মুহাররম ১৪৩১   ||   জানুয়ারী ২০১০

মাটির ঘর

তাঁর বাড়িটি ছিল কাঁচা, মাটির তৈরি। পাকা দালানকোঠা তাঁর বাড়িতে ছিল না। বর্ষার সময় ঘরের মধ্যে পড়ত বৃষ্টির পানি। নরম হয়ে যেত মাটির দেয়াল। প্রতি বছর তাকে বাড়িঘরে কিছু কিছু মেরামতের কাজ করাতে হতো। তাঁর ছিল এক যোগ্য ও গুণী ছাত্র। সে এই অবস্থা দেখে একদিন তাকে বলল, উস্তাদজী! প্রত্যেক বছর আপনি বাড়ি মেরামত করান। এভাবে বছর বছর টাকাও খরচ হয়, সময়ও নষ্ট হয়। পাকা বাড়ি বানিয়ে ফেললেই তো সমস্যা শেষ হয়ে যায়। আল্লাহ তাআলা আপনাকে এটুকু সামর্থ্য তো দিয়েছেন। এটা করলে প্রতি বছর খরচ করা থেকেও বেঁচে যাবেন।’

গুণী ছাত্রের কথা শুনে উস্তাদ বললেন, ‘বাহ, বাহ তুমি কত বুদ্ধির কথা বললে। আমি তো সারাটা জীবন পার করে দিলাম। বুড়ো হয়ে গেলাম। এখনও এ বিষয়টা বুঝতে পারলাম না।’ উস্তাদের মুখে বার বার এ কথাগুলো শুনে বুদ্ধিমান ছাত্রটি লজ্জিত হয়ে বলল, কথাগুলো আমি আসলে এজন্য বলেছি যে, পাকা বাড়ি না বানানোর মাঝে যদি কোনো হেকমত থাকে তাহলে সে কারণটি সম্পর্কে আমিও জানতে পারতাম।’ উস্তাদ তখন বললেন, ‘এসো, আমি তোমাকে বলছি।’ এ কথা বলে ছাত্রের হাত ধরে তাকে নিজের বাড়ির দরজায় নিয়ে এসে বললেন, দেখ তো এই গলির ডানে-বাঁয়ে, সামনে-পেছনে কোথাও কোনো পাকা বাড়ি তোমার নজরে পড়ে কি না? ছাত্র বলল, জ্বী না।

এরপর উস্তাদ বললেন, আমার সব প্রতিবেশীর বাড়ি কাঁচা, মাটির দেয়ালের। এই গলিতে একা আমার বাড়িটি পাকা করে বানালে সেটা কি ভালো দেখাবে? আমার তো এ সামর্থ্য নেই যে, প্রত্যেক প্রতিবেশীর বাড়ি পাকা করে দেব। এ জন্য আমার বাড়িটিও আমি পাকা বানাইনি, যেন আমার প্রতিবেশীরা, মনোকষ্টে না ভুগে।’ এই গল্পের উস্তাদ ছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দের প্রখ্যাত উস্তাদ মাওলানা সাইয়েদ আসগার হোসাইন রাহ. আর ছাত্রটি ছিলেন পাকিস্তানের মুফতীয়ে আযম মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.।

 

advertisement