রমযান ১৪৪৭   ||   মার্চ ২০২৬

খবর... অতঃপর...

r নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দী দলগুলোর প্রতিনিধি দলের নেতাদের পরস্পর বিষোদ্গার এবং প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি

বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক

= রক্তক্ষয়ী গণঅভ্যুত্থানের পর অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে যদিও দেশের কিছু মানুষ মনে করেছিল নেতা-নেত্রীদের চরিত্র কিছুটা পাল্টাবে, রাজনীতিতে কিছুটা গুণগত পরিবর্তন আসবে; কিন্তু তেমন কোনো আলামত পরিলক্ষিত হয়নি। অতীতের মতো প্রায় একই প্রক্রিয়ায় চলেছে। পূর্বের নির্বাচনগুলোতে যেভাবে কাদা ছোড়াছুড়ি হত, একে অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ অকথ্য ভাষা ব্যবহার হত, প্রায় একই রকম এবারও হয়েছে। বিভিন্ন দল এবং জোট কেউ কারও থেকে কম যায়নি। এটি এ দেশের মানুষের অনেকটা নিয়তি যে, রাজনীতির নেতৃত্ব এমন লোকদের হাতেই কুক্ষিগত হয়ে আছে! অন্যভাবে বলতে গেলে, রাজনীতির পরিবেশটাই এমন বানিয়ে ফেলা হয়েছে, যেখানে সৎ ভদ্র সুশিক্ষিত সদাচরণকারী লোকেরা ভিড়তে চায় না। ভালো গুণের কেউ গেলেও সে ময়দানের বৈশিষ্ট্যগুলো দ্রুতই রপ্ত করে ফেলেন।

অন্যদিকে নেতা-নেত্রীরা নির্বাচন এলেই দরদ ও বিনয়ের মূর্ত প্রতীক হয়ে ওঠেন। হয়ে ওঠেন একেবারে হাতেম তাঈ। যদিও সেটা দানের নয়, প্রতিশ্রুতির; যেগুলো তিনি কখনো পুরণ করতে পারবেন না। তার দলও কখনো করতে পারবে না বা করতে হলেও আরও অনেক মেয়াদ লাগবে। সেসবের প্রতিশ্রুতিও তারা জনগণকে দিতে থাকেন। মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দেওয়ার সময় তারা জানে যে, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। ইশতেহারেও তারা এমন অনেক কিছু প্রকাশ করে, যেগুলোর কিছুই তারা করতে পারবে না। অতীতেও দেখা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলো যেসকল ইশতেহার প্রকাশ করেছে, সেগুলোর অর্ধেকও তারা কখনো বাস্তবায়ন করতে পারেনি। এমনিভাবে একেক নেতা-নেত্রীকে দেখা যায়, একেবারে সাধারণ জনগণের সাথে মিশে যাচ্ছে। তাদের অতীব ঘনিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের সাথে মিশছে, হাত মেলাচ্ছে, তাদের ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে, তাদের মনের কথা শুনছে; কিন্তু সবাই জানে, এটা নির্বাচনের আগ পর্যন্তই। নির্বাচনের পরে সাধারণ মানুষ কেন, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্যও নেতা-নেত্রীদের সঙ্গে দেখা করা জটিল ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়। সুখেদুঃখে তাদেরকে পাওয়া অনেক কঠিন হয়ে পড়ে। একই চিত্র এবারও দেখা গেছে। 

r পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা বেড়েছে : বাণিজ্য উপদেষ্টা

পদ্মা সেতু নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় করার কারণে চালের দাম বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশির উদ্দীন। তিনি বলেন, এত টাকা খরচ করে পদ্মা সেতু না বানিয়ে যদি সেচ (ইরিগেশন) খাতে বিনিয়োগ করা হতো, তাহলে চালের দাম কমপক্ষে ৫ টাকা কমে যেত। বরং আজ পদ্মা সেতুর দায় পরিশোধ করতে গিয়ে চালের দাম ২০ টাকা বেড়ে গেছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নেত্রকোনা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে গণভোট সম্পর্কিত মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

দৈনিক ইত্তেফাক, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

= যদিও এতদিন পর্যন্ত বলা হচ্ছিল, বাণিজ্য অনেক গতি পাবে! দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গ অনেক উন্নত হয়ে যাবে পদ্মা সেতু দ্বারা! এটা ঠিক যে, পদ্মা সেতু যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছে। কিন্তু বিভিন্ন হঠকারিতা, খরচ বাড়িয়ে নেওয়া, ছয় হাজার কোটি থেকে বাড়িয়ে ত্রিশ হাজার কোটিকে অতিক্রম করা এবং ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ এই সব মিলিয়ে খরচ যেখানে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে, সেটার দায় শোধ করতে গিয়ে তো রাষ্ট্র ও জনগণের অবস্থা খারাপ হবেই। এটাই তো বাস্তবতা।

r ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাট কিনতে ১ কোটি টাকা দিচ্ছে সরকার

ঢাকার লালমাটিয়ায় সরকারি কর্মকর্তাদের জন্য দোয়েল টাওয়ারনামক আবাসিক ভবন রয়েছে। সেই ভবনে ১ হাজার ২১৫ বর্গফুটের ফ্ল্যাট কিনতে অনুদান হিসেবে এ টাকা দেওয়া হচ্ছে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপস্থাপন করা এবিষয়ক নথিপত্র আজ মঙ্গলবার অনুমোদন করেছেন অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

প্রথম আলো, ২০ জানুয়ারি ২০২৬

= হাদির পরিবারকে সরকার আর্থিক সহায়তা দিলে সেটা তো সরকার নীরবেই দিতে পারে। সেটাকে গণমাধ্যমে প্রচার দেওয়া একটা হীন মানসিকতা। যারা প্রচার দিচ্ছে ভাবটা এমন দেখাচ্ছে, হাদির পরিবারকে টাকা দিয়ে বড় কোনো অনুগ্রহ করে ফেলছে। আসল কাজ যেটা ছিল, সেটা কিন্তু সরকার করছে না। সরকার এ বিষয়ে ব্যর্থতা নিয়েই বিদায় নিচ্ছে। প্রকাশ্য রাজপথে দেশের একজন সম্ভাবনাময় তরুণ নেতৃত্বকে হত্যা করা হল, কোটি মানুষের হৃদয়ে যার স্থান তৈরি হয়েছিল। এরকম নির্মমভাবে হত্যাকাণ্ডের পরও হত্যাকারীদের কোনো বিচার সরকার করে যেতে পারল না! মূল হত্যাকারীদের ধরতে পারল না! তাহলে কি খুনি পালানোর পেছনে সরকারেরই অন্দরমহলের কারও সহযোগিতা ছিল।

এখন বিভিন্ন মাধ্যমে শোনা যাচ্ছে, সে টাকা নাকি হাদির পরিবার গ্রহণই করেনি। যদি গ্রহণ না করেই থাকে, তাহলে সেটারও তো সমানভাবে প্রচার করা দরকার ছিল। সরকারের প্রেস কনফারেন্স করে জানিয়ে দেওয়া দরকার ছিল। সরকারের প্রেস উইং তো একটার পর একটা খবর নিয়েই বসে থাকে। তারা এটা কেন প্রচার দিল না, ‘হাদির পরিবারকে অনুদান দেওয়া হয়েছিল সেটা তারা গ্রহণ করেনি। এসব থেকে বোঝা যায়, হাদি হত্যার পেছনে বড় রকমের ষড়যন্ত্র আছে। হাদি শুধু একজন ব্যক্তি ছিল না। হাদি ছিল বাংলাদেশের জন্য সম্ভাবনাময় ও উজ্জ্বল একটা চরিত্র, একটা সাহস। সেই জিনিসটাকেই দমিয়ে দেওয়ার জন্য এবং সেটাকে কালিমালিপ্ত করার জন্য এগুলো সব পাঁয়তারা বলে মনে করেন অনেকে।

r দেশে হালাল পণ্য বাজার পাচ্ছে না

দেশের বড় করপোরেটগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাংলাদেশে হালাল পণ্যের বিষয়ে সচেতনতার প্রভাব পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে ভোক্তা আচরণে এখন পর্যন্ত খুব একটা দৃশ্যমান না। সাধারণভাবে কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্য ব্যতীত এ চিত্র নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্য থেকে শুরু করে শিল্প ও সেবা সব ধরনের পণ্যেই। এ কারণে শুধু খাদ্যপণ্যনির্ভর কোম্পানি ছাড়া তাদের মোট টার্নওভারে হালাল সনদ নেওয়া পণ্যের হিস্যা এখনো অনেক কম।

বণিকবার্তা, ২৩ জানুয়ারি ২০২৬

= হালাল পণ্য বাজার না পাওয়ার আসল কারণ কী? যেগুলো হালাল নয় এমন জিনিসকেও হালাল বলা হচ্ছে। অযথা কথা বলা হচ্ছে। এদেশের মানুষের একটা বিশাল অংশ যে এখনো হালালের ওপর চলতে চায়, হালালকে ধারণ করে চলতে চায়, সেগুলোর তো বহু আলামত রয়েছে। বিভিন্ন প্রয়োজনে দেশের বাইরে গেলে কষ্ট করেই অনেকে খাওয়া-দাওয়া করেন। অনেক দূরে গিয়ে তাদের খেয়ে আসতে হয়। না হলে সামান্য খেয়ে, কোনো রকমে খেয়ে বা ফলমূল খেয়ে থাকেন। দেশে তো হালালের প্রতি মুসলমানদের স্বভাবজাত টান রয়েছে। কিন্তু এখানে যা কিছুকে হালাল বলা হয়, এর অনেক কিছু হয়তো হালাল থাকে না। হালাল সার্টিফিকেট যারা দেয়, তাদের ওপর মানুষের আস্থা থাকে না। হালাল সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য ইসলামী ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন সংস্থা হয়েছে। তাদের প্রতি জনগণের কতটুকু আস্থা আছে?

হালাল পণ্য, হালাল ব্যবসা পৃথিবীব্যাপী এখন যেরকম আকর্ষণের বিষয় হয়েছে, তার সাথে সাথে পুঁজিবাদী ধারায় ব্যবসা করার একটা মানসিকতা এবং হালাল না হয়েও হালাল হিসেবে প্রচার করার মানসিকতা কিছু লোকের মধ্যে পরিলক্ষিত হচ্ছে। হালাল পণ্য বাজার না পাওয়ার এগুলোরও বড় ভূমিকা আছে।

আরেকটা কথা হল, প্রচলিত হালাল সিলধারী পণ্যগুলো যেমন : পশু প্রাণীর গোস্ত। সেগুলো আজকাল প্যাকেটজাত হয়ে বাজারজাত হয়। হালাল গায়ে লেখা থাকে। এগুলো সত্যিকার অর্থে ঠিকঠাকমতো করা হয় কি না? হালালের বিষয়টি এই দেশে দেখার ভালো কর্তৃপক্ষ আছে কি না? তারা সরেজমিনে একবার দেখে অথবা কাগজে-কলমে দেখে হালাল সার্টিফিকেট দিয়ে দেয়! এরপর কি তারা তদারকি করে? এমনিভাবে কোনো একটি ব্যবসার কাগজপত্র দেখে হালাল সার্টিফিকেট দিয়ে দেওয়ার পর কীভাবে জানবে, এই ব্যবসা আগামীকাল ঠিকমতো চলবে কি না? কতটুকু চলবে? আজকাল তো শরীয়ার নামে বিভিন্নজন কন্সাল্টেন্সি খুলে অতি উৎসাহী হয়ে হালাল সার্টিফিকেট দিচ্ছেন। তারা কি ভেবে দেখেছেন, তাদের পক্ষ থেকে সার্টিফিকেট নিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো শরীয়া অনুসরণ না করলে সাধারণ জনগণের হারামে পতিত হওয়ার নৈতিক দায় এই কন্সাল্টেন্টরা এড়াতে পারবেন না। তাদেরকে কি আল্লাহর কাছে জবাবদেহী করতে হবে না?

r হিন্দুদের নিরাপত্তায় শহীদ হতে হলে আমিই হবো প্রথম শহীদ

হিন্দু সম্প্রদায়ের উদ্দেশে দৃঢ় আশ্বাস ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আপনারা ভয় পাবেন না। নির্ভয়ে ভোট দিতে যাবেন, নির্ভয়ে ফিরে আসবেন। আমি মির্জা ফখরুল আলমগীর আপনাদের সঙ্গে আছি। আপনাদের জন্য যদি শহীদ হতে হয়, প্রথম শহীদ আমিই হবো, আমার দলের লোকেরাও হবে। গতকাল বিকালে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের চিলারং ইউনিয়নে এক নির্বাচনী পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মানবজমিন, ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

= তাঁর যদি শহীদ হওয়ার ইচ্ছা থাকত, তাহলে বিগত আমলেই শহীদ হয়ে যেতে পারতেন। যখন তার দলের অনেক লোক নির্যাতিত হয়েছে। দেশের সাধারণ জনগণ নির্যাতিত হয়েছে। এই নির্বাচনে দেখা গেছে, ফখরুল সাহেব একা নন, তার দলের বিভিন্ন লোক এবং অন্যান্য প্রতিদ্বন্দী জোটের লোকদের মুখ থেকেও সংখ্যালঘুদের বিষয়ে একেবারে প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি বের হয়েছে। আরেকটি ইসলামী দলীয় জোটের একদল শীর্ষ নেতা তো খ্রিস্টানদেরকে একেবারে আশ্বস্ত করেছেন, ‘আমরা শরীয়া আইন বাস্তবায়ন করব না।খ্রিস্টান নেতারা খুব খুশি প্রকাশ করেছেন এর জন্য। তো সংখ্যালঘুদের নিয়ে এই বাড়তি দরদ দেখিয়ে অনেকে নির্বাচনে বৈতরণী পার হতে চাচ্ছেন। তারা সংখ্যালঘুদেরকে নিয়ে এত দরদ দেখান। বাস্তবে সংখ্যালঘুদের প্রতি এবং তাদের সমস্যার সমাধানে কতটুকু আন্তরিক, সেটাও জনগণ জানে। সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় বিষয়, তাদের সামাজিক বিষয়গুলোর সুব্যবস্থাপনা এবং তাদের অধিকার প্রদানে কতটুকু আন্তরিক ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ সেটা তো তারা স্পষ্ট করেন না। বরং অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তারা সেসব ব্যাপারে বড়ই উদাসীন। ক্ষমতার রাজনীতির এসব খেল জনগণ বহু বছর থেকে দেখে আসছে। এর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

r গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে স্ত্রীসহ বিমানের এমডি সাফিকুর রহমান কারাগারে

১১ বছরের এক শিশু গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে করা মামলায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) সাফিকুর রহমান ও তাঁর স্ত্রী বিথীসহ ৪ জনকে গতকাল রোববার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটার দিকে রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আজ সোমবার বিকেলে তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়।

প্রথম আলো, ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

= এ বিষয়ে এখন পরস্পরবিরোধী খবর আসছে। খবরটি সঠিক হয়ে থাকলে নির্যাতনের খবর তো  এদেশের তিক্ত এবং গর্হিত বাস্তবতা। এখানকার এলিট থেকে নিয়ে অনেক লোকের মধ্যেই এ ধরনের চরিত্র আছে। দুর্বলদের ওপর নির্যাতন, গৃহকর্মীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ অহরহ শোনা যায়। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। কিন্তু ঘটনা সত্য হলে দুঃখের এবং আশ্চর্যের বিষয় হল, জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থার কর্ণধারের ঘরে যদি এমন অবস্থা হয়, সেখানে যদি গৃহকর্মী নিরাপদ আশ্রয় না পায়, তাহলে জাতির জন্য এর চেয়ে বড় দুঃখের খবর আর কী হতে পারে? কত বড় কলঙ্কজনক অধ্যায় এটা!

বাংলাদেশ বিমান নিয়ে, বিমানের লোকদেরকে নিয়ে, এমডিদেরকে নিয়ে অভিযোগ নতুন নয়। বিগত সরকার বহু তেলেসমাতি কাণ্ড বাংলাদেশ বিমান নিয়ে ঘটিয়েছে। জাতীয় পতাকাবাহী এই সংস্থার হাজারো কোটি টাকা গচ্চা দেওয়ার ইতিহাস তো পুরোনো। বিমান নিয়ে বর্তমান সময়েও বিগত দুই-তিন সপ্তাহে আরও বিভিন্ন কাণ্ড দেখা গেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অল্প কিছুদিনের মধ্যে বিদায় নেওয়ার কথা। অথচ তাদের বেশ কিছু লোককে বিমানে উপদেষ্টা হিসেবে ঢোকানো হয়েছে। এটা নিয়েও বিতর্ক উঠেছে। চারদিকে অনেকেই সতর্ক হয়ে উঠেছেন। সরকার তো বিদায় নেবে। সঙ্গে উপদেষ্টা ও সহকারীদেরও চলে যাওয়ার কথা। তাদের এখন বিমানে কাজ কী? বিমানে কেন তাদেরকে ঢোকানো হচ্ছে? এভিয়েশনের সাথে সম্পর্ক নেই বা কোনো অভিজ্ঞতা নেই এমন লোকদেরকেও বিমানে ঢোকানো হয়েছে। অনেকেই এসবের পেছনে হাজার হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য জড়িয়ে আছে বলে প্রচার করছেন। তবে বিনা যাচাইয়ে কোনো কিছুই সুনিশ্চিত বলা যাচ্ছে না।

একথা তো সত্য যে, বাংলাদেশের এই সংস্থাটি নিয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের কোনো কমতি বিগত দিনগুলোতে ছিল না। ভবিষ্যতে সেগুলো আরও প্রকট আকার ধারণ করবে বলে মনে হচ্ছে। এই সংস্থাটি আগামী সরকারের জন্য শ্বেতহস্তী ও চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে বলেই মনে হচ্ছে। বিমানের এমডির ঘটনা সত্য হলে অবশ্যই এর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি সুনিশ্চিত করা দরকার। ভবিষ্যতে এধরনের লোকদেরকে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিমান কেন, কোনো সাধারণ পদেও নিয়োগ দেওয়া থেকে বিরত থাকা দরকার।

 

r এপস্টেইন নথিতে কূটনীতিকের মন্তব্য

ভারতীয় আর সাপের মুখোমুখি হলে আগে ভারতীয়কেই মারো

যুক্তরাষ্ট্রের কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফ্রি এপস্টেইন-সংক্রান্ত নথিতে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বহু ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে। এসব নথিতে সাবেক ও বর্তমান বিশ্বনেতা, শিল্পপতি ও কূটনীতিকদের যোগাযোগ, ই-মেইল ও ব্যক্তিগত মন্তব্যের তথ্য রয়েছে। নথিগুলোতে অন্তত ১ লাখ ৮০ হাজার ছবি ও দুই হাজার ভিডিও থাকার কথা বলা হয়েছে।

নথিতে ভারত নিয়েও বহু মন্তব্য করতে দেখা গেছে। এপস্টেইনের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক জাতিসংঘ দূত নরওয়ের কূটনীতিক টেরিয়ে রোড-লারসেন ২০১৫ সালে এপস্টেইনকে পাঠানো এক ইমেইলে প্রকাশ্য বর্ণবাদী মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘এই প্রবাদটি শুনেছ? সাপ আর ভারতীয় একসঙ্গে পেলে আগে ভারতীয়কে মারো।

ইত্তেফাক, ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

= সকল ভারতীয় নিশ্চয় একরকম নয়। কিন্তু বাংলাদেশীদের মতো নরওয়ের সেই কূটনীতিকও হয়তো ভারতীয়দের থেকে অনেক খারাপ অভিজ্ঞতা পেয়েছেন। এজন্য তিনি ওভাবে বলেছেন। কারণ নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপির ভারতে এখন আসলে সাপের ভূমিকা অবলম্বনকারী লোকের সংখ্যাই দৃশ্যমান।

r নোবেল না পাওয়ায় শুধু শান্তির কথা ভাবতে আর বাধ্য নই : ট্রাম্প

নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে লেখা এক চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি আর শুধু শান্তির কথা ভাবতেবাধ্যবাধকতা অনুভব করছেন না। কারণ, তাঁকে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়নি। একইসঙ্গে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার আকাক্সক্ষা পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিনল্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতাকারী ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এতে আপত্তি জানিয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গর স্টোর ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার স্টাব। তার প্রতিক্রিয়ায় নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীকে ওই চিঠি পাঠিয়েছেন ট্রাম্প।

চিঠিতে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আটটির বেশি যুদ্ধ থামানোর পরও আপনার দেশ আমাকে নোবেল শান্তি পুরস্কার না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তাই আমি এখন আর কেবল শান্তির কথা ভাবতে বাধ্য নই। যদিও এটিই (শান্তি) সব সময় প্রাধান্য পাবে। এখন আমি চিন্তা করতে পারি, কোনটা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ভালো ও সঠিক।

প্রথম আলো, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬

= মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আসলে তিনটা নোবেল প্রাইজ দিয়ে দেওয়া দরকার। নোবেল কমিটি না দিলেও পৃথিবীর শান্তিকামী মানুষ এবং যেসকল দেশকে তিনি এখন রক্তচক্ষু দেখাচ্ছেন, তারা চান্দা তুলে হলেও নোবেলের মতো প্রাইজ তৈরি করে ট্রাম্পের গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া দরকার!

যদি তিনি সত্যিই নোবেলের জন্য পৃথিবীতে নতুন করে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে থাকেন, তাহলে সেটা তিনি বন্ধ করবেন। কিন্তু আসল সত্যটা কী? ডোনাল্ড ট্রাম্পকে নোবেল প্রাইজ দেওয়া হলেও ভিনদেশি খনিজ সম্পদের ওপর থেকে লোলুপ দৃষ্টি ফেরাতে পারতেন বলে মনে হয় না। পৃথিবীতে সম্ভবত প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্টই নন, প্রথম ব্যক্তিও তিনি হবেন, যিনি প্রকাশ্যে নোবেল চেয়ে বেড়াচ্ছেন কয়েক বছর ধরে। কিন্তু তার কথা কেউ শুনছে না। পৃথিবীর সুপার পাওয়ার দাবিদার দেশের রাষ্ট্রপতির যদি হয় এ অবস্থা, তাহলে আর কী বলার আছে!

গ্রন্থনা : ওয়ালিউল্লাহ খান

 

 

advertisement