জুমাদাল উলা-জুমাদাল আখিরাহ ১৪৪২   ||   জানুয়ারি ২০২১

আনন্দ নিঃশেষকারী বিষয়টি তোমরা বেশি বেশি স্মরণ কর

মাওলানা মুহাম্মাদ ইউসুফ লুধিয়ানবী রাহ.

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেছেন-

أَكْثِرُواذِكْرَهَاذِمِاللّذّاتِيَعْنِيالْمَوْتَ.

তোমরা শখ ও আনন্দকে নিঃশেষকারী বিষয়টি বেশি বেশি স্মরণ কর। অর্থাৎ মৃত্যুকে। -জামে তিরমিযী, হাদীস ২৩০৭; সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস ৪২৫৮

দুনিয়ার সকল শখ-আহ্লাদ এই ক্ষণস্থায়ী জীবন পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। দেহ থেকে যখন প্রাণপাখি উড়ে যাবে তখন ভোগ উপভোগের সকল উপকরণ এবং আনন্দ-বিনোদনের সকল সরঞ্জাম একদিকে পড়ে থাকবে। চোখদুটো বন্ধ হতে না হতেই পার্থিব সকল সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যাবে। দেখতে দেখতে তাকে খালি হাতে ঘর থেকে বের করে দেওয়া হবে। যে প্রিয়তমা স্ত্রীর মনোরঞ্জনে দ্বীন-ঈমান খোয়াল, যে সন্তানের আহ্লাদ পূরণ করতে গিয়ে আখেরাত বিসর্জন দিল, যে আত্মীয়তা ও বন্ধুত্বের লাজ রক্ষায় নিজের পরিণাম ভুলে বসল তখন এদের কাউকে আর সঙ্গ দিতে দেখা যাবে না। পাবে না পাশে সঞ্চিত ধন-সম্পদ, অর্থ-কড়ি ও অট্টালিকা। সাড়ে তিন হাতের সেই সঙ্কীর্ণ গহ্বরেই হবে তার ঠাঁই। সম্পূর্ণ নিঃসঙ্গ-একা।

তারপর? তারপর পরম যত্নেগড়া পরিপুষ্ট সেই দেহটি খাদ্য হবে পোকা-মাকড়ের। যেই দেহ নির্মাণ ও সজ্জায়নের জন্য ছিল তার রাত-দিনের মেহনত; দু’দিনের মধ্যেই তা পঁচে গলে মাটির সাথে মিশে একাকার হয়ে যাবে।

হাঁ, এটা হল মৃত্যুর বাহ্যিক চিত্র। ক্ষণস্থায়ী এ দুনিয়া নিয়ে বিভোর থাকা এবং আখেরাত থেকে উদাসীন হয়ে জীবন যাপন করার কারণ এটিই যে, মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের চিত্র দৃষ্টির আড়াল হয়ে থাকা। মৃত্যু ও মৃত্যু-পরবর্তী জীবনের চিত্র যদি সামনে থাকত তাহলে আমাদের গাফলতের ঘোর কেটে যেত। দুনিয়া আমাদেরকে তখন আর ধোঁকায় ফেলতে পারত না।

বাকি রইল কবরের অন্ধকার দুনিয়া। এ তো আল্লাহ্্ই ভালো জানেন। সেখানে ফিরিশতাদের সম্মুখীন হওয়া, সুওয়ালের জবাব দেওয়া, কবরের আযাব ইত্যাদি ভয়াবহ বিষয়গুলো তো কল্পনাও করা যায় না।

তাই মৃত্যুকে স্মরণ রাখা খুবই জরুরি। এটি একটি ইবাদতও বটে। এর মাধ্যমে গাফলত দূর হয়। দুনিয়াবী পেরেশানী থেকেও পরিত্রাণ পাওয়া যায়। মানুষের জন্য এটা ইবরত ও শিক্ষা গ্রহণের একটি মাধ্যম এবং চিরস্থায়ী সৌভাগ্য লাভ করার উপায়। তাই নবী কারীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম উম্মতকে নসীহত করে গিয়েছেন, মৃত্যুকে বেশি বেশি স্মরণ করতে। তার চেয়ে হতভাগা আর কে, যে জীবন থাকতে মৃত্যু-পরবর্তী জীবন নিয়ে ভাবে না! আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে সহীহ সমঝ দান করুন-আমীন। (দুনিয়া কী হাকীকত, পৃ. ২৯-৩০)

 

ভাষান্তর : মুহাম্মাদ আশিক বিল্লাহ তানভীর

 

 

advertisement