জুমাদাল উখরা ১৪৩০   ||   জুন ২০০৯

নূরানী মকতবের প্রয়োজনীয়তা

মুহাম্মাদ আবদুল্লাহ ফাহাদ

প্রথম দিকে ইলমে দ্বীনের চর্চা ছিল প্রধানত মসজিদভিত্তিক। মক্কায় গোপনীয়ভাবে এর সূচনা হলেও মদীনায় হিজরতের পর মসজিদে নববী-ই ছিল দ্বীনী ইলমের প্রথম কেন্দ্র। এরপর  বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন মসজিদ নির্মিত হলে ইলম চর্চার প্রসার ঘটতে থাকে। মদীনার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ এক এক করে মুসলমানদের দখলে আসার পর যখন মিসর, ইরাক দামেশক ইত্যাদি দূর দেশ বিজিত হল তখন সেসব দেশেও মসজিদ ও মসজিদভিত্তিক শিক্ষার ধারা অব্যাহত থাকে। পাশাপাশি আলাদাভাবেও বহু মাদরাসা প্রতিষ্ঠিত হয়। এভাবেই একদিন অর্ধ পৃথিবীজুড়ে দ্বীনী ইলমের চর্চা প্রসারিত হয়।

খোলাফায়ে রাশেদীন ও উমাইয়া    শাসনামলে সিন্ধু উপকুলে ইসলামের আগমন ঘটে। ৯৩ হিজরীতে (৭১২ খৃ.) মুহাম্মাদ ইবনে কাসিম সিন্ধু জয় করলে এ অঞ্চল ইসলামী শাসনব্যবস্থার অধীনে আসে। তখন থেকেই বহু তাবেয়ী-তাবে তাবেয়ী এ দেশে দ্বীনী ইলমের বিস্তারে আত্মনিয়োগ করেন। ৩৯০ হিজরীতে সুলতান মাহমুদ গযনবী ভারত জয় করেন। সুলতান মাহমুদ দেশের   অভ্যন্তরে মসজিদ-মাদরাসা স্থাপনে অত্যন্ত উৎসাহী ছিলেন। ৪০৯ হিজরীতে কনৌজ বিজয়ের পর গযনীতে ফিরে এসে তিনি একটি আকর্ষণীয় মসজিদের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। যে মসজিদের বিস্তারিত বিবরণ তারীখে ফিরিশতায় উল্লেখিত হয়েছে। -ভারতীয় উপমহাদেশের প্রাচীন ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র পৃ. ২০

বাংলায় মকতব-মাদরাসার সূচনা

সুলতানী আমলে (১২০১-১৫৭৬ খৃ.) খানকাগুলো ছিল মাদরাসার প্রাথমিক রূপ। পীর-আওলিয়াদের এসব খানকায় বয়স্কদের জন্য কুরআন-সুন্নাহ্র চর্চা শুরু হয়। এরপর মুসলিম ছেলেমেয়েদের শিক্ষার প্রয়োজন মেটাতে মকতব প্রতিষ্ঠা লাভ করে। মকতব শিক্ষার কেন্দ্র ছিল খানকা, মসজিদ, মসজিদের চত্বর আবার কখনো কখনো কোনো মুসলমানের কাচারী ঘর বা বৈঠকখানা।-বাংলাদেশে মাদরাসা শিক্ষা ও সমাজ জীবনে তার প্রভাব পৃ. ১০৬

শিক্ষা কমিশনের ১৮৮২ সালের রিপোর্টেও মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উল্লেখ পাওয়া যায়। উক্ত রিপোর্টে আরো বলা হয়েছে যে, উপমহাদেশে আগত মুসলমানরা অন্যান্য দেশের মুসলিম শিক্ষাব্যবস্থার ন্যায় মসজিদভিত্তিক শিক্ষা ব্যাপকভাবে চালু করেছিলেন। ধনী মুসলমানরা এ কাজে ব্যাপকভাবে সাহায্য করতেন। শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বৃদ্ধি, পাঠ্যসূচির ব্যাপক পরিবর্তন ও জাগতিক বিষয়সমূহ অন্তর্ভুক্ত করার ফলে মসজিদ ছাড়াও আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা একাদশ শতাব্দী থেকে মুসলিম সমাজে অনুভূত হতে থাকে। -বাংলাদেশের মাদরাসা শিক্ষা পৃ. ২১

বর্তমানে পাঠ্যপুস্তকের পরিবর্তন-পরিমার্জন ও বৈষয়িক বিষয়সমূহের    অন্তর্ভুক্তি এবং গবেষণার ভিত্তিতে শিশুদের কুরআন মজীদ ও দ্বীনের মৌলিক বিষয় শিক্ষাদানের জন্য আরো কয়েকটি ধারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে প্রাইমারি মকতব, নূরানী কুরআন শিক্ষা ইত্যাদিসহ বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী পরিচালিত শিক্ষাব্যবস্থা।

মকতব-প্রাইমারির প্রয়োজনীয়তা

আগেই বলা হয়েছে, মকতবশিক্ষার মূল উদ্দেশ্যে হল দ্বীনী বিষয়ে মৌলিক শিক্ষা দান। সহীহ-শুদ্ধরূপে কুরআন মজীদ তেলাওয়াত ও কুরআন মজীদের কিছু অংশ মুখস্থ করা, বিষয়ভিত্তিক কিছু হাদীস ও দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় মাসআলা-মাসায়িল ইত্যাদি এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান পাঠ্যসূচি। এর দ্বারা একটি শিশু অতি অল্প সময়ে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান অর্জন করে এবং আল্লাহ রাববুল আলামীনের সন্তুষ্টি অর্জনের প্রেরণা তার কোমল হৃদয়ে জাগ্রত হয়। মূলত শিশুদেরকে দ্বীন ও ঈমানের সঙ্গে পরিচিত করাই এসব প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য।

বর্তমান যুগে এসব প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভূত হচ্ছে। কেননা, বর্তমান প্রজন্ম  কুরআন-সুন্নাহ্র ইলম ও ইসলামী আদর্শ থেকে দূরে সরে শুধু বৈষয়িক শিক্ষায় শিক্ষিত হয়ে উঠছে। অর্থ উপার্জনই হয়ে দাড়িয়েছে জীবনের পরম লক্ষ্য। ফলে সুদ-ঘুষ, দুর্নীতি, অন্যায় ও অনৈতিক কাজের প্রসার ঘটছে। চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, খুন, ধর্ষণ ইত্যাদির ব্যাপকতায় সমাজ, রাষ্ট্র থেকে শান্তি-শৃঙ্খলা হারিয়ে গেছে। অথচ যারা এসব কাজে সরাসরি কিংবা পরোক্ষভাবে জড়িত তাদের প্রায় সবাই জাগতিক শিক্ষায় শিক্ষিত। উচ্চ শিক্ষিত ও মেধাবী হয়েও শুধুমাত্র ইসলামী জ্ঞান ও আদর্শের অভাবেই তারা এসব অসামাজিক ও অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পড়ছে।

দ্বীনী শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা

মানব জীবনের প্রতিটি বিষয় নিয়েই রয়েছে ইসলামের স্বতন্ত্র নীতিমালা। শিশু, যুবক, প্রৌঢ় সকল স্তরের মানুষের জন্য রয়েছে পৃথক পৃথক কল্যাণধর্মী ও সময়োপযোগী বিধান। আর এজন্যই ইসলাম প্রয়োজনীয় দ্বীনী ইলম অর্জন করাকে অপরিহার্য করে দিয়েছে। যেন অজ্ঞতার অজুহাতে ইসলামের কোনো বিধান অসম্পন্ন না থেকে যায়। ইলম অর্জনের অপরিহার্যতা সম্পর্কে হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, প্রতিটি মুসলিমের জন্য ইলম অন্বেষণ করা ফরয।

উপরোক্ত হাদীস থেকে দ্বীনী ইলম অর্জনের শরয়ী হুকুম ও গুরুত্ব অত্যন্ত স্পষ্ট। আর তা হল, প্রত্যেকের প্রয়োজনীয় পরিমাণ ইলম অর্জন করা ফরয; প্রয়োজনের অতিরিক্ত সকল বিষয়ের বিস্তারিত জ্ঞান  প্রত্যেকের জন্য ফরয নয়।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, ইসলামের সকল আহকাম প্রধানত প্রাপ্তবয়স্কদের উপর আরোপিত হয় এবং তাদের জন্য এসব আহকাম পালন করা আবশ্যকীয় হয়। তবে একজন মুসলমান প্রাপ্তবয়সে উপনীত হওয়ার পর অজ্ঞতার অজুহাতে শরীয়তের কোনো হুকুম পালনে অলস বা উদাসীন না হয় এজন্য শৈশব থেকেই তাদেরকে দ্বীনী ইলম শিক্ষা দেওয়ার তাকিদ করা হয়েছে। আর এ দায়িত্ব অর্পিত হয়েছে অভিভাবকদের উপর। নিজ সন্তানের তালীম-তরবিয়তসহ যাবতীয় বিষয় নিশ্চিত করতে অভিভাবকদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কুরআন মজীদে ইরশাদ হয়েছে, তরজমা :  হে মুমিনগণ! তোমরা নিজেকে ও নিজের পরিবার-পরিজনকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর।-সূরা তাহরীম : ৬

হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, তরজমা : তোমরা সকলেই দায়িত্বশীল। আর প্রত্যেককেই তার দায়িত্ব সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে।

সুতরাং অভিভাবকদের কর্তব্য হল, শৈশবেই সন্তানকে দ্বীনের মৌলিক জ্ঞান দান এবং তাদেরকে ইবাদতের প্রতি উৎসাহী করে তোলা। বিশেষ করে নামাযের বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন থাকা কর্তব্য। ছোট কাল থেকেই সন্তানকে নামাযের মৌলিক মাসআলা-মাসায়িল শিক্ষা দেওয়া এবং নামাযের ব্যাপারে অভ্যস্থ করে তোলা উচিত। প্রয়োজনে প্রহারের নির্দেশও রয়েছে ইসলামে। হাদীস শরীফে বর্ণিত হয়েছে, তরজমা : তোমরা তোমাদের সন্তানদেরকে নামাযের আদেশ কর যখন তাদের বয়স সাত বছর হয়। আর যখন দশ বছর হয় তখন তাদেরকে (প্রয়োজনে) প্রহার কর।

মোটকথা, শৈশব থেকেই সন্তানের দ্বীনী শিক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা, তাকে আমল-ইবাদতের প্রতি উৎসাহিত করা এবং নেক তরবিয়ত নিশ্চিত করা প্রতিটি সচেতন মুসলিম অভিভাবকের দায়িত্ব।

শৈশবে শিশুর মন-মস্তিষ্ক থাকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছ ও নিষ্কলুষ। এ সময়ে শিশুরা যা শোনে, যা শেখে সবই তার কচি মনে রেখাপাত করে। তার স্মৃতিতে স্থায়ীত্ব লাভ করে। শৈশবকালই হচ্ছে একটি শিশুর ঈমান-আমল শিক্ষাদানের উপযুক্ত সময়।

মনে রাখা উচিত যে, ধর্মের মৌলিক ও প্রয়োজনীয় পরিমাণ জ্ঞান অর্জনের পর বৈষয়িক কিংবা জাগতিক কোনো জ্ঞান লাভ করাও নিষিদ্ধ নয়; বরং ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি জাগতিক ও বৈষয়িক জ্ঞান লাভের অবকাশ রয়েছে। তবে এই শিক্ষাগ্রহণ ও কর্মক্ষেত্রে তার প্রয়োগের ক্ষেত্রে ইসলামের আদর্শ ও বিধি-নিষেধ মেনে চলাও আবশ্যক।

সুতরাং অভিভাবকগণ সন্তানদেরকে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি চাকরি, ব্যাবসা কিংবা অন্যান্য বৈধ অবলম্বন গ্রহণের উদ্দেশ্যে বৈষয়িক কিংবা জাগতিক কোনো শিক্ষায় শিক্ষিত করতে পারেন। তবে সর্বাবস্থায় ইসলামী আদর্শ ও নীতিমালার ব্যাপারে সচেতন থাকা আবশ্যক।

বর্তমান সময়ের মকতব-মাদরাসা

পূর্বের মতো এখনো শহর, গ্রামসহ দেশের সর্বত্র মসজিদভিত্তিক মকতব পরিচালিত হয়ে আসছে। তবে কোনো কোনো অঞ্চলে স্থানীয়দের সম্মিলিত উদ্যোগে কিংবা কোনো দানশীল, ধর্মানুরাগী ব্যক্তির ব্যক্তিগত উদ্যোগেও কিছু মকতব গড়ে উঠেছে। যেগুলো ফুরকানিয়া, কারিয়ানা, মকতব ইত্যাদি নামে পরিচিত। মকতব-শিক্ষার কিছু ধারা এমনও রয়েছে যাতে দ্বীনের মৌলিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জাজতিক বিদ্যাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। বেশ গবেষণার ভিত্তিতে এর পাঠ্যসূচি নির্ধারিত হয়েছে। যার মধ্যে নূরানী তালীমুল কুরআন, নাদিয়াতুল কুরআন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

এসব স্বতন্ত্র প্রতিষ্ঠান ছাড়াও দীর্ঘ মেয়াদী কওমী মাদরাসাগুলোতেও রয়েছে প্রাথমিক স্তরের নূরানী শিক্ষাব্যবস্থা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে, এসব প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ বেসরকারীভাবে পরিচালিত। সরকারী কোনো অনুদান এর জন্য বরাদ্দ নেই। শুধুমাত্র দ্বীনদার ব্যক্তিবর্গের সহযোগিতাই এসব প্রতিষ্ঠানের আর্থিক উৎস।

এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মান উন্নয়ন ও পঠন-পাঠনরীতির সহজিকরণের লক্ষ্যে মকতব শিক্ষকদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণকেন্দ্রও গড়ে উঠেছে। তার মধ্যে নূরানী তালীমুল কুরআন, নাদিয়াতুল কুরআন, নূরিয়া তালীমুল কুরআন, নাজাতুল উম্মাহ, খুদ্দামুল কুরআন ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে শিক্ষকগণ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিশুদেরকে উন্নত ও সহজ পদ্ধতিতে কুরআন মজীদ পাঠদানে নিয়োজিত রয়েছেন।

মসজিদভিত্তিক মকতব সম্পর্কে একটি অভিযোগ

আমাদের দেশের মসজিদভিত্তিক মকতবগুলোর ব্যাপারে মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত পরিবারের অভিভাবকগণ একটি অভিযোগ করে থাকেন যে, এসব মকতবে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকাংশ হল নিম্নবিত্ত পরিবারের। তাছাড়া এসব মকতবে বসার পরিবেশ থাকে না।

প্রথম কথা এই যে, সকল মকতবের ক্ষেত্রে এই কথাটা প্রযোজ্য নয়। যেখানে অপরিচ্ছন্নতা ও অন্যান্য অসুবিধা রয়েছে তা দূর করার জন্য তো আমাদেরই আন্তরিক হওয়া উচিত। যেখানে সন্তানের বৈষয়িক ও জাগতিক শিক্ষার জন্য একটি শিশুর পিছনে মোটা অংকের টাকা খরচ হয়ে যায় সেখানে শিশুর দ্বীনী শিক্ষার জন্য সামান্য কিছু অর্থ ব্যয় করে তার শিক্ষার পরিবেশটা কি উন্নত করা যায় না? এতে যেমনিভাবে সন্তানের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করে অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করা হয় তেমনি সদকায়ে জারিয়ায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে ছওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়। তাই শুধু পরিবেশের অজুহাত দেখিয়ে নিজের সন্তানকে ধর্মীয় জ্ঞান থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়; বরং পরিবেশের উন্নতির জন্য সচেষ্ট হওয়া এবং সমাজের অন্যান্য শিশুদের ধর্মীয় শিক্ষার সুব্যবস্থা করে সদকায়ে জারিয়ায় এগিয়ে আসা বিত্তবানদের কর্তব্য।

অভিভাবকদের প্রতি আবেদন

বর্তমান বিশ্বের সকল আবিষ্কার ও গবেষণা পরবর্তী প্রজন্মকে ঘিরে। পরবর্তী প্রজন্মের জীবনযাপনের ধরন, তাদের সংস্কৃতি, আদর্শ ও প্রযুক্তি কী হবে এসব নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হচ্ছে। অথচ মুসলমান হয়ে শুধু আমরাই পিছিয়ে। আমাদের আগামী প্রজন্মের শিক্ষা-দীক্ষা, চরিত্র ও নৈতিকতার বিষয়ে আমাদের যেন বিন্দুমাত্র চিন্তা নেই। অথচ আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের দায়িত্ব আমাদের কাঁধে। তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করার আমাদের কর্তব্য।

মনে রাখা উচিত, আজকের শিশুরাই আগামীর অভিভাবক। অভিভাবক নিজেই যদি দ্বীনী ইলম থেকে বঞ্চিত থাকে তাহলে সন্তানও যথাযথ ধর্মীয় জ্ঞান লাভ করতে পারে না। যেমনটি বর্তমান প্রজন্মের মধ্যে লক্ষ্য করা যায়। অভিভাবকদের উদাসীনতা কিংবা নিজের অলসতায় আজকের অভিভাবকেরা শৈশবে ধর্মীয় জ্ঞান শিক্ষা না করায় এর প্রভাব তাদের সন্তানদের উপর পড়ছে। এভাবে যদি শৈশব থেকেই শিশুর ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা না হয় তাহলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধর্মীয় শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে যাবে। তখন অন্যায়-অত্যাচার, দুর্নীতি ইত্যাদি অনৈতিক ও অসামাজিক কাজ নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে পরিণত হবে। সবচেয়ে বড় কথা, অভিভাবকদেরকে সন্তানদের ব্যাপারে জবাবদিহিতার কাঠগড়ায় দাড়াতে হবে। তাই আমাদের উচিত আমাদের পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভেবে তাদের ধর্মীয় শিক্ষা নিশ্চিত করা।

প্রাথমিক কিছু কথা এ প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে। আগামী সংখ্যায় এ বিষয়ে    বিস্তারিত লেখার ইচ্ছা রইল। আল্লাহ তাআলা তাওফীক দান করুন। #      

 

 

advertisement