যিলহজ্ব ১৪৪৭   ||   জুন ২০২৬

পাঠকের পাতা

নারী পত্রিকা প্রতি মাসে চাই

আমি অনেক আগ থেকেই প্রিয় পত্রিকা আলকাউসারের পাঠক। আলকাউসার দ্বারা আমি অনেক উপকৃত হই। আমার আবেদন হল, ত্রৈমাসিক নারীটাও যেন প্রতি মাসে আসে।

যাইন জালালী

 

দুটি আবেদন <br>

প্রশ্ন-প্রাপ্তিস্বীকারের ব্যবস্থা এবং লেখক পরিচিতি ছাপার আবেদন

সম্মানিত সম্পাদক সাহেব! আপনার কাছে আমার দুটি আবেদন

১. আমরা আলকাউসার-এ প্রশ্ন পাঠিয়ে থাকি এবং পাঠানোর পর থেকে অধীর আগ্রহে প্রতি মাসেই ‘প্রশ্নোত্তর বিভাগ’-এর পৃষ্ঠাগুলোতে নজর বোলাতে থাকি; কিন্তু নিশ্চিতভাবে জানতে পারি না যে, আমার চিঠিটি আদৌ পৌঁছেছে কি না বা পৌঁছে থাকলেও এর উত্তর কবে পাব? ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তায় ভুগতে থাকি। তাই কর্তৃপক্ষ যদি এর সমাধানে মেহেরবানী করে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করতেন, আমরা পাঠকরা বড় উপকৃত হতাম।

মেইলে আসা প্রশ্নের ক্ষেত্রে যদি মেইলের মাধ্যমেই প্রাপ্তি স্বীকারের একটা ব্যবস্থা থাকে, ভালো হয়। তেমনি চিঠির মাধ্যমে যে সকল প্রশ্ন আসে, সেগুলোরও যদি প্রাপ্তি স্বীকারের কোনো ব্যবস্থা থাকত, যেমন : মোবাইলে মেসেজের মাধ্যমে জানানো বা পত্রিকায় নাম ছেপে দেওয়া ইত্যাদি। অথবা আগত প্রশ্নের যদি একটি রেজিস্টার খাতা থাকত, যেখান থেকে জানা যাবে, আমার প্রশ্ন পৌঁছেছে কি না বা তা ছাপা হয়েছে কি না।

এ জাতীয় মুনাসিব যে পদ্ধতি আপনারা ভালো মনে করেন; করলে প্রশ্নকারীগণ এই অনিশ্চয়তা থেকে মুক্তি পায়।

২. আর দ্বিতীয় আবেদন হল, আলকাউসারের লেখা পড়ে আমরা অনেক উপকৃত হই। ফলে আমার মতো হয়তো অনেকেরই লেখক সম্বন্ধে জানতে ইচ্ছে হয় বা সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আরও কিছু জানা জরুরি হয়ে পড়ে; সুতরাং সংক্ষিপ্ত কয়েক লাইনে হলেও লেখক পরিচিতি ছাপা হলে আমরা পাঠকরা অনেক উপকৃত হব।

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ আলমানযুর

শিক্ষার্থী, হাটহাজারী মাদরাসা

 

মাসিক আলকাউসার—ইলম, সচেতনতা ও আত্মশুদ্ধির এক আলোক-মঞ্চ

দীর্ঘ একুশ বছর ধরে নিয়মিত প্রকাশিত হওয়া মাসিক আলকাউসার সত্যিই বাংলা ভাষার দ্বীনী সাময়িকপত্রের জগতে এক অনন্য দৃষ্টান্ত। ২০০৫ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত অবিরাম ধারাবাহিকতায় এই পত্রিকা জ্ঞান, চিন্তা ও সচেতনতার যে আলো ছড়িয়ে যাচ্ছে—তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দ্বীনী শিক্ষার আলো সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে আলকাউসার এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে চলেছে।

পত্রিকাটির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হল, এর সমৃদ্ধ ও সুনির্বাচিত বিভাগসমূহ। শুরুতেই থাকে গভীর চিন্তাপ্রসূত সম্পাদকীয়, যা সমসাময়িক নানা ইস্যুতে পাঠককে সঠিক দিকনির্দেশনা দেয়। এরপর আনওয়ারুল কুরআন বিভাগে পবিত্র কুরআনের আয়াতের আলোকে জীবনঘনিষ্ঠ ব্যাখ্যা পাঠকের হৃদয়কে আলোকিত করে। কুরআনের বার্তা কীভাবে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনে প্রাসঙ্গিক—এই বিভাগটি তা অত্যন্ত সহজ ও প্রাঞ্জল ভাষায় তুলে ধরে।

সময়ের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সমসাময়িক বিষয় বিভাগটি পাঠকদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করে। এখানে দ্বীনী দৃষ্টিকোণ থেকে সমাজের নানা সমস্যা ও বাস্তবতার বিশ্লেষণ পাওয়া যায়, যা চিন্তার দুয়ার খুলে দেয়। একইভাবে আন্তর্জাতিক রচনা বিভাগে বিশ্বমুসলিমের অবস্থা, বিভিন্ন দেশের ইসলামী চিন্তা ও আন্দোলনের খবর পাঠককে একটি বৃহত্তর দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়।

পত্রিকাটির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ আকর্ষণ হল ‘বায়তুল মোকাররমের মিম্বর থেকে’ শিরোনামের লেখাগুলো। জুমার খুতবা বা গুরুত্বপূর্ণ দ্বীনী বক্তব্যের সারমর্ম এখানে এমনভাবে উপস্থাপিত হয়, যা পাঠককে অনুপ্রাণিত করে এবং দ্বীনী চেতনায় উজ্জীবিত করে।

পাঠকের কৌতূহল মেটাতে ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগটি অত্যন্ত কার্যকর। এখানে ফিকহী ও দৈনন্দিন জীবনের নানা মাসআলার সুস্পষ্ট ও গ্রহণযোগ্য সমাধান পাওয়া যায়। একইভাবে শিক্ষার্থীদের পাতা তরুণ প্রজন্মের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এই বিভাগে শিক্ষার্থীদের চিন্তা, প্রশ্ন ও সৃজনশীলতা প্রকাশের সুযোগ তৈরি হয়, যা তাদের মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশে সহায়ক।

পত্রিকার প্রাণবন্ততা আরও বৃদ্ধি করেছে খবর অতঃপর ও পাঠকের পাতা। খবর অতঃপর বিভাগে বিভিন্ন খবরও সেক্ষেত্রে ইসলামের শিক্ষা ও দৃষ্টিভঙ্গি জানা যায়, আর পাঠকের পাতায় পাঠকের মতামত, অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাও স্থান পায়। ফলে পাঠক ও পত্রিকার মধ্যে একটি জীবন্ত সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

সব মিলিয়ে মাসিক আলকাউসার কেবল একটি পত্রিকা নয়; এটি যেন ইলমের এক উন্মুক্ত পাঠশালা। আলেম-উলামা, মাদরাসার শিক্ষার্থী এবং সাধারণ পাঠক—সবার জন্যই এটি সমানভাবে উপকারী ও প্রাসঙ্গিক। দ্বীনী জ্ঞান, সামাজিক সচেতনতা ও নৈতিক শিক্ষার যে সমন্বয় এই পত্রিকায় দেখা যায়, তা সত্যিই প্রশংসার দাবি রাখে।

একজন পাঠক হিসেবে আমার দৃঢ় বিশ্বাস—এই পত্রিকা আগামী দিনগুলোতেও তার জ্ঞানগর্ভ রচনা, প্রজ্ঞাপূর্ণ বিশ্লেষণ এবং দ্বীনী নির্দেশনার মাধ্যমে পাঠকসমাজকে আলোকিত করে যাবে। মাসিক আলকাউসার যেন তার এই আলোকযাত্রা অব্যাহত রেখে উম্মাহ্র খেদমত করে যেতে পারে—এই কামনাই রইল।

উবায়দুল হক খান

গুনই, বানিয়াচং, হবিগঞ্জ

 

‘ভাষা-সাহিত্য’ শিরোনামে যদি একটি বিভাগ খোলা হত!

গ্রামের পাঠ চুকিয়ে শহরে আসি। বি. বাড়িয়ার পুনিয়াউটে অবস্থিত জামিয়া রাজ্জাকিয়ায় হেদায়েতুন্নাহু জামাতে ভর্তি হই তখন আমার বয়স বারো কি তেরো। পত্রিকা পড়ার অভ্যাস বা কৌতূহল আমার ছিল না। হঠাৎ একদিন তাইসীরুল মানতেক দরসে উস্তায আলকাউসার পত্রিকার কথা বললেন। পড়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করলেন। হুজুরের কাছ থেকে একটি পত্রিকা সংগ্রহ করলাম এবং পড়তে থাকলাম। শিশু হিসেবে এ পত্রিকার সব লেখা পড়তে আমার আগ্রহ না হলেও কীভাবে যেন ‘শিক্ষার্থীদের পাতা’ আমার মন কেড়ে নেয়। যতবার পড়ি ততবারই ভালো লাগে। তখন থেকে অজান্তেই আমার এর প্রতি এক মহব্বত সৃষ্টি হয়। নিয়মিত পড়ার চেষ্টা করি, আলহামদু লিল্লাহ!

এ পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের পাতা থেকে বহু ইস্তেফাদা করার সুযোগ হয়েছে আমার।

আলকাউসারের বিভাগগুলো গোছানো-সাজানো। যা খুবই আকর্ষণীয় ও ফায়েদাপূর্ণ। তাই আমার একটি আবেদন থাকবে। ‘ভাষা-সাহিত্য’ শিরোনামে যদি একটি বিভাগ খোলা হত, তাহলে ছাত্রদের ভাষা শেখার প্রতি আগ্রহ বাড়ত। আমরা ছাত্ররা অনেক উপকৃত হতাম। জাযাকুমুল্লাহু খাইরান।

আরিফ বিল্লাহ বিন আলাল

জামিয়া বাবুস সালাম

বিমানবন্দর ঢাকা

 

আমি কৃতজ্ঞ

আলকাউসার পত্রিকাটির সাথে যেদিন থেকে আমার পরিচয়, সেদিন থেকে নতুন সংখ্যা সংগ্রহের যে আগ্রহ ও ব্যাকুলতা অনুভব করি, তা আজও অটুট; বরং ঢের বৃদ্ধি পাচ্ছে প্রতিনিয়ত। আলকাউসার তার আগমনে বিলম্ব করে না; বরং প্রতি মাসেই সঠিক সময়ে পৌঁছে যায় শহর-বন্দরে। তবুও সংগৃহীত সংখ্যাটি শেষ করার পরই এক নতুন ব্যাকুলতা কাজ করে আসন্ন সংখ্যাটি হাতে পাওয়ার।

কেন এ ব্যাকুলতা! কারণ আলকাউসার আমাকে দিয়েছে স্বচ্ছ চিন্তা, বিশুদ্ধ আকীদা ও বৈশ্বিক নানা বিষয়ে শরীয়তের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি।

বিশেষ করে প্রতি সংখ্যার সম্পাদকীয়তে খুঁজে পাই চলমান বিষয়ের নানাবিধ প্রশ্নের উত্তর।

আর ‘শিক্ষার্থীদের পাতা’। একজন তালিবুল ইলম হিসেবে বলতে চাই, তা আমার প্রতি মাসের প্রতীক্ষিত বিভাগ। কখনো কখনো শুরুতেই পড়ে নেই এ পাতাটি। যা আমার চেতনাজগতে এক নতুন আলোড়ন সৃষ্টি করে। সামনের পথে আগুয়ান হওয়ার এক অসামান্য পাথেয় হিসেবে পাই এ বিভাগটিকে। তাই আমি কৃতজ্ঞ আলকাউসারের প্রতি এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি। আল্লাহ সকলেকে ভরপুর বারাকাহ দান করুন।

মাহদী হাসান

গোপালপুর, টাঙ্গাইল

শিক্ষার্থী, মারকাযুল উলুম, মধুপুর

 

আলকাউসার পত্রিকার উপকারিতা

আলহামদু লিল্লাহ। আলকাউসার আমাদের প্রিয় একটি দ্বীনী পত্রিকা।

আমি মাদানী নেসাবে অধ্যয়নরত এক তালিবুল ইলম। আলহামদু লিল্লাহ, গত দুই বছর ধরে নিয়মিত আলকাউসার পত্রিকাটি পড়া হয়।

এই পত্রিকাটি সব সময় আমাদের সঙ্গে থাকে। এর প্রতিটি সংখ্যায় এমন সব গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বিষয় উপস্থাপন করা হয়, যা আমাদের পড়াশোনায় গভীর উপকার এনে দেয়। উস্তাযগণ আমাদেরকে তা পাঠে বিশেষভাবে তাকিদ দিয়ে থাকেন। আমরাও আগ্রহের সঙ্গে তা অধ্যয়ন করার চেষ্টা করি এবং আলহামদু লিল্লাহ, এর মাধ্যমে অনেক উপকৃত হই। বিশেষ করে গত মাহে রমযান সংখ্যার প্রতিটা লেখা আমাদের অনেক বেশি উপকৃত করেছে আলহামদু লিল্লাহ।

আল্লাহ তাআলার কাছে দুআ করি, তিনি যেন এই পত্রিকার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ, বিশেষ করে বাংলাভাষী পাঠকদের আরও বেশি উপকৃত করেন।

আমিন, ইয়া রব্বাল আলামীন।

মোহাম্মাদ সাদি, হবিগঞ্জ

 

 

advertisement