যিলহজ্ব ১৪৪৭   ||   জুন ২০২৬

বিতর্ক : যুক্তি ও প্রমাণ

জুলফিকার আহমদ চীমা

(পূর্ব প্রকাশের পর)

 

[গত ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে ভারতীয় লেখক জাভেদ আখতার ও একজন নওজোয়ান আলেমে দ্বীনের সাথে স্রষ্টার অস্তিত্ব বিষয়ে একটি টেলিভিশন বিতর্ক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে স্পষ্টতই ওই মাওলানা সাহেব জাভেদ আখতারকে ধরাশায়ী করে ছাড়েন। বস্তুবাদী জগতের গুরুজনদের কাছে যা ছিল অনাকাক্সিক্ষত ও অবিশ্বাস্য ব্যাপার। জাভেদ আখতার এভাবে পরাস্ত হবেন, তা তারা চিন্তাও করতে পারেনি। তাই তাদের অনেকেই এ ঘটনাটি যেন তাড়াতাড়ি দৃশ্যপট থেকে সরে যায়, সে অপেক্ষায় থেকেছেন। কিন্তু মুসলিম দুনিয়ায় এমন কিছু লোকও আছেন, যারা নিজেদেরকে অনেক শিক্ষিত, বুদ্ধিজীবী, দার্শনিক ও বিজ্ঞানমনস্ক ভেবে থাকেন। আবার অল্প-স্বল্প ধর্ম-কর্মও করে থাকেন। অন্যদিকে আলেম-উলামা ও ইসলামী সভ্যতা ও সংস্কৃতির প্রতি তাদের ঘৃণাও লুকাতে পারেন না। এরা বর্তমানে লিবারেল শ্রেণি বলে পরিচিত। জাভেদ আখতার ও মুফতী শামায়েল বিতর্কের পর এদের অনেকের গা জ্বলাটাই বেশি দেখা গেল। একজন আলেমের কাছে একজন বুদ্ধিজীবী কেন হেরে যাবে এটা তাদের গায়ে সয় না। যদিও মূল বিষয়ে তারা নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেনি। কারণ নিজেকে তো তারা নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দেন না। তাই ওই শ্রেণির লোকেরা বলাবলি ও লেখালেখি শুরু করলেন যে, আসলে জাভেদ সাহেব সেদিন বিতর্কের জন্য প্রস্তুতি নিয়ে যাননি। তিনি শামায়েলের ওই কথার জবাব এভাবে দিতে পারতেন, এমন এমন প্রশ্ন করে শামায়েলকে আটকে দিতে পারতেন...—এভাবে বিভিন্ন দেশে লিবারেল লোকেরা নিজেদের মুখ ঢাকার চেষ্টা করে থাকেন। তাদেরই জবাবে এক্সপ্রেস নিউজ পত্রিকার খ্যাতিম্যান কলামিস্ট জুলফিকার আহমাদ চীমা কয়েকটি কলাম লিখেন।

আলকাউসারের পাঠকদের জন্য সেগুলো কিস্তি আকারে পেশ করা হচ্ছে। লেখাটি অনুবাদ করেছেন মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ফাহাদ]

 

বিতর্কের একপর্যায়ে জাভেদ আখতার আল্লাহ তাআলার অস্তিত্ব নিয়ে আপত্তি করে বলেন, তিনি কেমন আল্লাহ? তার সামনে গাজার নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করা হল। এত বড় অন্যায় দেখেও তিনি এর কোনো প্রতিকার করলেন না?

সঞ্চালকও ছিলেন একজন ভারতীয় মুসলমান। যে নিজের সীমাবদ্ধতার কারণে সত্য বলতে শঙ্কিত ছিলেন। নতুবা অন্য দেশের যে কেউই জাভেদ আখতারকে বলে বসত, কথাটি আপনি কোনো সৎ উদ্দেশ্য কিংবা গাজার শহীদদের প্রতি সহানুভূতির কারণে বলেননি। কারণ আপনার প্রধানমন্ত্রী মোদি ও ইসরাইলের খুনী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু একে অপরের খুবই ঘনিষ্ঠ ও মিত্র। ইসরাইলের সাথে ভারতের সামরিক চুক্তি আছে। আর ইসরাইলের সকল শয়তানী ও নৃশংস কর্মকাণ্ডে ভারত সরকারের পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা রয়েছে। হাজার হাজার নিষ্পাপ শিশুর হত্যাকারী ইসরাইলের এহেন নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জন্য আপনি কি কখনো নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করেছেন? নিষ্পাপ শিশুদের হত্যাকারী ইসরাইলের সাথে সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার জন্য কখনো দাবি জানিয়েছেন? না, আপনি জানাননি। আপনি তো কখনো ইসরাইলের নিন্দাও করেননি।   

আপনার সরকার এবং আপনার বাহিনী এক লক্ষেরও বেশি নিরপরাধ কাশ্মীরীকে শহীদ করেছে এবং হাজার হাজার কাশ্মীরী নারীর ইজ্জত লুণ্ঠন করেছে। মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও কি আপনি কখনো কাশ্মীরের নির্যাতিত নারীদের পক্ষে আওয়াজ তুলেছেন? কাশ্মীরের অসংখ্য যুবক বছরের পর বছর ভারতের কারাগারে পচে মরছে। তারা কি মানুষ নয়? আপনার মধ্যে কি কখনো মানবতাবোধ জাগ্রত হয়েছে? নিরপরাধ এসব মানুষের জন্য আপনার মুখে কখনো সহানুভূতির একটি শব্দও কি উচ্চারিত হয়েছে? কখনোই না।

জাভেদ আখতারকে একটি কথা বলা অপরিহার্য ছিল। আর সম্ভবত সকল নাস্তিকই এটি শুনে চমকে উঠবে। আর তা হল, যেসব গুণ মানুষকে পশুত্ব থেকে আলাদা করে এবং মানবসমাজকে পাশবিক রক্তপাত থেকে মুক্ত রেখে মানুষের বাসযোগ্য করে তুলে, সেসব গুণ কোনো নির্জীব প্রকৃতি ও চেতনাহীন বস্তুর দান নয়; বরং মহাবিশ্বের মহা স্রষ্টাই তা দান করেছেন। ন্যায়-ইনসাফ, দয়া, সমতা, সহমর্মিতার মতো উন্নত বিষয়গুলো মানবসৃষ্ট নয়, আল্লাহপ্রদত্ত। এগুলো গ্রিক, ইরানী কিংবা ইউরোপীয় দর্শনের উদ্ভাবিত কোনো বিষয় নয়।

মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তাই তাঁর নাযিলকৃত মহাগ্রন্থের মাধ্যমে এসব উন্নত বিষয়াবলির সঙ্গে মানুষকে পরিচিত করিয়েছেন। অন্যথায় মানুষের মধ্যে স্বভাবগতভাবেই করায়ত্ত করা, আধিপত্য বিস্তার করা ও প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্মমভাবে ধ্বংস করার প্রবণতা থাকে। শত বছরের মানব ইতিহাস সাক্ষী, জাভেদ আখতারের মতাদর্শীরা (আল্লাহকে অস্বীকারকারীরা) কোনো ভূখণ্ড বা অঞ্চল জয়লাভ করলে সেখানে তারা হিংস্রতা ও শয়তানী খেলায় মেতে ওঠে। মানুষের খুলি দিয়ে মিনার বানায়, নারীদের ইজ্জত লুণ্ঠন করে এবং ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে ছাই করে দেয়। পক্ষান্তরে আল্লাহতে বিশ্বাসীরা যখন মক্কা জয় করল, তাদের উত্তোলিত তরবারিগুলো নামিয়ে দেওয়া হল। আর উপত্যকাগুলোতে মুসলিম সিপাহসালার সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কণ্ঠ ধ্বনিত হল

لَا تَثْرِيْبَ عَلَيْکُمُ الْيَوْمَ.

আজ তোমাদের কারও প্রতি কোনো তিরস্কার নেই। [সূরা ইউসুফ (১২) : ৯২]

সীমাহীন জুলুমকারী নিজের প্রাণের শত্রুকেও বলা হল, যাও, তোমাকে ক্ষমা করে দেওয়া হল। তোমার থেকে কোনো প্রতিশোধ নেওয়া হবে না।

ফিলিস্তিন বিজয়ের সময়ও একজন নারীর ইজ্জতও হরণ করা হয়নি এবং বিজিত কোনো ব্যক্তিকেও হত্যা করা হয়নি। এখানেও বিজয়ী বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ফারূকে আযম রা. প্রথম ঘোষণা করেছিলেন, আজ থেকে অমুসলিমদের নিরাপত্তার দায়িত্বও আমাদের।

কনস্টান্টিনোপল (ইস্তাম্বুল) জয় করার পর সুলতান মুহাম্মাদ আলফাতিহ যখন সাদা ঘোড়ায় চড়ে শহরে প্রবেশ করেছিলেন, তখন নিজ সৃষ্টিকর্তা ও মালিকের সামনে তার গর্দান ছিল অবনত। ইস্তাম্বুলের গলিতে রক্তের একফোঁটা দাগও লাগেনি। আর বিজিত কোনো মানুষের ওপর তরবারিও ওঠেনি। এটা কোন্ শিক্ষার কারিশমা? নিঃসন্দেহে এটা ছিল আল্লাহর নির্দেশনার (উরারহব মঁরফধহপব) ফল। যিনি মানুষের প্রতি দয়া ও মানব জীবনের মর্যাদা রক্ষার আদেশ দিয়েছেন। যিনি যুদ্ধ ও জয়ের শিষ্টাচার শিখিয়েছেন এবং শত্রুদের ওপর জুলুম করতেও নিষেধ করেছেন।

মানুষের জন্য আসমান থেকে অবতীর্ণ সবচেয়ে মূল্যবান উপহার হল ন্যায় ও ইনসাফের ধারণা। এটিই মানবসমাজকে বসবাসযোগ্য করেছে। আপনারা যে সত্তাকে কটূক্তি করে বলেন যে, দুনিয়ায় এত জুলুম হচ্ছে আর তিনি শুধু তাকিয়েই দেখছেন! আপনারা কি জানেন, তিনি মানুষকে কেমন ইনসাফের নির্দেশ দিয়েছেন! তাহলে শুনুন! তিনি মানুষকে আদেশ করেছেন

يٰۤاَيُّهَا الَّذِيْنَ اٰمَنُوْا كُوْنُوْا قَوّٰمِيْنَ بِالْقِسْطِ شُهَدَآءَ لِلهِ وَ لَوْ عَلٰۤي اَنْفُسِكُمْ اَوِ الْوَالِدَيْنِ وَ الْاَقْرَبِيْنَ.

হে মুমিনগণ! তোমরা ইনসাফ প্রতিষ্ঠাকারী হও, আল্লাহর জন্য সাক্ষ্যদাতারূপে। যদিও তা তোমাদের নিজেদের বিরুদ্ধে কিংবা পিতামাতা ও আত্মীয়-স্বজনের বিরুদ্ধে হয়। সূরা নিসা (৪) : ১৩৫

অর্থাৎ নিজের পিতামাতার বিরুদ্ধেও রায় দিতে দ্বিধা করো না এবং ইনসাফের দাবি হলে নিজের বিরুদ্ধেও সিদ্ধান্ত দাও। কিন্তু কোনো অবস্থাতেই ন্যায় ও ইনসাফের ঝাণ্ডা অবনত হতে দিয়ো না।

তিনি আরও আদেশ করেছেন

وَ لَا يَجْرِمَنَّكُمْ شَنَاٰنُ قَوْمٍ عَلٰۤي اَلَّا تَعْدِلُوْا .

কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি শত্রুতা যেন তোমাদেরকে ইনসাফ পরিত্যাগে প্ররোচিত না করে। সূরা মায়েদা (৫) : ৮

ইনসাফের এমন ধারণা কি কোনো মানুষ দিতে পারে? মানব ইতিহাসে কোনো মানুষ কি এমন ধারণা দিয়েছে? কোনো নাস্তিক, অ্যারিস্টটল, প্লেটো, মার্কস কিংবা রুশোর কোনো লেখায় ইনসাফ, দয়া বা সাম্যের এমন সামান্য ইঙ্গিতও কি পাওয়া যায়, যা সর্বশক্তিমান আল্লাহর সর্বশেষ কিতাব ও সর্বশেষ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের শিক্ষায় বারবার পাওয়া যায়? না, আপনারা ইনসাফের এমন কোনো উদাহরণ পেশ করতে পারবেন না যার ধারণা আসমান-জমিনের অধিপতি মহান রব দিয়েছেন। আর যার বাস্তব নমুনা ছিলেন স্বয়ং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম। তাঁর অমোঘ ঘোষণাআমার কন্যা ফাতেমা অপরাধ করলেও তাকে একজন সাধারণ মানুষের মতোই শাস্তি দেওয়া হত’ মূলত আইনের দৃষ্টিতে সকলেই সমান হওয়ার (Equality before law) নীতিকেই চির ভাস্বর করে দিয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পর তাঁর মহান সাহাবী উমর (ফারুকে আযম) রা. নিজের পুত্রের গায়ে বেত্রাঘাত করে ন্যায় ও আইনের শাসনের সব অধ্যায় রচনা করে গিয়েছেন। আর জ্ঞানের দ্বার (বাবুল ইলম) আলী মুরতজা রা.-এর এই বাণীর সত্যতাও প্রতিদিন প্রতি মুহূর্তেই প্রমাণিত হচ্ছে, ‘কুফরের শাসন চলতে পারলেও জুলুম ও অবিচারের শাসন টিকে থাকতে পারে না।’ নাস্তিকতার জগৎ এমন সোনালি দৃষ্টান্ত থেকে একেবারেই শূন্য।

এবার আসুন, জাভেদ আখতারের ‘সবচেয়ে বড় যুক্তি’টা(!) দেখি। তার মতে, গাজায় যেহেতু হাজার হাজার শিশু শহীদ হয়েছে আর তাদের রক্ষার জন্য আল্লাহ কিছুই করেননি, তাই আমি আল্লাহকে মানি না। এটা নতুন কথা নয়। হাজার হাজার বছর ধরে নাস্তিকরা এ কথাই বলে আসছে। তারা বিতর্কে অংশ নিয়ে প্রতিপক্ষকে পরাজিত করতে চায়, কিন্তু আন্তরিকতা ও খোলা মন নিয়ে এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টা করে না। যারা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করেছে, তাদের অনেকেই উত্তর পেয়েছে, আলো পেয়েছে এবং গন্তব্যেও পৌঁছে গিয়েছে।

জাভেদ আখতার ও অন্যান্য নাস্তিকরাও তাদের এ প্রশ্নের উত্তর আল্লাহর সর্বশেষ কিতাবে পেতে পারে। বরং আন্তরিকভাবে চেষ্টা করলে তাদের ঈশ্বর-ধারণাও সংশোধিত হতে পারে। তাদের বর্তমান ঈশ্বর-ধারণা কোনো বড় পীর, রাজা কিংবা শাসকের মতো, মানুষের মতো যার অনুভূতি আছে এবং যিনি মানুষের মতোই চিন্তা করেন। কিন্তু আসমানী কিতাবসমূহ তাঁর যে পরিচয় তুলে ধরেছে, সে অনুযায়ী তিনি কারও সন্তান নন এবং তাঁরও কোনো সন্তান নেই। তিনি সর্বদা ছিলেন এবং সর্বদা থাকবেন। আসমান-জমিন ও সমগ্র বিশ্ব তিনিই সৃষ্টি করেছেন। জীবন-মৃত্যু, সম্মান-অপমান তিনিই দান করেন।

সমগ্র জাহানের তিনিই পালনকর্তা। তিনিই রিজিক দেন। তিনিই সর্বশক্তিমান। সবকিছুর অধিপতি তিনিই। অর্থাৎ মানুষের কাছে যেসব সম্পদ ও ধন-সম্পত্তি রয়েছে, তার প্রকৃত মালিক মানুষ নয়; এসবের প্রকৃত মালিক হলেন সেই সর্বশক্তিমান। আর দুনিয়ার সকল মানব সন্তানের প্রকৃত মালিকও সেই সৃষ্টিকর্তাই। তিনি সাময়িকভাবে তাঁর বান্দাদেরকে কিছু জিনিসের মালিকানা দান করেছেন। কিন্তু যখন ইচ্ছা করেন, তা তিনি ফিরিয়েও নেন। এ বিশ্বাস এক বিরাট নিআমত। এ আকীদা ও বিশ্বাস বড় বড় বিপর্যয়ে ঈমানদারদের ধৈর্য ও সাহস জোগায়।

গাজায়ও ছয়-সাতজন ছেলের শাহাদাতে কোনো মা পাগল হয়ে যায়নি। কারও মানসিক ভারসাম্যও নষ্ট হয়নি। এসব মায়েদের অধিকাংশই সন্তানের লাশের সামনে দাঁড়িয়ে ঘোষণা করেন, ‘আমাদের সন্তান ছিল আল্লাহর দেওয়া উপহার। তিনি তা ফিরিয়ে নিয়েছেন। আমাদের সন্তান শহীদ হয়েছে। আমরা জান্নাতে অবশ্যই তাদের সঙ্গে মিলিত হব।’

একই সঙ্গে তারা এটাও বলেন, “হে আল্লাহ! আপনি মুসলমানদের আদেশ দিয়েছিলেনযেখানেই মুসলমানদের ওপর জুলুম হবে, তারা যেন সাহায্যে এগিয়ে আসে।’ কিন্তু সারা দুনিয়ার মুসলিম দেশগুলোর কেউই আমাদের সেভাবে যথাযথ সাহায্য করেনি। আপনি অবশ্যই তাদেরকে শাস্তি দিন।”

বিশ্বজগতের সৃষ্টিকর্তা সব জুলুমে নিজে হস্তক্ষেপ করেন না। এটা তাঁর ইচ্ছাধীন। তাঁর সত্তার মতো এটিও মানুষের বোধগম্যের বাইরে। তবে তিনি জুলুম থেকে বিমুখ নন। সকল মুসলমান ও সকল মানুষকেই তিনি জুলুম প্রতিরোধের আদেশ দেন। সবশেষে তিনি তাঁর নির্ধারিত বিচার দিনে জুলুমের শিকার ধৈর্যধারণকারীদের অপরিমেয় প্রতিদান দেবেন। আর অন্যদিকে জালেমকে দেবেন কঠিন শাস্তি।

 

(চলবে ইনশাআল্লাহ)

 

 

advertisement