আনওয়ারুল কুরআন : প্রশ্নোত্তর
আনওয়ারুল কুরআন বিভাগের সর্বশেষ শিরোনাম প্রশ্নোত্তর। এর অধীনে প্রত্যেক সংখ্যায় ইনশাআল্লাহ তিন থেকে পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হবে। সংক্ষেপের জন্য প্রশ্নকারীর নাম-পরিচয় অনুল্লেখ থাকবে।
প্রশ্ন ১২৩ : ‘সূরাতুল মুমিনূন’, ‘সূরাতুল কাফিরূন’– এগুলোর সঠিক উচ্চারণ কী? আরবী ব্যাকরণ অনুযায়ী তো ‘সূরাতুল মুমিনীন বা কাফিরীন’ হওয়ার কথা। কিন্তু আমরা ‘সূরাতুল মুমিনূন’ এভাবে বলে থাকি।
উত্তর : অধিকাংশ মুসহাফে ও তাফসীর গ্রন্থে ‘সূরাতুল মুমিনূন’, ‘সূরাতুল কাফিরূন’ এভাবেই রয়েছে। আরবী ব্যাকরণের দিক থেকেও এটা শুদ্ধ। এর এরাব হল– ‘এরাব আলাল হিকায়াহ’। অর্থাৎ সূরার ভেতরে আয়াতের মধ্যে যেহেতু ‘মুমিনূন’, ‘কাফিরূন’ শব্দগুলো এভাবে আছে এবং তা থেকেই সূরাটির নামকরণ হয়েছে, তাই সূরার নামেও শব্দগুলোকে এভাবেই রাখা হয়েছে। নাহুর পরিভাষায় এটাকে ‘এরাব আলাল হিকায়াহ’ বলে। এর বিস্তারিত নীতি নাহুর কিতাবাদিতে রয়েছে।
দেখুন : ৫৮৬ হিজরীতে লিখিত মুসহাফ, মাকতাবাতু জামিআতি ইস্তাম্বুল, মাখতূত ৬৭৫২ এবং সপ্তম শতাব্দীতে ইয়াকূত আলমুসতা‘সিমীর লিপিকৃত মুসহাফ, মাকতাবাতু জামিআতি ইস্তাম্বুল, মাখতূত ৬৬৮০। এছাড়া আরও অনেক মুসহাফে এভাবেই আছে।
আরও দেখুন, সূরাতুল মুমিনূন, তাফসীরে তবারী, তাফসীরে কুরতুবী।
وجاء في بعض المصاحف (سورة المومنين) أيضا، مثلا مصحف ابن البواب وغيره.
প্রশ্ন ১২৪ : সূরা বনী ইসরাঈলের ৫৬-৫৭ আয়াতে মুশরিকদের সম্পর্কে বলা হয়েছে, তারা যাদেরকে মাবুদ মনে করে, তারা নিজেরাই তো আল্লাহর নিকটবর্তী হতে চায় এবং তাঁর রহমতের আশা করে।
আমার জানা মতে, কাফের-মুশরিকরা তো মূর্তির পূজা করত, তাহলে মূর্তি কীভাবে আল্লাহর রহমতের আশা করে বা শাস্তিকে ভয় পায়?
উত্তর : সূরা বনী ইসরাঈলে ৫৬ ও ৫৭ নম্বর আয়াত হল–
قُلِ ادْعُوا الَّذِیْنَ زَعَمْتُمْ مِّنْ دُوْنِهٖ فَلَا یَمْلِكُوْنَ كَشْفَ الضُّرِّ عَنْكُمْ وَلَا تَحْوِیْلًا، اُولٰٓىِٕكَ الَّذِیْنَ یَدْعُوْنَ یَبْتَغُوْنَ اِلٰی رَبِّهِمُ الْوَسِیْلَةَ اَیُّهُمْ اَقْرَبُ وَیَرْجُوْنَ رَحْمَتَهٗ وَیَخَافُوْنَ عَذَابَهٗ اِنَّ عَذَابَ رَبِّكَ كَانَ مَحْذُوْرًا.
(হে নবী! আপনি) বলে দিন, তোমরা আল্লাহ ছাড়া যাদেরকে মাবুদ মনে করেছ, তাদেরকে ডাক দিয়ে দেখ। তারা তোমাদের কোনো কষ্ট দূর করতে পারবে না এবং পরিবর্তনও করতে পারবে না। তারা যাদেরকে ডাকে, তারা নিজেরাই তো এই লক্ষ্যে তাদের প্রতিপালক পর্যন্ত পৌঁছার ওসীলা সন্ধান করে যে, তাদের মধ্যে কে আল্লাহর বেশি নিকটবর্তী হতে পারে এবং তারা তাঁর রহমতের আশা করে এবং তাঁর আযাবকে ভয় করে।
এখানে ‘তোমরা যাদেরকে মাবুদ মনে করেছ’-এর দ্বারা মূর্তি বা প্রতিমাকে বোঝানো উদ্দেশ্য নয়; বরং তখন আরবের কেউ কেউ ফেরেশতা ও জিনদের উপাসনা করত। আবার কেউ কেউ ঈসা আলাইহিস সালাম ও তাঁর মা মারইয়াম রা. বা উযাইর আলাইহিস সালামেরও উপাসনা করত। তাদেরকে মাবুদ বা মাবুদের শরীক মনে করত। তো এখানে ফেরেশতা ও জিনসহ আরও যাদেরকে মাবুদ মনে করা হত, তারা উদ্দেশ্য।
আল্লাহ তাআলা উক্ত আয়াতে বলেছেন, তোমরা তাদেরকে মাবুদ ভাবছ, অথচ তারাই তো আল্লাহর সৃষ্টি এবং তারা তোমাদের কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না। তারা নিজেরাই আল্লাহর নৈকট্য চায় ও তাঁর রহমতের আশা করে। সুতরাং, তোমাদেরও উচিত আল্লাহর ইবাদত করা। আল্লাহরই অভিমুখী হয়ে যাওয়া। (দ্রষ্টব্য : সংশ্লিষ্ট আয়াতের তাফসীর; তাফসীরে তবারী; তাফসীরে ইবনে কাসীর)
প্রশ্ন ১২৫ : হুজুর, আমি একজন মাদরাসার ছাত্র। আমি মাঝে মাঝে কুরআন শরীফের বাংলা তরজমা তাফসীরে তাওযীহুল কুরআন দেখে পড়ি। সূরা নূরের অনুবাদ পড়তে গিয়ে ৮ নম্বর আয়াতের তরজমা মূল আয়াতের সাথে মিলাতে পারছি না। এ আয়াতের তরজমা করা হয়েছে, ‘নারীটি হতে (ব্যভিচারের) শাস্তি রদ করার উপায় এই যে, সে চার বার আল্লাহর কসম করে সাক্ষ্য দেবে– (কথিত অভিযোগে) তার স্বামী মিথ্যাবাদী।’ আমার প্রশ্ন হল, এ তরজমা কীভাবে করা হয়েছে এবং আয়াতে یَدۡرَؤُا শব্দের ফায়েল কী?
উত্তর : সূরা নূরের ৮ নম্বর আয়াতটি হল–
وَیَدۡرَؤُا عَنۡہَا الۡعَذَابَ اَنۡ تَشۡہَدَ اَرۡبَعَ شَہٰدٰتٍۭ بِاللّٰہ، اِنَّہٗ لَمِنَ الۡکٰذِبِیۡنَ.
এখানে یَدۡرَؤُا শব্দের ফায়েল হল–
اَنۡ تَشۡہَدَ অর্থাৎ–
يَدْرَأُ عَنِ الْمَرْأَةِ الْعَذَابَ شَهَادَتُهَا
–স্ত্রীর সাক্ষ্য দেওয়াটাই তার থেকে (ব্যভিচারের) শাস্তি দূর করবে। (দ্র. ই‘রাবুল কুরআন ওয়া বায়ানুহূ, মুহিউদ্দীন দরবেশ)
তাফসীরে তাওযীহুল কুরআনে যেহেতু সাধারণ শিক্ষিত মানুষের বোঝার সুবিধার্থে সহজবোধ্য করে কুরআনের অনুবাদ করা হয়েছে, তাই সেখানে ওইভাবে অনুবাদ করা হয়েছে।