রবিউল আউয়াল ১৪৪৩   ||   অক্টোবর ২০২১

আলকাউসার শিশু-কিশোর
এখন থেকে ছোটদের পূর্ণাঙ্গ পত্রিকা

শিশুরা মানব বাগানের ফুল। শিশুদের মন ফুলের মতই পবিত্র আর কচি-কোমল। শিশু-হৃদয় খুবই উর্বর-সজীব। শিশুদের তাই দেয়া উচিত যা কিছু সুন্দর ও উপকারী এবং যা কিছু তার উন্নত মন-মানস ও চরিত্র গঠনের জন্য দরকারি।

শিশুরা আমাদের কাছে আমানত। তাদেরকে সঠিক শিক্ষা ও দীক্ষাদানের মাধ্যমে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের দায়িত্ব। যে জাতি এ দায়িত্ব যত সুন্দর ও নিপুণভাবে আঞ্জাম দিতে পারে- জ্ঞানে-গুণে এবং কর্ম ও কীর্তিতে তারা হয় ততটাই সমৃদ্ধ। শিশুদের চিন্তা ও চরিত্রের উৎকর্ষ সাধনে সমাজের সর্বস্তরের সবাইকেই কিছু না কিছু ভূমিকা পালন করতে হয়। মা-বাবা থেকে শুরু করে শিক্ষক, শিক্ষাবিদ, লেখক, গবেষক এবং শিক্ষা-সাহিত্য-ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ক নানা প্রতিষ্ঠান ও মন্ত্রণালয়- সবারই আছে কিছু করণীয় ও কর্তব্য। সম্মিলিত উদ্যোগ ও সমন্বিত প্রয়াস নিশ্চিত হলেই কেবল শিশুর উপযোগী দেশ, সমাজ এবং পরিবার ও পরিবেশ আশা করা যায়। শিশুরা তখন সবখানে লাভ করে তাদের বেড়ে ওঠার জন্য প্রয়োজনীয় সবরকম পুষ্টি ও উপাদান।

দুঃখজনক হলেও সত্য যে, আমরা এখন যে পৃথিবীতে বাস করছি সেখানে শিশুদের মন-মানস বিকাশের জন্য যে পথ ও পদ্ধতি বেছে নেয়া হয়েছে এবং যেসব আয়োজন ও শিক্ষা-উপকরণ অবলম্বন করা হচ্ছে তা শিশুর মন ও মানসের বিকাশকে একরোখা করে তুলছে।

শিশুদেরকে বই-পুস্তক ও অন্যান্য মাধ্যমে যে সভ্যতা ও সংস্কৃতি, যে নীতি ও জীবনপদ্ধতির সঙ্গে পরিচিত এবং অভ্যস্ত করে তোলা হচ্ছে সেটা তার মস্তিষ্ক ও আত্মার পুষ্টিচাহিদা পূরণে থেকে যাচ্ছে অপারগ কিংবা অসম্পূর্ণ।

শিশুদের আজ বিজ্ঞানমনষ্ক করার দাবী করা হচ্ছে, কিন্তু তাদের রাখা হচ্ছে আল্লাহবিমুখ। সুশিক্ষিত, উচ্চশিক্ষিত করার কথা বলা হচ্ছে, কিন্তু তারই সাথে ধর্মহীন এবং ভয়ঙ্কর ইসলাম-বিদ্বেষী...। ভিন ধর্মের প্রতি উদার, কিন্তু নিজ ধর্ম তথা ইসলামের ব্যাপারে সংকীর্ণমনা...! তাদেরকে সুকৌশলে গিলিয়ে দেয়া হচ্ছে নানা বাদ ও মতবাদ। উদারতার বাতাবরণে শেখানো হচ্ছে পক্ষপাত। বন্ধুত্বের বদলে হিংসা ও ঘৃণা, দান ও পরোপকারের পরিবর্তে আত্মপূজা ও ভোগের মানসিকতা...। যে কারণে এখন দুনিয়াতে তৈরি হচ্ছে এমন সব মানুষ, আচার-আচরণে এবং স্বভাবে ও কার্যকলাপে যাদের বলা যায়- স্বয়ং বুদ্ধিসম্পন্ন উন্নত যন্ত্র। যার শৃঙ্খলাবোধ কিছুটা আছে বটে, কিন্তু নৈতিকতা নেই। মানুষের চেহারা আছে, মানবতা নেই। মুখে হাসি আছে, অন্তরে দয়া নেই...।

পৃথিবীর সর্বত্রই বলা যায় এখন এই চিত্র। সত্যিকার মানুষের আজ ভীষণ অভাব। মানুষের এই পৃথিবীতে আজ চলছে মনুষ্যত্বের ভয়াবহ খরা। এই খরাকবলিত পৃথিবীকে সবুজ-সজীব করতে শিশুদের দিকেই সর্বাগ্রে মনোযোগ দেয়া প্রয়োজন।

সৎ ও যোগ্য, সচেতন ও সুদক্ষ, কর্মঠ ও মেধাবী এবং খোদাভীরু ও নীতিবান আদর্শ মানুষ হিসেবে শিশুদের গড়ে তুলতে সুচিন্তিত ও সুপরিকল্পিত বহুমুখী এবং ব্যাপকভিত্তিক কর্মসূচি গ্রহণ খুবই প্রয়োজন। প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে (শর্ত মেনে) সাধ্যমত চেষ্টা করলে এক্ষেত্রে সামগ্রিক উত্তরণ ত্বরান্বিত হবে বলে আশা করা যায়।

নিজেদের সামর্থ্যরে প্রসঙ্গে আসি। মাসিক আলকাউসারের নিয়মিত সংখ্যায় আলকাউসার শিশু-কিশোর নামে একটি বিভাগ দীর্ঘদিন পর্যন্ত চালু ছিল। প্রয়োজনের তুলনায় যদিও তা ছিল খুবই সামান্য। তবু আল্লাহর ইচ্ছায় সীমিত পরিসরে হলেও এটা সচল ছিল।

সম্প্রতি চিন্তা করা হয়েছে এটাকে পূর্ণাঙ্গ একটি পত্রিকার রূপদানের; যা মাসিক আলকাউসারের শিশু সাপ্লিমেন্ট হিসেবে প্রকাশিত হবে, ইনশাআল্লাহ।

বাংলা ভাষায় একটি আদর্শ শিশু-কিশোর পত্রিকা করার ইচ্ছা আমাদের অনেক দিনের। আলকাউসারের সম্পাদনা ও পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে সম্প্রতি এই ইচ্ছাটা আশু বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আল্লাহ চাইলে রবিউস সানী ১৪৪৩ হি./নভেম্বর ২০২১ ঈ.-এর মাঝামাঝি উদ্বোধনী সংখ্যা আত্মপ্রকাশ করবে। আপাতত এটাকে ত্রৈমাসিক রাখার কথা ভাবা হয়েছে।

আরেকটি বিষয় স্পষ্ট করা ভালো মনে হয়, তা হচ্ছে, বয়স বিচারে এ পত্রিকার পাঠক প্রধানত কিশোর, সাথে শিশুরাও। আর সার্বিকভাবে শিশু-কিশোরদের অভিভাবক এবং বাদবাকি সকল বয়সের পাঠক। এ কারণে পত্রিকার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ আয়োজন এমনদের লক্ষ করে, যাদের বয়সসীমা ৯-১৬। আর বাকি এক তৃতীয়াংশের মতো হচ্ছে তাদের জন্যে, যারা একেবারে ছোট, অর্থাৎ যাদের বয়স ৫-৮। শিশু ও কিশোর উভয়ের জন্য যৌথ পত্রিকা করার ক্ষেত্রে বয়সের এই অনুপাত বিবেচনায় নিয়েই পত্রিকার লেখাগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে। পত্রিকাটির সম্ভাব্য কলেবর চিন্তা করা হয়েছে, পাঁচ ফর্মা অর্থাৎ চল্লিশ পৃষ্ঠা।

কী থাকছে, কেমন হচ্ছে?

নানা রংয়ের, নানা স্বাদের ছোট-বড় একগুচ্ছ লেখা এতে স্থান পাচ্ছে। কুরআনের কাহিনী, কুরআনের ব্যাখ্যা; হাদীসের গল্প, হাদীসের শিক্ষা; নবীজীবন ও সাহাবা-জীবনের নানা ঘটনা; মনীষী পরিচয়; দিগ্বিজয়ের গল্প; নিজকে গড়ার গল্প; ঈমান ও ইসলামের পাঠ; দোয়া ও ইসলামী আদব শিক্ষা; জ্ঞান-বিজ্ঞানের কথা এবং অজানা অনেক তথ্য। সেইসাথে শিশুদের মেধাবিকাশ ও আনন্দদানের  হরেক রকম আয়োজন। গল্প আর ছড়া-কবিতা তো বটেই...।

শিশুহৃদয়কে আকৃষ্ট করতে বিষয়বস্তুতে যথাসাধ্য বৈচিত্র্য আনার চেষ্টা চলছে। জ্ঞান ও চিন্তার জগতে আমাদের শিশু-কিশোরদের প্রবেশ যেন হয় আনন্দমুখর পরিবেশে  সে জন্যই বৈচিত্র্য সৃষ্টির এই প্রয়াস।

আমরা আশা করছি, শিশু-কিশোরেরা এ পত্রিকার পাঠক যেমন, তেমনি এর লেখকও হবে। তাই এখানে থাকছে তোমাদের পাতানামে একটি বিভাগ। সহজ সহজ বিষয়ে ছোট ছোট লেখাই এতে অগ্রাধিকার পাবে। নমুনাস্বরূপ  কিছু লেখা উদ্বোধনী সংখ্যায় প্রকাশিত হবে ইনশাআল্লাহ, কোনো কোনো বন্ধু যা ইতিমধ্যেই আমাদের কাছে পাঠিয়েছে।

এ ছাড়া বন্ধুদের আঁকা ছবি এবং ক্যালিওগ্রাফিও ছাপা হবে এই পাতায়। মতামত আর চিঠিপত্র তো অবশ্যই।

মাসিক আলকাউসারের লেখক, পাঠক ও শুভানুধ্যায়ীরাও এ পত্রিকায় লিখতে পারেন। আমাদের দেয়া বিষয় থেকে পছন্দমতো যে কোনো বিষয়েই লেখা যেতে পারে।

কলেবরের দিক থেকে লেখাগুলো ৭০০-৮০০ শব্দের বেশি না হওয়া কাম্য। এটা কিশোর অংশের জন্য। আর শিশুদের জন্য লিখলে সেটা অবশ্যই ২০০-৩০০ শব্দের ঊর্ধ্বে নয়।

আমাদেরকে সুপরামর্শ দিয়ে আমাদের সঙ্গে থাকুন এবং আলকাউসার শিশু-কিশোরের সাফল্য কামনা করে আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের কাছে দুআ করুন- সকলের কাছে এই দরখাস্ত।

 

-কর্তৃপক্ষ

 

 

 

advertisement