শাওয়াল ১৪৪৭   ||   এপ্রিল ২০২৬

ইরান ও আমেরিকা-ইসরাইল যুদ্ধ
‖ শান্তিতে নোবেলের দাবিদার অশান্ত করে তুলছেন দুনিয়াকে

গত বছরের শুরুতে দ্বিতীয়বারের মতো ক্ষমতায় বসেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের জন্য নোবেল প্রাইজের দাবি উত্থাপন করেন। তাঁর মতে, তিনি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধসহ কয়েকটি যুদ্ধ থামিয়েছেন। তাই তাঁকেই দিতে হবে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার। কিন্তু শত মিনতি ও বহু লোককে দিয়ে প্রস্তাব করানোর পরও তাঁকে নোবেল দেওয়া হয়নি। এমনিতে তাঁকে এ পুরস্কার দেওয়া হলেও অবাক হওয়ার কিছু ছিল না। কারণ নোবেল শান্তি পুরস্কার সব সময় বিতর্কমুক্ত, ভালো মানুষকে দেওয়া হয় এমন তো নয়! কিন্তু বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তো এমন এক ব্যক্তি, যিনি ইসরাইলী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর খাস বন্ধু। যে নেতানিয়াহুর হাতে বিগত দুই বছরেই শাহাদাত বরণ করেছে অসংখ্য নারী-শিশুসহ লক্ষ বনী আদম। তার কথামতো দুই দুই বার মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে হামলা করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনিতে তো মার্কিন সরকার হরহামেশা জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করার নীতিই অবলম্বন করে থাকে। কিন্তু এবার ট্রাম্প সাহেব যা দেখাচ্ছেন, তা জিস্কা লাঠি উস্কা ভাইঁস বা ‘জোর যার মুল্লুক তার’-এর জ্বলন্ত উদাহরণ।

এবারের হামলায় তো দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনাইকেও হত্যা করেছে আমেরিকা-ইসরাইল। যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে আবার যুদ্ধের দামামা বেজে উঠেছে। ইরানও সাধ্যমতো ইসরাইল ও আমেরিকার মধ্যপ্রাচ্যের ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে। যার দরুন বাতিল হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে ছেড়ে যাওয়া হাজার হাজার ফ্লাইট। ইরান কর্তৃক হরমুজ প্রণালি বন্ধ হওয়ায় বিশ্ব-বাজারব্যবস্থা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে, বিশেষত জ্বালানি সরবরাহে পুরো বিশ্বে চরম অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ও চরম কষ্টে পড়ছে বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ।

আক্রান্ত দেশ ইরান তো তার সাধ্যমতো প্রতিরোধ করবেই। ইরানের এবারের প্রতিরোধ দেখে অভিজ্ঞ মহলের অনেকে অবাক হচ্ছেন। কারণ বাহ্যত আমেরিকা-ইসরাইল এবার তাদের ধারণার বাইরে যথেষ্ট নাকানি-চুবানি খাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন আরব দেশে অবস্থিত আমেরিকার সামরিক ঘাঁটিগুলো এবং খোদ ইসরাইলের ভেতরে ইরানের পাল্টা হামলায় চমকে উঠেছেন অনেকেই। ট্রাম্প-নেতানিয়াহুও তাদের আগ্রাসন বন্ধ করছেন না অথবা মানুষ তাদেরকে পরাজিত বলার ভয়ে যুদ্ধ থামাতেও চাইছেন না।

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর রাজ-রাজড়ারাও এখন উভয় সংকটে রয়েছেন। একদিকে তাদের দেশের মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ব্যাপক সামরিক-বেসামরিক হতাহত ও নিরাপত্তাহীনতা, অন্যদিকে আমেরিকার নারাজির ভয়। ক্ষমতালোভী এ ভীরু নেতারা জোরালোভাবে এবারও ট্রাম্পকে বলতে পারছেন না, ‘এবার যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা বন্ধ করুন। আমাদের ও বিশ্ববাসীকে শান্তিতে বাঁচতে দিন।’ আর তাদের দেশ থেকে আমেরিকান ঘাঁটিগুলো উঠিয়ে নিতে বলার সাহস তো তারা অনেক আগেই হারিয়েছেন।

এমতাবস্থায় সাধারণ মুসলমানের জন্য পরম করুণাময় আল্লাহর দরবারে দুআ করার পথটিই এখন খোলা রয়েছে। তিনি যেন মুসলিম নেতাদের সুমতি দেন, সৎ সাহস দেন, আল্লাহর রজ্জু আঁকড়ে ধরার তাওফীক দেন এবং জালেমদেরকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিয়ে তাঁর নিরীহ বান্দাদের হেফাজত করেন।

 

 

advertisement