রবিউল আখির ১৪৪৫   ||   নভেম্বর ২০২৩

দুআয়ে মাগফিরাত
চলে গেলেন আমাদের সকলের মুরব্বি প্রফেসর হযরত!

মাওলানা মুহাম্মাদ আব্দুল মালেক

অত্যন্ত আফসোসের সঙ্গে লিখতে হচ্ছে যে, এ সংখ্যার প্রস্তুতি যখন একেবারে শেষ পর্যায়ে, সেই  সময় আমরা আরেকটি কঠিন হালতের সম্মুখীন হলাম। গত পরশু (১৭-৪-১৪৪৫ হি. মোতাবেক ২-১১-২০২৩ ঈ. বৃহস্পতিবার) বিকেল ৩ টার দিকে আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন হযরত প্রফেসর হামীদুর রহমান রাহমাতুল্লাহি আলাইহি। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

إنَّ لِلهِ ما أَخَذَ وَلَهُ ما أَعْطَى، وَكُلُّ شيءٍ عِنْدَهُ بِمِقْدَارٍ.اَلْعَيْنُ تَدْمَعُ، وَالْقَلْبُ يَحْزَنُ، وَلَا نَقُوْلُ إلّا مَا يُرْضِيْ رَبَّنَا، وَإِنَّا بِفِرَاقِكَ يَا شَيْخُ لَمَحْزُوْنُوْنَ.

হযরতের ইন্তিকালে দাওয়াত ও তালীম, ইসলাহ ও তরবিয়ত এবং নুসরতে দ্বীনের ময়দানে কত বিশাল শূন্যতা যে সৃষ্টি হল- তা অবর্ণনীয়। এমুহূর্তে বিশ্বব্যাপী কত শ্রেণির মানুষ এবং কত প্রতিষ্ঠান যে তাদের অভিভাবক হারাল- তা বলে শেষ করা যাবে না।

আল্লাহ তাআলা হযরতকে এত বৈশিষ্ট্য দান করেছেন যে, বলা যায় তিনি নিজ যামানায় বড় বে-নযীর ব্যক্তি ছিলেন। সত্যিকারের আল্লাহওয়ালা বুযুর্গানে দ্বীন এবং উলামায়ে কেরামের সোহবত যে কেমন প্রভাবক, তার যিন্দা নমুনা ছিলেন তিনি। এসময় শুধু তাঁর পরিবার নয়; বরং সকলেই তাযিয়াত (সান্ত্বনাদান ও সমবেদনা প্রকাশ)-এর মুখাপেক্ষী। আল্লাহ তাআলা হযরতের ভরপুর মাগফিরাত করেন। দারাজাত বুলন্দ করেন এবং তাঁকে জান্নাতুল ফিরদাউসে জায়গা দেন। হযরতের রেখে যাওয়া সমস্ত দ্বীনী কাজকে হেফাযত করেন।

হযরতের ব্যাপারে অনেক কিছুই বলা হবে এবং লেখা হবে, কিন্তু যা দরকার তা হল তাঁর সাওয়ানেহে হায়াত-এর উপর স্বতন্ত্র একাধিক কিতাব তৈরি করা এবং স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা। এর চেয়ে বেশি দরকার, তাঁর রেখে যাওয়া আদর্শকে, যা মূলত উসওয়ায়ে হাসানা এবং উসওয়ায়ে সাহাবারই প্রতিচ্ছবি- তা অবলম্বন করে নিজের ইসলাহ এবং নুসরতে দ্বীনের সকল কাজ চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। আল্লাহ্ই একমাত্র তাওফীকদাতা।

খুশির বিষয় হল, হযরতের ওয়ারিসীন তাঁর তাজহীয ও তাকফীন (কাফন, দাফন ও অন্যান প্রস্তুতি)-এর ক্ষেত্রে সুন্নতের পুরাপুরি খেয়াল রেখেছেন। সবচে বড় কথা, জানাযা ও দাফনে বিলম্ব করা হয়নি। আর এটাই হল সুন্নত। আসরের আগে ইন্তিকাল হয়েছে আর এশার পর রাত দশটায় জানাযার নামায হয়ে গেছে। দ্বিতীয় কথা, জানাযা সামনে রেখে আজকাল বয়ান করার যে রসম চালু হয়েছে- এটাও তাঁরা পরিহার করেছেন। আল্লাহ তাআলা হযরতের ওয়ারিসদের রাহে সুন্নত ও আহলে সুন্নত ওয়াল জামাআতের মত ও পথের উপর ইসতিকামাত ও অবিচলতা নসীব করেন- আমীন।

জানাযা পড়িয়েছেন হযরত রাহিমাহুল্লাহ-এর বড় ছাহেবজাদা হযরত মাওলানা রিযওয়ানুর রহমান। প্রফেসর হযরত বলতেন তাঁকে সাধারণ কবরস্থানে দাফন করতে। তাই উত্তরাতেই ১২ নং সেক্টরে তাঁকে সমাধিস্থ করা হয়।

أمطرالله على جدثه شآبيب الرحمة والرضوان، وأعلى منزلته في غرف الجنان.

ইনশাআল্লাহ আগামী সংখ্যায় হযরত রাহিমাহুল্লাহকে নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রবন্ধ-নিবন্ধ ছাপা হবে। 

 

 

advertisement