মুহাররম ১৪২৮   ||   ফেব্রুয়ারি ২০০৭

হিজরী নববর্ষ ও মহররম
প্রয়োজন আত্মজিজ্ঞাসার উপলব্ধি

আরেকটি হিজরী বর্ষের সূচনা হল। অন্যভাবে বললে, জীবনের নির্ধারিত সময় থেকে আরও একটি বছর শেষ হয়ে গেল। এই বর্ষসূচনা আনন্দ-উল্লাস নয়, আত্মজিজ্ঞাসার বারতা নিয়ে আসে। বিগত বছরের ত্রুটি বিচ্যুতিগুলো পর্যালোচনা করে জীবনের অবশিষ্ট সময়টুকু ফলপ্রসূ করে তোলার প্রেরণা জাগ্রত করার একটি উপলক্ষ এই বর্ষসূচনা। সে চান্দ্রবর্ষ হোক কিংবা সৌরবর্ষ। তবে কেবল বর্ষসূচনাই নয়, প্রতিটি মাস, সপ্তাহ, দিন-রাতের আগমন আত্মজিজ্ঞাসার এক একটি উপলক্ষ।

হিজরী নববর্ষের সুচনা-মাস মহররম শরীয়তের দৃষ্টিতে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। সহীহ হাদীসে এ মাসের রোযা, বিশেষত আশুরার রোযার প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ঘটনাও এমাসে সংঘটিত হয়েছে। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর দৌহিত্র ও বিশিষ্ট সাহাবী হুসাইন রা. এই মাসেই শাহাদাত বরণ করেন। হুসাইন রা.-এর শাহাদাত মুসলিম উম্মাহকে অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে আপোষহীন সংগ্রামে উদ্বুদ্ধ করে। অথচ তার শাহাদাতকে কেন্দ্র করে এ মাসে যেসব শিরকী ও বিদআতী কর্মকাণ্ডের আসর জমে ওঠে তা অতি ন্যক্কারজনক। এসব কর্মকাণ্ডকে বয়কট করা মুসলিম জনগণের ঈমানী দায়িত্ব।

 

একুশে ফেব্রুয়ারি : সাহিত্যাঙ্গনে বিকল্প শক্তির উত্থান সময়ের দাবি

বাংলাদেশের একুশে ফেব্রুয়ারি আন্ত-র্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ভাষা, বিশেষত মাতৃভাষা আল্লাহ তাআলার একটি বিশেষ নিয়ামত। দাওয়াতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যমও ভাষা। বর্তমান সময়ে এদেশীয় একটি শ্রেণী ভাষাশক্তির যেরূপ অপব্যবহার করে চলেছে এবং ভাষা ও সাহিত্যের প্রতি মানুষের দুর্বলতাকে পুঁজি করে যেভাবে অধর্ম ও অনৈতিকতা ছড়িয়ে দিচ্ছে তাতে কিছু মেধাবী ও রুচিশীল সাহিত্যানুরাগীর আবির্ভাব অতি প্রয়োজন। সাহিত্যাঙ্গনে একটি তাজাদম ঈমানী শক্তির উত্থান ব্যতীত এই অন্ধকার রোধ করার দুসরা কোনো পথ দেখা যাচ্ছে না।

 

মাসিক আলকাউসারের তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ : সকলের প্রতি শুভেচ্ছা

মহররম ১৪২৬ হিজরী মোতাবেক ফেব্রুয়ারি ০৫ ঈসায়ী মাসিক আলকাউসারের পথ চলা শুরু হয়েছিল। মহররম ২৮ হিজরী মোতাবেক ফেব্রুয়ারি ০৭ -এ সাময়িকীটি তৃতীয় বর্ষে পদার্পণ করল। কোনো উল্লেখযোগ্য প্রস্তুতি ছাড়া শুধু আল্লাহ তাআলার ফযল-করমের উপর নির্ভর করে এবং মুরব্বীদের দুআ ও পরামর্শে আলকাউসার তার পথ চলা শুরু করেছিল। প্রথম সংখ্যা থেকেই পাঠকবৃন্দ, বিশেষত উলামায়ে কেরাম, জেনারেল শিক্ষিত দ্বীনদার শ্রেণী যেভাবে আলকাউসারকে গ্রহণ করেছেন এবং তাঁদের আস্থা ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন তা আল্লাহ তাআলার অপার অনুগ্রহ। নানা সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা তখনও ছিল, এখনও আছে। এসব সমস্যার কারণে পাঠকবৃন্দের হাতে পত্রিকা পৌঁছে দিতে কখনো কখনো বিলম্ব হয়েছে। তবে পাঠকবৃন্দ সহানুভূতির সঙ্গেই এ বিষয়গুলোকে বিবেচনা করেছেন। তৃতীয় বর্ষে পদার্পণের এই মুহূর্তে আমরা মহান রাব্বুল আলামীনের শুকরিয়া আদায় করছি। আলকাউসারের সকল পাঠক, গ্রাহক, এজেন্ট, বিজ্ঞাপনদাতা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি জানাচ্ছি আন্তরিক শুভেচ্ছা।

বিগত সময়ে যারা আলকাউসারের সঙ্গে থেকেছেন তারা নিশ্চয়ই উপলব্ধি করেছেন, আলকাউসার সম্পূর্ণ নিরপেক্ষভাবে ইসলামের শিক্ষা ও নির্দেশনা উপস্থাপনে আগ্রহী এবং আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআহ তথা সাহাবা, তাবেয়ীন, আইম্মায়ে মুজতাহিদীন ও সালাফে সালেহীনের দ্বীনী রুচি, যা নববী রুচিরই প্রতিবিম্ব, তার প্রতিই আস্থাশীল। এ নীতিকে সামনে রেখে মাসিক আলকাউসার আলোচনা এবং পর্যালোচনা এই উভয় অঙ্গনে বিচরণ করেছে। কেননা বর্তমান সময়ে ইসলামের সঠিক রূপরেখা উত্থাপনে এই দ্বিবিধ উপস্থাপনের বিকল্প নেই। আলকাউসারে একদিকে যেমন বিভিন্ন আধুনিক সমস্যার শরয়ী সমাধান উপস্থাপিত হয়েছে, তেমনি ইসলামের নামে বিভিন্ন অপব্যাখ্যার পর্যালোচনাও স্থান পেয়েছে। বিভিন্ন প্রবন্ধ-নিবন্ধ ও একটি নিয়মিত প্রশ্নোত্তর বিভাগের মাধ্যমে যেমন ইসলামের পথ-নির্দেশ তুলে ধরা হয়েছে তদ্রূপ প্রচলিত বিভিন্ন ভুলভ্রান্তিও চিহ্নিত করার প্রয়াস পেতে হয়েছে। ইসলামের বিভিন্ন পরিভাষা, বিশ্বাস ও কর্মের সঠিক তাৎপর্য উল্লেখ করার পাশাপাশি এ বিষয়ক ভ্রান্তিগুলোও চিহ্নিত করতে হয়েছে। এসব আলোচনা ও পর্যালোচনার উদ্দেশ্য একটিই। তা হল, যারা ইসলামকে জানতে চান তারা যেন ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তিমুক্ত সঠিক ও সুস্পষ্ট রূপরেখাটি পেতে পারেন।

এছাড়া পাঠকবৃন্দের হৃদয়ের খোরাক জোগানোর জন্য আহলে দিল ব্যক্তিবর্গের বয়ান ও মাওয়ায়িজ, মসজিদের সম্মানিত ইমাম ও খতীব ছাহেবান, দায়ী ইলাল্লাহ ও সাধারণ আগ্রহী পাঠকদের জন্য মওসুম উপযোগী প্রবন্ধ নিবন্ধ এবং তালিবানে ইলমে নবুওয়তের আত্মোপলব্ধি ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনার জন্য একটি স্বতন্ত্র বিভাগ-এসব ছিল আলকাউসারের নিয়মিত আয়োজন।

সর্বোপরি আলকাউসারে প্রকাশিত লেখা যাতে নির্ভরযোগ্যতার মানদণ্ডে উত্তীর্ণ প্রতিটি হতে পারে তার সর্বাত্মক প্রয়াস গ্রহণ করা হয়েছে। এসব বিষয়ে আমরা সম্মানিত পাঠকবৃন্দের মূল্যায়ন ও নির্দেশনা পেতে আগ্রহী এবং আলকাউসার যেন তার অভীষ্ট লক্ষ্যের পানে এগিয়ে যেতে পারে এজন্য দুআপ্রার্থী।

 

বিশ্ব ইজতিমা : অবিশ্বাসের যুগে বিশ্বাসের আহ্বান

এক বছর পর আবার শুরু হতে যাচ্ছে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতিমা। টঙ্গীর তুরাগ নদীর তীর আবার জমজমাট হয়ে উঠবে দ্বীন ও ঈমানের মোযাকারায়। সকল পার্থিব স্বার্থচিন্তার পরিবর্তে কেবল দ্বীন ও ঈমানকেন্দ্রিক এ জাতীয় ইজতিমাগুলো সময়ের এক অনন্য ব্যতিক্রম। বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে এবং বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুমিন এই ইজতিমায় শরীক হবেন এবং ইজতিমা শেষে ঈমানী জাগরণের আহ্বান নিয়ে বিশ্বের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়বেন। বর্তমান সময়ে যখন চারদিকে বস্তুবাদী ও স্বার্থবাদী মানসিকতার সয়লাব তখন দ্বীন ও ঈমানের এ জাতীয় মেহনতগুলোই উম্মাহর আশার বাতিঘর।

আল্লাহ তাআলা টঙ্গীর বিশ্ব ইজতিমা এবং সহীহ পন্থায় পরিচালিত সকল দ্বীনী মেহনতকে কবুল করুন।

 

 

advertisement