যিলহজ্ব ১৪৪৭   ||   জুন ২০২৬

মৌলভী বেশভূষা সম্মানের, লজ্জার নয়

সাইয়েদ মুহাম্মাদ ওয়াযেহ রশীদ হাসানী নদভী

[এটি একটি বয়ানের অংশবিশেষ; যা হযরত নদভী রাহ. সম্ভবত নদওয়াতুল উলামার তলাবায়ে কেরামের কোনো মজলিসে পেশ করেছিলেন। তালিবুল ইলমদের ফায়েদার কথা চিন্তা করে বয়ানের সে অংশবিশেষেরই উর্দু ও তার অনুবাদ পেশ করা হল।

রেকর্ড থেকে অনুলিখন ও অনুবাদ করেছেন আবদুর রহমান]

آپ ميں سے کچھ لوگ جامعات ميں چلے جاتے ہيں، يہاں کي يونيورسٹيوں ميں۔ ہميں وہاں ديکھ کر بڑا افسوس ہوتا ہے۔ ہمارا بھي آنا جانا ہوتا ہے۔ علي گڑھ پہلے ہم بہت جايا کرتے تھے، اب تو برسوں سے نہيں جانا ہوا، ليکن اور بعض يونيورسٹيوں ميں کہ وہاں جاتے ہي ان کي وضع بدل جاتي ہے، لباس بدل جاتا ہے، پہچاننا مشکل ہوتا ہے کہ يہ ندوي ہے۔ بڑي شرم آتي ہے، اتني جلدي تغير آ گيا! بالکل معلوم ہوتا ہے کہ ايک چولا تھا جو اس کا انتظار تھا کہ جلدي سے موقع ملے تو ہم اس چولے کو اتار ديں، دوسرا چولا پہن ليں۔ آپ کو وہاں نمونہ بننا چاہيے، آپ کو استقامت ميں، نمازوں کي پابندي ميں اور وضع و ہيئت ميں۔

اور جب وضع و ہيئت کا نام آ گيا تو ہم نے ايک بات صفائي سے کہتا ہوں آپ سے، کہ يہاں کے ہر طالب علم کے ليے ضروري ہے کہ وہ داڑھي رکھے۔ يہاں کے طالب علم کے ليے حلق لحيہ ناجائز ہے، حرام ہے، ممنوع ہے اور خلاف قانون ہے۔ اور يہاں کے طالب علم کے ليے کسي طرح يہ بات زيبا نہيں کہ وہ وہ لباس اختيار کرے جس سے يہ شبہ ہو کہ يہ کالج کا طالب علم ہے، يونيورسٹي کا طالب علم ہے يا کسي عربي مدرسے کا طالب علم ہے۔ ٹخنے سے جب پيجمے کے نيچے ہونے کو شريعت نے ناپسند کيا ہے، تو پھر وہ جو بار بار آتا ہے کہ ্রخَالِفُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىগ্ধ، ্রخَالِفُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَىগ্ধ۔ يہود و نصاري کے شعارات کو منع کيا گيا اس ليے کہ ان کا نفسياتي اثر ہوتا ہے اور يہ پيغمبر ہي کي زبان سے بات نکل سکتي تھي۔

تو داڑھي شرعي داڑھي ہوني چاہيے۔ صورت شکل مولويوں کي سي، صفائي سے کہتا ہوں، مولويوں کي سي ہوني چاہيے۔ شرمانا نہيں چاہيے اس پر۔ اور کسي مولوي کو اب شرمانے کي ضرورت نہيں ہے، اس ليے کہ ہمارے سامنے انگريزي دانوں کے ماہرين کے، يورپ امريکہ سے واپس آنے والوں کے، برسوں وہاں زندگي گزارنے والوں کے، اور جو ان کے ان ميں اسپيشلسٹ اور بڑے بڑے باکمال ہيں، ان کے مطالعے، ان کے علم، ان کے فہم، ان کي تحقيق، ان کے کردار، ان کے اخلاق کے وہ نمونے ہمارے سامنے آ چکے ہيں کہ بالکل رعب ان کا اٹھ گيا ہے۔ سب دھوکہ ہے، کوئي ہم پر ان کو تفوق حاصل نہيں ہے۔ اس ميں شرمانے کي بالکل ضرورت نہيں ہے۔

بات صاف کہتے ہيں، يہاں آپ رہيں تو آپ يہاں عالموں کي شکل اختيار کريں۔ اپنے استاذوں کي تقليد کريں اور علمائے رباني کي تقليد کريں۔ اور بالکل اس سے نہ شرمائيں۔ اور آپ کو ان تمام شرعي حدود اور محذورات کا پورا خيال رکھنا چاہيے۔ اور کم سے کم اس کي اجازت بالکل نہيں ہے کہ آپ يہاں رہ کر آزادي کے ساتھ داڑھي منڈائيں اور بالکل اسکول کے ايک طالب علم معلوم ہو اور اس طرح لباس آپ پہنيں، کوٹ پتلون پہنيں، يہ اس کي يہاں اجازت نہيں دي جا سکتي اور يہ کسي معني ميں بھي آپ کے ليے مفيد نہيں ہے۔ آپ ياد رکھيے، آپ جتنا ظاہرا و باطنا آپ کو مشابہت ہوگي نائبين رسول سے، مشايخ کرام اولياء عظام سے، اتني ہي آپ ميں مقبوليت، محبوبيت پيدا ہوگي، اللہ تعالي کي مدد آپ کے ساتھ ہوگي۔

আপনাদের মধ্য থেকে কিছু তালিবুল ইলম বড় বড় জামেয়ায় যাবেন। কেউ যাবেন বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে। ইউনিভার্সিটিগুলোতে মাঝে মাঝে আমার যাওয়া হয়। আগে আলীগড়ে অনেক যেতাম, এখন কয়েক বছর যাবৎ তেমন যাওয়া হয় না। কিন্তু বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিতে তো যাওয়াই হয়। সেখানে আপনাদের কোনো কোনো সদস্যকে দেখে বড় আফসোস হয়। দেখা যায়, সেখানে যেতে না যেতেই তাদের বেশভূষা বদলে যায়, পোশাক বদলে যায়। চেনা মুশকিল হয়ে যায় যে, এই ব্যক্তি কোনো নদভী (নদওয়াতুল উলামার ফাযেল) কি না! বড় লজ্জা লাগে, এত দ্রুত এমন পরিবর্তন!

মনে হয় যেন, এতদিন সে (একরকম বাধ্য হয়েই) এক বেশভূষা ও পোশাক গ্রহণ করেছিল; যা সে পরিবর্তনের অপেক্ষায় ছিল এবং সুযোগের সন্ধানে ছিল সুযোগ পেয়েই দ্রুত তা পরিবর্তন করে (তার কাক্সিক্ষত) ভিন্ন বেশভূষা ও পোশাক গ্রহণ করে নিয়েছে। অথচ উচিত ছিল ঈমানী অবিচলতায়, নামাযের পাবন্দিতে এবং লেবাস-পোশাক ও সূরত-সীরাতে সে-ই হবে নমুনা।

যেহেতু লেবাস-পোশাকের কথা এল, আমি আপনাদের পরিষ্কারভাবে বলছি, এখানকার প্রতিটি তালিবুল ইলমের জন্য দাড়ি রাখা আবশ্যক। এখানকার তালিবুল ইলমদের দাড়ি ছাঁটা ও মুণ্ডন করা নাজায়েয, হারাম ও কানুনের খেলাফ।

এখানকার তালিবুল ইলমদের জন্য কোনোভাবেই এটি শোভনীয় নয় যে, সে এমন পোশাক গ্রহণ করবে, যা দেখে সন্দেহ হয় সে কলেজ-ইউনিভার্সিটির ছাত্র, নাকি কোনো আরবী মাদরাসার ছাত্র! টাখনুর নিচে পায়জামা পরা শরীয়ত হারাম করেছে। পাশাপাশি বারবার এ কথা বলা হয়েছে

خَالِفُوا الْيَهُودَ وَالنَّصَارَى.

তোমরা ইহুদী ও খ্রিস্টানের সাদৃশ্য পরিহার কর। সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ২১৮৬

অর্থাৎ ইহুদী-নাসারাদের বৈশিষ্ট্য বা প্রতীক গ্রহণ করতে নিষেধ করা হয়েছে। কারণ এগুলোর একটি মনস্তাত্ত্বিক প্রভাব রয়েছে। এমন নির্দেশ কেবল পয়গম্বরের জবানেই আসা সম্ভব।

তাই দাড়ি হতে হবে শরয়ী দাড়ি। বেশভূষা হতে হবে মৌলভীদের মতো। আমি পরিষ্কারভাবে বলছিমৌলভীদের মতো’। এ নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত নয়। এখন কোনো মৌলভীর লজ্জিত হওয়ার প্রয়োজনও নেই। কারণ আমাদের সামনে ইংরেজি শিক্ষিত গবেষক, ইউরোপ-আমেরিকা ফেরত শিক্ষিত শ্রেণি, যারা সেখানে বছরের পর বছর কাটিয়েছে এবং তাদের মধ্যে যারা স্পেশালিস্ট ও পণ্ডিত ব্যক্তি তাদের পড়াশোনা ও জ্ঞানবিদ্যা, তাদের বোধবুদ্ধি, গবেষণা, তাদের কীর্তিকলাপ ও আচার-ব্যবহারের এমন সব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে এসেছে যার কারণে তাদের প্রতি মুগ্ধতা বা সমীহ পুরোপুরি উঠে গেছে। আমাদের সামনে দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হয়ে গেছে এ সবই ধোঁকা; আমাদের ওপর তাদের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তাই এতে লজ্জিত হওয়ার একেবারেই কিছু নেই।

আপনাদেরকে পরিষ্কারভাবে বলছি, আপনারা এখানে থাকলে এখানের আলেমদের বেশভূষা গ্রহণ করুন। আপনাদের উস্তাযগণের এবং উলামায়ে কেরামের পদাঙ্ক অনুসরণ করুন। এসব ক্ষেত্রে একদম লজ্জা পাবেন না। সমস্ত শরয়ী সীমা ও বিধি-নিষেধের প্রতি আপনাদের পূর্ণ খেয়াল রাখা উচিত।

এই অনুমতি তো বিলকুল নেই যে, আপনারা এখানে, এই পরিবেশে থেকে স্বাধীনভাবে দাড়ি ছাঁটবেন অথবা মুণ্ডন করবেন আর দেখতে স্কুলের ছাত্রের মতো মনে হবে অথবা (তাদের মতো) ওরকম পোশাক পরবেন, কোট-প্যান্ট পরবেন এসবের অনুমতি এখানে নেই এবং এটি কোনোভাবে আপনাদের জন্য কল্যাণকরও নয়।

মনে রাখবেন, আপনারা যাহেরী ও বাতেনীভাবে নায়েবে রাসূল, মাশায়েখ ও আউলিয়ায়ে ইযামের সাথে যতটা সাদৃশ্যপূর্ণ হবেন, আপনাদের মধ্যে তত বেশি মাকবূলিয়্যাত ও মাহবূবিয়্যাত পয়দা হবে, আল্লাহ তাআলার মদদ আপনাদের সাথে থাকবে।

 

 

advertisement