রবিউল আখির-জুমাদাল উলা ১৪৪৮   ||   অক্টোবর ২০২৬

তালিবানে ইলমের উদ্দেশে
আদীব হুজুরের পয়গাম

[দীর্ঘদিন যাবৎ আমরা তালিবে ইলম ভাইদের খেদমতে হযরত আদীব হুজুর দামাত বারাকাতুহুমের কোনো তোহফা পেশ করতে পারিনি। কয়েকদিন আগে (১৬ রবিউল আউয়াল-১৪৪৮ হি. মোতাবেক ৩০ আগস্ট-২০২৬ ঈ. রবিবার) হুজুরের কাছে যাওয়া হয়েছিল, সেদিন মজলিসের শেষে বান্দা নিবেদন করলাম, তলাবায়ে কেরামের জন্য যদি আপনার কোনো বার্তা থাকে, তাহলে বলুন। আমি তাদের খেদমতে পৌঁছে দেব।

প্রথমে তিনি এড়িয়ে গেলেন। বললেন, আমি আর কী বার্তা দেব?! এখন তো বরং আমার কাছে তাদের বার্তা আসে!

পরে আমি বারবার দরখাস্ত করার পর তিনি গুরুত্বপূর্ণ একটি নসীহত পেশ করলেন, যা তালিবে ইলমদের জন্য অত্যন্ত মুফীদ হবে। আল্লাহ তাআলা সকলকে আমল করার তাওফীক দান করেন— আমীন।

—বান্দা মুহাম্মাদ আবদুল মালেক]

তালিবে ইলমদেরকে যে বার্তা দিতে চাই, যদি দুই শব্দে বলি, তাহলে বলব, বিনয়ের সঙ্গে মেহনত। তাই যা যা বিনয়ের খেলাফ, সেগুলো তরক করো আর যা যা বিনয়ের মুওয়াফিক, সেগুলো তালাশ করে বের করো।

এখন প্রতিটা আচরণে এবং প্রতিটা উচ্চারণে দেখবেন যে, তাওয়াযু থেকে সরে যাচ্ছে।

আর মেহনত করতে হবে। ইসলাম গাফলাত আর অলসতা বিলকুল পছন্দ করে না। এখন আল্লাহ তোমার জন্য যদ্দুর মুকাদ্দার রেখেছেন, ওদ্দুর নতীজায় তুমি পৌঁছবে; এ নিয়ে আর ফিকির করো না। বিনয়ের সঙ্গে মেহনত করলে আল্লাহ তাআলা তোমার দ্বারা দ্বীনের খেদমত নেবেনই নেবেন, ইনশাআল্লাহ। সেটা মসজিদ ঝাড়ু দেওয়াও হতে পারে, আবার ইমামের মসনদও হতে পারে। এমন হতে পারে যে, তোমাকে দেখে কেউ ভাবতে পারেনি, তুমি এই মাকামে যাবে, আল্লাহ তাআলা তোমাকে সেই মাকামেও পৌঁছে দিতে পারেন। কিন্তু মাকামের জন্য তুমি কাজ করো না। বিনয়ের সঙ্গে মেহনত করো। আর এই বিনয়ের মাঝেই লিল্লাহিয়্যাত এসে যায়। লিল্লাহিয়্যাত ছাড়া মানুষের মাঝে বিনয় আসতেই পারে না। আর যার মধ্যে যদ্দুর লিল্লাহিয়্যাত আছে, তার মধ্যে তদ্দুর বিনয় আছে। যার মধ্যে যদ্দুর বিনয় আছে, তার মধ্যে তদ্দুর লিল্লাহিয়্যাত আছে। এটা তালাযুম। বিনয়ের সঙ্গে মেহনত করতে থাকো। নতীজা আল্লাহর পক্ষ থেকে এসে যাবে। আর আল্লাহ তাআলা তোমাকে যে নতীজায় পৌঁছাবেন, তাতে খুব রাজি-খুশি থাকো।

এই যামানায় মাকাম এবং প্রতিষ্ঠার হাওয়াস অনেক বেড়ে গেছে। ওটা থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করো।

 

 

advertisement