পাঠকের পাতা
‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগের সংকলন প্রকাশের অনুরোধ
২০০৯ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে মাসিক আলকাউসার পড়ছি। আলকাউসার দ্বীনী মহলে একটি শক্তিশালী দলীল। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ও ছাত্রদের উৎসাহিত করি এর নিয়মিত পাঠক হওয়ার জন্য।
২০০৫ থেকে আলকাউসারের যাত্রা শুরু। প্রায় ২০ বছরের পদযাত্রা। এই পথচলা আল্লাহ কিয়ামত পর্যন্ত কায়েম রাখুন।
আমাদের প্রত্যাশা– ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগের বিষয়ভিত্তিক মাসআলাগুলো সুবিন্যস্ত হয়ে সামনে আসা। এর মধ্যে নামাযের মাসআলাগুলো যদি একত্রিত করে স্বতন্ত্র ভলিউমে বের করা হত, উম্মাহর অনেক বড় ফায়েদা হত।
আলকাউসারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও দরকারি বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়। মাসআলা-মাসায়েল যেহেতু বিস্তৃত বিষয়। তাই অন্তত নামাযের মাসআলাগুলো একসাথে এলে অনেক ফায়েদা হবে। উম্মাহ ব্যাপক উপকৃত হবে।
এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের সুনজর ও সুমর্জি কামনা করছি। আল্লাহ আপনাদের উত্তম জাযায়ে খায়ের দান করুন৷
–মুহাম্মাদ আবু দারদা
দাউদকান্দি, কুমিল্লা
আলকাউসার : আমার পাঠ ও প্রেরণা
মাসিক আলকাউসার পত্রিকার সঙ্গে আমার সখ্যতা হিফয বিভাগ থেকেই। আমাদের উস্তায নিয়মিত পত্রিকাটি সংগ্রহ করতেন আর পাঠশেষে পুরোনো সংখ্যাগুলো সংরক্ষণের দায়িত্বটা ছিল আমার। সেই সুবাদে কৌতূহলবশত ‘প্রচলিত ভুল’ বিভাগটি দিয়ে শুরু হয় আমার আলকাউসার পাঠ। সেই থেকে আজ অবধি দীর্ঘ আট বছর ধরে এই পত্রিকাটি ধারাবাহিকভাবে আমার চিন্তা-চেতনাকে সমৃদ্ধ করে চলেছে।
সত্যি বলতে আলকাউসার সাধারণ কোনো পত্রিকা নয়। বিশেষত উলামা ও তলাবায়ে কেরামের নিকট এর সম্মান ও মর্যাদা অনন্য। দ্বীনী মাসআলা–-মাসায়েল, সমকালীন রাজনৈতিক ঘটনা এবং বৈশ্বিক নানা প্রেক্ষাপটে উলামায়ে কেরামের অবস্থান নির্ধারণে এর ভূমিকা অপরিসীম। তলাবায়ে কেরামের জন্য মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক ছাহেব দা. বা.-এর ‘শিক্ষা পরামর্শ’ বিভাগটি অত্যন্ত উপকারী ও দিকনির্দেশনামূলক। আমার একটি বিনীত অনুরোধ– এই অংশে যদি তলাবায়ে কেরামের জন্য প্রয়োজনীয় কিতাবসমূহের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা ও পরিচিতি ধারাবাহিকভাবে উপস্থাপন করা হত, তবে তা পাঠকদের জন্য বিশেষ উপকার বয়ে আনত।
আলকাউসারের প্রতিটি সম্পাদকীয় গবেষণালব্ধ ও পরিমার্জিত। সমসাময়িক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর গভীর বিশ্লেষণ আমাদের ভাবনায় ভারসাম্য আনতে সাহায্য করে। ‘আনওয়ারুল কুরআন’ বিভাগ আমার পছন্দের শীর্ষে।
বর্তমানে মাওলানা সা‘দ সাহেবের বিতর্কিত বক্তব্য ও ভ্রান্ত মতবাদ বিষয়ে উলামায়ে বাংলাদেশের ফতোয়া একটি অপরিহার্য ও সময়োপযোগী কাজ। পূর্বে এ বিষয়ে বহু লেখা, লিফলেট ও বই প্রকাশ পেলেও, প্রতিটি ইশকালকে দলীলভিত্তিক, গবেষণাসমৃদ্ধ ও সুসংগঠিতভাবে উপস্থাপনের এই প্রচেষ্টা বাংলা ভাষায় দুষ্প্রাপ্য– এমনটাই আমার উপলব্ধি। যারা মেধা ও শ্রম দিয়ে এ গুরুত্বপূর্ণ কাজ আঞ্জাম দিচ্ছেন– দুআ করি, আল্লাহ তাআলা তাঁদের খেদমত কবুল করুন এবং উত্তম বদলা দান করুন।
–মুহাম্মাদ জাফর তৈয়ার
জামেআ হাকীমুল উম্মত কেরানীগঞ্জ
অনুপ্রেরণার আরেক নাম ‘মাসিক আলকাউসার’
নাহবেমীরের বছর আমার এক প্রিয় উস্তাযের একটি কথায় আমার অন্তরে জন্ম নেয় আলকাউসারের প্রতি ভিন্ন এক অনুরাগ। অনন্তর হয়ে উঠি আলকাউসারের নিয়মিত পাঠক। মাসের শুরুতেই প্রহর গুনতে থাকি, কবে আসবে প্রিয় পত্রিকা? যখন তা হাতে পাই, তখন যেন আনন্দের তরঙ্গ বয়ে যায় হৃদয়ে।
পাওয়ামাত্রই সূচিপত্রের দিকে দৃষ্টি দেই। তার মধ্যে প্রথমেই চোখ রাখি, শিক্ষার্থীদের পাতার শিক্ষা পরামর্শে। যা অধ্যয়নে নেহায়েত উপকৃত হয়েছি এবং এখনো হচ্ছি। শিক্ষা পরামর্শ পড়ে না চাইতেও অনেক প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছি। এরপর পড়ি সম্পাদকীয়। অনুভব করি আলাদা এক স্বাদ। আর আমীনুত তালীম ছাহেবের লেখা বা জুমার বয়ান আমার কোমল হৃদয়ের সবচে বড় চাওয়া।
মোটকথা, আমি আলকাউসার থেকে যতটা উপকৃত হয়েছি, তা ব্যক্ত করা গায়রে মুমকিন। তাই আলকাউসার পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
–মুহাম্মাদ আসাদুজ্জামান
শিক্ষার্থী, জামিয়াতুস সুন্নাহ
সীরাত বিষয়ে নতুন বিভাগ চাই
আমি নয় মাস যাবৎ আলকাউসারের নিয়মিত পাঠক। প্রতিটি বিভাগ আমাকে ভীষণ মুগ্ধ করে। বিশেষ করে ‘সম্পাদকীয়’ এবং ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগ। প্রতিটি সম্পাদকীয় আমাকে দান করে নতুন চিন্তা, নতুন চেতনা। নতুন ভাব ও ভাবনা। আর ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ বিভাগে খুঁজে পাই, ইলমের হাজারো মণিমুক্তা।
তবে আমার একটি কামনা, আমি চাই আলকাউসারের একটি নতুন বিভাগ চালু হোক। যার শিরোনাম হবে ‘সীরাত পাঠ’। কেননা আমাদের বর্তমান অবস্থা –আল্লাহ মাফ করুন– এতটাই নাজুক যে, আমাদের অধিকাংশই প্রিয় নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের জীবন চরিত সম্পর্কে গাফেল ও উদাসীন। এটা একজন মুসলিমের জন্য শুধু অশোভনই নয়, বরং চরম ক্ষতির। তাই আমাদের দিলের তামান্না, আলকাউসারে সীরাত বিষয়ে একটি বিভাগ চালু হোক। আর এটা শুধু মা‘লুমাতের জন্য নয়; বরং প্রিয় নবীজীর ‘আলউসওয়াতুল হাসানাহ’ নিজের মাঝে ধারণ করার জন্য।
আল্লাহ আমাদের আগামীর পথচলা সহজ করে দিন– আমীন।
–মুহাম্মাদ মামুনুল হক
বংশাল, ঢাকা।
আলকাউসার : দিকভ্রান্ত পথিকের উত্তম পথনির্দেশক
আমি আলকাউসারের একজন পাঠক। প্রায় দেড় যুগ ধরে এর সাথে আমার পরিচয় ও সখ্যতা। তাকে আমি জীবনে পেয়েছি অসময়ের বন্ধু, হতাশায় সান্ত্বনা দানকারী ও দিকভ্রান্ত পথিকের উত্তম পথনির্দেশক হিসেবে। এর মাধ্যমে সমাধান হয়েছে জীবনের শত-সহস্র জটিলতা। এককথায় বলতে গেলে আমি আজীবন এর প্রতি চিরঋণী ও চির কৃতজ্ঞ।
হৃদয়ের গহীন থেকে দুআ থাকবে এ পত্রিকার লেখকবৃন্দ, গবেষকবৃন্দ ও পাঠকবৃন্দের জন্য; আল্লাহ তাআলা যেন সকলকে কবুল করেন। আর মহান আল্লাহ যেন এই পত্রিকাকে স্বাতন্ত্র্য ও মর্যাদা বজায় রেখে কিয়ামত পর্যন্ত জারি রাখেন– আমীন।
–মোহাম্মাদ সুলাইমান
জামিআ কাসেমিয়া মুন্সীগঞ্জ
আলকাউসারের সাথে আমার প্রথম পরিচয়
বয়স আমার বারো বা তেরো। তখন আমি হিফয খানায় পড়ি। একদিন দেখলাম, আমার এক সহপাঠী কী যেন পড়ছে। আমার কৌতূহল জাগল সে কী পড়ছে তা দেখার জন্য। কাছে গিয়ে দেখি, সে আলকাউসারের ‘আপনি যা জানতে চেয়েছেন’ এই বিভাগের মাসআলাগুলো পড়ছে। তার সাথে আমিও পড়তে শুরু করি। পড়ে আমার খুব ভালো লাগল। আলকাউসারের সাথে এভাবে আমার প্রথম পরিচয়। তখনই আলকাউসার আমার অন্তরে জায়গা করে নিল।
এর পর থেকে যখনই সুযোগ হত আলকাউসার পড়তাম। এক বছর থেকে আলহামদু লিল্লাহ নিয়মিত পড়ছি এবং নিজেকে সমৃদ্ধ করছি। প্রতিনিয়ত আলকাউসার আমার চিন্তার জগতে পরিবর্তন নিয়ে আসছে এবং অনেক অজানা প্রশ্নের উত্তর লাভ করছি।
একজন শিক্ষার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের পাতাটি আমার কাছে খুব ভালো লাগে। তাতে শিক্ষাজীবনের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা পাই।
–কামরান আহমাদ
কানাইঘাট, সিলেট
হিন্দু ও খ্রিস্টধর্মের স্বরূপ বিষয়ে নিয়মিত লেখা চাই
আলহামদু লিল্লাহ! মাসিক আলকাউসার পত্রিকাটি বর্তমানে অনেক প্রচার-প্রসার হচ্ছে। আমাদের মাদরাসাতেও অনেকে সংগ্রহ করে। এর দ্বারা অনেক উপকৃত হচ্ছি।
আমার আবেদন, পত্রিকাটিতে নিয়মিত হিন্দু ও খ্রিস্টধর্মের স্বরূপ বিষয়ে লেখা থাকলে আমরা অনেক উপকৃত হব। এতে আমরা আমাদের প্রতিবেশী হিন্দু ও খ্রিস্টানদেরকে তাদের ধর্মের স্বরূপ তুলে ধরে ইসলামের দাওয়াত দিতে পারব।
–রিফাত হাসান
জামিয়া আরাবিয়া নিউটাউন, দিনাজপুর