যিলকদ ১৪৪৭   ||   মে ২০২৬

আমার প্রথম আমেরিকা সফর
‖ কিছু অভিব্যক্তি

হযরত প্রফেসর মুহাম্মাদ হামীদুর রহমান রাহ.

[৫ জুন ২০১২। জামি‘আ রাহমানিয়া মাদরাসায় (টিনশেড) ছাত্র ও শিক্ষকদের উদ্দেশে প্রফেসর হযরত রাহ.-এর প্রথম আমেরিকা সফরের (২৫ এপ্রিল থেকে ২৭ মে ২০১২) অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। বর্ণনাটি রেকর্ড থেকে সংকলন করেছেন : মুহাম্মাদ আদম আলী]

نَحْمَدُه وَنَسْتَعِيْنُه، وَنَسْتَغْفِرُه، وَنُؤْمِنُ بِه وَنَتَوَكَّلُ عَلَيْهِ، وَنَعُوْذُ بِاللهِ مِنْ شُرُوْرِ أَنْفُسِنَا وَمِنْ سَيِّئَاتِ أَعْمَالِنَا، مَنْ يَّهْدِهِ اللهُ فَلاَ مُضِلَّ لَه، وَمَنْ يُّضْلِلْ فَلَا هَادِيَ لَه، وَأَشْهَدُ أَنْ لَّا إِلٰهَ إِلَّا اللهُ وَحْدَه لاَ شَرِيْكَ لَه، وَأَشْهَدُ أَنَّ مُحَمَّدًا عَبْدُه وَرَسُوْلُه، أَمَّا بَعْدُ،

فَأَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشَّيْطَانِ الرَّجِيْمِ، بِسْمِ اللهِ الرَّحْمٰنِ الرَّحِيْمِ،

 یُرِیْدُوْنَ لِیُطْفِـُٔوْا نُوْرَ اللهِ بِاَفْوَاهِهِمْ وَ اللهُ مُتِمُّ نُوْرِهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْكٰفِرُوْنَ، هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰی وَ دِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَی الدِّیْنِ كُلِّهٖ وَ لَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ.

صَدَقَ اللهَ العَظِيْمُ

اَللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰى سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ وَعَلٰى اٰلِ سَيِّدِنَا وَمَوْلَانَا مُحَمَّدٍ وَّبَارِكْ وَسَلِّمْ.

জামি‘আ রাহমানিয়া মাদরাসা আমার প্রিয় জায়গা। মুফতী মনসূরুল হক ছাহেব এবং মুহতামিম মাওলানা হিফজুর রহমান ছাহেব আমার অতি প্রিয় শ্রদ্ধেয় দুই ব্যক্তিত্ব। তারা বয়সে আমার কম হলেও আমি তাদের দুজনকে আমার বড় মুরব্বীদের মধ্যে মনে করি। দ্বীনী তালীমের সব জায়গা-ই প্রিয়। এর মধ্যে এটি বেশি কাছের, বেশি আপন। মুফতী সাহেবের হুকুমে আমি আপনাদের সামনে হাজির হয়েছি। তিনি হুকুম করেছেন—আমেরিকা সফর করে এসেছেন; আমেরিকার কিছু কাহিনী শোনাতে হবে।

আমি বোর্ডে একটা নকশা এঁকেছি। এটি ভূগোল অনুযায়ী সঠিক হয়নি। তবে মোটামুটি একটা ধারণা পাওয়া যাবে। আমাদের প্রিয় জায়গা আরবে। এই যে এখানে জেদ্দা। এখানে মক্কা, আরেকটু উত্তরে মদীনা। এরপর পশ্চিমে আফ্রিকা মহাদেশ। এই এলাকাটাকে হাবাশা—আবিসিনিয়া বলে, যেখানে মুসলিমরা প্রথম হিজরত করেছিলেন। আফ্রিকা মহাদেশের পরে এই জায়গাটা পুরো মহাসাগর। আটলান্টিক মহাসাগর। এরপর এই আমেরিকা। যুক্তরাষ্ট্র। এর উত্তরে কানাডা। এটা মেক্সিকো। এটা দক্ষিণ আমেরিকা। এদিকে প্রশান্ত মহাসাগর। বিরাট মহাসাগর। প্রশান্ত মহাসাগরের এইদিকে জাপান। পৃথিবীটা যেহেতু গোল। পাকিস্তান এদিকে, বাংলাদেশ এদিকে হবে। তার পরে বার্মা। তার পাশে চীন। এরপর আবার প্রশান্ত মহাসাগর। ওই প্রশান্ত মহাসাগর আর এই সাগর একই। ঘুরে এসেছে কমলালেবুর মতো।

আমেরিকার বসতি শুরু হয়েছে বহু পরে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইন্তেকাল হয়েছে ৬৩২ খ্রিস্টাব্দে। এর কয়েক শ বছর পরে ১৪৯২ সালের ঘটনা। (আমার নকশায়) এই যে স্পেন; জাবাল আত-তারিক। পর্তুগাল এখানে। পর্তুগালের বিখ্যাত নাবিক, কী নাম? কলম্বাস। বলা হয়, কলম্বাস জাহাজ চালিয়ে আমেরিকা আবিষ্কার করে। তার ধারণা ছিল পৃথিবী গোল। ইউরোপ থেকে পশ্চিমে সাগর পারি দিলে ভারতে পৌঁছে যাবে। এই সাগরটা তো বিরাট। প্রায় দুই হাজার মাইল। সুবহানাল্লাহ। সে এসে এখানে কতগুলো দ্বীপপুঞ্জে ঠেকল। তার ধারণা, ভারতে পৌঁছে গেছে। এজন্য দ্বীপপুঞ্জের নাম এখনো ভূগোলে ভুলই রয়ে গেছে—ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মানে ভারতের পশ্চিমের দ্বীপপুঞ্জ। এর মানে তখনো এখানে স্বাভাবিক বসতি হয়নি। ১৪৯২ সালে আবিষ্কারের পর ১৫০০ সালে মানুষের বসতি শুরু হয়েছে। আগে যারা আদিম অধিবাসী ছিল, রেড ইন্ডিয়ান, তাদের মেরে-ধরে ইউরোপের ‘সাদা’রা এদেশ দখল করেছে। কাজেই এই বসতি একদম নতুন। এখন দুনিয়ার মধ্যে সেরা দেশ। টাকা-পয়সা, ধন-দৌলতে সেরা।

আমাদের সফর শুরু হয়েছে ঢাকা থেকে। আমরা প্রথমে দুবাইয়ে থেমেছি। দুবাই থেকে নিউইয়র্ক—একটানা ফ্লাইট। এগারো হাজার মাইল। প্রথমে আমরা গিয়েছি নিউইয়র্কে। সেখানে সাত দিন ছিলাম। সেখান থেকে গিয়েছি উত্তর মাথায়, বাফেলো। দুই নম্বর শহর। বাফেলোর পাশে নায়াগ্রা জলপ্রপাত। তারপর গিয়েছি তিন নম্বর শহর ডেট্রয়েটে। বিখ্যাত শহর। ডেট্রয়েট থেকে আমেরিকার পেটের ওপর দিয়ে সোজা গিয়েছি আটলান্টা। চার নম্বর শহর। আটলান্টা থেকে গিয়েছি পাঁচ নম্বর শহর ফ্লোরিডায়। ফ্লোরিডা থেকে আবার ৫ ঘণ্টা প্লেন জার্নি করে গিয়েছি ছয় নম্বর শহর লস এঞ্জেলসে। কত বড় দেশ চিন্তা করেন! তিন ঘণ্টা সময়ের ব্যবধান। সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের যে টাইম ডিফারেন্স, সেরকম। লস এঞ্জেলস থেকে গাড়ি চালিয়ে সাত নম্বর শহর সান ফ্রান্সিসকো। সান ফ্রান্সিসকো থেকে আবার প্লেনে এসেছি আট নম্বর শহর ডালাসে। টেক্সাস। আমেরিকার বড় বড় শহরগুলোর মধ্যে অনেকগুলো শহর ঘোরা হয়েছে। এক মাসে অবিশ্বাস্য সফর!

আদম আলী কই? এদিকে আসো। এখানে দাঁড়াও। তার নাম মুহাম্মাদ আদম আলী। তিনজনের নাম একজনের নামে। তিনি বাংলাদেশ নেভির কমান্ডার। কমান্ডার হল আর্মির লেফটেন্যন্ট কর্ণেল। গত বছর রিটায়ার করেছে। তার স্বপ্ন আমাকে আমেরিকায় নিয়ে যাবে। আমার আমেরিকায় যাওয়াকে আমি বলব, আল্লাহ তাআলা তার স্বপ্নকে সার্থক করেছেন। কবুল করার মালিক আল্লাহ তাআলা। তার এক ভাই ডালাসে থাকে। তার ভাইয়ের নাম মুহাম্মাদ মুনির হোসেন। এই দুই আল্লাহর বান্দা এই প্রোগ্রাম তৈরি করেছে।

যারা আমেরিকায় গিয়েছেন, তারা বলে, এত অল্প সময়ে আপনি এতগুলো শহরে কীভাবে গেলেন? অবিশ্বাস্য! আবার বলি, এক নম্বরে নিউইয়র্কে গেছি। সেখানে সাত দিন ছিলাম। সেখান থেকে উত্তরে গাড়ি চালিয়ে বাফেলো গিয়েছি। গাড়ি চালিয়েছে কে? সে আদম আলীর বন্ধু। আমেরিকার সিটিজেন। আটলান্টার মানুষ। এখন বাংলাদেশে দ্বীনের খাতিরে চলে এসেছে। আমি আমেরিকা যাব শুনে নিজের টাকায় সে-ও আমেরিকা গিয়েছে। সে যেহেতু আমেরিকার সিটিজেন, তার গাড়ি চালানোর পারমিট আছে। যেখানে গাড়ির প্রয়োজন হয়েছে—দুই শ মাইল, তিন শ মাইল, পাঁচ শ মাইল—সেখানে সে গাড়ি চালিয়েছে। আমাদের সঙ্গে গাড়ির ড্রাইভার ছিল। কিন্তু গাড়ি ছিল না। তবে গাড়ির এমন ব্যবস্থাপনা যে, নিউইয়র্ক থেকে গাড়ি ভাড়া নিয়ে বাফেলো গিয়ে ছেড়ে দিয়েছি। চার শ মাইল পরে। ব্যাপারটা এমন যে, গাড়ি ভাড়া নিয়েছি ঢাকায়। আর সেটা ছেড়েছি করাচিতে। একই কোম্পানির অফিস; ঢাকাতে আছে, করাচিতেও আছে। কোম্পানি থেকে ড্রাইভার দেয় না; শুধু গাড়ি ভাড়া দেয়। ড্রাইভার তো সে নিজে। তার নাম নেওয়াজ আমীন। আজ সে আসেনি। আমার তৃতীয় সাথি। একজন কমান্ডার আদম আলী। তিনি নামেও কমান্ডার, কাজেও কমান্ডার। নেভির কমান্ডার। আমাদের টিমেরও কমান্ডার। আর তৃতীয়জন নেওয়াজ আমীন।

শহরগুলোর নাম শুনলেই যে কেউ বলবে, আমরা এক মাসে যতগুলো শহর অতিক্রম করেছি—এটা অবিশ্বাস্য! প্রথমে নিউইয়র্কে ছিলাম। এখানে কমোডর কামাল সাহেবের ছেলে আহমাদুল্লাহ, আব্দুল্লাহ, ওয়ালিউল্লাহ ও মোহাম্মাদুল্লাহ—চার ভাই-ই ছিল। সেখানে এই রাহমানিয়া মাদরাসারও অনেক ছাত্র পেয়েছি।

নিউইয়র্ক শহর থেকে গাড়ি চালিয়ে আমরা গিয়েছি বাফেলোতে। তার পাশে নায়াগ্রা জলপ্রপাত। আল্লাহর কুদরতের অপূর্ব নিদর্শন। সেখান থেকে ডেট্রয়েট। ডেট্রয়েট থেকে পুরো আমেরিকার পেটের ওপর দিয়ে ফ্লাই করে এসেছি আটলান্টা। উত্তর মাথা থেকে দক্ষিণ মাথা। আটলান্টায় কিছু দ্বীনী মাহফিল করে গিয়েছি ফ্লোরিডায়। এটা আবার গিয়েছি প্লেনে। ফ্লোরিডা থেকে সোজা পাঁচ ঘণ্টা প্লেনে লস এঞ্জেলস। প্লেনে পাঁচ ঘণ্টা মানে কত মাইল হবে? প্রায় তিন হাজার মাইল। লস এঞ্জেলস থেকে গাড়ি চালিয়ে গিয়েছি সান ফ্রান্সিসকো। ফ্লোরিডা হল আটলান্টিক মহাসাগরের পাড়ে। আর সান ফ্রান্সিসকো হল প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়। আমেরিকার দুটি বড় শহর প্রশান্ত মহাসাগরের পাড়ে। একটা লস এঞ্জেলস, আরেকটা সান ফ্রান্সিসকো। দুটোই ক্যালিফোর্নিয়া স্টেটের অন্তুর্ভুক্ত। সাত নম্বরে সান ফ্রান্সিসকো থেকে আবার শেষ দফায় এসেছি ডালাসে। ডালাসে আদম আলীর ভাই থাকে। সেখানে দশ দিন থেকেছি। মানে উত্তর মাথা, দক্ষিণ মাথা, পূর্ব প্রান্ত, পশ্চিম প্রান্ত—কেবল মাঝখানের স্টেটগুলোতে যাওয়া হয়নি। (কেউ একজন জিজ্ঞেস করলেন, লাস ভেগাস গিয়েছিলেন? হযরত বললেন,) লাস ভেগাস যাইনি। সান্টিয়াগো গিয়েছি। সেটা লাস ভেগাসের পাশেই।

এটা হল ভৌগলিক কথা। কত জায়গায় আল্লাহ নিয়েছেন, অল্প সময়ের মধ্যে। অকল্পনীয়! এবার আমি শুরুতে যে কারণে দুটি আয়াত পড়েছিলাম, সে প্রসঙ্গে কিছু বলি

یُرِیْدُوْنَ لِیُطْفِـُٔوْا نُوْرَ اللهِ بِاَفْوَاهِهِمْ وَاللهُ مُتِمُّ نُوْرِهٖ وَلَوْ كَرِهَ الْكٰفِرُوْنَ، هُوَ الَّذِیْۤ اَرْسَلَ رَسُوْلَهٗ بِالْهُدٰی وَدِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْهِرَهٗ عَلَی الدِّیْنِ كُلِّهٖ وَلَوْ كَرِهَ الْمُشْرِكُوْنَ.

তারা আল্লাহর নূর ফুৎকারে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূর পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে হেদায়েত ও সত্যদ্বীন দিয়ে প্রেরণ করেছেন, যাতে তিনি সকল দ্বীনের ওপর তা বিজয়ী করে দেন। যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে। সূরা সফ (৬১) : ৮-৯

আমেরিকা বিরাট দেশ। তারা বলে, ব্যক্তি স্বাধীনতার দেশ। যে যা করতে চায়, সেটা করার স্বাধীনতা আছে। আমরা এতগুলো শহরে গেলাম, পূর্ব প্রান্ত, পশ্চিম প্রান্ত, উত্তর-দক্ষিণ প্রান্ত—কোনোখানে মসজিদের বাইরে আযান দিতে দেয় না। এতে নাকি পরিবেশ দূষণ হয়। শব্দদূষণ। ফজর নামাযে এত জোরে আযান দিলে অন্যের কষ্ট হবে। আমরা বলাবলি করতাম যে, আযানই দিতে দেয় না; শব্দদূষণ হয়। তারা যে পরিবেশ দূষণ করে, মেয়েরা জঘন্য সব পোশাক পরে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করে, সেটা দূষণ হয় না! এই বুদ্ধি তাদের মাথায় কে দেবে?

যাহোক, অকল্পনীয় ইস্তেকবাল পেয়েছি আমরা। আলহামদু লিল্লাহ। মুসলিমদের মধ্যে দ্বীনের আগ্রহ অকল্পনীয়। নিউইয়র্কে আমরা প্রতিদিনই একটি করে মাহফিল করতাম। কোনো কোনো দিন দুটি। প্রত্যেক দিন বাদ মাগরিব। এশার পরও মাহফিল হয়েছে। কোনোদিন আসরের পরেও হয়েছে। বাঙালিরা খুব জুড়ত। তাদের মধ্যে খুব আগ্রহ। আমার ছাত্র পেয়েছি সব জায়গাতেই। আমি যেহেতু বুয়েটে পড়িয়েছি, আবার ইলেকট্রিক্যাল ডিপার্টমেন্টে ছিলাম, এ ডিপার্টমেন্টের ছেলেরা আমেরিকায় গিয়েছে বেশি। প্রত্যেক জায়গায় অনেক ছাত্র পেয়েছি। যারা ছাত্রজীবনে দ্বীনের কাছাকাছি মেলামেশা করত না, ওখানে গিয়ে দেখি সবার মধ্যেই দ্বীনের মহব্বত অনেক। দাড়ি রেখেছে। কয়েকজন বলল, ‘স্যার, কুরআন মাজীদ এখানে এসে শিখেছি।’ তাদের পড়া শুনে আমি আমার বুঝমতো নম্বর দিলাম। নব্বইয়ের ওপরে তিনজনকে পেলাম।

ডালাসে একটা ঘটনা ঘটল। সেখানে দশ দিন ছিলাম। একজন বাঙালি। তার নাম কামাল চৌধুরী। দ্বীনের খুব খেয়াল ছিল। তার ভাই-ব্রাদার, আত্মীয়-স্বজন থাকে ডালাস শহরের এক প্রান্তে। সেখান থেকে সরে এসে মসজিদের কাছে বাড়ি কিনেছেন। সব ঠিকঠাক চলছিল। এসময় তিনি একদিন মেইন রাস্তায় গাড়ি চালাচ্ছেন। মেইন রাস্তা মানে হাইওয়ে। খুব স্পিডে গাড়ি চলে। হঠাৎ তার গাড়িটা নষ্ট হয়ে গেল। সেটাকে এখন টেনে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য গাড়ি টানার গাড়িকে খবর দেওয়া হয়েছে। সেই গাড়িও এসেছে। ওই মুহূর্তে তিনি নিজের একটা জিনিস গাড়ি থেকে বের করতে গেলেন। গাড়ির দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে পাশ দিয়ে যাওয়া আরেকটা হাই স্পিডের গাড়ি তাকে চাপা দিয়ে মেরে ফেলে। হাইওয়েতে গাড়িগুলো সাধারণত সত্তর-আশি মাইল স্পিডে চলে। আমেরিকায় কিলোমিটার ব্যবহার করে না। তারা তো ‘বাদশাহ’। ইঞ্চি-ফুট-মাইল ব্যবহার করে। সারা ইউরোপ কিলোমিটার ব্যবহার করে। আমরা বাংলাদেশেও কিলোমিটার ব্যবহার করি। সৌদি আরবে কিলোমিটার। সারা দুনিয়ায় কিলোমিটার। কিন্তু আমেরিকায় মাইল ব্যবহার করে। বাহাদুরি আরকি! আমরা হলাম রাজা। আমরা যা রাখি তা-ই সই। এজন্য রাস্তাঘাটের হিসেব সব মাইলে। আর ওখানে রাস্তা কী! সাত লেনের রাস্তা। এ পারে সাত লেনে গাড়ি চলে, ওই পারে সাত লেনে গাড়ি চলে। আর কত ফ্লাইওভার! এখানে ফ্লাইওভার, ওখানে ফ্লাইওভার। চার তলা ফ্লাইওভার। রাস্তাই রাস্তা।

যাক, কামাল সাহেব গাড়ি চাপা পড়ে ইন্তেকাল করেন। পরে আমরা তার বাড়িতে গেলাম। সূরা ইয়াসীন পড়ে বখশিশ করব, তখন আমেরিকান একজন বাঙালি এগিয়ে এল। দাড়ি রেখেছে। দেখতে খুব মুসল্লী। তিনি বলে উঠলেন, আমি সূরা ইয়াসীন পড়ব। আল্লাহর শোকর—

وَ مَا لِیَ لَاۤ اَعْبُدُ الَّذِیْ فَطَرَنِیْ وَ اِلَیْهِ تُرْجَعُوْنَ .

—এর পরে তার আর মুখস্থ ছিল না। এই এক-দেড় পৃষ্ঠা পড়েছে। এত জঘন্য ভুলে ভরা কুরআন মাজীদ তিলাওয়াত জীবনে আমি শুনিনি। তিনি নিজেই এগিয়ে এসেছেন—আমি সূরা ইয়াসীন পড়ব। পড়ল যে, সওয়াব হয়েছে কি না—আল্লাহ্ই জানেন। মুর্দার কাছে আর কী পৌঁছবে! তারপর বাকিটা আমার আদম আলী পড়ল। সরাসরি আপনার পড়া ভুল—এভাবে না বলে ইশারায় বললাম, সূরা ইয়াসীন মুখস্থ করেছেন এত কষ্ট করে, এটা অন্যকে শোনানো দরকার। যারা সহীহ পড়েন, তাদের শোনানো দরকার।

এটা যেমন একদিকে জঘন্যতম তিলাওয়াত শুনেছি, অন্যদিকে আমার ছাত্ররা যারা কুরআনের ধারেকাছেও ছিল না, তারা কুরআন তিলাওয়াত করে আমার কাছে নব্বইয়ের ওপরে নম্বর পেয়েছে। হুজুরদের হাতে হয়তো নম্বর কিছু কমবে। ২৬ বছর আমি বুয়েটে অ্যাসিন্ট্যান্ট প্রফেসর ছিলাম। প্রত্যেক বছর ১২০ জন করে, ২৬ বছরে কমপক্ষে ২ হাজার ৬০০ জন হবে। তাদের অনেকে আমেরিকার বিভিন্ন শহরে বসবাস করছে। তিন জন, চার জন, কোনো কোনো জায়গায় দশ জন। দ্বীনের প্রতি তাদের আগ্রহ দেখে অবাক হয়েছি।

অনেক শহরে ঘুরেছি আমরা। মুসলিমদের সঙ্গে কথাবার্তা বলার সৌভাগ্য হয়েছে। তারা দ্বীনের ব্যাপারে খুব আগ্রহ দেখিয়েছে। কিন্তু তাদের সন্তান-সন্ততি যারা, তাদের ব্যাপারে ভয়। এদেশ থেকে যারা সেখানে গিয়েছে, তারা হয়তো এখানে দ্বীন সম্পর্কে উদাসীন ছিল, ওই দেশে গিয়ে ভিন্ন পরিবেশে দ্বীনের দিকে অনেক অগ্রসর হয়েছে। কিন্তু যাদের সন্তান ওই দেশে জন্মগ্রহণ করেছে, তারা ভেসে যাচ্ছে। বাবার সামনে ছেলে আমেরিকান কালচারের ওপর চলছে।

আমাদের সামনে এক বাবা তার ছেলেকে বলছে, ‘তোমাকে দ্বীনের লাইনে পড়াব।’

সেখানে হিফজখানা আছে। অনেক হিফজখানা আছে। ছেলে বলে, ‘এটি ফ্রি কান্ট্রি। আমার খুশি হলে পড়ব, না হলে পড়ব না।’

বাবাকে বলছে ছেলে! ছেলের এই কথা শুনে বাবা কানে ধরেছে। কারণ ছেলে যদি পুলিশে ফোন করে দেয়, তাহলে বাবাকে পুলিশ অ্যারেস্ট করে নিয়ে যাবে। ফ্রি কান্ট্রি!

আলহামদু লিল্লাহ, নিউইয়র্কে আমরা একটা মাদরাসা পেলাম। সেখানে দেওবন্দের কারিকুলামে পড়ানো হয়। কারিকুলাম যা-ই হোক, সিলেবাস যা-ই হোক, নেসাব যা-ই হোক, ওই দেশের পড়া পড়তেই হবে। এজন্য যারা ইসলামী পড়া পড়ে, তারা অনেক কষ্ট করে পড়ে। আপনাদের নেসাব পড়ে সাথে আবার স্কুল-কলেজের পুরো নেসাব পড়া অনেক কষ্টকর! এর মধ্যে তিনটি সিস্টেম আছে। এক নম্বর, পুরো দেওবন্দের তালীম। নিউইয়র্কে আমরা এরকম একটি মাদরাসা পেয়েছি। সেখানে বাংলাদেশিরাই বেশি। অন্য দেশের ছাত্ররাও আছে। দুই নম্বর হচ্ছে, ইসলামিক স্কুল। মুসলিমরা স্কুল চালায়। স্কুলের মধ্যে কুরআন মাজীদ ও দ্বীনিয়াত শেখায়। আর তৃতীয় সিস্টেম হচ্ছে, ছেলে-মেয়েরা সপ্তাহে পাঁচ দিন সাধারণ স্কুলে যায়। শনি-রবিবার—ছুটির দিনগুলোতে মসজিদের মক্তবে পড়তে যায়। পুরো সপ্তাহে মাত্র দুই দিন।

ডালাসে হিফজ করেছে­—এরকম একজন পেলাম। হিফজই করেছে, কিতাবাদি কিচ্ছু পড়েনি। বাবা-মা তাকে হিফজ করার পর সোজা কলেজ-ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি করিয়ে দিয়েছে। আমার আদম আলীর সঙ্গে ওই হাফেজ সাহেবের ঝগড়াই লেগে গেল। আদম আলী কথায় কথায় বলেছে—

وَ لَا یُبْدِیْنَ زِیْنَتَهُنَّ اِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا.

তারা যেন যা সাধারণত প্রকাশমান তা ব্যতীত তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে। সূরা নূর (২৪) : ৩১

আলোচনা হচ্ছে, সৌন্দর্য কোন্টার মধ্যে বেশি। আদম আলী বলেছে, চেহারার সৌন্দর্যই আসল।

ওই হাফেজ সাহেব বলছে, ‘না, চেহারার সৌন্দর্য আসল নয়। কাজেই মুখ ঢাকার দরকার নেই।’

আমি তার বাবাকে এ কথা বলিনি যে, কেবল হাফেজ বানিয়েছ; কিতাবের কোনো তালীম দাওনি!

 یَتْلُوْا عَلَیْهِمْ اٰیٰتِكَ -এর ওপর আমল করেছ; وَ یُعَلِّمُهُمُ الْكِتٰبَ وَ الْحِكْمَةَ পর্যন্ত যাওনি।

অকল্পনীয় অভিজ্ঞতা! কিন্তু শেষ কথা যেটা, সেটা আগেই বলে ফেলি। আমার মনে হয়েছে, আমাদের দেশে দ্বীনী মেহনত করার যে পরিবেশ, আল্লাহ তাআলা আমাদের অল্প জায়গায় অনেক মানুষ দিয়েছেন। যে শহরগুলোতে ছিলাম, বেশিরভাগ আমরা শানদার এলাকায় ছিলাম। ছাত্ররা সব ধনী পরিবারের। শহরতলিতে বাড়ি। আমাদের দেশের বনানী, গুলশান, বারিধারার মতো এলাকা। শহরকেন্দ্র নয়। শহরকেন্দ্রেও লোকজন আছে। তবে শহরের বাইরে অপূর্ব সুন্দর বাগানবাড়ি। একটা বাড়ি; পাঁচ কাঠা, সাত কাঠা। আরেকটা বাড়ি পাঁচ কাঠা, সাত কাঠা। বাবা-মা, ছেলে-মেয়ে। দুই সন্তান তো একেবারে ধরাবান্ধা। দুটি সন্তান যার, সুখী পরিবার তার—এই কথা তো আমাদের দেশের মানুষেরা তাদের কাছ থেকেই শিখেছে। আছে না এই কথা—দুটি সন্তান যার, সুখী পরিবার তার? এটা আমেরিকান স্লোগান। সেখানে আমাদের বাঙালিদের পরিবারেও বেশিরভাগই দুই সন্তান। হয়তো দুটি ছেলে, না হয় দুটি মেয়ে; না হয় একটি ছেলে আরেকটি মেয়ে।

গাড়ি নিয়ে হয়তো সকাল দশটায় বের হয়েছি। কোথাও কোনো লোকজন নেই। আমি নাম দিয়েছি, সূর্যালোকিত মধ্যরাত্রি। মনে হয় রাতে বের হয়েছি। অথচ সূর্য মধ্য আকাশে। দুপুর রাত। একটা লোকও নেই। বিশ্বাস করা কঠিন। শহরের পর শহর। একই অবস্থা। একটা গাড়ি বের হল। গাড়ির মধ্যে লোক। রাস্তায় কোনো লোকই নেই।  

শহরকেন্দ্রে কিছু লোকজন আছে। বাজার-সদাই করে। কিন্তু বাকি বসতি একেবারে ফাঁকা! দেশ তো বিরাট। অনেক বড় দেশ। মোট ৫০টি স্টেট আছে। এজন্য নাম হল ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা—যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৪৮টি রাষ্ট্র পাশাপাশি। একটা রাষ্ট্র প্রশান্ত মহাসাগরের ভেতরে; প্রায় ৩০০ মাইল দূরে। সেটির নাম হাওয়াই। আরেকটা রাষ্ট্র আছে কানাডার উত্তরাংশে; আলাস্কা। আলাস্কা ও হাওয়াইসহ মোট ৫০টি রাষ্ট্র। প্রত্যেক রাষ্ট্র একটা স্বাধীন রাষ্ট্র। সবগুলো মিলে আমেরিকা; ইউনাইটেড স্টেটস অব আমেরিকা। প্রত্যেক রাষ্ট্রের আলাদা গভর্নর আছে; প্রত্যেক রাষ্ট্রের পরিচালনা ভিন্ন।

এক জায়গায় আমার এক ছাত্র, আমার কাছে সরাসরি পড়েনি, তবে বুয়েটে পড়েছে, সে ওয়াজ করা শুরু করেছে : ‘দাড়ি রাখা যাবে না। দাড়ি রাখলে মুসলিমদের সঙ্গে খ্রিস্টানদের দূরত্ব বেড়ে যায়।’

খ্রিস্টানদের দাড়ি রেখে মিল করতে বলে না, বলে মুসলিমদের দাড়ি না রেখে মিল করতে। এর কিছুক্ষণ পরেই আমার আলোচনার সময় এল। আমি আলোচনার মধ্যে বললাম, আমেরিকার যেখানেই গেলাম, সেখানে দেখেছি নতুন নতুন মসজিদ। অপূর্ব সুন্দর সব মসজিদ। আমরা ছিলাম ডালাস শহরে রিচার্ডসন মহল্লায়। সেখানে মসজিদটা বেশ বড়। ফজরের নামাযে তিন কাতার মুসল্লি। প্রায় দেড় শ লোক। সবাই গাড়ি নিয়ে এসেছে। সেখানে যদি কেউ পাঁচ কাঠায় মসজিদ বানাতে চায়, তাহলে সেখানে গাড়ি রাখার জায়গা লাগবে দুই বিঘা।

আমি তাকে বললাম, তুমি যে বললে, খ্রিস্টানদের সঙ্গে মিল হওয়ার জন্য মুসলিমদের দাড়ি রাখা যাবে না। আমেরিকায় মসজিদ এত হচ্ছে কেন? কোন্ ধর্ম সবচেয়ে বেশি প্রসারিত হচ্ছে?

সে বলে, ইসলাম।

এখন দাড়ি না রেখে কি ইসলাম বাড়ছে, নাকি দাড়ি রেখে ইসলাম বাড়ছে? জ্ঞান না থাকলে যা হয় আরকি! অনেকে বেহুদা তর্ক-বিতর্ক করে।

আলহামদু লিল্লাহ, আমার কথার মধ্যে মূল কথা এটাই ছিল, আমি হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর খাদেম। মাওলানা আবরারুল হক রাহ.-এর খাদেম। আমরা যাওয়ার আগে আমেরিকা থেকে আমাদের সতর্ক করা হয়েছিল, হাফেজ্জী হুজুরের নাম বেশি বলবেন না। আবরারুল হক সাহেবের নাম বেশি বলবেন না। সিলসিলার নাম বলবেন না। আমাদের এই পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ আরবরা এগুলো পছন্দ করে না। তারা তো পীর-মুরিদী একদম পছন্দ করে না। নিউইয়র্কে আমাদের ওপর এই বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়েছিল; কিন্তু বাকি সাত জায়গায় আমরা দেদারসে তাদের কথা বলেছি; বরং তারাই এগুলো লিখে পোস্টার ছাপিয়েছে। মানুষকে হাফেজ্জী হুজুর রাহ. ও মাওলানা আবরারুল হক রাহ.-এর সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের কথা জানিয়েছে। দেওবন্দের কথা অনেক বলা হয়েছে। দ্বীন প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে।

আমি বলে এসেছি, আমি তো মৌলবীদের গোলাম। বরং মৌলবীদের জুতা বহনকারী (ঝযড়ব-ঈধৎৎরবৎ)। কাজেই আসল মৌলবীরা পরে আসবেন। জুতা বহনকারী আগে এসেছে।

মানুষের মধ্যে অকল্পনীয় আগ্রহ। এখন বাকি রইল, নতুন প্রজন্মের দ্বীন পালনের উপায় কী? দেওবন্দী কারিকুলামে আমাদের দেশেই-বা কতজন ছেলেমেয়ে পড়ে? আমি আমার ছেলেদের মাদরাসায় পড়িয়ে কত ধমক খেয়েছি, এখনো খাচ্ছি—‘হ, তুমি খাওয়াচ্ছ। তুমি মরলে খাবে কোত্থেকে?’

এখনো আমাকে এ কথা বলে। আমার বড় ছেলে রিজওয়ানের বয়স বিয়াল্লিশ তেতাল্লিশ। তেতাল্লিশ বছর তো খেয়েছে। আমি মরলে কী খায়, সেটা দেখা যাক! সেটি নিয়ে আমাকে এখনো খোঁচা মারে। ১৯৮৮ সালে জেদ্দা থেকে ঢাকা ফিরছি প্লেনে।  ক্রুদের প্রধান আবদুল হাই, আমার এক বন্ধু। সন্ধ্যারাতে খাবার খাইয়েছে। ভোররাতে আবার এসেছে—‘হামীদ, তুমি আল্লাহর কাছে কী জবাব দিবা?’

‘কী জবাব দেব?’

‘তুমি একজন ইলেকট্রিক ইঞ্জিনিয়ার হয়েও একজন ছেলেকেও ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বানালে না? সব হাফেজ-মৌলবী সাহেব বানিয়েছ?’

আমি জবাব দিলাম, ‘আল্লাহর কাছে জবাব দেওয়ার জন্যই তাদের হাফেজ-মৌলবী সাহেব বানিয়েছি।’

‘এর মানে?’

‘মৌলবীদের সাথে ঘুরে ঘুরে আল্লাহ আমাকে যে একীন নসীব করেছেন—

خَيْرُكُمْ مَنْ تَعَلَّمَ الْقُرْاٰنَ وَ عَلَّمَه.

(তোমাদের মধ্যে সর্বোত্তম ওই ব্যক্তি, যে কুরআন শেখে এবং শেখায়)—রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই কথার ওপর আল্লাহ যে একীন নসীব করেছেন, কিয়ামতের ময়দানে আল্লাহ যদি জিজ্ঞেস করেন, তুই মৌলবীদের সঙ্গে ঘুরেছিস। তোকে আমি এই একীন নসীব করেছিলাম। তুই এই একীনের কী বদলা দিয়েছিস?

আমি বলব, আমি এই একীনের বদৌলতে নিয়ত করেছি, আমি আমার ছেলেমেয়েদের সর্বশ্রেষ্ঠ শিক্ষাই দেব।’

তারপর সে চুপ হয়ে গেল।

আমাদের দেশে, ভারত-পাকিস্তানে কী অবস্থা? দ্বীনের সঠিক বুঝ কয়জনের মধ্যে আছে? সঠিক তালীম কয়জনের মধ্যে আছে? সে তুলনায় আমেরিকার অবস্থা অনেক করুণ। নতুন যারা, তারা দ্বীনের দিকে খুব অগ্রসর। আমার খবর পেয়ে অনেকে ৭০-৮০ মাইল ড্রাইভ করে আমার কাছে এসেছে। দ্বীনের কথা শুনতে এসেছে। স্যার আমাদের পড়াতেন। পড়াতেন তো ইলেকট্রিক্যাল বিষয়াদি। এখন দ্বীনের কথা বলতে এসেছেন। অকল্পনীয় সাড়া-আগ্রহ ও মেহমানদারি। ভ্রমণ তো না, এটা যেন আনন্দ ভ্রমণ। আল্লাহ তাআলা কবুল করার মালিক।

وَآخِرُ دَعْوانَا أَنِ الْحَمْدُ للهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ.

 

 

advertisement