সফর ১৪২৮   ||   মার্চ ২০০৭

এটি হাদীস নয়
কবরকে সম্বোধন ও কবরের উত্তর

এক বক্তার মুখে শোনা গেল, হযরত ফাতিমা রা.কে দাফন করার সময় সাহাবায়ে কেরাম কবরকে সম্বোধন করে বলেছিলেন, হে কবর, সাবধান থেকো। তুমি কি জানো, তোমার উদরে কাকে রাখা হচ্ছে? ইনি হলেন সাইয়িদুল আলামীনের প্রিয়তম কন্যা।

এ কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে কবর থেকে আওয়াজ আসল, আমার কাছে বংশ-বিচার নেই, এখানে প্রত্যেকের আমল অনুসারে আচরণ করা হবে।

এটি একটি ভিত্তিহীন কেচ্ছা। বাস্তবতার সঙ্গে এর কোনো দূরবর্তী সম্পর্কও নেই। কোনো নির্ভরযোগ্য হাদীস বা ইতিহাসের কিতাবে এর কোনো সনদ উল্লেখ নেই। সাহাবায়ে কেরাম তো অনেক উর্দ্ধে, সাধারণ একজন মুসলমানও  তো কাউকে দাফন করার সময় এধরনের কথা বলে না। আখেরাতে হিসাব কিতাবের বিষয়টি যে ঈমান ও আমলের ভিত্তিতেই হবে তা দ্বীনের একটি সর্বজনবিদিত শিক্ষা, যা মুসলমান মাত্রেরই জানা আছে। এজন্য সাহাবায়ে কেরাম কবরকে সম্বোধন করে উপরোক্ত কথা বলতে পারেন এই কল্পনাও জাহালত বা মূর্খতা। রাসূলে কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর জীবদ্দশায়ই প্রিয়তম কন্যা ফাতিমা রা. কে বলে গেছেন-

يَا فَاطِمَةُ أَنْقِذِي نَفْسَكِ مِنَ النَّارِ فَإِنِّي لاَ أَمْلِكُ لَكِ ضَرًّا وَلاَ نَفْعًا.

হে ফাতিমা, জাহান্নামের আগুন থেকে নিজেকে রক্ষা কর। কেননা আমি উপকার অপকারের মালিক নই। -সহীহ মুসলিম ২/১১৪; জামে তিরমিযী হাদীস ৩১৮৫

এবং একথাও বলেছেন-

يَا فَاطِمَةُ بِنْتَ مُحَمَّدٍ سَلِينِي مَا شِئْتِ مِنْ مَالِي لاَ أُغْنِي عَنْكِ مِنَ اللَّهِ شَيْئًا

হে ফাতিমা বিনতে মুহাম্মাদ, আমার সম্পদ থেকে যা ইচ্ছা তুমি চাইতে পার কিন্তু আল্লাহ তাআলার ব্যাপারে আমি তোমার কোনোই উপকারে আসব না। -সহীহ বুখারী হাদীস ৪৭৭১; সহীহ মুসলিম ২/১১৪

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের এই সুস্পষ্ট শিক্ষার পর সাহাবীগণ কবরকে উপরোক্ত কথা কীভাবে বলতে পারেন? আর ক্ববর থেকেই বা এ ধরনের জওয়াব কেন আসবে? আল্লাহ তাআলা তাদেরকে হিদায়াত দান করুন।

 

 

advertisement