মুহাররম ১৪৪৫   ||   আগস্ট ২০২৩

ফিরে দেখা ১৪৪৪ হিজরী
আমরা যাঁদের হারিয়েছি

মাওলানা মুহাম্মাদ যহীরুল ইসলাম

গত বছর আমরা অনেক আহলে ইলমকে হারিয়েছি। বিশেষত উপমহাদেশের আহলে ইলমের বড় এক কাফেলা। আল্লাহ তাআলা তাঁদের সকলকে মাগফিরাত করুন। তাঁদের দারাজাত বুলন্দ করুন। তাঁদের দ্বীনী খেদমতগুলো কবুল করুন এবং আমাদের ও আমাদের পরবর্তীদের মধ্যে সালাফে সালিহীনের যোগ্য ওয়ারিস তৈরি করে দিন আমীন।

এখানে সংক্ষিপ্তাকারে ১৪৪৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করে গেছেন এমন কয়েকজন আহলে ইলম, আকাবির-মনীষীর নাম ও ওফাতের তারিখ পেশ করা হল।

 

১৩ মুহাররম (১২ আগস্ট ২০২২)জুমাবার

মাওলানা মাহমূদ হাসান হাসানী নদভী রাহ.

দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার সিনিয়র উস্তায ছিলেন। তাঁর রচিত কিতাবগুলোর কয়েকটি

تارىخ اصلاح وتربىت،  سىرت داعى اسلام: مولانا سىد عبد اللہ حسنى رحمۃ اللہ،حىات عبد البارى ندوى

ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ৫২ বছর।

 

১২ সফর (৯ সেপ্টেম্বর ২০২২), জুমাবার

শায়খুল হাদীস মাওলানা যফর আহমদ কাসেম রাহ.

বহু উলামা-মাশায়েখের উস্তায, মুলতানের জামিয়া খালিদ ইবনুল ওয়ালীদ রা.’-এর প্রতিষ্ঠাতা। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া পাকিস্তান-এর মজলিসে আমেলার রোকন ছিলেন।

হযরত মাওলানা আবদুল মাজীদ লুধিয়ানভী রাহ.-এর শাগরিদ ও খলীফা ছিলেন।

ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৭ বছর।

 

১৪ সফর (১১ সেপ্টেম্বর ২০২২), রবিবার

মাওলানা সায়্যিদ নাসীম আখতার শাহ রাহ.

তিনি ছিলেন আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহ.-এর পৌত্র। দারুল উলূম দেওবন্দ (ওয়াক্ফ)-এর সর্বজন প্রিয় উস্তায ছিলেন। উর্দূ সাহিত্যে বিশেষ পাণ্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।

ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ৬২ বছর।

 

৩০ সফর [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২), সোমবার

আল্লামা ইউসুফ কারযাভী রাহ.

শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম তাঁর ইন্তেকালের পর টুইটবার্তায় লেখেন

عالم اسلام کے بڑے عالم اور احىائے اسلام کے پر جوش داعى شىخ ىوسف القرضاوى قطر مىں وفات پاگئے انا للہ وانا الىہ راجعون۔ ان کى علمى اور عملى خدمات بعض امور مىں اختلاف کے باوجود بہت قابل قدر سرماىہ ہىں.

 اللہ تعالى ان کى مغفرت فرما کر انھىں جنۃ الفردوس عطا فرمائىں اور پسماندگان کو صبر جمىل.

ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ৯৬ বছর।

 

৭ রবিউল আউওয়াল [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (৩ অক্টোবর ২০২২)সোমবার

শায়েখ উসামা আবদুল আযীম আলআযহারী রাহ.

মিসরেরই আরেক বুযুর্গ আলেম। উসূলে ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক কিতাব রচনা করেছেন।

ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ৭৪ বছর।

 

২ রবিউল আখির [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (২৭ অক্টোবর ২০২২), বৃহস্পতিবার

শায়েখ আবদুল আযীয বিন আবদুল ফাত্তাহ আলকারী রাহ.

প্রখ্যাত কারী শায়েখ আবদুল ফাত্তাহ রাহ.-এর ছাহেবযাদা। মুসহাফুল মাদীনাতিল মুনাওয়ারার লাজনাতুত তাসহীহের সভাপতি ছিলেন। প্রায় দীর্ঘ ১০ বছর মসজিদে কুবার ইমাম ও খতীব ছিলেন।

 

১৬ রবিউল আখির (১২ নভেম্বর ২০২২), শনিবার

মুফতী নুরুল আমীন ছাহেব রাহ.

ফরিদাবাদ মাদরাসার শাইখুল হাদীস ও নায়েবে মুহতামিম ছিলেন। এছাড়া বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার সহকারী মহাসচিব ছিলেন।

তাঁর জীবনী দেখুন, মাসিক নেয়ামত, ফেব্রুয়ারি ২০২৩ সংখ্যা।

 

১৬ রবিউল আখির (১২ নভেম্বর ২০২২), শনিবার

মুফতী সাদিকুল ইসলাম রাহ.

মুফতী আযম মুফতী শফী রাহ.-এর শাগরিদ ছিলেন। ইন্তেকাল পর্যন্ত যাত্রাবাড়ী মাদরাসায় দীর্ঘ প্রায় ৪৫ বছর প্রধান মুফতীর দায়িত্ব পালন করেন। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ৮২ বছর।

 

২২ রবিউল আখির (১৮ নভেম্বর), জুমাবার

মুফতীয়ে আযম মুফতী মুহাম্মাদ রফী উসমানী রাহ.

মুফতী শফী রাহ.-এর বড় সন্তান। শায়খুল ইসলাম হযরত মাওলানা মুফতী তাকী উসমানী দা. বা.-এর বড় ভাই।

ডাক্তার আবদুল হাই আরেফী  রাহ.-এর ওফাতের পর থেকে তিনিই জামিয়া দারুল উলূম করাচীর সদর ছিলেন। তাঁর উস্তায মুফতী ওলী হাসান টোঙ্কী রাহ.-এর পর উলামায়ে কেরাম তাঁকে মুফতীয়ে আযম (পাকিস্তান) খেতাবে স্মরণ করতেন।

 

২৬ রবিউল আখির (২২ নভেম্বর ২০২২), মঙ্গলবার

মাওলানা হাবীবুর রহমান হাজ্বী ছাহেব হুজুর রাহ.

লালবাগ মাদরাসার শাইখুল হাদীস ও মজলিশে শূরার সদর ছিলেন।

মুহাদ্দিস ছাহেব হযরত মাওলানা হেদায়াতুল্লাহ ছাহেব রাহ.-এর খাস শাগরিদ ছিলেন এবং প্রায় ৫০ বছর যাবৎ লালবাগ মাদরাসার উস্তায ছিলেন।

 

২৯ রবিউল আখির [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (২৪ নভেম্বর ২০২২), বৃহস্পতিবার

শায়েখ মাহমূদ তাহ্হান রাহ.

১৯৩৫ সনে সিরিয়ার হালাবে (আলেপ্পো) তাঁর জন্ম। হাদীস শাস্ত্রে মিসরের জামিয়া আযহার থেকে ডক্টরেট করেন। পরবর্তীতে রিয়াদের জামিআতুল ইমাম মালিক সাউদ, এরপর কুয়েত ইউনিভার্সিটিতে হাদীস শাস্ত্রের খেদমত আঞ্জাম দেন। তাঁর রচিত তাইসীরু মুসতালাহিল হাদীস ব্যাপকভাবে সমাদৃত।

 

১২ জুমাদাল উলা [আরবের চাঁদ দেখা অনুসারে] (৬ ডিসেম্বর ২০২২), মঙ্গলবার

মুহাদ্দিস শায়েখ আবদুর রহমান কাত্তানী রাহ.

প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস ফিহরিসুল ফাহারিস কিতাবের প্রণেতা ইমাম আবদুল হাই কাত্তানী রাহ.-এর ছাহেবযাদা এবং তাঁর সর্বশেষ শিষ্য। মরক্কোর ফাস (Fes) শহরে ১৩৩৮ হিজরীর সফর মাসে জন্মগ্রহণ করেন। হিজরী বছর হিসেবে তার বয়স হয়েছিল ১০৬ বছর। উলুওয়ে ইসনাদের সুবাদে ইসলামী বিশ্বের বড় বড় আহলে ইলম মাশায়েখ তাঁর থেকে হাদীসের ইজাযত গ্রহণ করেছেন।

 

২ জুমাদাল আখিরাহ (২৭ ডিসেম্বর ২০২২), মঙ্গলবার

মাওলানা খালিদ বিন হাফেজ মুহসিন ছাহেব রাহ.

তিনি চাঁদপুর জেলার অন্তর্গত মুমিনপুরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান আলমাদরাসাতুল ইসলামিয়ার মুহতামিম ছিলেন।

 

২০ জুমাদাল আখিরাহ (১৪ জানুয়ারি ২০২৩), শনিবার

মাওলানা রফীক আহমাদ রাহ.

আল-জামিয়া আল-ইসলামিয়া পটিয়া মাদরাসার স্বনামধন্য মুহাদ্দিস, পটিয়ার প্রথম শাইখুল হাদীস শায়েখ আহমাদ (ইমাম ছাহেব হুজুর) রাহ.-এর সুযোগ্য পুত্র। ইমাম ছাহেব হুজুর রাহ. ছিলেন আল্লামা আনওয়ার শাহ কাশ্মীরী রাহ.-এর শাগিরদ।

তাঁর উস্তাযদের মধ্যে খতীবে আযম সিদ্দীক আহমাদ ছাহেব রাহ. বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ১৯৭৮ থেকে ইন্তেকাল পর্যন্ত পটিয়ায় দরস-তাদরীসের খেদমতে নিয়োজিত থাকেন। তালেবে ইলেমদের জন্য উপকারী অনেক কিতাবও তিনি রচনা করেছেন।

 

২৫ জুমাদাল আখিরাহ (১৯ জানুয়ারি ২০২৩), বৃহস্পতিবার

উস্তাযুল আসাতিযা হযরত মাওলানা বিলাল আসগর রাহ.

তিনি ছিলেন দারুল উলূম দেওবন্দের সর্বজন শ্রদ্ধেয় উস্তায। তাঁর পিতা মাওলানা আবদুল আহাদ রাহ. ও দাদা মাওলানা আবদুস সামী রাহ.-ও দারুল উলূম দেওবন্দের উস্তায ছিলেন।

তাঁর উস্তাযগণের মধ্যে ছিলেন শাইখুল ইসলাম হুসাইন আহমাদ মাদানী রাহ., মাওলানা ইযায আলী রাহ. এবং ইবরাহীম বালিয়াভী রাহ.-সহ অন্যান্য আকাবির। হিজরীবর্ষ হিসেবে তাঁর বয়স হয়েছিল আনুমানিক ৯০ বছর।

 

৪ রজব (২৭ জানুয়ারি ২০২৩), জুমাবার

মুফতী শহীদুল ইসলাম রাহ.

আল-মারকাযুল ইসলামী বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য। তিনি দেশে মেশকাত জামাত সমাপ্ত করে করাচীর জামিয়া ইসলামিয়া বানূরী টাউনে দাওরায়ে হাদীস ও আততাখাসসুস ফিল ফিকহিল ইসলামী সমাপ্ত করেন। সেখানের মুরব্বীদের পরামর্শে তিনি জনসেবামূলক কাজের প্রতি মনোনিবেশ করেন এবং ১৯৮৮ সনে আলমারকাযুল ইসলামী প্রতিষ্ঠা করেন। বাংলাদেশে নিঃস্বার্থ জনকল্যাণমূলক কাজে এটি একটি ব্যতিক্রমধর্মী প্রতিষ্ঠান।

করোনা মহামারির সময় তাঁর এ প্রতিষ্ঠান মুসলিম জনসাধারণের দাফন-কাফনে বিরাট ভূমিকা রেখেছে।

 

১১ রজব (৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৩), জুমাবার

ডা. মুহাম্মাদ ইসমাঈল মায়মান রাহ.

শাইখুল হাদীস যাকারিয়া রাহ.-এর অন্যতম খলীফা ছিলেন। ১৯৩৫ সালে ভারতের জুনাগড়ে তাঁর জন্ম। মেডিকেল কলেজে আনুষ্ঠানিক শিক্ষা সমাপনের পাশাপাশি দারুল উলূম করাচিতে দ্বীনী ইলম চর্চা করেন। মদীনা মুনাওয়ারায় শাইখুল হাদীস রাহ.-এর ডাক্তার ছিলেন। দীর্ঘদিন যাবৎ কানাডা ও নিউইয়র্কে দ্বীনী খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। নিউইয়র্কের বাফেলোতে দারুল উলূম আলমাদানিয়া মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেন। এরপর কানাডায় দারুল উলূম কানাডা প্রতিষ্ঠা করেন। উভয় অঞ্চলের মুসলিমদের মধ্যে মাদরাসাদ্বয়ের সুপ্রভাব রয়েছে।

 

১ শাবান (২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৩), বুধবার

মাওলানা হারুনুর রশীদ হবিগঞ্জী রাহ.

আল্লামা ইউসুফ বানূরী রাহ.-এর শাগরিদ ছিলেন। হবিগঞ্জ খোরকি ইসলামিয়া কাসিমুল উলূম মাদরাসায় দীর্ঘ ৫৯ বছর মুহতামিম ছিলেন। তিনি নাদিয়াতুল কুরআনের প্রতিষ্ঠাতা হযরত আবদুল ওয়াহহাব ছাহেব রাহ.-এর বড় জামাতা।

 

৩ শাবান (২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৩), জুমাবার

হাফেজ যফর আহমাদ রাহ.

করাচির তাবলীগী মারকায মক্কী মসজিদের ইমাম ও খতীব। মুফতী শফী রাহ.-এর নাতিন জামাতা। হাজ্বী আবদুল ওয়াহ্হাব ছাহেব রাহ.-এর তাবলীগী পুরোনো সাথী। হযরতজী ইনআমুল হাসান রাহ., ইউসুফ কান্ধলভী রাহ. ও শাইখুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রাহ.-এর হাতে বাইআত ছিলেন এবং তাঁদের খেদমত করেছেন। ৬০ বছরেরও অধিককাল তিনি এ মসজিদের ইমাম ছিলেন।

 

২৫ শাবান (১৮ মার্চ ২০২৩), শনিবার

মাওলানা মুজিবুর রহমান রাহ. (সুন্নতি হুজুর)

পীরজী হুজুর রাহ.-এর খলীফা এবং হযরত হারদূয়ী রাহ.-এর সোহবতপ্রাপ্ত ছিলেন। জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর উস্তায ছিলেন। নিজ গ্রাম নারায়ণগঞ্জের মদনপুরের নয়াপুরে মাদরাসাতুস সালেহীন প্রতিষ্ঠা করেন।

দুষ্ট জিন্নাত ও যাদুটোনার অনিষ্টতা থেকে হেফাযতের অভিজ্ঞ মুদাব্বির ছিলেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ছিল ৯৫ বছর।

 

৪ রমযান (২৭ মার্চ ২০২৩), সোমবার

মাওলানা আহমাদুল্লাহ ছাহেব রাহ.

চট্টগ্রামের জামেয়া আরাবিয়া জিরির প্রবীণ ও সিনিয়র মুহাদ্দিস ছিলেন। ৪০ বছরের বেশি সময় তিনি এই মাদরাসায় খেদমত করে আসছিলেন। তাঁর শাগরিদদের মধ্যে মুফতী আবদুস সালাম চাটগামী রাহ. অন্যতম। ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল প্রায় ৯৮ বছর।

 

৫ রমযান (২৮ মার্চ ২০২৩), মঙ্গলবার

হযরত মাওলানা মুমতাযুল করীম (বাবা হুযুর) রাহ.

বাবা হুজুর নামেই তিনি প্রসিদ্ধ ছিলেন। তালেবে ইলমদের প্রতি গভীর পিতৃসুলভ স্নেহ লালন করতেন। হযরত মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী রাহ.-সহ পাক-বাংলার বহু আকাবির উলামার সান্নিধ্যধন্য ছিলেন। তালেবে ইলমদেরকে ইলমী মাশগালার পাশাপাশি তিলাওয়াত, তাহাজ্জুদ, দুআ-আযকারের প্রতি যত্নবান হওয়ার তাগিদ করতেন, জনসাধারণকে দ্বীনদারির প্রতি অনুরাগী করতেন। দ্বীনদার আহলে খায়ের শ্রেণিকে দ্বীনী মাদারেসের প্রতি মুতাওয়াজ্জিহ করতেন। এসব কাজ তাঁর যিন্দেগীর মিশনের মতো ছিল।

 

৬ রমযান (২৯ মার্চ ২০২৩), বুধবার

মাওলানা শিব্বির আহমাদ রাহ.

হযরত হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এর সোহবত ও ইজাযতপ্রাপ্ত বুযুর্গদের একজন। ওলামাবাজারের হযরত আবদুল হালীম রাহ.-এরও খলীফা ছিলেন।

মাদারেসে কওমিয়ার মিয়ারী (ইবতেদায়ী) জামাতগুলোর তালীম, উসূলে তালীম নিয়ে বড় ফিকিরমান্দ ছিলেন। এ ময়দানে তিনি আজীবন মেহনত করে গেছেন। বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার প্রধান প্রশিক্ষকও ছিলেন। নোয়াখালীর দারুল উলূম আলইসলামিয়া চর মটুয়া মাদরাসায় দীর্ঘকাল তাদরীসী খেদমত আঞ্জাম দেন।

 

৮ রমযান (৩১ মার্চ ২০২৩), জুমাবার

হযরত মাওলানা মুফতী নূর আহমাদ রাহ.

মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.-এর মহব্বতের শাগরিদ এবং তাঁর খলীফা। হাটহাজারী মাদরাসায় দাওরায়ে হাদীস ও দাওরায়ে তাফসীর সমাপনের পর আনুমানিক ১৩৮০ হিজরীতে তামরীনে ইফতার পাশাপাশি হাটহাজারিতে তাদরীসে নিযুক্ত হন। মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ.-এর নির্দেশে ১৩৮৭ হিজরী থেকে ১৬/১৭ বছর হাটহাজারী থানাধীন মাহমুদিয়া মদীনাতুল উলূম বাথুয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। পুনরায় ১৪০৩ হিজরীতে হাটহাজারী মাদরাসায় নিয়োগপ্রাপ্ত হন। ইন্তেকাল পর্যন্ত হাটহাজারীতেই তাদরীস-তাসনীফের খেদমত করে যান। হাটহাজারীর সাবেক মুহতামিম হামেদ ছাহেব রাহ. ছিলেন তাঁর শ্বশুর। ইন্তেকালের সময় হযরতের বয়স ছিল ৯০ বছর।

 

১৫ রমযান (৭ এপ্রিল ২০২৩), জুমাবার

অধ্যাপক মাওলানা যোবায়ের আহমাদ চৌধুরী রাহ.

১৯৫০ সনে মৌলভীবাজারে তাঁর জন্ম। ১৯৮৩ সনের শেষ থেকে ১৯৮৫ পর্যন্ত জামিয়া শারইয়্যাহ্ মালিবাগে দাওরায়ে হাদীসের উস্তায ছিলেন।

২০১৬ সালের ২২ নভেম্বর থেকে ২০২২ সালের ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশের মহাপরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন।

 

২১ রমযান (১৩ এপ্রিল ২০২৩), বৃহস্পতিবার

মাওলানা রাবে হাসানী নদভী রাহ.

সায়্যিদ আবুল হাসান আলী নদভী রাহ.-এর ভাগিনা। সফরে-হযরে তাঁর খাস খাদেম ও আস্থাভাজন শাগরিদ ছিলেন এবং তাঁর ইলম ও ফিকরের যোগ্য উত্তরসূরি ছিলেন। ১৯৯৩ সন থেকে দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার মুহতামিম ছিলেন।

 

২৯ রমযান (২১ এপ্রিল ২০২৩), জুমাবার

মাওলানা আশরাফ আলী রাহ.

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ছোট বাহিরদিয়ায় তাঁর গ্রাম। গত শতাব্দীর চতুর্থ দশকে মাজাহিরুল উলূম সাহারানপুরের ছাত্র ছিলেন। ১৯৫৩ সনে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। সে সুবাদে তখনকার মাশায়েখে সাহারানপুরের সোহবত পেয়েছিলেন তিনি। তাঁদের অন্যতম শাইখুল হাদীস যাকারিয়া কান্ধলভী রাহ.। সদর ছাহেব রাহ. ও হাফেজ্জী হুজুর রাহ.-এরও খলীফা ছিলেন তিনি।

ইন্তেকালের সময় তাঁর বয়স ছিল ১১০ বছর।

 

২৬ শাওয়াল (১৭ মে ২০২৩), বুধবার

আল্লামা মুহিব্বুল হক (শায়খে গাছবাড়ী) রাহ.

সিলেটের ঐতিহ্যবাহী জামেয়া ক্বাসিমুল উলূম দরগাহ মাদরাসার মুহতামিম ও শাইখুল হাদীস ছিলেন।

দীর্ঘ ৪৮ বছর দরগাহ মাদরাসায় পর্যায়ক্রমে উস্তায, সদরে মুদাররিস, নাযেমে তালীমাত, শাইখুল হাদীস ছিলেন। ২০১৯ সনে সাবেক মুহতামিম মুফতী আবুল কালাম যাকারিয়া রাহ.-এর ইন্তেকালের পর তিনি মুহতামিমের দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

 

৩০ শাওয়াল (২১ মে ২০২৩), রবিবার

হযরত মাওলানা ড. মুহাম্মাদ মিয়াঁ সিদ্দীকী রাহ.

লাহোরের বরেণ্য আলেমে দ্বীন। শাইখুল হাদীস হযরত মাওলানা ইদরীস কান্ধলভী রাহ.-এর পুত্র। ইসলামাবাদের ইদারায়ে তাহকীকাতে ইসলামী শরীয়াহ একাডেমি ইসলামাবাদ-এর প্রফেসর ছিলেন। ৯০ বছর বয়সে ইসলামাবাদে ইন্তেকাল করেন।

 

১৩ যিলকদ (৩ জুন ২০২৩), শনিবার

মাওলানা ইয়াহইয়া ছাহেব রাহ.

মুফতী আবদুস সালাম চাটগামী রাহ. ইন্তেকালের পর তিনি দারুল উলূম হাটহাজারী মাদরাসার মহাপরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৭৩ সনে হাটহাজারী থেকে দাওরায়ে হাদীস সমাপন করেছিলেন। তাঁর উস্তাযগণের মধ্যে ছিলেনÑ মুফতীয়ে আযম মুফতী ফয়যুল্লাহ রাহ., খতীবে আযম সিদ্দীক আহমাদ রাহ., মুহাদ্দিস ছাহেব আল্লামা আবদুল আযীয রাহ. ও আল্লামা আবদুল কায়্যুম রাহ.সহ অন্যান্য আকাবিরে দারুল উলূম হাটহাজারী।

 

২৬ যিলকদ (১৬ জুন ২০২৩), জুমাবার

মাওলানা মুহাম্মাদ ইসলাম কাসেমী রাহ.

দারুল উলূম (ওয়াক্ফ) দেওবন্দের উস্তায ছিলেন। আরবী ভাষা-সাহিত্যে তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। দারুল উলূম দেওবন্দ থেকে প্রকাশিত আরবী সাময়িকী আদদায়ী-এর প্রতিষ্ঠালগ্ন (১৯৭৬) থেকে সহযোগী সম্পাদক ছিলেন। ১৯৮২ সনের পর তিনি দারুল উলূম (ওয়াক্ফ)-এ যুক্ত হন। ইন্তেকাল পর্যন্ত এখানেই তাদরীস-তাসনীফে রত ছিলেন।

 

২১ যিলহজ্ব (১০ জুলাই ২০২৩), সোমবার

মাওলানা তাহের হোসাইন গিয়াভী রাহ.

হিন্দুস্তানের প্রসিদ্ধ আলেমেদ্বীন। বিদআত ও গায়রে মুকাল্লিদিয়্যাতের রদে তাঁর উল্লেখযোগ্য খেদমত রয়েছে। এই বিষয়ে তাঁর বেশ কিছু রচনাও রয়েছে। ঝাড়খণ্ড রাজ্যের পালামৌতে দারুল উলূম হুসাইনিয়া নামে একটি দ্বীনী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করেছেন।   

(আগামী সংখ্যায় সমাপ্য)

 

 

advertisement