইলমুল মাওয়াকিত, ইলমু মারেফাতিল কেবলা।
ইলমুল ফালাক। এর পুরোনো নাম হল ইলমুল হাইআহ।
এখন সাহরী ও ইফতারের সময়সূচি নিয়ে একটু ফিকির চলছে, কাজ চলছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরে যাওয়া হয়, আবহাওয়া অধিদপ্তর আমাদের লম্বা তাকরীর দিয়ে বুঝিয়ে দিয়েছে যে, তারা অ্যাকুরেট সময় দিতে পারবেন না। এটার সাইন্টিফিক বিষয় আছে!
পুরা তাকরীরের পর আমি শুধু একটু জিজ্ঞেস করেছি, আচ্ছা এটা তো আপনারা দেখালেন এবং বোঝালেন, আমরাও বুঝলাম; কিন্তু আমি একটু জিজ্ঞেস করতে চাই, সবটাই কি সাইন্টিফিক কারণ, নাকি কিছু আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে?
এখন সে আমতা আমতা করছে। পরে বলেছে, বর্তমানে আমাদের যতটুকু ক্যাপাসিটি আছে, ওই হিসেবে এতুটুকুই। এর চেয়ে আরও বেশি করতে হলে আরও প্রস্তুতির বিষয় আছে! এর জন্য আবার ‘তামউইল’ দরকার হবে। তাদের ভাষায় তারা বলেছেন।
এটা মূলত আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিষয় না। ইসলামিক ফাউন্ডেশন তো আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকেই সময় নেয়। নিয়ে সেটার সাথে ইহতিয়াতি সময় যোগ-বিয়োগ করে সাহরী ও ইফতারের সূচি সাজিয়ে ফেলে।
এটা তো আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিষয় ছিল না! অথচ আপনারা তাদের কাছে যান! এটা ভূগোলেরও বিষয় না, এটা ইলমুল হাইআহ ও ইলমুল ফালাকের বিষয়।
পরে এ কাজ করে দিয়েছেন তিনজন মাওলানা। দারুল ফিকরি ওয়াল ইরশাদের হাসিবুল ইসলাম, মসজিদুল আকবর কমপ্লেক্সের মাসুম বিল্লাহ ও মারকাযুদ দাওয়াহ আলইসলামিয়া’র ফয়যুল্লাহ।
এই তিনজন মিলে তৈরি করেছেন। সেটা প্রথম মজলিসে পাশও হয়েছে, আলহামদু লিল্লাহ। আরও মজলিস হবে ইনশাআল্লাহ।
এতদিন শুধু ঢাকা জেলার নকশা করা হয়েছিল। এবারও অন্য জেলাগুলোর নকশা না করে ছেড়ে দেওয়া হলে কী হত! ওই যে, এত মিনিট যোগ করো, এত মিনিট বিয়োগ করো– এভাবে আবার চালিয়ে দিত। এটা একেবারেই গলদ তরীকা। এভাবে অনেক ক্ষেত্রেই পরিপূর্ণ সহীহ নতীজা বের হয় না।
এখন তারা ওই কমিটিকে দায়িত্ব দিয়ে বলেছেন, আপনারা সময় নিয়ে বাকি ৬৩ জেলারটাও করে দেন।
কমিটি এখন কাজ করছে। বাকি ৬৩ জেলার সাহরী-ইফতারের সময়সূচি সম্বলিত তালিকাও জমা হয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ।( )
এটাকে বলে মাহারাত!
দেখুন! আবহাওয়া অধিদপ্তরও আমাদেরকে পুরোপুরি সহযোগিতা করতে পারল না, ভূগোলের লোকও এসে তেমন কোনো সহযোগিতা করতে পারল না। পারল তিনজন মাওলানা।
ছোট্ট একটা বিষয়। কিন্তু এটাতে তাদের মাহারাত আছে। এটা তাদের প্রয়োজনীয়তা ও জরুরতকে ছাবেত করতে পেরেছে।
মুফতী হলে এমন হওয়া দরকার! একটা বাব, একটা ফছলের মধ্যে তুমি মাহারাত হাসিল করো না কেন! এই মাহারাতের দাম আছে।
সত্য কথা হল, মাহারাতের কদর করনেওয়ালা এখনও আছে এবং কিয়ামত পর্যন্ত থাকবে।
এটা খুব দরকার।
এখন আমাদের অধিকাংশই উমূমি ইলম হাসিল করি, আম মুতালাআ; কিন্তু কোনো একটা বিষয়ে আমাদের ইখতেসাস নেই।
আরে! আম মুতালাআর জরুরত তো আছে। আম মুতালাআ করো, কিন্তু কমপক্ষে একটা বিষয়ে ইখতেসাস হাসিল করো। ইখতেসাস হাসিল করতে পারলে কি না– এর দলীল হবে, যখন অন্যরা তোমার কাছে এ বিষয়ে রুজু করবে এবং রুজু করে কিছু পাবে। একটা সমাধান পাবে কিংবা নতুন কোনো তথ্য পাবে। সমাধান পেয়ে গেলে তো বহুত বড় কথা। কিন্তু একটু রাহনুমায়ী–রাহবারিও পেল, তাও তো এক মারহালার ইখতেসাস।
১১. জনগণ পর্যন্ত পৌঁছতে পারা
আরেকটা গুণ হচ্ছে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছতে পারা। ইলমের ময়দানের যে লোক ফরয ইলমকে আম করার মেহনত করবে, সে এর মাধ্যমে জনগণ পর্যন্ত পৌঁছবে, সব শ্রেণির মানুষ পর্যন্ত পৌঁছবে।
তাবলীগ জামাতের দাওয়াত। এদের কাজও তো ছিল সবার কাছে পৌঁছা। কিন্তু তারাও এই নীতির ওপর পুরোপুরি নেই। আস্তে আস্তে ঢিলা হয়ে যাচ্ছে। সবার কাছে পৌঁছার কাজ চলছে না।
১২. যামানার ভাষা-পরিভাষা বোঝা
مَنْ لمْ يَعْرِف اَهْلَ زَمَانِه فَهُوَ جَاهِلٌ.
এটা তো আমাদের কোনো কথা না। ইবনে আবেদীন শামী রাহ.-এর বাণীও না; একেবারে তৃতীয়-চতুর্থ শতাব্দীর মাকুলা।
এটা শাখসিয়াত গড়ার অত্যন্ত আহাম বিষয়। মারেফাতে যামানা। মারেফাতে যামানা মানে হচ্ছে, যামানার ভাষা বোঝা। যামানার পরিভাষা বোঝা, যামানার সমস্যা এবং তার সমাধান বোঝা।
যামানার ফেতনা একটি গুরুত্ব¡পূর্ণ বিষয়। এটা বুঝতে পারাও মারেফাতে যামানার অন্তর্ভুক্ত।
পেছনে গত হওয়া ফেরাকে বাতেলা সম্পর্কে তো আমি জানি। কিন্তু এই যামানার ফেরাকে বাতেলা এবং পাশাপাশি পেছনের সেই ফেরাকে বাতেলা, যারা এখন নতুন নামে, নতুন বেশে, নতুন লেবাসে এসেছে, আমার খবর নেই! এমন হলে চলবে না।
আল্লাহ তাআলা হুজুরের এই নসীহতের ওপর আমাদের আমল করার তাওফীক নসীব করেন।
[জামিয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া ঢাকা’র ১৬তম বার্ষিক পুনর্মিলনী (১২/০১/২০২৬, সোমবার) অনুষ্ঠানে প্রদত্ত বয়ানের প্রথম অংশ।
বয়ানের দ্বিতীয় অংশ পরে কখনও প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ।
মুসাজ্জিলা থেকে পত্রস্থকরণ: দারুত তাসনীফ, মাদরাসা রায়হানুল উলূম, মিরপুর, ঢাকা]
টীকা :
১. আলহামদু লিল্লাহ, এসব নকশা প্রস্তুত হয়ে উলামায়ে কেরাম এবং ফাউন্ডেশন কর্তৃক মঞ্জুরও হয়েছে এবং প্রত্যেক জেলায় ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে প্রকাশিতও হয়েছে।