যিলকদ ১৪৪৭   ||   মে ২০২৬

মে দিবস
‖ ইসলাম শ্রমিককে চাবুকের নিচ থেকে ইনসাফের ছায়ায় আশ্রয় দিয়েছে

পহেলা মে। আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস। ১৮৮৬ সালের ১ মে আমেরিকার শিকাগোতে বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে  রাস্তায় নেমে আসে শ্রমিক। আট ঘণ্টার শ্রমদিবস, মজুরি বৃদ্ধি, কাজের উন্নততর পরিবেশ ইত্যাদি দাবিতে ১ মে ১৮৮৬ একটি শ্রমিক সংগঠন শিল্প ধর্মঘটের ডাক দেয়। বর্বর পন্থায় সে ধর্মঘট দমন করা হয়। ৩ মে ধর্মঘট পালনকারী শ্রমিকদের এক প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশের গুলিবর্ষণে অন্তত ৬ জন শ্রমিক প্রাণ হারায়। এর প্রতিবাদে পরদিন ‘হে মার্কেট’-এ শ্রমিকরা সমাবেশ করলে কারখানার মালিকরা সেখানে বোমা বিস্ফোরণ ঘটায় এবং তাতে অন্তত ৪ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটে।

১৮৮৯ সালের ১৪ জুলাই অনুষ্ঠিত ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট কংগ্রেসে ১লা মে ‘শ্রমিক দিবস’ হিসেবে ঘোষণা হয়। এরপর থেকেই অনেক দেশে দিনটি শ্রমিক দিবস হিসেবে উদ্যাপিত হয়ে আসছে।

শ্রমিক দিবস বিষয়ে আলোচনা হলে শুরুতেই যে প্রশ্ন সামনে আসে তা হল, প্রতি বছর ঘটা করে এ দিবস পালনের উদ্দেশ্য কী?

সোজা উত্তর শ্রমিকশ্রেণির কল্যাণকামনা; তাদের জীবন-জীবিকা যেন সহজ ও উন্নত হয়। তারা যেন সকল প্রকার বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তি পায়। শ্রমিকরা যেন সুখী সমৃদ্ধ জীবনের অধিকারী হয়।

একটু ভেবে দেখি, সেই ১৮৮৯-৯০ থেকে ১৩৭ বছর ধরে বিশ্বের বহু দেশে পালিত হয়ে আসছে ‘মে দিবস’আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’; কিন্তু শ্রমিকশ্রেণি কি লাভ করেছে তাদের অধিকার?

না; কিছু বিষয়ের আংশিক সমাধান হলেও মৌলিক বিচারে শ্রমিক সেই  আগের অবস্থায়ই রয়ে গেছে। এখনো শ্রমিককে বাধ্য করা হয় কর্মঘণ্টার অতিরিক্ত শ্রম দিতে। এখনো শ্রমিক তার ওভারটাইমের ন্যায্য পারিশ্রমিক থেকে বঞ্চিত। এখনো শ্রমিককে কাজ করতে হয় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অনিরাপদ পরিবেশে। দূর হয়নি মালিককর্তৃক বৈষম্য ও জুলুমের নানা অনুষঙ্গও।

কেন হয়নি?! কারণ, ১৩৭ বছর ধরে তারাই শ্রমিককে অধিকারের বুলি শুনিয়েছে, যারা শ্রমিককে শোষণ করতে চায়। যারা শ্রমিকের শ্রমকে পুঁজি করে হতে চায় পুঁজিপতি। পুঁজিবাদ নামক অর্থব্যবস্থা আর এসব পুঁজিপতিরা শ্রমিককে অধিকার ও মুক্তির নামে ওই পথেই পরিচালিত করেছে; যা নিজেদের স্বার্থের অনুকূল!

শ্রমিক ও মে দিবসের ফেরিওয়ালারা

আজ যারা শ্রমিকের অধিকার ফেরি করে, আমাদেরকে শ্রমিকের অধিকারের তালীম দেয়, শ্রমিকশ্রেণির প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ও মানসিকতা এবং শ্রমিকের সাথে তাদের আচরণের অতীত-বর্তমান সামনে এলেই আমরা বুঝতে পারব কেন ‘আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস’-এর ১৩৭ বছর অতিবাহিত হলেও শ্রমিকের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি।

কারণ যারা এ শ্রমিক দিবসের ফেরি করছে, তারা নিজেরাই নিকৃষ্ট পর্যায়ের আসাবিয়াত ও সাম্প্রদায়িকতা, বর্ণবাদ ও শ্রেণিবৈষম্যের ব্যাধিতে আক্রান্ত। সাদা-কালো, জাত-পাতই তাদের কাছে মূল্যায়ন ও অধিকারের মাপকাঠি। তাদের কাছে সাদার মূল্য এক, একই যোগ্যতার কালোর মূল্য আরেক। বরং তারা মৌলিকভাবে কৃষ্ণাঙ্গদেরকে শ্বেতাঙ্গদের সেবাদাস মনে করে; যোগ্যতা ও শিক্ষায় যে স্তরেরই হোক না কেন!

শ্রমিক হিসেবে রেড ইন্ডিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গদের সাথে শ্বেতাঙ্গ আমেরিকান এবং ইউরোপীয় ঔপনিবেশিকদের আচরণ ছিল অত্যন্ত কঠোর, অমানবিক ও শোষণমূলক। তাদেরকে তারা বাধ্যতামূলকভাবে কৃষি খামার, খনি এবং গৃহস্থালির কাজে ব্যবহার করত। ইচ্ছার বিরুদ্ধে বন্দি করে খনি ও বাগানে কাজ করতে বাধ্য করত। অনেক ক্ষেত্রে তাদের ঋণগ্রস্ত করে ফেলত এবং সেই ঋণ শোধের নামে আজীবন দাসের মতো কাজ করাত।

তাদের ওপর শারীরিক নির্যাতন তো ছিল নিয়মিত বিষয়, পর্যাপ্ত খাবার বা যথাযথ চিকিৎসাও তাদের দেওয়া হত না। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে সাধ্যাতীত কাজ করতে বাধ্য করা হত। এতে  অসংখ্য আদিবাসী শ্রমিক মারাও যেত।

এদের শিশুদেরকে তারা পরিবার থেকে আলাদা করে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করত। আর নারীদের গৃহস্থালি কাজের পাশাপাশি যৌন দাসত্বের শিকার হতে হত!

এ তো গেল অতীত। বর্তমানেও মে দিবসের ফেরিওয়ালারা রেড ইন্ডিয়ান ও কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিকদের সাথে যারপরনাই বৈষম্যের আচরণ করে। এখনো এ দুই গোষ্ঠী শ্বেতাঙ্গদের পক্ষ থেকে পদ্ধতিগত বর্ণবাদ, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং আইনি চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়।

তারা বেতন ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়। অনেক ক্ষেত্রে তাদের কম বেতনের এবং উন্নতির সুযোগ কম এমন কাজে নিয়োজিত করা হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আবাসন সব ক্ষেত্রেই এ দুই গোষ্ঠী পদ্ধতিগত বর্ণবাদের শিকার হয়। ফলে তাদের মাঝে দারিদ্র্যের হার অন্যদের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

এমনকি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রেও তাদের সাথে চূড়ান্ত বৈষম্যের আচরণ করা হয়। তাদেরকে অযথা গ্রেফতার ও হত্যা করা হয়। একারণেই ‘ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার’ (Black Lives Matter)কৃষ্ণাঙ্গদের জীবনও মূল্যবান’ শিরোনামে একটি আন্দোলন চলমান, যা ১৭ বছর বয়সি কৃষ্ণাঙ্গ কিশোর ট্রেভন মার্টিনকে গুলি করে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত জর্জ জিমারম্যান আদালত থেকে খালাস পাওয়াকে কেন্দ্র করে ২০১৩ সালে শুরু হয়। বিগত ২০২০ সালেও মিনিয়াপোলিস শ্বেতাঙ্গ পুলিশ অফিসার ডেরেক শভিনের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ শ্রমিক জর্জ ফ্লয়েডের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বব্যাপী এই শিরোনামে ব্যাপক প্রতিবাদ হয়।

এই হল শ্রমিকশ্রেণির সাথে মে দিবসের ফেরিওয়ালাদের আচরণের সামান্য চিত্র; যা প্রমাণ করে, এই দৃষ্টিভঙ্গি ও এই মানসিকতা নিয়ে তারা কখনোই শ্রমিকের প্রকৃত কল্যাণ সাধন করতে পারবে না।

এসবের বিপরীতে ইসলামই শ্রমিকের অধিকার লাভের একমাত্র পথ। কারণ ইসলাম মানবসমাজকে সকল প্রকার সাম্প্রদায়িকতা, পক্ষপাত, বর্ণবাদ ও শ্রেণিবৈষম্য থেকে মুক্তির শিক্ষা দিয়েছে। এবং ‘তাকওয়া ও আল্লাহর ভয়’-কে মর্যাদা ও মূল্যায়নের মানদণ্ড নির্ধারণ করেছে; যা সব শ্রেণির হক ও অধিকার আদায় এবং বাস্তবায়নের রক্ষাকবচ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ঘোষণা করেছেন

يَا أَيُّهَا النَّاسُ! أَلَا إِنَّ رَبَّكُمْ وَاحِدٌ، وَإِنَّ أَبَاكُمْ وَاحِدٌ، أَلَا لَا فَضْلَ لِعَرَبِيٍّ عَلى عَجَمِيٍّ، وَلَا لِعَجَمِيٍّ عَلى عَرَبِيٍّ، وَلَا أَحْمَرَ عَلى أَسْوَدَ، وَلَا أَسْوَدَ عَلى أَحْمَرَ، إِلَّا بِالتَّقْوَى.

হে লোকসকল! জেনে রেখো, তোমাদের ‘রব’ এক এবং তোমাদের ‘আব’ (পিতা)-ও এক। জেনে রেখো, অনারবের ওপর আরবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই এবং আরবের ওপরও অনারবের কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। কালোর ওপর সাদার এবং সাদার ওপরও কালোর কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র ভিত্তি তাকওয়া। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৪৮৯

যাইহোক, আমরা যদি বাস্তবিক অর্থেই এ অবস্থা থেকে উত্তরণ চাই, শ্রমিককে প্রাপ্য অধিকার দিতে চাই, তার কল্যাণ কামনা করি, তাহলে আমাদেরকে আনুষ্ঠানিকতা সর্বস্ব এসব দিবস পালন থেকে বের হয়ে শ্রমিকের প্রকৃত কল্যাণের পথে হাঁটতে হবে।

হাঁ, ইসলামই সেই পথ; যা শ্রমিকের প্রকৃত কল্যাণ সাধন করে; যা শ্রমিকশ্রেণি ও মানবসমাজের প্রকৃত কল্যাণকামী রাহমাতুল লিল আলামীন মুহাম্মাদ মুস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাতে-কলমে শিখিয়েছেন এবং বাস্তবায়ন করে গেছেন। তাঁর দেখানো পথই শ্রমিকের প্রকৃত কল্যাণের পথ।

ইসলাম শ্রমিককে চাবুকের নিচ থেকে ইনসাফের ছায়ায় আশ্রয় দিয়েছে

ইসলাম-পূর্ব জাহিলিয়াতের যুগে শ্রমিকের মূল শ্রেণিটি ছিল দাস-শ্রেণি। ইসলাম এসে শুরুতেই শ্রমিক বা দাস-শ্রেণির প্রতি সমাজের মানসিকতা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটিয়েছে। ইসলাম-পূর্ব জাহিলিয়াতে শ্রমিক ও দাসের প্রতি মানুষের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল এমন

দাস মানেই বঞ্চনার জীবন। সে মানুষ নয়; পশুর চেয়েও অধম। তার নিজের কোনো ইচ্ছে থাকতে নেই। নিজের কোনো চাহিদা বা চাওয়া-পাওয়া থাকতে নেই। তার ভালো খাবারের কোনো চাহিদা নেই, ভালো পোশাকের কোনো চাহিদা নেই। মালিকের মর্জিতে যা জুটবে, তাতেই সে কৃতার্থ থাকবে। তার কায়িক শ্রমে সাধ্য-অসাধ্যের কিছু নেই। তার ওপর যত ইচ্ছা ভার চাপানো যাবে; তার বলার কিছু নেই। বরং চাপানো বোঝা বহনের শক্তি না থাকাটাই ছিল অন্যায়। যে অন্যায়ের পরিণাম ছিল বিনা বাক্যে চাবুকে পিষ্ট হওয়া। এটাই ছিল মনুষ্য সমাজের স্বীকৃত বাস্তবতা।

এ অবস্থা থেকে ইসলাম তাকে মুক্ত করেছে। চাবুকের নিচ থেকে ইনসাফের ছায়ায় আশ্রয় দিয়েছে। ইসলাম বলেছে সে তোমাদের মতোই মানুষ, তোমাদের ভাই। তাকে সম্মান কর নিজ সন্তানের মতো। তার ইচ্ছা-অনিচ্ছা আছে, চাওয়া-পাওয়া আছে। কায়িক শ্রমে সাধ্য-অসাধ্যের বিষয় আছে। তাকে কেবল আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন ব্যস, এতটুকুই। তার ওপর সাধ্যের অতিরিক্ত বোঝা চাপানোর অধিকার তোমাদের নেই। তোমরা তার ওপর জুলুম করলে তারও আছে বিচার পাওয়ার অধিকার, আছে প্রতিশোধ গ্রহণের হক। তারও আছে ইলম অন্বেষণের অধিকার।

মানুষের বিচারে শ্রমিকের সবচেয়ে নিম্নশ্রেণি ‘ক্রীতদাস’ যখন ইসলামে এই সম্মান ও অবস্থান লাভ করেছে, তাহলে স্বাধীন শ্রমিকের অবস্থান কোথায় তা সহজেই অনুমেয়। সুতরাং ইসলামই শ্রমিকের মুক্তির পথ ও পাথেয়।

মালিক-শ্রমিক সম্পর্ক প্রভু-ভৃত্যের নয়; তারা ভাই ভাই

মনিব ও ক্রীতদাস। তারা এক অর্থে মালিক-শ্রমিক হলেও সমাজ তাদেরকে প্রভু-ভৃত্য হিসেবে দেখে। কিন্তু ইসলাম প্রভু-ভৃত্যের সম্পর্ককে ছাপিয়ে তাদেরকে একে অপরের ভাই সাব্যস্ত করেছে। ভেবে দেখুন, ক্রীতদাসের সাথেই যখন ভাইয়ের মতো আচরণ করতে বলেছে, তাহলে স্বাধীন শ্রমিক ও কাজের মানুষের সাথে আচরণ কেমন হবে? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

إِخْوَانُكُمْ خَوَلُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِهِ، فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ، وَلاَ تُكَلِّفُوهُمْ مَا يَغْلِبُهُمْ، فَإِنْ كَلَّفْتُمُوهُمْ فَأَعِينُوهُمْ.

তোমাদের সেবকেরা তোমাদের ভাই। তাদেরকে আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন। কারও অধীনে কোনো ভাই থাকলে সে যা খায়, তাকেও যেন তা খাওয়ায়, সে যা পরিধান করে তাকেও যেন তা পরায়। তোমরা তাদের ওপর সাধ্যাতীত কাজ চাপিয়ে দিয়ো না। যদি দিতেই হয়, তাহলে তাদেরকে সহযোগিতা কর। সহীহ বুখারী, হাদীস ৩০

শুধু এটুকুই নয়, তাদেরকে যথাযথ সম্মান দিতে বলেছেন; নিজ সন্তানের সঙ্গে মানুষ যেমন আচরণ করে। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

أَكْرِمُوهُمْ كَكَرَامَةِ أَوْلَادِكُمْ، وَأَطْعِمُوهُمْ مِمَّا تَأْكُلُونَ.

তাদেরকে সন্তানের মতো মর্যাদা দাও (আদর-যত্ন কর)। তোমরা যা খাও তাদেরকেও খাওয়াও। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৩৬৯১

মালিক-শ্রমিকের  সম্পর্ক : কিছু নমুনা কিছু বর্ণনা

মালিক-শ্রমিক ইনসাফপূর্ণ সম্পর্কের মূল কথা হল, যখন মালিক-শ্রমিক উভয়ে ওহীর আলোয় আলোকিত হবে, প্রত্যেকে নিজ অধিকার আদায়ের তুলনায় অপরের হক আদায়ে বেশি সচেষ্ট হবে, তখনই বাস্তবায়িত হবে শ্রমিকের অধিকার, সাধিত হবে শ্রমিকের প্রকৃত কল্যাণ। নিম্নে কিছু নমুনা পেশ করা হল, যা থেকে আমরা মালিক-শ্রমিকের সম্পর্কের ক্ষেত্রে ইসলামের সৌন্দর্য দেখতে পাব। মালিক-শ্রমিক সম্পর্কের ওই দৃষ্টান্ত দেখতে পাব, যেখানে শ্রমিক মালিকের দায়িত্ব পালন করছে আল্লাহকে হাযির-নাযির জেনে। মালিক শ্রমিকের সাথে আচরণ করছে আল্লাহর কাছে জবাবদিহিতার মানসিকতা থেকে; জুলুম হয়ে যাওয়ার ভয় ও শঙ্কা নিয়ে।

ওহীর আলোয় আলোকিত মালিক-শ্রমিক

মূসা আ. ফেরাউনের কবল থেকে বাঁচার জন্য যখন মাদইয়ান গেলেন এবং দুই তরুণীর গবাদি পশুকে পানি পান করানোর মাধ্যমে তাদের পিতা পর্যন্ত পৌঁছলেন, তিনি তাঁকে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দিতে চাইলেন। তখন তাঁদের মাঝে যে কথোপকথন হয়েছিল, তা কুরআনে বিবৃত হয়েছে।

তাঁদের নিয়োগ-আলাপনের মাঝে আমাদের জন্য রয়েছে শ্রমিক-মালিক সম্পর্ক বিষয়ে উত্তম আদর্শ। তাদের সে কথোপকথন কুরআনে এসেছে এ ভাষায়

قَالَتْ اِحْدٰىهُمَا یٰۤاَبَتِ اسْتَاْجِرْهُ اِنَّ خَیْرَ مَنِ اسْتَاْجَرْتَ الْقَوِیُّ الْاَمِیْنُ قَالَ اِنِّیْۤ اُرِیْدُ اَنْ اُنْكِحَكَ اِحْدَی ابْنَتَیَّ هٰتَیْنِ عَلٰۤی اَنْ تَاْجُرَنِیْ ثَمٰنِیَ حِجَجٍ فَاِنْ اَتْمَمْتَ عَشْرًا فَمِنْ عِنْدِكَ وَمَاۤ اُرِیْدُ اَنْ اَشُقَّ عَلَیْكَ سَتَجِدُنِیْۤ اِنْ شَآءَ اللهُ مِنَ الصّٰلِحِیْنَ،قَالَ ذٰلِكَ بَیْنِیْ وَبَیْنَكَ اَیَّمَا الْاَجَلَیْنِ قَضَیْتُ فَلَا عُدْوَانَ عَلَیَّ وَاللهُ عَلٰی مَا نَقُوْلُ وَكِیْلٌ.

নারীদ্বয়ের একজন বলল, আব্বাজী! আপনি একে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো কাজ দিন। আপনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কারও থেকে কাজ নিতে চাইলে সেজন্য এমন ব্যক্তিই উত্তম, যে শক্তিশালী হবে এবং আমানতদারও। (আর ইনি তেমন ব্যক্তি)

তার পিতা বলল, আমি আমার এই দুই মেয়ের একজনকে তোমার সাথে বিবাহ দিতে চাই, এই শর্তে যে তুমি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে আট বছর আমার এখানে কাজ করবে আর যদি তুমি দশ বছর পূর্ণ কর, সেটা তোমার নিজ এখতিয়ার। আমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ইনশাআল্লাহ তুমি আমাকে সদাচারীদের একজন পাবে। মূসা বলল, আমার ও আপনার মধ্যে এ বিষয়টা স্থির হয়ে গেল। আমি দুই মেয়াদের যেটিই পূর্ণ করি, তাতে আমার প্রতি কোনো বাড়াবাড়ি চলবে না। আর আমরা যে কথা বলছি, আল্লাহ্ই তার রক্ষাকর্তা (ও সাক্ষী)। সূরা কাসাস (২৮) : ২৬-২৮

এখানে আলোচ্য বিষয়ের অনেক দিক রয়েছে। মৌলিক কয়েকটি দিক হল এক. মালিক কেমন হবে, সে বিষয়ের নির্দেশনা। মালিক নিজে থেকেই বলছেনআমি তোমাকে কষ্ট দিতে চাই না। ইনশাআল্লাহ তুমি আমাকে সদাচারীদের একজন পাবে।’

দুই. শ্রমিকও কত স্পষ্ট ভাষায় চুক্তির বিষয়টি ব্যক্ত করছেআমার ও আপনার মধ্যে এ বিষয়টা স্থির হয়ে গেল। আমি দুই মেয়াদের যেটিই পূর্ণ করি, তাতে আমার প্রতি কোনো বাড়াবাড়ি চলবে না।’

তিন. একথা স্মরণ করছেন যে, আমরা উভয়ে যে বিষয়ে একমত হলাম, তা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে হলামআর আমরা যে কথা বলছি, আল্লাহ্ই তার রক্ষাকর্তা (ও সাক্ষী)।’ সুতরাং আমরা উভয়ে আমাদের অঙ্গীকার যথাযথ পূরণ করব।

মালিক-শ্রমিক যখন ওহীর আলোয় আলোকিত হবে, তাদের মাঝের সম্পর্কও এমন হবে। একে অপরের প্রতি সদয় হবে, হক ও দায়িত্ব আদায়ে সচেতন হবে।

শ্রমিকের মজুরির বিষয়ে মুমিনের আচরণ এমন হবে

আজকাল শ্রমিকের প্রাপ্য অর্থ মালিক বা মালিকপক্ষ আত্মসাৎ করে। বকেয়া রেখে দেয়। দিতে টালবাহানা করে। শ্রমিককে তার প্রাপ্য বেতন-বোনাসের জন্য আন্দোলন করতে হয়, জীবন পর্যন্ত দিতে হয়। অথচ মজুরির বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা হল

أَعْطُوا الْأَجِيرَ أَجْرَه قَبْلَ أَنْ يَجِفَّ عَرَقُه.

ঘাম শুকানোর আগেই শ্রমিকের পারিশ্রমিক মিটিয়ে দাও। সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ২৪৪৩

আগের কোনো এক উম্মতের তিন ব্যক্তির ঘটনা আমরা অনেকেই শুনেছি, যারা পাহাড়ের গুহায় আটকা পড়েছিল এবং নিজ নিজ নেককাজের ওসীলা দিয়ে আল্লাহর কাছে দুআ করেছিল। তাদের একজন এই বলে দুআ করেছিল

‘হে আল্লাহ, আমি কিছু শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছিলাম। তাদের সকলের মজুরি পরিশোধ করেছিলাম; কিন্তু এক ব্যক্তি মজুরি না নিয়ে চলে গিয়েছিল। আমি তার মজুরি ব্যবসায় খাটিয়েছিলাম এবং তা থেকে অঢেল সম্পদ গড়ে উঠেছিল। কিছুদিন পর যখন সে মজুরি নিতে এল, তখন আমি তাকে বললাম, এই যে উট, গরু, মেষ ও গোলাম যা দেখছ, সব তোমার, সব তোমার মজুরি।

এটা শুনে সে বলে, আপনি কি আমার সাথে মশকরা করছেন?

আমি বললাম, আমি তোমার সাথে মশকরা করছি না।

(তারপর তার কাছে সব খুলে বলি।) তখন সে সবকিছু হাঁকিয়ে নিয়ে যায়। একটিও অবশিষ্ট রাখে না।

হে আল্লাহ, আমি যদি এ কাজটি তোমার সন্তুষ্টির জন্য করে থাকি, তাহলে তুমি আমাদের এ বিপদ থেকে উদ্ধার কর।’

তখন গুহামুখের পাথর পুরোটাই সরে যায় এবং তারা প্রাণে বেঁচে যায়। সহীহ বুখারী, হাদীস ২২৭২

যে মানবসমাজ এ আদর্শ গ্রহণ করবে, সে সমাজে কি প্রয়োজন আছে মে দিবসের! প্রয়োজন আছে শ্রমিক আন্দোলনের!!

খাদেম ও কাজের মানুষের সাথে আচরণে নববী আদর্শ

নবীজীর যামানায় খাদেম বা শ্রমিকের বড় অংশ ছিল ক্রীতদাস। ফলে এ সংক্রান্ত অনেক নির্দেশনা ক্রীতদাসের সাথে যুক্ত। তবে কোনো কোনো বর্ণনায় খাদেম বলে স্বাধীন কাজের মানুষ ও ক্রীতদাস উভয়টিই উদ্দেশ্য থাকে।

যাইহোক, শ্রমিকের একটি বড় অংশ যেহেতু সেবক ও কাজের মানুষ; যারা বাসা-বাড়িতে বা আফিস-আদালতে সেবক হিসেবে কাজ করে। তাদের সাথে আমাদের আচরণ কী হবে এ বিষয়ে ইসলামের নির্দেশনা অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। সেখান থেকে আমরা কিঞ্চিৎ আলোকপাত করব।

তাদেরও রয়েছে অন্ন-বস্ত্রের অধিকার

বর্তমান পৃথিবী স্বাধীন মানুষের অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে। অথচ নবীজী ক্রীতদাসদের এ অধিকার বাস্তবায়ন করে গেছেন সাড়ে চৌদ্দ শ বছর আগেই। ইতিপূর্বে আমরা নিচের এ বর্ণনা আলোচনা করেছি, সেখানে নবীজী বলেছেন

إِخْوَانُكُمْ خَوَلُكُمْ، جَعَلَهُمُ اللهُ تَحْتَ أَيْدِيكُمْ، فَمَنْ كَانَ أَخُوهُ تَحْتَ يَدِه، فَلْيُطْعِمْهُ مِمَّا يَأْكُلُ، وَلْيُلْبِسْهُ مِمَّا يَلْبَسُ...

তোমাদের সেবকেরা তোমাদের ভাই। তাদেরকে আল্লাহ তোমাদের অধীন করেছেন। কারও অধীনে কোনো ভাই থাকলে সে যা খায়, তাকেও যেন তা খাওয়ায়, সে যা পরিধান করে তাকেও যেন তা পরায়। সহীহ বুখারী, হাদীস ৩০

সাধ্যের অতিরিক্ত কাজ দেব না; দিলে সহায়তা করব

পূর্বের বর্ণনা থেকে জানতে পারলাম, সেবক বা কাজের মানুষকে সাধ্যের ওপরে কাজ দেব না; দিলে তাকে সহায়তা করব। তার বোঝা কমিয়ে দেব। নবীজী উম্মতকে এর ফযীলতও শুনিয়েছেন

مَا خَفّفْتَ عَنْ خَادِمِكَ مِنْ عَمَلِهِ، فَإِنّ أَجْرَهُ فِي مَوَازِينِكَ.

(নবীজী বলেছেন,) তুমি তোমার খাদেমকে দেওয়া কোনো কাজের বোঝা হালকা করলে এর প্রতিদান তোমার নেকীর পাল্লাতেই যাবে। (তা তোমার নেকীর পাল্লা ভারী করবে) মুসনাদে আবী ইয়ালা, হাদীস ১৪৭২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৪৩১৪; শুআবুল ঈমান, বায়হাকী, হাদীস ৮২২৬

ওর হাতেও এক লোকমা তুলে দাও

অনেক ছোট ছোট বিষয়েও নবীজী শ্রমিক ও খাদেমের হকের প্রতি খেয়াল করেছেন। কত হৃদয়গ্রাহী যুক্তিপূর্ণ ভাষায় নবীজী বিষয়টির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন যখন তোমাদের খাদেম তোমাদের জন্য কোনো খাবার প্রস্তুত করে, তখন তাকেও তোমাদের সাথে বসাও। যদি খাবারের পরিমাণ কম হয়, তাহলে এক-দু লোকমা হলেও তার হাতে দাও। (আরেক হাদীসে এমনও আছে, তারা খেতে না চাইলেও জোর করে কিছু খাওয়াও।)

এরপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যেদিকে দৃষ্টি আকর্ষণ করলেন, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও ভাববার বিষয়। তিনি বললেন

وَقَدْ وَلِيَ حَرّه وَدُخَانَه.

কেননা এ খাবার প্রস্তুত করতে গিয়ে এর ধোঁয়া ও তাপ তো সে সয়েছে। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৬৩

খাদেমকে দিনে সত্তরবার হলেও ক্ষমা কর

সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. বলেন, এক ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট এসে জিজ্ঞেস করেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! আমরা খাদেমকে কতবার ক্ষমা করব? নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম চুপ থাকলেন। লোকটি আবার জিজ্ঞেস করল, আমরা খাদেমকে কতবার ক্ষমা করব। তৃতীয়বার নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন

اعْفُوا عَنْهُ فِي كُلِّ يَوْمٍ سَبْعِينَ مَرَّةً.

দিনে সত্তরবার হলেও ক্ষমা করবে। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৬৪; সুনানে কুবরা, বায়হাকী, হাদীস ১৫৭৯৯

হে মালিক-মহাজন! জুলুম কিন্তু ‘জুলুমাত’!

জুলুমের ব্যাপারে মালিক নিজে সতর্ক হবে এটিই জুলুম থেকে বাঁচার পথ। সেই সতর্কতা আসবে তাকওয়া ও আখেরাতে জবাবদিহিতার অনুভূতি জাগ্রত থাকার মাধ্যমে। সে উদ্দেশ্যে জুলুম বিষয়ে নবীজীর সতর্কবাণী বার বার স্মরণ করা জরুরি। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন

الظُّلْمُ ظُلُمَاتٌ يَوْمَ القِيَامَةِ.

জুলুম কিয়ামতের দিন জুলুমাত ও সমূহ অন্ধকার হয়ে দেখা দেবে। সহীহ বুখারী, হাদীস ২৪৪৭

আবু মাসউদ আনসারী রা. বলেন, আমি একদিন গোলামকে মারছিলাম। পেছনে কাউকে বলতে শুনলাম

اعْلَمْ أَبَا مَسْعُودٍ، لَلّهُ أَقْدَرُ عَلَيْكَ مِنْكَ عَلَيْهِ.

মনে রেখ আবু মাসউদ, আল্লাহর ক্ষমতা তোমার ওপর এর চেয়েও বেশি।

পেছনে ফিরে দেখি, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দাঁড়িয়ে।

বললাম, হে আল্লাহর রাসূল, সে আল্লাহর ওয়াস্তে আযাদ।

নবীজী বললেন, তুমি এমনটি না করলে আগুন তোমাকে পুড়িয়ে দিত কিংবা বলেছেন, স্পর্শ করত। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৫৯

তাদেরকে অন্যায়ভাবে প্রহার কর না, কষ্ট দিয়ো না

বিদায় হজ্বের ভাষণে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন

أَرِقّاءَكُمْ أَرِقّاءَكُمْ أَرِقّاءَكُمْ، أَطْعِمُوهُمْ مِمّا تَأْكُلُونَ، وَاكْسُوهُمْ مِمّا تَلْبَسُونَ، فَإِنْ جَاءُوا بِذَنْبٍ لَا تُرِيدُونَ أَنْ تَغْفِرُوهُ فَبِيعُوا عِبَادَ اللهِ وَلَا تُعَذِّبُوهُمْ.

তোমাদের দাস-দাসীদের ক্ষেত্রে আল্লাহ তাআলাকে ভয় কর (একথা নবীজী তিনবার বলেন,); তোমরা যা খাও তাদেরকেও তা খাওয়াও। যা পরিধান কর তাদেরকেও তা পরাও। যদি তারা এমন কোনো অপরাধ করে, যা তোমরা ক্ষমা করতে চাও না, তাহলে আল্লাহর বান্দাদেরকে বিক্রি করে দাও, তবুও তাদেরকে কষ্ট দিয়ো না। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৪০৯

আমরা মাঝে মাঝেই পত্র-পত্রিকায় কাজের মানুষের ওপর অমানবিক নির্যাতনের খবর দেখি। কাজের মানুষ তো স্বাধীন; একজন কৃতদাসকেও যদি প্রহার করা হয়, তার শাস্তিও ভয়াবহ। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

لَا يَضْرِبُ أَحَدٌ عَبْدًا لَه -وَهُوَ ظَالِمٌ لَهُ- إِلّا أُقِيدَ مِنْهُ يَوْمَ الْقِيَامَةِ.

যদি কেউ তার দাস-দাসীকে অন্যায়ভাবে প্রহার করে, কিয়ামত দিবসে তাকেও এভাবে প্রহার করে তার থেকে কিসাস বা বদলা নেওয়া হবে। আলআদাবুল মুফরাদ, হাদীস ১৮১

এখান থেকে একথা বোঝার অবকাশ নেই যে, শ্রমিক বা কাজের মানুষ অন্যায় করলেও কোনো প্রকার শাসন করা যাবে না। বরং উদ্দেশ্য হল, ক্ষমা করতে না চাইলে প্রয়োজনে তাকে ছাঁটাই বা বিক্রি করে দাও; তবুও প্রহার কর না বা দৈহিক শাস্তি দিয়ো না, কষ্ট দিয়োও না ।

শ্রমিকের প্রতি জুলুম হয়ে গেলে

প্রহার ও নির্যাতন তো দূরের কথা সামান্য থাপ্পড় মারার কারণেই তো নবীজী গোলামকে আযাদ করে দিতে বলেছেন।

মুআবিয়া ইবনে সুওয়াইদ রা. বলেন, ... এক সময় আমাদের সাত ভাইয়ের কেবল একজনই খাদেম ছিল। একদিন আমাদের এক ভাই খাদেমের গালে একটা চড় মারে। বিষয়টি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কানে যায়। তখন তিনি আমাদেরকে গোলামটি আযাদ করে দিতে নির্দেশ  দেন।

আমরা নিবেদন করলাম, আমাদের আর কোনো খাদেম নেই। আমরা খুব কষ্টে পড়ে যাব। অবশেষে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এতটুকুতে রাজি হয়ে বলেন যে, ঠিক আছে, এখন রাখতে পার, তবে পরবর্তীতে আযাদ করে দিতে হবে। সহীহ মুসলিম, হাদীস ১৬৫৮

শ্রমিকের পারিশ্রমিক না দিলে আল্লাহ হবেন প্রতিপক্ষ

আবু হুরায়রা রা. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে হাদীসে কুদসী বর্ণনা করেন, আল্লাহ বলেন

ثَلاَثَةٌ أَنَا خَصْمُهُمْ يَوْمَ القِيَامَةِ: .. وَرَجُلٌ اسْتَأْجَرَ أَجِيرًا فَاسْتَوْفَى مِنْهُ وَلَمْ يُعْطِ أَجْرَه.

কিয়ামতের দিন আমি তিন ব্যক্তির প্রতিপক্ষ হব, ... তিন. ওই ব্যক্তি, যে কোনো শ্রমিক নিয়োগ দিয়েছে। তার থেকে শ্রম আদায় করে নিয়েছে; কিন্তু তার পারিশ্রমিক প্রদান করেনি। সহীহ বুখারী, হাদীস ২২২৭

তাদেরও রয়েছে দ্বীনী জ্ঞান লাভের অধিকার

দারিদ্র্যের কারণে শ্রমিক শ্রেণির প্রাথমিক দ্বীনী জ্ঞান অর্জনের সুযোগ হয় না। আমরা যেন তাদের দ্বীনী জ্ঞান অর্জনেরও ব্যবস্থা করি, সে বিষয়ে নবীজী আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এবং এ বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

শ্রমিকের স্কিল ডেভেলপমেন্ট নিয়ে কত কথা হয়! কত ধরনের ট্রেনিং, কত আয়োজন হয়! কিন্তু একজন শ্রমিকের দ্বীনী জ্ঞান লাভ ও দ্বীনী উন্নতি যে তার হকের সাথে সাথে স্কিল ডেভেলপমেন্টেরও অন্তর্ভুক্ত তা কি আমরা ভেবেছি?

ভেবে দেখুন, প্রতিটি নেক কাজে একটি সওয়াব, কিন্তু দাস-দাসী, কাজের মানুষকে দ্বীনী তালীম দিলে দ্বিগুণ সওয়াব। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

ثَلاَثَةٌ لَهُمْ أَجْرَانِ: .. وَرَجُلٌ كَانَتْ عِنْدَه أَمَةٌ فَأَدّبَهَا فَأَحْسَنَ تَأْدِيبَهَا، وَعَلّمَهَا فَأَحْسَنَ تَعْلِيمَهَا، ثُمّ أَعْتَقَهَا فَتَزَوّجَهَا فَلَه أَجْرَانِ.

তিন ব্যক্তির জন্য ‘দ্বিগুণ প্রতিদান’ রয়েছে,... ওই ব্যক্তি, যার অধীনে কোনো দাসী আছে আর সে তাকে ইসলামী শিষ্টাচার শিক্ষা দিয়েছে এবং খুব সুন্দরভাবে দ্বীন শিক্ষা দিয়েছে। অতঃপর তাকে স্বাধীন করে দিয়েছে এবং তাকে বিবাহ করেছে। এ ব্যক্তি দ্বিগুণ সওয়াবের অধিকারী হবে। সহীহ বুখারী, হাদীস ৯৭

সুতরাং আমরা আমাদের অধীন শ্রমিকদের দ্বীনী তালীমের বিষয়ে যত্নবান হব। তাদের জন্য দ্বীনী তালীমের ব্যবস্থা ও সুযোগ করে দেব।

নারী শ্রমিকদের কথা ভাবুন

ঘরের বাইরে শ্রম দিয়ে উপার্জন করা তো নারীর কাজ নয়। অভাবগ্রস্ত ও প্রয়োজনগ্রস্ত নারীর দায়িত্ব পর্যায়ক্রমে রাষ্ট্রের ওপর এসে বর্তায়। এটা নারীর অধিকার। কিন্তু আমরা সে দায়িত্ব তো পালন করছিই না; এমনকি প্রয়োজনগ্রস্ত নারীর জন্য উপার্জনের নারীবান্ধব নিরাপদ পরিবেশ নিয়েও ভাবছি না; বরং নারীর নিরাপত্তার চেয়ে নারী শ্রমিকদের মাধ্যমে অর্জিত রেমিট্যান্স নিয়ে বেশি ব্যস্ত!

সামান্য অর্থ উপার্জন করতে গিয়ে নারী কত কী হারাল তা নিয়ে আমাদের ভাবনা নেই। বরং নারীকে আরও অনিরাপদ পথে ঠেলে দিচ্ছি।

গার্মেন্ট গুলোতে লক্ষ লক্ষ নারী শ্রমিক কর্মরত। কিন্তু তাদের পর্দা-পুশিদা ও ইজ্জত-আব্রু হেফাযতের ন্যূনতম ব্যবস্থাটুকুও কি আছে?

তেমনি নারী শ্রমিকের বড় অংশ বাসা-বাড়িতে কাজ করে। তাদের ওপর বাড়ির কর্তা, গিন্নী ও অন্যান্য সদস্যের নির্যাতনের যে ভয়াবহ সংবাদ পত্রিকার পাতায় মাঝে মাঝে প্রকাশিত হয়, তা শুনে আমাদের গা শিউরে ওঠে। আমরা একটু ব্যথিত হই, ব্যস এতটুকুই। কিন্তু কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিই না।

গার্মেন্ট কর্মী হোক বা বাড়ির কাজের মানুষ, তারা নিজেরাও কখনো কখনো বিপথগামী হয় দ্বীনী বুঝ ও সচেতনতা না থাকার কারণে।

সুতরাং তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থার সাথে সাথে তাদের মাঝে দ্বীনী সচেতনতা তৈরির মেহনতও জরুরি।

মালিকের অধিকার বিষয়ে শ্রমিকের প্রতি নির্দেশনা

ক. শ্রমিককে হতে হবে মালিকের কল্যাণকামী, দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান

ইসলাম যেমন কেবল শ্রমিকের অধিকারের কথা বলে তেমনি মালিকের অধিকার নিয়েও কথা বলে। শ্রমিককে মালিকের অধিকারের বিষয়ে সচেতন করে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় বিষয় হল, শ্রমিককে অবশ্যই মালিকের কল্যাণকামী হতে হবে। ইসলাম শ্রমিককে এ বিষয়ে উৎসাহিত করে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন

إنَّ العبْدَ إذا نَصَحَ لِسيِّده، وأحْسنَ عِبادَةَ اللهِ، فله أجره مرَّتينِ.

গোলাম যখন মনিবের কল্যাণ কামনা করে এবং আল্লাহর ইবাদত সুন্দরভাবে করে, তার জন্য রয়েছে দ্বিগুণ প্রতিদান। সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৫১৬৯

খ. শ্রমিককে হতে হবে আমানতদার ও কর্মঠ

মালিকের কল্যাণকামনা তখনই সম্ভব, যখন শ্রমিক আমানতদার ও কর্মঠ হবে। কারণ কেউ আমানতদার হল ঠিকই, কিন্তু অলসতার শিকার হল, তাহলে সে আমানতের খেয়ানত করবে। কাজে ফাঁকি দেবে। যথাযথ বা যথাসময়ে কাজ আঞ্জাম দিতে পারবে না; যা কল্যাণকামনা ও আমানতদারির খেলাফ। তেমনি কোনো শ্রমিক কর্মঠ, কিন্তু তার মাঝে আমানতদারি নেই, সে-ও মালিকের কল্যাণকামী হতে পারবে না। এজন্য কল্যাণকামিতার জন্য অবশ্যই শ্রমিককে আমানতদার ও কর্মঠ হতে হবে।

আমরা ইতিপূর্বে সূরা কাসাসে বর্ণিত মূসা আ.-এর কাহিনী পড়েছি। সেখানে মূসা আ.-কে শ্রমিক হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার জন্য যে গুণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা হল কর্মঠ-শক্তিশালী ও আমানতদার হওয়া। সেখানে কন্যা তার পিতার উদ্দেশে বলেছেন

(তরজমা) আব্বাজী! আপনি একে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কোনো কাজ দিন। আপনি পারিশ্রমিকের বিনিময়ে কারও থেকে কাজ নিতে চাইলে সেজন্য এমন ব্যক্তিই উত্তম, যে শক্তিশালী হবে এবং আমানতদারও (আর এ তেমন ব্যক্তি)। সূরা কাসাস (২৮) : ২৬

গ. শ্রমিক কাজে ফাঁকি দেবে না

মালিক যেমন শ্রমিককে ঠকাবে না; শ্রমিকও কাজে ফাঁকি দেবে না। মালিকের কল্যাণকামিতা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ সম্পাদন করবে। চুক্তিকৃত সময় যথাযথ পূর্ণ করবে এবং সময়ের সদ্ব্যবহার করবে। কারণ শ্রমিক যেমন নিজের মজুরি পূর্ণ বুঝে নেবে, তারও দায়িত্ব মালিকের কাজ পূর্ণরূপে বুঝিয়ে দেওয়া।

সূরা মুতাফফিফীনে ওজনে কমবেশি করার বিষয়ে কঠিন হুঁশিয়ারি এসেছে নিজেরটা মেপে নেওয়ার সময় পূর্ণ মাত্রায় মেপে নেবে; কিন্তু অন্যকে দেওয়ার সময় মাপে কম দেবে এহেন কর্মকে ধ্বংসের কারণ বলা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে

وَیْلٌ لِّلْمُطَفِّفِیْنَ، الَّذِیْنَ اِذَا اكْتَالُوْا عَلَی النَّاسِ یَسْتَوْفُوْنَ، وَ اِذَا كَالُوْهُمْ اَوْ وَّ زَنُوْهُمْ یُخْسِرُوْنَ، اَلَا یَظُنُّ اُولٰٓىِٕكَ اَنَّهُمْ مَّبْعُوْثُوْنَ، لِیَوْمٍ عَظِیْمٍ.

বহু দুর্ভোগ আছে তাদের, যারা মাপে কম দেয়। যারা মানুষের নিকট থেকে যখন মেপে নেয়, পূর্ণমাত্রায় নেয় আর যখন অন্যকে মেপে বা ওজন করে দেয় তখন কমিয়ে দেয়। তারা কি চিন্তা করে না, তাদেরকে এক মহা দিবসে জীবিত করে ওঠানো হবে? সূরা মুতাফফিফীন (৮৩) : ১-৫

ওজনে কম দেওয়ার এ বিষয়টিকে আরবীতে ‘তাতফীফ’ বলে। এর অর্থ, কম করা বা ত্রুটি করা।

মুফতী শফী রাহ. তাফসীরে মাআরেফুল কুরআনে আলোচ্য আয়াতের তাফসীরে বলেন

“...অনুরূপভাবে বান্দার হকের ক্ষেত্রেও যে ব্যক্তি নির্ধারিত হক আদায়ে কমতি ও ত্রুটি করবে, তা-ও ‘তাতফীফ’-এর হুকুমে। শ্রমিক বা চাকরিজীবী যতটুকু সময় কাজ করার বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ, তা থেকে কম সময় কাজ করা বা কাজ চুরি করাও ‘তাতফীফ’-এর অন্তর্ভুক্ত। অনুরূপভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যেভাবে শ্রম দেওয়া সমাজে স্বীকৃত, তাতে ত্রুটি করাও ‘তাতফীফ’-এর অন্তর্ভুক্ত। তাফসীরে মাআরেফুল কুরআন (উর্দূ) ৮/৬৯৪

অধিকার ও দায়িত্ব পাশাপাশি

মে মাস এলেই পত্র-পত্রিকায় শ্রমিকের অধিকার নিয়ে লেখালেখি শুরু হয়। বিভিন্ন সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, টিভি-টকশোতে শ্রমিকের অধিকার নিয়ে আলোচনা-পর্যালোচনা হয়। শ্রমিকের আধিকারকেন্দ্রিক গড়ে ওঠা সংগঠনগুলো সক্রিয় হয়, রাজপথে শ্রমিকের অধিকার নিয়ে নানা স্লোগান দেয়, কর্মসূচি ঘোষণা করে। দৈনিক পত্রিকাগুলোতে সরকার প্রধানের বাণী ছাপা হয়। বিভিন্ন কোম্পানি তাদের বিজ্ঞাপনে শ্রমিকের অধিকার কেন্দ্রিক নানা চটকদার স্লোগান প্রচার করে।  মোটকথা, চারিদিকে অধিকার অধিকার রব পড়ে যায়। কিন্তু অধিকারের পাশাপাশি দায়িত্ব ও জিম্মাদারী আদায়ের বিষয়ে কথা বলে খুব কম লোকই।

ইসলাম দায়িত্ব ও অধিকার উভয়টির বিষয়ে হেদায়েত দিয়েছে; বরং অধিকার তলব করার তুলনায় দায়িত্ব আদায়ের প্রতি বেশি জোর দিয়েছে। ইসলামে শুধু অধিকার হয় না; কোনো অধিকারই দায় ও দায়িত্বমুক্ত নয়। অধিকার ও দায়িত্বকে পাশাপাশি রাখে ইসলাম। কারণ প্রত্যেকে নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথ আদায় করলে স্বাভাবিকভাবেই অপর পক্ষের হক ও অধিকার আদায় হয়ে যায়।

মালিক-শ্রমিকও তেমন। শ্রমিকেরও অধিকার ও জিম্মাদারী আছে, মালিকেরও অধিকার ও জিম্মাদারী আছে। আমাদের সমাজের বড় সমস্যা হল, এখানে শুধু অধিকারের কথা বলা হয়। ফলে না অধিকার আদায় হয়, না দায়িত্ব আদায় হয়। এখন অধিকারের সাথে যদি প্রত্যেকের দায়িত্ব-সচেতনতা তৈরি করা যায়, তাহলে অধিকার নিয়ে কোনো কথা বলার প্রয়োজন হয় না; আধিকার আদায়ে আন্দোলন করতে হয় না।

খুব কম এমন জালেম মালিক পাওয়া যাবে, যার শ্রমিক কাজ ভালো করা এবং দায়িত্ব যথাযথ পালন করার পরও তাদের ওপর জুলুম করে, পারিশ্রমিক যথাযথ আদায় করে না। সাধারণত সমস্যাটা তখনই তৈরি হয়, যখন একে আপরের বিষয়টা খেয়াল রাখে না। মালিক শ্রমিকের খেয়াল রাখে না, শ্রমিক মালিকের খেয়াল রাখে না।

সুতরাং আমরা যত বেশি দায়িত্ব-সচেতন হব, তত বেশি অধিকারপ্রাপ্ত হব।

তবে মালিকপক্ষ যেহেতু সম্পদশালী ও নিয়োগদাতা, তাই তার দায়-দায়িত্ব বেশি। দায়িত্ব ও অধিকার আদায়ে তাকেই এগিয়ে আসতে হবে। তাকেই আগে দায়িত্ব-সচেতন এবং শ্রমিকের হক ও অধিকার বিষয়ে সচেতন হতে হবে। আর শ্রমিককেও নিজ অধিকার বিষয়ে সোচ্চার হওয়ার তুলনায় দায়িত্ব পালনে বেশি সচেতন হতে হবে। নিজের ওপর অর্পিত দায়িত্ব আদায়ে কল্যাণকামিতা, নিষ্ঠা ও আমানতদারির পরিচয় দিতে হবে। তাহলেই অর্জিত হবে মালিক-শ্রমিকের অধিকার এবং প্রতিষ্ঠিত হবে একটি সুন্দর সমাজ। ·

 

টীকা

 (১) দৃষ্টি আকর্ষণ : প্রিয় পাঠক! নিবন্ধটি পাঠের সময় একটি বিষয় সামনে থাকলে ভালো। বিষয়টি হল ইসলামের শুরুর যুগে শ্রমিকের প্রধান শ্রেণি ছিল ক্রীতদাস। এর সাথে সাথে স্বাধীন শ্রমিকশ্রেণিও ছিল। কিন্তু যেহেতু ক্রীতদাস বেশি ছিল, ফলে শ্রমিক সম্পর্কিত নববী নির্দেশনার অনেক বিষয়ই ক্রীতদাস কেন্দ্রিক এসেছে। এর অর্থ এটি নয় যে, সে বিষয়টি সাধারণ শ্রমিকশ্রেণির ক্ষেত্রে প্রজোয্য নয়, বরং কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া (যেমন আযাদ করে দেওয়া) ক্রীতদাস কেন্দ্রিক বর্ণিত নববী সকল নির্দেশনাই সাধারণ শ্রমিকশ্রেণির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

হাদীসে বর্ণিত খাদেম শব্দের ব্যাপারেও একই কথা। খাদেমও শ্রমিকের একটি শ্রেণি। খাদেম শব্দ যেমনিভাবে স্বাধীন ব্যক্তির ক্ষেত্রে এসেছে, তেমনি ক্রীতদাসের ক্ষেত্রেও এসেছে। কিন্তু খাদেম সংক্রান্ত নির্দেশনা স্বাধীন ও ক্রীতদাস উভয়শ্রেণির জন্য প্রযোজ্য।

মনে রাখবেন, একপ্রকার খাদেমের সকল বিধান অন্য প্রকারের খাদেমের ব্যাপারে সমানভাবে প্রযোজ্য তা বলা হয়নি। উদ্দেশ্য হল, খাদেমদের ব্যাপারে কুরআন-সুন্নাহ এবং হাদীস ও সীরাতে যে নির্দেশনা এসেছে, তা থেকে আমাদের শিক্ষাগ্রহণ করা জরুরি।

 

 

advertisement