শাওয়াল ১৪৪৭   ||   এপ্রিল ২০২৬

পাঠকের পাতা

কৃতজ্ঞতা

আলকাউসারএ নাম যেন কল্যাণের এক অবিরাম ধারা। মাসিক এই পত্রিকাটি কেবল কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধের সমষ্টি নয়; এটি চিন্তার খোরাক, আত্মার প্রশান্তি এবং সমাজ গঠনের এক কল্যাণবাহী আহ্বান। সময়ের জটিলতা ও মূল্যবোধের টানাপোড়েনে দাঁড়িয়ে আলকাউসার পাঠকের মননকে আলোর পথে পরিচালিত করে এক গভীর দায়িত্ববোধ নিয়ে।

পত্রিকার সূচনায় সমসাময়িক সম্পাদকীয় চলমান বাস্তবতাকে বুঝতে সহায়তা করে, পাঠককে সচেতন ও প্রশ্নমুখর করে তোলে। এরপর আনওয়ারুল কুরআন বিভাগ হৃদয়ে আলো জ্বালায়কুরআনের বাণী যেন জীবনের পথে চলার এক বিশ্বস্ত দিশারি হয়ে ওঠে।

আপনি যা জানতে চেয়েছেন বিভাগটি পাঠকের কৌতূহল ও অনুসন্ধিৎসার যথার্থ উত্তর দিয়ে জ্ঞানের পরিধি প্রসারিত করে। শিক্ষার্থীদের জন্য নিবেদিত শিক্ষার্থীদের পাতা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মনন গঠনে রাখছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। ‘পাঠকের পাতা’ পাঠক ও পত্রিকার মাঝে গড়ে তুলেছে আন্তরিক যোগাযোগের এক সুন্দর সেতুবন্ধন।

আলকাউসারের প্রতিটি লেখা ভাষা, ভাব ও দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিশীলিত ও উদ্দেশ্যনিষ্ঠ। সত্য, সুন্দর ও কল্যাণের পথে অবিচল থেকে যারা এই পত্রিকাকে নিয়মিত সমৃদ্ধ করে চলেছেনসম্মানিত সম্পাদকমণ্ডলী, লেখকবৃন্দ ও নেপথ্যের সকল পরিশ্রমী মানুষদের প্রতি রইল গভীর কৃতজ্ঞতা ও অন্তরের অভিনন্দন।

আশা ও প্রার্থনাআলকাউসারের এই কল্যাণময় ধারাবাহিকতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে, সমাজের প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে দেবে জ্ঞান ও নৈতিকতার আলো।

ইবনে আলআমীন

 

আলকাউসার ভাই’!

চার বছর আগে মারকাযুল কুরআন আশরাফাবাদে অধ্যয়নকালে আলকাউসারের সাথে পরিচয় করিয়ে দেন উস্তাযে মুহতারাম মুফতী যুবায়ের হুসাইন দা. বা.। পরিচয়ের পর থেকে আজ পর্যন্ত আমি আলকাউসারের একজন নিয়মিত পাঠক।

আলকাউসার আমার কাছে শুধু একটি পত্রিকার নাম নয়, বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক এমনকি রাষ্ট্রীয় জীবনে আমার অবস্থান কী হবে তার সঠিক দিকনির্দেশক।

 উস্তাযে মুহতারাম প্রথমদিকে আমাদের জন্য ডাকযোগে আলকাউসার সংগ্রহ করতেন। ফলে হাতে আসতে আসতে সপ্তাহখানেক, কখনো আরও বেশি সময় লেগে যেত। এদিকে আমাদের আবেগ ছিল উপচে পড়া। তাই গত বছর সাহস করে হুজুরের সমীপে নিবেদন করলাম, এখন থেকে আমি নিজেই আলকাউসার নিয়ে আসব। মাসের শুরুতেই সবাই পত্রিকা পেয়ে যাবে। হুজুর খুশিমনে সম্মতি দিলেন।

এরপর থেকে মাসের শুরুতেই আলকাউসার সংগ্রহ করে পুরো মাদরাসায় পৌঁছে দিতাম। এজন্য ছাত্ররা আমাকে নামের পরিবর্তে ‘আলকাউসার ভাই’ বলেই বেশি চিনত।

মাসের প্রথম তারিখে আলকাউসার হাতে পেয়ে ছাত্রদের চেহারায় যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস পরিলক্ষিত হত, তা আমার এই কায়িক পরিশ্রমকে আনন্দে রূপান্তরিত করত। তালেবানে ইলমের এই সামান্য খেদমতকে আল্লাহ তাআলা কবুল করুন।

আলকাউসার ছড়িয়ে পড়ুক গ্রাম থেকে মহল্লায়, শহর থেকে শহরতলীতে এবং এর সাথে যে-কোনোভাবে সংশ্লিষ্টদের নাজাতের জরিয়া হোক, এই দুআই করি।

আফিফ ফেরদৌস বিন মোশাররফ

মাদরাসা বাইতুল উলূম ঢালকানগর

 

আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগের সংকলন প্রকাশের আবেদন

২০১৫ থেকে অদ্যাবধি আলকাউসারের সাথে আমার নিবিড় সখ্যতা গড়ে উঠেছে।

পত্রিকাটি হাতে পাওয়ামাত্রই সূচিপত্র দেখে নিই। সম্পাদকীয় পড়তে কখনোই ভুল করি না। ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগ পড়তাম নিয়মিত। ‘প্রচলিত ভুল’-এর প্রতি রাখতাম সজাগ দৃষ্টি। ‘শিক্ষা পরামর্শ’ ছিল আলোর প্রদীপ। বন্ধ হয়ে যাওয়া ফিলহালের পাতা থাকত চোখের আয়নায়। এক্ষেত্রে বর্তমানে ‘খবর... অতঃপর...’ বিভাগের ভূমিকা অতুলনীয়। বিভিন্ন ফেরকার মোকাবেলায় আলকাউসার সদা জাগ্রত সৈনিক।

আমি মনে করি, সাধারণ মানুষ ও আলেম শ্রেণি উভয়ের জন্য উপযোগী ইসলামী পত্রিকার অন্যতম হল মাসিক আলকাউসার।

আলকাউসার পরিবারের প্রতি আমার একটি নিবেদনআপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগে প্রকাশিত মাসআলাগুলো দুই মলাটে প্রকাশ করলে ইনশাআল্লাহ আমরা পাঠকবৃন্দ অনেক উপকৃত হব।

পরিশেষে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে প্রার্থনাপত্রিকাটির সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের ইলম, আমল ও তাদের খেদমতকে কবুল করুন এবং আমাদের চলার পথকে আলোকিত করে দিন আমীন।

আবু রায়হান মাহমুদ

জামিয়াতুস সুন্নাহ, শিবচর, মাদারীপুর

 

আকাবিরে দেওবন্দের নির্বাচিত প্রবন্ধ প্রকাশের আবেদন

আমি বহুদিন থেকেই মাসিক আলকাউসার পড়ি। আমি বিশ্বাস করি, একজন তালিবুল ইলম দরসের পাশাপাশি আলকাউসার অধ্যয়ন করলে পড়াশোনার কোনো ক্ষতি হয় না; বরং তা ইলমের পথচলায় সহযোগিতা করে এবং চিন্তাভাবনার পরিধি প্রসারিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আমার জীবনে আমি এমনটিই পেয়েছি। ‘আনওয়ারুল কুরআন’ থেকে শিখেছি, কীভাবে কুরআন অধ্যয়ন করতে হয়। সম্পাদকীয় এবং মুফতী আবুল হাসান মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ছাহেব দা. বা.-এর প্রবন্ধগুলো থেকে জেনেছি, ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মধ্যপন্থা অবলম্বন করে কীভাবে বিভিন্ন বিষয় বিশ্লেষণ করতে হয়। বায়তুল মুকাররমের মিম্বরের আলোচনা ও শিক্ষার্থীদের পাতা জীবনের পথচলায় দিকনির্দেশনা দেয়। প্রতিটি বিভাগই স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে সমৃদ্ধ।

আলকাউসার পরিবারের নিকট আমার একটি আবেদন

আমাদের আকাবিরে দেওবন্দের লিখিত গুরুত্বপূর্ণ ইলমী রিসালাগুলো থেকে নির্বাচিত অংশ নিয়মিত প্রকাশ করলে পাঠকরা আরও উপকৃত হবেন।

মুয়াজ আবদুল্লাহ

ময়মনসিংহ

 

কিছু অনুভূতি ও একটি আবেদন

আমি জেনারেল শিক্ষিত পরিবারের একজন যুবক। ঠিক কত বছর আগে মাসিক আলকাউসারের সাথে আমার পথচলার সূচনা, তা এখন আর স্মরণে নেই। ছাপানো আলকাউসার সংগ্রহের পাশাপাশি দ্বীনী প্রয়োজনে সপ্তাহে কতবার যে এর ওয়েবসাইটে বিচরণ করি, তারও কোনো হিসাব নেই।

আলকাউসার হাতে পেলে আমি সবার আগে ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগ পড়ি। মাসআলা-মাসায়েল সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন আমার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে এ যাবৎ মাসিক আলকাউসার থেকেই তুলনামূলকভাবে সর্বাধিক উপকার লাভ করেছি এবং আলহামদু লিল্লাহ, প্রতিনিয়তই সে উপকার গ্রহণ করে যাচ্ছি।

ব্যক্তিগতভাবে বলতে গেলে, আলকাউসারের লেখকবৃন্দের মধ্যে বিশেষত মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর ও মাওলানা মুহাম্মাদ তাওহীদুল ইসলাম তায়্যিব সাহেবদ্বয়ের কলাম বা প্রবন্ধ আমাকে বিশেষভাবে ফায়দা দিয়েছে। ‘পাঠকের পাতা’র সৌজন্যে তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও শুকরিয়া জ্ঞাপন করছি।

বিগত রজব ১৪৪৭ (জানুয়ারি ২০২৬) সংখ্যায় একজন পাঠক ‘পাঠকের পাতা’র মাধ্যমে ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগের সংকলন প্রকাশের অনুরোধ জানিয়েছেন। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আলকাউসারের হাজারো পাঠকের অন্তরে এই চাওয়া নীরবে কিন্তু প্রবলভাবে বিদ্যমান। সেই সম্মিলিত প্রত্যাশার সঙ্গে একাত্ম হয়ে আমিও কর্তৃপক্ষের নিকট এ বিষয়ে সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য বিনীত আবেদন ও আহ্বান জানাচ্ছি।

যদি শাখাভিত্তিক মাসআলাগুলো বিভাগ আকারে পর্যায়ক্রমে গ্রন্থাকারে সংকলিত হয়ে প্রকাশিত হয়, তবে তা মারকাযুদ দাওয়াহর পক্ষ থেকে বাংলা ভাষাভাষীদের উম্মাহর জন্য নিঃসন্দেহে একটি কিংবদন্তিতুল্য দ্বীনী খেদমত হিসেবে সর্বমহলে স্বীকৃত হবে ইনশাআল্লাহ। আমাদের সকলকে আল্লাহ কবুল করুন।

আহাদুল হক সোহাগ

কেরানীরহাট, সদর, রংপুর

 

ইলমের পথচলায় আমার প্রিয় সহচর

একসময় ছিলাম পথহারা উদ্ভ্রান্ত এক শিক্ষার্থী। যে কিনা কিতাবের ভিড়ে থেকেও জীবনের অর্থ খুঁজে পায় না। একপর্যায়ে আমার বাবা-ই প্রথম আমার হাতে তুলে দিলেন মাসিক আলকাউসার। তাঁরই পরামর্শে আমি পত্রিকাটি পড়া শুরু করি। সেদিন থেকেই আলকাউসার আমার ইলম-অন্বেষণের পথে এক নতুন আলো হয়ে উঠল।

এ পত্রিকার শিক্ষার্থীদের পাতার প্রতিটি লাইন আমাকে নতুনভাবে চিন্তা করতে শেখায়, ইলমের প্রতি এক স্বর্গীয় আকর্ষণ জাগিয়ে তোলে।

আলকাউসার আমার কাছে শুধু একটি পত্রিকা নয়এটা আমার মানসপটে জ্বলা এক মশাল, অন্ধকারে পথ দেখানো এক নীরব শিক্ষক।

আল্লাহর কাছে দুআ করিএই রহমতের প্রবাহ যুগে যুগে কলকল রবে প্রবাহিত হোক, মুমিনের হৃদয়ে ইলম ও ঈমানের সুগন্ধ ছড়িয়ে যাক চিরকাল আমীন।

আহমাদ বিন খুরশিদ আলম

 জামি‘আ রহমানিয়া সওতুল হেরা

 টঙ্গী, গাজীপুর

 

 

advertisement