মাল্টার বন্দিজীবনে মাদানী রাহ.-এর কুরআন হিফয
শাইখুল ইসলাম হযরত মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রাহ. শাইখুল হিন্দ হযরত মাওলানা মাহমুদ হাসান দেওবন্দী রাহ.-এর সাথে ১৩৩৫ হিজরী মোতাবেক ১৯১৭ ঈসায়ী সালে হেজায থেকে ব্রিটিশ সরকারের হাতে বন্দি হন। তাদেরকে জেদ্দা থেকে প্রথমে মিশরে নিয়ে যাওয়া হয়, পরে ভূমধ্যসাগরের মাল্টা দ্বীপে নির্বাসনে পাঠানো হয়। প্রায় সাড়ে তিন বছর পরে ১৩৩৮ হিজরী মোতাবেক ১৯২০ হিজরীতে তাঁরা মুক্তি পান।
মাদানী রাহ. বাল্যকালে কুরআন মাজীদ হিফয করার সুযোগ পাননি। তাই মাল্টার বন্দিজীবনে তিনি বিশেষভাবে কুরআন কারীম হিফয করার নিয়ত করলেন।
মদীনা মুনাওয়ারায় থাকতে তিনি সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান মুখস্থ করেছিলেন। পরে সূরা নিসা, সূরা মায়িদা ও সূরা আনআমও মুখস্থ করেছিলেন। কিন্তু শত ব্যস্ততার কারণে ইয়াদ পাকাপোক্ত করতে পারেননি। তিনি লিখেছেন, ‘আমি একাধিকবার সূরা বাকারা ও সূরা আলে ইমরান মুখস্থ করেছিলাম, কিন্তু ভুলে গেছি’।
মাল্টায় নির্বাসনের পরে তিনি নতুনভাবে কুরআন হিফয শুরু করলেন। জোহরের আগে ও সন্ধ্যার পরে কিছু সময় মিলে প্রতিদিন কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য সর্বসাকুল্যে তিন ঘণ্টা সময় পেতেন। তাঁরা মাল্টায় পৌঁছেছিলেন রবিউল আউয়ালের শেষ দিকে। তারপরে জুমাদাল উলার মাঝামাঝি থেকে তিনি হিফয শুরু করেন। এ সময় থেকে শাবানের শেষ পর্যন্ত এই সাড়ে তিন মাসে প্রথম পনেরো পারা মুখস্থ করেন। তারপরে রমযান মাস শুরু হল। যেহেতু সেখানে আরও বিভিন্ন দেশের বন্দি ছিল, তাই সবার প্রতি লক্ষ রেখে তারাবীর নামাযে কুরআনের শেষের দিকের ছোট সূরাগুলো পড়া হত। তারাবীর পরে শাইখুল হিন্দ রাহ.-এর সঙ্গে কিয়ামুল লাইলে মাদানী রাহ. ওই পনেরো পারা থেকে ধারাবাহিকভাবে পড়তেন।
রমাযান মাস শেষ হলে তিনি আবার বাকি পনেরো পারা মুখস্থ করতে শুরু করলেন। বন্দিজীবনের দুর্দশা তো ছিলই, এছাড়া মায়ের মৃত্যুসংবাদসহ আরও বিভিন্ন পেরেশানীও দেখা দিয়েছিল। এতসব বাধাবিপত্তি সত্ত্বেও তিনি পরের বছরের সফর মাস আসতে আসতে এই ৬/৭ মাসে বাকি পনেরো পারাও মুখস্থ করে নেন। এভাবে মধ্য বয়সে বন্দিজীবনেই মাদানী রাহ. কুরআন মাজীদের হিফয সম্পন্ন করেন। মাল্টায় দ্বিতীয় বছরের রমযান মাসে শাইখুল হিন্দ রাহ.-কে কিয়ামুল লাইলে পূর্ণ কুরআন শোনান। তিনি এক চিঠিতে লিখেছেন, প্রতিদিন প্রায় আড়াই পারা করে তাহাজ্জুদ ও কিয়ামুল লাইলে পড়তেন। (দ্রষ্টব্য : মাদানী রাহ. রচিত ‘সফরনামা শাইখুল হিন্দ’; শাইখুল ইসলাম মাওলানা হুসাইন আহমাদ মাদানী রাহ., ফরীদুল ওয়াহীদী)