রবিউল আখির ১৪৩২   ||   মার্চ-২০১১

আল্লাহর যিকির

উম্মে মুহাম্মাদ

হযরত য়ুসাইরাহ রা. বর্ণনা করেন, (যিনি ঐসব পুণ্যাত্মা রমনীদের মধ্যে ছিলেন, যারা আল্লাহর পথে হিজরত করেছিল) দোজাহানের সরদার রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে (কয়েকজন মহিলাকে সম্বোধন করে) ইরশাদ করেন, তোমরা পাবন্দীর সাথে তাসবীহ (সুবহানাল্লাহ), তাহলীল (লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু) পাঠ কর এবং মহান আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা করো এবং তা আঙ্গুল দ্বারা গুণে গুণে পড়ো। কেননা তাকে (আঙ্গুল) জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে এবং জবাব দেওয়ার জন্য উহাকে কথা বলার মতো শক্তি প্রদান করা হবে। এবং তোমরা আল্লাহর যিকির থেকে বিমুখ হয়ো না। অন্যথায় আল্লাহর রহমত থেকে তোমাদেরকে বঞ্চিত করা হবে।

ব্যাখ্যা : দোজাহানের বাদশাহ মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম  সকল নর-নারীর জন্য প্রেরিত হয়েছেন। তিনি কিয়ামত পর্যন্ত আগমনকারী সকল মানুষের সংশোধনকারী এবং পথপ্রদর্শক। সাধারণভাবে শরীয়তের বিধানাবলি কুরআন ও হাদীস শরীফে বিশেষ রীতিতে পুরুষদেরকে সম্বোধন করে বর্ণনা করা হয়েছে। তবে বিশেষ কিছু আহকাম ছাড়া সব আহকামই পুরুষ এবং মহিলাদের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। সাধারণ সম্বোধনের মধ্যে মহিলারাও অন্তর্ভুক্ত থাকার পরও কুরআন ও হাদীসের বিভিন্ন জায়গায় মহিলাদেরকে বিশেষভাবে সম্বোধন করে সম্মানিত করা হয়েছে। উপরোক্ত হাদীসটি সেই ধারাবাহিকতার অংশ।

মূলত আল্লাহর যিকিরে মশগুল থাকা প্রত্যেক মুসলিম নরনারীর জন্য মাগফিরাত ও দরজা বুলন্দ হওয়ার উপায়। অসংখ্য আয়াত ও হাদীস শরীফে যিকিরের প্রতি উৎসাহিত করা হয়েছে। এই হাদীসে বিশেষভাবে মহিলাদেরকে সম্বোধন করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য সম্ভবত এই যে, তাদের মজলিসগুলো যেন সমালোচনা, গীবত, মিথ্যা অপবাদ ইত্যাদি থেকে মুক্ত থাকে এবং যিকিরের নূরে যেন তাদের জীবন আলোকিত হয়ে উঠে।


 

advertisement