রমযান ১৪৪৭   ||   মার্চ ২০২৬

খোশ আমদেদ মাহে রমযান
‖ শাসক ও জনতা সবাই রমযান ও কুরআন থেকে হেদায়েত ও বরকত গ্রহণ করি

রমযান আল্লাহ তাআলার অনেক বড় নিআমত। বরকতপূর্ণ মাস। প্রতি বছরই এ মাস আমাদের মাঝে হাযির হয় মাগফিরাত, রহমত ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির তোহফা নিয়ে। আমাদের কত গোনাহ! কত নাফরমানী! কিন্তু আল্লাহর মেহেরবানী, বরকতময় এ মাস প্রতি বছরই আমরা লাভ করি।

আমাদের এই ভূখণ্ডে এবছর এমন এক সময়ে এই মাসটি এসে উপস্থিত হয়েছে, যখন আমরা সবাই এর বরকত ও হেদায়েতের অনেক বেশি মুহতাজ।

নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন

مَنْ صَامَ رَمَضَانَ وَعَرَفَ حُدُودَه، وَتَحَفَّظَ مِمَّا كَانَ يَنْبَغِي لَه أَنْ يَتَحَفَّظَ فِيه، كَفَّرَ مَا قَبْلَه.

যে ব্যক্তি রমযানের রোযা রাখল, রমযানের উসূল ও আদব জানল এবং তা রক্ষা করল এবং রমযানে যেসব বিষয় থেকে বেঁচে থাকা দরকার, সেসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করল, তার জন্য বিগত জীবনের কাফফারা হয়ে যাবে। মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১১৫২৪; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ৩৪৩৩

এই হাদীসে একটি বাক্য এসেছে

وَعَرَفَ حُدُودَه.

অর্থাৎ কেবল রোযা রাখে, তা-ই নয়। রমযানের উসূল ও আদব জানে এবং তা রক্ষা করে। রমযানের নির্ধারিত বিভিন্ন সীমারেখার প্রতি যত্নবান হয়। রমযানের শিক্ষা ও সতর্কতার প্রতি গুরুত্ব দেয়। যেমন সাহরী ও ইফতারের সময়ের প্রতি লক্ষ রাখে। রোযার ক্ষেত্রে ইহতিসাব তথা সওয়াব ও আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের নিয়তকে হাযির রাখে। উত্তমভাবে তারাবী আদায় করে। সর্বোপরি সকল কাজে আল্লাহর হুকুম পালন এবং তাঁর সন্তুষ্টি লাভই তার একমাত্র উদ্দেশ্য হয়।

হাদীসটির পরবর্তী অংশে রয়েছে

وَتَحَفَّظَ مِمَّا كَانَ يَنْبَغِي لَه أَنْ يَتَحَفَّظَ فِيه.

অর্থাৎ যেসব কাজ থেকে বেঁচে থাকা দরকার এবং যেসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করা দরকার, সেসব বিষয়ের প্রতি পরিপূর্ণভাবে গুরুত্বারোপ করে।

রমযানে বেঁচে থাকা দরকার কোন্ কোন্ বিষয় থেকে?

সর্বপ্রকার গোনাহ তথা আল্লাহর অসন্তুষ্টিমূলক সকল কাজ থেকে। গীবত ও পরনিন্দা থেকে, হারাম থেকে, সর্বপ্রকার জুলুম ও অন্যায় থেকে, বিবাদ বিসংবাদ থেকে, মিথ্যা ও প্রতারণা থেকে।

মূলত রমযান তাকওয়ার শিক্ষা দেয়। আল্লাহর হুকুম পালন ও তার নিষেধ থেকে বিরত থাকার অনুশীলন করায়। প্রত্যেকের জীবনকে পরিশুদ্ধ করার সুযোগ সৃষ্টি করে এবং ভবিষ্যৎ জীবনকে গোনাহমুক্ত রাখার শক্তি যোগায়।

আমরা আমাদের ব্যক্তিজীবনে কত রকম গোনাহে জড়িয়ে যাই। কত রকম পাপাচারে আসক্ত হয়ে পড়ি। কত অন্যায় ও অনৈতিকতা থেকে বের হতে পারি না। এক্ষেত্রে প্রত্যেকেরই আলাদা আলাদা বিষয় থাকে। ফলে দেখা যায়, কেউ নির্দিষ্ট কোনো গোনাহ থেকে বেঁচে থাকে ঠিক; কিন্তু অন্য কোনো বড় গোনাহ থেকে বাঁচতে পারে না। ছোট ছোট অনেক নেক আমল ও ভালো কাজে অভ্যস্ত থাকে, কিন্তু ভয়ংকর কিছু মন্দ অভ্যাসে জড়িয়ে যায়। এজন্য প্রত্যেকের নিজের হিসাব নিতে হবে এবং নিজ নিজ জায়গা থেকে তাকওয়ার অনুশীলন করতে হবে। এভাবে সকল অন্যায় ও পাপাচার থেকে বাঁচতে হবে এবং আবশ্যকীয় সকল নেক আমলে অভ্যস্ত হতে হবে। এ সংকল্প ও শিক্ষা যদি ধারণ করতে পারি, তবেই রমযান থেকে সর্বোচ্চ ফায়েদা লাভ করা হল।

মনে রাখতে হবে, তাকওয়ার শিক্ষা সবার জন্য। শুধু আলেম-উলামা, আমজনতা কিংবা সমাজের কোনো বিশেষ শ্রেণির জন্য নয়। কারণ আমরা সবাই তো আল্লাহর বান্দা। সবারই তো দরকার জান্নাত এবং জাহান্নাম থেকে মুক্তি লাভ। সুতরাং সবাইকে একথা স্মরণ রাখতে হবে এবং এ মাসের সর্বোচ্চ ফায়েদা হাসিলের চেষ্টা করতে হবে। 

তাবিয়ী আবু জাফর বাকের রাহ. থেকে বর্ণিত এক হাদীসে এসেছে

مَنْ أَتَى عَلَيْهِ شَهْرُ رَمَضَانَ صَحِيحًا مُسْلِمًا، صَامَ نَهَارَه، وَصَلّى وِرْدًا مِنْ لَيْلِه، وَغَضَّ بَصَرَه، وَحَفِظَ فَرْجَه وَلِسَانَه وَيَدَه، وَحَافَظَ عَلى صَلَاتِه مَجْمُوعَةً، وَبَكَّرَ إِلى جُمَعِه، فَقَدْ صَامَ الشَّهْرَ، وَاسْتَكْمَلَ الْأَجْرَ، وَأَدْرَكَ لَيْلَةَ الْقَدْرِ، وَفَازَ بِجَائِزَةِ الرَّبِّ.

যে মুসলিম সুস্থ অবস্থায় রমযান মাস লাভ করে, এরপর দিনের বেলা রোযা রাখে, রাতে তারাবী আদায় করে, দৃষ্টি অবনত রাখে, লজ্জাস্থান, জিহ্বা ও হাতের হেফাযত করে, সকল নামাযের প্রতি যত্নবান হয়, জুমার দিনগুলোতে আগে আগে জুমায় হাজির হয় সে এ মাসের রোযা রাখল, পরিপূর্ণ প্রতিদান পেল, লাইলাতুল কদর লাভ করল এবং রবের পুরস্কার পেয়ে সফল হল।  ফাযায়েলে রমযান, ইবনে আবিদ দুনইয়া, পৃ. ৪৮ (২১)

সালাফে সালিহীন বলেছেন

إِذَا صُمْتَ فَلْيَصُمْ سَمعُكَ وَبَصَرُكَ وَلِسَانُكَ عَنِ الْكَذِبِ وَالْمَحَارِمِ.

যখন তুমি রোযা রাখ, তোমার কান, চোখ ও জিহ্বা যেন মিথ্যা ও হারাম থেকে বিরত থাকে। মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, বর্ণনা ৮৯৭৩; শুআবুল ঈমান, বাইহাকী, বর্ণনা ৩৬৪৬

রমযান হল সিয়ামের মাস এবং কুরআনের মাস। রমযানুল মুবারকের সিয়াম ফরজ হওয়ার একটি হিকমাহ এটাও যে, এ মাসে কুরআন কারীমের নিআমত লাভ হয়েছে।

আমাদের ওপর সবসময় কুরআনের হক রয়েছে। সেই হক রমযানে আরও বেড়ে যায়। তারাবীতে কুরআন কারীম খতম করা এবং খতম শোনা ছাড়াও তাহাজ্জুদ ও অন্যান্য নফলে যত বেশি তিলাওয়াত করা যায়, ততই ভালো। পুরো মাসে দেখে দেখে তিলাওয়াত করা এবং অধিক পরিমাণে খতম করার আমল তো আছেই। 

কুরআনের দাওয়াত সকলের প্রতি। কুরআন সব শ্রেণির মানুষকে আহ্বান করে। কল্যাণের দিকে ডাকে। সমস্ত অকল্যাণ থেকে বারণ করে। কুরআন সব বিষয়ে হেদায়েত দান করে এবং সর্বোত্তম হেদায়েত দান করে।

اِنَّ هٰذَا الْقُرْاٰنَ یَهْدِیْ لِلَّتِیْ هِیَ اَقْوَمُ.

বস্তুত এ কুরআন সেই পথ দেখায়, যা সর্বাপেক্ষা সরল। সূরাতুল ইসরা (১৭) : ৯

শাসক ও জনতা সব শ্রেণিই যদি আমরা হেদায়েত গ্রহণের জন্য কুরআন তিলাওয়াত শুরু করি, তাহলে সবাই কিন্তু এতে নিজ নিজ করণীয় এবং বর্জনীয় খুঁজে পাব। 

এই যে দেখুন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একেবারেই সন্নিকটে। কদিন পরেই গঠিত হচ্ছে নতুন সরকার। যদি শাসকগণ এই মুহূর্তে সূরা নূর’-এর ৫৫ ও ৫৬ নম্বর আয়াতদুটি পড়েন, তাহলে পেয়ে যাবেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন

وَعَدَ اللٰهُ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا مِنْكُمْ وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَیَسْتَخْلِفَنَّهُمْ فِی الْاَرْضِ كَمَا اسْتَخْلَفَ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ  وَ لَیُمَكِّنَنَّ لَهُمْ دِیْنَهُمُ الَّذِی ارْتَضٰی لَهُمْ وَ لَیُبَدِّلَنَّهُمْ مِّنْۢ بَعْدِ خَوْفِهِمْ اَمْنًا  یَعْبُدُوْنَنِیْ لَا یُشْرِكُوْنَ بِیْ شَیْـًٔا  وَ مَنْ كَفَرَ بَعْدَ ذٰلِكَ فَاُولٰٓىِٕكَ هُمُ الْفٰسِقُوْنَ  وَ اَقِیْمُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتُوا الزَّكٰوةَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُوْنَ.

তোমাদের মধ্যে যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে, আল্লাহ তাদেরকে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন, তিনি অবশ্যই পৃথিবীতে তাদেরকে প্রতিনিধিত্ব দান করবেন, যেমন প্রতিনিধিত্ব দান করেছিলেন তাদের পূর্ববর্তীদেরকে। এবং তাদের জন্য তিনি সেই দ্বীনকে অবশ্যই প্রতিষ্ঠা দান করবেন, যে দ্বীনকে তাদের জন্য মনোনীত করেছেন। এবং তারা যে ভয়-ভীতির মধ্যে আছে, তার পরিবর্তে তাদেরকে অবশ্যই নিরাপত্তা দান করবেন। তারা আমার ইবাদত করবে। আমার সাথে কোনো কিছুকে শরীক করবে না। এর পরও যারা অকৃতজ্ঞতা করবে, তারাই অবাধ্য সাব্যস্ত হবে। আর তোমরা নামায কায়েম কর, যাকাত আদায় কর এবং রাসূলের আনুগত্য কর, যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়। সূরা নূর (২৪) : ৫৫-৫৬

যদি সূরা ছদ তিলাওয়াত করেন, তাতে পাবেন আল্লাহ তাআলার এই বাণী

یٰدَاوٗدُ اِنَّا جَعَلْنٰكَ خَلِیْفَةً فِی الْاَرْضِ فَاحْكُمْ بَیْنَ النَّاسِ بِالْحَقِّ وَ لَا تَتَّبِعِ الْهَوٰی فَیُضِلَّكَ عَنْ سَبِیْلِ اللهِ  اِنَّ الَّذِیْنَ یَضِلُّوْنَ عَنْ سَبِیْلِ اللهِ لَهُمْ عَذَابٌ شَدِیْدٌۢ بِمَا نَسُوْا یَوْمَ الْحِسَابِ.

 

হে দাউদ! আমি পৃথিবীতে তোমাকে খলীফা বানিয়েছি। সুতরাং তুমি মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচার করো এবং খেয়াল খুশির অনুগামী হয়ো না। অন্যথায় তা তোমাকে আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করবে। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তাদের জন্য আছে কঠিন শাস্তি, যেহেতু তারা হিসাব দিবসকে ভুলে গিয়েছিল। সূরা ছদ (৩৮) : ২৬

যদি সূরা হজে¦র ৪১ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করেন, তাতে পাবেন, আল্লাহ তাআলা বলেছেন

اَلَّذِیْنَ اِنْ مَّكَّنّٰهُمْ فِی الْاَرْضِ اَقَامُوا الصَّلٰوةَ وَ اٰتَوُا الزَّكٰوةَ وَ اَمَرُوْا بِالْمَعْرُوْفِ وَ نَهَوْا عَنِ الْمُنْكَرِ  وَ لِلهِ عَاقِبَةُ الْاُمُوْرِ.

...তারা এমন, যদি আমি তাদেরকে দুনিয়ায় ক্ষমতা দান করি, তবে তারা নামায কায়েম করবে, যাকাত আদায় করবে, মানুষকে সৎ কাজের আদেশ করবে ও অন্যায় কাজে বাধা দেবে। আর সকল কাজের পরিণতি তো আল্লাহরই হাতে। সূরা হজ্ব (৭৮) : ৪১

আমরা সকল মুমিন-মুসলিম যদি সূরা নিসার ৫৯ নম্বর আয়াত তিলাওয়াত করি, তাতে পাব আল্লাহ তাআলার এই ইরশাদ

یٰۤاَیُّهَا الَّذِیْنَ اٰمَنُوْۤا اَطِیْعُوا اللهَ وَ اَطِیْعُوا الرَّسُوْلَ وَ اُولِی الْاَمْرِ مِنْكُمْ ۚ فَاِنْ تَنَازَعْتُمْ فِیْ شَیْءٍ فَرُدُّوْهُ اِلَی اللهِ وَ الرَّسُوْلِ اِنْ كُنْتُمْ تُؤْمِنُوْنَ بِاللهِ وَ الْیَوْمِ الْاٰخِرِ  ذٰلِكَ خَیْرٌ وَّ اَحْسَنُ تَاْوِیْلًا.

হে মুমিনগণ! তোমরা আনুগত্য কর আল্লাহর, তাঁর রাসূলের এবং তোমাদের মধ্যে যারা এখতিয়ারধারী তাদেরও। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যদি কোনো বিষয়ে বিরোধ দেখা দেয়, তবে তোমরা আল্লাহ ও পরকালে সত্যিকারের বিশ্বাসী হয়ে থাকলে সে বিষয়কে আল্লাহ ও রাসূলের ওপর ন্যস্ত কর। এটাই উৎকৃষ্টতর এবং এর পরিণাম সর্বাপেক্ষা সুন্দর। সূরা নিসা (৪) : ৫৯

এতে শাসকগোষ্ঠী ও সর্বশ্রেণির জনগণের জন্যই মৌলনীতি রয়েছে যে, শাসকরা কীভাবে শাসন করবে, আর তাদের প্রতি জনগণের করণীয় কী হবে।

শাসকগণ শাসন করবেন কুরআন-সুন্নাহ ও শরীয়ত মোতাবেক। এমতাবস্থায় জনগণের কাজ হবে তাদের আনুগত্য করা। এর মধ্যে যে বিষয়ে দ্বন্দ্ব দেখা দেবে, তার সমাধান তারা কুরআন-সুন্নাহ তথা ইসলামী শরীয়ত থেকে জেনে নেবে এবং উভয় পক্ষই তা মেনে নেবে।

মানব জীবনের প্রতিটি অঙ্গনে রয়েছে কুরআন কারীমের হেদায়েত। তাই ইবাদত-বন্দেগী এবং ব্যক্তিজীবন ও সামাজিক জীবনের বিধি-বিধান যেমন নিতে হবে কুরআন থেকে, তেমনিভাবে অর্থনীতি, রাজনীতি, বিচারব্যবস্থাসহ সব অঙ্গনের হেদায়েতও নিতে হবে কুরআন থেকে। নিতে হবে নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সীরাত থেকে, যে সীরাতকে আমাদের জন্য উসওয়ায়ে হাসানা ঘোষণা করা হয়েছে।

আমরা যদি আসলেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই, তাহলে তা একমাত্র কুরআন-সুন্নাহ ও ইসলামী শরীয়ত অনুসরণের মাধ্যমেই সম্ভব। পবিত্র শাবান ও রমযানে দেশের নতুন এ যাত্রা রমযান ও কুরআনের সকল হেদায়েত ও বরকত নিয়ে হোক।

 

বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক

১৭ শাবান ১৪৪৭ হিজরী

৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঈসায়ী

 

 

advertisement