রজব ১৪৪২   ||   ফেব্রুয়ারি ২০২১

হাদীস ও আসারে পাঁচ ওয়াক্ত সালাত ও রাকাত-সংখ্যা

(পূর্ব প্রকাশিতের পর)

 

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

يَتَعَاقَبُونَ فِيكُمْ مَلَائِكَةٌ بِاللّيْلِ، وَمَلَائِكَةٌ بِالنّهَارِ، وَيَجْتَمِعُونَ فِي صَلَاةِ الْفَجْر، وَصَلَاةِ الْعَصْر، ثُمّ يَعْرُجُ الّذِينَ بَاتُوا فِيكُمْ، فَيَسْأَلُهُمْ رَبّهُمْ وَهُوَ أَعْلَمُ بِهِمْ: كَيْفَ تَرَكْتُمْ عِبَادِي؟ فَيَقُولُونَ: تَرَكْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلّونَ، وَأَتَيْنَاهُمْ وَهُمْ يُصَلّونَ.

তোমাদের মাঝে রাতে একদল ফিরিশতা এবং দিনে একদল ফিরিশতা পালাক্রমে আসেন। তাঁরা ফজরের সালাতে এবং আসরের সালাতে মিলিত হন। অতঃপর রাতে যাঁরা তোমাদের মাঝে ছিলেন তাঁরা ঊর্ধ্বগমন করেন। তখন তাদের রব তাঁদের জিজ্ঞেস করেন, আর তিনি তাদের সম্পর্কে পূর্ণ অবগত, তোমরা আমার বান্দাদের কেমন রেখে এলে? তাঁরা বলেন, আমরা তাদের রেখে এসেছি এমন অবস্থায় যে, তারা সালাত আদায় করছে, আর তাদের নিকট গমন করেছি এমন হালতে যে, তারা সালাতে মশগুল। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৫৫; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩২

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

مَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الصُّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ الشّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ الصُّبْحَ، وَمَنْ أَدْرَكَ رَكْعَةً مِنَ الْعَصْرِ قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشّمْسُ، فَقَدْ أَدْرَكَ الْعَصْرَ.

সূর্যোদয়ের আগে যে ফজরের এক রাকাত পেল সে ফজর পেয়ে গেল। আর সূর্যাস্তের আগে যে আসরের এক রাকাত পেল সে আসর পেয়ে গেল। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬০৮; বুখারী, হাদীস ৫৭৯

আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

شَهِدَ عِنْدِي رِجَالٌ مَرْضِيّونَ وَأَرْضَاهُمْ عِنْدِي عُمَرُ، أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ نَهَى عَنِ الصّلاَةِ بَعْدَ الصّبْحِ حَتّى تَشْرُقَ الشّمْسُ، وَبَعْدَ العَصْرِ حَتّى تَغْرُبَ.

কয়েকজন আস্থাভাজন ব্যক্তি -আমার নিকট তাদের মধ্যে সবচেয়ে আস্থাভাজন হলেন উমর রা.-আমার কাছে এ মর্মে সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর থেকে সূর্যোদয় পর্যন্ত এবং আসরের পর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮১; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮২৬

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত-

أَنّ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ نَهَى عَنِ الصّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتّى تَغْرُبَ الشّمْسُ، وَعَنِ الصّلَاةِ بَعْدَ الصّبْحِ حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত এবং ফজরের পর সূর্যোদয় পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮২৫; বুখারী, হাদীস ৫৮৮

আবু সাঈদ খুদরী রা. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাকে বলতে শুনেছি-

لاَ صَلاَةَ بَعْدَ الصّبْحِ حَتّى تَرْتَفِعَ الشّمْسُ، وَلاَ صَلاَةَ بَعْدَ العَصْرِ حَتّى تَغِيبَ الشّمْسُ.

ফজরের পর সূর্য উপরে ওঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোনো সালাত নেই। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৫৮৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮২৭

 

আমর ইবনে আবাসা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলেন, আল্লাহর নবী! আপনি আমাকে সেসব বিষয়ে অবহিত করুন, যেসব বিষয় আল্লাহ আপনাকে শিখিয়েছেন আর আমি সে সর্ম্পকে অজ্ঞ। আপনি আমাকে সালাত সম্পর্কে বলুন। আল্লাহ্র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন-

صَلِّ صَلَاةَ الصّبْحِ، ثُمّ أَقْصِرْ عَنِ الصّلَاةِ حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ حَتّى تَرْتَفِعَ، فَإِنّهَا تَطْلُعُ حِينَ تَطْلُعُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفّارُ، ثُمّ صَلِّ فَإِنّ الصّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتّى يَسْتَقِلّ الظِّلّ بِالرّمْحِ، ثُمّ أَقْصِرْ عَنِ الصّلَاةِ، فَإِنّ حِينَئِذٍ تُسْجَرُ جَهَنّمُ، فَإِذَا أَقْبَلَ الْفَيْءُ فَصَلِّ، فَإِنّ الصّلَاةَ مَشْهُودَةٌ مَحْضُورَةٌ حَتّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ، ثُمّ أَقْصِرْ عَنِ الصّلَاةِ حَتّى تَغْرُبَ الشّمْسُ، فَإِنّهَا تَغْرُبُ بَيْنَ قَرْنَيْ شَيْطَانٍ، وَحِينَئِذٍ يَسْجُدُ لَهَا الْكُفّارُ.

তুমি ফজরের সালাত আদায় করবে, এরপর সালাত থেকে বিরত থাকবে সূর্য উদিত হয়ে (কিছুটা) উপরে ওঠা পর্যন্ত। কারণ তা উদিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যখানে আর কাফেররা তখন সূর্যকে সিজদা করে।

এরপর সালাত আদায় করতে পার। কারণ সালাতে ফিরিশতাগণ উপস্থিত হন এবং সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। এটা বর্শার ছায়া একেবারে কমে যাওয়া পর্যন্ত। এরপর সালাত থেকে বিরত থাকবে। কারণ তখন জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা হয়।

যখন ছায়া ফিরে আসে তখন সালাত আদায় করবে। কারণ সালাতে (ফিরিশতাগণ) উপস্থিত হন এবং সে বিষয়ে সাক্ষ্য দেন। এটা আসরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত।

এরপর সালাত থেকে বিরত থাকবে সূর্যাস্ত পর্যন্ত। কারণ তা অস্তমিত হয় শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যখানে আর কাফেররা তখন সূর্যকে সিজদা করে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৩২; সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১২৭৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১২৫১

 

উমারা ইবনে রুআইবা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-

لَنْ يَلِجَ النّارَ أَحَدٌ صَلّى قَبْلَ طُلُوعِ الشّمْسِ، وَقَبْلَ غُرُوبِهَا -يَعْنِي الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ.

সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের আগে যে সালাত আদায় করবে সে কিছুতেই জাহান্নামে প্রবেশ করবে না। অর্থাৎ ফজর এবং আসর। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৩৪

 

আয়েশা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

مَنْ أَدْرَكَ مِنَ الْعَصْرِ سَجْدَةً قَبْلَ أَنْ تَغْرُبَ الشّمْسُ، أَوْ مِنَ الصّبْحِ قَبْلَ أَنْ تَطْلُعَ، فَقَدْ أَدْرَكَهَا.

যে ব্যক্তি সূূর্যাস্তের আগে আসরের এক রাকাত কিংবা সূর্যোদয়ের আগে ফজরের এক রাকাত পেল, সে তা পেয়ে গেল। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬০৯

 

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

سَأَلَ صَفْوَانُ بْنُ الْمُعَطّلِ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللهِ! إِنِّي سَائِلُكَ عَنْ أَمْرٍ أَنْتَ بِهِ عَالِمٌ وَأَنَا بِهِ جَاهِلٌ، قَالَ: وَمَا هُوَ؟ قَالَ: هَلْ مِنْ سَاعَاتِ اللّيْلِ وَالنّهَارِ سَاعَةٌ تُكْرَهُ فِيهَا الصّلَاةُ؟ قَالَ: نَعَمْ إِذَا صَلّيْتَ الصّبْحَ، فَدَعِ الصّلَاةَ، حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ، فَإِنّهَا تَطْلُعُ بِقَرْنَيِ الشّيْطَانِ، ثُمّ صَلِّ فَالصّلَاةُ مَحْضُورَةٌ مُتَقَبّلَةٌ حَتّى تَسْتَوِيَ الشّمْسُ عَلَى رَأْسِكَ كَالرّمْحِ، فَإِذَا كَانَتْ عَلَى رَأْسِكَ كَالرّمْحِ فَدَعِ الصّلَاةَ، فَإِنّ تِلْكَ السّاعَةَ تُسْجَرُ فِيهَا جَهَنّمُ وَتُفْتَحُ فِيهَا أَبْوَابُهَا، حَتّى تَزِيغَ الشّمْسُ عَنْ حَاجِبِكَ الْأَيْمَنِ، فَإِذَا زَالَتْ فَالصّلَاةُ مَحْضُورَةٌ مُتَقَبّلَةٌ حَتّى تُصَلِّيَ الْعَصْرَ، ثُمّ دَعِ الصّلَاةَ حَتّى تَغِيبَ الشّمْسُ

সাফওয়ান ইবনুল মুআত্তাল রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে জিজ্ঞেস করলেন, আল্লাহ্র রাসূল! আমি আপনাকে এমন একটি বিষয়ে জিজ্ঞেস করব, যে সম্পর্কে আপনি জানেন আর আমি জানি না। তিনি বললেন, সেটি কী? বলল, দিন-রাতের সময়গুলিতে এমন কোনো সময় আছে কি, যখন সালাত আদায় নিষিদ্ধ? তিনি বললেন, হাঁ! ফজরের সালাত সম্পন্ন করে সালাত থেকে বিরত থাকবে; সূর্যোদয় পর্যন্ত। কারণ তা শয়তানের দুই শিংয়ের মধ্যখানে উদিত হয়। এরপর সালাত আদায় করতে পার। কেননা সালাতে (ফিরিশতাগণ) উপস্থিত হন এবং তা কবুল করা হয়। এটা সূর্য তোমার মাথার উপর বর্শার মত সোজা হওয়া পর্যন্ত। সুতরাং যখন সূর্য তোমার মাথার উপর বর্শার মত থাকবে তখন সালাত থেকে বিরত থাকবে। কারণ সেসময় জাহান্নামকে প্রজ্বলিত করা হয় এবং তার দরজাসমূহ খোলা হয়। এটা সূর্য তোমার ডান ভ্রু থেকে হেলে যাওয়া পর্যন্ত। যখন হেলে যাবে তখন সালাত আদায় করবে। কারণ সালাতে (ফিরিশতাগণ) উপস্থিত হন এবং তা কবুল করা হয়। এটা আসরের সালাত আদায় করা পর্যন্ত। এরপর সালাত থেকে বিরত থাকবে সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত। -সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ১২৫২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১৫৪২; মুসতাদরাকে হাকেম, খ. ৩ পৃ. ৫১৮

قال الحاكم: صحيح الإسناد.

قال البوصيري في >مصباح الزجاجة< (443): هذا إسناد حسن.

وقال >السيوطي في جمع الجوامع< (2110): قال ابن منده : حديث صحيح عزيز غريب.

 

সালামা ইবনে আকওয়া রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كُنْتُ أُسَافِرُ مَعَ رَسُولِ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ فَمَا رَأَيْتُهُ صَلّى بَعْدَ الْعَصْرِ وَلَا بَعْدَ الصّبْحِ قَطّ.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে সফর করেছি। আমি কখনো তাঁকে আসরের পর এবং ফজরের পর সালাত আদায় করতে দেখিনি। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৬৫৩৫; মুসনাদে ইসহাক ইবনে রাহুয়াহ (দ্র. ইতহাফুল খিয়ারা, বূসীরী, হাদীস ৮৫৬)

قال الهيثمي 2/475: رجال أحمد رجال الصحيح، وقال البوصيري: هذا إسناد حسن.

 

সাদ ইবনে আবী ওয়াক্কাস রা. থেকে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলনে-

صَلاتَانِ لَا يُصَلّى بَعْدَهُمَا: الصُّبْحُ حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ، وَالْعَصْرُ حَتّى تَغْرُبَ الشّمْسُ.

দুটি সালাত, যার পর সালাত আদায় করা যাবে না। ১. ফজরের সালাত-সূর্যোদয় পর্যন্ত; ২. এবং আসরের সালাত-সূর্যাস্ত। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ১৪৬৯; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১৫৪৯; মুসনাদে আবু ইয়ালা, হাদীস ৭৬৯

قال الهيثمي في >مجمع الزوائد< 473/2: رواه أحمد وأبو يعلى، ورجاله رجال الصحيح.

 

আলী রা. থেকে বণিত, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يُصَلِّي في إِثْرِ كُلِّ صَلَاةٍ مَكْتُوبَةٍ رَكْعَتَيْنِ إِلّا الْفَجْرَ وَالْعَصْرَ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজর ও আসর ব্যতীত প্রত্যেক সালাতের পর দুইরাকাত নফল পড়তেন। -সুনানে আবু দাউদ, হাদীস ১২৭৫; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ১০১২; সুনানে কুবরা, নাসায়ী, হাদীস ৩৩৯৪; সহীহ ইবনে খুযায়মা, হাদীস ১১৯৬

 

আবদুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

نَهَى رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ عَنِ الصّلَاةِ بَعْدَ الصّبْحِ حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ وَيَرْتَفِعَ النّهَارُ وَعَنِ الصّلَاةِ بَعْدَ الْعَصْرِ حَتّى تَغْرُبَ الشّمْسُ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের পর সূর্য উদিত হয়ে উপরে ওঠা পর্যন্ত এবং আসরের পর সূর্য অস্তমিত হওয়া পর্যন্ত সালাত আদায় করতে নিষেধ করেছেন। -মুসনাদে আবু দাউদ তয়ালিসী, হাদীস ২০৪১; মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ৫০১০

 

আবু আইয়ুব আনসারী রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

مَنْ قَالَ إِذَا صَلّى الصُّبْحَ: لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ عَشْرَ مَرّاتٍ، كُنّ كَعَدْلِ أَرْبَعِ رِقَابٍ، وَكُتِبَ لَهُ بِهِنّ عَشْرُ حَسَنَاتٍ، وَمُحِيَ عَنْهُ بِهِنّ عَشْرُ سَيِّئَاتٍ، وَرُفِعَ لَهُ بِهِنّ عَشْرُ دَرَجَاتٍ، وَكُنّ لَهُ حَرَسًا مِنَ الشّيْطَانِ حَتّى يُمْسِيَ، وَإِذَا قَالَهَا بَعْدَ الْمَغْرِبِ فَمِثْلُ ذَلِكَ.

যে ব্যক্তি ফজরের সালাত আদায় করে দশবার বলবে-

لَا إِلَهَ إِلّا اللهُ، وَحْدَهُ لَا شَرِيكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ، وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيرٌ.

 (আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই। তিনি এক ও অদ্বিতীয়। তাঁর কোনো শরীক নেই। সর্বময় রাজত্ব ও সকল প্রশংসা একমাত্র তাঁর। তিনি সর্ববিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।)

তার এই কাজগুলো চারজন গোলামের বরাবরের ন্যায় বরাবর হবে। এগুলোর বিনিময়ে তাকে দশটি নেকী দান করা হবে, তার দশটি গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে, তার দশটি মর্যাদা বৃদ্ধি করা হবে এবং সন্ধ্যা পর্যন্ত এগুলো তাকে শয়তান থেকে রক্ষা করবে। মাগরিবের পর বললেও অনুরূপ হবে। -মুসনাদে আহমাদ, হাদীস ২৩৫১৮

قال الحافظ ابن حجر في>فتح الباري< (11 :208) 11/264: سنده حسن.

 

উসমান ইবনে আফফান রা. থেকে বর্ণিত; তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-

مَنْ صَلّى الْعِشَاءَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنّمَا قَامَ نِصْفَ اللّيْلِ، وَمَنْ صَلّى الصّبْحَ فِي جَمَاعَةٍ فَكَأَنّمَا صَلّى اللّيْلَ كُلّهُ.

যে ব্যক্তি এশার সালাত জামাতে আদায় করল সে যেন অর্ধরাত সালাত আদায় করল। আর যে ফজরের সালাত জামাতে আদায় করল সে যেন পুরো রাত সালাত আদায় করল। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৬

 

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

لَيْسَ صَلاَةٌ أَثْقَلَ عَلَى المُنَافِقِينَ مِنَ الفَجْرِ وَالعِشَاءِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِيهِمَا لَأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا.

মুনাফিকদের কাছে ফজর ও এশার চাইতে ভারী ও কঠিন কোনো সালাত নেই। যদি তারা জানত-এই দুই সালাতে কী আছে, তাহলে হামাগুড়ি দিয়ে হলেও উপস্থিত হত। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৬৫৭; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫১

 

নাফে রাহ.-এর সূত্রে আব্দুল্লাহ ইবনে উমর রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كُنّا إِذَا فَقَدْنَا الرّجُلَ فِي صَلَاةِ الْعِشَاءِ وَصَلَاةِ الْفَجْر أَسَأْنَا بِهِ الظّنّ.

আমরা কাউকে এশা ও ফজরের সালাতে না পেলে তার প্রতি বিরূপ ধারণা রাখতাম। -মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা, হাদীস ৩৩৭২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ১৪৮৫; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ২০৯৯; মুসতাদরাকে হাকেম, হাদীস ৭৬৪

 

আবু মা‘মার রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

قُلْنَا لِخَبّابٍ أَكَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَقْرَأُ فِي الظُّهْرِ وَالعَصْرِ؟، قَالَ: نَعَمْ، قُلْنَا: بِمَ كُنْتُمْ تَعْرِفُونَ ذَاكَ؟ قَالَ: بِاضْطِرَابِ لِحْيَتِهِ.

আমরা খাব্বাব রা.-কে জিজ্ঞেস করলাম, রাসূলুল্লাল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কি যোহর ও আসরে কেরাত পড়তেন? তিনি বললেন, হাঁ। আমরা বললাম, আপনার তা কিভাবে বুঝতেন? বললেন, তাঁর দাড়ি মুবারক নড়ার দ্বারা। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৭৪৬

 

ইমরান ইবনে হুসাইন রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

صَلّى بِنَا رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ صَلَاةَ الظّهْرِ - أَوِ الْعَصْرِ - فَقَالَ: أَيّكُمْ قَرَأَ خَلْفِي بِسَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْأَعْلَى؟ فَقَالَ رَجُلٌ: أَنَا وَلَمْ أُرِدْ بِهَا إِلّا الْخَيْرَ، قَالَ: قَدْ عَلِمْتُ أَنّ بَعْضَكُمْ خَالَجَنِيهَا.

রাসূলুল্লাল্লাহু সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের নিয়ে যোহর (অথবা আসর) আদায় করলেন। (সালাম ফিরিয়ে) তিনি বললেন, কে আমার পেছনে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْاَعْلَی পড়ল? একজন বলল, আমি। আর আমি এর দ্বারা আমার ভাল উদ্দেশ্য নিয়েছি। তিনি বললেন, মনে হচ্ছিল-তোমাদের কেউ আমার কেরাতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৩৯৮

 

উম্মে সালমা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন-

كَانَ رَسُولُ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ أَشَدّ تَعْجِيلاً لِلظُّهْرِ مِنْكُمْ، وَأَنْتُمْ أَشَدُّ تَعْجِيلاً لِلْعَصْرِ مِنْهُ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহরের ক্ষেত্রে তোমাদের তুলনায় বেশি জলদি করতেন আর তোমরা আসরের ক্ষেত্রে তাঁর চেয়ে বেশি জলদি করছ। -জামে তিরমিযী, হাদীস ১৬১; মুসনাদে আহমদ, হাদীস ২৬৪৭৮ ও ২৬৬৪৭

قال ابن التركماني في >الجوهر النقي< 1 :442 وسكت الترمذي عن الحديث ورجاله على شرط الصحيح.

 

আলা ইবনে আবদুর রহমান রাহ. থেকে বর্ণিত-

أَنّهُ دَخَلَ عَلَى أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ فِي دَارِهِ بِالْبَصْرَةِ، حِينَ انْصَرَفَ مِنَ الظّهْرِ، وَدَارُهُ بِجَنْبِ الْمَسْجِدِ، فَلَمّا دَخَلْنَا عَلَيْهِ، قَالَ: أَصَلّيْتُمُ الْعَصْرَ؟ فَقُلْنَا لَهُ: إِنّمَا انْصَرَفْنَا السّاعَةَ مِنَ الظّهْرِ، قَالَ: فَصَلّوا الْعَصْرَ، فَقُمْنَا، فَصَلّيْنَا، فَلَمّا انْصَرَفْنَا، قَالَ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ، يَقُولُ: تِلْكَ صَلَاةُ الْمُنَافِقِ، يَجْلِسُ يَرْقُبُ الشّمْسَ حَتّى إِذَا كَانَتْ بَيْنَ قَرْنَيِ الشّيْطَانِ، قَامَ فَنَقَرَهَا أَرْبَعًا، لَا يَذْكُرُ اللهَ فِيهَا إِلّا قَلِيلًا.

তিনি একদিন যোহরের সালাত আদায় করে আনাস রা. এর বসরাস্থ বাড়িতে গেলেন। আনাস রা. এর বাড়ি ছিল মসজিদের পাশেই। তিনি বলেন, আমরা তাঁর নিকট উপস্থিত হলে তিনি বললেন, তোমরা আসরের সালাত আদায় করেছ? আমরা বললাম, আমরা তো এইমাত্র যোহর আদায় করলাম। বললেন, আসরের সালাত আদায় করে নাও। আমরা উঠে (আসরের) সালাত আদায় করলাম। সালাত শেষে তিনি বললেন, আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি-এতো মুনাফিকের সালাত, যে সূর্যের প্রতীক্ষায় বসে থাকে, শেষে শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝে যখন তা পৌঁছে যায় (অর্থাৎ অস্তগমনের নিকটবর্তী হয়) তখন সে উঠে দাঁড়ায় আর চারটা ঠোকর দিয়ে দেয়। এতে সে আল্লাহর স্মরণ খুব কমই করে থাকে। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬২২

 

আনাস রা. থেকে বর্ণিত-

أن النبي صلى الله عليه وسلم كان يقرأ في الظهر والعصر بـ {سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْاَعْلَی} ، و {هَلْ اَتٰىكَ حَدِیْثُ الْغَاشِیَةِ}.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যোহর ও আসরে سَبِّحِ اسْمَ رَبِّكَ الْاَعْلَی هَلْ اَتٰىكَ حَدِیْثُ الْغَاشِیَةِؕ পড়তেন। -মুসনাদে বাযযার, হাদীস ৭২৬২; সহীহ ইবনে খুযাইমা, হাদীস ৫১২; সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস ১৮২৪

قال الهيثمي (2687): رواه البزار ورجاله رجال الصحيح. وقال البوصيري في الإتحاف (1276): رواه البزار بإسناد صحيح

 

ইবরাহীম নাখায়ী রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كان من قبلكم أشد تعجيلا للظهر، وأشد تأخيرا للعصر منكم.

তোমাদের পূর্ববর্তীগণ যোহরের ক্ষেত্রে তোমাদের তুলনায় বেশি জলদি করতেন আর আসরের ক্ষেত্রে তোমাদের চেয়ে বেশি বিলম্ব করতেন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ২০৪২

 

উরওয়া রাহ. থেকে বর্ণিত, উমর ইবনে খাত্তাব রা. আবু মূসা আশআরী রা.-এর নিকট এই বলে পত্র লিখেন-

صل العصر والشمس بيضاء نقية، قدر ما يسير الراكب ثلاثة فراسخ، وأن صل العشاء ما بينك وبين ثلث الليل. فإن أخرت فإلى شطر الليل، ولا تكن من الغافلين.

তুমি আসরের সালাত আদায় করবে-যখন সূর্য শুভ্র ও পরিচ্ছন্ন থাকে; আরোহী তিন ফাখসার চলতে পারে এই পরিমাণ সময় পর্যন্ত। এশা আদায় করবে-যখন তা তোমার সামনে উপস্থিত হয় তখন থেকে রাতের এক তৃতীয়াংশ পর্যন্ত। যদি আরো বিলম্ব করতে চাও তবে মধ্যরাত পর্যন্ত। তবে তুমি গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। -মুয়াত্তা মালেক, হাদীস ৮

 

ইবরাহীম (ইবনে মায়সারা) রাহ. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

رأيت طاوسا: يصلي المغرب، ثم يطوف سبعا واحدا، ثم يصلي العشاء، ثم ينقلب.

আমি তাউস রাহ.-কে দেখেছি, তিনি (মসজিদে হারামে) মাগরিব আদায় করে সাত চক্কর দিয়েছেন। অতঃপর এশা পড়ে ফিরে গিয়েছেন। -মুসান্নাফে আবদুর রাযযাক, হাদীস ২১২৭

 

আবু হুরায়রা রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

كان النبي صلى الله عليه وسلم يقرأ في الجمعة في صلاة الفجر الٓمّٓ تَنْزِیْلُ السجدة، وهَلْ اَتٰی عَلَی الْاِنْسَانِِ.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জুমার দিন ফজরের সালাতে (প্রথম রাকাতে) সূরা আলিফ লাম মীম সাজদা এবং (দ্বিতীয় রাকাতে) সূরাহ দাহর পড়তেন। -সহীহ বুখারী, হাদীস ৮৯১,১০৬৮; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৮৮০

 

জুনদাব ইবনে আবদুল্লাহ রা. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন-

مَنْ صَلّى الصّبْحَ فَهُوَ فِي ذِمّةِ اللهِ، فَلَا يَطْلُبَنّكُمُ اللهُ مِنْ ذِمّتِهِ بِشَيْءٍ فَيُدْرِكَهُ فَيَكُبّهُ فِي نَارِ جَهَنّمَ.

যে ফজরের সালাত আদায় করে সে আল্লাহর জিম্মায় থাকে। অতএব আল্লাহ যেন তাঁর যিম্মার বিষয়ে তোমাদের তলব না করেন; তাহলে তিনি তোমাদের পাকড়াও করবেন এবং জাহান্নামের আগুনে নিক্ষেপ করবেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৫৭

 

জাবের ইবনে সামুরা রা. থেকে বর্ণিত,

أَنّ النّبِيّ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ كَانَ إِذَا صَلّى الْفَجْرَ جَلَسَ فِي مُصَلّاهُ حَتّى تَطْلُعَ الشّمْسُ حَسَنًا.

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ফজরের সালাত আদায় করে সালাতের স্থানেই বসে থাকতেন সূর্য ভালোভাবে উদিত হওয়া পর্যন্ত। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৬৭০

 

আমর ইবনে হুরাইস রা. থেকে বর্ণিত,

তিনি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের সালাতে وَاللَّيْلِ إِذَا عَسْعَسَ (সূরা তাকবীর) তিলাওয়াত করতে শুনেছেন। -সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৫৬

 

কুতবা ইবনে মালিক রা. থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,

سَمِعْتُ رَسُولَ اللهِ صَلّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلّمَ يَقْرَأُ فِي الفَجْر: وَالنّخْلَ بَاسِقَاتٍ فِي الرّكْعَةِ الأُولَى.

আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে ফজরের প্রথম রাকাতে وَالنَّخْلَ بَاسِقَاتٍ  (সূরা ক্বাফ) তিলাওয়াত করতে শুনেছি। -জামে তিরমিযী, হাদীস ৩০৬; সহীহ মুসলিম, হাদীস ৪৫৭ হ

(চলবে ইনশাআল্লাহ)

 

 

advertisement