যিলহজ্ব ১৪৪৫   ||   জুন ২০২৪

দলীল জেনে নিন
‖ যানবাহনে আরোহণের দুআ

মাওলানা ফয়জুল্লাহ মুনির

একটা সময় বাহন বলতে বোঝানো হত উট, ঘোড়া, গাধা বা খচ্চর জাতীয় পশু। যেগুলো তৈরিতে মানুষের কোনো ভূমিকা থাকে না। বরং আল্লাহ তাআলাই মানুষের চেয়ে কয়েকগুণ শক্তিশালী এসব পশুকে মানুষের আয়ত্তাধীন করে দেন। হাতি-ঘোড়ার মতো বড় বড় জন্তু-জানোয়ারকে মানুষের নিয়ন্ত্রণাধীন বানিয়ে দেন। আল্লাহ তাআলার এই অপার দয়া ও অনুগ্রহ আছে বলেই একটা ছোট বাচ্চাও উটের লাগাম ধরে টেনে নিয়ে যেতে পারে। যেখানে ইচ্ছা, যেভাবে ইচ্ছা চালিত করতে পারে।

উট-ঘোড়ার সেসব বাহন এখন আর নেই বললেই চলে। বর্তমানের যানবাহন অনেক বদলে গেছে। প্রযুক্তির ক্রমবর্ধমান উৎকর্ষ দিন দিন মানুষের চোখ ধাঁধিয়ে দিচ্ছে। তৈরি হচ্ছে উন্নত থেকে উন্নততর স্থলযান, নৌযান ও আকাশযান। এসব যানবাহনের কলকবজা নেড়ে চালিত করে মানুষ ভাবতে থাকে, এগুলো তো আমরাই তৈরি করেছি, আমাদের হাতেই এগুলো চালিত হচ্ছে; এগুলোর নিয়ন্ত্রণও আমাদের হাতেই! কিন্তু পত্র-পত্রিকার দৈনন্দিন সড়ক দুর্ঘটনার খবর আমাদের এই যান্ত্রিক ধারণাকে পাল্টে দেয়।

আমরা অনেকে অ্যাকসিডেন্টকে অস্বাভাবিক ঘটনা মনে করি। আসলে বাস্তবতা হল, এত বড় বড় যানবাহন আমাদের মতো ছোট ছোট মানুষের হাত ধরে চালিত হওয়াই বরং অস্বাভাবিক ঘটনা। আল্লাহ তাআলাই এসব যন্ত্রগুলোকে মানুষের ব্যবহার-উপযোগী করে দিয়েছেন। যখন তখন বিগড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা করছেন। তাছাড়া এসব যানবাহনের কাঁচামাল তো সরাসরি আল্লাহ তাআলারই দেওয়া। এবং আল্লাহর দেওয়া ক্ষমতা ও যোগ্যতার বলেই মানুষ এগুলো তৈরি করছে।

তাই যখনই আমরা কোনো যানবাহনে আরোহণ করি, আল্লাহ তাআলার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করা উচিত। নিজেদের দীনতা ও অক্ষমতার কথা স্বীকার করে আল্লাহ তাআলার শোকর আদায় করা উচিৎ। পাশাপাশি এ কথাও স্মরণ রাখা দরকার যে, যানবাহনের সফর আমাদের জন্য সাময়িক সময়ের সফর মাত্র। একসময় আমাদের সবাইকেই আখেরাতের সফরে রওয়ানা হতে হবে। আল্লাহ তাআলার দরবারে ফিরে যেতে হবে। আর দুনিয়াতে আমি যা কিছুই করছি না কেন, সেদিন আমাকে সবকিছুরই পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব দিতে হবে।

কুরআন কারীমে আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন-

وَ الَّذِیْ خَلَقَ الْاَزْوَاجَ كُلَّهَا وَ جَعَلَ لَكُمْ مِّنَ الْفُلْكِ وَ الْاَنْعَامِ مَا تَرْكَبُوْنَ، لِتَسْتَوٗا عَلٰی ظُهُوْرِهٖ ثُمَّ تَذْكُرُوْا نِعْمَةَ رَبِّكُمْ اِذَا اسْتَوَیْتُمْ عَلَیْهِ وَ تَقُوْلُوْا سُبْحٰنَ الَّذِیْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَ مَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِیْنَ وَ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ.

সেই সত্তা, যিনি সর্বপ্রকার জোড়া সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের জন্য নৌযান ও চতুষ্পদ জন্তুর বাহন তৈরি করে দিয়েছেন। যাতে তোমরা তার পিঠে আরোহণ করতে পার। অতঃপর যখন তোমরা তাতে চড়ে বস, তখন তোমাদের প্রতিপালকের অনুগ্রহের কথা স্মরণ কর এবং বল-

سُبْحٰنَ الَّذِیْ سَخَّرَ لَنَا هٰذَا وَ مَا كُنَّا لَهٗ مُقْرِنِیْنَ وَ اِنَّاۤ اِلٰی رَبِّنَا لَمُنْقَلِبُوْنَ.

পবিত্র সেই সত্তা, যিনি এই বাহনকে আমাদের বশীভূত করে দিয়েছেন। অন্যথায় একে বশীভূত করার ক্ষমতা আমাদের ছিল না। আর আমাদেরকে তো আমাদের প্রতিপালকের কাছেই ফিরে যেতে হবে। -সূরা যুখরুফ (৪৩) : ১২-১৪ 

 

 

advertisement