রবিউল আউয়াল ১৪৪৫   ||   অক্টোবর ২০২৩

খবর ... অতঃপর ...

(মন্তব্য : আবুন নূর)

এমটিএফইর ফাঁদে সর্বশান্ত হাজারো মানুষ

জাগো নিউজ, ২০ আগস্ট ২০২৩

# যুব কর্মসংস্থান সোসাইটি (যুবক) এমএলএম, বিভিন্ন মাল্টিপারপাস সোসাইটির পর এখন এমটিএফই। মনে হয়, প্রতারণার একটি স্বর্গরাজ্য এদেশ। কর্তৃপক্ষের দুর্বল নজরদারি, কখনো কখনো পক্ষপাতদুষ্ট নজরদারি এবং একশ্রেণির লোকের লোভ-লালসায় এভাবেই হাজার হাজার কোটি টাকা নিয়ে বারবার পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায় প্রতারকেরা। মাঝে অনেক নিরীহ লোক ঘরে বসে যায়। যেহেতু কর্তৃপক্ষের নজরদারি ব্যবস্থাই এখানে দুর্বল, তাই নিজেদের সচেতনতা ছাড়া এ ধরনের প্রতারণা এড়ানো দুষ্কর।

 

বিবাহ বিচ্ছেদ আয়োজনে ডিভোর্স পার্টির আয়োজন করলেন মিশরীয় নারী

মানবজমিন, ২৯ আগস্ট ২০২৩

# খোঁজ নেওয়া দরকার- এ ধরনের পার্টিব্যস্ততার কারণেই তার বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটেছে কি না?

 

চীনে বিবাহে কনের বয়স ২৫ বা তার কম হলে পুরস্কার ঘোষণা

ডেইলি জং, ২৯ আগস্ট ২০২৩

পৃথিবী ওপরে যেতে যেতে আবার যে গোড়ায় ফিরে আসতে হয় তারই একটি নমুনা। চীন সন্তান জন্ম দেওয়ার কারণে মায়েদেরকে কত না জ্বালাতন করেছে। আইন করে সন্তান জন্মদানে মায়েদেরকে বিরত রেখেছে। সে সূত্রে সেখানে অবিবাহিত থেকে যাওয়া, বেশি বয়সে বিবাহ করার রেওয়াজ হয়ে গেছে গত ছয় দশক থেকে। এখন বাধ্য হয়ে সেখানে বেশি সন্তান জন্ম দেওয়ার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করা হচ্ছে। কম বয়সে বিবাহ করার জন্য পুরস্কার ঘোষণা করতে বাধ্য হচ্ছে। কেউ কেউ শেকড় ছেড়ে ওপরে উঠতে চায়। কিন্তু লাফ-ফাল দিয়ে আবার শেকড়ে ফিরে আসতে বাধ্য হয়।

 

কাস্টমস হাউসের গুদাম থেকে ৫৫ কেজি স্বর্ণ চুরি, থানায় মামলা

বণিকবার্তা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# এগুলোকে চুরি না বলে সরিয়ে ফেলা বলা ভালো। কারণ কে না জানে, এত সুরক্ষিত সংরক্ষিত জায়গা থেকে বাইরের লোকেরা গিয়ে চুরি করা অসম্ভব ব্যাপার। জনগণের সম্পদ যাদেরকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য রাখা হয়েছে, তারা মাঝে মাঝে ভক্ষণ করবে- এটাই দেশের রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ব্যাংক থেকে রক্ষিত সম্পদ চুরি হয়ে যায়, ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণকারী সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে রিজার্ভ চুরি হয়ে যায়, এয়ারপোর্টে চোরাকারবারীদের থেকে বা শুল্কবিহীন আনা লোকদের থেকে স্বর্ণ আটক করে রাখা হয় অনিয়ম করেছে বলে। সেগুলো ওখান থেকে বেহাত হয়ে যায়। এগুলোকে চুরি আখ্যা দেওয়া ঠিক নয়। যুগের পর যুগ চলে যায় এগুলো ধরা পড়ে না। এখান থেকেই বুঝতে হবে, এর সাথে শুধু ছিচকে চোরেরা জড়িত নয়, বড় বড় হাত আছে। যে জন্য এসব নিয়ে তদন্ত অগ্রসর হয় না। মানুষ জানতে পারে না, এসবের সাথে আসলে কারা জড়িত। কে এগুলোর নাটের গুরু।

এদেশের ব্যাংকডাকাতির কিচ্ছা তো অনেক পুরোনো। এসব কিচ্ছাকে নিত্য নতুন ঘটনা পেছনে ফেলে দিচ্ছে, যা দেখে মানুষ আঁৎকে উঠছে।

 

কারিগরি ও নকশাগত ত্রুটিতেই ক্ষতি হয়েছে কক্সবাজার ও দোহাজারি রেলপথ

বণিকবার্তা, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# শব্দ তো দুটি, কারিগরি ও নকশা। নকশা এক সংস্থা প্রস্তুত করে। কারিগরি বিষয় আরেক সংস্থা দেখে। তাদেরকে কাজ দেয় আরো বড় সংস্থা। বাস্তবায়ন করে আরো কয়েক সংস্থা। সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই যেমনিভাবে একটি সুন্দর জিনিস তৈরি হয়, আবার সম্মিলিত যোগসাজশেই জনগণের হাজার কোটি টাকা গচ্ছা যায়- তারই একটি সামান্য উদাহরণ। কায়েমী স্বার্থবাদী গোষ্ঠীর ইচ্ছার বলি হয়ে আসছে এভাবেই এদেশ ও তার নাগরিকেরা।

 

সরকারের ইচ্ছার বাইরে যাওয়া জাতীয় পার্টির জন্য কঠিন

প্রথম আলো, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# সহজ ছিল কবে? জাতীয় পার্টি এটিকে কখনো সহজ করতে কি চেয়েছে? এরশাদ সাহেব কবরে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সরকারের ইচ্ছায় চলেছেন। তার স্ত্রী, তার ভাই সে কাজই তো করে যাচ্ছেন।

 

বাজারে পাওয়া যায় ১৯ হাজার টাকায় রেল কিনল ৩ লাখে

প্রথম আলো, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# এটি রেলওয়ের জন্য নতুন কিছু না। এর আগেও বিভিন্ন হিসাব-নিকাশে খবর বেরিয়েছে, বাংলাদেশে রেললাইন স্থাপন এবং রেলের অন্যান্য খরচ পৃথিবীর যেকোনো দেশ থেকে অনেক অনেক বেশি। এখানেও সেটি দেখা যাচ্ছে। এখানে প্রকৃত খরচ কী? বাকিটা কার পকেটে গেছে- সেটা জনগণ বোঝে। হয়তো এসব ব্যাপার জনগণের গা সওয়া হয়ে গেছে। যে ঠিকাদার থেকে ৩ লাখে কেনা হচ্ছে তার একটু খবর নিলেই হবে- সে কোন্ দলের? তার সাথে আর কোন্ কোন্ ক্ষমতাবানেরা যুক্ত আছে? টাকাটা তো আর ঠিকাদার একা খায় না। কেউ কাউকে ১৯ হাজার টাকার জিনিসে ৩ লাখ এমনি এমনি দিয়ে দেবে না। নিশ্চয় এর পেছনে বহু ভাগ-বাটোয়ারার ব্যাপার-স্যাপার আছে। তবে সেগুলো কখনোই এদেশে উন্মোচিত হয় না। দুয়েক সময় চাপে পড়ে তদন্ত হলেও তদন্ত রিপোর্ট ফ্রিজিং হয়ে থাকে। সে বরফ কখনো গলে না।

 

আইএমএফের আরেকটি শর্ত পূরণ, আসছে সরকারি কেনাকাটা কর্তৃপক্ষ

প্রথম আলো, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# আইএমএফও একটা বড় আশ্চর্য জিনিস। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার নামে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জিনিস চালু করে। তারা ভেবেছে, এদেশে সরকারি কেনাকাটায় যে অনিয়ম হয়, যেমন একটু আগে আমরা জানেত পারলাম, রেলওয়ে ১৯ হাজার টাকার যন্ত্র ৩ লাখ টাকা দিয়ে কিনছে। আইএমএফ মনে করেছে, একটা কর্তৃপক্ষ বানিয়ে দিলে জনগণের টাকার তসরুফ কমবে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে। আইএমএফ কি জানে না, এদেশে এমন বহু কর্তৃপক্ষ আগেই তৈরি হয়ে আছে। যেমন : টেলিকমিনিকেশন রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ, এনার্জি রেগুলেটরি কর্তৃপক্ষ। এমন কর্তৃপক্ষ তো এদেশে অভাব নেই। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের হাল-হকীকত কে না জানে। সেখানে আবার নতুন করে আরেকটি কেনাকাটা কর্তৃপক্ষ তৈরি হবে। এর দ্বারা এতটুকু লাভ হবে, একদল লোক সেখানে নিয়োগ পাবে। জনগণের হয়রানি আরো বাড়বে। রাষ্ট্র ও জনগণের আরো কিছু টাকা বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার পেছনে ব্যয় হবে। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটাই তো তিক্ত বাস্তবতা।

 

সরকারের ওপর চাপ তৈরি করতে চায় হেফাজত

প্রথম আলো, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# চেনা মুখ। পরিচিত আচরণ। এসবের পরেও কি চাপের কথা শুনে অন্যরা ভয় পাবে? শেষে চাপ চাপ খেলা না হয়ে যায়।

 

সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও তার পরিবারের বকেয়া বিল ৯ লাখ টাকা

প্রথম আলো, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# এটা কোনো প্রকাশ করার মতো খবর হল! একজন মন্ত্রী ও তার পরিবার মিলে মাত্র ৯ লাখ টাকা বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রেখেছেন। এদেশের প্রেক্ষাপটে, এদেশের ক্ষমতাসীনরা যে হারে রাষ্ট্রের, জনগণের অর্থ-সম্পদ আপন করে নেন, সে তুলনায় ৯ লাখ টাকা তেমন আর কী!?

 

১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পরে জানা গেল, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে

শরীয়তপুরে একটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষার সময় গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে সদর উপজেলার ডোমসার জগৎচন্দ্র ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন ৪২ শিক্ষার্থী।

বিষয়টি ধরা পড়ার পর বাকি সময় সঠিক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্ধেকের কম সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পারায় ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা করছেন পরীক্ষার্থীরা।

প্রথম আলো, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন।

 

তাঁরা বারবার বাংলাদেশে আসেন, সঙ্গে আনেন শুল্কবিহীন মদ

রাজধানীর বারিধারায় ২ সেপ্টেম্বর একটি গাড়ি তল্লাশি করে ৫২ বোতল বিদেশি মদ উদ্ধার করা হয়। গাড়িটিতে ছিলেন দুই ব্যক্তি ও চালক। মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর তিনজনকেই গ্রেপ্তার করে।

তাঁরা নিজেদের ভারতীয় নাগরিক বলে পরিচয় দেন। পরে তাঁদের কাছ থেকে দুটি পাসপোর্ট জব্দ করা হয়।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) কর্মকর্তারা বলছেন, কয়েকটি চক্র ভারত থেকে নিয়মিত মদ নিয়ে আসছে। আর তা বিক্রি করা হচ্ছে গুলশান, বনানী, বারিধারাসহ রাজধানীর অভিজাত এলাকার ক্রেতাদের কাছে। এতে সরকার শুল্ক হারাচ্ছে। চক্রগুলোর সঙ্গে ভারতীয় কিছু নাগরিক জড়িত। তাঁরা মূলত মদ আনার কাজটি করেন।

প্রথম আলো, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# দাদারা তাদের ছোট বোনের বাড়ি বেড়াতে আসবে, সাথে কিছু উপহার-উপঢৌকন না আনা তো দোষের বিষয়। এ নিয়ে বেশি মাতামাতি না করাই ভালো। কে না জানে, বাংলাদেশে একসময় শহুরে অঞ্চলে মাদকের ছড়াছড়ি থাকলেও এখন গ্রামের আনাচে-কানাচে মাদক ছড়িয়েছে। শিক্ষার্থী এবং অনেক সাধারণ জনগণ মাদকের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। এর পেছনে প্রতিবেশী দেশের একশ্রেণির চোরাকারবারি জড়িত এবং তাদেরকে প্রতিষ্ঠিত করেছে তাদের এদেশীয় বন্ধু ও পূর্বপরিচিত লোকজনেরা। ওসবের খেসারত বাংলাদেশ দিতে দিতে এখন এ অবস্থায় এসেছে। দু-চারজন কারবারিকে ধরলে আর কী আসে যায়।

 

সব ধর্মের মানুষ সমান

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সংখ্যালঘু বলে নিজেদের ছোট করবেন না, সব ধর্মের মানুষ সমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এটাই বিশ্বাস করে।

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনে সারা দেশ থেকে আগত পূজা উদ্যাপন পরিষদ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের অন্তত ১০ হাজার নেতা এ শুভেচ্ছা বিনিময়ে যোগ দেন।

জনকণ্ঠ, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# এটিকে মিলিয়ে পড়ুন সামনের সংবাদের সঙ্গে-সংখ্যালঘুদের ভোট কি ফিক্সড ডিপোজিট।

 

৫০ বছরের ব্যবসায়ী জীবনে আজিজ খানের সম্পদের উল্লম্ফন ঘটেছে গত এক দশকে

ফোর্বসের সিঙ্গাপুরের শীর্ষ ধনীর তালিকায় ৪১তম

বণিকবার্তা, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৩

# হিসাবটা সহজে মেলানো যায়। গত এক দশক বিদ্যুতের মূল্য, বেসরকারি কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কেনার হালহাকিকত, এই গ্রুপের লোকদের সাথে কাদের রিলেশন ও সুসম্পর্ক, কাদের কী ধরনের সম্পর্ক- এসব মেলালেই গত এক দশকে -যদিও ব্যবসার বয়স ৫০ বছর- সম্পদ বাড়ার গতি কীভাবে ত্বরান্বিত হয়েছে- সেটা সহজেই বুঝে এসে যাবে।

 

২৯ সচিবের ৪৩ সন্তান বিদেশে

আজকের পত্রিকা, ১৪ সেপ্টম্বর ২০২৩

# এমনিতে তো আর মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে এত কাঁপুনি সৃষ্টি হয়নি। মার্কিন ভিসা বন্ধ হলে বা না পেলে কারা ক্ষতিগ্রস্ত হবে- বোঝার জন্য এ ধরনের দুয়েকটি খবরই যথেষ্ট। আরেকটি বিষয়- যারা নিজেদের সন্তান-পরিবারকে বিদেশে বড় করতে, বিদেশে শিক্ষা দিতে, নিজেদের ব্যবসা বিদেশে নিতে ভালবাসেন, তারা যে এদেশে বসে কার স্বার্থে কাজ করবেন; জনগণের স্বার্থ তাদের ইচ্ছায় থাকবে কি না- সেটা তো একটু চিন্তা করলেই বোঝা যেতে পারে।

 

বিমানে শিশু ওঠা এই প্রথম নয়, নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে উদ্বেগ

বিমানবন্দরের ১৪ স্তরের নিরাপত্তা পেরিয়ে পাসপোর্ট, টিকিট, বোর্ডিং পাস ছাড়াই এক শিশু নির্বিঘ্নে কুয়েত এয়ারওয়েজের এক ফ্লাইটে উঠেছে। এ ঘটনায় হতভম্ব ওই ফ্লাইটের পাইলট, ক্রুসহ সব যাত্রীপুরো ফ্লাইটটির ৩৩০ আসনে যাত্রী পূর্ণ থাকায় কেবিন ক্রুরা ওই শিশুটিকে কোনো সিট দিতে না পারায় একপর্যায়ে আসন ছাড়া কীভাবে শিশুটি ফ্লাইটে উঠল- এ নিয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে এ ঘটনাটি ঘটে।

মানবজমিন, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# বিমানবন্দরে ঢুকলে আপনি কর্মকর্তা-কর্মচারিদের ভিড়ে হাঁটারই জায়গা পাবেন না। দেখবেন, কত সরকারি-বেসরকারি, পোশাকী-অপোশাকী লোক পাহারা দিচ্ছে। মানুষকে কত হয়রানি করছে- জুতা খোলাচ্ছে, মোজা খোলাচ্ছে, টুপি খোলাচ্ছে। ব্যাগে একটা চার্জার থাকলে আলাদা করে দিতে হচ্ছে। কত চৌকান্না। মনে হবে, কত নিরাপদ এ দেশ। কিন্তু কাজের বেলায় যে আমাদের কত গাফলতি এই হল তার প্রমাণ। একটা দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সেদেশের আয়নার মতো। এই এয়ারপোর্ট দিয়ে অনেক কিছুরই বিচার হয়। আমাদের অবস্থা যে কী- মাঝে মাঝে দুয়েকটি ঘটনা চোখে আঙুল দিয়ে তা দেখিয়ে দেয়।

 

ব্যবসা গুটিয়ে দেশত্যাগের ঘোষণা আদম তমিজী হকের

হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আদম তমিজী হক দেশে ব্যবসা গুটিয়ে স্থায়ীভাবে দেশত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

তমিজী হক জন্মসূত্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক। ৩ দিন ধরে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লাইভে এসে এবং একাধিক পোস্টে দ্বৈত নাগরিক আদম তমিজী নানা অভিযোগ করেন।

যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী এবং তার চাচাকে জড়িয়ে আদম তমিজী হকের একাধিক ফেসবুক স্ট্যাটাসে টঙ্গী-গাজীপুরে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

তমিজী হকের অভিযোগ- গাজীপুর-২ আসনের সংসদ-সদস্য, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল ও তার চাচা মহানগর আওয়ামী লীগ নেতা মতিউর রহমান মতির লুটপাটের কারণে ঐতিহ্যবাহী শিল্প প্রতিষ্ঠান হক গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আওয়ামী লীগের স্থানীয় প্রভাবশালী নেতারা অবৈধ হস্তক্ষেপ, লুটপাট ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করেছেন।

শনিবার মধ্যরাতে ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘আর বাকি কিছু নেই, শ্রমিক, ব্যাংকস এবং সরবরাহকারীদের টাকা জাহিদ আহসান রাসেলের কাছে আছে। উনার থেকে বুঝে নিবেন। আমি সৌদি যাচ্ছি। তারপর আমার জন্মভূমি ইউকে চলে যাচ্ছি। বাদশাহী দীর্ঘজীবী হোক।

যুগান্তর, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# তিনি যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আঙুল তুলেছেন তারা কি এ খবরের প্রতিবাদ করেছেন অথবা ব্যাখ্যা দিয়েছেন?

 

নামজারিতে ঘুষ কত নির্ধারণ করে দিলেন এসিল্যান্ড

যুগান্তর, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# একজন এসিল্যান্ডকে খবরে এনে কী লাভ? পুরো বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে যতগুলো ভূমি অফিস আছে, যত এসিল্যান্ড, সাবরেজিস্টার অফিস আছে, সেগুলোতে যে রেট করা ঘুষের নিয়ম আছে- তা তো সকলেরই জানা। ব্যতিক্রম হয়তো আছে। কিন্তু সঠিক অবস্থা কার অজানা? এখানে একজনের খবর এভাবে প্রচারের ভাবটা এমন যে, দু-চারজন বুঝি এমন কাণ্ড ঘটায়।

 

বড়রা লুট করলেও কৃষকরা ফেরত দিচ্ছেন

বণিকবার্তা, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# এটাই পুঁজিবাদের আসল চেহারা।  স্বল্প পুঁজির লোকেরা অনেকেই সাধ্যানুযায়ী সৎ থাকার চেষ্টা করে। কিন্তু একশ্রেণির ধনাঢ্য মানুষের অবস্থা কী?

সাধারণ মানুষের সামান্য সঞ্চয়গুলো ব্যাংকে জমা হয়ে বড় আকার ধারণ করলে কুক্ষিগত করে নেয় তারা। সাধারণ মানুষের লোভ-লালসা বড় লোকদের মতো নয় বলে তারা অনেক সৎ।

পুঁজিবাদকে অনেকেই তুলনা করেছেন মাছের সাথে। সমুদ্রের বড় মাছগুলো ছোট ছোট মাছ খেয়ে ফেলে। পুঁজিবাদের অবস্থাও তাই। এমনভাবে অর্থনীতিটাকে এগিয়ে নেওয়া হয়, যেন ছোটরা আরো ছোট হয়, দরিদ্ররা আরো দরিদ্র হয়, ধনীরা আরো ধনী হয়। ধনীরা তো আর এমনে এমনে ধনী হয় না। বিভিন্নভাবে তারা ধনী হয়। তার মধ্যে একটা রাস্তা এটাও, ব্যাংকে গচ্ছিত টাকা ঋণ নিয়ে আর ফেরত না দেওয়া।

 

অর্থমন্ত্রীর বাজেট অতিরঞ্জন ভেঙে পড়েছে

বণিকবার্তা, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# বাজেট বক্তৃতায় যখন বড় বড় কথা বলা হয় তখন অধিকাংশ সময় বিশেষজ্ঞ মহল বলেন, এটা উচ্চাভিলাষী, এটা বাস্তবায়ন-অযোগ্য এবং সম্পূর্ণ অবাস্তব। কিন্তু সরকার, সরকারি দল, সরকারের সুবিধাভোগী বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ী নেতা ও তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা বলেন, বাজেট খুব কাজের হয়েছে, এটি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এসব গলা ফাটিয়ে প্রচার করেন তারা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞমহলের কথাই সত্য প্রমাণিত হয়। এ বছরও তাই দেখা যাচ্ছে। গত জুনে শেষ হওয়া অর্থবছরে ১১ মাসের হিসাবে দেখা গেছে মাত্র ৬৪ পার্সেন্ট বাজেট বাস্তবায়িত হয়েছে। ভদ্র ভাষায় হলেও পত্রিকার শিরোনাম অর্থমন্ত্রীর বাজেট অতিরঞ্জন ভেঙে পড়েছেখুবই প্রাসঙ্গিক।

 

৯ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকার বন্ধকি সম্পত্তির বুদবুদের ওপর ব্যাংক

জমিসহ বন্ধকি সম্পদ বিক্রি করে খেলাপি ঋণ আদায় অতি সামান্য

বণিকবার্তা, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নরসহ বিভিন্ন অভিজ্ঞ মহল বলেছেন, এভাবে জমি বা ফ্ল্যাট বন্ধক রেখে ঋণ বিতরণে বাহ্যিকভাবে পেছনে সম্পদ দেখা গেলেও বর্তমানে এটা অনিয়ম ও দুর্নীতির বড় একটা হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। ভুয়া জমি, ভেজাল জমি দেখিয়ে ঋণ নেওয়া, জামির অতি মূল্যায়ন করে ঋণ নেওয়া- ব্যাংকের টাকা লুটে খাওয়া দুর্নীতিগ্রস্ত লোকদের অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। এই যে ব্যাংকগুলোতে জনগণের জমাকৃত ৯ লক্ষ কোটি টাকা আটকে গেছে- তা এই ধরনের জমি ও রিয়েলএস্টেটের মধ্যেই, যার অনেকগুলোই হয়তো আর ফেরত পাওয়ার আশা করা যায় না। একটি দেশে যে অর্থনৈতিকভাবে করুণ দশা নেমে আসে- তা তো আর রাতারাতি আসে না। এভাবেই ধীরে ধীরে এ পথটাকে ত্বরান্বিত করা হয়।

 

সংখ্যালঘুদের ভোট কি ফিক্সড ডিপোজিট

প্রথম আলো, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# প্রথম আলোর যুগ্ম সম্পাদক বিশ্বজিৎ চৌধুরী এ শিরোনামে উপসম্পাদকীয়টি লিখেছেন। সংখ্যালঘুদেরকে নিয়ে বিভিন্ন আক্ষেপ করেছেন যে, তারা বরাবর আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়ে আসছে। কিন্তু তাদের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব ঠিক বনে না। তাই তিনি প্রশ্ন রেখেছেন, সংখ্যালঘুদের ভোট কি ফিক্সড ডিপোজিট। ইতিমধ্যে তাঁরা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের ব্যানারে সেমিনারও করেছেন। আওয়ামী লীগকে সমর্থন দেওয়ার ৬৬কারণও বলেছেন। আওয়ামী লীগ আমলে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, পুলিশের কমিশনার, প্রধান বিচারপতি পেয়েছেন। তিনি সাথে যেটা যোগ করেননি তা হল, বিগত দেড় দশকে জাতি অসংখ্য থানার হিন্দু ওসি দেখতে পেয়েছে। সঙ্গে এটাও যোগ করা যায়, সরকারি বিভিন্ন পদে এত পরিমাণ হিন্দু নিয়োগ পেয়েছে এবং ঢাকা শহরে এত মন্দির গড়ে উঠেছে যে, দেখলে কেউ মনে করতে পারে, এদেশ হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ অথবা এদেশে হিন্দু-মুসলিম সংখ্যার ব্যবধান খুবই কম। এত কিছুর পরও দেখা যাচ্ছে, ওনাদের আক্ষেপ থেকেই যাচ্ছে। তাঁরা বলতে চাচ্ছেন, ভোটের আগেই সংখ্যালঘুদের বোঝাপড়া করে নিতে হবে। আওয়ামী লীগকে আরো বেশি দিতে বাধ্য করতে হবে। আসলে দুর্বলতার সুযোগকে হাতছাড়া করতে চায় কে?

 

কেজিতে ৩০০ টাকা কমে ভারতে যাচ্ছে ইলিশ!

যুগান্তর, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# শুনতে তো খুবই খারাপ শোনাচ্ছে। আমাদের সরকার প্রধানও একাধিকবার বলেছেন, ‘কারও কাছে চাইতে লজ্জা লাগে। আমরা দিতে ভালবাসি।প্রতিবেশী বন্ধু রাষ্ট্রের ক্ষেত্রেই তো তিনি একথা বলেছেন। আমরা তাদেরকে কয়েক শ টন ইলিশই তো পাঠাব বা কয়েক হাজার টন, এর জন্য আবার টাকা নিতে হবে কেন? সেই জায়গায় মাত্র তিন শ টাকা কমে দেওয়া হচ্ছে- সেটার প্রচারণাও হচ্ছে! তাদেরকে তো ফ্রিতেই পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। নাহলে যেখানে এদেশে ইলিশের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে, সেখানে ইলিশ রপ্তানির প্রশ্ন কেন আসবে? রপ্তানির ক্ষেত্রে অন্যান্য পণ্যের অবস্থা আমরা কী জানি? দেশের বাজারে দাম বেশি হয়, না রপ্তানি করলে দাম বেশি পাওয়া যায়? ইলিশের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হবে কেন? কিন্তু দাদাদেরকে উপহার দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আনলে এসব যুক্তি নস্যাৎ হয়ে যাবে।

 

নির্বাচন নিয়ে বিদেশী রাষ্ট্রদূতেরা ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন : রাশেদ খান মেনন

মানবজমিন, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# এই রিপোর্টে রাশেদ খান মেননের যে ছবি দেওয়া হয়েছে তা ছিল দেখার মতো। সে কী করুণ চাহনি। এ বয়সে এসেও মেননরা ফ্রিতে সস্ত্রীক এমপি হয়ে রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে করতে এখন যে অবস্থায় পতিত হয়েছেন, এখন রাত-দিন চিন্তা করছেন, একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হলে নিজেদের যে কী হবে? স্বামী-স্ত্রীর সংসদ সদস্য পদ যাবে- সে চিন্তায় মনে হয় অবস্থা কাহিলএকেক সময় একেক তত্ত্ব আবিষ্কার করছেন। একবার আবিষ্কার করেছিলেন সেন্টমার্টিন তত্ত্ব। মাঝখানে তিনি বাংলাদেশে কেবল পাকিস্তান আর আফগানিস্তান দেখতে পান। মেননরা এখন ঘুমালেও একধরনের স্বপ্ন দেখেন। জেগে থাকলেও পাকিস্তান, আফগানিস্তান আর বিদেশী রাষ্ট্রদূত স্বপ্ন দেখেন। এটা ভাগ্য বলে কথা। কেউ কেউ বয়স বেড়ে যাওয়ার পর এধরনের ভাগ্যবিড়ম্বনার শিকার হন। তাদেরকে রাত-দিন অর্থ ও ফ্রিতে পাওয়া ক্ষমতার ধান্ধায় পেরেশানিতে থাকতে হয়।

 

মার্কিন ভিসা নীতি নিয়ে বিচলিত নন প্রধান বিচারপতি

বিদায়ী প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন- ভিসা নীতি নিয়ে আমি বিচলিত নই। এটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাই না। তিনি বলেন, এখন যারা ভয় দেখাচ্ছেন তাঁরা তখন স্বাধীনতার বিরোধীতা করেছিলো। ...

ইত্তেফাক, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩

# মাশাআল্লাহ, বেশ সাহসী উচ্চারণ তো। কয়েক বছর থেকেই দেখা যাচ্ছে, উচ্চ আদালতের বিচারপতিগণ অবসরে যাওয়ার মুহূর্তে অনেক নীতিবাক্য বলে থাকেন, অনেক সাহসী কথা বলে থাকেন। কিন্তু তারা যখন ক্ষমতায় ও দায়িত্বে থাকেন তখন!! এই যে দেশে এত অরাজকতা, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক। এত দুর্নীতি এত লুটতরাজ, এসব বিষয়ে কি প্রধান বিচারপতিদের কিছুই করার থাকে না? আর কদিন আগেই যে একজন মেয়র বিচারপতিদের প্রকাশ্যে হুমকি দিয়ে বলেছেন, একজন প্রধান বিচারপতিকে তিনি বিতাড়িত করেছেন। তখন তো এ বিচারপতির আদালতে বিষয়টি উত্থাপিত হয়েছিল। পত্রিকায় প্রকাশিত তথ্যমতে তিনি বলেছেন, আমি এটি দেখছি। তো তিনি তো বিদায় হয়ে গেলেন। দেশের মানুষ কিন্তু জানতে পারল না- তিনি কী দেখলেন। অথচ ঐ মহা ক্ষমতাবান তো এখনো বিভিন্নজনকে হুমকি-ধমকি দিয়েই যাচ্ছেন।

আমাদের মতো দেশে তো সাধারণত বিচারপতিগণ সমালোচনা ও জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকেন। কিন্তু শেষ বিচারের দিন একজনই হবেন বিচারপতি, বাকি সবাই থাকবে আসামীর কাতারে। সেখানে কেউই জবাবদিহিতা ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে থাকবে না নিশ্চয়ই।

 

গ্রন্থনা : ওয়ালিউল্লাহ খান

 

 

advertisement