জুমাদাল উখরা ১৪৩১   ||   জুন ২০১০

ছিত্তা নফর মিন বাংলাদেশ : ইয়েমেনে একশত বিশ দিন

দেওয়ান মুহাম্মাদ আজিজুল ইসলাম

(পূর্ব প্রকাশিতের পর) লোহিত সাগরের তীরে এবং সৌদি আরবের দক্ষিণে অবস্থিত অভিন্ন সীমান্তের দেশ ইয়েমেন। আমাদের দেশের চেয়ে ছয়গুণ বড় অথচ লোকসংখ্যা আমাদের ছয় ভাগের একভাগ মাত্র। অর্থাৎ আড়াই কোটি। এখানে যেমন বরফ পড়া শীতের অঞ্চল আছে তেমনি আছে ৪৯০ তাপমাত্রাসম্পন্ন মরু অঞ্চল। অগণিত পাহাড়ঘেরা অঞ্চল যেমন আছে তেমনি আছে সমতল ভূমিও। সানা, রেদায় ইত্যাদি শীতপ্রধান অঞ্চল হলেও হুদাইদা, এডেন, হাদরা মাউত ইত্যাদি গরমপ্রধান অঞ্চল। প্রাচীনকাল থেকেই মূল আরব ভূখণ্ডের ব্যবসা বাণিজ্য মূলত লোহিত সাগর তীরে অবসি'ত ইয়েমেনের এডেন ও অন্যান্য সমুদ্রবন্দর দিয়েই চীন ও আফ্রিকার সঙ্গে চালু ছিল। এ কারণে আরবভূমিতে ইয়েমেনের গুরুত্ব ছিল চিরকালের। বানরের পিঠা ভাগের ফলে কিছুকাল আগে ইয়েমেন উত্তর ও দক্ষিণ দুই ব্লকে বিভক্ত থাকলেও এখন তা অখণ্ড এবং ‘গণতান্ত্রিক সরকার’ দ্বারা পরিচালিত। প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা যেতে পারে, আরবভূমি অখণ্ড থাকাকালীন ইয়েমেনের তুব্বা গোত্রটি বসবাসের প্রয়োজনে ইয়াসরিব অর্থাৎ বর্তমান মদীনাতুন নবীতে হিযরত করেছিল। সেই হিসাবে আনসারী সাহাবায়ে কেরাম প্রায় সবাই ছিলেন মূল ইয়েমেনিদের বংশধর। এ কারণেই মদীনার সঙ্গে ইয়েমেনের চালচলন ও আচার আচরণের মিল সহজে চোখে পড়ে। আমরা ইয়েমেনে আসতে পেরে মূল আনসারী সাহাবীদের পূর্বপুরুষদের বংশধরদের যেমন সাক্ষাত পেলাম তেমনি সাহাবীওয়ালা আখলাক ও চরিত্র অবলোকন করার বিরল সৌভাগ্যও লাভ করলাম। পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে সফরের ফয়সালা হলে এই সৌভাগ্য আমাদের নছীব হত না। সুতরাং আল্লাহ তাআলার দরবারে লাখো কোটি শুকরিয়া জানাই। দুপুরে আমরা মালসামানা ঠিক করলাম। সিদ্ধান্ত হল, গরম কাপড় চোপড় এবং অতিরিক্ত মালামাল সানাতেই রেখে যাব। কারণ হুদাইদা অর্থাৎ ইয়েমেনের প্রধান মারকায, যেখানে এজতেমা হবে সেখানের আবহাওয়া অন্যরকম। এখনই আমাদের দেশের চৈত্র মাসের মতো গরম। হঠাৎ করে একজন ইয়েমেনি তরুণ প্রস্তাব দিল এখান থেকে লোহিত সাগর মাত্র পনের মিনিটের ড্রাইভ। আছরের নামাযের পরে যেয়ে সমুদ্রসৈকতে অনেক্ষণ থাকাও যাবে এবং ফেরাউনের ডুবে মরার সেই ঐতিহাসিক জলরাশি ছুঁয়েও আসা যাবে। লোহিত সাগরের এপারে ইয়েমেন আর ওপারে মিনরসহ আফ্রিকা। মুসা (আঃ) এর সেই ঘটনা তো কোরআন পাকেই আছে। সুতরাং সবাই আছরের নামায শেষে গাড়িতে উঠলাম। গাড়ীর রিজার্ভ ভাড়া দুই শত রিয়েল, আমাদের দেশের ছিষট্টি/সাতষট্টি টাকার মতো। সতের মিনিট লাগল। অবাক হয়ে দেখলাম সেই বিপুল জলরাশি, যা একদিন বারটি গোত্রের জন্য বার ভাগে বিভক্ত হয়ে রাস্তা তৈরি করেছিল এবং মুসা আ. ও ছয় লক্ষ বনী ইসরাইলকে শত্রুমুক্ত করেছিল পক্ষান্তরে কিছুক্ষণ পর ফেরাউন ও তার বাহিনীকে ডুবিয়ে মেরেছিল। অথচ সেই জলরাশি এখন কত শান্ত স্নিগ্ধ উছলা হয়ে ছোট্ট মেয়ের মতো লাজুক হাসি নিয়ে আমাদের স্বাগত জানাল। উঁচু পাকা রাস্তার ধারে বড় বড় পাথর সাজিয়ে দিয়ে তার অশান্ত রূপটিকে যেন সযত্নে দমিয়ে রাখা হয়েছে। প্রচুর পার্ক ও দৃষ্টিনন্দন বাগানসহ সুন্দর মসৃণ রাস্তা-তাতে সযত্নসৃষ্ট সবুজের আলপনা। স্থানীয় মানুষও প্রচুর দেখলাম, যারা অবসরকে বিনোদনে ভরিয়ে নিতে ব্যস্ত। ইতিমধ্যে সূর্য পাটে বসল আর আমাদেরও ফেরার সময় হয়ে গেল। অন্য একটা ট্যাক্সি থামালাম। একই ভাড়া। কিন্তু এবার যা চোখে পড়ল তা বড়ই দুর্ভাগ্যজনক। ড্রাইভারের গালের একদিক গোটা টমেটো ঢুকিয়ে রাখলে গাল যেমন ফুলে থাকে ঐ রকম ফুলে আছে। পানের রস গেলার মতো একটু পর পর ঢোক গিলছে। কোন ভাবেই কৌতুহল না মিটিয়ে পারা গেল না। মাঝে মধ্যেই কাউকে কাউকে সবুজ পাতা ছিড়ে মুখে দিতে দেখেছি। জানলাম, ইদানীং এখানে এই অদ্ভুত নেশার প্রচলন হয়েছে। সব বয়সের মানুষ একটি গাছের তাজা সবুজ পাতা মুখের মধ্যে গাদা গাদা জমা করে এবং রসিয়ে রসিয়ে তা খায়। এতে নাকি ঘুম ধরে না এবং এক ধরনের আনন্দ বোধ হয়। পরে এজতেমার মাঠের চারপাশে প্রচুর সাধারণ মানুষ দেখেছি যারা এজতেমা দেখতে এসেছে এবং বাইরের প্রাচীরের ধারে বসে বয়ান শুনছে আর পাতা চিবোচ্ছে। শুনলাম এর নাম কাদ। চাপাতার মতো এক রকমের পাতা, যা পাহাড়ের অনেক উপরে জন্মান হয়। এ গাছের কচি পাতাই এই নেশার উপকরণ। সন্ধ্যার পর আরো এক চমক অপেক্ষা করছিল আমাদের জন্য। গত বৎসর যে ইয়েমেনি জামাত চিল্লার সফরে পাবনা গিয়েছিলেন এবং অন্যান্য মসজিদের সঙ্গে আলহেলাল ও চাপা মসজিদে বয়ান করেছিল সেই জামাতের দুই/তিন সাথী খবর পাঠিয়েছেন যে, পাবনার জামাত এসেছে সে খবর তারা পেয়েছেন এবং হুদায়দা এজতেমাতে এসে আমাদের সঙ্গে দেখা করবেন। এই জামাত খুব তাশকিল করেছিল ইয়েমেনের জন্য। মওলানা মিজানের সঙ্গে তাদের ভাল সম্পর্ক হয়েছিল এবং পরস্পরের মোবাইল যোগাযোগ চালু ছিল। ফলে আমরা চেনা লোকের দেখা পাব ভেবে খুব খুশি হলাম। পরের দিন বুধবার ভোরে এজতেমার মাঠে যেতে হবে। সবাই খাওয়া দাওয়া সেরে শুয়ে পড়লাম। সকালেই হুদাইদার মারকাযের উদ্দেশ্যে আমরা সাত জন রওয়ানা হলাম। ওখান থেকে হুদাইদা ২৫০ কি.মি.। অর্থাৎ সর্বমোট দূরত্ব ২৭০-২৮০ কিলোর মধ্যেই হবে বলে মনে হল। ড্রাইভার জানাল ২৮০ কি.মি.। অল্প কিছুক্ষণ পরই পাহাড় কেটে তৈরি করা আঁকাবাঁকা ঘোরানো পথে আমাদের গাড়ী উঠে এল। সাত জনের মধ্যে আমরা তিনজন এ ধরনের পথের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে পরিচিত ছিলাম। বাকীদের মধ্যে একজন খুব ভীত হয়ে পড়লেন এবং মাথা নিচু করে ঘুমিয়ে সময় কাটালেন। পাহাড়ের চমৎকার দৃশ্যাবলী উপভোগ করতে করতে দেখলাম, প্রচুর না হলেও পাহাড়ী নানা ধরনের গাছের সঙ্গে বেশ কিছু আম এবং বকনীম গাছ। এমনকি প্রচুর সতেজ কলা বাগানও চোখে পড়ল। প্রায় সব আম গাছেই প্রচুর মুকুল এসেছে। মনে হল, আল্লাহ বাঁচিয়ে রাখলে এবং রিযিকে থাকলে স্থানীয় আম বাড়ী যাওয়ার আগেই খাওয়া যাবে। পথের এক বাঁকে ছোট একটা মসজিদ। তার পাশের পাহাড়েই মেঘ ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা ধোয়ার মতো। অত উঁচুতেও মসজিদে ট্যাপের পানির ব্যবস্থা। আমরা ওজু করে যোহরের নামায পড়লাম। এবং হুদাইদা মারকাযে গিয়ে আছরের নামায পড়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। বিকাল প্রায় চারটার দিকে হুদাইদা মারকাযে এসে পৌঁছালাম। দোতলার এক ঘরে আমাদের থাকার ব্যবস্থা করা হল। ঘরে আরো বিদেশী সাথীরা ছিলেন। সঙ্গে বাথরুম; প্রচুর পানি। হাত মুখ ধুয়ে নিতেই খাবার এসে গেল। ডাল, রুটি, দই খেতে বেশ ভাল লাগল, মনে হয় বেশী ক্ষুধা লেগেছিল। হুদায়দা বেশ গরম এলাকা। প্রচুর ফ্যান ঘুরছে তবু গায়ে কাপড় রাখতে কষ্ট হচ্ছে। পরে অবশ্য ঠিক হয়ে গেল। সন্ধ্যার পর ইয়েমেনি সেই তবলীগের সাথীরা এসে দেখা করলেন। আগামীকাল ২২শে জানুয়ারী বৃহস্পতিবার বাদ আছর এজতেমা শুরু হবে। হাতে সময় খুব অল্প থাকায় তারা কিছুক্ষণ পরেই চলে গেলেন। আমরাও তাড়াতাড়ি খেতে গেলাম। এ বেলা ডিমের বদলে ডাল এবং নতুন দুইটা আইটেম জয়তুনের তেল এবং পাকা ও সেদ্ধ করা জয়তুন ফল খাবারে যোগ হল। খেয়াল করে দেখলাম, এসব রাজসিক খাবার খেয়ে এই কয়েক দিনের মধ্যেই ঝুলে পড়া চামড়া আবার যুবক বয়সের মতো টাইট হয়ে গেছে। ঘাবড়ে গেলাম কারণ এর পরের ষ্টেপ মধ্য প্রদেশ স্ফীত হয়ে উঠা। এটা কোনক্রমেই হতে দেওয়া যাবে না। দেখা যাক কী করা যায়। বিরাট বড় মাঠে এজতেমার আয়োজনও ছিল বিশাল। মাত্র ৫ বৎসর হল এই মাঠে এজতেমা শুরু হয়েছে, অথচ এর মধ্যেই বিরাট বিরাট পাকা ডরমেটরী বানানো হয়েছে বিদেশী মেহমানদের থাকার জন্য। প্রচুর পাকা গোসলখানা ও পায়খানা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে বরফ দেওয়া পানির ট্যাঙ্কিতে খাওয়ার পানির ব্যবস্থা। এছাড়া এজতেমার মাঠের বিরাট প্যান্ডেল তৈরি হয়েছে লোহার ফ্রেমের উপরে টিনের ছাউনি দিয়ে। কিন্তু নিচে শুধুই বালি। তার উপরে নীল ত্রিপল দিয়ে ঢেঁকে দিলেও গোটা মেঝে বালুময়। সৌদি আরব ও আশেপাশের দেশগুলো থেকেও প্রচুর মেহমান এসেছেন প্রায় সবাই নিজেদের গাড়ীতে। দামী কাপড় চোপড় পড়া অথচ নির্দ্বিধায় ঐ বালুর মেঝেতে বসে নামায আদায় করছেন, বয়ান শুনছেন। আমাদের প্রথম দিকে একটু সংকোচ হল। কিন্তু পরিবেশের কারণে আমরা ছিলাম নিরুপায়। তবে মজার কথা, ঐ বালু থেকে উঠে দাঁড়িয়ে কাপড়ে ঝাড়া দিলে আর কোন বালু থাকে না। এজতেমা শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার বিকালে বাংলাদেশের মওলানা ফারুকের বয়ান দিয়ে এবং শনিবার সন্ধ্যার বয়ানের পর মোনাজাত হবার কথা থাকলেও পরের দিন রোববার সকাল এগারটার দিকে আখেরী বয়ান শেষে মোনাজাত হল। বাংলাদেশ থেকে মওলানা ফারুক সহ চার জন মাঝারী মুরুব্বী এবং ইন্ডিয়া থেকে মওলানা আহমদ আলী লাট সাহেবসহ কয়েকজন মুরুব্বী এসেছিলেন। শুক্র ও শনিবার ভারতের লাট সাহেব বাদ মাগরিব বয়ান করলেন। তিনিই পরের দিন মোনাজাত করেছিলেন। মাশোয়ারার মাধ্যমে ঠিক হল যে সমগ্র মধ্যপ্রাচ্যের কেন্দ্রীয় এজতেমা হুদাইদাতেই হবে। এখানে এসে কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটল, যার কোন ব্যাখ্যা আমি পাইনি। একটা ঘটনা বলার লোভ সামলাতে পারছি না। এজতেমার দ্বিতীয় দিন প্রায় সবাই মাঠে চলে গেছেন। বিরাট ডরমেটরীতে তিন/চার জন সাথী বিক্ষিপ্ত ভাবে কাজ করছেন। এমন সময় একজন বিদেশী সাথী হলের এক কোণায় আমাদের আমিরের কাছে এসে সরাসরি বললেন, এখানে কি বাংলাদেশের জামাত আছে? তিনি হাঁ বাচক উত্তর দিলেন। সেই সাথী একটি প্যাকেট তার হাতে দিয়ে বললেন, মদীনা থেকে আপনাদের জন্য এই উপহারটা পাঠানো হয়েছে। প্যাকেট দিয়েই তিনি চলে গেলেন। রাত্রে আমরা প্যাকেট খুলে দেখলাম, তাতে বারটা খেজুর রয়েছে। আমাদের জানামতে মদীনা থেকে কারো পাঠানোর কথা নয়, পাঠানোর মতো কেউ নেই। অথচ বিশেষভাবে বাংলাদেশের জন্য এই খেজুরের প্যাকেট কে পাঠালেন? আর তিনি জানলেনই বা কীভাবে যে, অত হাজার হাজার লোকের মধ্যে ছয় জন বাংলাদেশী কোথায় আছে? আবার খেজুরও দুইটা করে বারটা। সবই কি এ্যাকসিডেন্টাল? এর মধ্যে কি আল্লাহর মেহেরবানী ও কুদরত নেই? আমরা সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম, বরকত হিসাবে সবাই এই খেজুর নিজ নিজ বাড়ীতে নিয়ে যাব। ইয়েমেন বালু, পাথর ও পাহাড়ের দেশ। এখানে ইটের কোনো কারবার নেই। তবে প্রচুর কুচি ও ছোট পাথর আছে, যে পাথরের তারা উপযুক্ত ব্যবহার করেছেন। কুচি পাথর ও ছোট পাথরের সঙ্গে সিমেন্ট মিশিয়ে তারা ঘর ও প্রাচীর বানানোর উপযোগী বিভিন্ন সাইজের ব্লক তৈরি করেছেন। এই ব্লক সিমেন্ট বালু দিয়ে গেঁথে দিলেই সুন্দর ঘরবাড়ী ও প্রাচীর হয়ে যাচ্ছে। আর এ পাথর ও বালু তাদের নিজেদের কাছেই প্রচুর পরিমাণে বর্তমান। প্লাষ্টারিং প্রায় বাড়ীঘরেই চোখে পড়ে না। তবে কেউ কেউ বিভিন্ন ভাবে রং করে রেখেছেন প্রাচীর ও বাড়ীর দেওয়ালে। শহরে প্রায় অধিকাংশ বাড়ীই কমপক্ষে দোতলা, তিনতলা। তাতে লোহার দরজা ও জানালা, যা দেখতে সুন্দর, রঙ্গীন ও নকশাদার। ছাদগুলো আর সি সি বিম এর উপরে কাঠের পাটাতন, তবে উপরে ৪ ইঞ্চি সিমেন্টের ঢালাই। বেশ কিছু ক্ষেত্রে পিলারের উপর সিমেন্টের বিম দিয়ে তার উপর মোটা কাঠের বর্গা ব্যবহার করা হয়েছে। কোন কোন বাড়ীতে গোটা গোটা চতুষ্কোণ পাথরের টুকরাও ব্যবহার করা হয়েছে। বাড়ী ও প্রাচীর তৈরিতে ব্যবহৃত পাথর বাইরের দিকে সমান হলেও অন্য দিকগুলো বিভিন্ন সাইজের এবং দেখতে আমার কাছে ভালই লাগছিল। তবে খুব কম বাড়ীতেই এই বিলাসবহুল কাজ করানো হয়েছে। এখানে টিনের কন্টেইনারে জয়তুন বিক্রি হয়। তেলের মধ্যে জয়তুন ডুবান থাকে। পাকা অথবা সিদ্ধ দুই রকমের জয়তুনেরই প্যাকেট পাওয়া যায়। পছন্দের সাইজ মতো টিন খুলে জয়তুন তুলে পৃথক করা হয় এবং তেল অন্য পাত্রে রাখা ও খাওয়া হয়। দই এর একটা ইংরেজি প্রতিশব্দ সাওয়ার মিল্ক অর্থাৎ টক দুধ তা এখানে একদম সত্যি। একবার ব্যবহার্য গ্লাসে করে যে দই বিক্রী হয় তা বেশ টক। স'ানীয়রা এটাই পছন্দ করে। দাম পঞ্চাশ রিয়েল আমাদের প্রায় সতের টাকার মতো। আমরা সে দই খেতাম চিনি মিশিয়ে। এ দেশীয় সাথীরা আমাদের সঙ্গে বসে সবকিছু খেলেও চিনি দেওয়া দই খেত না। এজতেমা শেষে কয়েক’শ জামাত দেশে বিদেশে রোখ নিয়ে চলে গেল- শুধু বাদ থাকল আমাদের ছয় জনের এই বাংলাদেশী জামাত ও দুটি পাকিস্তানী জামাত। কোথায় কোন জামাতের রোখ হয়েছে ইত্যাদি যাচাই শেষ করে তারপরে রোখ দিতে চাইলেন বলে আমরা তিনটা জামাত আবার হুদাইদার মারকাযে ফিরে এলাম। মনে মনে ভাবলাম, গরম শহরে না ঠান্ডা শহরে রোখ হয় তার উপর ভিত্তি করে কাপড় চোপড় ও মাল সামান নিলেই ভাল হবে। মাশোয়ারাতেও এটাই ঠিক হল। হুদাইদা ছাড়া হাজরা মাউত এবং আদন (এডেন বন্দর) ইত্যাদি হল গরম আবহাওয়ার শহর। রদায়, মাহয়িদ, সানা ইত্যাদি সব বেশ শীতের শহর। এখন অপেক্ষার পালা। পরের দিন বিরতি। শুধুই বিশ্রাম। হঠাৎ করেই ভাই ফাহিম এসে হাজির। যে গাড়ীতে আমরা সানা থেকে এসেছিলাম সে ঐ গাড়ীর মালিক ও ড্রাইভার। চিল্লার সাথী। বাংলাদেশেও এজতেমাতে গেছেন ও চিল্লা দিয়েছেন। টিপটপ মানুষ - দেখে বোঝাই যায় না। পুরা ইয়েমেনের আহলে শুরার প্রধান ভাই সালেহ মকবিল নিজেও প্রথম দিকে এ রকম ছিলেন। তবলীগ করতেন না তবে কেতাদুরস্ত- মানুষটি তবলীগওয়ালাদের পছন্দ করতেন। সুযোগ পেলেই নিজের গাড়ীতে করে সাথীদের বিভিন্ন গন্তব্যে নিজ খরচে পৌঁছে দিতেন। এভাবেই সূচনা। পরে আল্লাহর মেহেরবানী হল। তবলীগে ঢুকলেন এখন পর্যন্ত পুরা দেশের প্রধান ও ফায়সাল। বাংলাদেশে অনেক বার গিয়েছেন এবং আমাদের প্রায় সব মুরুব্বীর সঙ্গেই তার সুসম্পর্ক আছে। তাঁর ডান হাত তার ছেলে লাবিব কেন্দ্রীয় মারকাযে বর্তমানে কাজ করছেন এবং তিনিই এবার বিদেশীদের দেখভালের পুরা দায়িত্ব পালন করলেন। মাঝ বয়সী হাসিখুশি মানুষ। দিনরাত কাজ করে যাচ্ছেন, কোনো ক্লান্তি নেই, বিরক্তি নাই। পাসপোর্ট, ভিসা, টিকেটের সময় বাড়ানো, পুলিশি রিপোর্ট, মেডিক্যাল, থাকা ও খাওয়াদাওয়া সবই তার জিম্মায়। আমরা শুধু প্রয়োজনীয় অফিসের ফিস দিয়েই খালাস। যাহোক ফহিম এসেই আমাদের খুঁজে বের করলেন। সানা থেকে হুদাইদা আসার পথেই আলাপ বেশ জমে গিয়েছিল। প্রস্তাব দিলেন আজ তিনি বাইরের কোন ভাড়া তুলবেন না। আমাদের সঙ্গে সময় কাটাবেন এবং সে জন্য আমাদের সমুদ্রসৈকতে নিয়ে যেতে চাইলেন। কয়েকজন ইন্দোনেশিয়া ও থাইল্যান্ডের ছাত্র ছিল। ওরাও যেতে চাইল। ফলে এগার জনের জামাত চললাম সমুদ্রে। আমি ও মুনির ভাই ছাড়া সবাই সমুদ্রের পানিতে নেমে খুব আনন্দ করলেন। তখন জোয়ারের সময়। পানি ক্রমেই বাড়ছিল ও তীরে এসে ছলাত ছলাত করে আছড়ে পড়ছিল। অল্প সময়ের মধ্যেই গাড়ীতে করে বেশ কিছু স্থানীয় পারিবারিক ভ্রমন পিয়াসীরা এসে সৈকতে জমলেন। শালীন পরিবেশ। শরিয়া মাফিক বোরখা, হাত মোজা ও পা মোজা ছাড়া একটা মেয়েও কোথাও দেখলাম না। পাঁচ/ছয় বছরের ছোট বাচ্চারা শুধু আমাদের দেশের মতো পোষাকে- তাও প্রায় প্রত্যেকেই পানির জন্য নিরাপদ জ্যাকেট অথবা লাইফ বয়া নিয়ে বাপ চাচার সঙ্গে সমুদ্রের ঢেউয়ের সঙ্গে মাতামাতি করছে। রাস্তাগুলো খুবই প্রশস্ত ও ঝকঝকে। কোথায়ও কোনো ময়লা নেই। কিছুদূর পরপরই পুরুষ অথবা মহিলা কর্মীরা রাস্তার ময়লা খুটে তুলে নিচ্ছে। এ সব মহিলা বোরখা ছাড়াও হাত মোজা ও পা মোজা পড়ে কাজ করছে। অশ্লীল ছবি তো দূরের কথা, দুই/একটা বিদেশী কোম্পানীর সাইন বোর্ড ছাড়া কোনো তরুণীর ছবি কোথাও চোখে পড়েনি-তাও মার্জিত ও শালীন। দোকানেও ক্যাসেট টিভির কোন অত্যাচার নাই। কেমন যেন অন্য রকম একটা স্নিগ্ধ সুন্দর পবিত্র পরিবেশ, বাংলাদেশের মানুষ তো আমেরিকান ইংলিশ হওয়ার প্রত্যাশী। সুতরাং তারা এটা বিশ্বাস করবে কি? কারাভাঁর যাত্রা হল শুরু রাত্রে আমাদের গন্তব্যের ফয়সালা হবে। এদিকে বিকেলেই সাথী ভাই আব্দুল্লাহ আলী হাসান নাজ্জারী এসে হাজির। আজ সহ ছয় বার আসা হল। এর মধ্যে এজতেমার মাঠেই দুইবার, সেখানেও মেহমানদারীর কমতি নেই। তরমুজ খাইয়েছেন- এক/দুইটা নয় ছয়/সাতটা করে। তাদের ইচ্ছা আমাদের জামাতকে তাদের এলাকায় নিয়ে যাবেনই। শেষ পর্যন্ত তাদের আগ্রহ ফলবতী হল। বিশ দিনের জন্য আমাদের প্রথম রোখ (গন্তব্য স্থল) মরুকন্যা কানাবেজ। সেখানে যেতে কারো কারো মন হয়ত খুঁত খুঁত করতে পারে তাই মওলানা সুন্দর একটা ফারসী বয়াত শুনিয়ে দিলেন। “পীরে মান খোশাস্ত এহতেমাল বসাস্ত”। সরল অর্থে গন্তব্য নিয়ে প্রশ্ন না তুলে উদ্দেশ্য সিদ্ধ হওয়াই কেন প্রধান সে বিষয়ে বিস্তারিতভাবে বুঝালেন। আমি তার বয়াতের অনুবাদ এ ভাবে করলাম : “আমার পীর যাতে খুশী সেটাই চূড়ান্ত/বিকল্প পথ যা কিছু ছিল সবই ভ্রান্ত।” এর পরে আর কোন বিকল্প চিন্তা কারো মাথায় আসার প্রশ্নই উঠে না। গন্তব্য কানাবেজ, যেতে হবে। এখান থেকে দূরত্ব হুদাইদা বন্দরের পাশ দিয়ে আশি কিলোমিটার। পরের দিন সকালে নাস্তা শেষে গাড়ির পেছনে মালসামানা তুলে আমরা সবাই টয়োটা ষ্টারলেট ২৪০০ হাফট্রাক গাড়িতে বসে পড়লাম। এ রকম হাফ ট্রাক এখানের পথে ঘাটে অসংখ্য। সব কাজই হয়। যাত্রীও বহন করা যায় সাথে মালসামানাও। কানাবেজ থেকে ধুলি ধুসরিত কাঁচা রাস্তায় আরো আট/দশ কিলোমিটার যেতে হল। তার পর ‘মসজিদে নাজ্জারী’। প্রাচীন আমলের মসজিদ। আয়তনে বেশি বড় নয়। একশত সোয়াশ জন মানুষ একত্রে নামায পড়তে পারবে। মসজিদের দেয়ালগুলি পাথরের। প্রাচীনত্বের মাঝে অন্য ধরনের একটি আমেজ পাওয়া যায়, যা অন্তরকে অতীতমুখী করে তোলে। আমরা আলহামদুলিল্লাহ বলে নেমে পড়লাম। এলাকার ছোট বড় ছেলেরা এসে কাইফা হালুকা (কেমন আছেন) বলে হাত মিলাতে লাগল। সবাই সমীহের চোখে দেখছে। আর ফিসফিস করে বলছে ‘বাংগালাদেশ বাংগালাদেশ’। বিদেশে এসে নিজের দেশের কারণে এত ভালবাসা পাব স্বপ্নেও ভাবিনি। এ মসজিদে আমরা তিনদিন থাকলাম। প্রত্যেক দিন পাঁচ বেলা আপ্যায়ন। মেহমান তৃপ্ত ও অভিভূত, কিন্তু মেযবানের যেন কিছুতেই তৃপ্তি হয় না। হায়! মেহমানদারিতে এরা কোথায় আর আমরা কোথায়! এখানে মাছির উপদ্রব খুব বেশী। এদের দেশে এটা বসন্ত কাল। মাছির প্রজণের সময় তাই মাছির অত্যাচারে বসে থাকাও মুশকিল। বাধ্য হয়ে মশারি টাঙ্গিয়ে খাওয়া দাওয়া করতে হত। মশার ভয়ে মশারি টাঙ্গাতে হয়। কিন্তু এখানে মাছির ভয়ে মশারি টাঙ্গাতে হল বলে আমরা মশারীর নাম দিলাম মাছিরি। এখানেও মানুষের বয়ানে বসা ও কথা শোনায় কোনো আপত্তি নেই। নামায শেষে ছোট বড় প্রায় সবাই বয়ান শুনতে বসে। আমাদের মধ্যে একজন বাংলায় বয়ান করেন, আমির সাহেব তা আরবীতে তরজমা করেন। ছোটরাও চুপচাপ বসে শোনে। মানুষগুলো একদম সহজ-সরল। সাজপোষাকের গুরুত্ব নাই। অথচ প্রায় প্রত্যেক বাড়িতেই একটি মোটর গাড়ী, অন্তত একটি মোটর সাইকেল আছে। এরা সারাদিন প্রয়োজনে গাড়ি ও মোটর সাইকেল ভাড়া খাটায়। শহরের পথে প্রচুর মাইক্রোবাস চলে। মাইক্রোগুলিতে প্যাসেঞ্জার ওঠায়। মোটর সাইকেলগুলোও রিকশার মতো পেছনে প্যাসেঞ্জার টানে। শহর থেকে শহরে অথবা পাড়া থেকে পাড়ার যে দূরত্ব তাতে এর কোনো বিকল্প আছে বলেও মনে হয় না। চারিদিকে ধু ধু মরুভূমি। মাঝে মধ্যে দুই/একটা গাছ অথবা ফাঁকা ফাঁকা ক্ষেত। এক বাড়ি থেকে অপর বাড়ি যেতে হলে বালুর সমুদ্র পাড়ি দিয়ে যেতে হয়। এখানে বেসরকারি বিদ্যুৎ আছে। তবে পাওয়ার সাপ্লাই-এর নিয়ম অন্য রকম। ঠিক বিকাল পাঁচটায় পাওয়ার সাপ্লাই শুরু হয় এবং রাত তিনটায় বন্ধ হয়। এক সুইচেই অনেকগুলো লাইট ও ফ্যান জ্বলে ও বন্ধ হয়। গরমের কারণে ফ্যান দিয়ে রাখতে হয় অথচ লাইট বন্ধ করার সুযোগ নেই। এজন্য সবগুলো লাইটও জ্বালিয়ে রাখতে হয়। প্রথম ভোরেই ফজরের নামাযের পর বয়ান, তারপর ইশরাক এর নামায শেষে কোরআন শরীফ পড়ছি, হঠাৎ আমির সাহেব ডাকলেন। জানালা দিয়ে দেখলাম একটা মোটর সাইকেলে একজন বসে আছে এবং তার চারদিকে দশ/পনর জন বিভিন্ন বয়সের মানুষ। বাইরে গিয়ে দেখি একটা মোটর সাইকেলের দুই ধারে দুইটা মাঝারী সাইজের পানির কন্টেইনার, যা একদিক কেটে পাত্রের মতো বানানো হয়েছে। তার মধ্যে বরফ দিয়ে সামুদ্রিক মাছ রাখা আছে। সবাই ঐ মাছ কিনছে। একেকটা মাছ ছয়/সাত ইঞ্চি করে লম্বা। নাম ‘বাগ’। প্রত্যেকটা বিশ রিয়েল (প্রায় সাত টাকা) তবে দরদস্তুর ও মাপামাপি নেই। যার যতটা দরকার নিয়ে নিচ্ছে। প্রথমে মাছটা একটা টিনের উপর রেখে চাকু দিয়ে মাথা থেকে লেজ পর্যন্ত টানা লম্বা করে ফেড়ে ফেলা হচ্ছে। এখন হাত দিয়ে নাড়িভুড়ি বের করা সহজ। আঁশ আছে, দেখতে কিছুটা ইলিশ মাছের মতো। সকালের নাস্তায় মাছটি ভাজা হয়ে চলে এল। দেখলাম মাছের মধ্যের কাঁটা খুব মোটা ও শক্ত। বেলা হতেই দেখলাম, মোটর সাইকেলে করেই বিভিন্ন ফলমূল তরকারী আসছে। কিছুক্ষণ বিক্রি করে সাইকেল নিয়ে অন্যত্র চলে যাচ্ছে। এমন কি আইসক্রিমও এভাবেই বিক্রি হচ্ছে। স্থায়ী দোকানও আছে। সেখানেও প্রচুর বিক্রি হচ্ছে। আসরের নামাযের পর গাশ্‌তের আদব বলা শুরু হল। একজন বাংলায় বললেন এবং মওলানা অনুবাদ করলেন। এলান করতে হল না। কারণ এলাকার সাথীরাই দীর্ঘ এলান দিয়ে দিলেন, অনেকটা ছোট বয়ানের মতো। এদেশে বিদেশী জামাত বেশি আসে পাকিস্তান থেকে। তাই মাশোয়ারায় সিদ্ধান্ত হয়েছিল যে, আমরা প্রথমেই এ বলে পরিচয় দেব “নাহ্‌নু ছিত্তা নফর মিন বাংলাদেশ।’ তারপর দাওয়াত দেব। সেভাবেই শুরু করা হল। সুন্দর সাড়া পেলাম। লোকজন ডাকলে বেশ কথা শোনে, শেষে যখন বলা হয়, মূসতায়িদ্দুন? সবাই হৈ হৈ করে বলে আনা মুসতায়িদ্দ। যে এলাকায় আমরা গাশ্‌ত করলাম এর পাশেই ধু ধু মরু প্রান্তর। দূরে ফাঁকা ফাঁকা জোয়ারের ক্ষেত। মাঝে মাঝেই সবুজ বরবটির ঝোপ। এখানে বরবটির গাছ লতানো হয় না, অনেকটা ঝোপের মতো হয়। বরবটির সাইজ চার/পাঁচ ইঞ্চি। ডিপ-টিউব অয়েল আছে। বাড়ীতে ট্যাপের লাইনে পানি সরবরাহ করে, গাধার পিঠের কন্টেনারে পানি দেয়, আবার ক্ষেতেও পানি সেচ দেয়। প্রত্যেক বাড়িতেই কমপক্ষে একটি নিম গাছ, বাবলা গাছ, কাঠবাদাম গাছ অথবা যে কোনো ধরনের গাছ আছেই। যেখানে যে গাছই জম্মাক ওরা যত্ন করে। কোনো কোনো বাড়িতে দুই একটা ফুলগাছও আছে। তবে সংখ্যায় কম। হেনা অর্থাৎ মেহেদী দেখলাম না। প্রতিটি গাছে নিয়মিত পানি দেওয়া হয় এবং পরিচর্যা করা হয়। যাদের গাছ বেশি তারা এ জন্য গর্বিত। আমাদের জামাতের এটা তিন নং মসজিদ। একশত বিশ দিনে কমপক্ষে পঁয়তাল্লিশ থেকে পঞ্চাশটি মসজিদে যাওয়ার সুযোগ হবে। দেখি কোথায় কেমন কাটে। এ পর্যন্ত মানুষজনের আচরণ এতই সরল ও আন্তরিক লাগছে যে, আমাদের আচরণের কথা মনে হলে লজ্জাই লাগছে। আমরা খেদমতের দায়িত্ব নিলে হিসাব করি অল্প টাকার মধ্যেই কীভাবে দায়িত্ব শেষ করা যায়। এখানে মেহমানদারি করে যেন ওদের মন ভরে না। দস্তরখানে শুধু যে মেহমানরাই বসছেন তা কিন্তু নয়। মসজিদে যারাই ঐ সময় উপস্থিত থাকছেন সবাই বসছেন। এমনকি কোনো গরীব লোক মানুষের সাহায্য চেয়ে বিশ্রামের জন্য মসজিদে এসেছে সেও ব্যাগ রেখে বসে যাচ্ছে মেহমানের মতই এবং প্রত্যেক বরতন থেকেই তাকে স্বাগত জানানো হচ্ছে কোনো সংকোচ, দ্বিধা ছাড়াই। এদেশের মানুষের গায়ের রং ও চেহারা অনেকটা আমাদের দেশের মতো। টকটকে ফর্সা মানুষ প্রায় চোখেই পড়ে না। অধিকাংশ মানুষই শ্যামলা। কিছু কুচকুচে কালও আছে। এমন কি আমরাই কেউ কেউ এখানে ফর্সা। ছোট ছোট মেয়েদের মধ্যে কিছু ফর্সা মেয়ে দেখলাম। মনে হয় মেয়েরা ফর্সা হতে পারে। ছয়/সাত বছরের মেয়েরাও কাল বোরখা পড়ে। পায়ে মোজা পড়ে। এখানে এই চৌদ্দ দিনে কোনো রঙিন বা ঝলমলে বোরখা চোখে পড়েনি। সানা বা হুদাইদাতে স্কুল-কলেজের মেয়েদের, এমনকি হাসপাতালের ডাক্তার ও নার্সদেরও একই রকম বোরখা ও হাত-পায়ে মোজা দেখেছি। (চলবে ইনশাআল্লাহ)

 

advertisement