শাবান-রমযান ১৪২৮   ||   সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০০৭

কুরআন মোতাবেক আমল

বিশ্বাস ও কর্মের ক্ষেত্রে সাহাবায়ে কেরামের পরিশুদ্ধির অন্যতম কারণ হল তাঁদের কুরআন-সংলগ্নতা। নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহর আলোকে তাঁরা কুরআনের নূর তাদের অস্তিত্বে ধারণ করেছিলেন। কুরআন-চর্চা, কুরআনের মর্ম বিষয়ে চিন্তা-ভাবনা এবং কুরআনের নির্দেশনার সামনে সর্বান্তকরণে আত্মসমর্পণ ছিল তাদের জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। বিভিন্ন ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দৃষ্টান্ত থেকে তাদের এই কুরআন-সংলগ্নতার পরিচয় পাওয়া যায়।

একদিন উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দিকী রা. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বললেন, কুরআনের এই আয়াতটি অত্যন্ত কঠিন বোধ হচ্ছে-

যে কোনো মন্দ কর্ম করে তাকে তার শাস্তি ভোগ করতে হবে।তাঁর কথার উদ্দেশ্য ছিল, সকল মন্দ কর্মের জন্যই যদি আখেরাতে শাস্তি পেতে হয় তবে তো আমাদের কোনো উপায় নেই। কেননা, ছোট-বড় অপরাধ প্রায়শই আমাদের মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, ‘আয়েশা, তোমার কি জানা নেই যে, মুমিনের পায়ে যদি একটি কাঁটাও বিদ্ধ হয় তবে সেটাও তার গোনাহের কাফফারা হয়ে থাকে।

জাহেলী যুগে আরবের নারীরা এমনভাবে ওড়না পরিধান করত যে, তাদের গলা-মাথা-বুক ইত্যাদি খোলা থাকত। এটা ছিল অশালীনতা। আল্লাহ তাআলা এর বিপরীতে ঈমানদার নারীদেরকে শালীনতার শিক্ষা প্রদান করে এই আয়াত অবতীর্ণ করেন-

তারা যেন তাদের চাদর দিয়ে বক্ষদেশ আবৃত রাখে।এই আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে সাহাবিয়াগণ তাদের পূর্ণাঙ্গ মাথা, বক্ষদেশ ও সারা শরীর আবৃত রাখতে অভ্যস্ত হয়ে যান। ইবাদত-বন্দেগীতেও সাহাবায়ে কেরাম অত্যন্ত অগ্রগামী ছিলেন। জীবন-যাত্রার বিভিন্ন অনুষঙ্গ-সুখ-দুঃখ, সচ্ছলতা-অনটন, ঝামেলা-অবসর ইত্যাদি সব কিছুই তাদের জীবনে ছিল তবে এসব কিছু সত্ত্বেও তারা আল্লাহকে ভোলেননি। আল্লাহর স্মরণ তাঁদের জীবনকে অনির্বচনীয় পবিত্রতায় সমুজ্জ্বল করে তুলেছিল।

 

 

advertisement