জুমাদাল উখরা ১৪৩০   ||   জুন ২০০৯

হযরত মাওলানা সরফরায খান ছফদর রাহ. (১৩৩৩হি. (আনুমানিক) -১৪৩০হি. )

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

বর্তমান সময়ের ইলমী মসনদের সদর, আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামাআত-এর মুখপাত্র, হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ সরফরায খান ছফদর দীর্ঘদিন অসুস্থতার পর গত ৯জুমাদাল উলা ১৪৩০ হি. মোতাবেক ৫ মে ২০০৯ ঈ. মঙ্গলবার দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টায় প্রায় ৯৭ বছর বয়সে গুজরানওয়ালা পাকিস্তানে চিরবিদায় গ্রহণ করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাইহি রাজিউন।

হযরত ছফদর রাহ. একজন অসাধারণ ব্যক্তি ছিলেন। তাঁর ব্যক্তিত্বে বহুমুখী প্রতিভার সমাবেশ ঘটেছিল। যারা তাঁকে তাঁর গ্রন্থসমূহের বদৌলতে চেনেন তারা হয়তো তাকে শুধুমাত্র একজন সফল গ্রন্থকার মনে করে থাকবেন। অথচ তাঁর দ্বীনী খেদমতের অঙ্গণ ছিল ব্যাপক। ইমাম-খতীবের দায়িত্ব, সাধারণ মানুষের জন্য কুরআন-হাদীসের দরস, দরসে নিযামীর গুরুত্বপূর্ণ উলূম ও শাস্ত্রের অধ্যাপনা, ইলমে হাদীস ও ইলমে তাফসীরের দরসদান,ওয়ায-নসীহত, ইসলাহ-সংশোধন এবং রচনা-সংকলন ইত্যাদি সকল ক্ষেত্রেই তিনি ছিলেন দ্বীনের একজন সফল খাদেম। গুজরানওয়ালা শিক্ষক প্রশিক্ষণ কলেজে দীর্ঘ চল্লিশ বছর যাবত কুরআন মজীদের দরস দান করে হাজার হাজার শিক্ষকের অন্তরে কুরআন মজীদের পয়গাম ও হেদায়েতের আলো প্রজ্জ্বলিত করেছেন।

দরসে নিযামীর জটিল ও সূক্ষ্ম বিষয়াবলির দরসদানের পাশাপাশি মুসলিম জনসাধারণের আক্বীদা-বিশ্বাসের সংশোধনের গুরুদায়িত্বও সুচারুরূপে আঞ্জাম দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের সহজবোধ্য আঙ্গিকে দ্বীনের পয়গাম  পৌঁছিয়েছেন। অসংখ্য মানুষকে শিরক-বিদআত থেকে মুক্ত করেছেন এবং তাদের হৃদয়ে তাওহীদ ও সুন্নাহর চেরাগ জ্বেলেছেন।

প্রতিদিন ফজরের পর কুরআন মজীদ বা হাদীস শরীফের দরস দিতেন। অনেক মানুষ এতে অংশগ্রহণ করত। মসজিদ থেকে কয়েক মাইল পর্যন্ত পায়ে হেঁটে বিভিন্ন গ্রামে যেতেন এবং লোকদের দ্বীনের বিষয়ে বোঝাতেন। মাদরাসার তাদরীস তো ছিলই। তাঁর কাছে তাফসীরে কুরআন পাঠকারীর সংখ্যা চল্লিশ হাজারেরও অধিক।

মানবসেবায় আত্মনিবেদনের এই প্রেরণা তিনি অর্জন করেছিলেন তাঁর আল্লাহ ওয়ালা আসাতিযায়ে কেরামের সোহবতেরই মাধ্যমে, যাঁদের মধ্যে শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা হোসাইন আহমদ মাদানী রাহ. সর্বাগ্রে উল্লেখযোগ্য। দারুল উলূম দেওবন্দে ১৯৪১ ঈ.-১৯৪২ ঈ. তাঁর সাহচর্য লাভ করেন।

তাঁর নিজের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছিল তালীম ও তাদরীস, শিক্ষাদান ও অধ্যাপনা। অবসর সময়ে রচনা ও গবেষণার কাজে লেগে থাকতেন। অথচ তাঁর রচনাবলি অধ্যয়নে মনে হয় এটাই ছিল তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ব্যস্ততা। উপরন্তু এমন একটি বিষয় তিনি এই কাজের জন্য নির্বাচন করেছিলেন যা অনেক কঠিন ও সংবেদনশীল এবং যার প্রতি সাধারণত মানুষ আগ্রহী হয় না। তা হচ্ছে বিভিন্ন বাতিল মতবাদের খন্ডন। তাঁর অধিকাংশ রচনার বিষয়বস্ত্ত এটাই। বেশি লিখেছেন খালিছ তাওহীদ ও সুন্নতের প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারী বেরেলভী (রেযাখানী বা রেজভী) ফের্কার বিরুদ্ধে। এছাড়া আরো কিছু প্রসিদ্ধ ফের্কা এবং খৃষ্টবাদ ও কাদিয়ানী মতবাদের খন্ডনও তার বিভিন্ন রচনায় বিদ্যমান রয়েছে।

তিনি তার সকল রচনায় আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের মতাদর্শকে তুলে ধরেছেন। প্রতিপক্ষের চিন্তাধারা উল্লেখ করেছেন তাদেরই স্বীকৃত গ্রন্থসমূহ থেকে এক্ষেত্রে তার পদ্ধতি ছিল সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ, গবেষণাধর্মী ও দলীলনির্ভর। আবেগ ও উত্তেজনাকে তিনি প্রশ্রয় দেননি। সাধারণত উদ্ধৃতি ছাড়া কোনো কথা লেখেননি। আলোচনা-পর্যালোচনার ক্ষেত্রে কোথাও কোনো বাক্য বিতর্কসূলভ এসে থাকতে পারে কিন্তু আলোচনার মূল ভিত্তি রেখেছেন শরয়ী দলীলের উপর।

এইসব বৈশিষ্ট্যের কারণে আকাবির তাঁর রচনাবলিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছেন। হযরত মাওলানা ফখরুদ্দীন মুরাদাবাদী রাহ. (১৩৯২হি.-১৩০৭হি.), মুফতী মাহদী হাসান শাহজাহানপুরী (১৩০০হি.-১৩৯৬হি.), হযরত মাওলানা ক্বারী মুহাম্মাদ তাইয়েব ছাহেব রাহ. (১৩১৫হি.-১৪০৩হি.), হযরত মাওলানা যফর আহমদ উছমানী রাহ. (১৩১০হি.-১৩৯৪হি.), হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী ছাহেব (১৩১৪হি.-১৩৯৬হি.), হযরত মাওলানা ইউসুফ বানূরী রাহ. (১৩২৬হি.-১৩৯৭হি.) থেকে শুরু করে হযরত মাওলানা    হাবীবুর রহমান আজমী (১৩১৯-১৪১২হি.) এবং হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ আবদুর রশীদ নুমানী (১৩৩৩হি.-১৪২০হি.) পর্যন্ত সবাই তাঁর রচনাবলির প্রশংসা করেছেন।

উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা নুমানী রাহ. বলেন, মাওলানা ছফদর ছাহেবের সকল রচনায় ইলম ও তাহকীক মূর্ত হয়ে থাকে।

ইজতিহাদ ও তাকলীদ প্রসঙ্গে তার রচনা সম্পর্কে বলেন, আলকালামুল মুফীদ মাশাআল্লাহ হাওয়ালা দ্বারা পূর্ণ এবং অত্যন্ত মেহনত ও তাহকীক করে লেখা হয়েছে।

উস্তাযে মুহতারাম হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ তকী উছমানী বলেন, মাওলানার (সরফরায খান ছাহেব) নীতি এই যে, তিনি যা বলেন তার সঙ্গে অনেক নির্ভরযোগ্য উদ্ধৃতি যোগ করেন এবং তাঁর রচনার প্রতিটি পৃষ্ঠা উদ্ধৃতি দ্বারা সজ্জিত থাকে। (আলবালাগ, রবীউছ ছানী ১৪০৮হি.)

আরো লেখেন, হযরত মাওলানা ইলম ও ফযল এবং তাহকীক ও গবেষণার দিক দিয়ে আমাদের দেশের মূল্যবান সম্পদ। তাঁর কলম দ্বীনের যে খিদমত আঞ্জাম দিয়েছে এবং সঠিক মতাদর্শকে প্রমাণ করে বর্তমান সময়ের বিভিন্ন    চিন্তাধারার যে আলিমসুলভ সমালোচনা করেছে তা আমাদের ইলমী ও দ্বীনী রচনাসম্ভারে অনেক বড় সম্পদ।

যদি তলাবায়ে কেরামের আগ্রহ দেখা যায় এবং মনে হয় যে, তালিকা পেলে তারা তাঁর রচনাবলি সংগ্রহ করতে উদ্যোগী হবেন এবং মুতালাআর চেষ্টা করবেন তাহলে আগামী কোনো সংখ্যায় সংক্ষিপ্ত পরিচিতিসহ তা পেশ করব ইনশাআল্লাহ।

বান্দা যখন দারুল উলূম করাচির তালিবে ইলম তখন তিনি একবার দারুল উলূম করাচিতে আগমন করে সকলকে ধন্য করেছিলেন। ইজতিমায়ী বয়ানে বলেছিলেন, আমি দারুল উলূম দেওবন্দে হযরত মুফতী ছাহেব (মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.)-এর নিকট পড়েছি। এরপর তিনি বিদআতীদের (যারা শিরক-বিদআত এবং কুসংস্কার-কুপ্রথার পক্ষে নিজেদেরকে যেন উকিল বানিয়ে নেয়) সম্পর্কে মুফতী ছাহেব রাহ.-এর ফতোয়া উল্লেখ করেছিলেন। এরপর দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এ বিষয়ে আলোচনা করেন যে, শুধু ভাষা জ্ঞান কুরআন বোঝার জন্য যথেষ্ট নয়। তাহলে তো সাহাবায়ে কেরাম কুরআন বোঝার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হতেন না। কেননা, আরবী তো ছিল তাদের মাতৃভাষা। অথচ হাদীস শরীফ থেকে জানা যায় যে, তারা কুরআন বোঝার জন্য রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর শরণাপন্ন হতেন। এরপর এ বিষয়ে বেশ কিছু দৃষ্টান্ত পেশ করেন। একটি দৃষ্টান্ত

ولم يلبسوا ايمانهم بظلم

সংক্রান্ত ছিল।

হযরত মাওলানা সরফরায খান ছফদর রা. দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে ফিরে আসার পর মাদরাসা আনোয়ারুল উলূম জামে মসজিদ শেরানওয়ালায় প্রায় এক বছর পর্যন্ত তাদরীসের খিদমত আঞ্জাম দিয়েছেন। এরপর ৯জুলাই, ১৯৪৩ সনে গুজরানওয়ালায় প্রত্যাবর্তন করেন এবং মসজিদের ইমামত ও খিতাবতকে কেন্দ্র করে দরস-দাওয়াত, ইসলাহ-সংশোধন এবং রচনা ও সংকলনের কাজে আত্মনিয়োগ করেন। তাদরীসের এত উদ্যোম ছিল যে, কখনো কখনো প্রতিদিন পঁচিশটি সবকও পড়িয়েছেন। এর পাশাপাশি ১৩৭৪হি. থেকে নুসরতুল উলূম গুজরানওয়ালা মাদরাসায় তাদরীসের খিদমতও আঞ্জাম দেন যার প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন তারই অনুজ সুফী আবদুল হামীদ ছাহেব। ইন্তেকাল পর্যন্ত তিনি এ মাদরাসায়ই তাদরীসের খেদমত আঞ্জাম দিয়েছেন।

সুলূক ও ইহসান বিষয়ে তিনি হযরত মাওলানা হোসাইন মিয়াঁওয়ালী-এর সোহবতপ্রাপ্ত ও তাঁর খলীফায়ে মুজায ছিলেন। তাঁর ইন্তেকালের পর গুজরানওয়ালার সাপ্তাহিক আলকলম একাধিক প্রবন্ধ প্রকাশ করে। তাতে ৫ রজব ১৩৯১হি, মোতাবেক ২৭ আগস্ট ১৯৭১ ঈ. তারিখে কোনো প্রসঙ্গে লিখিত তাঁর স্বরচিত আত্মজীবনীও প্রকাশ করা হয়। আলকলম অনলাইনের সাহায্যে আমি ওই প্রবন্ধগুলো থেকে বর্তমান লেখায় সহযোগিতা নিয়েছি।

স্বরচিত আত্মজীবনী প্রবন্ধে হযরত রাহ. তাঁর জন্মতারিখ ১৯১৪ ঈসায়ীর কাছাকাছি সময়ে লিখেছেন, যা আনুমানিক ১৩৩৩ হিজরী হয়। এখানে তাঁর আত্মজীবনী থেকে দুটি উদ্ধৃতি তুলে দিচ্ছি। মনোযোগী পাঠকের জন্য এতে অনেক শিক্ষার বিষয় রয়েছে।

১. আমার মওকুফ আলাইহ (প্রয়োজনীয়) সকল কিতাবের অধ্যয়ন সমাপ্ত হয়ে গিয়েছিল কিন্তু অনুজ আবদুল হামীদের বাকি ছিল। আমি তার জন্য (দেড় বছর পর্যন্ত) অপেক্ষা করি এবং দাওরায়ে হাদীসের জন্য দারুল উলূম দেওবন্দে যাওয়া থেকে বিরত থাকি। ১৯৪১ ঈ. আমরা দুই ভাই এবং আরো কয়েকজন সঙ্গী দারুল উলূম দেওবন্দের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই।

২. প্রথম বিবাহ ২৪ মে ১৯৪৫ ঈ., দ্বিতীয় বিবাহ ৩০ মার্চ ১৯৫২ ঈ.। আল্লাহ তাআলার ফযল ও করমে দুই স্ত্রীই জীবিত আছেন এবং একসঙ্গে থাকেন। একই চুলায় একত্রে তাদের রান্না হয় এবং আজ পর্যন্ত এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি যার কারণে আলাদা হওয়ার প্রশ্ন বা দাবি উত্থাপিত হতে পারে। বাচ্চাদের অবস্থাও তাই। আলহামদুলিল্লাহ, পরস্পরে অত্যন্ত মিলমিশ রয়েছে। আল্লাহ তাআলা তাদের সবাইকে একসঙ্গে শান্তিতে রাখুন এবং তাঁর মর্জি মোতাবেক চলার তাওফীক দান করুন।

হযরত রাহ.-এর সন্তানদের মধ্যে হযরত মাওলানা যাহিদ আররাশেদী দামাত বারাকাতুহুম অধিক প্রসিদ্ধি লাভ করেছেন। বর্তমান সময়ের সচেতন ও মুহাক্কিক আলিমগণের মধ্যে তিনি গণ্য। আল্লাহ তাআলা নিজ ফযল ও করমে তাঁকে এবং হযরত রাহ.-এর অন্যান্য সন্তানকে দীর্ঘ ও পবিত্র জীবন দান করুন এবং মুসলিম উম্মাহকে তাদের দ্বারা উপকৃত করুন।

একটি জরুরি কথা

আমি কিছু তালিবে ইলম ভাইকে দেখেছি, তারা হযরত মাওলানা সরফরায খান ছফদর রাহ. ও হযরত মাওলানা আমীন ছফদর রাহ.কে এক ব্যক্তি মনে করে। কারো কারো এই ধারণাও হয়ে যায় যে, এঁরা দুজন ভাই। উভয় ধারণা ভুল।

সরফরায খান ছফদর রাহ. (ইবনে নূর আহমদ খান ইবনে গুল আহমদ খান)-এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বর্তমান আলোচনায় এসেছে। তিনি সরহদের হাজারা জিলার মান্সাহরার-এর অধিবাসী ছিলেন। তাঁর ইলমী জীবন কেটেছে গুজরানওয়ালা, পাঞ্জাবে।

জন্ম আনুমানিক ১৩৩৩ হি. এবং মৃত্যু ১৪৩০ হি.।

পক্ষান্তরে মাওলানা মুহাম্মাদ আমীন সফদর ছাহেব (ইবনে ওলী মুহাম্মাদ ইবনে পীর মুহাম্মাদ)-এর জন্ম ১৮যিলহজ্ব ১৩৫২ হিজরী মোতাবেক ৪এপ্রিল ১৯৩৪ ঈ. এবং মৃত্যু ৩ শাবান ১৪২১ হিজরী মোতাবেক ৩১ অক্টোবর ২০০০ ঈ.। তিনি পাকিস্তানের উকাড়ার অধিবাসী ছিলেন এবং প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষক ছিলেন। বাতিলের বিরুদ্ধে কামিয়াব মুনাযির ছিলেন। ১৪১০ হিজরীতে জামেয়াতুল উলূমিল ইসলামিয়া বিন্নূরী টাউন -এর আততাখাসসুস ফিদদাওয়া ওয়াল ইরশাদ বিভাগের পরিচালক হিসেবে যোগদান করেন। শাওয়াল ১৪১৩ হিজরী মোতাবেক ১৯৯৩ ঈ. জামেয়া খাইরুল মাদারিস মুলতান চলে যান এবং মৃত্যু পর্যন্ত সেখানেই দ্বীনী খিদমত আঞ্জাম দিতে থাকেন।

তাঁর মূল কর্মক্ষেত্র ছিল মুনাযারা এবং তাঁর রচনাবলিও মুনাযারাধর্মী। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে অত্যন্ত সহজ-সরল, বিনয়ী ছিলেন। সূক্ষ্মদর্শী গবেষক, বিস্তৃত পড়াশোনা ও প্রতুৎপন্নমতিত্ব সম্পন্ন আলিম ছিলেন। অনেক কম মানুষ তাকে চিনেছেন। খাইরুল মাদারিস-এর দায়িত্বশীলরা তার উপর আলখাইর পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা বের করে একটি ভালো কাজ করেছেন। ১৪২২ হিজরীর পঞ্চম থেকে অষ্টম সংখ্যা পর্যন্ত এই বিশেষ সংখ্যা। আমীন ছফদর রাহ. এসেছেন পরে কিন্তু বিদায় নিয়েছেন আগে। আর এখন তো দুজনই মরহুম হয়ে গিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা উভয়কে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করুন। আমীন। #      

 

 

advertisement