যীকা'দাহ - ১৪৩১   ||   নভেম্বর - ২০১০

রূ পা ন্ত র: আলোর পথে আরও এক বোন

ওয়ারিস রব্বানী

 চোখে দেখা জীবন ও জগতের হিসাবটাই মানুষ সহজে বুঝে। এর অন্তরালের ঝড় ও প্রশান্তির বিষয়টা বোধের আওতায় আসতে চায় না। অথচ চোখের সীমা ও বাহ্যমুখি বোধের বাইরেই জীবনকে আলোড়িত করার মতো বহু ঘটনা ঘটে যায়। তোলপাড় করা সেসব ঘটনার সময় বাধ্য হয়ে মানুষ ভাবতে বসে-এটা কীভাবে ঘটল? সে ভাবনা-চিন্তার রাডারটা যদি হয় বাহ্যস্পর্শী ও অগভীর তখন হিসাবটা এলোমেলো হয়ে যায়। আর আল্লাহ জাল্লা শানুহুর অসীম কুদরতের কারিশমা ও নিদর্শন মাথায় নিয়ে ভাবনাটাকে সাজালে বোধের জগতে আলোর ইশারা ফুটে উঠে। এমনি একটি ঘটনা  ঘটে গেছে সেদিন।

বিবিসির বরাতে বাংলাদেশের দৈনিক পত্রিকাগুলোতে ঘটনাটির বিবরণ ছাপা হয়েছে গত ২৬ অক্টোবর মঙ্গলবার। শিরোনামসহ একটি দৈনিক থেকে বিবরণটি তুলে ধরা হল।

 

ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করলেন টনি ব্লেয়ারের শ্যালিকা

টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী চেরি ব্লেয়ারের দূর-সম্পর্কের বোন লরেন বুথ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন বলে জানিয়েছে দ্য ডেইলি মেইল। লন্ডনের গ্লোবাল পিস অ্যান্ড ইউনিটি ইভেন্টহলরুমে শনিবার এক জনাকীর্ণ কক্ষে বুথ বলেন, আমি লরেন বুথ এবং আমি আপনাদের জানাতে চাই আমি একজন মুসলমান। ডেইলি মেইল এক প্রতিবেদনে জানায়, ২০০৭ সালে ক্ষমতা হস্তান্তরের পর রোমান ক্যাথলিক ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন ব্রিটেনের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। আর এবার তার শ্যালিকা লরেন বুথ গ্রহণ করলেন ইসলাম ধর্ম। ডেইলি মেইলকে বুথ বলেন, আমার সব সময় মনে হতো মুসলিমরা অনেক বেশি আন্তরিক ও শান্তিপূর্ণ। মুসলমান হতে পেরে আমি নিজেকে গর্বিত ও ভাগ্যবান মনে করছি। ইরান সফরে গিয়ে ইসলাম ধর্মের মহিমা আমাকে মুগ্ধ করেছে। বুথ এখন বাইরে বেরোনোর সময় হিজাব পরছেন, ত্যাগ করেছেনে অ্যালকোহল পান ও শূকর খাওয়া, সময় পেলেই যাচ্ছেন মসজিদে। কুরআন পড়ছেন প্রতিদিন।

ইসলাম ও মুসলিমকে চারদিক থেকে এখন যারা আঘাত করছে তাদের ভ্রান্তির অন্ধকার থেকেই একজন বেড়িয়ে এলেন আলোর পথে। যুগে যুগে হেদায়েতের অভূতপূর্ব লাখো- কোটি ঘটনার বিচারে এ ঘটনায় হয়তো কোনো নতুনত্ব নেই। কিন্তু আক্রান্ত জগত, সময় ও সমাজে এটি একটি বড় ঘটনা। চেনাজানা সময় ও সমাজের মধ্যে পাকিস্তানের ক্রিকেটার মুহাম্মাদ ইউসুফ ও বোন লরেন বুথ (যার রূপান্তরিত নাম আমরা এখনও পাইনি) আমাদের অনেকের সামনেই প্রকৃত শিক্ষা গ্রহণ ও বোধের জাগরণের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

প্রভাবশালীর প্রভাব গ্রহণ ও শক্তিমানের অনুকরণে জাতির বড় অংশই এখন দিশেহারা। পেছনের দেয়ালের দিকে তাকিয়ে আমদের বুদ্ধিজীবীরা সামনের কথা বলেন। অগ্রসরদেরমুখভঙ্গি লক্ষ্য করে বক্তব্য ও কর্মসূচি নির্ধারণ করেন। ভালোমন্দ, ন্যায়-অন্যায়, আলো-অন্ধকার প্রায় সবক্ষেত্রেই বিশ্বকণ্ঠবিশ্বভাবনারএকটি ভুল প্রবণতার ভাঙ্গা আয়না সামনে আনা হয়। নিজের ধর্ম, নিজের জাতি, নিজের সভ্যতা নিয়ে মুখ লুকালেই বাঁচি-এ রকম একটা হীনম্মন্যতা আমাদের গ্রাস করছে। সে সময় ও পরিসি'তিতে ভিন্ন সমাজ ও ভিন্ন  ধর্ম থেকে জাগতিক অগ্রসরতার হাতছানি উপক্ষো করে তারা এসেছেন। আমাদের নেতিয়ে পা চেতনার ছাউনিতে হাসিমুখে হাজির হয়ে এই ভাই ও বোনেরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, আমাদের ছাউনিটা আসলে ভেঙ্গে পড়া কোনো ছাউনি নয়; বরং প্রাচুর্যময় প্রাসাদ। আমাদের আঙ্গিনাটা এক সমৃদ্ধ ভুবন। আল্লাহ তাআলা আলোর পথে আসা এসব ভাই ও বোনের দুনিয়া ও আখিরাতে কামিয়াবি দান করুন। 

 

advertisement