রমযান ১৪৪৭   ||   মার্চ ২০২৬

তারাবীর নামায : কিছু নিবেদন

কারী মুহাম্মাদ যহীরুল ইসলাম

রমযানের বিশেষ আমলগুলোর অন্যতম কিয়ামে রামাদান। রমযানের সিয়াম পালনের মাধ্যমে যেমন মাগফিরাত লাভের ওয়াদা এসেছে, তেমনি কিয়ামে রমাদানের বিষয়েও মাগফিরাতের ওয়াদা এসেছে। ইরশাদ হয়েছে

مَنْ قَامَ رَمَضَانَ إِيمَانًا وَاحْتِسَابًا غُفِرَ لَه مَا تَقَدَّمَ مِنْ ذَنْبِه.

যে ব্যক্তি পূর্ণ ঈমান ও বিশ্বাস নিয়ে সওয়াবের আশায় কিয়ামে রামাদান  আদায় করে, তার অতীত জীবনের সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়। সহীহ বুখারী, হাদীস ২০০৯; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৭৫৯

মাগফিরাতের এ আমল যেন আমাদের সুন্দর হয়, সে লক্ষ্যে তারাবীর নামায সংক্রান্ত কিছু কথা পাঠকের খেদমতে আরয করছি। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন আমীন।

এক.

তারাবীর নামায জামাতের সাথে পড়ার আমল। নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম নিজে নিয়মিত জামাতের ব্যবস্থা এজন্য করেননি যে, তা আবার উম্মতের ওপর ফরয হয়ে যায় কি না! নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ওফাতের পরও সাহাবায়ে কেরাম রা. ছোট ছোট জামাতে তারাবী আদায় করতেন। কেউ ব্যক্তিগত পর্যায়ে পড়তেন। উমর রা. তাঁর খেলাফত কালের শুরুর দিকে মসজিদের বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট জামাতকে এক জামাতে নিয়ে এসেছেন। সাহাবায়ে কেরামের কেউ এতে দ্বিমত করেননি।

তাই তারাবীর নামায জামাতে আদায় করাই হল সুন্নতে মুতাওয়ারাসা তথা উম্মতের অনুসৃত পথ। কোনো ওযর ছাড়া তারাবীর জামাত ছাড়া অনুচিত।

দুই.

তারাবীর নামাযকে যদিও ফরয-ওয়াজিব করা হয়নি, তবে এ নামায নফল আমলের মতো একেবারে ঐচ্ছিকও নয়। ফুকাহায়ে কেরাম এ আমলকে সুন্নতে মুআক্কাদা বলেছেন। 

তিন.

তারাবীর নামাযের প্রাণ হল, এ নামাযে দীর্ঘ সময় কুরআন কারীম তিলাওয়াত করা, শ্রবণ করা। উমর রা. যখন সাহাবায়ে কেরামের তারাবীর ছোট ছোট জামাতকে একটি জামাতে নিয়ে এসেছেন, তখন উবাই বিন কাব রা.-কে তারাবীর জামাতে সাহাবায়ে কেরামের ইমাম বানিয়েছিলেন। তিনি তো এমন ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকে বলেছেন, আল্লাহ আমাকে তোমার তিলাওয়াত শুনতে বলেছেন

উমর রা. উবাই ইবনে কাব রা.-কে এ বলে নিবেদন করেছিলেন, লোকেরা দিনে রোযা রাখে, তাদের সবাই তো কুরআন কারীম সুন্দর তিলাওয়াত করে না। আপনি যদি তাদেরকে রাতের নামাযে তিলাওয়াত শোনাতেন! আলআহাদীসিল মুখতারাহ, বর্ণনা ১১৬১

তাই খতম তারাবীর জামাতে শরীক হয়ে তারাবীর নামায আদায়ে সচেষ্ট হওয়া কাম্য।

চার.

তিলাওয়াতের সিহহাত ও বিশুদ্ধ উচ্চারণ ঠিক রেখে যতটুকু দ্রুত পড়া তারাবীর ইমাম হাফেয সাহেবের জন্য সহজ ও স্বাভাবিক, তিনি ততটুকুই দ্রুত পড়বেন। বিষয়টি হাফেয ছাহেবের বিষয়। যা তার ওপর ছেড়ে দেওয়া কাম্য। তিনি মুসল্লিদের প্রতি লক্ষ রেখে অবস্থাভেদে তারতীল ঠিক রেখে কিছুটা দ্রুত পড়তে পারেন।

এক্ষেত্রে হাফেয ছাহেবের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা, তাকে মুসল্লিদের চাহিদামতো দ্রুত পড়তে বাধ্য করা, নিজের পছন্দের কারও মতো পড়তে বলা সবই অন্যায়।

এ নিয়ে সমালোচনা করা, হাফেয ছাহেবের সাথে অশোভন আচরণ করা খুবই নিন্দনীয়। এসব থেকে বেঁচে থাকা জরুরি।

এর দ্বারা যেমন নিজের আমলনামা বরবাদ করা হয়, তেমনি কখনো নামাযেরও ক্ষতির কারণ হয়। কেননা হাফেয ছাহেব কোনো ব্যক্তিবিশেষের পছন্দমতো পড়তে চেষ্টা করতে গিয়ে নিজের স্বাভাবিকতা হারাতে পারেন, ফলে তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তিলাওয়াতে ভুল হয়ে যেতে পারে। যা তার জন্য কষ্টের কারণ এবং ক্ষেত্রবিশেষে নামাযেরও ক্ষতি হতে পারে।

হাঁ, হাফেয সাহেব তার সাধ্যমতো ধীরে ও সুন্দরভাবে তিলাওয়াতের চেষ্টা করবেন। অতি তাড়াহুড়ো করে পড়বেন না। অস্পষ্ট পড়বেন না। কিন্তু তার অভ্যাসের বিপরীতে তাকে অতি ধীরে পড়তে বলা বা অতি দ্রুত পড়তে বলা কোনোটিই কাম্য নয়।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, হাফেয সাহেব নিজের মতো করে ধীরে পড়লে তাকে দ্রুত পড়তে চাপ দেওয়া এবং আরও কম সময়ে তারাবী শেষ করার তাগাদা দেওয়া নিতান্তই অন্যায় কাজ। একটু ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন, দ্রুততার কমবেশিতে সর্বোচ্চ ১৫-২০ মিনিট ব্যবধান হতে পারে, এ ২০ মিনিট তো রমযানের মতো মহিমান্বিত মাসে নামাযের মতো মহান ইবাদতেই কেটেছে। মসজিদে কেটেছে। আল্লাহর কালাম শ্রবণে কেটেছে। এটা তো মুমিনের জন্য খুশির বিষয়। তাই এ নিয়ে রাগ হওয়া, সমালোচনা করা কোনোভাবেই বাঞ্ছনীয় নয়। সবরের মাসে, সবরের ইবাদতে বে-সবর হওয়া তো সুন্দর কথা নয়!

আমাদের দেশে সাধারণত পুরো রমযানে তারাবীতে এক খতম কুরআন কারীম পড়া হয়। তাতে প্রতিদিন যতটুকু অংশ পড়া হয়, তা অনেক বেশি নয়। সাধারণত দৈনিক এক পারা পড়া হয়। সালাফের আমলের বিচারে এটি খুবই কম।

তাবেয়ী আবদুর রহমান ইবনে হুরমুয বলেন, আমরা সাহাবা-তাবেয়ীদেরকে এমন দেখেছি যে, কারী (তারাবীর ইমাম তারাবীতে) সূরা বাকারা (প্রায় আড়াই পারা) পড়তেন আট রাকাতে। যদি কখনো বারো রাকাতে সূরা বাকারা শেষ করতেন, তবে মানুষ মনে করত ইমাম (মুসল্লীদের রেআয়াত করে, ছাড় দিয়ে) সংক্ষেপ করেছেন! কিতাবুস সিয়াম ইমাম ফিরইয়াবী, বর্ণনা ১৮১

তাবেয়ী আবু বকর ইবনে আমর ইবনে হাযম বলেন, আমরা তারাবীর নামায শেষ করার পর ফজরের সময় হয়ে যাওয়ার ভয়ে খাদেমদের দ্রুত খাবার আনার জন্য তাড়া দিতাম। মুয়াত্তা মালেক, বর্ণনা ৩৮২

কুরআন কারীম অস্বাভাবিক দ্রুত পড়া একধরনের সূয়ে আদব বেয়াদবি। এক ব্যক্তি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা.-এর কাছে এসে নামাযে নিজের তিলাওয়াতের বিবরণ শোনাল। বিবরণ থেকে বোঝা যাচ্ছিল, সে নামাযে খুবই দ্রুত তিলাওয়াত করে। আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রা. আপত্তির স্বরে বললেন

هَذًّا كَهَذِّ الشِّعْرِ!

কবিতা আওড়ানোর মতো (কুরআন) পড়ো! সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৭৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮২২; ফাতহুল বারী ২/২৫৮-৫৯

পাঁচ.

তারাবীর নামাযের তিলাওয়াতে ইমাম ছাহেব কখনো কোনো আয়াতে আটকে যান বা কোনো আয়াত ছুটে যায়। তখন সহযোগী ইমাম ছাহেব লোকমা দেন। নামাযের তিলাওয়াতে এমন হওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু অনেক মুসল্লীকে দেখা যায়, হাফেয ছাহেবের লোকমা গেলে বিরক্ত হন, সমালোচনা করেনএমনকি হাফেয ছাহেবকে ইমামতির দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ারও চিন্তা করেন! এটি বড় অন্যায়।

তারা হয়তো জানেন না যে, লোকমা যাওয়া খুবই স্বাভাবিক বিষয়। সহজ থেকে সহজ সূরায়ও লোকমা যেতে পারে। এমনকি কুরআনের শেষের ছোট ছোট যে সূরাগুলো মুসল্লীদের মুখস্থ থাকে, তাতেও লোকমা যেতে পারে। লোকমা গেলে নামাযের ক্ষতি হয় বিষয়টি কখনো এমন নয়।

কুরআন তিলাওয়াতে ভুল হতে পারে, সূরার মাঝের কোনো আয়াত ভুলে ছুটে যেতে পারে, সে সময়ের বিধান কী হবে তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত, সাহাবায়ে কেরামের আমল থেকে স্পষ্ট। সে আলোকে ফুকাহায়ে কেরাম এ বিষয়ক বিধান সবিস্তারে আলোচনা করেছেন।

মিসওয়ার বিন ইয়াযীদ রা. বলেন, আমি রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পেছনে নামায পড়ছিলাম, তিনি কোনো একটি আয়াত বাদ দিয়ে পরের আয়াত পড়লেন, এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করল, ইয়া রাসূলাল্লাহ, অমুক আয়াত?

তিনি বললেন, আমাকে কেন স্মরণ করাওনি সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ৯০৭

একটি বর্ণনায় এসেছে

إِنِّي لأَنْسَى أَوْ أُنَسَّى لِأَسُنَّ.

আমি ভুলে যায় বা আমাকে ভুলিয়ে দেওয়া হয়, যেন  তোমরা (ভুলের) হুকুম জানতে পার। মুআত্তা মালেক, বর্ণনা ৩৩১

উপরের বর্ণনাগুলোতে এ শিক্ষাও রয়েছে, নামাযের তিলাওয়াতে ভুল না হওয়া কোনো উজব বা আত্মতৃপ্তির কারণ নয়, তদ্রূপ (মাঝে মাঝে) ভুল হয়ে যাওয়াও কোনো দোষের বিষয় নয়।

সালাফের জীবনে এমন ঘটনা আছে, তারা নামাযে কোনো আয়াত স্মরণে না এলে বা মুশাব্বাহ লাগলে লোকমার অপেক্ষায় থাকতেন এবং কেউ লোকমা দিলে লোকমা গ্রহণ করতেন।

নাফে রাহ. বলেন, আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. আমাদের নামায পড়াচ্ছিলেন, তিনি একটি আয়াত বারবার পড়ছিলেন, আমি তাঁকে লোকমা দিয়েছি (পরের আয়াত বলে দিয়েছি), তিনি লোকমা গ্রহণ করেছেন। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৮৩৭

আলী রা. বলেন

إِذَا اسْتَطْعَمَكَ الإِمَامُ فَأَطْعِمْهُ.

ইমাম তোমার কাছে লোকমা চাইলে তাকে লোকমা দাও। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৪৮২৯

কাজেই লোকমা গেলেই হাফেয ছাহেবের প্রতি বদগুমান হওয়া, মসজিদের ভেতরে-বাইরে সমালোচনা করা নিতান্তই মূর্খতাসুলভ কাজ।

ছয়.

যিনি আমাকে নামাযে আল্লাহর কালাম শোনাচ্ছেন, তার প্রতি আমাদের বিনয়, শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতাবোধ থাকা কাম্য। আল্লাহর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তো কুরআনের বাহককে ঈর্ষার পাত্র ঘোষণা করেছেন

لَا حَسَدَ إِلاّ فِي اثْنَتَيْنِ رَجُلٌ عَلّمَه اللهُ الْقُرْآنَ، فَهُوَ يَتْلُوه آنَاءَ اللّيْلِ وَآنَاءَ النّهَارِ فَسَمِعَه جَارٌ لَه. فَقَالَ: لَيْتَنِي أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ فُلاَنٌ، فَعَمِلْتُ مِثْلَ مَا يَعْمَلُ. وَرَجُلٌ آتَاهُ اللهُ مَالاً فَهْوَ يُهْلِكُه فِي الْحَقِّ، فَقَالَ رَجُلٌ: لَيْتَنِي أُوتِيتُ مِثْلَ مَا أُوتِيَ فُلاَنٌ، فَعَمِلْتُ مِثْلَ مَا يَعْمَلُ.

দুই ব্যক্তির বেলায় কেবল ঈর্ষা হতে পারে

১. আল্লাহ যাকে কুরআন শেখার তাওফীক দিয়েছেন, ফলে সে দিন-রাত তিলাওয়াত করে। তার প্রতিবেশী শুনে বলে, হায় যদি আমাকেও তার মতো তাওফীক দেওয়া হত; তাহলে আমিও এমন আমল করতাম!

২. আল্লাহ যাকে সম্পদ দিয়েছেন। ফলে সে তা উত্তম কাজে ব্যয় করে। তখন কেউ বলে, হায় যদি আমাকেও তার মতো দেওয়া হত, তাহলে তার মতো আমল করতাম! সহীহ বুখারী, হাদীস ৫০২৬

সাত.

আমাদের দেশের অনেক মসজিদেই ইমাম নির্বাচন (বিশেষত তারাবীর ইমাম) পদ্ধতি যথাযথ নয়। তারাবীর ইমাম নির্বাচনের পর্ব মসজিদের ইমাম ছাহেব এবং আস্থাভাজন কোনো এক বা একাধিক আলেমের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ওপর ছেড়ে দেওয়া কাম্য। কখনো দেখা যায়, নামেমাত্র কোনো আলেম নির্বাচনপর্বে থাকেন, প্রকৃত সিদ্ধান্ত মসজিদের আলেম নন এমন কোনো সদস্যের পছন্দমতো হয়। এটা অনধিকার চর্চা। আস্থাভাজন কোনো এক বা একাধিক আলেমের দায়িত্বে ছেড়ে দেওয়ার পর সেখানে আলেম নন এমন কোনো সদস্যের হস্তক্ষেপ তো নয়ই, উপস্থিতিও শোভনীয় নয়।

আট.

ইমাম নির্বাচনে সুর একমাত্র মানদণ্ড নয়। আকীদার বিশুদ্ধতার পর, তিলাওয়াতের বিশুদ্ধতা, ইয়াদের পরিপক্বতা, শরীয়তের মাসায়েলের বিষয়ে বিজ্ঞতা ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের বিচারে অগ্রগণ্য নির্ধারিত হবে। সন্দেহ নেই, বিষয়গুলো আলেমগণই যথাযথ অনুধাবন করতে পারেন। তাই তারাবীর ইমাম নির্বাচনের পর্ব আস্থাভাজন কোনো হাফেয আলেমের স্বাধীন সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

নয়.

কোনো কোনো মসজিদে দেখা যায়রমযান আসলে তারাবীর টাকা, হাফেয ছাহেবের হাদিয়া ইত্যাদি শিরোনামে অর্থ কালেকশন করা হয়। এসব কুরআন এবং ছাহেবে কুরআনের প্রতি একধরনের অবমাননা। যেকোনো ব্যক্তিত্বসম্পন্ন মানুষ এসবে অপমান বোধ করবেন এটাই স্বাভাবিক।

নামাযে কুরআন কারীম শোনানো কখনো বিনিময়যোগ্য নয়। ছাহেবে কুরআনের পুরস্কার তো মহান আল্লাহই দান করবেন

يُقَالُ، يَعْنِي لِصَاحِبِ الْقُرْآنِ،: اقْرَأْ، وَارْتَقِ، وَرَتِّلْ كَمَا كُنْتَ تُرَتِّلُ فِي الدُّنْيَا، فَإِنَّ مَنْزِلَتَكَ عِنْدَ آخِرِ آيَةٍ تَقْرَأُ بِهَا.

কুরআনওয়ালাকে (কুরআন শিক্ষালাভকারী ও তার হক আদায়কারীকে জান্নাতে) বলা হবে, পড়তে থাকো এবং আরোহণ করতে থাকো। আর তারতীলের সাথে তিলাওয়াত করো, যেমন তিলাওয়াত করতে দুনিয়ায়। তোমার মর্যাদা হবে সেখানে, যেখানে তুমি তিলাওয়াত করে পৌঁছবে। জামে তিরমিযী, হাদীস ২৯১৪

আর হাদিয়া হাদিয়া কী এবং হাদিয়া কীভাবে পেশ করতে হয় সে বিষয়ে আছে ইসলামের সুন্দর আদাব ও নীতিমালা, সে বিষয়গুলোও শেখা প্রয়োজন।

হাদিয়া ব্যক্তিবিশেষের বিষয়, যা স্বপ্রণোদিত হয়ে ব্যক্তি ব্যক্তিকে কৃত্রিমতামুক্ত মহব্বত, স্নেহ অথবা শ্রদ্ধাবোধ থেকে উপযুক্ত পরিবেশে পেশ করে থাকে। এটা ধার্য করা, আরোপ করা, চাপিয়ে দেওয়ার বিষয় নয়।

হাদিয়ার মানদণ্ড অনুপস্থিত হলে যাকে হাদিয়া দেওয়া হচ্ছে, তিনি অস্বস্তি বোধ করেন।

দশ.

অনেক মুসল্লী বিশেষ ব্যবস্থাপনায় ১৫/২০ রমযানের মধ্যে তারাবীতে খতম শুনে নেন। বাকি দিনগুলোতে তারাবীর বিষয়ে অবহেলা করেন। এটি কাম্য নয়। রমযানের দিন যত গত হয়, সামনের দিনগুলো আরও বেশি আল্লাহমুখিতা, যিকির-তিলাওয়াতে, দুআ ও রোনাজারিতে আরও অধিক মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।

আল্লাহ তাআলা আমাদের রমযানের সকল আমল সুন্দরভাবে আল্লাহর সন্তুষ্টি মোতাবেক পালন করার তাওফীক দান করুন।

[তারাবী বিষয়ে আরও পড়ুন :

১. হাফেজদের মা-বাবা ও উস্তাযগণের কৃতজ্ঞতা আদায় করুন

মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

রমযান ১৪৪৬/মার্চ ২০২৫ সংখ্যা

২. মাহে রমযান : হাফেয ছাহেবানের খেদমতে কিছু নিবেদন

মাওলানা মুহাম্মাদ যহীরুল ইসলাম

রমযান ১৪৪৫/মার্চ ২০২৪ সংখ্যা] 

 

 

advertisement