যিলকদ ১৪৪৭   ||   মে ২০২৬

শায়েখ মুহাম্মাদ আওয়ামাহর নেযামুল আওকাত (হাফিযাহুল্লাহু তাআলা ওয়া রাআহু)

[নেযামুল আওকাত প্রত্যেক তালিবুল ইলমের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পাতায় বিভিন্ন সময়ে বড়দের পক্ষ থেকে এবং কখনো বড়দের থেকে শেখা কিছু কথা আরয করা হয়েছে। তালিবুল ইলম ভাইদের কাছে নিবেদন, তাঁরা যেন সেগুলো দেখে নেন। বড়দের কাছ থেকে আমাদের যে বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে শেখা জরুরি, তার মধ্যে অন্যতম হল নেযামুল আওকাতের পাবন্দী। তাঁদের নেযামুল আওকাত থেকে আমরা কয়েকটি বিষয় হাসিল করতে পারি

১. সময়ানুবর্তিতা এবং সময়ের যথাযথ মূল্যায়নের তরীকা।

২. দৈনন্দিন সূচিতে কী কী কাজ থাকা জরুরি। এটি ব্যক্তি ও অবস্থা হিসেবে ভিন্ন হতে পারে। তবে কিছু বিষয় তো মুশতারাক আছে। যেমন, কুরআন তিলাওয়াত এবং কিছু মাসনূন ওযীফা।

৩. হিম্মত ও নাশাত।

৪. ইলম ও আমলের জন্য নিজেকে বিলীন করার জযবা।

৫. দ্বীনের খেদমতে নিজেকে কুরবান করার স্পৃহা।

কিছুদিন পূর্বে শায়েখ মুহাম্মাদ আওয়ামাহ সম্পর্কে একটি প্রবন্ধ পড়ার তাওফীক হয়েছে। প্রবন্ধের শিরোনাম

ساعة في صحبة العلامة المحدث الكبير الشيخ محمد عوامة.

লেখক, মাওলানা মাহফুজ আহমাদ সিলেটি। উক্ত প্রবন্ধে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় উল্লেখের পাশাপাশি শায়েখের ছেলে শায়েখ মুহিউদ্দীন আওয়ামাহর সূত্রে শায়েখের নেযামুল আওকাত সম্পর্কেও আলোচনা এসেছে। তালিবুল ইলম ভাইদের খেদমতে তা পেশ করছি। আল্লাহ তাআলা এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলকে জাযায়ে খায়ের দান করুন এবং আমাদেরকে নব্বই ছুঁই ছুঁই মহান এই ব্যক্তিত্বের নেযামুল আওকাত থেকে শিক্ষা গ্রহণের তাওফীক দান করুন আমীন।

তবে এটা মনে রাখা জরুরি, আমাদের মতো মাদরাসা-কেন্দ্রিক তালিবে ইলমদের পক্ষে এ রুটিন আক্ষরিক অর্থে গ্রহণ করা মুনাসিব নয়। এখান থেকে নেযামের পাবন্দী, সময় নষ্ট না করা এবং সময়ের সর্বোচ্চ মূল্যায়নের শিক্ষা গ্রহণ করাই আসল মাকসাদ। বান্দা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক]

 

শায়েখের রাতের রুটিন

শায়েখ নিয়মিত বিশ্রামে যান রাত বারোটায়। ফজরের সাড়ে তিন ঘণ্টা পূর্বে সজাগ হন। শীতকালেই শায়েখ রাতে বিশ্রাম করতে পারেন। গ্রীষ¥কালে রাতে আর বিশ্রাম হয় না। কারণ তখন ফজরের আযান হয় ভোর চারটায়। আর রাতে শায়েখের বিশ্রামের সময় হল বারোটায়। এদিকে ফজরের সাড়ে তিন ঘণ্টা পূর্ব থেকে তিনি নির্ধারিত আমলে মশগুল হয়ে পড়েন। তাই গ্রীষ্মকালে তিনি পুরো রাত সজাগ থাকেন।

আশ্চর্যের বিষয় হল, শায়েখ কখনো কোনো এলার্ম ব্যবহার করেন না! শোয়ার পূর্বে দুআ করেন

يا رب متى تريدني أيقظني.

এবং নিয়মিত একই সময় সজাগ হন!

ওযু করেন এবং দুই রাকাত তাহিয়্যাতুল ওযু আদায় করেন। এরপর ছয় পারা কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত করেন। তারপর তাহাজ্জুদের নামায ও সালাতুত তাসবীহ আদায় করেন এবং ফজরের আযান পর্যন্ত দুআ ও বিভিন্ন আমলে মশগুল থাকেন।

ফজরের পর

সকালের মাসনূন দুআ এবং অনেক দীর্ঘ তাসবীহ পাঠ করেন। এরপর ঘুমাতে যান। সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা ঘুমান। ঘুম থেকে উঠে দ্রুত নাস্তা করেন এবং তাঁর দফতরে আসেন। প্রায় চার ঘণ্টা বা এর কিছু বেশি সময় তিনি দফতরে অবস্থান করেন এবং ইলমী ও তাহকীকী কাজে মশগুল থাকেন।

শায়েখ অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বলেন, খাবারে দীর্ঘ সময় ব্যয় করা তালিবুল ইলমের জন্য কখনো সমীচীন নয়।

দুপুরে

দুপুরের খাবারের পর আধা ঘণ্টা বা সর্বোচ্চ এক ঘণ্টা বিশ্রাম করেন। চব্বিশ ঘণ্টায় শায়েখ সর্বোচ্চ পাঁচ ঘণ্টা বিশ্রাম করেন।

শায়েখ অত্যন্ত আক্ষেপ করে বলেন, তালিবুল ইলম পাঁচ ঘণ্টার বেশি কীভাবে ঘুমাতে পারে!

দুপুরের পর থেকে এশা পর্যন্ত

বিশ্রামের পর তিনি কাজে ফেরেন এবং প্রায় চার ঘণ্টা কাজ করেন। এরপর এশার নামায পড়েন এবং রাতের খাবার গ্রহণ করেন।

এশার পর থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত

খাবারের পর কিছু সময় পরিবারের লোকজনের সঙ্গে বসেন। দ্বীনী আলোচনা করেন। গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় থাকলে পরামর্শ প্রদান করেন।

এরপর কয়েক হাজার বার দরূদ পাঠ করেন। অতঃপর ওযু করে ঘুমাতে যান।

 

সূত্র :

نفحات من صحبة شيخنا العلامة محمد عوامة، بقلم محفوظ أحمد السلهتي، صـ ৭৮-৮২

দ্র. শায়েখ সম্পর্কে শায়েখের ছেলে শায়েখ মুহিউদ্দীন আওয়ামা একটি পুস্তিকা প্রস্তুত করেছেন। নাম

صفحات مضيئة من حياة سيدي الوالد العلامة محمد عوامة

তালিবুল ইলম ভাইগণ কিতাবটি মুতালাআ করতে পারেন।

 

[আরবী প্রবন্ধ থেকে প্রস্তুত করেছেন : মাওলানা আবদুর রকীব]

 

শিক্ষাপরামর্শ

উর্দূ ভাষা আয়ত্ত করা বিষয়ক দুটি প্রশ্ন

আবু রায়হান ইবনে তুজাম্মেল হোসাইন

প্রশ্ন : আমি এই বছর তাইসীর জামাতে পড়ি। আমি সবসময় উর্দূ ভাষায় কথা বলতে চাই। যদিও আলহামদু লিল্লাহ আল্লাহর রহমতে উর্দূ কিতাব পড়তে পারি, তবে অনেক শব্দার্থ এবং ব্যাকরণ না জানার কারণে উর্দূতে বলতে পারি না, এজন্য উর্দূ শব্দার্থ বিষয়ক কিছু অভিধান এবং উর্দূ ব্যাকরণ ও সাহিত্যের কিছু কিতাব প্রকাশনীর নামসহ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর : উর্দূ কিতাব পড়তে এবং বুঝতে পারা অনেক প্রশংসাযোগ্য বিষয়। বিশেষত আমাদের আকাবিরের কিতাবাদি থেকে যথাযথ উপকৃত হওয়ার জন্য উর্দূ ভাষা আয়ত্ত করার বিকল্প নেই। আল্লাহ তাআলা বরকত দান করুন।

উর্দূ শেখার জন্য নেসাবে যেসকল কিতাব আছে, সেগুলো খুব ভালোভাবে পড়ুন। উর্দূ শব্দ এবং বাক্যের সঠিক উচ্চারণ, শব্দার্থ এবং তরজমা উস্তাযের দরস থেকে আত্মস্থ করার চেষ্টা করুন। শব্দার্থের জন্য মুহাম্মাদ ইসহাক জালালপুরীর بچوں کا ديني لغت সংগ্রহ করুন। এবং থানভী লাইব্রেরী থেকে প্রকাশিত فيروز اللغات -এর বাংলা অনুবাদও রাখতে পারেন। তাইসীরুল মুবতাদী কিতাবের শেষে حصۂ قواعد اردو -যা নেসাবে রয়েছে- ভালোভাবে পড়ুন এবং অনুশীলনের সঙ্গে পড়ুন। এর সঙ্গে হযরত মাওলানা সুলতান যাওক নদভী রাহ.-এর آسان قواعد اردو সঙ্গে রাখতে পারেন। মাঝেমধ্যে পরস্পরে উর্দূতে কথা বলার অনুশীলন করতে পারেন। এভাবে মেহনত করতে থাকলে উর্দূতে কথা বলার যোগ্যতাও ইনশাআল্লাহ বৃদ্ধি পেতে থাকবে। নেসাবের বাইরে উর্দূ সাহিত্য বিষয়ক কোনো কিতাব এখন আপনার জন্য মুনাসিব মনে হচ্ছে না।

তবে মনে রাখবেন, এখন আপনার প্রধান কর্তব্য হল, গুরুত্বের সঙ্গে নিয়মিত দরসে শরীক থাকা, তাকরার করা, উস্তায দরসে যে সবক পড়াবেন, তা পূর্বে মুতালাআ করে আসা। উস্তায কোনো কাজ দিলে তা যথাযথ পূর্ণ করে আসা। এবং কিতাবী ইস্তে‘দাদ তৈরির বিষয়ে মনোযোগী হওয়া। কোনো সবক যেন নিজের কাছে অস্পষ্ট না থাকে, সে বিষয়ে পূর্ণ সচেতন হওয়া। কোথাও কোনো অস্পষ্টতা অথবা প্রশ্ন থাকলে হল্ করে নেওয়া। নেগরান উস্তাযের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। তাঁর কাছে যাওয়া-আসা করা। আপনি কিতাব বুঝতে পারছেন কি না, সবক আত্মস্থ হচ্ছে কি না নেগরান উস্তাযকে বিষয়গুলো যাচাইয়ের দরখাস্ত করা।

এ বিষয়গুলো একজন তালিবুল ইলমের জন্য অনেক জরুরি; বরং বলা যায় ভিত্তিস্বরূপ। এগুলোতে যদি কোনো ঘাটতি থেকে যায়, পরবর্তীতে তা শোধরানো অনেক দুঃসাধ্য ব্যাপার।

 

 

advertisement